Home প্রাণসঞ্জীবনী প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩১

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩১

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩১
রাত্রি মনি

ইতালি, রোম
সকালটা যেন এক শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস। হালকা সোনালি রোদ পড়ে যাচ্ছে প্রাচীন পাথরের রাস্তায়, ভ্যাটিকানের গম্বুজ দূরে ঝলমল করছে। রাস্তার ধারে ছোট ছোট ক্যাফেতে সদ্য বানানো কফির গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। পাথুরে ফোয়ারা থেকে টুপটাপ জলের শব্দ, আর আকাশে হালকা নীলের সাথে মিশে আছে শান্ত সাদা মেঘ সব মিলিয়ে এক স্বপ্নিল রোমান সকাল।

ক্যাথি প্রতিদিনের মতো ছোট ভাইকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে অফিসের পথে ছিল। সে রিশাবের বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অফিসেই কাজ করে। সেখান থেকেই তাকে ফ্ল্যাট আর গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
রাস্তাটা ফাঁকাই ছিল। গাড়ি চালাতে চালাতে একটু বেখেয়ালে পড়ে যায় ক্যাথি। হঠাৎ করেই সামনে থাকা একটি গাড়ির সাথে তার গাড়ির হালকা ধাক্কা লাগে। আচমকা ঘটনায় ভড়কে ওঠে সে।
ভদ্রতার খাতিরে ক্যাথি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে আসে। গাড়ির জানালার ভেতরে তাকিয়ে “সরি” বলতে গিয়েই যেন জমে যায় তার মুখ। সে খুব আস্তে, প্রায় ফিসফিসিয়ে উচ্চারণ করে,

“মাহিন…”
চেনা নাম শুনে মাহিনও চমকে ওঠে। তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নেমে আসে সে। কপালে ছোট ছোট ঘামের ফোঁটা চিকচিক করছে। ক্যাথি ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে তাকায়। কণ্ঠে বিস্ময়ের রেশ,
“আপনি এখনো এখানে!আপনারা বিডিতে ব্যাক করেননি? রিম আর রিশাব… ওরা কোথায়?”
মাহিন চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। যেন আশেপাশে কেউ শুনছে কি না, খেয়াল করছে। তারপর কপালের ঘাম হাতের পেছন দিয়ে মুছে নিয়ে গভীর স্বরে বলে,
“ম্যাম আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন? আপনার সাথে কনট্রাক্ট করার জন্য কত চেষ্টা করেছি, বারবার করেছি, কিন্তু প্রত্যেকবারই সব বৃথা গেছে।”

ক্যাথি এক মুহূর্তের জন্য অপ্রস্তুত হয়ে যায়। ঠোঁটের কোণে জোর করে একটুখানি হাসি টেনে আনে।
“আসলে আগের নাম্বারটা চেঞ্জ করে ফেলেছি… তাই হয়তো যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু রিম আর রিশাব কেমন আছে? ওরা কি বিডিতে চলে গেছে?”
মাহিন লম্বা এক শ্বাস টেনে নেয়, যেন ভিতরের সবকিছু সামলে নেয়ার চেষ্টা করছে। তারপর নিচু গলায় বলে,
“সব বলবো… কিন্তু এখানে নয়। দয়া করে, আমার সাথে চলুন।”
মাহিনের আচরণে অদ্ভুত কিছু খুঁজে পায় ক্যাথি। স্বাভাবিক নয়। তার মনে অকারণ সন্দেহ জেগে ওঠে কেউ কি বিপদে আছে? নাকি কোনো অজানা গোপন ঘটনা লুকিয়ে আছে এখানে? সে আর কথা না বাড়িয়ে মাহিনের সাথে চলে যায়।

ক্যালাব্রিয়া, পেন্টহাউজ
লজ্জায় জেইনের শার্টের কলার শক্ত করে খামচে ধরে রিম মুখটা গুঁজে দেয় তার বুকের ভেতর। গাল দুটো যেন জ্বলছে আগুনের মতো, তীব্র লাল। ধীরে ধীরে শ্বাস নিচ্ছে সে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে বুক ওঠানামা করছে ভারী ছন্দে। জেইন রিমের শরীরের প্রতিটি কাঁপুনি, প্রতিটি শিহরণ অনুভব করতে পারছে। রিমের উষ্ণ শ্বাস সরাসরি আছড়ে পড়ছে তার বুকে, যেন বুকের ভেতরের তালের সাথে মিলিয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। জেইন দু’হাতে শক্ত করে রিমকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে। গাঢ়, হুইস্কির মতো মাদকতা মেশানো কণ্ঠে বলে,
“শুনতে পাচ্ছো? ইটস অনলি বিটিং ফর ইউ।”
রিম কেঁপে ওঠে। কানের ভেতর বাজতে থাকা জেইনের হৃদস্পন্দনের প্রতিটি ধ্বনি যেন তার শিরায় শিরায় ঢুকে যাচ্ছে। এতটা জোরে, এতটা তীব্রভাবে ধুকপুক করছে যে তার শরীর শিউরে ওঠে। সে সরে যেতে চায়, কিন্তু জেইনের বাহু আরও শক্ত হয়ে ওঠে।
“উম্ম নড়বে না! যাস্ট ফিল ইট।”
রিমের শরীরে অদ্ভুত অস্বস্তি জমে ওঠে। গলা শুকিয়ে আসে, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে যায়। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে

“ছাড়ুন কেমন জানি লাগছে।”
জেইন ঠোঁট কামড়ে ধরে। কণ্ঠস্বর আঠালো, ধীরে ধীরে রিমের কানের কাছে মুখ নিয়ে আসে। তার ঠোঁট প্রায় ছুঁয়ে যায় রিমের কানের লতি। শ্বাসের উষ্ণতা ভিজিয়ে তোলে সেই জায়গা।
“কেমন লাগছে, সোনা?”
তার গাঢ় কণ্ঠস্বর, ভেজা ঠোঁটের অস্পষ্ট স্পর্শে পুরো শরীর কেঁপে ওঠে রিমের। পায়ের পাতায় অদ্ভুত শিরশিরানি ছড়িয়ে পড়ে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকের ভেতর যেন দম আটকে আসে। সে ভাঙা ভাঙা কন্ঠে ফিসফিস করে ওঠে,
“আপনি আমাকে এভাবে ডাকেন কেন সবসময়? আমার কেমন জানি লাগে।”
জেইন ঠোঁট কামড়ে ক্রুর হাসে, তার কানের লতিতে আলতো চুমু খেয়ে ফিসফিসে গলায় বলে,
“কেমন লাগে সেটাই তো জানতে চাইছি।”
রিমের সমস্ত শক্তি ফুরিয়ে যায়। সে নেতিয়ে পড়ে জেইনের বুকে, মুখটা এমনভাবে গুঁজে দেয় যেন বুক ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যেতে চায়। লজ্জায় নাক সিটিয়ে অস্পষ্ট গলায় ফিসফিস করে,
“জানি না।”

জেইন দুহাতে রিমের মুখটা আলতো করে উঁচু করে ধরে। কপালে এক গাঢ়, দীর্ঘ চুমু এঁকে দেয়। তার ঠোঁটের উষ্ণতা রিমের শিরায় শিরায় কাঁপন ধরিয়ে দেয়। জেইন চোখে চোখ রেখে নেশাভরা গলায় ফিসফিসিয়ে ওঠে,
“ইশ, এতো লজ্জা পাচ্ছো কেন বলতো? তোমার এই ফোলা ফোলা, লাল লাল, গাল দুটো আমাকে নেশা দ্রব্যের মতো টানছে। একদম রেড চেরি! ইচ্ছে করছে কামড়ে খেয়ে ফেলি।”
রিম হঠাৎই চমকে ওঠে। বুকের ভেতর অদ্ভুত ধাক্কা খেয়ে এক ঝটকায় জেইনের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। ছিটকে গিয়ে দূরে দাঁড়ায়, যেন পালিয়ে বাঁচতে চাইছে। দু’হাত কাঁপতে কাঁপতে বুকের উপর চেপে ধরে।
শ্বাস কেমন যেন আটকে যাচ্ছে, বড় বড় করে টেনে নিতে হয়। বুক দ্রুত উঠানামা করছে, গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। পুরো শরীরটা হালকা কাঁপছে, মনে হচ্ছে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে যাচ্ছে।
লজ্জায় মাথা নুইয়ে রেখেছে সে। গাল দুটো দাউ দাউ করে জ্বলছে, যেন কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। চোখ তুলে তাকাতে পারছে না একটুও‌, কারণ মনে হচ্ছে সেই চোখে চোখ রাখলেই শরীরটা আবার ভেঙে পড়বে সেই লোকটার বাহুতে।

মস্তিষ্ক হঠাৎ পুরোপুরি সজাগ হয়ে ওঠে। পরিষ্কার বুঝতে পারে সে কিছুক্ষণ আগেই জানোয়ারটার বুকের সাথে একেবারে লেপ্টে ছিল, তার উষ্ণ শ্বাসে ডুবে যাচ্ছিল, তার হৃদস্পন্দন শুনে কেঁপে উঠছিল। সেই ভাবনাটা বুকের ভেতর নতুন করে ঝড় তোলে।
অস্বস্তি, ভয় আর অদ্ভুত এক আকর্ষণ মিলেমিশে রিমকে পুরোপুরি দিশেহারা করে দেয়। যতই দূরে দাঁড়াক, মনে হচ্ছে শরীরের ভেতর এখনও লেগে আছে সেই মাদকের মতো ঘ্রাণ, সেই স্পর্শ, সেই দমবন্ধ করা উষ্ণতা।
জেইন তার লজ্জা মিশ্রিত মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার দৃষ্টি নামে ধীরে ধীরে। গিয়ে থামল রিমের বুকে। তার গায়ে তখন শুধু একটা পাতলা সাদা টি-শার্ট যেটা জেইন নিজেই পরিয়েছিল। সেই কাপড়ের ভেতর দিয়ে নারীদেহের প্রতিটা বাঁক, প্রতিটা উঁচু-নিচু যেন উন্মোচিত হয়ে পড়েছিল।

জেইন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, ঘোর লাগা চোখে। যেন দৃষ্টি দিয়ে পুরো শরীরটাকে গ্রাস করছে, একটু একটু করে স্ক্যান করছে প্রতিটা ইঞ্চি। তার প্রতিটা দৃষ্টি যেন রিমের গায়ে গলে গিয়ে চিহ্ন এঁকে দিচ্ছে।
রিম তার দৃষ্টি টের পেয়ে অস্থির হয়ে যায়। হঠাৎই বুঝতে পারে, কী ভয়ংকর ক্ষুধার্ত চোখ নিয়ে জেইন তাকে গিলে খাচ্ছে। আতঙ্কে দু’হাত দিয়ে নিজের বক্ষ আড়াল করার চেষ্টা করে। কিন্তু জেইন তখন ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলে। ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ে, মুখটা গিয়ে থামে রিমের কানের পাশে। জেইনের গরম শ্বাসে তার শরীর কেঁপে ওঠে। সে গাঢ় মাদকতায় ডুবে থাকা কন্ঠে ফিসফিস করে ওঠে,

