Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ৩৫

জাহানারা পর্ব ৩৫

জাহানারা পর্ব ৩৫
জান্নাত মুন

ঘড়ির কাটা সকাল আটটার ঘরে।গতকাল অনেকটা রাত সজাগ থাকার জন্য আমার ঘুম একটু দেরিতেই ভাঙলো।আমার দুপাশে এখোনো নোহা আর জুই ঘুমাচ্ছে। আমি আর দেরি না করে ঝটপট ওঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।তারপর নিচে চলে আসলাম।আব্বু আর বড় আব্বু চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছে।আমাকে নিচে নামতে দেখে আব্বু বললেন,

–আমার আম্মুর ঘুম ভেঙেছে?
–জি আব্বু।
আমার কন্ঠ শুনে বড় আব্বু খবরের কাগজ রেখে আমাকে ডাকলেন,
–আম্মু তুমি আমার পাশে এসে একটু বস।কতদিন তোমার সাথে গল্প হয় না।
আমি বড় আব্বুর পাশে গিয়ে বসলাম।তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,
–হেরে মজিদ আম্মাটা কয়দিন আগেও এইটুকু ছিলো।আর এখন কত বুঝদার আর বড় হয়ে গেছে দেখেছিস!
আব্বু মলিন হাসলেন।তারপর আমার মাথায় হাত রেখে বললেন,

–সেটায় তো দেখছি।কদিন আগেও তো আমাদের হাতের আঙ্গুল না ধরে রাস্তা পার হতে পারতো না।আর এখন একা একা সংসার সামলাচ্ছে।
আব্বুর মুখে সংসার শব্দটা শুনেই আমার মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো।আসলেই কি আমি সংসার করছি,নাকি ম*রণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি প্রতিনিয়ত? আমি নিচের দিকে তাকিয়ে রইলাম।বড় আব্বু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভেজা কন্ঠে বললেন,
–কত সুন্দর সাজানো গোছানো সংসার ছিলো আমাদের।সারাদিন আমাদের সকলকে মাতিয়ে রাখতে__ তুমি, জুই, জিয়াদ আর কবি,,,,,,

বাকিটা আর বলতে পারলেন না বড় আব্বু। মাঝ পথেই থেমে পড়লেন।উনার গলায় কান্না আঁটকে গেছে।টপটপ করে উনার চোখ দিয়ে তপ্ত জল গড়িয়ে পড়লো।আব্বু নিজের ঝলঝল চোখ লুকিয়ে নিজের শ্রদ্ধেয় ভাইয়ের কাঁধে হাত রাখলেন।উনাদের এমন অবস্থা দেখে না চাইতেও আমার চোখে অশ্রু কণা এসে হানা দিলো।আমি বড় আব্বু কে জড়িয়ে ধরে ভেজা কন্ঠে বলতে লাগলাম,
–কেঁদো না বড় আব্বু আমরা আছি তো।আমি তো আছি তোমাদের কাছে।তোমার ছোট মা সব ঠিক করে দিবে।আমাদের সংসার আগের মতো সুন্দর করে সাজিয়ে দিবো আমি।তোমাদের জাহান কখনো তোমাদের ছেড়ে যাবে না, কথা দিলাম।
কথাগুলো বলেই আমি উনার চোখের জলটুকু মুছে দিলাম।তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

–তোদের জন্যই আজও বেঁচে আছি রে মা।
উনার কথার মাঝেই কারো হু হু কান্নার শব্দ শুনে সেদিকে তাকাতেই দেখি বড় আম্মু মুখে আচল ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।উনি আমার জন্য চা নিয়ে এসছিলেন।তখনই আমাদের কথা শুনে ফেলেন।এদিকে চেপে রাখা কান্নার তোরে উনার সারা শরীর কম্পিত হচ্ছে।আমি তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে উনাকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিতে লাগলাম।আমাকে কাছে পেয়ে উনার কান্নার বাঁধ আরও ভাঙলো

ঘুমের ঘোরে মুচরা মুচরি করছে নোহা।সেই কখন টয়লেট পেয়েছে কিন্তু অলসতা করে চেপে শুইয়ে ছিলো। এখন আর পারছে না।তাই অলসতা সাইডে রেখে উঠে দাড়াল।অতঃপর গা ছাড়া ভাব নিয়ে ওয়াশরুমের সামনে গিয়ে দাড়ালো।ওয়াশরুমের দরজায় ধাক্কা দিলেও খুললো না।ফলে ঘুম দূরে সরিয়ে চোখগুলো মেলে তাকিয়ে দেখলো__দরজা ভেতর থেকে লাগানো।এদিকে প্রাকৃতিক দুর্গন্ধ যুক্ত বায়ু তাকে জানান দিচ্ছে এক্ষুনি তাকে পেট পরিষ্কার করতে হবে।
–ভেতরে কে আছ?
ওয়াশরুমের ভেতর থেকে জুই গলা খাঁকারি দিয়ে তার উপস্থিতি জানান দিলো।নোহা দরজায় থাপড়াতে থাপড়াতে বললো,

