দাহশয্যা পর্ব ৭৩
Raiha Zubair Ripti
বাতাসি গুটিশুটি হয়ে ফ্লোরে বসে আছে। এসি অন থাকায় শীত লাগছে। সেজন্য ওড়না দিয়ে শরীরে জড়িয়ে ঢেকে নিলো। ক্ষুধার যন্ত্রণায় পেট মুড়মুড় করছে। বাতাসি ঘরের চারিপাশে তাকিয়ে দেখতে লাগলো। এমন বড় বাড়ি জীবনেও দেখে নি বাতাসি। এমন দামি দামি ফার্নিচার ও না। কোনটার নাম কি সেটাও বলতে পারবে না ঠিকঠাক বাতাসি। বাতাসি দের কুড়ে ঘরের ৩-৪ টা মিলে হবে বোধহয় এই একটা রুম।
এজওয়ান ঘড়ি নিতে রুমে এসেছিল। বাতাসি কে এমন ফ্লোরে বসে থাকতে দেখে পেছন তাকালো। মাহি খাবার প্লেট নিয়ে আসছে। এজওয়ানের কাছাকাছি আসতেই এজওয়ান বলল-
“ ওকে সোফায় বসতে বলো। আর আমার ঘড়িটা এনে দাও। ”
মাহি খেয়াল করলো বাতাসি ফ্লোরে বসে আছে। রুমে ঢুকে খাবার টা টেবিলে রেখে বাতাসি কে তুলে সোফায় বসাতে বসাতে বলল-
“ এভাবে ঠান্ডা ফ্লোরে বসে কেউ? খাবার টা খেয়ে নাও। ”
মাহি ঘড়ি টা খুঁজে এজওয়ান কে দিলো। এজওয়ান ঘড়িটা নিয়ে চলে গেল।
ইয়াসিন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তার বিয়েটা। সে কত স্বপ্ন দেখেছে তার বিয়ে নিয়ে। ধুমধাম করে বিয়ে করবে। যাকে বিয়ে করবে সে খুব সুন্দর হবে এজওয়ান, সোলেমানদের বউদের মতো। কিন্তু ভাগ্য তাকে এমন বউ দিলো যে তাকে নিয়ে লোকসমাজে চলাচল করলে হাসির খোরাক হতে হবে উল্টো।
বাতাসি খাবারের দিকে তাকিয়ে আছে।
মাহি বাতাসি কে খেতে না দেখে বলল-
“ কি হলো খাও। পছন্দ হয় নি? অন্য কিছু আনবো? ”
“ না না। খাচ্ছি। ”
বাতাসি চুপচাপ খেতে লাগলো। কি ক্ষুধাটাই না লেগেছিল। মাহি ম্যেড কে ডেকে এনে এঁটো থালাবাসন নিয়ে যেতে বলল। ম্যেড এসে নিয়ে গেল। মাহি পাশে বসলো বাতাসির। জিজ্ঞেস করলো-
“ এভাবে জোর করে বিয়ে দিলো কেনো? ইয়াসিন তো ওমন ছেলে না যে ওসব করবে। ”
“ আম্মা বোধহয় ইচ্ছে করে করছিল। ”
মাহি চমকালো।
“ ইচ্ছে করে মানে! ”
“ আমায় তো আম্মা দেখতে পারে না। তাদের ঘাড় থেকে নামানোর জন্য হয়তো এটা করছে। ”
“ আর তোমার বাবা? ”
“ আপন বাপ নাই। সৎ বাপও দেখতে পারে না আমারে। ”
মাহির মায়া হলো মেয়েটার জন্য। ফোনে মেসেজের শব্দ আসতেই মাহি চেক করে দেখলো এজওয়ান মেসেজ পাঠিয়েছে। ওপেন করতেই দেখলো এজওয়ান লিখেছে-
“ তরিকুলের বেটি মেয়েটাকে ইয়াসিনের রুমে দিয়ে আসবে। আর আমার ফিরতে রাত হবে। ”
মাহি পাল্টা লিখলো-
“ চুরি করতে বের হলেন নাকি? ”
ওপাশ থেকে এজওয়ান লিখলো-
“ তোমায় আর চুরি করতে পারলাম কই। যাই হোক ঘুমিয়ে পড়ো খেয়ে দেয়ে। ভাইজান বোধহয় বাড়ি ফিরবে না আজ। ”
মাহি মেসেজ টা দেখে বাতাসির দিকে তাকিয়ে বলল-
“ চলো বাতাসি। ”
বাতাসি জিজ্ঞেস করলো-
“ কোই যাব? ”
“ ঘুমাবে না? রাত হলো যে। ”
বাতাসি মাহির পেছন পেছন হাঁটা ধরলো। তিন কক্ষ পরেই এক কক্ষের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো। মাহি বাতাসিকে বলল-
“ এ রুমে। ”
ইয়াসিন মাথার চুল দু হাত দিয়ে টেনে ধরে বিছানায় বসে ছিল। মাহির গলার স্বর শুনে দরজার পানে চেয়ে বাতাসি কে দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে এসে বলল-