“যেখানে তোমাকে পুরোপুরি ন্যুড দেখে ফেলেছি,
সেখানে এই পাতলা টি-শার্টের উপর নিজেকে আড়াল করে কি লাভ? তোমার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি, প্রতিটা বাঁক মাপা হয়ে গেছে, আমার চোখে। কিন্তু সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে…”
সে একটু শ্বাস টেনে নিয়ে কন্ঠস্বর আরও গভীর নিচু করে,
“সবচেয়ে বেশি নেশা ধরায় তোমার ব্যাক সাইডের নিখুঁত বাঁক। আর সেই ছোট্ট তিল যেটা তোমার নিত্তমব….”
আর কিছু বলার সুযোগ পায় না জেইন ঠিক সেই মুহূর্তে রিমের কাঁপতে থাকা হাত তার মুখ চেপে ধরে। তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। নিঃশ্বাস ভারী। ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে ফিসফিস করে ওঠে,
“ছিঃ আপনি এতো অশ্লীল!”
জেইন তার হাত সরিয়ে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে কোমর শক্ত করে জাপটে ধরে এক হেঁচকায় নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। নেশাগ্রস্তের মতো তার ঘাড়ে নাক ঘষে স্লাইড করতে থাকে, গরম শ্বাস আছড়ে পড়ে রিমের কাঁপা ত্বকে। রিম পুরো শরীর জুড়ে শিরশিরে কাঁপুনি টের পায়। শ্বাস ভারী আর অনিয়মিত, বুকের ভেতর হৃদপিণ্ড একের পর এক ঢেউ তুলছে।

জেইন মাথা উঁচু করে ঘোরলাগা চোখে তাকায়। মেয়েটার নাজেহাল চেহারা দেখেই মুচকি হাসে। তার দৃষ্টি এবার আটকে থাকে রিমের কম্পমান গোলাপি ঠোঁটে। গলা শুকিয়ে যায়, শুষ্ক ঢোক গিলে নেয়। মুখটা আবার নামিয়ে আনে কানের পাশে, ফিসফিসে কামনায় ভরা গলায় বলে,
“বউয়ের কাছে সব পুরুষই অশ্লীল… বউয়ের কাছে অশ্লীল না হলে, কার কাছে হবো বলো তো?”
রিম তাকে ঠেলে সরাতে চায়। কিন্তু এমন বলিষ্ঠ পুরুষের সামনে সে একটা চুনোপুঁটি মাত্র। জেইন এক হাতে তার কোমর ধরে, অন্য হাতে ধীরে ধীরে রিমের বাহু ধরে আঙুলের স্পর্শে ধীরে ধীরে আঁকতে থাকে। প্রতিটি স্পর্শ যেন শরীরে আগুন জ্বালায়, রিমের চোখ তখন অর্ধখোলা, চোখের পাপড়ি কাঁপছে। শরীর জুড়ে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। তার ঠোঁট কাঁপতে থাকে। গলার স্বর কাঁদো কাঁদো,
“আপনি সব সময় আমাকে এভাবে জাপটে ধরেন কেন? এমন করলে তো আমি চ্যাপ্টা হয়ে যাবো। ছাড়ুন আমার অস্বস্তি হচ্ছে।”

জেইন আরও কাছে ঝুঁকে, মাথা হেলায়, সে কন্ঠে মাদকতা মিশিয়ে ফিসফিস করে,
“অভ্যেস করে ফেলো। আমি চাই, তুমি শুধু আমাকে দেখো, শুধু আমাকে অনুভব করো… আর আমি চাই, তুমি হারিয়ে যাও আমার মাঝে।”
রিম প্রায় কেঁদে ফেলে। জেইন অস্থির হয়ে ওঠে। তার মুখটা দুহাতের আজলায় নিয়ে, আদুরে নমনীয় গলায় বলে,
“কি হয়েছে সোনা? কাঁদছো কেন? তুমি কি ব্যাথা পেয়েছো? আচ্ছা ঠিক আছে এরপর থেকে আর শক্ত করে চেপে ধরবো না। খুব আস্তে আদর করে বুকে মিশিয়ে রাখবো।”
রিম তখনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। তার কণ্ঠে দমবন্ধ করা ভাঙাচোরা স্বর,
“না আমাকে আরও বেশি করে জড়িয়ে রাখবেন। জানেন আমাকে কেউ এভাবে বুকে জড়িয়ে আদর করেনি। আমার মা ও না।”
জেইন এবার ঠিক বুঝতে পারছে মেয়েটা জ্বরের ঘোরে একেক সময় একেক আচরণ করে। সে রিমের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

“আচ্ছা ঠিক আছে তোমাকে এভাবেই বুকে জড়িয়ে রাখবো। যতক্ষণ তুমি চাইবে ততক্ষন ওকে।”
রিম তার আদর পেয়ে আরও আল্হাদী হয়ে ওঠে। ফোপাতে থাকে। জেইন কোমল গলায় বলে,
“এইতো তোমাকে বুকে জড়িয়ে রেখছি। কাঁদছো কেন সোনা? বুকে লাগছে তো।”
রিম নাক টেনে টেনে বলে,
“আমার ক্ষিদে পেয়েছে।”
জেইন মূহুর্তেই সজাগ হয়ে ওঠে। রাত থেকে মেয়েটা না খেয়ে আছে। আর তাছাড়া রিম কখনোই মুখ ফুটে এভাবে নিজের ক্ষিদে প্রকাশ করেনি। আর অসুস্থ থাকায় দুদিন ঠিক মতো কিছু খেতেও পারেনি কিছু। নিশ্চয়ই মেয়েটার ভীষণ ক্ষিদে পেয়েছে তাই এভাবে বলছে। জেইন রিম’কে বেড়ে বসিয়ে, ফ্রিজ থেকে খাবারের প্লেটটা হাতে নিয়ে নেয়। সেখানে সাদা ভাত, ডিম ভর্তা, আলু ভর্তা আর ডাল আছে। সে রিমের দিকে তাকিয়ে একটু মৃদু হেসে বলে,
“তুমি একটু অপেক্ষা করো। আমি খাবারগুলো গরম করে নিচ্ছি এক্ষুনি।”
সে রুমে থাকা মাইক্রোওয়েভে টাইমার সেট করে সেগুলো গরম করতে দেয়। রিম চারপাশে তাকিয়ে কেঁপে ওঠে। শুষ্ক ঢোক গিলে ভয়ে ভয়ে বলে,

