দিগন্তবেলার প্রেমান্দোলন পর্ব ৩৩
আফরোজা আশা
‘ তোর চোখমুখের অবস্থা এরকম কেনো? দেখে মনে হচ্ছে কেঁদেছিস। ’
নিচে নামতেই বেলার চোখমুখ ভালোভাবে পরোখ করে প্রশ্ন ছুড়লো বৃষ্টি। বেলা ধপ করে বৃষ্টির পাশে বসলো।
‘ কাঁদবো কেনো? দিশা আপুর ঘুম মারাত্মক কড়া। ডাকতে ডাকতে আমার চোখমুখের অবস্থা খারাপ করে ফেললাম তাও ভাঙাতে পারলাম না। ’
মিতালী বেলার কাছে এসে ওর মাথায় আদর করতে করতে বলল,
‘ ওটা ওরকমই। ঘুমালে আর দিন-দুনিয়ার হুশ থাকে না। এতো কষ্ট করতে গেলি কেন? নাজেহাল হয়ে এলি শুধু শুধু। ’
বেলা আড়চোখে ড্রয়িং স্পেসের পুরোটাতে নজর বুলালো। দিগন্তেরন্তের ছায়ারও দেখা নেই। একটা স্বস্তির শ্বাস টেনে আরেকটু আয়েস করে বসলো। উপর থেকে সদ্য ঘুম ভাঙা দিশা জবুথবু পায়ে হেঁটে এলো। পেছন থেকে বেলার গলা দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে ম্যাড়ম্যাড়ে গলায় বললো,
‘ কখন এলি? আমাকে ডাকবি না। রেজাল্টে তো কোঁপ মেরেছিস। চল এখন ট্রিট দিবি। ’
বেলা অসহায় মুখে বলল, ‘ ডাকলাম তো কত করে! তোমার যে ঘুম বাবাহ! চুরি করে নিলেও টের পাবা না। ’
বেলাকে ছেড়ে মেকি হাসলো দিশা। মাথা চুলকিয়ে ক্যাবলার মতো বললো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
‘ ডেকেছিলি? আসলে ঘুমের মাঝে স্বপ্নের সাগরে ভেসে যাই তো তাই কিছু টের পাই না রে। ’
দিশার বলার ভঙ্গিমা দেখে মিতালী, বৃষ্টি, বাণী আর মাইশা হেসে দিল। এদিকে বেলা মনে মনে খুশিই হলো। দিশা যেহেতু কিছু টের পায় নি তাহলে এতোক্ষন যা যা করেছে সেসবের কিছুই জানে না।
মাল টা বানালি
কেন জল টা মেশালি
তোকে দেখে গাইছে এ মন রিমিক্স কাওয়ালি
রিমিক্স কাওয়ালি প্রেমের
রিমিক্স কাওয়ালি
গানের আওয়াজে বিরক্ত হলো দিগন্ত। চেঁচিয়ে উঠল,
‘ এই গান থামা। ’
দিগন্তের চিরচিরে বিরক্ত দেখে পৈশাচিক শান্তি পেল রায়হান। গান থামার বদলে আরো জোরে জোরে বাজতে শুরু করলো। ক্লাবের ছেলেগুলো উড়াধুরা নাচছে। হাতের ক্যানটা শেষ করে বিয়ারের আরেকটা ক্যান তুলে নিল দিগন্ত।
রায়হান ওর পাশে এসে গলা ছেড়ে গানের সাথে তাল মিলিয়ে সুর ধরলো,
ফুরশেতে তোকে বানিয়েছে আলি…
তোকে দেখে গাইছে এ মন রিমিক্স কাওয়ালি
ঠুমকা লাগালি রুপের বিজলি গিরালি
তোকে দেখে গাইছে এ মন রিমিক্স কাওয়ালি
তোকে দেখে হায় হায় তোকে দেখে
তোকে দেখে গাইছে এ মন রিমিক্স কাওয়ালি
মাত্রাতিরিক্ত বিরক্তি নিয়ে হাতের ক্যানটা রায়হানের দিকে ছুড়ে মারলো দিগন্ত।
‘ গান থামাতে বলেছি না। এক অশান্তিতে পড়ে আছি আরেক অশান্তিময় গান জুড়ে দিয়েছিস। হারাম’জাদার দল! ’
রায়হান ক্যানটা ক্যাচ ধরে ভ্রুঁ নাচিয়ে বলল,
‘ কোথায় অশান্তি হচ্ছে একবার বল ভাই। এখনি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। বেস্ট চিকিৎসা দিবে। ’
দিগন্ত ত্যাড়া গলায় জবাব দিল,
‘ চুদুর-বুদুর আলাপ মারাও!’