“ ও এখানে কেনো ভাবি? ”
“ এখানে কেনো মানে! এটা কেমন কথা? আপনার স্ত্রী হয় বাতাসি। এ ঘরেই তো থাকবে। ”
“ না থাকবে না। ও এখানে থাকলে আমি চলে যাব। ”
বাতাসি মাহির পেছন গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।
“ এসব কি কথা? বিয়েটা হয়ে গেছে আপনাদের। ”
“ মানি না এই বিয়ে আমি। আমার ওকে পছন্দ না। আর আপনি যে এসব বলছেন। আপনি নিজেও তো মানেন না এজওয়ান ভাইয়ের সাথে বিয়েটা। ”
“ তারপরও তো সংসার করছি। ”
“ কারন ভাই জোর করে রেখেছে বলে করতেছেন। নইলে আপনিও ছেড়ে চলে যাইতেন। আমি মানতে পারবো না ও কে। ”
“ কেনো মানবেন না? বিয়ে করছেন কেনো তাহলে? বাতাসি তুমি এখানেই থাকবে। ইয়াসিন কি করে তোমায় বের করে আমিও দেখবো তা। ”
বাতাসি কে নিয়ে বিছানায় বসালো মাহি। আসার পথে ইয়াসিন কে বলে আসলো-
“ ভদ্রতা বজায় রাখবেন। আপনার এসব কথা শুনে মেয়েটার কি খুব ভালো লাগছে? মায়ের ভালোবাসা পায় নি,বাপের ভালোবাসা পায় নি। এক ভাই ছিলো সেটাও বিনাদোষে ম’রে গেল। এখন কি স্বামীর ভালোবাসাও পাবে না? ভালো না বাসুন মনুষ্যত্ব টা তো আছে? সেটা থেকে দায়িত্ব টা নিন। আপনার ভাইদের কানে গেলে কি হবে জানেন তো? বাড়ির বউদের অসম্মান মানবে না তারা। ”
মাহি চলে যেতেই ইয়াসিন ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো। বাতাসি কেঁপে উঠলো। ইয়াসিন মাঝখানে দাঁড়িয়ে পায়চারি করতে লাগলো। এখন এই মেয়ের সাথে সে এক বিছানায় ঘুমাবে!
বাতাসি বালিশ টা টেনে হাতে নিয়ে বলল-
“ আপনে খাটে ঘুমান। আমি নিচে ঘুমাচ্ছি। ”
ইয়াসিন বাতাসির পানে তাকালো। এই মেয়ে না দেখতে সুন্দর আর না নাম সুন্দর কি বাতাসি নাম রাখছে। এটা কোনো নাম হলো? মনে হয় বাতাসা। বাতাসাও তো সুন্দর সাদা দেখতে।
ইয়াসিন বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। বাতাসি বালিশ টা নিয়ে ঠান্ডা ফ্লোরে শুতে গেলে ইয়াসিন পায়ের কাছ থেকে কাথাটা ছুঁড়ে দিয়ে বলল-
“ লাইট নিভিয়ে দাও। ”
বাতাসি কাঁথা টা ফ্লোরে বিছিয়ে বাতি নিভিয়ে এসে শুয়ে পড়লো। হায়রে জীবন। জীবন এমন কেনো? একটু কি জীবন ভালো হতে পারে না? বাতাসি কি খুব বেশি কিছু চায় আল্লাহর কাছে? আল্লাহ তো বাতাসি কে কিছুই দেয় না। উল্টো তার থেকে সব কেঁড়ে নেয়। কি যে রাগ হয় মাঝেমধ্যে বাতাসির আল্লাহর উপর। এমন জীবন কেনো দিলো? না দিলো রূপ,না দিলো বাপ,মায়ের ভালোবাসা আর না রাখলো একমাত্র ভাই। কি অদ্ভুত জীবন। সবার জীবন কে সমান ভাবে দিতে পারে না আল্লাহ? পারে তো। সে চাইলে সবই পারে। কিন্তু দেয় না। একজন কে বেশি সুখ দেয় আর একজন কে অসুখ। মৃ’ত্যু কবে সেটা যদি জানা যেত তাহলে কতই না ভালো হতো। বাতাসি ঐ দিনের জন্য অপেক্ষা করতো।
চোখের জলে বালিশ ভিজে যায় বাতাসির। বাতাসির কেউ নাই মাথার উপর। এই পৃথিবীতে একেবারে একা সে। কাঁদলে কেউ দেখার নেই। এত এত নালিশ জানায় বাতাসি তারপরও আল্লাহ তার দিকে মুখ তুলে তাকায় না। একটা মানুষকে এভাবে এত কষ্ট দিয়ে পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখার কোনো মানে হয়?