“আমি এখানে থাকবো না।”
মুহূর্তেই জেইনের চোখ জ্বলে ওঠে। সে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলে,
“কি বললে তুমি? তোমাকে এখানেই থাকতে হবে! বুঝতে পেরেছো?”
রিম উঠে দাঁড়িয়ে তার বুকে ইচ্ছে মত কিল ঘুষি দিতে থাকে। তারপর হঠাৎ থেমে তার বুকে মাথা রেখে, বাচ্চামো গলায় বলে,
“না থাকবো না। আমার ভয় করছে। এখানে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে দেয়াল গুলো আমার দিকে এগিয়ে আসছে ‌। আমাকে গলা চেপে ধরতে চাইছে। আমাকে এখান থেকে আপনার সাথে নিয়ে চলুন না।”
জেইনের চোখের দৃষ্টি হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে আসে। কন্ঠ পরিবর্তন হয়ে নরম আদুরে হয়,
“তোমার এখানে ভয় লাগছে? আচ্ছা ঠিক আমরা আর এক মুহূর্ত এখানে থাকবো না।”
বলেই সে রিমকে কোলে তুলে নেয়। রিম তার গলা জরিয়ে ধরে কাঁপছে ছোট্ট দেহটি। সে রিমকে নিয়ে রিমের আগের ঘরে চলে আসে। তাকে বিছানায় বসিয়ে বলে,

“এবার ঠিক আছে সোনা?”
রিম ভদ্র বাচ্চার মতো মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়। জেইনের কাছে মনে হয় মেয়েটা এত্তো কিউট কেন? সে তাকে শক্ত করে জাপটে ধরে গালে টাইট করে টপাটপ কয়েকটা চুমু বসিয়ে দেয়। তারপর শক্ত করে জড়িয়ে আদুরে গলায় বলে,
“আমার লক্ষীইই.. সোনা। তুমি বসো আমি তোমার খাবার নিয়ে এক্ষুনি আসছি।”
জেইন রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রিম বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। মাথা ঝিমঝিম করছে, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা। পা কাঁপছে পড়ে যেতে নিলেও বিছানার কোন ধরে নিজেকে সামলায়। আস্তে আস্তে, কাঁপা কাঁপা পা ফেলে ওয়াশরুমের দিকে এগোয়। প্রতিটি পদক্ষেপে শরীরটা যেন অতিমাত্রায় ভারী হয়ে এসেছে, ক্লান্তি ও অসুস্থতার চাপ বয়ে নিয়ে।

ওয়াশরুমে পৌঁছে সে বেসিনের সামনে দাঁড়ায়, হাতে জল নিয়ে মুখে ঝাপটা দেয়। ঠান্ডা পানি এক মুহূর্তের জন্য হলেও দেহকে সতেজ করে। তারপর ব্রাশ হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে দাঁত পরিষ্কার করতে থাকে। ঘামের ছোট ছোট ফোঁটা শরীরের ওপর ভেসে ওঠে জ্বরটা এখন ধীরে ধীরে কমছে বলে মনে হয়।
এক মুহূর্তে হঠাৎ তার মনে ভেসে আসে; রিশাব কোথায় আছে? কেমন আছে সে? জেইন কি অবস্থায় রেখেছে? হঠাৎ মনটা খচখচ করতে থাকে, অদ্ভুতভাবে অস্থির। প্রতিটি ধারণা, প্রতিটি আঁধার মনে করিয়ে দিচ্ছে, জেইন কোনো সাধারণ মানুষ নয় সে এক প্রকৃত জানোয়ার। তার নজর একবার যার দিকে পড়ে, সে আর অক্ষত থাকে না।
সে চায় না, তার জন্য রিশাবের কোনো ক্ষতি হোক। রিশাব তো তাকে খুঁজতেই এখানে এসেছিল সহায়তা করতে, পাশে থাকার জন্য। আর যদি তার জন্য কোনো নিরীহ প্রাণ ঝরে যায়, কোনো অসহায় মানুষের ওপর জঘন্য অত্যাচার ঘটে, তাহলে সে কখনো নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না।

জেইন খাবার হাতে রুমে ঢুকতেই হঠাৎ রিমের তীক্ষ্ণ গলার স্বর কানে বেজে ওঠে। সে দৃঢ় গলায় বলে
“রিশাব কোথায়? আপনি বলেছিলেন আমি আপনাকে বিয়ে করলে রিশাবকে ছেড়ে দেবেন, ওর কোনো ক্ষতি করবেন না। তাহলে ও কোথায়? বলুন! আপনি কি করেছেন ওর সাথে?”
এক নিমেষেই জেইনের মুখমণ্ডল পরিবর্তন হয়ে যায়। তার চোখ রক্তের মতো লালচে হয়ে উঠে, যেন ভেতরে ভেতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। রিমের কথা যেন তার অহংকারে শাণিত ছুরির মতো বিঁধছে।
সে এক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে বড় করে শ্বাস টেনে নেয়, বুক ওঠানামা করতে থাকে দ্রুত ছন্দে। দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিজের রাগ দমন করার চেষ্টা করে। অথচ তার প্রতিটি পেশি, প্রতিটি শিরা উপশিরা টানটান হয়ে আছে।
তারপর দাঁতে দাঁত চেপে, গলার ভেতর থেকে হিসহিসিয়ে এক ফিসফিস আওয়াজ বেরিয়ে আসে