‘ নাহ! চল উঠ। তোকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতেই হবে। চোখ-মুখ ভালো ঠেকছে না। ভেতরে মনে হয় বিরাট অসুখ ধরিয়েছিস। ’
দিগন্ত বসা থেকে উঠে রায়হানের পায়ে জোরে লাথি বসালো। রায়হান চোখ-মুখ কুঁচকে বললো,
‘ সবসময় আমার সাথে লাথা-লাথি করিস কেন, ব্যাটা? আমি তোর শুভাকাঙ্ক্ষী, বউ না। পা সামলায় রাখবি এখন থেকে। ’
বলতে না বলতে আবারো একই জায়গায় লাথি পড়লো। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
‘ শালা ইতর! এই পা নিয়ে বউ খুঁজতে যাবো কাল। আজ ভেঙ্গে গেলে তুই আজীবন বেলার থেকে দূরে ভাগবি আর অশান্তিতে ভুগবি। ’
দিগন্ত গম্ভীর গলায় বললো,
‘ কোথায় যাবি? ’
‘ চট্টগ্রাম। কাল বউ নিয়েই ফিরবো। পুরা চট্টগ্রাম তন্ন-তন্ন করে খুঁজবো। প্রয়োজন পড়লে টর্চ লাইটসহ তোকেও নিয়ে যাবো। ’
‘ যা কিছুই নে, বউ পাবি না। ’
ব্যাথাতুর মুখে ভ্রুঁ কুঁঞ্চিত হলো রায়হানের। দিগন্তের দিকে প্রশ্ন ছুড়লো,
‘ কেনো পাবো না? ’
ভাব গম্ভীর গলায় পকেটে হাত গুটে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে দিগন্ত বলল,
‘ আমি বলেছি তাই। আগে নিজের ক্যারিয়ার গোছা তারপর বউ এর দেখা পাবি। ’
অবাক হলো রায়হান। বিস্মিত গলায় বলল,
‘ কি বলছিস? ফর দ্যা ফার্স্ট টাইম দিগন্ত তালুকদার কাউকে বলছে ক্যারিয়ারের কথা! ’
দিগন্ত একটা বড় শ্বাস টেনে বলল,
‘ বলছি। গুন্ডামি করে বউ পালতে চাইলে সারাজীবন হারকেন দিয়ে খুঁজেও বউ পাবি না। ’
‘ তুই হঠাৎ আমার ক্যারিয়ার নিয়ে পড়লি কেনো? ’
দিগন্ত ঘাড় ঘুরিয়ে রায়হানের দিকে তাকিয়ে বলল,
‘ তোর উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের উপর আরেকজন ডিপেন্ড করবে। নিজের জীবন না গোছালে,তার জীবন গুছিয়ে দিতে পারবি না। ’
ভাবুক হলো রায়হান। দিগন্তের কথার মানে বুঝতে সময় নিল। দিগন্ত ওর হাত থেকে বিয়ারের ক্যানটা টেনে নিয়ে বাকি ছেলেদের সাথে আড্ডা দেওয়া শুরু করলো। আপাতত সব ভুল এসবেই ডুবিয়ে রাখলো নিজেকে।
সারাদিনের ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরলো রহমান। বেতের সোফায় গা ছেড়ে হাঁক ছুড়লো বেলা আর বৃষ্টির নাম ধরে। আমেনা ঠান্ডা পানির গ্লাস হাতে রহমানের কাছে আসলো। রহমান পানি পান করে গ্লাস আমেনার হাতে দিতে দিতে বলল,
‘ মেয়েরা এলো না যে। ঘুমিয়ে পড়েছে? ’
আমেনা জবাব দিল, ‘ ওরা আপার বাড়ি গিয়েছে। সন্ধ্যার আগে আসতে চেয়েছিল কথা কথা কিন্তু আপা ছাড়ে নি। গিয়েছে যখন…’
রহমান চোখ-মুখের রঙ পাল্টাতে সময় নিল না। রাগী স্বরে বলল,
‘ আমাকে না জানিয়ে কেন গিয়েছে? ’
রহমান এহেন গলায় ভরকালো আমেনা। শান্ত সুর হঠাৎ এতো কড়া হয়ে উঠল কেন তা বুঝলো না। ধীর গলায় বললো,
‘ বেলা যেতে চাইলো তাই আমি বৃষ্টি সাথে পাঠালাম। সাথে মিষ্টি নিয়ে গিয়েছে। আপনাকে তো যেতেই হতো। ওরা..’