চোখের জলে বালিশ ভিজতে ভিজতে একসময় বাতাসি ঘুমিয়ে পড়লো।
ইতি বেগমের বোন ফোন করেছে। তাকে যেতে বলেছে তার বাসায়। বোনের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ এসেছে বিদেশ থেকে। ঊর্মি কে বলল সাথে যেতে কিন্তু ঊর্মি বলল যাবে না। ইতি বেগম খালি বাড়িতে একা রেখে যেতে চাইছে না। আবার বোনও এত করে যেতে বলল, না গেলেও বিষয় টা খারাপ দেখায়। ইতি বেগম সানজিদা বেগম কে বলে গেলেন রাতে যেন তাদের বাসায় থাকে ঊর্মি মেহরিনের সাথে। দুদিন পরই চলে আসবে। সানজিদা বেগম আপত্তি জানালেন না। রাতে জোয়ান মেয়ে একা খালি বাড়িতে থাকা ঠিক না।
সকালে রান্নাবান্না করে চলে যায় ইতি বেগম। ঊর্মি খাওয়াদাওয়া করে মেহরিনের সাথে কলেজে আসে। কলেজে আসার আগে ইব্রাহিমের সাথে ঊর্মির কথা হয়েছে। ইতি বেগম তার বাটন ফোন রেখে গেছে।
কলেজের ক্লাস শেষ করে গেটের কাছে আসতেই মেহরিন দেখলো তার সুলতান সাহেব, পড়নে ডার্ক ব্লু রঙের শার্ট,কনুই অব্দি গুটানো,গলায় টাই বাঁধা, চোখে সানগ্লাস বিরক্ত চাহনি নিয়ে হাত ঘড়িতে সময় দেখছে।
মেহরিন ভাবতে লাগলো- আশ্চর্য উনি আসলো! আসার আগে তো বললো না। মেহরিন এগিয়ে গিয়ে সালাম দিলো। সোলেমান মাথা উঁচু করে সামনে তাকালো। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিল মেহরিনের জন্য। তার উপর কলেজের মেয়ে গুলো এত থার্ডক্লাশ যা বলার বাহিরে। হা করে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে সোলেমান কোনো খাওয়ার জিনিস আর তারা লালা বের করে রাখছে খাওয়ার জন্য।
গা গুলিয়ে আসে সোলেমানের। সোলেমান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল-
“ ফাইনালি আসলে। কখন থেকে অপেক্ষা করছি। খাবে কিছু? নিয়ে আসবো? ”
“ না না কিছু খাবো না। আপনি আসবেন বললেন না যে আমায়। ”
“ আসার কোনো কথা ছিলো না। কিন্তু ইব্রাহিম নিয়ে আসলো। ”
ইব্রাহিমের নাম শুনে ঊর্মি চমকালো। উনি এসেছে? কিন্তু কোথায়? তখনই গাড়ি থেকে বের হয় ইব্রাহিম। শাশুমা চলে গেছে, বউয়ের সাথে দেখা করার এই সুযোগ কি ইব্রাহিম মিস করবে নাকি? জীবনেও না।
ঊর্মির সারা শরীর জমে গেল তাকে দেখে। ইব্রাহিম নেমেই ঊর্মির পানে তাকিয়ে চোখ টিপলো। ঊর্মি আশেপাশে তাকালো। বেলেহাজ লোক একটা।
সোলেমান মেহরিন কে বলল-
“ তাহলে চলো যাওয়া যাক। ”
ঊর্মি মেহরিন পেছনে গিয়ে বসলো। সামনে বসলো ড্রাইভিং সিটে সোলেমান আর তার পাশে ইব্রাহিম।
গাড়িটা এসে মেহরিন দের বাড়ির সামনে থামলো। ঊর্মি তার নিজের বাড়ি চলে গেল। সোলেমান মেহরিন আর ইব্রাহিম মেহরিন দের বাড়িতে ঢুকলো। মেয়ের জামাই এসেছে দেখে সানজিদা বেগম রান্নার তোড়জোড় শুরু করে দিলো।