“তোমাকে বলেছি না? আমার সামনে ওর নাম উচ্চারণ করবে না তুমি।”
রিমের গলার স্বর আরও জোরালো হয়ে ওঠে, চোখে অদম্য জেদ জ্বলছে।
“বলবোই। আপনি যতক্ষণ না বলছেন রিশাব কোথায় আছে, কেমন আছে, ততক্ষণ আমি শান্তি পাবো না।”
জেইনের হাতে থাকা প্লেট টেবিলে শব্দ করে আছড়ে পড়ে। তার চোখে ক্রোধ দাউদাউ করে জ্বলছে, গলার স্বর হিংস্র পশুর মতো ঘন ও কাঁপন তোলা
“ও যেখানে আছে, ভালো আছে। তোমাকে ওর কথা ভাবতে হবে না।”
রিম একচুলও দমে যায় না। বুক ধড়ফড় করছে, তবুও কণ্ঠ দৃঢ়, চোখে ভয়ের বদলে শীতল দৃঢ়তা জমে ওঠে।
“রিশাব যদি ভালো থাকে, তাহলে আমাকে বলছেন না কেন ও কোথায় আছে? আমি রিশাবকে দেখতে চাই। আপনি রিশাবকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।”

জেইনের এক হাত মুষ্টিবদ্ধ, শিরাগুলো ফুলে উঠছে। অন্য হাতে রিমের চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে কাছে টেনে আনে। তার গলা থেকে ফোঁস ফোঁস শব্দ বেরোচ্ছে, মুখ রিমের মুখের একেবারে সামনে। দাঁতে দাঁত চেপে, চোখ রক্তচক্ষুর মতো জ্বলজ্বল করে গর্জে ওঠে
“রিশাব। রিশাব। রিশাব! অনেক হয়েছে! আর শুনতে চাই না এই নাম!! ওর জন্য কিসের এতো দরদ তোর?
রিম ছটফট করছে, নিজের হাত দিয়ে তার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। চোখে জ্বলন্ত আগুন, ঠোঁট কাঁপছে তবু স্বর ছুরি কেটে যাওয়ার মতো ধারালো
“থাকবেই! ওর মতো মানুষের জন্যই দরদ থাকবে। তোর মতো অমানুষের জন্য নয়!”
জেইন শক্ত চোখ বন্ধ করে, বুক ফুলে ওঠে লম্বা শ্বাসে। এক মুহূর্তে চুলের মুঠি আরও শক্ত করে ধরে রিমকে একেবারে নিজের সামনে টেনে আনে, দৃষ্টি ফেটে পড়ছে আগুনে। গলা ঘন হয়ে গর্জে ওঠে,
“বারবার ওর নাম নিয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকো না। ভালো আছি, ভালো থাকতে দাও। আমি রেগে গেলে কিন্তু কষ্টটা তোমারই বেশি হবে।”
রিম কোনো ভয় না পেয়ে তার চোখে চোখ গেঁথে রাখে। ঠোঁট কাঁপছে, নিঃশ্বাস দ্রুত, তবু স্বর ছুরির মতো ধারালো। ফোঁস ফোঁস করে বলে

“তোর মতো জানোয়ারের থেকে এর চেয়ে ভালো আর কী আশা করা যায়? তুই একটা জানোয়ার! অমানুষ! লজ্জা করে না? রিশাবের মতো ভালো মানুষকে এভাবে আটকে রেখে টর্চার করতে?”
জেইন গভীর শ্বাস টেনে বুক ভরে তোলে, চোখ এক মুহূর্ত বন্ধ রেখে গলার হিংস্র সুরকে জোর করে শান্ত করে। তারপর নরম, অথচ হাড় কাঁপানো শীতলতায় ভরা কন্ঠে বলে,
“দেখো, ফায়ারফ্লাই… তুমি অসুস্থ। তোমাকে অন্য কারো জন্য এতো চিন্তা করতে হবে না। আমি খাবার নিয়ে এসেছি। চুপচাপ খেয়ে নাও, ওষুধ খেয়ে রেস্ট করো।”
রিম চোখ লালচে করে তাকিয়ে থাকে, মাথা নাড়িয়ে জেদে কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিস করে উঠে আসে
“না… আমি খাবো না। আগে আপনি বলুন রিশাব…”

মুহূর্তেই জেইন রিমের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট সজোরে চেপে বসিয়ে দেয়। এমন এক হিংস্র আগ্রাসনে, যেন রিমের একটুও শ্বাস নেবার অবকাশ নেই। রাগ, ক্ষোভ আর পাগলামির আগুন তার ঠোঁটে ঝরে পড়ছে।
এক হাতে রিমের চুল মুঠো করে টেনে ধরে রেখেছে, অন্য হাতে তার কোমর পেষে চেপে রেখেছে বুকের সাথে। রিম ছটফট করছে, ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে, কিন্তু তার শরীর এক বিন্দুও নড়তে পারছে না।
জেইনের দাঁত কুটকুট করে বসে যাচ্ছে রিমের নরম ঠোঁটে। তীব্র যন্ত্রণার বিষে রিমের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। সে যত জোরে ঠেলে সরাতে চাইছে, জেইন তাকে ততটাই শক্ত করে বেঁধে রাখছে নিজের বুকে।
রিম ফুঁপিয়ে কাঁদছে, মরিয়া আঘাতে জেইনের পিঠে কিল-ঘুষি চালাচ্ছে তবু জেইন থামছে না। সে যেন এখন আর মানুষ নয় পুরোপুরি জানোয়ার। হিংস্র কামড় একের পর এক ছিঁড়ে দিচ্ছে রিমের ঠোঁটকে, ক্ষতবিক্ষত লালচে রঙে ভিজে যাচ্ছে তার মুখ।