রহমানের ভেতরে আগুন জ্বলছে। এতোদিন পর গিয়েছে, এখন গিয়ে জোর করে ওদের নিয়ে এলে বোনের সাথে ঝামেলা বাঁধবে। তাছাড়া ওটা এখন মেয়ের শ্বশুড়বাড়ি। হুট করে গিয়ে বেলাকে নিয়ে এলে ওবাড়ির লোকেরা ভালো চোখে নিবে না। দিগন্তের কথা ভেবে মাথায় দুঃচিন্তারা জটলা পাঁকতে শুরু করলো। ধমকের স্বরে আমেনাকে বলল,
‘ আমার কাজ আমি বুঝবো। আর কখনো যদি দেখেছি আমাকে না বলে বেলা ওবাড়ি গিয়েছে তাহলে তোমার কপালে শনি আছে। মেয়ে যতদিন বাড়িতে আছে ততোদিন ওর খেয়াল রাখো ঠিকভাবে। রেজাল্ট দিয়ে দিয়েছে। কদিন পরে ওকে রুমানার ওখানে পাঠিয়ে দিবো। ’
আমেনার বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘ পাঠিয়ে দিবেন মানে? কি বলছেন? ’
‘ বেলা রংপুর ক্যান্টনমেন্ট এ পড়বে। ’
রহমানের কথা শুনে আমেনা আকাশ থেকে মাটিতে আছাড় খেলো যেন। কিছুটা ভীতি কন্ঠে এনে বলল,
‘ বেলা তো ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এ পড়তে চায়। রংপুর কেনো? মেয়ে মানুষকে এতো পড়তে হবে না। আমার মেয়ে আমার কাছে থেকে যেটুকু পড়বে…’
আমেনার কথা সম্পূর্ণ করতে দিল না রহমান। চোখ গরম করে তার দিকে তাকালো। ভারী গলায় বললো,
‘ বাকি দুই মেয়েকে নিজ স্বপ্ন বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলাম। ওরা যতটুকু চেয়েছিল ওদেরকে এগিয়ে দিয়েছি। বেলাও যা চায় তাই দিবো কিন্তু আমার কথার বাইরে যেতে পারবে না। ওকে রংপুর থেকেই পড়া কমপ্লিট করতে হবে। ’
আমেনার মাতৃ-হৃদয় সায় দিল না রহমানের কথায়। চুপচাপ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলো। বাড়তি বয়সে মেয়েকে দূরে রাখার মানসিকতা তাদের কোনোকালেই ছিল না। রহমান পাটোয়ারীকেও তার ভালোভাবে চেনা। কোনো কারণ ছাড়া বেলাকে এতোদূরে খালার বাড়িতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত এমনি নেয়নি।
সাদা শার্টটা চোখের সামনে মেলে ধরে সরু চোখে তাকিয়ে আছে দিগন্ত। ইচিংবিচিং অঙ্কন আর লাল রঙের দাগের ছড়াছড়ি। বুকের কাছে দুটো ঠোঁটের চিহ্নের দিকে নজর আটকালো। কিছুক্ষন চেয়ে থেকে স্বল্প বিস্তর হাসলো আনমনেই। অতঃপর ভালোভাবে ভাজ করে কাবার্ডের সবচেয়ে উপরের তাকে গুছিয়ে রেখে দিল।