–প্রিটি গার্লের সিস্টার, ওপেন দ্যা ডোর।
জুই টয়লেটে বসে আবার গলা খাঁকারি দিলো।সে বুঝাতে চাইলো সে এখন বিজি আছে।কিন্তু নোহা শুনলো না।তার টয়লেটের বেগ বেড়ে গেছে। তাই দরজায় দ্বিগুণ তালে থাপ্পড় মারতে মারতে চেঁচালো,
–এই প্রিটি গার্লের বোন,বোনের গার্ল প্রিটি তাড়াতাড়ি ডোর ওপেন কর।আমার অনেক জুড়ে হাগি পেয়েছে।
টয়লেটে বসে জুই এক মহা বিপদে পড়েছে। এই মূহুর্তে সে চাইলেও বের হতে পারবে না।নোহা উরাধুরা দরজায় থাপ্পড় মারতে লাগলো।এদিকে দরজার ছিটকিনি খুলে যাবে খুলে যাবে অবস্থা। জুই সমান তালে কেঁশে বুঝচ্ছে এখন সে বের হতে পারবে না।নোহা এদিকে চেঁচাতে লাগলো,

–তাড়াতাড়ি ডোর খুলে দাও।আমার অনেক জোরে হাগি পেয়েছে।খুল বলছি, খুল,,,,,,
অনেকক্ষণ ডাকার পরেও যখন জুই বের হলো না।তখন নোহার পাগলের মতো অবস্থা হয়েছে।এই মূহুর্তে টয়লেটে না গেলে কাপড়-চোপড়েই হয়ে যাবে।উপায়ান্তর না পেয়ে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো।আমার রুম থেকে বের হলেই জিতু ভাইয়ার রুম।ভাইয়ার রুমের দরজা খোলা থাকায় এক ছুটে রুমে ঢুকে পড়লো।
এদিকে জিতু ভাইয়া শাওয়ার নিচ্ছে। ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হবে।উনার শাওয়ার নেওয়া শেষ, এখন খালি কোমরে গামছা জড়াবে।এমতাবস্থায় ওয়াশরুমের দরজায় জোরে জোরে করাঘাতের শব্দ কানে আসে।সাথে একটা মেয়ের গলা ফাটানো চিৎকার,

–ঐ ঐ কুইকলি ওপেন দ্যা ডোর।আমার হাগি পড়ে গেলো।ডোর খোল, খোল বলছি,,,,,,
নোহার এমন কথা শুনে হতবিহ্বল হয়ে গেলো জিতু ভাইয়া।এদিকে নোহা আবার নিজের শরীরের সকল শক্তি দিয়ে দরজায় কিল ঘুষি দিতে লাগলো,
–ডোর খোলঅঅঅঅ,,,,
নোহার এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে কোনো মতে গামছা হাতে নিলো কোমরে পেঁচানোর জন্য। তখনই নোহার কাতর কন্ঠ ভেসে আসলো,
–এখানেই করে দিলাম, এই দিলাম,,,,,

জিতু ভাই আর কিছু ভাবতে পারলো না।এই মেয়ে যদি সত্যিই এখানে করে দেয়।তিনি কোমরের গামছায় গিট দেওয়ারও ফুসরতও পেলেন না।অতএব কোমরে গামছা কোনো মতে পেচিয়ে দরজা খোলে,তবে বের হওয়ার আগেই নোহা জিতু ভাইকে ঠেলা মেরে ভেতরে ঢুকে ঠুস করে দরজা লাগিয়ে দিলো।নোহার এমন কাজে উনার চোখমুখ কুচকে গেলো।তখনই নজর পড়লো দরজায় একটা গামছা ভেতর থেকে আটকে বাইরে ঝুলে আছে।জিতু ভাই নিজের নিম্নাংশে আস্তে আস্তে তাকাতেই চোখ কপালে উঠে পড়ার অবস্থা হলো।তিনি নিজের এমন অবস্থা দেখে একটা ঢুক গিললো।তখনই ওয়াশরুম থেকে অদ্ভুত শব্দ আসতে লাগলো,