অবশেষে রিমের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। তার দুটো হাত ঢলে পড়ে পাশে। চোখ আধো বন্ধ হয়ে আসে, শ্বাস ভারী আর ভাঙা ভাঙা।
জেইনের মস্তিষ্ক আচমকা ধাক্কা খায়। সে ঠোঁট সরিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে রিমের দিকে তাকায়। আতঙ্কে চোখ বড় হয়ে ওঠে। কাঁপা কাঁপা হাতে তার গালে চাপর মারে, অস্থির হয়ে ডাকে
“ফায়ারফ্লাই… চোখ খোলো, সোনা। তাকাও আমার দিকে… একবার তাকাও।”
রিম আধো-খোলা চোখ তুলে তাকায়, তার দৃষ্টিতে এখন শুধু অসম্ভব ঘৃণা। জেইনের বুকের ভেতর স্বস্তির একটা ঢেউ খেলে যায়, সে নিঃশ্বাস ছেড়ে দেয় ভারী স্বরে। মাথা কাত করে বলে,
“বারবার কেন আমাকে রাগিয়ে দাও, বলো তো? তোমার এই সুন্দর ঠোঁট দুটো দিয়ে আর কখনো সেই জঘন্য ছেলেটার নাম নেবে না। শোনছো? কখনোই না।”
রিম চোখ মুছে, শ্বাসের সাথে সাথে হিচকি টেনে নেয়। ভেজা চোখে কাঁপা কণ্ঠে থুথু ফেলার মতো ঘৃণাভরা স্বরে ছুঁড়ে দেয়

“জঘন্য আপনি… । রিশাব…”
শব্দটা শেষ হতেই জেইনের চোখে আগুন ঝলসে ওঠে। সে আর এক মুহূর্ত নষ্ট না করে আবারো ঝাঁপিয়ে পড়ে রিমের ঠোঁটের ওপর। চুমু নয় এটা একেবারে শাস্তি। দাঁত গেঁথে, কামড়ে, ঠোঁট ছিঁড়ে নিচ্ছে সে।
রিম ব্যথায় ছটফট করে ওঠে। তার লম্বা নখ কেটে বসে জেইনের পিঠে, রক্তচাপা আঁচড় রেখে যায় একের পর এক। কিন্তু জেইন সেগুলোতে আরও বিকৃত সুখ খুঁজে পায়। সে রিমের ঠোঁট কামড়ে টেনে ধরে, তারপর ঠাস করে ছেড়ে দেয়।
রিমের মুখ দিয়ে ব্যথার ফোঁপানি বেরিয়ে আসে
“আহ্…!”

তার ঠোঁট এখন রক্তে ভেজা, ফেটে গিয়ে জমাট বাঁধতে শুরু করেছে। তবুও ছাড়া পাওয়া মাত্রই রিম তার সমস্ত ক্ষোভ দিয়ে জেইনের বুক কিল-ঘুষিতে ভরিয়ে দেয়।
জেইনের ঠোঁটে রক্তের দাগ। সে সেটুকু জিহ্বা বুলিয়ে চেটে নেয়, যেন পাগলাটে উপভোগ করছে। তারপর রিমের দুটো হাত শক্ত করে চেপে ধরে, আর কোনো নড়াচড়া করতে দেয় না। তার মুখ রিমের মুখের এতটাই কাছে যে দুজনের নিঃশ্বাস একসাথে গলে যাচ্ছে।
ঠান্ডা, কিন্তু হাড় কাঁপানো হুমকির স্বরে জেইন ফিসফিসিয়ে বলে
“যত রাগ দেখানোর, আমার ওপর দেখাও। আঁচড়াও, কিল মারো, ঘৃণা করো—সব সহ্য করবো। কিন্তু… ওর নামটা আর কখনো মুখে নেবে না। যতবার সেই নাম নেবে, ততবার এভাবেই তোমাকে শাস্তি দেবো… আর তোমাকে ভাঙতে আমার অসম্ভব আনন্দ হবে।”
রিম মুখ ফুলিয়ে কেঁদে ওঠে। গলাটা কাঁপছে, চোখ ভিজে উঠেছে।

“জানোয়ার! রাক্ষস! বারবার এমন কামড়াকামড়ি করিস কেন? আমি ব্যথা পাই না!”
তার কথার সাথে সাথে বুক ধড়ফড় করে কেঁপে ওঠে। কিন্তু জেইন একটুও বিচলিত হয় না। সে রিমকে হঠাৎ করেই বুকের সাথে আরও শক্ত করে জাপটে ধরে, যেন কোনোদিন ছাড়বে না। তার বুকে রিমের নিঃশ্বাস বন্দি হয়ে যায়। কপালের ভাঁজে ঠোঁট ছুঁইয়ে, ছোট্ট চুমু খেয়ে ফিসফিসিয়ে বলে
“কি করবো বলো? তোমার মুখে অন্য পুরুষের নাম সহ্য করতে পারি না আমি। তোমার ঠোঁট দিয়ে অন্য কারো নাম বের হলে আমি পাগল হয়ে যাই।”
সে একটু থেমে কাঁপা গলায় থেমে থেমে বলে,

“তুমি শুধু আমার। তুমি শ্বাস নিলে সেটা আমার জন্য, তুমি কাঁদলে সেটা আমার জন্য। তোমার এতটুকু নিঃশ্বাস, তোমার এক অংশও আমি কারো সাথে ভাগ করতে পারবো না। তুমি সম্পুর্নটাই আমার।”
রিমের চোখ থেকে টলটল করে জল গড়িয়ে পড়ছে। তার ঠোঁট কাঁপছে, গলায় শ্বাস আটকে আসছে।
“এতটা অধিকারবোধ… এতটা হিংসা কিভাবে জমে থাকে একজন মানুষের মনে?”
জেইন ঠোঁট বাঁকিয়ে হালকা হাসে। চোখে দপদপ করে জ্বলছে দখলের আগুন। তার গলার স্বর ঠান্ডা, অথচ ধারালো ছুরির মতো কেটে যায়
“তুমি মানুষের কথা বলছো? আমি তো তোমার ছায়াকেও ঘৃণা করি। কারণ সেটা সবসময় তোমার সাথে থাকে, কিন্তু আমি না।”