মেহরিন রুমে এসে বোরকা টা খুলে হাত মুখ ধুয়ে আসে। সোলেমান তখন বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে ছিলো। মেহরিন আসতেই তাকে টেনে কোলে বসিয়ে ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে বলল-
“ চলো গোসল টা এক সাথে করি। ”
মেহরিন ছিটকে উঠলো। সোলেমানের মুখ ঘাড় থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“ আপনি একা করুন। আম্মুকে হেল্প করতে যেতে হবে। আপু পারবে না বাবুকে নিয়ে। ”
মেহরিন বেরিয়ে গেলো। সেরিন মেহরিন কে রান্না ঘরের দিকে যেতে দেখে বলল-
“ মেহু তোর যেতে হবে না। তুই বাবুকে ধর। ”
মেহরিন বাবুকে কোলে নিয়ে রুমে চলে আসলো। সোলেমান ততক্ষণে গোসলে চলে গেছে। মেহরিন বাবুকে নিয়ে হাঁটতে লাগলো রুম জুড়ে। কাঁদে না খুবই শান্ত। বাবু হাঁটা শেখা না অব্দি অনিক বউ বাড়িতে নিয়ে যাবে না। এখন নিয়ে গেলে বাচ্চা আর রান্নাবান্না একসাথে সেরিন সামলাতে পারবে না। আর অনিকের মায়েরও বয়স হয়েছে। মেয়েকেও ঠিকভাবে রাখতে পারবে না।
সোলেমান গোসল সেরে টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে খালি গায়ে বের হয়। পড়নে আছে শুধু কালো রঙের টাওজার। সোলেমান ভেজা টাওয়াল টা চেয়ারে রেখে আলমারি থেকে একটা শার্ট বের করে পড়ে নিলো। তারপর মেহরিনের দিকে এগিয়ে আসলো। সেরিনের মেয়েটার দিকে তাকালো। গুলুমুলু দেখতে। দু একটা দাঁত ও হয়েছে। সোলেমান কে দেখেই বাবা মনে করে কোলে যেতে চাইলো। সোলেমান ভাবুক হলো-
“ নিব কোলে? ”
মেহরিন বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
“ নিন। ”
সোলেমান নিলো কোলে। একদিন তাদেরও এমন একটা পুঁচকু হবে। সোলেমান আদরে ভরে রাখবে সন্তান আর সন্তানের মা কে। পুরুষদের দ্বিতীয় সুখ তো এখানেই। কিন্তু সোলেমানের সেই সুখ কে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিলো না সেরিনের মেয়ে। সোলেমানের কোলের মধ্যে পটি করে দিলো। আকস্মিক নাকে বাজে স্মেল আসায় নিজের দিকে তাকাতেই সোলেমানের চোখ বড়বড় হয়ে আসলো। হাতে বাচ্চা না থেকে অন্য কিছু থাকলে হয়তো সোলেমান ছুঁড়ে ফেলে দিত এতক্ষণে । সোলেমানের পেট মোচড় দিয়ে উঠলো। সেরিনের মেয়ের প্যান্ট থেকে চুয়ে চুয়ে পটি তার প্যান্ট শার্টে ভরছে। সোলেমান চোখ মুখ কুঁচকে বলল-
“ ওয়াক শালির বেটি এটা কি করলো! মেহরিন ধরো এটাকে । ”
মেহরিন তাকালো। হায় আল্লাহ বাবু পটি করে দিছে। মেহরিন ধরলে তো এখন তার জামাকাপড়েও ভরবে। সেজন্য রুম থেকে বেরিয়ে আপুর রুম থেকে বাবুর কাঁথা নিয়ে আসলো।
সোলেমানের অনুভূতি টা যে কেমন হচ্ছে তা বলার বাহিরে। একটু পর পর ওয়াক ওয়াক করছে। হায়রে নিজের সন্তান যখন পটি করবে হিশু করবে,বমি করবে কোলে তখন সোলেমান কি করবে?