❝ভুমভুম পঅঅঅ পঅঅঅ,,,,,, ❞
জিতু ভাই নাক ছিটকে ওয়ার্ডরোব থেকে একটা টাউজার বের করে পড়ে নিলেন।অতঃপর একটা সেন্ডো গেঞ্জি গায়ে জড়িয়ে নিলেন।দশ মিনিট পর ওয়াশরুমের দরজা খুললো।সেখান দিয়ে ক্লান্ত নোহা বেরিয়ে আসলো পেটে ধরে।নোহা বাইরে এসে পেটে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে শান্তির শ্বাস ছাড়লো। নোহাকে দেখে জিতু ভাই বিরক্তিতে রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হলেই নোহার চোখে পড়ে যায়।জিতু ভাইয়ের দেহে সেন্ডো গেঞ্জিটা আষ্টেপৃষ্টে লেগে আছে।ফলে পেশিবহুল দেহের ভাজ স্পষ্ট। মূহুর্তেই নোহার চোখে মুখে খুশির ঝলক দিয়ে উঠলো।আজ জিতু ভাই নোহাকে এত বড় হেল্প করায়,তার চোখে জিতু ভাই এখন থেকে বীরপুরুষ।নোহা তাকে জড়িয়ে ধরতে দু হাত সামনে ধরে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো,

–হানিইইইই,,,,,
নোহার কন্ঠ জিতু ভাইয়ের কানে যেতেই উনার চলন্ত পা থামলো। অতঃপর পিছনে তাকাতে না তাকাতেই নোহা পায়ে পা বেজে জিতু ভাইয়ের শরীর ছুঁইয়ে উনার পায়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো।জিতু ভাই আবার হতবিহ্বল হয়ে পড়লো।কয়েক মূহুর্তের মধ্যে যখন অনুভব করলো উনার নিম্নাংশ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, তখনই আস্তে আস্তে চোখ সেখানে ঘুরালো। তৎক্ষনাৎ আসমান থেকে পড়লো।নোহা পড়ে যাওয়ার সময় টাউজার ধরে __পড়ার হাত থেকে বাঁচতে চেয়েছিলো।কিন্তু তা তো হয় নি বরং সেটা নিয়েই জিতু ভাইয়ের পায়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে।জিতু ভাইয়া বাক হারা হয়ে গেছে নিজের এমন অবস্থা দেখে।
এদিকে নোহা এখনো টাউজার ধরেই মেঝেতে পড়ে আছে।সে ব্যথায় “ও, আ” করতে করতে যখন উপরের দিকে তাকালো,তখনই চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।মূহুর্তের মধ্যে ব্যথা ভুলে চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।সে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে অবাক সরে বললো,
❝ওয়াও কেয়া মেশিন হে!ইসে তো বহত মাজা আয়ে গা___❞

জিয়াদ এবার ইন্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করছে প্রথম বর্ষে।সারা রাতদিন পরিশ্রম করে ভার্সিটি তে জমা দেওয়ার জন্য একটা প্রেজেন্টেশন রেডি করেছে।আমি আর জুই ওর রুমে বসে তার কাজ দেখছি।তখুনি নিচ থেকে চেঁচামেচি কানে আসলো।আমরা নিচে নামতেই দেখি ইফান পায়ের উপর পা তুলে সোফায় বসে আছে।তার পাশে পিংক কালার একটা গাউন পড়ে গুটিসুটি করে বসে আছে ইতি।তার পিছনে এত এত শপিং নিয়ে দাড়িয়ে আছে ইনান আর আলাল, দুলাল।বাড়ির সবাই হা করে সদর দরজার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি তাদের দৃষ্টি অনুযায়ী তাকাতেই আমার মুখও হা হয়ে গেলো।বাইরে থেকে ইফানের কিছু ছেলেপুলে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে এসেছে।বাজারের যত শাকসবজি, মিষ্টির হাড়ি ছিলো সব তুলে নিয়ে এসেছে।সেগুলো রাখতেই পুরো লিভিং রুম ভরে গেছে।তারপর আরও দুটো ছেলে ভেতরে আসে।একজনের মাথায় খাঁচা ভর্তি দেশি মুরগী। আরেকজনের মাথায় কাঁচা ভর্তি হাঁস।তৎক্ষনাৎ আরও দুটো ছেলে পাঁচটি ছাগল নিয়ে আসলো।ইফান টি-টেবিল থেকে গ্লাসটা তুলে নিয়ে ঢকঢক করে সম্পূর্ণ পানিটা খেয়ে নিলো।আমার বাড়ির সকলেই আশ্চর্য ওর এমন বেয়াদবি দেখে।ইনান ঝটপট পকেট থেকে টিস্যু বের করে দিলো।ইফান হাত মুছে সবার উদ্দেশ্য মাথায় হাত রেখে লম্বা করে সালাম দিলো,

–আসসালাআআআআমু আলাইকুম মুরুব্বিরা।
ইফানের বেয়াদবি দেখে আব্বুর মুখ বেজার হয়ে গেলো।বড় আব্বু নতুন জামাইয়ের সাথে কোনো ঝামেলা চাইছেন না।তাই চুপচাপ এসব দেখছে। কারও উত্তর না পেয়ে ইফান ঠোঁট বাঁকালো।অতঃপর আবার কিছু বলবে তখনই আরেকটা ছেলে ছুটে এসে ইফানকে বললো,
–ভাই এত বড় ষাঁড় দুইটা দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকতাসে না।এখন কি করতাম?
ইফানের কথার মাঝে ব্যাঘাত ঘটায় তার চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো।সে ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে বিরক্তি নিয়ে বললো,