সে ধীরে ধীরে রিমের ভিজে গাল ছুঁয়ে ধরে, আঙুল দিয়ে অশ্রুবিন্দু মুছে দেয়, অথচ তার দৃষ্টি অদ্ভুত হিংস্র আর শ্বাসরুদ্ধ করা নেশায় ভরা,
“তোমাকে পুরোপুরি পাওয়ার জন্য আমি তোমার শ্বাস পর্যন্ত কেড়ে নিতে পারি। কারণ তুমি শুধু আমার। তোমার ছায়াও আমার সহ্য হয় না… আর তুমি ভাবছো অন্য কারো নাম তোমার ঠোঁট থেকে বেরোতে দেবো?”
রিম শিউরে ওঠে। বুক ধড়ফড় করছে। তার চোখ ভিজে আছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে যেন শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে জেইনের এই দখলদারী স্বরে।
জেইন ধীরে রিমকে কোলে তুলে তার বিছানায় বসিয়ে দেয়। রিম কিছু বলতে নিলেই সে শান্তভাবে তার ঠোঁটে আঙুল রেখে থামিয়ে দেয়,
“এখন আর কোনো কথা নয়। চুপচাপ খেয়ে নাও, ওষুধও খেতে হবে।”
রিম ফুঁপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে। ভ্রু কুঁচকে, ঠোঁট ফুলিয়ে কণ্ঠে কেঁপে কেঁপে বলে
“খাবো না আমি… খিদে নেই আমার।”
জেইন তার গালে ধীরে হাত রাখে। নরম আদুরে গলায় বলে,

“রাগ করেছো? আর করবো না, সরি। এবার লক্ষী, বাচ্চার মতো খেয়ে নাও। না খেলে তো মেডিসিনও খেতে পারবে না। শরীর অসুস্থ হয়ে যাবে। তুমি’ই তো একটু আগে বললে, ক্ষিদে পেয়েছে তোমার। আর দেখো, কত কষ্ট করে তোমার পছন্দের খাবার বানিয়ে এনেছি ডাল, ডিম ভর্তা, আলু ভর্তা… সব তোমার জন্য। সত্যিই খাবে না?”
রিমের জিভে জল চলে আসে। কতদিন এসব খাবার খায় না সে। তারওপর আবার ক্ষিদেও পেয়েছে ভীষণ! সে শুষ্ক ঢোক গিলে, মেকি রাগ দেখিয়ে বলে,

“ঠিক আছে খাবো। কিন্তু তার আগে আপনি বলুন রিশাব’কে কোথায় রেখেছেন? উনার আর কোনো ক্ষতি করবেন না প্লিজ। উনি খুব ভালো মানুষ। আমাদের মাঝে সেরকম কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তো উনাকে শুধু আইডল মানতাম আর কিছু না। আর উনি তো শুধু আমাকে সাহায্য করতে চেয়েছিল। বলুন না উনাকে ছেড়ে দিবেন। উনার’কে বাংলাদেশে পৌঁছে দিন। তাহলে আমি আপনার সব কথা শুনবো আর অবাধ্য হবো না।”
জেইন ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। হালকা সতর্ক গলায় বলে,
“তুমি হয়তো শাস্তির কথা ভুলে গেছো। তোমাকে বলেছি না ওর নাম আর মুখে নিবে না। নাকি তুমি চাইছো আমি তোমাকে আরো বেশি করে চুমু খাই কোনটা?”
রিম আঁতকে উঠে, একটু পিছে সরে। শুষ্ক গলা দিয়ে শ্বাস গিলে ফিসফিস করে বলে,

“আর বলবো না উনার নাম। আপনি শুধু উনাকে সুস্থভাবে দেশে ফিরিয়ে দেবার ব্যবস্থা করুন।”
জেইন ধীরে তার কপালে ঠোঁট রেখে চুমু দেয়, আদুরে গলায় বলে,
“আচ্ছা, ঠিক আছে। ওকে সুস্থভাবেই দেশে পাঠানো হবে। হ্যাপি?এবার চুপচাপ খেয়ে নাও। তাড়াতাড়ি। কোনও অজুহাত নয়।”
জেইন হাত বাড়িয়ে টেবিল থেকে খাবারের প্লেটটি তুলে নেয়। নিজের কাছে ধরে, সুন্দর করে মাখিয়ে রিমের মুখের সামনে এগিয়ে দেয়
“হা করো।”
রিম ছোট্ট কণ্ঠে বলে,
“আমি নিজের হাতে খাবো।”
জেইন তার দিকে তাকিয়ে নিস্পৃহ গলায় বলে,

“নিজের হাতে যে তুমি কি খাবে সেটা খুব ভালো করেই জানি। চুপচাপ খেয়ে নেও একটাও কথা বলবে না। নইলে একটু আগে যা হয়েছে এর থেকেও ভয়াবহ কিছু হবে। তখন কিন্তু আমি ভুলে যাবো যে তুমি অসুস্থ।”
রিম আর কিছু বলার সাহস করতে পারে না। চুপচাপ জেইনের হাতে খেতে শুরু করে। প্রথম এক চিমটি মুখে পৌঁছতেই তার মুখ লাল হয়ে যায়, জ্বলে ওঠে। চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে। জেইন অস্থির হয়ে ওঠে, নরম গলায় ফিসফিসিয়ে বলে
“কি হয়েছে, সোনা? কাঁদছো কেন বার্বিডল? হুম?”
রিম কুঁচকে ওঠে, হাত ঝাড়ি মেরে তার হাত সরিয়ে নেয়। সে এর থেকেও বেশি ঝাল খেতে পারে। কিন্তু তার রক্ত জমাট ঠোঁটগুলো জ্বলে যাচ্ছে, আগুন ছড়াচ্ছে ভেতরে।
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে, নাক টেনে বলে,