পা টিপে টিপে দিগন্তের ঘরের সামনে এলো বেলা। হাত-পা কাঁপছে। মিতালী ওর হাতে কফি ধরিয়ে দিয়েছে। আসবে না বলে কত গাঁইগুঁই করলো কিন্তু কাজে দিল না। কফি হাতে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এতো রাতে মানুষ কফি কিভাবে খায় মাথায় এলো না বেলার। এখন খেলে কি ঘুমাতে পারবে? প্রশ্নটা খুব করে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ভাবনার মাঝে হঠাৎ সম্মুখের দরজা খুলে যাওয়াতে হকচকিয়ে গেল। মাথা তুলে সামনের বিশালদেহী পুরুষটাকে দেখে মাথা ঘুরতে লাগলো বেলার। ভয়ে না, দিগন্তের লুক দেখে মাথা ঘুরছে ওর। কালো টি-শার্ট আর ট্রাউজার পড়া ফর্সা দেহী সুদর্শন পুরুষ। হাতের মাংসল পেশিগুলো দৃশ্যমান। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। ঢোক চাপার সময় গলার মাঝের অংশটাতে নজর আটকাতেই বেলার মাথা ঘুরার বেগ দ্বিগুণ বেড়ে গেল বেলার।
হাতে থাকা কফির মগটা কাঁপছে ভীষণ ভাবে। দিগন্ত দুই ভ্রুঁর মাঝে ভাজ ফেলে হেলেতে-দুলতে থাকা বেলাকে দেখছে। গরম কফি ওর হাতের উপর পড়তে নিলে কফির মগটা ঝট করে নিজের হাতে টেনে নিয়ে ধমকে উঠল,
‘ এই বেয়াদব! এরকম দুলছিস কেনো? ’
বেলা মাথায় হাত রেখে বলল, ‘ আমি দুলছি না তো। আমার আশপাশের সবকিছু দুলছে। ’
‘ কি? ’
বলতে না বলতেই শরীরের ভর ছেড়ে পড়ে যেতে চাইছে বেলা। দিগন্ত ঝট করে এক হাত বাড়িয়ে ওকে ধরলো। নিজের দিকে টেনে এনে ঘাবড়ানো স্বরে বলল,
‘ বেলা! শরীর খারাপ লাগছে? ’
বেলার কান ভারী হয়ে এসেছে। সামনের সবকিছু কালো দেখছে। নিভুনিভু চোখে শুধু শুনতে পেল দিগন্ত কিছু বলছে। বেলাকে চোখ বন্ধ করতে দেখে অস্থির হলো দিগন্ত। একটু হেলে কফির মগটা ফ্লোরে রেখে দুহাতে ভালোভাবে ধরলো ওকে। গালে হাত রেখে ডাকলো কয়েকবার, বেলা অচেতন হয়ে পড়েছে। সময়ব্যয় না করে বেলাকে এনে বেডে শুইয়ে দিল। চোখ-মুখে পানির ছিটা দিয়ে আরো কিয়ৎক্ষন ডাকলো ওকে। মিনিট পাঁচেক পর আস্তেধীরে চোখ খুললো বেলা। খুলেই আবার বুজে নিল। দিগন্ত অস্থিরচিত্তে বললো,
‘ বেলা, চোখ খোল। কেমন লাগছে বল আমাকে। ’
বেলা চোখ বন্ধ রেখে ধীর আওয়াজে বললো,
‘ আপনাকে দেখে মাথা ঘুরছে। আপনি এতো সেজেছেন কেনো?’
