দাহশয্যা পর্ব ১৯
Raiha Zubair Ripti
অস্ট্রেলিয়ার শহর কিংস ক্রস, সিডনি যা ১৯৬০ থেকে ১৯৮০-এর দশকে ছিল মাদক, মাফিয়া, পতিতাবৃত্তি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা কার্যক্রমের হাব। রাতে এই শহর এলাকা রঙিন আলোয় ঝলমল করলেও, তার অন্ধকার গলির ভেতর জমে ছিল অপরাধ ও গোপন ষড়যন্ত্রের জাল। কিংস ক্রস ছিল এক ধরনের রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট, যেখানে বিভিন্ন গ্যাংস্টাররা তাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রায়ই তাদের হাত থেকে শিকড় ছাড়া কঠিন মনে হতো, আর সাধারণ মানুষের চোখ থেকে এই সব ঘটনার ভুবন আড়ালেই থাকত।
কিংস ক্রসের এই দুনিয়া নিয়ে বহু চলচ্চিত্র, উপন্যাস ও থ্রিলার লেখা হয়েছে। তবে বর্তমানে এই জায়গাটি অনেকটাই পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে, পুলিশের নজরদারির ফলে মাদক-বিক্রেতারা প্রায় দূরত্বে সরে গেছে। তবে বর্তমান সময়ের জন্য, নারী পাচার, আন্তর্জাতিক মাফিয়া ও গোপন অপরাধের গল্প আঁকা হয়, ডারউইনে, ডারউইন অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে অবস্থিত, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর খুব কাছাকাছি। এই ভৌগোলিক অবস্থান এই শহরটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলে। পাচারকারীরা প্রায়শই এই পথ ধরে মেয়েদের লুকিয়ে এনে নানাভাবে শোষণ করে।
ডারউইনের আশেপাশের এলাকা তুলনামূলকভাবে কম জনবসতিপূর্ণ এবং রিমোট, ফলে এখানে গোপনে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সহজ। পরিত্যক্ত গুদাম ও অন্ধকার বনের মাঝে অবস্থিত এই এলাকায় মহিলাদের পাচার করে রাখা হয়।
ডারউইনের অপরাধ প্রবণতা কিংস ক্রসের চেয়েও বেশি সংহত, কারণ তাদের প্রতিকূলে আছে প্রকৃতি।
ডারমেইনের গভীর জঙ্গলে দোতলা এক পরিত্যক্ত বাড়ি। সেই দোতলার এক বন্ধ ঘরে আবদ্ধ হয়ে আছে কয়েকজন নারী। হাত পা বাঁধা, চোখ মুখে কাপড় দিয়ে বাঁধা। এরমধ্যে ব্লাক জিন্স জ্যাকেট পড়ে এক আগন্তুক আসলো এই বাড়িতে। আশেপাশে থাকা লোকজন মাথা নিচু করে কুর্নিশ জানালো। আগন্তুক তাদের দিকে তাকিয়ে সামনের দিকের একটা কক্ষে চলে গেলো। কক্ষে যেতেই একজন লোক যার শরীরে ব্লাক পোষাক উনি এগিয়ে এসে সেই আগন্তুকের সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
-” উনি কি কোনো রেসপন্স করেছিল? মেসেজ টা দেখেছিল? উনার চারপাশে যে ভীষণ বিপদ।
আগন্তুক হাত উঁচু করে তাকে থামিয়ে দিলো। মুখ থেকে মাস্ক সরিয়ে বলল-
-” তাকে নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না। সে Monster। সে সব হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা রাখে। এখন আসতে পারো।
লোকটা চলে গেলো। বাহিরে এসে অন্য সব কর্মী দের দিকে তাকালো। এই এক নাম মনস্টার। তাকে কেউ দেখে নি আজ অব্দি। ইভেন হেয়াল নিজেও না। হেয়াল এই কাজের সাথে জড়িত আজ ১২ বছর হবে। মনস্টারের ছায়াটাও দেখা হয় নি। আচ্ছা কক্ষে থাকা উনি কি জানেন এই মনস্টার টা কে? হেয়াল শুনেছে মনস্টার দেশে নেই। বাংলাদেশে গিয়েছে। বাংলাদেশে কি তার?
হেয়াল আর ভাবতে পারলো না।চলে গেলো। রাত হলেই মেয়ে গুলো কে অন্য জায়গায় পাঠাতে হবে।
সুলতান ভিলা থেকে কিছুটা দূরে সুলতানদের নিজস্ব ফার্ম হাউস । এই ফার্ম হাউসের গরু পালা হয়। বাশার সুলতান ফার্মে ঢুকলো। ১৬ টা গরু একে একে গাড়িতে তোলা হচ্ছে। সব গুলো দেশি গরু। গরু গুলো কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পাঠানো হবে আজ। এবং সেই গরু গুলো ঈদের আগ দিয়ে গাবতলীর হাটে বিক্রি করবে গরুর বর্তমান মালিক রা। বাশার সুলতান ফার্মের দেখভাল করা রফিক কে কিছু টাকা দিলো। ট্রাক টা চলে যেতেই সে বাড়ি আসলো।
মির্জা বাড়ি টা টিএসসির কাছাকাছি। সাফওয়ানের বাবা শামসুল মির্জা একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রির শিক্ষক। খুবই বিচক্ষণ বাছবিচার করা মানুষ। সাফওয়ান খাবার খেতে খেতে তার বাবা শামসুল মির্জা কে বললেন তার আর মাহির বিয়ের কথা। শামসুল মির্জার বেশ বিরোধিতা এই বিয়ে নিয়ে। এই মাহি নামের মেয়েটা যে কি না দেশ বিদেশে ঘুরে,লাপাত্তা হয়ে যায় ক’দিন পরপর। এমন এক মেয়ে কে সে ছেলের বউ বানাবে! কখনই না৷ এই মেয়ের বাবা কে সেটাও তো আজ অব্দি জানে না শামসুল মির্জা। বংশ পরিচয় কি? সাফওয়ান বাবাকে চুপ থেকে ফের বলল-
-” কিছু বলেছি বাবা। শুনছো কথা?
-” হুমম শুনলাম। তুমি আমাকে বিয়ের কথা কেনো জানাচ্ছো?
-” তুমি বাবা আমার৷ তোমাকে জানাবো না তো কাকে জানাবো? তুমিই তো আমার গার্ডিয়ান।
-” আমার পছন্দ না মাহি কে সাফওয়ান। ও মেয়ের বাপ কে আজ পর্যন্ত দেখলাম না। ৪ বছরে মাত্র দেখেছি ২ বার। আর বাকি গুলো দিন তার খোঁজ খবর পাওয়া যায় না। সে কি এমন করে যে নেটওয়ার্কে তাকে পাওয়া যায় না?
-” বাবা… মাহি একজন ট্রাভেলার। ও নানা জায়গায় যায়। অফবিট লোকেশন, পাহাড়ি ট্রেইল, ট্রাইবাল এরিয়া, এমনকি গভীর জঙ্গলে। অনেক সময় ও নেটওয়ার্কবিহীন জায়গায় থাকে দিনের পর দিন। আর ওর বাবা কে সেটা আমি জানি।
-” কে সে?
-” তরিকুল চৌধুরী। চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির মালিক।
-” মাহি যারই মেয়ে হোক সাফওয়ান এমন মেয়েকে আমি আমার ছেলের বউ বানাবো? বিয়ের পরও এ মেয়ে হুটহাট করে যেখানে সেখানে চলে যাবে। দেখ সাফওয়ান মাহি কে আমার সুবিধার মনে হয় না।
-” কি শুরু করলে বাবা, বিয়েটা করবো আমি। সংসার করবো আমি। আমার সমস্যা না থাকলে তুমি কেনো আপত্তি করছো এতে? মাহি দেশ বিদেশ কেনো পুরো দুনিয়া ঘুরতে চাইলে ঘুরবে। আই হ্যাভ নো প্রবলেম।
-” তাহলে আমাকে কেনো জানাচ্ছিস বিয়ের কথা? নিজেরা নিজেরাই করে ফেল গিয়ে। ভালোবাসা ভালো কিন্তু অন্ধ ভালোবাসা ভালো না।
শামসুল মির্জা বেশ রুষ্ট হয়ে চলে গেলেন। সাফওয়ান তপ্ত শ্বাস ফেললেন। শামসুল মির্জার ঘরোয়া মেয়ে পছন্দ। যে পুতুলের মতন নরম নম্র ভাবে স্বামীর সংসার করবে। কিন্তু মাহি তো সেরকম টা না। আর এতেই তার বিরোধিতা। সাফওয়ান খাবার টা খেয়েই চলে গেলো অফিসে।
দুপুরের দিকে তরিকুল চৌধুরী আসলেন সুলতান ভিলায়৷ লোক পাঠিয়েছিল বাশার সুলতান। এখন বসার ঘরে বসে আছে৷ সামনেই আছে বসা বাশার সুলতান।
এজওয়ান নিজের রুমে ফোনে কথা বলছে বাহাদুরের সাথে। বাহাদুর ফোনের ওপাশ থেকে বলছে-
-” সাফওয়ানের সাথে নূর জাহানের ৪ বছরের সম্পর্ক। শোনা গেছে তারা একে ওপরে ভালোবাসে। কিন্তু সাফওয়ানের বাবা শামসুল মির্জা নূর জাহান কে পছন্দ করে না। নূর জাহান খুব কমই বলে দেশে থাকে।
এজওয়ান চুপচাপ সব শুনলো। কপালে দু আঙুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে বলল-
-” এই মেয়ের নামের সাথে তার কার্যকলাপের কোনো মিল নেই। নূর জাহান নামের মেয়েরা হয় নম্র, শান্ত সভ্য। এই মেয়ে তার বিপরীত।
-” নূর জাহান নাম তার শুধু সার্টিফিকেটে,ডাক নাম মাহি। মাহি চৌধুরী।
এজওয়ান বাঁকা হাসলো এবার।
-” নাউ দ্যা নেম সুটস দ্যা ক্যারেক্টার। রাখছি শ্বশুর মশাই এসেছে। বিয়ে টা পাকা করে আসি।
এজওয়ান ফোন টা পকেটে ঢুকিয়ে নিচে আসলো। তরিকুল চৌধুরীর সামনে বসে বলল-
-” যে জন্য আপনাকে ডাকা হয়েছে মিস্টার তরিকুল চৌধুরী। আই ওয়ান্ট মাহি এট এ্যানি কস্ট।
তরিকুল চৌধুরী ভ্রু কুঁচকালো এজওয়ানের কথায়। এ ছেলে কি বলছে! মাহি কে চায় মানে!
-” ঠিক বুঝলাম না।
-” না বোঝার মতন তো কিছু বলি নি। বলেছি আপনার মেয়েকে আমার চাই।
তরিকুল চৌধুরী নড়েচড়ে বসে বললেন-
-” কিসের জন্য? বেড….
তার আগেই এজওয়ান তরিকুল চৌধুরী করে থামিয়ে বলল-
-” হুঁশশ নো মোর এ্যানি ওয়ার্ডস। আমি বিয়ে করতে চাই আপনার মেয়েকে।
-” সরি টু সে কিন্তু মাহির কোনো বিষয়ে আমি হস্তক্ষেপ করি না। সে তার নিজের মর্জি তে চলাফেরা করে। আমার আর তার মধ্যে আকাশপাতাল দূরত্ব।
-” আপনাকে হস্তক্ষেপ করতেও বলা হয় নি। জাস্ট জানানোর জন্য ডাকা হয়েছে। আর শুনলাম আপনার মেয়ে কোনো এক সিআইডির সাথে বলে প্রেম করছে।
-” জানি না।
-” কোন বাল জানেন তাহলে মেয়ের বিষয়ে?
এজওয়ানের মুখে এমন বাক্য শুনে রাগ হলো তরিকুলের কিন্তু মুখে তা প্রকাশ করলো না।
-” একবার বলেছি ওর বিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানি না। ও আমায় বাবা হিসেবে মানে না৷
-” আপনাকে কি মানে না মানে আই ডোন্ট কেয়ার৷ আপনার মেয়েকে কাল নিজের বাসায় যে করেই হোক রাখবেন। আমার বাপ আর ভাইজান দেখতে যাবে। সুন্দর মতন শাড়ি পড়িয়ে বসিয়ে রাখবেন।
-” এটা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।
-” সম্ভব না হলেও সম্ভব করতে হবে। একটা মেয়ে এতটাও বাপ হেটার হয় না। মনে মনে ঠিকই মোহাব্বত আছে।
-” কোনো মোহাব্বত টোহাব্বত নেই। শরীর ভরা কারেন্ট…
এজওয়ান সামনে থাকা ফুলদানি তে লাত্থি মেরে বলল-
-” এই চুপ। মেয়ে হয় তোর। কারেন্ট কি শব্দ? এসব বললে বলবো আমি তোর মেয়েকে, তুই কেনো বললি?
এজওয়ানের মুখে তুই তুকারি শুনে তরিকুল চৌধুরী এবার বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
-” আমি আসছি।
-” যাচ্ছিস যা,কাল যেনো দুপুরে তোর বাড়ি গিয়ে তোর মেয়েকে পাই। তা না হলে তোর বাড়িতেই তোকে পুঁ’তে রেখে আসবো। হাত আমার ভীষণ পাকা এসবে।
তরিকুল চৌধুরী চলে গেলো। বাশার সুলতান এতক্ষণ চুপচাপ ছিলেন। এবার কিছু বলে উঠেন।
-” বুঝলাম না কি হয়েছে কি তোর? ওর মেয়ের মাঝে কি আছে? ঐ মেয়েতো শুনছি প্রেম করে তাহলে কেনো তুই এসব করছিস?
-” বিকজ আমার তাকে লাগবে।
-” কিসের জন্য লাগবে তোর?
-” ৫ বছরের বাচ্চা নও যে বুঝো না বউ কিসের জন্য লাগে।
-” এতদিন বউ ছাড়া ছিলি না?
-” ছিলাম কিন্তু এখন আর থাকতে পারছি না। তাই ছেলের বিয়েতে বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করো না। নিজে নিজের মতন বাঁচো আর আমাকে আমার মতন বাঁচতে দাও।
এজওয়ান চলে গেলো।
তরিকুল চৌধুরী বাসায় এসে চিন্তায় পড়ে গেলো। এই ছেলে যখন একবার বলেছে মাহির কথা,মাহিকে যে করেই হোক এ বাড়িতে আনতেই হবে৷ কিন্তু তরিকুল চৌধুরী তো বলতে পারবে না। তার ফোনই তো রিসিভ করবে না। সেজন্য বড় মেয়েকে ফোন করলো।
মোহনা বসে বসে আপেল খাচ্ছিলো৷ প্রেগন্যান্সির নয় মাস মোহনার। এসময়ে বাবার ফোন পেয়ে কিছুটা মুখের ভঙ্গিমা চেঞ্জ হলো। ফোন রিসিভ করবে কি করবে না এ নিয়ে দোটানায় ভুগলো। প্রথম ফোন কেটে গেলো। দ্বিতীয় কল আসতেই ফোন রিসিভ করলো মোহনা। ফোনটা কানে নিশেই রুক্ষ গলায় বলল-
-” কিসের জন্য ফোন দিয়েছেন?
