জাহানারা পর্ব ৩৬
জান্নাত মুন
আমি অবাক নয়নে ইফানের দিকে তাকিয়ে আছি।ওর এহেন কথা শুনার পর কিছু বলার আর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।ইফান আমার অবাক দৃষ্টি দেখে কপাল কুঁচকালো।অতঃপর হাই তুলতে তুলতে বললো,
–এভাবে ডেবডেব করে দেখলেই খালি হবে নাকি,একটু তো খেয়েও দেখতে পার।
–মাঝ রাতে নিশ্চয়ই আমার হাতে জুতাপিটা খেতে ভালো লাগবে না?
আমি চোয়াল শক্ত করে বাক্যটা বললাম।ইফান সেসব কানে তুললো না।বরং আমার কোমর জড়িয়ে ধরে রুমের ভিতরে চলে আসলো।আমি দাঁত কটমট করে ওর হাতটা সরিয়ে দিলাম।
–মরার আগে একটু তো সভ্য হ।
আমার কথা শুনে ইফান এক ব্রু উঁচালো।অতঃপর আমার কানের কাছে এসে হাস্কি স্বরে বললো,
–কে মারবে, তুমি?
–কেন, আমি ছাড়া আরও কেও আছে নাকি?
ইফান ঠোঁট বাকালো।তারপর কৌতুক স্বরে বললো,
–কেউ নেই বলছ?
ওর কথা শুনে আমিও চোখ উল্টে হাসলাম__থাকলেও পরিশ্রম করতে হবে না।বিকোজ তোমার মৃত্যু আমার হাতেই লেখা।
–উফফ তাহলে তো একবার মরার টেস্ট করেই দেখতে হচ্ছে ।।।
বাইরে গুটগুটে অন্ধকার।পুরো কলোনি নিস্তব্ধতায় ছেয়ে আছে।বেশ কয়েক মূহুর্ত পেরিয়ে গেল।আমি আর ইফান নিঃশব্দে একে অপরের দিকে সরু চোখে তাকিয়ে আছি।আমাদের ভ্রম কাটে একটা অদ্ভুত শব্দে।সেই অনুযায়ী তাকাতেই চোখে পড়লো নোহা হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিছানায় পড়ে ঘুমাচ্ছে। আর উদ্ভট আওয়াজ করে নাক ডাকছে।আমি মুখ ফুলিয়ে জোরে একটা শ্বাস ফেললাম।
এদিকে নোহার নাক ডাকায় বেশ বিরক্ত হলো ইফান।তার চেয়েও বড় কথা এই মেয়ে আমার বেডে শুইয়ে আছে তা দেখে ইফানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে । ইফান দাঁত কটমট করে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
–এই বালডা তোমার বেডে কি করছে ঝাঁঝওয়ালি?
–কি করছে মানে?চোখে কি দেখতে পারছেন না ঘুমাচ্ছে।।
আমি বিরক্তি নিয়ে উত্তর দিলাম।ইফান আবার বললো,
–ঘুমাবে ভালো কথা,তাহলে তোমার বিছানায় ঘুমাচ্ছে কেন?আমি কি জানি না শালির ঘুমের মধ্যে হাত মারার স্বভাব আছে।।
ইফান নিজের কথা শেষ করেই নোহার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।আমিও ঝটপট ওর কাছে গেলাম।এদিকে ঘুমের মধ্যে নোহার মুখ থেকে লালা পড়ছে।ইফান নোহার মুখের উপর ঝুঁকতেই নাক ছিটকালো।অতঃপর কয়েকটা গা*লি দিবে তক্ষুনিই ঘুমের ঘোরে নোহা উঠে বসে দু’হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,,
❝ওয়াও কেয়া মেশিন হে!ইসে তো বহত মাজা আয়ে গা,,,,❞
বলেই আবার আগের ন্যায় শুয়ে পড়লো। এদিকে আচমকা ওকে এমন করতে দেখে ছিটকে গিয়ে ইফানের বাহু চেপে ধরেছি।নোহা আবার নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।ইফান আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
–এই শালি কি ঘুমানোর আগে গা*ঞ্জাটান্জা খাইছিন?
–কই না তো,,,,,
আমার উত্তর শুনে ইফান আবার নোহার উপর ঝুঁকলো,
–এ হাদি,ওঠ বলছি।তোর কারণে কি বউ নিয়ে ঘুমাবো না নাকি?
নোহার থেকে কোনো উত্তর আসলো না।সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।ইফান জানে একে ডাকলেও লাভ হবে না।তাই সে আচমকা এক হাতে নোহার পেটের দিকে ধরে বিছানা থেকে নামিয়ে, রুমের বাইরে হাঁটা ধরলো।আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
–এটা কি করছেন হ্যা,এভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ওকে?
আমার প্রশ্নের উত্তর দিলো না লোকটা।এদিকে ইফানের এক হাতে মরা লা*শের মতো ঝুলে আছে নোহা।তার কোন হুঁশ জ্ঞান নাই দিন দুনিয়ার, এমন ভাবেই গভীর ঘুৃমে ডুবে আছে।
ইফান রুমের বাইরে নোহাকে ফ্লোরে রেখে আবার ফিরে আসলো।আমি খেপা চোখে তাকিয়ে ওর কান্ড দেখছি।ও আমার সামনে দাঁড়াতেই দু হাত ঝেরে ফেললো।ওর ভাব দেখে মনে হচ্ছে কত নোংরাই না তার হাতে লেগে ছিলো।রুম থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে দরজার সামনে পড়ে থাকা নোহাকে।আমি ওর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইফানের দিকে তাকালাম,
–এটা কি হলো হ্যা?
–আবর্জনা বিদায় করলাম।
আমি পাল্টা কিছু বলবো তার আগেই রুমের দরজা ভেতর থেকে লক করে দিলো ইফান।অতঃপর রুমের লাইট অফ করে, আমাকে পাজাকোলে নিয়ে বেডে শুইয়ে পড়লো।আমি কিছু বলার আগেই আমার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো।আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে তাচ্ছিল্য করে বললাম,
–আর কদিন জোর করে আমার উপর অধিকার ফলাবে?