–তাহলে আমার সা*উয়ার ভিতর ঢুকিয়ে দে।
শ্বশুর বাড়িতে প্রথমবার এসেই শ্বশুর শাশুড়ি সহ সকল মুরুব্বিদের সামনে এমন অ*শ্লীল কথা বার্তা শুনে শেখ বাড়ির সকলেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো।আব্বু একজন শিক্ষক আর তার সামনে এমন গা*লিগালাজ করছে তারই মেয়ের জামাই।তিনি ভোতা মুখ করে দৃষ্টি সরিয়ে নিলেন।আম্মু আর বড় আম্মু প্রথমবার বাড়িতে মেয়ের জামাই আসার খুশিতে রান্নাঘরে ছুটলেন।এদিকে ইফানের কথা শুনে ছেলেটা ধরে নিলো ষাঁড় দুটোকে যে করেই হোক ভেতরে নিয়ে আসতে বলেছে ইফান।ছেলেটা ইফানকে বললো,

–জি ভাই, ভেতরে নিয়ে আসছি।
ছেলেটা চলে যেতে নিলেই আমি চেচিয়ে উঠলাম,
–আরেকটা জিনিসও যদি এই বাড়ির ভিতর আসে তাহলে তোদের একদিন কি আমার একদিন।
আমার কন্ঠ শুনে সিঁড়ির দিকে তাকালো ইফান।তৎক্ষনাৎ উঠে দাঁড়িয়ে আমার সামনে দু হাত মেলে ধরে__হেসে বললো,
–এই তো আমার বুলবুলি। আমার কলিজার বউ।কতদিন তোমাকে দেখি না সোনা।
নিজের বাপ চাচার সামনে এমন কথা শুনে ল*জ্জায় ম*রে যেতে ইচ্ছে করছে।রাগে শরীরে জ্বলন ধরে গেছে।আর এই শয়তান লোক এসব কি বলছে?সে কতদিন ধরে দেখা না মানে?কালও তো দেখলো। আবার ইফানের কন্ঠ কানে আসে,

–বউ এদিকে আস তোমাকে দু’টো চুমু খাই।
ইফানের নি*র্লজ্জ কথায় আমি চেঁচিয়ে উঠলাম,
–ল*জ্জা করে না তোর, একটুও করে না?বিনা নিমন্ত্রণে অন্যের বাড়িতে এসে হাজির হয়েছিস সকাল সকাল,আবার বেহায়ার মতো কথাবার্তা বলছিস।
ইফান বাড়ানো হাত গুটিয়ে নিয়ে শরীর টানা দিতে দিতে বললো,
–ইফান চৌধুরী যখন যে জায়গায় থাকে তখন সেই জায়গার মালিক। আর লজ্জা, সেটা আবার কোন ধরনের জিনিস, খায় না মাথায় দেয়?
ইফানের এমন উত্তর শুনে রাগে মস্তিষ্ক ফেটে পড়ার অবস্থা। আমি ওর দিকে তেড়ে আসতে নিলে আব্বুর কন্ঠ শুনে থেমে যাই।
–কি হচ্ছে কি জাহান?ভুলে যাচ্ছ, সোসাইটিতে আমাদের একটা মানসম্মান আছে।

নোহাকে জিতু ভাইয়া তৎক্ষনাৎ রুম থেকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে।তিনি একজন সাহসী সি আই ডি অফিসার।তার ভয়ে বড় বড় অপরাধীরও প্যান্ট ভিজে যায়।আর একটা মেয়ে কিনা তার ইজ্জতের ফালুদা উঠিয়ে দিলো।রাগে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে।এদিকে সেই কখন থেকে নিচ থেকে চেচামেচির আওয়াজে শুনতে পারছে। সে দ্রুত ফর্মাল ড্রেসআপে রেডি হয়ে নিলো।আজ আর এই বাড়িতে লাঞ্চ করবে না। এমনকি এই লু*চ্চা মেয়ে যতদিন এই বাড়িতে থাকবে ততদিন এই বাড়ি মুখো হবে না।
এদিকে নোহা দরজার বাইরে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে।জিতু ভাইয়া রুম থেকে বের হলেই চেপে ধরবে।
জিতু ভাইয়া নিজের রাগকে কনট্রোলে আনতে শেষ বার একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো।তারপর দরজা খুলতেই নোহা টুকি বলে ঝাপিয়ে পড়তে নিলো।তখনই তিনি দূরে সরে যান।অতঃপর চিৎকার করে উঠেন।নোহা মার খাওয়ার ভয়ে দৌড়াতে শুরু করে।জিতু ভাইয়া রাগের বশে নিজের সব হুশ জ্ঞান হারিয়ে পাল্টা ধাওয়া করে।

আমি সিঁড়িতেই এখনো দাঁড়িয়ে আছি। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ইফানের দিকে তাকিয়ে। ইফান আবার গিয়ে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসলো।তার দৃষ্টি আমার দিকেই। আমাকে রাগতে দেখে বেশ মজা পাচ্ছে। তাই ঠোঁট বাকিয়ে হাসছে।
এদিকে এতক্ষণ চুপচাপ বসে থাকা ইতি আমার দিকে কখন থেকে তাকিয়ে আছে এটেনশন পাওয়ার জন্য। ইফানের উপর রাগে ওর কথা ভুলে বসেছি।হঠাৎ তার দিকে চোখ পড়তেই দুজনের চোখাচোখি হলো।মূহুর্তেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো।আমি নিজের রাগ ধামাচাপা দিয়ে মলিন হাসতেই মেয়েটা আমার কাছে পৌঁছাতে ছুটে কয়েক সিঁড়ির পেরতেই আচমকা কারো সাথে ধাক্কা লাগে।আমি, ইফান একসাথে চিৎকার করে ডেকে উঠলাম,

–ইতিইইই,,
ইফান উত্তেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে।এদিকে ভয়ে ইতি চোখ বন্ধ করে রেখেছে। কয়েক মূহুর্ত পেরিয়ে গেলেও যখন ব্যথা অনুভব করলো না।তখন পিটপিট করে তাকাতেই জিতু ভাইয়ার সাথে চোখাচোখি হলো।
নোহাকে দৌড়ে ধরতে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নিলেই আচমকা ইতির সাথে ধাক্কা লাগে।আমি ভাইয়াকে ইতিকে ধরে ফেলতে দেখেই আটকে রাখা নিঃশ্বাস ফেললাম।ভাইয়া ইতিকে সোজা করে দাঁড় করাতেই নোহা ছুটে এসে ইতির সারা শরীরে চোখ বুলিয়ে উত্তেজিত হয়ে বলতে লাগলো,
–আর ইউ ওকে লিটিল গার্ল।তোমার লাগে নি তো?
ইতি মাথা নিচের দিকে রেখেই মিনমিন করে বললো,
–আমি ঠি ঠিক আছি।
ইফান আবার শান্ত হয়ে সোফায় বসলো।আমি ইতির ডানায় ধরে আমার কাছে নিয়ে এসে বললাম,

–এক্ষুনিই তো পড়ে ব্যথা পেতে।
–সে তো পেতোই।কেউ যদি ট্যাংকির মতো বটকা শরীর নিয়ে, পা*ঠার মতো দৌড়ায়, তাহলে তো আরও অনেক কিছুই হতে পারতো।
ইফানের ব্যাঙ্গাত্মক কথা শুনে সেদিকে তাকালো জিতু ভাইয়া।এতক্ষণ তিনি ইফানকে খেয়াল করে নি।ইফানকে দেখা মাত্রই উনার চোখমুখে আরও কাঠিন্যে চলে আসলো।ইফান জিতু ভাইকে রাগতে দেখে বেশ মজা পাচ্ছে।পরক্ষণেই দু’জনের চোখই শীতল হয়ে আসলো।তাদের স্নায়ু যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে আম্মুর ডাকে,
–আব্বা তুমি অফিসের জন্য রেডি হয়ে চলে আসছ।ব্রেকফাস্ট রেডি আছে খেয়ে নাও,,,,,
–বাইরে খেয়ে নিবো এখন আসছি।
জিতু ভাইয়া না খেয়েই চলে গেল।কিন্তু যাওয়ার আগ পর্যন্ত ইফানের চোখের দিকে তাকিয়ে ছিল।ইফানও তাই। এই বিষয় টা কারো নজরে পড়লো কি পড়লো না, জানা নেই। তবে আমার চোখ এড়াতে পারেনি।ইফানের আচরণ দেখে মনে হলো সে আগে থেকেই জিতু ভাইয়ার সাথে পূর্বপরিচিত।

ঘড়ির কাটা রাত দশটার ঘরে।ডাইনিং টেবিলে বসে আছে আব্বু, বড় আব্বু, জিতু ভাই,ইফান,ইনান,আলাল দুলাল, জিয়াদ,নোহা আর ইতি।জুই চুপিচুপি রান্নাঘরে খেয়ে আমাদের রুমে চলে গেছে। এখানে বাইরের পুরুষ থাকায় সকলের সাথে বসে নি।
ইফান অভদ্রের মতো বড় আব্বুর চেয়ার দখল করে বসে আছে।এই নিয়ে জিতু ভাইয়া কিছু বলতে নিলে আব্বু আর বড় আব্বু ইশারায় থামিয়ে দিয়েছে। আজ জিতু ভাইয়ার বাড়িতে ফেরার কথা ছিলো না।কিন্তু নয়টার দিকেই অজানা এক কারণে বাড়িতে ফিরে এসেছে।নোহা আর ইতি ইফানের দু পাশে বসেছে।ইফানের সোজাসুজি বসেছে জিতু ভাইয়া।তার এক পাশে বসেছে আব্বু আর বড় আব্বু।আরেক পাশে বসেছে জিয়াদ,আলাল, দুলাল আর ইনান।নোহা যে চেয়ারে বসেছে সেখানে আমাকে বসতে বলেছিলো ইফান।নোহাও জোর করেছিলো। করবেই বা না কেন? তার তো মতলব ছিলো ভাইয়ার সাথে বসা। তবে ভাইয়া সেই সুযোগ না দিয়ে অন্যদের বসিয়ে দিয়েছে।কিন্তু আমি বসি নি আম্মু আর বড় আম্মুর সাথে একসাথে খাব বলে।

বাড়িতে নতুন জামাই আসায় বড় আব্বু বিকালে হাটবাজার থেকে টাটকা টাটকা শাকসবজি মাছ মাংস নিয়ে এসেছে।ইফানের আনা জিনিসগুলোর মধ্যে কিছু মিষ্টি পাড়ার লোকদের বিতরণ করা হয়েছে।বাকিসব এতিম খানায় পাঠিয়ে দিয়েছে।এমন কি পনেরো লাখ টাকার দুটো ষাঁড় সহ এক লক্ষ টাকার ছাগলগুলোও।
ইফান যখন তিন ট্রাক ভর্তি এসব জিনিস নিয়ে শেখ বাড়িতে এসেছে।তখন পুরো কেরানীগঞ্জে হইচই শুরু হয়েছে।প্রতিবেশীরা তো আমার শ্বশুরবাড়ি, আামর জামাইয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ইফান আসার পর থেকেই আমাদের বাড়িতে উঁকি ঝুঁকি মারছে পাড়ার মহিলারা।তবে বাড়িতে আসার সাহসটাই পাচ্ছে না।পাবেই বা কিভাবে? আমার সাথে ইফানের যে কাহিনি ঘটেছিলো তা নিয়ে আমাদের যা অপমানই না করেছে এরা।তাই আর আগ বাড়িয়ে কথা বলতে পারছে না।আবার কিছু মানুষ প্রথম থেকেই আমাদের পাশে থেকেছিল।তারা নতুন জামাই দেখতে বাড়িতে এসেছিল।কিন্তু ইফানের লাগামহীন নি*র্লজ্জ কথার ছুটে তক্ষুনি পালিয়েছে।

ডাইনিং টেবিলে ইফান আর জিতু ভাই দুই প্রান্তে বসে একে অপরের দিকে তাকিয়ে গিলে খাচ্ছে। তক্ষুনি আম্মু আর বড় আম্মু সব খাবার পরিবেশন করে।আজ তাদের আদরের মেয়ের জামাই আসায় খুশির শেষ নেই। তারা তো আর ইফানের আসল রুপ জানে না।তাই ইফানকে বাবা বাবা ডেকে আহ্লাদে আটখানা।
আজ বাড়ির দুই গৃহিণী মিলে চল্লিশ পদ রান্না করেছে।যদিও তাদের সাহায্য করেছে আব্বুর চাচাতো ভাই বউরা।উনারা এখনো আমাদের বাড়িতেই।আজ রাতে আমাদের এখানেই উনাদের খাওয়ানো হবে।সাথে বাড়ির জন্যও দিয়ে দিবে বড় আম্মু ।উনারা ভুলেও রান্নাঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না ইফানের ঠোঁট কাটা কথার ভয়ে।উনারা সেখানে সব রেডি করে আম্মু আর বড় আম্মুর হাতে এগিয়ে দিচ্ছেন। আর উনারা টেবিলে পরিবেশন করছে।
এদিকে বড় আম্মু প্রথমেই নতুন জামাইয়ের প্লেটে খাবার তুলে দিলো।কিন্তু নি*র্লজ্জ লোকটা নিজের প্লেটের থেকে খবার মুখে না তুলে বাটি ভর্তি তরকারি তে আঙ্গুল চুবিয়ে সেটা টেস্ট করছে।তার এমন কাজে আব্বু আর বড় আব্বু মাথা নিচু করে রেখেছে। জিতু ভাই রাগে কটমট করে ইফানের দিকে তাকিয়ে। ইফানের নজরে সেটা পড়তেই বললো,

–নেও শালাবাবু।আমার আঙ্গুল থেকে একটু চেকে দেখ ইয়াম্মি।
ইফান সবগুলো আইটেমেই আঙ্গুল চুবিয়ে টেস্ট করলো।অতঃপর আম্মু আর বড় আম্মুর দিকে তাকিয়ে বললো,
–এই নাহলে ইফান চৌধুরীর শাশুড়ী আম্মারা।সেই সেই রান্না করেছেন।আগে জানলে তো ঘর জামাই হয়ে চলে আসতাম।
ইফানের প্রশংসায় আম্মু আর বড় আম্মুর খুশি আর ধরে রাখে কে।বড় আম্মু ইফানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,
–কেন আসবা না বাবা।এখন থেকে সময় পেলেই চলে আসবা আমাদের মেয়েটাকে নিয়ে।
ইফান জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলে হাসি মুখে আমার দিকে তাকালো।আমি রেগে আগুন হয়ে ওর দিকে তখন থেকে তাকিয়ে আছি।আমাকে এভাবে খেপে থাকতে দেখে সকলের সামনে ঠোঁট গোল করে চুম্মা দেখালো।আমি আর দাঁড়ালাম না।গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে গেলাম।

সকলে ডিনার সেরে নিজেদের রুমে চলে গেছে।ইনান,আলাল আর দুলালকে একটা রুম দেওয়া হয়েছে। ইতি আসার পর জুইয়ের সাথে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে।এদিকে দুজনেই এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী।তাই ওদের দুজনকে এক রুম দেওয়া হয়েছে।আমি আমার রুমেই আছি সাথে নোহাও।এই মেয়েটা এক নাম্বারে বেহায়া।কতবার বললাম গেস্ট রুমে যেতে, না ও আমার সাথেই জোকের মতো লেগে থাকবে।এরপর আমার সাথে শুইয়ে ভাইয়ার প্রশংসা করতে করতে রাত বারোটার পর ঘুমিয়েছে।তারপর আমিও স্বস্তিতে চোখ বুজলাম।
ইফান অনেক বলার পড়েও আমার রুমে নিজের জায়গা করতে পারে নি।অবশেষে উপায়ন্তর না পেয়ে জিতু ভাইয়ার রুম দখল করেছে।জিতু ভাই আর ইফান হাইটে একই হলেও দেহের গঠনের দিক দিয়ে একটু কম বেশ আছে।জিতু ভাই ইফানের মতো বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী লোকের থেকেও কিছুটা স্বাস্থ্যবান।যদিও বয়সের দিক থেকে ইফান সিনিয়র।

রাত একটা বাজে বাজে।একই বেডে শুইয়ে আছে জিতু ভাইয়া আর ইফান।জিতু ভাইয়ের বেড অনেক বড় সাইজের হলেও দুই বলিষ্ঠবান লোককে জায়গা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। বলতে গেলে বেশি অর্ধেক বিছানায় ইফান দখল করে আছে।আর একটু পর পর এপাশ ওপাশ করছে।ইফানের এইসবের চক্করে জিতু ভাইয়ার ঘুম চাঙ্গে উঠছে।ইফান কিছুক্ষণ পরপর ভাইয়াকে এটা ওটা বলে খেপানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু আজ সে কিছুতেই ইফানের সাথে লাগবে না।তাই থুম মেরে ইফানকে পিছন পাশ করে শুইয়ে আছে।ইফান বউয়ের সাথে না ঘুমাতে পারার আক্ষেপ নিয়ে আজ আর ঘুম আসবে না তার।তাই ভাইয়াকেও ঘুমাতে দিবে না।ইফান নিজের এক পা জিতু ভাইয়ার উপর তুলে বলতে লাগলো,

–কিরে শালাবাবু,এখনো হাঙ্গা করছিস না কেন?নাকি টুনটুনি খাড়ায় না।
ইফানের এসব কথা শুনে ভাইয়ার শক্ত চোয়াল আরও শক্ত হয়ে আসলো।তবুও নিজের রাগ কন্ট্রোল করে থ মেরে শুয়ে রইলো।ভাইয়ার থেকে কোনো রিয়াকশন না আসায় ইফান আবার বলতে লাগলো,
–কিরে বেঠা তর নুনু কি আগের মতোই আমার কেনি আঙ্গুলের সাইজেই রয়ে গেলো নাকি।না একটু আধটু বাড়সে?
ইফান এসব বলে নিঃশব্দে হাসছে।যা ওর শরীরের কম্পনে জিতু ভাইয়া অনুভব করতে পারছে।রাগে জিতু ভাইয়ার মাথা ফেটে পড়ার উপক্রম।সে এক ঝটকা মেরে ইফানের পা টা নিজের শরীর থেকে সরিয়ে আগের মতো থ মেরে শুয়ে রইলো।ইফান কিছুটা অবাক হলো ওর রিয়াকশন না পেয়ে। তারপর চুপচাপ সেও শুয়ে রইলো।

বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও ইফানের সারা শব্দ না পেয়ে, ভাইয়া ভেবে নিলো ইফান ঘুমিয়ে পড়েছে।এদিকে এক সাইড হয়ে শুয়ে থকতে থাকতে উনার শরীরে ব্যথা চলে এসেছে।তাই আস্তে করে ইফানের দিকে ফিরে শুইয়ে পড়লো।তৎক্ষনাৎ ইফান ভাইয়ার দিকে পিঠ দিয়ে আরেক পাশে ঘুরে পড়লো।তারপর এক পাছা কিছুটা উঁচিয়ে ভাইয়ার মুখের কাছে ভট্টর ভট্টর করে তিনটা পাদ দিয়ে দিলো।ইফানের এমন কাজে তৎক্ষনাৎ লাফ মেরে উঠে বসলো জিতু ভাইয়া।ইফানের পাদের বিচ্ছিরি গন্ধ মূহুর্তেই সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়লো।ভাইয়ার দিকে গন্ধ পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য ইফান এক হাত দিয়ে নিজের পশ্চাতে বাতাস করতে লাগলো।
এদিকে গন্ধের ঠেলায় ভাইয়া দুই হাত নাকে চেপে ধরে বিছানা থেকে নামতে নামতে ইফানকে কয়েকটা অশ্লীল গালি দিয়ে দিলো,
–শা*লা বা*স্টার্ড। পাদের গন্ধ তো নয় যেন পচা ডিম ফাটায়ছে।
আরও গা*লি দিতে দিতে সোফায় গিয়ে শুইয়ে পড়লো ভাইয়া।এদিকে ইফান ঠোঁট কামড়ে হাসছে জিতু ভাইয়াকে খেপাতে পেরে।

ঘড়ির কাটা রাত দুটোর ঘরে এসে থামলো।আমি আর নোহা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।দরজায় বেশ কয়েকবার করাঘাত হওয়ার পরও আমার কানে এসে পৌঁছায় নি।তারপর আগের থেকে আরও জোরে শব্দ হতেই ঘুম থেকে ধরফরিয়ে উঠলাম।তখন কানে আবার করাঘাতের শব্দ আসে।আমি বিরক্তি নিয়ে বললাম,
–কে,দাঁড়াও আসছি,,,,
তারপর ঘুমে ডলে পড়তে পড়তে অন্ধকার রুম হাতরে লাইটের সুইচ অন করলাম। অতঃপর শাড়ির আচলটা টেনে বুকের অংশ ভালো করে ঢেকে দরজা খুললাম।সামনে মাথা তুলে তাকাতেই দেখি ইফান পকেটে দু’হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে।শরীরে কোনো শার্ট বা গেঞ্জি নেই। আমি চোয়াল শক্ত করে বললাম,

–এটা আপনার বাড়ি না।একটু তো ল*জ্জা রাখেন।এভাবে রাতবিরেতে খালি গায়ে ঘুরছেন কেন?
ইফান আমার বুকের দিকে তাকিয়ে উত্তর করলো,
–খেলার সময় এমনিতেই খুলতে হতো।তাই আগেই খুলে রেখে এসেছি।
ইফানের এমন ভটভট কথা শুনে বিরক্তি আরও বাড়লো।মাঝ রাতে ঘুম ভাঙিয়ে এসব কি নাটক শুরু করলো?তখনই ইফান আবার বললো,

–বউ কতদিন ধরে তোমায় আদর করি না।চল একটা চিপায় গিয়ে কাজ সেরে ফেলি।
ইফানের একের পর এক আজাইরা কথা শুনে রাগে শরীর জ্বলছে। আমি রাগের ছুটে কয়েকটা গা*লিগালাজ করবো তখনই ইফানের প্যান্টের দিকে নজর আটকালো।আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম,
–এই লোক কি আবার প্যান্টে মুতে দিলো নাকি?
নিজের মনের চিন্তাধারা সাইডে রেখে জিজ্ঞেস করে বসলাম,
–আ আপনার প্যান্ট ভিজলো কিভাবে?
আমার কথা শুনে ইফান নিজের পেন্টের দিকে তাকালো।অতঃপর আগের ন্যায় প্যান্টের পকেটে হাত রেখেই দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। তারপর ভাবলেশহীন ভবে উত্তর করলো,
–বউহীনা হেলমেট ছাড়া রাইডিং করতে গিয়ে গাড়ি উল্টে খাদে পড়ে,তখনই মেশিনের সব তেল বেরিয়ে বড়সড় ড্রিম এক্সিডেন্ট ঘটে।

জাহানারা পর্ব ৩৪

–কিহ্??
আমি ওর কথার আগামাথা বুঝতে না পেরে অবাক স্বরে বললাম।ইফান আমার সারা দেহ একবার স্কেন করে একটা ঢুক গিললো।অতঃপর পকেটের ভেতর থেকে এক হাত বের করে __ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,
–যৌ*বনে টান মারসিন___

জাহানারা পর্ব ৩৬