মেহরিন কাঁথায় মুড়িয়ে নিলো বাবুকে। সোলেমানের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ গোসল করে আসেন আবার। আমি জামাকাপড় ধুয়ে দিব নি।”
মেহরিন বাবুকে নিয়ে বাহিরের কলপাড়ে আসলো। পাশে বাবুকে বসিয়ে কল চেপে পানি ভরে ধুয়ে পরিষ্কার করে মুছে কোলে নিলো।
সোলেমান ওয়াশরুমে ঢুকে সাবান দিয়ে ডলে ডলে গোসল করলো। গোসল শেষেও যেন মনে হলো তার শরীরে বাবুর পটি লেগে আছে।
কি জ্বালা। বাবুদের পাছায় আঠা মেরে লাগিয়ে দেওয়া যায় না? পটি আসলে বলতে পারনে না আবার যার তার কোলে হেগে দেয়। সোলেমান এমন ভাব করতে লাগলো মনে হয় সে হাগু করে না। মুখ দিয়ে খায়, সে, আর খোদাই ভালো জানে কোন রাস্তা দিয়ে ত্যাগ করে।
ছোট বেলায় এই ঘৃণা এই অনুভূতি তখন কোথায় ছিলো? যখন সে রুমাইসার পটি পরিষ্কার করেছে,পটির কাঁথা পরিষ্কার করেছে।
বড় হলে মানুষ বদলায়। মানুষের রুচি অনুভূতি স্বভাব সবই বদলায়।
ইব্রাহিম সোলেমানের কোলে বাবু হেগে দিয়েছে শুনে হাসতে হাসতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। দ্যা গ্রেট নওয়াজ সোলেমান সুলতানের কোলে কেউ হেগে দিয়েছে। ওয়াও ভিডিও করে অ্যালবাম বের করা উচিত ছিলো।
রান্নাবান্না শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। ঊর্মি বাড়ি থেকে খেয়েদেয়ে চলে এসেছে মেহরিন দের বাড়ি। অনিক ডিউটি শেষ করে এ বাড়িতে আসে। রাতের ডিনারে সবাই ঊর্মিকে টানলো কিন্তু ঊর্মি আসলো না খেতে। সে বাবুকে কোলে নিয়ে বেলকনিতে হাঁটছিল।
খাওয়াদাওয়া শেষ হলে ঊর্মি শোয়ার রুমে চলে যায়। ঊর্মির শোয়ার রুমের পাশের রুমেই ইব্রাহিম কে থাকতে দেওয়া হয়েছে। সবাই যখন ঘুমের জন্য দরজা লাগিয়ে দিয়েছে তখন ইব্রাহিম ঊর্মি কে মেসেজ দিয়ে বলল দরজাটা খুলতে।
ঊর্মি প্রথমে না করলো। কিন্তু ইব্রাহিম নাছোড়বান্দা। সে না খুলিয়ে ছাড়লো না। ঊর্মি দরজা খুলতেই ইব্রাহিম ভেতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো। কোমরে দু হাত চেপে বলল-
“ দরজা খুলতে চাইছিলে না কেনো? সমস্যা কি? ”
“ আপনি এ রুমে আসলেন কেনো? ”
“ আমার বউয়ের কাছে আমি আসতে পারবো না?”
“ সব সময় আসতে পারবেন না। সামাজিক স্বকৃীতি নেই আমার। ”
“ পেতে কতক্ষণ? শরিয়ত মোতাবেক ই বিয়ে হয়েছে আমাদের। আর সব সময় আসি কই? সব সময় আসার মতো পরিস্থিতি থাকে? ”
ঊর্মি গিয়ে বিছানায় বসলো।
“ এখন যান আপনার রুমে। কেউ দেখে ফেললে বাজে হবে। ”
“ দেখবে না কেউ। সবাই ঘুমে। ”
“ এসেছেন কেনো? ”
“ বউ জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে সেজন্য। ”
ঊর্মি বুঝতে পেরে রাগী চোখে তাকালো।
“ একদম না। আপনি যান তো। ”
ইব্রাহিম এসে জাপ্টে জড়িয়ে ধরলো ঊর্মি কে। ঊর্মি ইব্রাহিমের মাথার চুল খামছে ধরে বলল-
“ পাশা ভালো হবে না কিন্তু বলে রাখছি। ”
“ খারাপও তো হতে দিচ্ছ না। ”
“ আপনি তো খারাপই। ”
“ তোমার কাছেই তো। কথা বাড়িও না তো। মেয়েরা এমন কেনো হু? বরের কথা শুনে না। একদম বাঁধা দিবা না। ঘুমাবো শান্তি মতো। সো বিহেভ ইউর ওয়াইফি সেল্ফ। ”
ভোরের আগে ইব্রাহিম তার নিজের রুমে চলে আসে। আজান কানে আসতেই কিছুক্ষণ পর ঊর্মি নিজের বাড়ি চলে আসে। গোসলঘরে গিয়ে গোসল করে ওজু করে বের হয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে ফের শুয়ে পড়ে।
ইতি বেগম বোনের বাসায় আসতেই জানাতে পারলো তার বোন কেনো এত তড়িঘড়ি করে আসতে বলল। জুনায়েদ কানাডার এক কোম্পানি তে জব করে। এসেছে ছুটিতে। ইতি বেগমের বোন চাইছে এই ছুটিতে জুনায়েদের বিয়ে টা দিয়ে দিতে। আর পাত্রী হিসেবে সে ঊর্মি কে চাইছে। ইতি বেগম সহসা নাও করতে পারলো না বোন কে।
দুদিন পর বাড়ি ফিরে ইমন কে ফোন করলো।
ইমন মেসের বাহিরে টঙের দোকানে বসে চা খাচ্ছিল। মায়ের ফোন পেয়ে রিসিভ করে কানে নিয়ে বলল-
“ হ্যাঁ মা বলো। ”
“ ভালো আছিস? ”
“ হ্যাঁ তোমরা? কোনো অসুবিধে হচ্ছে না তো? ”
“ আছি ভালো আমরা। কোনো অসুবিধে হয় নি। তোকে একটা কথা বলার ছিলে রে। ”
“ হুমম বলো। ”
“ চাকরির কিছু হলো? ”
“ না মা খুঁজছি এখনও। ”
“ তোর খালা না একটা প্রস্তাব রেখেছে ঊর্মির জন্য। ”
ইমন ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো-
“ কিসের প্রস্তাব? ”
“ তোর খালা জুনায়েদের সাথে নিতে চায় ঊর্মি কে। জুনায়েদ কে তো তুই চিনিসই। ভীষণ ভালো ভদ্র সভ্য একটা ছেলে। ইনকামও ভালো করছে। তুই যেমন চেয়েছিলি তেমন টাই জুনায়েদ। ঊর্মির এইচএসসি শেষ হলে ঊর্মি কে সাথে করে জুনায়েদ কানাডা নিয়ে যাবে। ততদিন সে এখানেই পড়াশোনা করবে। আমার কাছে থাকবে। তোর কি মতামত এতে? ”
“ তুমি কি ঊর্মির বিয়ের কথা বলছো? ”
“ হুমম। ”
“ মা ঊর্মির তো বয়স হয় নি বিয়ের। পড়াশোনা করছে করুক না। ”
“ যথেষ্ট হয়েছে বিয়ের। মেহরিন কি বিবাহিত না? স্বামীর সংসার করছে না সে? তোর তো চাকরিটাও চলে গেছে বাপ। ওরা কোনো যৌতুক চায় নি। তুই কবে না কবে চাকরি পাবি তার তো ঠিক নেই। ঊর্মি কে অন্তত একটা ভালো ছেলের হাতে তুলে দিতে পারলে আমি তুই দুজনেই নিশ্চিন্তে থাকতে পারবো। ”
“ কিন্তু মা..”
“ কোনো কিন্তু টিন্তু বলিস না। তোর খালার সাথে কথা বলিস। না করিস না বাপ। জুনায়েদ নিজ থেকে চাইছে ঊর্মি কে। ভালো থাকবে আমাদের ঊর্মি দেখিস। ”
দাহশয্যা পর্ব ৭২
ইমন চিন্তিত হয়ে গেল। আসলেই তার চাকরি বাকরি নেই। কবে পাবে তারও ঠিক নেই। জুনায়েদ নিঃসন্দেহে ভালো ছেলে। কোনো বাজে রেকর্ড নেই। ঝামালে বিহীন ছেলে। না করার কোনো কারন তো ইমন দেখছে না। রাজি হয়ে যাওয়াই কেনো যেন শ্রেয় মনে হলো ইমনের।
“ ঠিক আছে,কথা বলে দেখবো। যদি ঊর্মির আপত্তি না থাকে তাহলে আমার ও নেই। ”
“ ঊর্মির আপত্তি কেনো থাকবে? আমরা যেখানে দিব সেখানেই তো যাবে। তুই কথা বলিস। ”
“ ঠিক আছে। ”