–যতদিন বেঁচে আছি।
ইফানের থেকে ছোট্ট করে প্রতিত্তোর আসলো।পরপরই আমার ঠোঁট আঁকড়ে ধরলো।
বেশ কিছুক্ষণ পর ঠোঁট ছেড়ে গলায় শব্দ করে চুম্বন এঁকে দিতে লাগলো।আমি মৃদু সরে আবার বললাম,
–আমাকে এত সহজ ভাবে নিয়ে ভুল করছ,,
–কে বললো তোমাকে সহজ ভাবে নিই?
ইফান মুখ তুলে আমার দিকে তাকালো।অন্ধকারে দু জড়ো দৃষ্টির মিলন ঘটলো।আমি শান্ত কন্ঠে উত্তর দিলাম,
–খুব তাড়াতাড়ি ধ্বংস হয়ে যাবে।
ইফান আমার কানের কাছে ঠোঁট ছুঁইয়ে হিসহিসিয়ে বললো,
–তুমি করলে সেটাতেও রাজি আছি।
আমি কঠিন গলায় ফের বললাম,
–আমি কিন্তু তোমার প্রতি সদয় নই।
–আই নো,,
ইফান ঠোঁট বাকিয়ে নিঃশব্দে হেসে সংক্ষিপ্ত উত্তর করলো।আমি আর কিছু বলার প্রয়োজন মনে করলাম না।তাই চোখ বন্ধ করে নিলাম।এদিকে লোকটা সেই তখন থেকেই আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ওর মুখ আমার উপরে থাকায় তপ্ত শ্বাস আমার মুখের উপর পড়ছে।আমি চোখ মুখ কুঁচকে নিলাম।ইফান প্যান্টের পকেট থেকে ফোনটা বের করে ফ্ল্যাশ অন করলো।তারপর বেড সাইডে রেখে আবার আমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখায় মনযোগ দিলো।আমার মুখের আসেপাশের চুল গুলোকে কানে গুঁজে দিলো।তারপর আমার বুক থেকে শাড়ির আঁচল টা সরিয়ে আরেক পাশে রেখে দিলো।আমি কিছু বললাম না বরং চোখ মুখ আরও শক্ত করে নিলাম।ইফান হালকা হাসলো বোধহয়। অতঃপর আমার উপর উঠে নিজের সব ভর ছেড়ে দিয়ে ব্লাউজের দুটো বোতাম খুলে মুখ ডুবালো।এতে আমার হাত দু’টো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেছে।
ইফান আমার দু’গাল নিজের দু’হাতের মধ্যে পুরে নিলো।অতঃপর আমার সারা মুখে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।কপাল থেকে শুরু করে সারা মুখে এলোপাতাড়ি চুমু খেলো।সময়ের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হলো।আমার কোনো রেসপন্স না পেয়ে কপাল কুঁচকালো।অতঃপর আমার গলার সবটা জোরে লাহন করতে করতে আচমকা আমার কলারবোনে কামড়ে ধরলো।তৎক্ষনাৎ আমি চোখ খোলে, দু’হাত দিয়ে ওর পিঠ খামচে ধরি।ইফান আমার হাত ছাড়ালো না।বরং আগের মতো দু’গাল নিজের দু’হাতের মধ্যে রেখে দৃষ্টি মেলালো।এদিকে চোখে মুখে ফোনের ফ্ল্যাশ পড়ায় আবারও চোখমুখ খিচকে নিলাম।ইফান আবার ঠোঁট বাঁকালো।আমি দাঁতে দাঁত পিষে বললাম,
–ফ্ল্যাশ ওয়ান করেছ কেন?
–তোমায় দেখতে,,,,
ইফানের নির্লিপ্ত উত্তর শুনে আবার চোখ খোললাম।ইফান পলকহীন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে মাদকীয় পুরুষালী কন্ঠে ডাকলো,
–বুলবুলি,,,
আমি উত্তর করলাম না।আমার দিক থেকে সারা না পেয়ে ইফান নিজেই বলতে লাগলো,
–একরাত আমার জন্য সাজবে?লাল শাড়ি তে নাই বা সাজলে, নীল শাড়ি তে সেজো।
আমার নিস্প্রভ চাওনি দেখে আমার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি স্বরে বললো,
–নীল শাড়িতে তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগে।লাইক পরী।
–তোমার জন্য আমি আর সাজ কখনোই না।আর নীল শাড়িতে তো না ই।
আমার কথা শেষ হতে না হতেই আমার ঠোঁটে দাঁত বসিয়ে দিলো।আরেক হাতে ব্রেস্টে জোরে চাপ প্রয়োগ করলো।আমি ইফানকে ছাড়ানোর জন্য ওর বাহুতে খামচে ধরলাম।এদিকে আমি তার জন্য সাজবো না বলায় তার নমনীয় সত্তা উবে গিয়ে কাঠিন্যে পরিণত হয়েছে।ইফান আমার ঠোঁট ছেড়ে,আমার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরলো,
–হারা*মজাদি, আমার জন্য সাজবি না তো কি তর লাঙ্গের জন্য সাজবি?
আমি ওর হাত সরানোর চেষ্টা করতে করতে বললাম,
–সাজবো, তাতে তোর কি?
আমার কথায় ওর হাতের জোর আরও বাড়লো।আমিও ওর মতো শক্ত করে ওর বাহু খামচে ধরলাম।ইফানের চোখ লাল বর্ণ ধারন করেছে। কিন্তু এইটুকু কথায় এত রাগার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।ইফান রাগে রিরি করতে করতে বললো,
— জ্যান্ত পু*তে ফেলবো।ভুলে যাস না আমি কে?সবসময় ছাড় দিই বলে যা খুশি তাই করবি এটা তো হবে না বুলবুলি। তোর জীবনে এই ইফান চৌধুরী ছাড়া আর যে আসবে তাকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিবো।
ইফানের শেষ কথাটা কান অব্ধি পৌঁছাতেই ধস্তাধস্তি করা বন্ধ করে শীতল চোখে তার দিকে তাকালাম। কিছুক্ষণ ওর অগ্নি চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ বন্ধ করে নিলাম।আবারও হারিয়ে গেলাম ফেলা আসা এক অন্ধকার অতীততে,,,,,,,,
আমি এক দৌড়ে স্যারের বাসায় এসে থামলাম।তন্নিরা এখনো বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।তার মানে স্যারের আগের ব্যাচ পড়ানো এখনো শেষ হয়নি। আমাকে দৌড়ে আসতে দেখে সকলে তাকালো।তন্নি দৌড়ে এসে ফিসফিস করে বললো,
–কি রে আনছস?