“কি হয়েছে… আপনি জানেন না? আমার ঠোঁটগুলোকে কি পেয়েছেন… যখন তখন শুধু কামড়ে ধরেন। জ্বলছে এখন!”
জেইন ধীরে তার ফুলে ওঠা, লাল হয়ে যাওয়া ঠোঁটের দিকে তাকায়। তার চোখে অদ্ভুত নেশা,
“আমি সরি, সোনা কি করবো বলো? তোমার ঠোঁট এত সুস্বাদু , রসালো আর তুলতুলে যে… আমি ভুল করে জেলো ভেবে কামড়ে ফেলি।”
রিম অবাক না হয়ে পারে না। বলে কি এই লোক তার ঠোঁট নাকি জেলো। আবার সুস্বাদু! ভ্রু কুঁচকে বিরক্তি মেশানো কণ্ঠে বলে

“এটা আমার ঠোঁট, কোনো খাবারের জিনিস না।”
জেইন তার ঠোঁটের দিকে চোখে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“কিন্তু… আমার তো খেতে ইচ্ছে করছে।”
রিম চমকে চোখ বড় করে তাকায়। জেইন ধীরে তার দিকে তাকিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ার মতো হালকা হেসে, ভুলভাল বুঝিয়ে বলে,
“আচ্ছা, ঠিক আছে… এখন থেকে আর কামড়ে দিবো না। নিজেকে কন্ট্রোল করে একদম সফ্টলি চুমু খাবো, ওকে?”
রিম অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। “সফ্টলি চুমু” মানে! সে কি তাকে আর চুমু খেতে দিবে না কি? কক্ষনোই না। তাহলে সে দমবন্ধ হয়েই মারা যাবে।
জেইন ধীরে তার ঠোঁটে বৃদ্ধাঙ্গুলি রেখে, আঠালো গলায় ফিসফিস করে
“খুব বেশি জ্বলছে, সোনা?”
রিম বিরক্ত হয়ে বলে,
“জ্বলবে না তো কি? আমা…”

তার কথা শেষ হবার আগেই জেইন তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট বসিয়ে দেয়। খুব ধীরে আস্তে আস্তে রিমের ঠোঁট শুষতে থাকে। রিমের শরীর শিরশির করে কেঁপে উঠে। জেইন তাকে নিজের আরও কাছে টেনে কোলে বসিয়ে নেয়। তারপর ধীরে ধীরে রিমের রক্তাক্ত ঠোঁট চু ষতে থাকে। জিভ দিয়ে স্পর্শ করে। রিমের মুখের রক্ত আর লালার স্বাদ মিশে যায় তার মুখে। সে এবার একেবারে ধীরে ঠোঁটে চুমু বসায়। রিমের বুক, তার সাথে পুরো শরীরটা কেঁপে কেঁপে উঠে। মুখ থেকে কিছু অস্পষ্ট শব্দ বের হয়ে আসে অস্বস্তি, ঘৃণা, আর সুখের মিশ্রণে।

জেইন খুব আস্তে তার ঠোঁট চু ষে টেনে ধরে। রিম আর পারে না। শরীরটা অসহ্য ভাবে শিরশির করে উঠছে। সে জেইনের চুল টেনে পিঠের শার্ট খামচে ধরে। জেইন তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট এমনভাবে চেপে ধরে যে রিম একটুও শ্বাস নিতে পারে না। সে নিজের সম্পূর্ণ মিষ্টভাব রিমের শরীরে ঢুকিয়ে দিতে চায়। রিম মুচড়ে মুচড়ে ওঠে। তার নখ প্রায় জেইনের পিঠের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে। নখের আঁচরে জেইনের পিঠ থেকে রক্ত ঝরে পড়ে।
জেইন ঠোঁট চু-ষতে চু-ষতে হালকা ফাঁক করে রিমের নিঃশ্বাস টেনে নেয়। চুমু খেতে খেতে আধো চোখ খুলে দেখে রিমের চোখ বন্ধ পাতা কাঁপছে তিরতির করে। সে চোখ বন্ধ করে আরও গভীরভাবে রিমের ঠোঁট শুষে, যেন তার সমস্ত ব্যথা, সমস্ত শ্লেষ্মা, সমস্ত দুর্বলতা গিলে নিচ্ছে।

প্রথমে শুধু ব্যথা কমাতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন জেইনের মধ্যে জেগে ওঠে এক অদ্ভুত ক্ষুধা রিমের কোমলতার, তার মিষ্ট স্বাদের প্রতি অনিরাময় আকর্ষণ। সে রিমকে আরও কাছে টেনে আনে, মুখের গভীরে ঢুকে চুমু খায়, যেন পুরো শরীরের অন্তরঙ্গ অনুভূতিগুলোকে নিজের মধ্যে টেনে নিতে চায়।
রিমের শরীর ধীরে ধীরে অবস হয়ে আসে। শক্তি ফুরিয়ে যায়। দম বন্ধ করা শ্বাসে আটকে ঢলে পড়ে জেইনের বাহুতে। জেইনের ক্ষুধা তখনও মিটেনি, কিন্তু রিম ঢলে পড়ায় সে নিজেকে সামলাতে বাধ্য হয়।
“সোনা। চোখ খোলো সোনা।”

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩০

রিম কাঁপতে কাঁপতে তার দিকে তাকায়। জেইন তার চোখে চোখ রাখে, কামনা মিশানো আদুরে গলায় বলে,
“এবার ব্যথা কমেছে তোমার? এখনো কি জ্বলছে?”
রিম লজ্জায় তার বুকে মিইয়ে যায়। মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়। জেইন মুচকি হেসে তাকে বুকের সাথে মিশিয়ে রাখে।

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩২