দিগন্তবেলার প্রেমান্দোলন পর্ব ৪৪
আফরোজা আশা
প্রথম দেখাতে আমি প্রেমে পড়েছি তোমার
দুই চোখে আন্ধার দেখি, ঘুম আসে না আমার
রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে শুধু ভাবি,
তোমায় কীভাবে পাবো আমি
তোমার ওই চোখেতে হারিয়ে যায় আমার এ মন
ঘন কালো চুল দেখে পাগল যে আমি এখন
হৃদয়ের কথা আমি বলি কারে? আসে না কাছে আমি শুধু ভালোবাসি যারে। অহনা, একটু কথা কহো না
অহনা,পেছন ফিরে চাহো না।
অহনা, একটু তুমি হাসো না।
অহনা, কেন ভালোবাসো না?
ভরকে গেল মাইশা। দিশার দিকে অবাক চোখে চেয়ে বলল,
‘ অহনা? কোন অহনার জন্য গাইছো? ’
বেসুরো গলার গান খনিকের জন্য থেমে গেল। ঠোঁট কামড়ে মাইশার দিকে ফিরলো দিশা। দুপাশে না ভঙ্গিতে মাথা নাড়িয়ে বলল,
‘ আরে না! ভুল করেছি। গানের তালে তালে বলে ফেলেছি আরকি। থামো এবার ঠিকভাবে গাইছি। ’
প্রথম দেখাতে আমি প্রেমে পড়েছি তোমার
দুই চোখে আন্ধার দেখি, ঘুম আসে না আমার
রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে শুধু ভাবি,
তোমায় কীভাবে পাবো আমি
তোমার ওই চোখেতে হারিয়ে যায় আমার এ মন
ঘন কালো চুল দেখে পাগল যে আমি এখন
হৃদয়ের কথা আমি বলি কারে?
আসে না কাছে আমি শুধু ভালোবাসি যারে।
ফাহাদ, একটু কথা কহো না
ফাহাদ, পেছন ফিরে চাহো না
ফাহাদ, একটু তুমি হাসো না।
ফাহাদ, কেন ভালোবাসো না?
কপাল চাপড়ালো মাইশা। দিশা গান শেষ করে বলল,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
‘ আমার ভাই লাখে একটা রে লাখে একটা। হীরার টুকরা একদম। ইসস! বেলাকে কেমন পাগল বানিয়ে দিয়েছে। শুধু শুধু মাঝখান থেকে আমার জান পাখিটা ছ্যাকা খাইলো। ’
দিশার কথা শুনে চোখ কপালে উঠলো মাইশার। বিস্মিত কণ্ঠে বলল,
‘ জাআআন? ’
কিঞ্চিৎ লজ্জা পেল দিশা। মুখটা কাচুমাচু করে বলল,
‘ ওই আরকি! ফাহাদকে ভালোবেসে ডেকেছি। উফ! শালার হাদা পুরুষ। আমার মতো রত্ন রাখে কোথায় চোখ দিতে গিয়েছিল। এখন হুদাহুদি কষ্ট পাইলো না। তার কষ্টে আবার আমিও কষ্ট পেলাম। দেখছিলা না? পুরা সময়টা আমার মুখ কেমন শুকায় গেছিলো। দুঃখে-কষ্টে জান খুলে হাতে আসছিল। ’
ফিক করে হেসে উঠলো মাইশা। দিশা যখন বররূপী ফাহাদকে দেখে তখন একদম শান্ত হয়ে গিয়েছিল। থমথমে চোখমুখ নিয়ে শুধু দোয়া করছিল বিয়েটা যেন না হয়। বিয়ে ভেঙে গিয়েছে বলে এখন আবার আগের ধূরন্দর রূপে ফিরে এসেছে ও। বেলা চলে যাওয়ার কিছুক্ষন পর ফাহাদরাও চলে গিয়েছে। মাইশা, বৃষ্টি আর দিশা বেলার রুমে বসেছিল। আমেনা ডেকেছে বলে বৃষ্টি বাইরে গিয়েছে। রুমে এখন দিশা আর মাইশার উপস্থিতি। কথার ফাঁকে দিশা কি ভেবে চঞ্চলে হাতে ফোন তুলে ফেসবুকে ঢুকলো। ফাহাদের আইডি সার্চ দেওয়ার আগে সামনে এলো একটা পোস্ট।
‘ অধিকার যেখানে অস্তিত্বহীন, অভিমান সেখানে হাস্যকর। ’
( কালেক্টেড লাইন।)
পোস্টটা মাত্র ছেড়েছে ফাহাদ। ফাহাদের কষ্টে দিশা একটু কষ্ট পেতে চাইলো কিন্তু পারলো না। কেনো যেন হাসি পেল ওর। তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ওতো শত না ভেবে হাহা রিয়েক্ট দিয়ে দিল। পরক্ষণেই খেয়াল করলো শখানেক স্যাড রিয়েক্টের মাঝে দুটো হাহা রিয়েক্ট মাত্র। চেক দিল দিশা। চোখে পড়লো রিয়েক্ট দুটোর আইডি নাম। একটা ও, আরেকটা রায়হান। শব্দ করে হেসে উঠলো ও। স্ক্রিনটা মাইশার সামনে ধরে হাসতে হাসতে বলল,
‘ দেখো। আমার ছ্যাকাখোর জানটার পোস্টে আমাদের দুইজনের ভালোবাসা। ’
মাইশার দৃষ্টি পড়লো স্ক্রিনে৷ নাম দেখলো ‘ রায়হান শিকদার ’। সরু হয়ে এলো চোখমুখ। দিশাকে বাঁকা গলায় বলল,
‘ ক্রাশের বিয়ে ভেঙেছে দেখে তুমি হাসছো, ব্যাপারটা মানানসই। কিন্তু এই লোক এতো অভদ্র? অন্যের দুঃসময়ে কিভাবে মজা নিচ্ছে। ফালতু লোক! ’
মাইশার অসময়ে চেতে যাওয়া দেখে বোকা বনে গেল দিশা। হাসি মুখ চুপসে নিয়ে প্রশ্ন করল,
‘ তুমি এভাবে বললে কেনো? রায়হান ভাই যথেষ্ট ভালো মানুষ। দাদাগিরি করলেও সফট হার্টের। ’
দিশার মুখে রায়হানের প্রশংসা শুনতে ভালো লাগল না মাইশার। ভ্রুঁ কুঁচকে নিয়ে চুপ করে বসে থাকলো। দিশাও আর ঘাটলো না। ফাহাদের আইডি আবারো ঘাটতে শুরু করলো। দিনে কতবার এই আইডিতে ওর ঢু মারা হয় তার ইয়াত্তা নেই।
নিস্তব্ধতা চিরে সাদা-কালো মিশেলের জীপটা এগিয়ে চলছে। সন্ধ্যার প্রহর শুরু হয়েছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলো আলো ছড়িয়ে অন্ধকার কেটে রেখেছে। গাড়ির স্পিড খুব বেশি তুলেনি দিগন্ত। আস্তেধীরে চালাচ্ছে আর বেলাকে দেখছে।
এদিকে দিগন্তের বারবার তাকানোতে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে বেলার। কিছুক্ষন নড়াচড়া করে দুম করে বলে উঠল,
‘ চোখ রাস্তার দিকে রাখেন না। আমার কেমন যেন লাগছে। আপনি এভাবে টিজ করছেন কেনো? ’
শেষের কথাটা শুনে জোরে ব্রেক কোষলো দিগন্ত। বেলার দিকে চেয়ে বিরক্তি মাখা গলায় বলল,
‘ অসভ্য মেয়ে! আমার ভালো ব্যবহার তোর আর তোর বাপের সহ্য হয় না। আমি টিজ করছি তোকে? এই বেয়াদব! তুই ভালো হবি না? ’
দিগন্তের চেয়েও দ্বিগুণ বিরক্তি ভর করলো বেলার মাঝে। আড়াআড়ি করে বসে নাকের পাটা ফুলিয়ে বলল,
‘ আপনি লোকটা কেমন যেন! এতোদিন বলতেন বড় হবি না, এখন বলছেন ভালো হবি না। এক মুখে দুকথা। ’
বেলার ফেইস এক্সপ্রেসন দেখে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেললো দিগন্ত। কিছু সময় সরু চোখে তাকিয়ে থেকে আবারো আগের মতো গাড়ি চালানোতে মনোযগী হলো। অপরদিকে, বেলা ঠোঁট উল্টালো। এতোটুকু কথা বলে মন ভরেনি ওর। আরো কথা বলতে ইচ্ছে করছে। মুখ উসখুস করছে কিন্তু কি কথা বলবে খুঁজে পাচ্ছে না। কিছুক্ষন দিগন্তের মুখের দিকে চেয়ে থেকে ওকে ডেকে উঠলো,
‘ দিগন্ত ভাই, শুনেন। ’
বেলার দিকে তাকালো না দিগন্ত। না তাকিয়েই জবাব দিল,
‘ বলেন। ‘
বিস্তর হেসে বেলা বলল, ‘ জানেন কি করছি? ’
‘ কি করছেন? ’
দিগন্তের এতো সুন্দর কথা শুনে আহ্লাদে গদগদ হলো বেলা। সীটে দুপা তুলে আয়েস করে বসে চনমনে গলায় বলল,
‘ আমাকে যে সাইন করতে দিছিলো ওই কলমটা দেওয়ানির মুখে মারছি। ’
ঠোঁট কামড়ে কিঞ্চিৎ হাসলো দিগন্ত। পরক্ষণেই স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
‘ সাবাস নাদানের বাচ্চা। ’
সহসা মুখের হাসি গায়েব হলো বেলার। দিগন্তের এহেন সম্বোন্ধন একটুও ভালো লাগে না ওর। কয়েক পলক ঝাপটে বলল,
‘ এভাবে ডাকবেন না তো। ভালো লাগে না শুনতে। ’
‘ যেদিন তুই নাদানিপনা ছাড়বি সেদিন আর ডাকবো না। ’
‘ ছাড়বো না। ’
‘ আমিও ডাকবোই। ’
দিগন্তের সাথে না পেরে কথা বলার মুড চলে গেল বেলার। মুখ বেঁকিয়ে দিগন্তের বিপরীত দিকে হয়ে বসে রইলো।
কিছুটা সময় পর গাড়ি থামলো একটা বাড়ির সামনে। অপরিচিত জায়গায় গাড়ি থামানো দেখে প্রশ্ন করলো বেলা,
‘ এখানে থামালেন কেনো? ’
দিগন্ত একপলক বাড়িটার দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিল। সীটে মাথা হেলিয়ে বেলার দিকে তাকালো। অতঃপর একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে বলল,
‘ ভেতরে যাবি তুই। গিয়ে প্রত্যাশাকে নিয়ে আসবি। জুনায়েদ তালুকদার এখানেই আছে। বলবি, বাইরে আমি তোর জন্য অপেক্ষা করছি। প্রত্যাশাকে নিবি আর আসবি। দেরী করলে কিন্তু তোকে ফেলে রেখে চলে যাবো। ’
হঠাৎ বেলা কেন যেন থম মেরে গেল। দিগন্তের কথার পীঠে প্রশ্ন করলো না কোনো। গাড়ি থেকে নেমে সোজা বাড়ির ভেতরে চলে গেল। দারোয়ান দিগন্তকে দেখেই দরজা খুলে দিয়েছে। বেলা বাড়ির ড্রয়িংরুমে আসতেই মনার সাথে মুখোমুখি হলো। কিছুটা ঘাবড়ালো বেলা। মনা বেলাকে দেখে অবাক হলো। ওকে সোফায় বসিয়ে জিজ্ঞেস করলো এসময় এখানে কিভাবে এলো। এর মাঝে প্রত্যাশাকে নিয়ে জুনায়েদও সেখানে এলো। বেলাকে দেখে চোখমুখ থমথমে হলো। রহমান পাটোয়ারী তাকে ফিরিয়ে দিয়ে অপমান করেছে, সেটা মেনে নেয়নি এখনো।
বেলা বেশি কথা বাড়ালো না। দিগন্তের বলা কথাটা বলতেই উপস্থিত দুই ব্যক্তি ভরকে গেল। জুনায়েদ চুপ মেরে দাঁড়িয়ে থাকলো। কথা বললো না কোনো। অপরদিকে প্রত্যাশা দিগন্তের নাম শুনে জুনায়েদের কোল থেকে নেমে বাহিরের দিকে দৌড় লাগিয়েছে।
মনা ছলছল নেত্রে বেলাকে প্রশ্ন করলো,
‘ দিগন্ত পাঠিয়েছে তোমাকে? তোমার আব্বু তোমাকে ওর কাছে আসতে দিয়েছে? ’
বেলা ভনিতা না করে জুনায়েদকে শুনিয়ে শুনিয়ে দুপুরের সব ঘটনা বললো। বলা শেষ করে উঠে দাঁড়ালো। মনার কাছ থেকে তাড়াহুড়ো করে বিদায় নিয়ে বাইরে চলে এলো। বেলা চলে যেতেই এতোক্ষনের চেপে রাখা কান্নাটা বেরিয়ে এলো। সোফার কর্ণিশ ঘেষে বসে দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে ডুকরে কেঁদে উঠলো মনা। জুনায়েদ মনার কান্না দেখে ওকে ফেলে রেখে গটগট পায়ে রুমের দিকে গেল।
দিগন্তের কোলে বসে আছে প্রত্যাশা। দিগন্ত ওকে দুহাতের মাঝে আলগোছে আগলে ধরে কথা বলছে। বেলা গাড়ির কাছে আসতেই ইশারা করলো বসতে। দিগন্ত আর প্রত্যাশাকে দেখতে দেখতে গাড়িতে উঠল বেলা। দিগন্ত প্রত্যাশাকে কোলে রেখেই গাড়ি চালানো শুরু করলো। বেলা ওদের দিকে গভীরভাবে চেয়ে থেকে ডেকে উঠল,
‘ দিগন্ত ভাই। ‘
‘ হুম। ‘
কিছুটা ভার গলায় প্রশ্ন ছুড়লো বেলা,
‘ কে বেশি সুন্দর? বেলা নাকি প্রত্যাশা ? ‘
বেলার এহেন অযাচিত প্রশ্নে ভ্রুঁ গোটালো দিগন্ত। রাশভারি স্বরে বলল, ‘ আমি। ’
বেলার নাকের মাঝে কয়েক ভাজ পড়লো। ত্যাড়া লোক ভালো জবাব দিবেই না কোনোদিন। আর একটাও কথা বললো না। না তাকালো ওদের দিকে। দিগন্ত গাড়ি চালাচ্ছে আর প্রত্যাশার সাথে ধীর আওয়াজে কথা বলছে। খুব একটা ভালো লাগলো না বেলার। ওর ধারণা, প্রত্যাশাকে পেয়ে দিগন্ত হয়তো ওকে ভুলে বসেছে। মুখ আঁধার করে চুপ মেরে বসে থাকলো। এদিকে, দিগন্ত আড়চোখে গম্ভীরমুখো বেলাকে দেখে হাসলো। ছোট বাচ্চার সাথেও হিংসায় জ্বলছে বেলা পাটোয়ারী।
পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এসে থামলো দিগন্তের জীপ। বেলা কোনো কথা না বলে জীপ থেকে নেমে গটগট পায়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। দিগন্ত ওর কাজ দেখে বিরক্ত হলো। পরপরই চাবি ঘুরিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল। গাড়ির শব্দ পেয়ে পায়ের গতি থামলো বেলার। ঝট করে পিছু ঘরে চেঁচিয়ে উঠল,
‘ আরে আজব! গাড়ি ছাড়ছেন কেনো? আব্বু অপেক্ষা করছে তো। ’
দিগন্ত বাঁকা চোখে চেয়ে বললো,
‘ প্রত্যাশাকে নিয়ে ভেতরে যা। আর তোর বাপকে বল, এসে আমাকে নিয়ে যেতে। অপমান কম করে নাই। ’
বেলা আবার ঘুরে জীপের কাছে এলো। দিগন্ত প্রত্যাশাকে নামিয়ে ওর হাত ধরিয়ে দিল বেলার হাতে। বেলা দিগন্তের দিকে গোল গোল চোখে চেয়ে বলল,
‘ এতোটা পথ একা এলেন। এটুকুর জন্য আব্বুকে ডাকছেন। বিশ্বাস করেন দিগন্ত ভাই, আমাদের বাড়িতে ভূত টূত নেই। ’
বেলার বোকামিতে চুউউ শব্দ তুললো দিগন্ত। রাগী চোখে তাকাতেই প্রত্যাশাকে নিয়ে টুপ করে কেটে পড়লো বেলা। বাড়ির ভেতরে গিয়ে ড্রয়িংরুমে পেল রাসেল আর বাকিদের। কাজীসহ বসে চা খাচ্ছে তারা। রহমান তার রুমে আছে। বেলা ডাকার জন্য যাওয়ার আগে সেখানে এলো সে। বেলা জানালো দিগন্ত তাকে বাইরে ডাকছে। মেয়ের সাথে টু শব্দও করলো না রহমান। বেলকনি থেকে দেখেছে সব। বাইরে চলে এলো। দিগন্ত ফোন স্ক্রল করছে। রহমান ওর থেকে অনেকটা দূরত্ব রেখে বলল,
‘ আসো। ’
রহমানের গলা শুনে সেদিকে তাকালো দিগন্ত। তীর্যক হাসি ছুড়ে দিয়ে বলল,
‘ বাকি দুই জামাইকে এভাবে গাড়ি থেকে নামিয়েছিলেন? হাত ধরে, বাবা বাবা করে মুখে ফেনা তুলেন নি? ’
দিগন্তের কথা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো রহমান। গম্ভীর আওয়াজে বলল,
‘ ভেতরে গিয়ে আমাকে উদ্ধার করেন বেকার বাবাজীবন। ’
দিগন্ত ফোন পকেটে পুড়ে জীপ থেকে নামলো। রহমানের পাশাপাশি হেঁটে যেতে যেতে ডাকলো,
‘ পাটোয়ারী সাহেব? ’
হাঁটা থামলো রহমান। ক্ষুব্ধ নয়নে দিগন্তের দিকে চাইলো। তারপর আবার হাঁটতে শুরু করলো। দিগন্ত হালকা কেঁশে পুনরায় ডাকলো,
‘ শ্বশুড় আব্বা। ’
হাঁটতে হাঁটতে জবাব দিল রহমান, ‘ বলেন। ’
দিগন্ত মাত্রাতিরিক্ত ভাব নিয়ে বললো,
‘ বেকার বলে খোঁচান সব সময়। আমার ব্যাংক ব্যালেন্স জানেন? ’
সঙ্গে সঙ্গে জবাব এলো রহমানের কাছ থেকে,
‘ রানিং কোনো কাজ নাই, চাকরি নাই। বসে খেলে রাজার ভাণ্ডারও ফুরিয়ে যায়। ’
দিগন্ত হাত দিয়ে চুলে ব্যাকব্রাশ করতে করতে বলল,
‘ বউ-বাচ্চা নাই,প্যারা নাই, চাকরি করে কি করতাম। বউ-টউ হলে তারপর নাহয় দেখা যাবে। ’
রহমান ভার গলায় বলল, ‘ আমার ছোট মেয়েটাকে পুরো বশ করে নিয়েছেন। পৃথিবীতে কি মেয়ের অভাব পড়েছিল? ’
স্বাভাবিক উত্তর দিগন্তের, ‘ মেয়ে আছে অনেক কিন্তু বেলা পাটোয়ারী একটাই। ’
রহমানের বুক চিরে বেরিয়ে এলো দীর্ঘশ্বাস। দিগন্তের দিকে ঘাড় কিঞ্চিৎ কাত করে অত্যন্ত বিরস গলায় বললো,
‘ দোয়া করি, আপনার জন্য আমার আদরের মেয়ে, আমার বিরুদ্ধে গিয়ে আজ যে সীমা লঙ্ঘন করলো, সেরকম দিন আপনার ভাগ্যে না জুটুক। আমি সয়ে নিয়েছি কারণ মেয়ের জীবন বাঁচানো বেশি বড় মনে হয়েছিল আমার জন্য। কিন্তু আপনি সইতে পারতেন কিনা সন্দেহ! ‘
দিগন্তবেলার প্রেমান্দোলন পর্ব ৪৩ (২)
থেমে গেল দিগন্তের পদযুগল। রহমান হাঁটছেই, দিগন্ত যে দাঁড়িয়ে পড়েছে খেয়াল করেনি সে। এদিকে দিগন্ত কেমন স্থির, ঠান্ডা চোখে রহমানের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। রহমানের কথার গভীরতা উপলব্ধি করতে চেয়েও, করতে ব্যর্থ হলো। ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো।