এহেন পরিস্থিতিতে বেলার কথা শুনে দিগন্ত বোকা বনে গেল। মুখ কুঁচকে নিয়ে ধমকের সুরে বলল,
‘ হোয়াট? কি বলছিস? ’
‘ আপনি বাড়িতে এরকম সেজেগুজে বেড়ান? কই, আগে তো এতো সুন্দর ছিলেন না। এখন আপনাকে দেখতে এতোটা সুন্দর লাগে কেনো? মাইশা আপুও এবাড়িতে থাকে। আপনি এখন ইচ্ছে করে সেজেগুজে বেড়ান তাই না! ’
বেলার কথা শুনে দাঁতে দাঁত পিষলো দিগন্ত। হুট করে ওর চেতনা হারাতে অনেকটা ভয় পেয়েছিল। একটা বড় শ্বাস টেনে নিজের মধ্যে থাকা উদ্বিগ্নতা ঝেড়ে ফেললো। অতঃপর বেলার হাত ধরে ওকে এক ঝটকায় শোয়া থেকে বসিয়ে দিল। হাতে টান খেয়ে চোখ খুললো বেলা। দিগন্তের দিকে চোখ পড়তেই অবাক হলো। চোখজোড়া লাল হয়ে গিয়েছে। একটা শুকনো ঢোক গিলে বললো,
‘ একটা কথা বলবো? ’
দিগন্ত ধমকে বলল, ‘ না। বের হো রুম থেকে। তোকে না বলেছিলাম আমার আশেপাশে আসবি না। ’
দিগন্ত ওর কথা শুনতে চাইছে দেখে বেলার জেদ বাড়লো। গাল ফুলিয়ে বলল,
‘ আমি বললাম না একটা কথা বলবো। বলবো মানে বলবো-ই। ’
দিগন্ত শক্ত কণ্ঠে বলল, ‘ তোর মতো বেয়াদব মেয়ের কোনো কথা আমি শুনবো না। ’
‘ আমি তাও বলবো। ’
দিগন্ত গরম দৃষ্টিতে তাকালো বেলার দিকে। বেলাও শক্ত চোখে দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছে। জেদি গলায় বলতে শুরু করলো,
‘ আপনাকে আমার ভালো লাগে। আপনি মাইশা আপুর থেকে দূরে থাকবেন। ’
গরম চোখজোড়া নিভে গেল দিগন্তের। দুহাত বুকে চেপে ভাব-গম্ভীর গলায় বললো,
‘ তোর কথায়? ’
বেলা সোজা উত্তর করল, ‘ হ্যাঁ ’
‘ তোর বাপ আবার আমাকে বলেছে তোর থেকে দূরে থাকতে। আমি দূরেই আছি। বাপ-মেয়ে দুটোর এতো সাহস! আমার উপরে হুকুম চালানোর চেষ্টা করিস। ’
বেলা চোখ টলমলে হলো। ত্যাড়া গলায় বলল,
‘ আব্বু কিছুই বলে নি। আপনি মাইশা আপুর জন্য ইচ্ছে করে এসব শোনাচ্ছেন আমাকে। ’
কড়া স্বরে আওড়ালো দিগন্ত, ‘ আরেকবার মাইশাকে টেনে কিছু বললে থাপড়ে দাঁত নড়িয়ে দেবো। ’
চোখের পানি ছেড়ে দিল বেলা। ফুঁসে উঠে হাঁটু গেড়ে দিগন্তের কাছাকাছি এলো। ওর বুকের কাছে টি-শার্ট একহাতে জোরে মুঠো করে ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
‘ বলেছি না, আপনাকে আমার ভালো লাগে। ভালো লাগে মানে বুঝেন না? ভালো লাগে মানে ভালো লাগে। কেনো মাইশা আপুর সাথে আপনার বিয়ে দিতে চেয়েছিল দাদী? মাইশা আপু ভালো মেয়ে না। আপনার সাথে মানাবে না। একদম বাজে লাগবে। বাজে মানে বাজে, খুব-ই বাজে লাগবে। আমি ভালো মেয়ে। ’
দিগন্তবেলার প্রেমান্দোলন পর্ব ৩২
কথাগুলো এক নিশ্বাসে বলছে আর কাঁদছে বেলা। শেষ হতেই হেঁচকি উঠে গেল। দিগন্ত নিরেট চোখে বেলার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। মুখভঙ্গিমা একদম শান্ত-স্বাভাবিক। বেলা ওকে ছেড়ে ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেল। বেলা চলে যেতেই দিগন্তের অধরে আবারো খেলে গেল স্বল্প হাসির ঝিলিক।