-” দরকারেই ফোন দেওয়া হয়েছে।
-” আমার সাথে কি দরকার আপনার?
-” কাল একবার মাহিকে নিয়ে আসতে পারবি এ বাসায়?
-” কেনো?
-” দরকার আছে৷ না করিস না।
-” সরি যেতে পারবো না। রাখছি।
-” শোন,তোর মায়ের বিষয় নিয়েই কিছু আলোচনা ছিলো
হুট করে বাবা নামক পিশাচের মুখে মায়ের বিষয় নিয়ে কথা শুনে অনেকটাই অবাক হলো।
-” কিসের আলোচনা?
-” আসলেই তো বলতে পারবো৷ ফোনে বলা যাবে না এত কথা।
-” কখন আসতে হবে?
-” দুপুরের আগ দিয়েই চলে আসিস মাহি কে নিয়।
-” চেষ্টা করবো। রাখছি।
মোহনা ফোন টা কেটে মাহিকে ফোন করলো। মাহি রুমে শুয়ে ছিলো। অসময়ে বোনের ফোন পেয়ে ফোনটা রিসিভ করে জিজ্ঞেস করলো-
-” সব ঠিক আছে তো আপু?
-” ও বাড়ি থেকে উনি ফোন করেছিলো।
উনি বলতে কে মাহি তা বেশ ভালো করেই জানে।
-” কি বললো?
-” কাল ও বাড়িতে যেতে বললো।
-” কিন্তু কেনো?
-” মায়ের ব্যপারে কিছু বলতে চায়।
ভ্রু কুঁচকে আসলো মাহির। মায়ের ব্যপারে কি বলবে!
-” কি বলবে?
-” বলেনি এখনও। কাল যেতে বলেছে দুপুরের দিকে ও বাড়ি তোকে আর আমাকে।
-” তোর এই অবস্থায় যাওয়ার দরকার নেই। আমি যাব।
-” যাই না আমি।
-” না বলেছি আপু। না জানি মায়ের কথা বলে কি করতে চাইছে৷ তোর কোনো রিস্ক আমি নিতে চাই না। রাখছি।
মাহি ফোন কেটে দিলো।
সোলেমানের কাছে খবর এসেছে আগামী ১২ জুলাই চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার কালামিয়ার বাজারে মহানগর এক সমাবেশ হচ্ছে ছাত্র লীগের। সমাবেশের মূল কারন হচ্ছে শিবিরের হামলা, সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি ও ক্যাম্পাস দখলের।
আজ ৬ তারিখ। আর ছয় দিন পর হবে এই সমাবেশ। সব নেতাকর্মী দের খবর পাঠানো হয়েছে। সোলেমান বিষয় টা শুনে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া করলো না। বিষয় টা হচ্ছে ছাত্র দের মাঝে তাই সোলেমানের প্রতিক্রিয়া তেমন নেই। ইব্রাহিম খবর টা শুনেই সোলেমানের কাছে আসলো। সোলেমান তখন নীরব হয়ে ফোন স্ক্রোল করছিলো। ইব্রাহিম চেয়ার টেনে বসে বলল-
-” খবর টা শুনেছিস?
-” হু শুনেছি।
-” তোর কি মতামত এখানে?
-” নাথিং।
-” আমাদের ছাত্রলীগের লোকজন পাঠাবো?
-” দরকার নেই। ওদের ঝামেলা ওরাই মেটাতে পারবে।
-” তুই যখন ছাত্র লীগের নেতা ছিলি তখন তো দৌড়ে চলে যেতিস।
-” তখনকার কথা আলাদা। তখন আমি ছিলাম ছাত্রলীগের নেতা। চাচা যেখানে বলতো সেখানে ছুটে যেতাম। তারপর হলাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। তুই হলি নেতা, চাচা তখন থেকে পাঠাতে শুরু করলো তোকে। এখন আমি এমপি তুই মেয়র চাচা না। চাচার মতন আমি আমার দলের লোকজন কে বিপদে ফেলতে চাই না৷ ওরা বাঁচলে বাঁচবে আমার জন্য আর ম’রলে মর’বে আমার জন্য। অন্য কোনো এলাকার জন্য নয়,হোক না কেনো সেটা একই দল।
-” বুঝলাম। শিবির রা একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছে না?
সোলেমান কথার প্রেক্ষিতে স্মিত হাসলো।
-” শোন আওয়ামী লীগ হলো কুক করা মাংস আর ওরা হচ্ছে খ্যাপা কু’ত্তা । কুকুরের সামনে মাংস থাকলে যেমন ক্ষুধার তাড়নায় কুত্তারা কামড়াকামড়ি করে, তেমনই ওরাও এতবছর ক্ষমতাহীন থাকায় এখন পাগলা কু’ত্তার মতন আচারন করছে এটাই স্বাভাবিক।
-” পাগলা কু’ত্তার চেয়ে পাগল আমরাও তো কম নয়।
-” শোন রাজনীতির কেউই ধুয়া তুলশী পাতা না। রাজনীতি একটা পাশা খেলা। আমি একটা চাল দিব,আমার প্রতিপক্ষ একটা চাল দিবে,আমার বন্ধুও একটা চাল দিবে। আর রাজনীতির ধর্মই তো এটা।
-” সড়ক মন্ত্রী কাল ডিনারে ডেকেছে। যাবি?
-” মন্ত্রী যেহেতু ডেকেছে তাহলে তো যেতেই হয়। একজন সাধারণ ছাত্র থেকে হয়েছিলাম ছাত্র লীগের নেতা, সেই নেতা থেকে হলাম মেয়র। মেয়র থেকে গতবছর হলাম এমপি। এবার নেক্সট টার্গেট হবো মন্ত্রী।
-” ক্ষমতার প্রচুর লোভ তোর সোলেমান।
-” কারেক্ট। রাজনীতির মাঠে ক্ষমতাকে হাতের মুঠোয় আনতে হয়। যার ক্ষমতা যত তার বিস্তার তত। আর আমি হাডুডু কাবাডি খেলতে রাজনীতি তে আসি নি। রাজনীতি তে আসার পেছনে বিস্তার এক উদ্দেশ্য আছে। এই রাজনীতি যেভাবে আমার সব শেষ করেছে সেই রাজনীতির উপর ভর করে আমি তাদের সবটা কেঁড়ে নিব। আর আমি ঐ কু’ত্তার বাচ্চাকেউ খুঁজে বের করবো।
-” অনেক বছর তো হলো। কোনো হদিস ই তো পেলাম না সেই লোকের।
-” তাই বলে হাল ছেড়ে দিব আমি? যতদিন বেঁচে রব ততদিন অব্দি তাকে খুঁজে যাব। আর পেলেই তার শরীরের তাজা টগবগে র’ক্ত দিয়ে সুলতান নিবাসের বাগান টা রাঙাবো। ঠিক সেভাবে যেভাবে ১৯৯৪ সালের সেই রাতে সুলতান নিবাস র’ক্তে রঞ্জিত ছিল।
পরের দিন দুপুরে মাহি আসে চৌধুরী বাড়িতে। তরিকুল চৌধুরী অপেক্ষায় ছিলো মেয়ের। এসেই বসার ঘরে বসে তরিকুল চৌধুরীর চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করে
-” কি বলার জন্য ডেকেছেন?
তরিকুল চৌধুরী দরজার দিকে তাকালো। মাহি তা দেখে বলল-
-” আসে নি। আমি একা এসেছি। বলুন কি বলতে চান?
তরিকুল চৌধুরী পাশ থেকে একটা প্যাকেট বাড়িয়ে দিলো। মাহি ভ্রু কুঁচকালো।
-” এতে শাড়ি আছে পড়ে আয়।
শাড়ি! সেটা পড়বে তাও আবার মাহি!
-” ফাজলামো করছেন? মেন পয়েন্টে আসেন৷ মায়ের ব্যপারে কি বলতে চান বলুন।
-” আগে পড়ে তো আয়। তারপর বলছি।
মাহি প্যাকেট টা ছুঁড়ে ফেলে দিলো ফ্লোরে।
-” এক কথা কানে একবার যায় না? নাকি কানে ময়লা জমে গেছে কোনটা?
-” আই থিংক ময়লাটাই জমে আছে তোমার বাবার কানো।
পেছনে দরজা দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে কথাটা বললো এজওয়ান। মাহি আকস্মিক এমন কন্ঠ শুনে পেছন তাকিয়ে দেখলো এজওয়ান আর তার বাবা কে।
এজওয়ান সোজা হেঁটে মাহির সামনের সোফায় বসলো।
-” আপনি?
এজওয়ান পকেট থেকে গান বের করে পাশে রাখলো।
-” হ্যাঁ আমি।
-” কি চাই এখানে? কেনো এসেছেন?
এজওয়ান তরিকুল চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল-
-” বলেন নি আপনি আপনার মেয়েকে? ওকে কোনো ব্যপার না আমি বলে দিচ্ছি। তোমার সাথে আমার আজ বিয়ে পাকা হবে।
মাহি ত্বরিত মোড়ে উঠে দাঁড়ালো।
-” হোয়াট!
-” আশ্চর্য হবার কিছু নেই। বসো। বাবা কথা বলো।
বাশার সুলতান কিছু কথা বলার জন্য মুখ খুলতে চাইলে মাহি থামিয়ে দিয়ে বলে-
-” মাথার স্ক্র কি সব ঢিলে হয়ে গেছে? আমি বিয়ে করবো আপনাকে! ম-রে গেলেও না।
এজওয়ান পাশ থেকে গান টা নিয়ে মাহির দিকে তাক করে বলল-
-” তাহলে তুই ম-রেই যা।
কথাটা বলেই গান টা মাহির থেকে সরে গিয়ে তরিকুল চৌধুরীর দিকে চলে গেলো। তরিকুল লাফিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
-” কি করছো কি..
-” ঠিক কাজই করছি। তোর মেয়েকে রাজি করা। তা না হলে তোর মরন নিশ্চিত। মাহি রাজি হয়ে যা তা না হলে..
-” তা না হলে কি?
-” তোর বাপকে সোজা উপরে পাঠিয়ে দিব।
মাহি বাঁকা হাসলো। আচমকা এজওয়ানের থেকে গান টা কেঁড়ে নিয়ে বলল-
-” এই শুভ কাজ আপনার করতে হবে না৷ আমিই মে’রে দিচ্ছি। এমনিতেও উনাকে মা-রার শখ আমার অনেক বছর ধরে। আপনার মাধ্যমেই না হয় পূরণ করলাম।
আকস্মিক এমন হওয়ায় এজওয়ান ও বুঝতে পারে নি। তরিকুল চৌধুরী মৃত্যুর একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এই এজওয়ানের জন্য না তার প্রাণ চলে যায় আজ মেয়ের হাতে।
-” নিজের বাপ কে মা’রতে চাস?
-” কিসের বাপ? কেমন বাপ? আপনি বাপ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন? পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট আপনি। আপনাকে বাঁচিয়ে লস ছাড়া কারোরই লাভ নেই। তাই শেষই করে দেই বরং।
কথাটা শেষ করেই মাহি গান টা একটু সাইডে ঘুরালো। এজওয়ান এখনো ভাবলেশহীন হয়ে দাঁড়িয়ে। এজওয়ান ভাবছে মাহি নিজের বাপ কে মারবে না। কিন্তু এজওয়ানের সকল চিন্তা ভাবনা কে জাস্ট তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে গু’লি টা মাহি করেই বসলো। গু’লি টা গিয়ে সোজা তরিকুল চৌধুরীর ডান হাতে গিয়ে লাগলো। এজওয়ান চমকালো। তরিকুল চৌধুরী ডান হাত চেপে ধরে বসে পড়লো। হাত দিয়ে র’ক্ত বের হচ্ছে। বাশার সুলতান এগিয়ে গেলেন। তরিকুল কে ধরলেন। মাহি গান টা এজওয়ানের দিকে ছুঁড়ে দিলো। এজওয়ান ধরে ফেললো গান টা। মাহি একবার তরিকুলের দিকে তাকিয়ে ফের এজওয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল-
-” আপনি কি ভেবেছেন একে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আমায় বিয়ে করবেন! হাউ লেইম চিন্তা ভাবনা। আমাকে চিনতে আপনার পুরো জনম লেগে যাবে। তারপরও আমাকে চিনতে পারবেন না। আপনার চিন্তা ভাবনার ধরা ছোঁয়ার বাহিরে আমি। আর আমাকে পাওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।
-” বাজি ধরছিস?
-” ধরলাম বাজি।
-” ওকে। চ্যালেঞ্জ করলাম আগামী এক সপ্তাহের ভেতর আমি এজওয়ান তোকে বিয়ে করবো। পারলে তুই আঁটকে দেখাস।
-” আই এক্সেপ্ট দ্যিস।
মাহি তাচ্ছিল্যের চাহনি নিক্ষেপ করলো। এজওয়ান এগিয়ে এসে মাহির চুলের মুঠো ধরে। মাহি কিছু বোঝার আগেই মাহির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। গুনে গুনে ৩০ সেকেন্ড পর এজওয়ান ছেড়ে দিলো। বাশার সুলতান পারছে না নিজেকে কিছু একটা করতে এমন ছেলে জন্ম দেওয়ার কারনে। একজন র’ক্ত দেহ নিয়ে পড়ে আছে ফ্লোরে আর ছেলে তার বয়স্ক লোকদের সামনে চুম্মাচুম্মি করছে!
মাহি ছাড়া পেতেই রাগে থরথর করে কাঁপতে লাগলো। এই প্রথম কোনো পুরুষের ঠোঁটের ছোঁয়া পেলো তার ঠোঁট। ৪ বছরের সম্পর্কে সাফওয়ানই পারে নি ছুঁতে আর এই ছেলে এত বড় স্পর্ধা দেখালো! মাহি হাত উঁচু করে চ’ড় মারার উদ্যত হলে এজওয়ান হাতটা মুচড়ে ধরে মাহিকে পেছন দিকে ফিরিয়ে কাঁধে থুঁতনি রেখে ফিসফিস করে বলল-
-” সিল মেরে কলঙ্কিত করে দিলাম তোকে। বুঝিয়ে দিলাম তুই কেবলই আমার। তোকে পেতে যা যা করা লাগবে আমি এজওয়ান সব করবো। তোকে আমার পায়ের কাছে এনে ফেলবো প্রমিস। যা এখন। একসপ্তাহ যত পারিস মুক্ত হয়ে উড়ে নে। একসপ্তাহ পর তোকে খাঁচায় বন্দী করে রাখবো। যেভাবে বন্দী করে রাখে পোষা প্রাণী কে।
কথাটা শেষ করেই মাহিকে দূরে সরিয়ে দিলো এজওয়ান।
-” মাহিকে খাঁচায় বন্দী করা এত সহজ না মিস্টার এজওয়ান সুলতান। আপনাকে আমি দেখে নিব। রাস্তায় নিয়ে দাঁড় করাবো। জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।
মাহি একবার সবার পানে তাকিয়ে
চলে গেলো। বাশার সুলতান বললেন-
-” তরিকুল কে হসপিটালে নিতে হবে। র’ক্ত বের হচ্ছে।
এজওয়ান বিরক্ত হয়ে বলল-
-” ম’রে তো আর যাচ্ছে না। ডক্টর কে টেক্সট করে দিয়েছি চলে আসবে। এখন চলো তুমি।
এজওয়ান চলে গেলো। বাশার সুলতান তরিকুল চৌধুরী কে সোফায় বসিয়ে চলে আসলো। বেচারা তরিকুল চৌধুরী রেকর্ড করে বসলো মেয়ের হাতে গুলি খেয়ে।
বাশার সুলতান গাড়িতে এসে বসেই এজওয়ানের দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল-
-” এই তোর রুচির নমুনা! এমন এক বে’য়াদব মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছিস যার সাথে তোর সাপে নেউলের সম্পর্ক!
এজওয়ান গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলল-
-” সম্পর্ক যেমনই হোক, আমার ওকেই চাই। আর বিয়েটাও ওকেই করতে চাই।
-” একদম না। এমন মেয়ে সুলতান পরিবারের বউ হতে পারে না।
-” কে আটকাবে তুমি? আঁটকে দেখাও পারলে।
-” বিয়ের মতন একটা জিনিস এভাবে জোর করে হয় না এজওয়ান।
-” কি হয় আর কি হয় না এসব জ্ঞান তোমার থেকে শুনতে চাচ্ছি না। আমার বিয়েতে তোমাদের কাউকে লাগবে না। জাস্ট দূরে থাকো। ঐ মেয়েকে আমি এজওয়ান আমার ঘরের ঘরণী করে রাখবো। সুলতান পরিবারের বউ হবে,আমার হালি হালি সন্তানের মা হবে।
বাশার সুলতান মুখ ফিরিয়ে নিলো। ঠিক এ কারনেই বাশার সুলতান ছেলের উপর বিরক্ত হয়। কোনো কথা তো শুনেই না হটকারিতায় একটা সিদ্ধান্ত নেয়,আর সেটা করে বসে।
বিকেলে মেহরিন কে নিতে আসে আমিরুল সুলতান আর রুমাইসা। শ্বশুর কে দেখে মেহরিন সালাম দেয়। আমিরুল সুলতান সালামের জবাব দিয়ে বলে-
-” এই কয়দিন তোমার হাতের চা ভীষণ মিস করেছি মা।
মেহরিন ততক্ষনাৎ ই শ্বশুরের জন্য চা বানিয়ে আনে। তৃপ্তি নিয়ে চা টা খায় আমিরুল সুলতান। মোতালেব ভুঁইয়ার থেকে অনুমতি নিয়ে পুত্রবধূ কে নিয়ে রওনা হয় সুলতান ভিলায়।
রাতের দিকে সুলতান ভিলায় আবির্ভাব হয় ইন্সপেক্টর হাবিবের। হাবিব সুলতান ভিলায় ঢুকেই এজওয়ানের নাম ধরে চিৎকার করতে থাকে। হাবিবের ডাক শুনে সোলেমান, বাশার সুলতান ,এজওয়ান ৩ জনই নেমে আসে। হাবিব এজওয়ান কে দেখামাত্রই এগিয়ে এসে জ্যাকেটের কলার ধরে বলল-
-” চল।
সোলেমান আকস্মিক এমনটা দেখে ভ্রু কুঁচকালো।
-” চল মানে?
-” আপনার ভাইয়ের নামে অভিযোগ আছে।
-” কিসের অভিযোগ?
-” মানহানীর মামলা।
এজওয়ান জিজ্ঞেস করলো-
-” কে করেছে?
-” মাহি চৌধুরী।
এজওয়ান ঠিক ভেবেছিলো।
-” চলুন তাহলে।
বাশার সুলতান ছেলের হাত টেনে ধরলো।
-” চলুন মানে! মাথা ঠিক আছে তোর?
-” ঠিক আছে। আর ভাইজান চিন্তা করো না। আমি বেরিয়ে আসবো কালই।
হাবিব এজওয়ান কে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলো। বাড়ির বাহিরে সংবাদিক দাঁড়িয়ে। নিউজ করছে— এমপি নওয়াজ সোলেমান সুলতানের চাচাতো ভাই এজওয়ান সুলতানের নামে মানহানীর মামলা উঠেছে। এবাং তাকে এমুহূর্তে ইন্সপেক্টর হাবিব শেখ তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
কেউ কেউ এগিয়ে আসছে এজওয়ানের দিকে। জিজ্ঞেস করছে ঘটনা টা কি সত্যি নাকি? এজওয়ান প্রতিত্তোরে বলেছে।
-” আগামীকাল কথাটার প্রমান পাবেন। কে সত্য বলছে আর কে মিথ্যা বলছে৷ সুলতান পরিবারের ছেলেরা এমন কাজ করতে পারে না। আপনারা জানেন সেটা। আর এটা একটা চক্রান্ত।
সোলেমান উপর থেকে সব দেখলো। সাংবাদিক দের মুখ বন্ধ করা কোনো মতেই যাবে না। দাঁত চেপে বলল-
-” কে করছে এটা?
-” তরিকুলের মেয়ে।
-” কি হয়েছিল সেখানে?
বাশার সুলতান সব টা খুলে বললেন। সোলেমান সব শুনে চলে গেলো।
হাবিব এজওয়ান কে গাড়িতে তুললো। তারপর পকেট থেকে ফোন টা বের করে কাউকে মেসেজ দিয়ে জানালো- ডান৷ তুই চলে আসিস।
মাহি নিজের অ্যাপার্টমেন্টে টিভিতে এই নিউজ টা দেখে খুশিতে আত্মহারা হচ্ছে। এই সুলতান পরিবার কে সে একদম নিঃশেষ করে দিবে৷ এ তো কেবল শুরু মাত্র। আগে আগে দেখো হোতা হে ক্যেয়া।
এজওয়ান কে নিয়ে আসা হয়েছে থানায়৷ একটা গোপন অন্ধকার কক্ষে রাখা হলো এজওয়ান কে। থানায় আনার পর থেকেই এই কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়েছে। হাবিব কাউকে ফোন করে আসতে বললো। মিনিট দশেক পর একজন আসলো৷ আবছা আলোয় দেখতে পেলো কেউ একজন দরজা খুলে এগিয়ে আসছে৷ চেহারা স্পষ্ট না কিন্তু শারীরিক গঠন দেখে ঠিক চিনে ফেললো এজওয়ান তাকে। লোকটা এগিয়ে আসলো। মুখ এবার স্পষ্ট হলো। এজওয়ান বাঁকা হেঁসে বলল-
-” আপনারই অপেক্ষায় আমি ছিলাম সাফওয়ান মির্জা।
সাফওয়ান চেয়ার টেনে বসলো। রাগে তার শরীরে এখনও কামড়াচ্ছে। মাহি বলেছে এজওয়ান আজ তার সাথে কি কি করেছে। ইচ্ছে করছে এই ছেলেকে এখানেই পুঁতে ফেলতে৷ নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু পারছে না সাফওয়ান। বারবার ফুস করে উঠছে নিঃশ্বাস। এজওয়ান তা দেখো পাশে থাকা হাবিব কে বলল-
-” আপনার বন্ধু কে একটা ঠান্ডা খাইয়ে ঠান্ডা করুন৷ এতো রাগ উত্তেজনা তার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।
সাফওয়ান টেবিলে শব্দ করে হাত রাখলো।
-” আপনার সাহস হয় কি করে মাহিকে ছোঁয়ার?
-” সাহস লাগে না আমার।
-” আপনাকে ইচ্ছে করছে জাস্ট মে’রে ফেলতে।
-” কোনো জনমেই তা করতে পারবেন না।
-” আমার ক্ষমতা সম্পর্কে আপনার ধারণা নেই।
এজওয়ান এবার শব্দ করে হাসলো।
-” সেম হেয়ার। আপনারও কোনো ধারণা নেই আমার ক্ষমতা সম্পর্কে। জাস্ট তুড়ি মেরে আপনাকে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি আমার প্যান্টের পকেটে।
কথাটা শুনেই সাফওয়ানের শরীর জ্বলে উঠলো। সহসা চ’ড় বসালো এজওয়ানের গালে৷ সাথে সাথে কালচে রং ধারণ করলো ঠোঁটের কিনারায়। এই ২৭ বছর জীবনে প্রথম কেউ এজওয়ান কে মা’রলো। আর সেটা একমাত্র মাহির জন্য৷ এর আগে কেউ মারাতো দূরে থাক মুখ থেকে মারার শব্দ বের করলেই এজওয়ান তার শ্বাস আঁটকে দিত। আর সেই এজওয়ান আজ চুপ। সাফওয়ান পাশ থেকে লাঠি টা তুলে নিয়ে এতক্ষণ জমিয়ে রাখা সব রাগ ক্ষোভ উগড়ে দিলো।
দাহশয্যা পর্ব ১৮
অবাক করার বিষয় এজওয়ান একটা টু শব্দও করে নি। শক্ত হয়ে বসেছিলো। আর অদ্ভুত এক দৃষ্টি নিয়ে সাফওয়ান কে দেখছিলো। এজওয়ান সাফওয়ান কে বাঁধা দেওয়ার কোনো চেষ্টাও করে নি । উল্টো সাফওয়ান হাঁপিয়ে গেলো। এজওয়ানের জায়গায় অন্য কেউ থাকলে এতক্ষণ চিৎকার করতো তীব্র যন্ত্রণায়। মারার শেষে এজওয়ান শুধু একটা কথাই বললো সাফওয়ান কে আর সেটা হলো-
-” তুলে রাখলাম আজকের দিন টা। সুদে আসলে ফেরত যাবে দ্বিগুণের চেয়েও দ্বিগুণ হয়ে মিস্টার মির্জা।