আমি হাঁপানির তোরে কথা বলার অবস্থায় নেই।এদিকে সুমাইয়া, নাফিয়া,আরিফ সহ আরও কয়েকজন ফ্রেন্ড এসে জিজ্ঞেস করলো,
–কিরে কোথা থেকে এভাবে ছুটে আসলি?
–একটু পানি দে?
সুমাইয়া তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে পানি বের করে দিলো।এদিকে নাফিয়া বলে উঠলো,
–এই জাহান তর কানে জবাফুল কোথা থেকে আসলো?
তক্ষুনি স্যারের আগের ব্যাচের ছেলেমেয়েরা বেড়িয়ে আসলো।ধাক্কা ধাক্কি করে তন্নি ছাড়া বাকি সবাই ভেতরে চলে গেলো, আগের বেঞ্চে জায়গা দখল করার জন্য। তন্নি রেগে গদগদ করতে করতে বললো,
–ঢংডা কন তে আইছস?ফুল ব্যাগে করে আনলে কি হইছিন,এখন তো চুঁচিটি দেখে ফেলসে।তুই যা মন চায় তাই কর আগে আমারটা আমারে বুঝায়া দে।
আমি বোতল থেকে পানি নিয়ে মুখে ছিটিয়ে দিলাম।তারপর বললাম,
–তুই ফুল নিয়ে পড়ে আছস।আর এদিকে আজ আমাকে কিডন্যাপার ধরে নিয়ে চলে যেতো। কত কষ্টে পালিয়ে এসেছি জানিস?
আমার কথা শুনে তন্নির চোখ বড়বড় হয়ে গেছে। সে একটা ঢুক গিলে বললো,
–আয়হায় কি কস তুই? কয়ডা কিডন্যাপার তরে ধরছিন?পালায়ছস কেমনে?
তন্নিকে সব ঘটনা খুলে বলি।আমার কথা শুনে সেও অনেক ভয় পেয়ে গেছে। তারপর তন্নি বললো,
–বোইন এইতা কথা কেও রে আর বলিস না।তাহলে তর বদনাম হয়ে যাবে।
আমিও তন্নির কথা ঠিক মনে করলাম।তাই আর কাউকে কিছু বলি নি।প্রাইভেট শেষে আমার সব ফ্রেন্ডদের বলেছি সাবধানে থাকতে।আমরা বাড়ির উদ্দেশ্য আসার পথে দেখতে পেলাম আজ নদীর পাড়ে অনেক কাশফুল ফুটেছে।সেই সাদ সকল থেকে নিব্বা নিব্বিরা ভিড় জমিয়েছে। আরিফ সেদিকে তাকিয়ে বললো,
–দেখ দেখ হাঁটু সমান পোলাপানও লাং নিয়ে চলে এসেছে।আহাহা এমন করে ডলাডলি করতাসে মনে হইতাছে জামাই লয়া আইছে।করো বোইন ডলাডলি, যেদিন মধু খেয়ে চলে যাবে সেদিন বুঝবে।
আরিফের মুখ বাঁকানো কথা শুনে আমরা হো হো করে হেসে দিলাম।অতঃপর হাসিঠাট্টা করতে করতে নিজেদের বাড়ি উদ্দেশ্য চলে গেলাম।
বিকাল তিনটা বাজে।আজ সারাদিন বাসায় ছিলো না জায়ান ভাই। আম্মু বলেছে অফিসে আছে।একেবারে রাতে আসবে।আমি সকাল থেকে বাড়ির এখানে ওখানে টইটই করে ঘুরে বাড়াচ্ছি।এদিকে জুই,জিয়াদ আর কবিতা আপুও স্কুল-কলেজে আছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা ফিরে আসবে।এদিকে ওরা ছাড়া আমার সবকিছুই বোরিং লাগছে।তাই ড্রয়িং রুমেই অপেক্ষা করতে করতে সোফায় ঘুমিয়ে পড়েছি।
এক ঘন্টা পর জিয়াদ আর জুই বাইরের গরমের তোরে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলো।জুই আর জিয়াদ একই স্কুলে পড়ে।তাই ওরা এক সাথেই আসা যাওয়া করে।জুইয়ের ব্যাগ জিয়াদের কাছে।এদিকে জিয়াদ ক্লান্ত দেহে দুটো ব্যাগ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে। এরিমধ্য ওদের দুই দিকে ঠেলা মেরে দৌড়ে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ল কবিতা আপু।তার চেহারায় খুশির ঝলক।এসেই নিজের ব্যাগটা ছুড়ে ফেলে দিলো।আমাকে সোফায় ঘুমাতে দেখে এদিকে ছুটে এসে চেচিয়ে ঝাপটে ধরলো।আমি তখন ভয়ংকর স্বপ্ন দেখছি।তাই ধরফরিয়ে উঠে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলাম,
–আমাকে কিডন্যাপ করো না, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও।কেউ আমাকে বাঁচাও,,,,,,
আমায় এমন করতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো কবিতা আপু। এদিকে আম্মু আর বড় আম্মু আমার চিৎকার শুনে দৌড়ে এসেছে।আম্মু আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো,
–না আমার সোনা কিচ্ছু হবে না।এই তো আমি আছি,তোমার বড় আম্মু আছে দেখ।
এদিকে বড় আম্মু আচ্ছা মতো ঝাড়ছে কবিতা আপুকে।কবিতা আপু কাদু কাদু কন্ঠে বললো,
–আমি তো বুঝতে পারি নি আম্মু।
–কি বুঝতে পার নি হুম।এভাবে কি কেউ ঘুম থেকে জাগায়।এত বড় হয়েছ এখনো কিছুই বুঝ না?
–আর বকবেন না আপা।মেয়েটা বুঝতে পারে নি।যাও কবিতা রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আস।
কবিতা আপু, জিয়াদ আর জুই নিজেদের রুমে চলে গেলো।এদিকে আমি ভয়ে গুটিসুটি মেরে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বসে আছি।
আমি চোখমুখ ধুয়ে কবিতা আপুর রুমে দৌড়ে আসলাম।আমার পিছন পিছন জুই আর জিয়াদও আসলো।এদিকে কবিতা আপু রুমে এসে ফ্রেশ না হয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে ফোনে কি যেন দেখছে।আমাদের কন্ঠ শুনেই তাড়াতাড়ি লুকিয়ে ফেললো।আমি চোখ সরু করে বললাম,
–কি লুকিয়ে ফেললে হুম?
–কই কিছু না।
বলেই আমাকে চোখ টিপে ইশারা করলে পরে বলবে, জুই আর জিয়াদ চলে গেলে।এদিকে দুই চালাক ইশারা দেখে ফেলেছে।জুই বিছানায় উঠে কবিতা আপুকে টানাটানি শুরু করেছে,
–আমিও দেখেছি কিছু একটা লুকিয়েছ বল, বল বলছি কি লুকিয়েছ।
এদিকে জিয়াদও চেপে ধরেছে।জুই কবিতা আপুর পিঠে কাতুকুতু দিতে লাগলো।কবিতা আপু হেসে গড়াগড়ি খেতে খেতে আমাকে বলছে,
–জান্নুরে এদের সরা,,,
বলেই হাসতে লাগলো।আমি কি আর ওদের সাথে পারি?তাই টেনেটুনেও ওদেরকে সরাতে পারলাম না।এক পর্যায়ে ওদের সাথে না পেরে বললো,
–ছাড় আমাকে ছাড় বলছি।
ওরা ছাড়লো।কবিতা আপু নিজেকে একটু শান্ত করে বললো,
–পেয়ে গেছি,,,,,
আমরা ওর কথা কিছু বুঝলাম না।জুই কোমরে হাত রেখে বললো,
–তাড়াতাড়ি বল কি পেয়েছ?
পাঁচ মিনিট পেরিয়ে গেলেও কিছু বললো না।খালি মিটি মিটি হাসছে।আমি জুই আর জিয়াদ চোখাচোখি করলাম।জিয়াদ আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,
–ও জাহানপু বড় আপুকে জ্বিনে ধরলো না তো?
–আমিও তাই ভাবছি।
এদিকে জুই আবার কাতুকুতু দিতে গেলেই কবিতা আপু চেচিয়ে উঠলো,
–ইসস তোরা কি শুরু করেছিস?
আমি বললাম__কি শুরু করেছি মানে?তুমি আমাদের বলছ না কেন কি পেয়েছ?
–ইসস আমার লজ্জা লাগছে।
জিয়াদ বিরক্তি নিয়ে বললো,”লজ্জার মাথা খেয়ে এবার বলেই ফেল সোনা।”
কবিতা আপু গলা খাঁকারি দিয়ে আবার লাজুক হাসলো।তারপর মিনমিন করে বললো,
–আমার স্বপ্নের পুরুষকে পেয়ে গেছি।
–কিইই,,,,,,
অবাক হয়ে আমরা তিনজনই চেচিয়ে উঠলাম।কবিতা আপু আবারও লাজুক হাসলো।আমরা দৌড়ে ওকে ঘিরে বসে পড়েছি।আমি খুশিতে গদগদ করতে করতে বললাম,
–দুলাভাইয়ের নাম কি?
আরেক পাশ থেকে জিয়াদ বললো,
–বাড়ি কোথায়?
জুই বললো,”করে কি?”
আমাদের এমন প্রশ্নে মুখ ভার করে বললো,”ধুর যা, এসব কি প্রশ্ন করছিস?আমি তো আজই উনাকে দেখেছি রাস্তায়। আমি যখন কলেজ থেকে বাসায় ফিরছিলাম তখন রাস্তায় আমাদের গাড়িটা ট্রাফিক জ্যামে আটকে যায়।তখন গাড়ির গ্লাস খুলতেই আমাদের গাড়ির পাশে আরেকটা গাড়িতে লোকটাকে দেখি।লোকটার কি সুন্দর সিল্কি ঘন কালো চুল।এক হাত দিয়ে সেগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছিল।আর তার এক কানে ইয়ার রিং পড়া।লোকটার পড়নে একটা সাদা শার্ট ছিলো।আল্লাহ কি হ্যান্ডসাম যে লাগছিলো না কি বলবো।তার চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় লাগছিল যখন সিগারেটে টান দিয়ে আকাশের দিকে ধোঁয়া ছাড়লো।ইসসস রে জান্নু আমি তো পুরাই ফিদা হয়ে গেয়েছিলাম।”
আমরা হা করে কবিতা আপুর কথা শুনছি।আমি জিগ্যেস করলাম,
–পরে পরে কথা হয়েছে তোমার সাথে?
কবিতা আপু মন খারাপ করে বললো__না রে কথা হয় নি।কিছুক্ষণের মধ্যেই কালো পোষাকে একটা লোক এসে বললো,”বস খবর নিয়ে এসেছি এই এরিয়াতেই আছে।”লোকটার কথা শেষ হতেই গাড়িটা রকেটের গতিতে চলে গেলো।আর আমার মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো।
কবিতা আপুর কথায় জিয়াদ জোরে শ্বাস ফেলে দুঃখী দুঃখী কন্ঠে বললো,”আর তোমার কথা শুনিয়া হামরাও দুক্ষু পেলাম।”
সাথে সাথে ওর পিঠে ঠাস করে থাপ্পড় মারলো কবিতা আপু।আমি আর জুই হে হে করে হেসে দিলাম।কবিতা আপু বালিশের নিচ থেকে লুকিয়ে রাখা ফোনটা বের করে।ফোনের স্কিনে একটা লোকের পিছন সাইট দেখা যাচ্ছে। কবিতা আপু তখন লুকিয়ে এই ছবিটা তুলেছিলো। সে ফোনের স্কিনে হাত বুলিয়ে ছবিটা দেখছে।আমরাও সেদিকে উঁকি মেরে ছবিটাকে দেখলাম।এদিকে কবিতা আপু বিরবির করে বলছে,
–আমি আপনাকে যে করেই হোক খুঁজে বের করবো।আমি জানি আল্লাহ আপনাকে আমার জন্যই পাঠিয়েছে।
আমরা এক সাথে বলে উঠলাম,”কিন্তু অপরিচিত লোকটাকে কি ভাবে খুজে বের করবে?”
কবিতা আপু হতাশা নিয়ে ধপ করে বিছানায় শুইয়ে পড়লো।অতঃপর হতাশা নিয়েই বললো,”জানি না রে জান্নু।তবে এই প্রথম, প্রথম দেখায় কাউকে ভালোবেসেছি। আর আমি এই লোকটাকেই চাই। যে কোনো মূল্যে যেকোনো ভাবে।
ঘড়ির কাটা রাত দশটার ঘরে।আজ পাঁচ দিন পর ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে জিতু ভাই।আব্বু আর বড় আব্বু সন্ধ্যা বেলাতেই বাড়িতে চলে এসেছে।এখন আমরা অপেক্ষা করছি কখন জায়ান ভাই আসবে।উনি আসলেই আমরা এক সাথে ডিনার করবো।যদিও আমরা চার পেটুক সন্ধ্যা বেলায় পেটপুরে ভাত খেয়ে নিয়েছি চিংড়ি মাছের তরকারি আর খাশির মাংস দিয়ে। তবু্ও আবার খিদে পেয়ে গেছে।জুই তো সেই কখন থেকে খিদের ছুটে পেট ধরে বসে আছে।এদিকে আমাদের কখন বলা হয়েছে আবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে।কিন্তু আমি জায়ান ভাই ছাড়া কিছুতেই খাবো না।এদিকে আমি খাবো না বলে ওরাও আমার জন্য বসে আছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সদর দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো।কেউ কিছু বলার আগে আমি এক দৌড়ে দরজা খুলে দিলাম।জায়ান ভাই ফোনে কথা বলছে।একহাতে একটা শপিং ব্যাগ।উনার সাদা শার্ট ঘেমে শরীরের সাথে মিশে গেছে। আমি উনাকে দেখতে ব্যাস্ত তখনই ফোন কল শেষ করে সামনে তাকাতেই থমকে গেলেন।আমার পড়নে একটা লেডিস গেঞ্জি আর হাঁটু সমান প্লাজু।কোমর অব্দি পড়া চুলগুলো আমার সৌন্দর্য যেন আরও বাড়িয়ে তুলছে।উনার এমন চাউনি দেখে আমি লজ্জা পেলাম।তাই গুটিসুটি মেরে এক কোণায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম।কয়েক মূহুর্ত পরেও উনার গলা শুনতে না পেয়ে সামনে তাকালাম, “ওমা উনি কোথায়?” ঝটপট পিছনে তাকাতেই দেখি উনি সিড়ি বেয়ে উপরে উঠছেন।পিছন থেকে বড় আব্বু ডেকে বললো,
–আব্বা ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি চলে এসো।সবাই ওয়েট করছে ডিনার করতে।
উনি যেতে যেতে শীতল কন্ঠে উত্তর করলো__আমি খাবো না তোমরা খেয়ে নাও।
আমি মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছি।কবিতা আপুর দিকে তাকাতেই দেখি জুই আর জিয়াদ আমাকে দেখে বুড়ো আঙ্গুল উল্টো করে দেখালো।আমার ভীষণ কান্না পাচ্ছে। উনি কেন সবসময় আমার সাথে এত দূরত্ব বজায় রাখে।আমার চোখ টলমল করছে। কবিতা আপু চোখের ইশারায় শান্তনা দিলো সব ঠিক হয়ে যাবে।আমাকে এখনো দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ভাইয়া ডাক দিলো,
–জাহান খেতে আয়।
আমি মাথা নিচু করে ডাইনিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বড় আব্বু আমার হাতে ধরে চেয়ারে বসিয়ে দিলো।তারপর আদুরে কন্ঠে বললো,
–কি হয়েছে আামর সোনা মা’র?
–কিছু হয়নি তো বড় আব্বু?
আমি আহ্লাদি কন্ঠে উত্তর দিলাম।আম্মু আর বড় আম্মু সবার প্লেটে খাবার তুলে দিয়েছে।জিতু ভাইয়া উনার প্লেট থেকে একটা গলদা চিংড়ি আমার পাতে তুলে দিলো।অন্যদিন হলে আমি জুই কে জিয়াদ কে দেখিয়ে দেখিয়ে খেতাম।কিন্তু আজ আমি একবারও তাকিয়েও দেখালম না।এদিকে জুই কবিতা আপু আর জিয়াদ আমার প্লেটে ডেবডেব করে তাকিয়ে আছে।এটা দেখে আব্বু, বড় আব্বু আর জিতু ভাইয়া ওদের পাতেও দিলো।এবার খুশিতে খাওয়া শুরু করেছে।আমি এখনো প্লেটে আঁকিঝুকি করছি।আম্মু বললো,
–কি হয়েছে আম্মা?খেতে ভালো লাগছে না?
–জায়ান ভাই খাবে না?
আমার এই উত্তর আশা করেনি কেউ। জিতু ভাইয়া খাওয়া রেখে আমার দিকে একবার তাকালো।অতঃপর আবার খাওয়ায় মনযোগ দিলো।বড় আব্বু বললো,
–নিরব তো এখন খাবে না বললো।তুমি খেয়ে নাও আম্মু।
এদিকে পাশের চেয়ারে বসা জুই আমায় কানাকানি করে বললো,”তর ঢং দেখে বাঁচি না বাপু।”
আমি কড়া চোখে ওর দিকে তাকাতেই ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে খাওয়ায় মনযোগ দিলো।এদিকে আমার মনযোগ ক্ষুন্ন হয় জিতু ভাইয়ার কন্ঠ স্বর শুনে,
–জাহান তুই গিয়ে একবার জিগ্যেস করে আয় তো ভাইয়া খাবে কি না?
আমি অবাক চোখে জিতু ভাইয়ার দিকে তাকাতেই তিনি ইশারায় বললেন যেতে। আর আমাকে ধরে রাখে কে?আমি দৌড়ে যাওয়া ধরলাম।জিতু ভাইয়া ঠোঁট কামড়ে হাসলেন। পিছন থেক আম্মু আর আব্বু চেচিয়ে বলছে,
–জাহান ধীরে ধীরে যাও পড়ে যাবে।
আমি এক দৌড়ে জায়ান ভাইয়ের রুমের সামনে এসে দাঁড়ালাম।তারপর দরজা খোলে একবার উঁকি দিলাম।তখনই ওয়াশরুম থেকে সাওয়ারের শব্দ কানে আসলো।বুঝলাম উনি এখনো ওয়াশরুমে আছেন।আমি এবার বুক টানটান করে রুমে ঢুকে পড়লাম।কত সুন্দর করে গুছানো উনার রুম।সচারাচর উনার রুমে কেউ আসে না।আর তিনি এত মানুষ পছন্দও করেন না।নীরব নামের সাথে সত্যিই উনাকে মানিয়েছে।হঠাৎ করেই চোখ আটকালো বিছানায় থাকা শপিং ব্যাগটায়।একটু আগেই এটা নিয়ে এসেছেন।আমার কৌতূহল হলো ভিতরে কি আছে দেখার জন্য। তাই একবার ওয়াশরুমের দরজায় উঁকি মেরে দেখে নিলাম।অতঃপর ঝটপট করে শপিং ব্যাগের ভেতর তাকাতেই চমকে গেলাম।ভেতরে একটা নীলের মধ্যে সাদা শাড়ি দেখতে পেলাম।আমি শাড়িটি বের করে দেখতে লাগলাম।দেখে তো মনে হচ্ছে অনেক দামি হবে।তার চেয়েও বড় কথা, শাড়িটা অসম্ভব সুন্দর।হঠাৎই মনে প্রশ্ন আসলো,
–উনি শাড়ি কার জন্য আনলেন?আচ্ছা উনার কি গফ আছে।উনি কি অন্য কাউকে ভালোবাসে?
তক্ষুনি মাথা থেকে এসব ঝেরে ফেলে দিলাম।না জায়ান ভাই আমি ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসতে পারে না।আমি আর কিছু না ভেবে শাড়িটা কাঁধে রেখে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। ইশশশ কত প্রিটি লাগছে আমাকে।যদি এই শাড়িটা আামর হতো?ভাবতে ভাবতেই ভাজ খুলে শরীরে পেচিয়ে নিলাম।তারপর আচল নাড়িয়ে নাড়িয়ে আয়নাত দেখতে লাগলাম।আমার ঠোঁটের কোণে জড়ো হয়েছে এক ঝাঁক প্রাণবন্ত হাসির রেখা।আমি ঘুরতে যাবো তক্ষুনি নজর পড়লো ওয়াশরুমের দরজার দিকে।জায়ান ভাই বুকে হাত ভাজ করে, পা ক্রস করে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। উনার নিস্প্রভ দৃষ্টি আমাতেই নিবদ্ধ। পড়নে একটা কালো রঙের টাউজার প্যান্ট।জীম করা দেহে সদ্যস্নান করা পানি কণা চিকচিক করছে।গলায় একটা টাউয়াল ঝুলে আছে।
আচমকা উনাকে দেখে থতমত খেয়ে ওখানেই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে গেলাম।উনি টাওয়াল টা রেখে আমার সামনে এসে দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালেন।আমাকে উপর নিচ একবার দেখে,শীতল কন্ঠে বললো,
–কি চাই?
–আ আমি কিছু করি নি তো।
আমার এমন উত্তরে উনার কপালে কয়েকটা ভাজ পড়লো।আমি তাড়হুড়ো করে শাড়ি খোলতে গিয়ে পায়ে পা বেজে উনার ন*গ্ন বুকে গিয়ে পড়লাম।ফলে আমার ঠোঁট দু’টো উনার বুকে লেগে যায়।মূহুর্তেই আমার শরীর কেঁপে উঠলো।আমি বুঝতে পারছি না এই পরিস্থিতি কিভাবে সামলাবো।তাই সোজা হয়ে দাঁড়াতে উনাকে ধরলাম।জায়ান ভাই তৎক্ষনাৎ আমার হাত দু’টো ধরে নিলো।অতঃপর আমাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বললো,
–কাল রেডি থাকবি,,
–কে কেন?
–তোকে ডাক্তার দেখাবো।এভাবে বারবার পড়ে যাওয়া তো ভালো লক্ষ্মণ না। নিশ্চয়ই শরীরে ভিটামিনের অভাব আছে।
উনার এমন কথা শুনে অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে উনার দিকে চেয়ে রইলাম।আমি সেভাবেই বললাম,
–আ আমি তো সুস্থ আছি।
–সে তো দেখতেই পাচ্ছি।
জায়ান ভাই নিজের কথা শেষ করে গেঞ্জি পড়তে চলে গেল।আমি পিছন থেকে বললাম,
–আপনার তো বউ নেই। তাহলে এই শাড়িটা কার জন্য?
উনি আমার দিকে তাকালেন।আমি মাথা নিচু করে আবার বললাম,
–না মানে এমনি,,,,,
–তোর জন্য।
আমি বাক্য সম্পূর্ণ করার আগেই ওপাশ থেকে উনার উত্তর ভেসে আসলো।আমি তাকাতেই উনি আবার বললেন,
–পছন্দ হয়েছে তোর?
আমার খুশি আর ধরে রাখে কে।আমি দুনিয়া ভুলানো হাসি দিয়ে জোরে জোরে মাথা নাড়িয়ে বললাম,
–খুব খুব সুন্দর হয়েছে। আমার খুব পছ,,,,
–এবার রুম থেকে বেড়িয়ে যা।
আবারও আমাকে মাঝ পথে থামিয়ে দিলো।উনার কথা শুনে আমার হাসি মুখ চুপসে গেছে।আমাকে কেউ ধমক দিয়ে কথা বললে কান্না চলে আসে।সেখানে তো জায়ান ভাই। আমি কান্না গিলে বললাম,
–খেতে যাবেন না?
–বলে এসেছি তো খাবো না।
–আমিও খাইনি।
আচমকা উনি আমার দিকে ফিরলেন। আমি একটা ঢুক গিলে নাক টেনে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে লাগলাম।তক্ষুনি জায়ান ভাই আমার হাত টান মেরে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো।আচমকা উনার এমন কাজে ভয় পেয়ে গেলাম।উনি চোয়াল শক্ত করে বললেন,
–এত পুড়াস কেন আমায়?
আমি কিছু বুঝলাম না।উনিই আবার বললো,
–তোর নাম্বার কি এখনো আগের টাই আছে?
জায়ান ভাইয়ের এমন কথা শুনে লজ্জায় কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমি মাথা নিচু করে মিনমিন করে বললাম,
–জি না, এখন ইয়েগুলো একটু বড় হয়ে ৩৬ হয়েছে।
আমার উত্তর শুনে জায়ান ভাই বোকা বনে গেল।উনি অবাক সরে বললেন,
–আমি তর ইয়ের নাম্বার না ফোন নাম্বারের কথা বলছি।
উনার কথা শুনেই আমার বুক ধুকপুক করতে লাগলো।ছি ছি ছি এটা আমি কি বলে ফেললাম।মূলত সকালে আমাকে অনেক বার কল করেছে কিন্তু পায়নি।পাবেই বা কিভাবে? আমি তো এমবির নতুন অফারের জন্য ঐ সিম রেখে নতুন আরেকটা নিয়েছি।
আমার ল*জ্জা মিশ্রিত চেহারা দেখে জায়ান ভাই ঠোঁট চেপে মৃদু হাসলো।তারপর বললো,
–তুই নিচে যা আমি আসছি।
আমি আস্তে আস্তে চলে যেতে গিয়েও আবার পিছনে ফিরে গলার সর নিচু করে ডাকলাম,
–জায়ান ভাই,,,
–বল।
–আমাদের নদীর পাড়ে কাশফুল ফুটেছে,,,,,
বাকিটা বলার আগেই উনি বললেন,
–সকালে রেডি থকিস।
আমি আবারও অবাক হয়ে গেলাম।কিছু বলার আগেই উনি রাজি হয়ে গেলেন?আমি মাথা নাড়িয়ে খুশিতে নাচতে নাচতে রুম থেকে বেরিয়ে গোলম।এদিকে আমার যাওার দিকে চেয়ে মুচকি হাসলো লোকটা।
কাশ বনের কাছে এসে গাড়িটা থামলো।জায়ান ভাই গাড়ি থেকে নেমে আমার দিকের দরজাটা খুলে দিলো।তারপর উনার হাত ধরে নেমে আসলাম।আমি নামতেই উনি আমার শাড়ির কুঁচিগুলো ঠিক করে দিলো।আজ আমি উনার দেওয়া নীল শাড়িটা পড়েছি।কবিতা আপু পড়িয়ে দিয়েছে।আমার লম্বা ঘন চুলগুলো দক্ষিণা হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। জায়ান ভাই আজ যে কতবার আমার দিকে তাকিয়েছে বলার বাহিরে। উনার চোখে আজ অন্যকিছু দেখেছি। উনার মুগ্ধ চাউনি আমার নারী স্বত্তাকে নাড়িয়ে দিয়েছে বারংবার। আমার তলপেটের প্রজাপতি গুলো যেন আজ মন খুলে উড়ছে।
আমি আসেপাশে তাকিয়ে দেখলাম। একটা কাকপক্ষীরও উপস্থিতি চোখে পড়ছে না।অন্যদিন হলে ভোরেই মানুষের আনাগোনা দেখা যেতো।আমার ভাবনার মাঝে জায়ান ভাইয়ার কন্ঠ কানে আসলো,
–কি হলো আয়।
আমি উনার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম,
–জায়ান ভাই আজ এখানে কোনো মানুষ দেখতে পারছি না কেন?
উনি আমার হাতে ধরে কাশফুলের কাছে নিয়ে যেতে যেতে বললো,
–চব্বিশ ঘন্টার জন্য এই এরিয়াতে রেস্ট্রিকশন দিয়ে দিয়েছি।
–কেনো?
আমি অবাক হয়ে বলালম।উনি ঠোঁট বাঁকালেন।অতঃপর চোখের সানগ্লাস টা খুলে বললো,,,
–কারণ আমার সাথে তুই আছিস।আর তোকে নিয়ে কোনো রিস্কই আমি নিতে চাই না।
আমি কাশফুল হাতে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোজ নিচ্ছি। আর জায়ান ভাই উনার ফোন দিয়ে একটার পর একটা ছবি তুলছেন।আমি দৌড়ে উনার কাছে গিয়ে হাত ধরে বললাম,
–চলুন আমরা এক সাথে ছবি তুলি।
আমি এক প্রকার বাইনা ধরলাম।উনি দূর থেকে প্রটেকশন দেওয়া একটা গার্ড কে কল করে আনলো।লোকটা আমাদের একটার পর একটা ছবি তুলে দিচ্ছে।কিছুক্ষণ পরেই জায়ান ভাইয়ের ফোনে একটা কল আসে।তিনি কানে ব্লুটুথ লাগিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে কথা বলতে লাগলো।আবার একটু পরপর আমার দিকে তাকিয়ে দেখছে আমি কি করি।আমি ফুল ছিড়ে ফু দিয়ে আকাশের দিকে উড়িয়ে দিচ্ছি। আমার খিলখিল হাসির শব্দে প্রকৃতি যেন আরও উচ্ছ্বসিত হচ্ছে।
এদিকে এখান থেকে কিছুটা দূরে একটা নতুন কারখানা তৈরি হয়েছে।সেই বিল্ডিং এর ছাঁদ থেকে জায়ান ভাইয়ের উপর স্নাইপার রাইফেল তাক করলো কেউ। রেড বিন্দুর ফোকাসে জায়ান ভাই। লোকটা জায়ান ভাইয়ের বুকে টার্গেট করে ট্রিগার চাপতে যাবে তক্ষুনি আমি আচমকা সেখানে চলে আসলাম।অতঃপর কাশফুল উনার মুখের সামনে ধরে ফু দিলাম।আমি খিলখিল করে হেসে দৌড়াতে নিলেই হোটচ খেলাম।তবে পড়ে যাওয়ার আগেই জায়ান ভাই ধরে উনার বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।
অন্যদিকে স্নাইপার রাইফেলের ট্রিগার ধরে বসে থাকা ব্যক্তি অপলক ভাবে আমার খিলখিল করা হাসি মুখ দেখছিলো।কিন্তু জায়ান ভাইয়ের এতটা কাছে আমাকে দেখেই লোকটার মস্তিষ্কে আগুন ধরে গেলো।অনূভুতিহীন চোখ দুটো রাগে রক্ত বর্ণ ধারন করলো।তক্ষুনি লোকটার ফোকাস বিন্দু গিয়ে পড়ে আমাদের পেছনে কিছুটা দূরে নদীর উপর ভাসমান একটি স্টিমারে।সেখান থেকে একটা লোক স্নাইপার রাইফেল তাক করে রেখেছে আমাদের দিকে।লোকটা জায়ান ভাইয়ের বুকে ট্রিগার চাপবে তখনই ছাঁদে বসে থাকা লোকটি স্নাইপার রাইফেলের ট্রিগার চাপলো।তৎক্ষণাৎ স্টিমার থেকে লুটিয়ে পানিতে পড়লো লোকটা।ছাঁদে বসা লোকটা ঠোঁট বাঁকিয়ে ক্রুর হাসলো।
এদিকে জায়ান ভাইয়ের কালো পোশাকধারী দুটো গার্ড ছুটে আসলো।ভাইয়াকে কিছু একটা বলতেই তিনি আরও কয়েকটা গার্ডের সাথে আমাকে জোড় করে গাড়ি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলো।আমি জায়ান ভাইকে ছাড়া যেতে চাইনি কিন্তু উনি আমাকে ধমকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
আমি চলে যেতেই উনি ব্লেজারের আড়ালে__প্যান্টে গুঁজে রাখা রিভলবার বের করলো।আসেপাশে তাকাতেই আচমকা চোখ পড়লো দূরের সেই কারখানার বিল্ডিংটার ছাঁদে। মূহুর্তেই জায়ান ভাইয়ের সাথে চোখাচোখি হলো আন্ডারওয়ার্ল্ডের কু*খ্যাত টে*রোরিস্ট গ্যাং ব্ল্যাক ভে-নম এর লিডার ইফান চৌধুরীর সাথে। ইফান ক্রুর হেসে দুই আঙ্গুল নিজের মাথায় বন্দুকের মতো তাক করে সরিয়ে নিলো।জায়ান ভাইও ক্রুর হাসলো।অতঃপর তিনি গার্ডদের নিয়ে এই এরিয়া থেকে বেড়িয়ে গেলেন।
অপর দিকে স্টিমার থেকে এখোনো একজোড়া চোখ টেলিস্কোপ দিয়ে ইফান আর জায়ান ভাইকে দেখে ঠোঁট বাকালো।
জায়ান ভাইয়ের প্রস্থানের দিকে এখনো তাকিয়ে আছে ইফান।তখনই পিছন থেকে ইফানের বাম হাত ইনান বলে উঠলো ,
–ভাই আপনি এটা কাকে গুলি করলেন একটু আগে?
ইনানের ডাকে ধ্যান ভাঙলো ইফানের। সে ব্রু নাচিয়ে বললো,
–শালার তো পিরিতের লোকের অভাব নেই।আগে বল ঐ সুন্দরীর খোঁজ নিয়েছিস?
–জি ভাই, শেখ বাড়ির দ্বিতীয় কর্তা মজিদ শেখের বড় মেয়ে জাহানারা শেখ জারা।অরুপে জায়ান শেখের কাজিন।এবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে।
ইনান আমার পুরো বায়ো ডাটা ইফানকে বললো।ইফান কাশবনের সেই দিকে তাকালো যেখানে কিছুক্ষণ আগে আমি খিলখিল করে হাসিতে মেতে ছিলাম।সেই স্থানে এক ধ্যানে তাকিয়ে বিরবির করলো,
❝বুলবুলি,বুলবুলি, বুলবুলি।তোমাকে তো আমার চাই।যে কোনো মূল্যে চাই, চাইই চাই__❞
ইফানের দু’হাত আমার সারা দেহে রাজত্ব করছে।ওর হাতের স্পর্শ যতটুকু বেসামাল,ওর ওষ্ঠগুলোও তেমন রুপ নিয়েছে।ইফান আমার চেস্ট থেকে শুরু করে গলা, নাভি জিহ্বা দিয়ে লাহন করছে।ফলে উক্ত অংশগুলো সেঁতসেঁতে হয়ে গেছে।এতে আমার কোনো হেলদোল নেই। আমি তো গভীর কল্পনায় বিভোর। এদিকে ইফান আমার থেকে রেসপন্স না পেয়ে বিরক্তিতে “চ” বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করলো।সে আমার কানের লতিতে দাঁত বসিয়ে দিলো।তাতেও আমার কোনো হুশ হলো না।ইফান বিরক্তি নিয়ে বললো,
–কি ব্যাপার ফিল আসছে না কেন?
আমার দিক থেকে আবারও উত্তর আসলো না।ইফানের রাগ যেন এবার শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়লো।অতঃপর হাতের সকল জোর দিয়ে আমার বুকে চাপ প্রয়োগ করলো।ব্যথায় আচমকা চোখ খুললাম।ঘুম ঘুম চোখে ওর দিকে তাকাতেই ইফান দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
–সে*মের সেরি এমন তব্দা মেরে পড়ে আছিস কেন?
আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে আরেক পাশে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম।এতে যেন লোকটার সকল ধৈর্য ভাঙলো।তাই নিজের পুরুষত্ব দেখাতে মরিয়া হয়ে উঠলো।আমার গভীর ঘুমের মধ্যে কখন যে আমার সব কাপড় খুলে নিয়েছে বুঝতেই পারি নি।এদিকে ইফান আমার ঠোঁট আঁকড়ে ধরে বন্য পশুর রুপ নিলো।আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা সেই প্রথম দিনের ইফান।যে সেদিন আমার উপর বৈধ ভাবে নিজের পুরুষত্ব ফলায়নি।বরং তার নির্মম শারীরিক নি”র্যাতনের শিকার হয়েছিলাম।আমি ওর বেশামাল রুপ সামলাতে না পেরে শরীরের সকল শক্তি দিয়ে ওর বুকে ধাক্কা মারলাম।মূহুর্তেই আমার ঠোঁট ছেড়ে কিছুটা চিটকে গেলো।আমি সেই সুযোগে ব্যথায় চেচিয়ে উঠলাম,
জাহানারা পর্ব ৩৫
–কু*ত্তার বাচ্চা আরেকবার ব্যথা দিলে তোর বি*চি দুইটা ভুনা করে খা,,,,,
বাকিটা বলার আগেই ইফান আমার মুখ শক্ত করে চেপে ধরলো।আমি গোঙ্গাতে লাগলাম।এদিকে ইফান রাগে রিরি করতে করতে বললো,
–খা*নকি মা*গী এটা কি তর জামাইয়ের রুম পাইছস যে সাউন্ড প্রুফ, গরুর মতো চেঁচালেও কেউ শুনবে না?
