Home দুইজনাতেই দুইজনাতেই পর্ব ১৪

দুইজনাতেই পর্ব ১৪

দুইজনাতেই পর্ব ১৪
অলকানন্দা ঐন্দ্রি

বাইরের পরিবেশটা আজ শীতল। ঝিরঝিরে বৃষ্টি হচ্ছে বাহিরজুড়ে। আকাশে কালো মেঘেদের চোখে মিলছে তখনো৷ সাক্ষ্যরা তখনও বাসাতেই৷ আজ দ্বিতীদের বাসায় যাওয়ার কথা আছে তাদের। দ্বিতীর বাবাই বলেছে সরাসরি বসার জন্য। আর এইটুকুও বলেছে যে দ্বিতী অবশ্যই রাজি হবে। ও এতোটাও অবাধ্য নয়। শুধু ছোট থেকে মা বাবার আদরে আদরে বড় হয়ে একটু তিড়িং বিড়িং করে এই। সাক্ষ্য অবশ্য সারা সকালটা বাইরেই ছিল। দুপুরের একটু আগে যখন বাসায় তখন সাজিয়া আফরোজই বললেন,
” এত দেরি করে ফিরলি কেন? দ্বিতীদের বাসায় যাব বললাম না? মেয়েটাকে রাজি করাতে হবে তো। ভালোই ভালো তোদের বিয়েটা হলে বাঁচি। ”
সাক্ষ্য শুনল । ভ্রু বাঁকিয়ে বলল,

“ তো? আমি কেন যাব? ”
উপরে এটা বললেও অথচ এই সাক্ষ্যই মনে প্রাণে চায় তার বউ রাজি হোক এই আনুষ্ঠানিক বিয়েতে৷ তারপর একান্ত তার হয়ে এই বাড়িতে পা রাখুক। তারপরই এত বাড়াবাড়ি করা দ্বিতীকে সে নিজ হাতে গুঁছিয়ে নিবে। অবাধ্যতা করাটাও খুব ঠান্ডা মাথাতেই সামলাবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা! সাক্ষ্যর মা ছেলের এমন নিরাশ ভাব দেখে বললেন,
” তুই যাবি না মানে? তোরই তো বিয়ে। দ্বিতীকে রাজি করাতে আমরা বাসার সবাই যাচ্ছি আর তুই বলছিস তুই যাবি না? আশ্চর্য! ”
সাক্ষ্য শুনল। সাথে সাথেই ভ্রু বাঁকিয়ে বলল,
“ তোমার বান্ধবীর মেয়েকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য আবার পুরো পরিবার নিয়ে ঐ বাসায় যেতে হবে? বাব্বাহ! তোমার বান্ধবীর মেয়ে তো পুরোই ভিআইপি পার্সন আম্মু!”
সাজিয়া আফরোজ ছেলের কথা শুনে পিঠে মার বসালেন সঙ্গে সঙ্গেই। বললেন,
“ দূর সাক্ষ্য। মেয়েটাকে কেন এমন করিস কিজানি। কি শত্রুতা তোর ঐটুকু মেয়ের সাথে? ”
“ ঐটুকু? ”
“ তো কতটুকু? ওর এত বুঝবুদ্ধি আছে নাকি। মা বাবার আদরে বড় হয়েছে বলেই তো এখনও বাচ্চাদের মতো রাগ জেদ করে। ”
সাক্ষ্য শুনল। পা বাড়াতে বাড়াতে বলে গেল,

” ওহ! জানতাম না অনার্স ২য় বর্ষের একটা মেয়েকে শিশু বলে আম্মু। এখন তো ভয়ে আছি। বাল্যবিবাহ করে ফেললাম নাহ তো! ”
বাসার বাকি সবাই তৈরি হলেও তৈরি হয়নি কেবল সাক্ষ্য আর সাম্যই৷ সাক্ষ্য নাহয় দেরিতে এল। কিন্তু সাম্য কি করছিল এতক্ষন এই নিয়েই বকাঝকা করছিলেন সাজিয়া আফরোজ৷ সাম্য তখন মুখ ধুঁয়ে বেরিয়ে আসল৷ সাজিয়া আফরোজ ঠিক তখনই কথার সাথে তুলনা করে বলে উঠলেন,
“ কথাও তো তোমার বয়সী। দেখো গিয়ে, মেয়ে হয়েও কত তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বসে আছে মেয়েটা। আর তুমি? এখনও রেডি হওনি। কতক্ষন লাগবে তোমার হুহ? ”
সাম্য মায়ের এরূপ কথা মানতেই পারল না যেন। সবসময় কথার এত প্রশংসা কেন? কেন? বিরক্ত লাগে তার। অসহ্য হয়ে এবারে শুধাল,
“ ওর যে এত প্রশংসা করো। ও কি করছে জানো হুহ?”
“ কি করেছে?”

সাম্য যেন সুযোগটা পেল এতক্ষনে, এতদিনে। মুহূর্তেই নিজের ফোনটা নিয়ে সেদিনকার ছবিগুলো দেখাল মাকে। অতঃপর নিজের ভাবটা বজায় রেখে বলল,
“ দেখো, তোমার আদরের মেয়ে কি করেছে? অন্য ছেলের সাথে বসে বসে কথা বলছিল। গল্প করছিল। তোমার কি মনে হয় স্বাভাবিক লক্ষণ এসব? নির্ঘাত দেখো গিয়ে কোনদিন তোমাদের নাক মুখ ডুবিয়ে পালিয়ে যাবে ঐ ছেলের সাথে? ”
সাম্যর কথা বলার ধরণটা একদমই পাড়ার মহিলাদের মতো শোনাল। যেন ইচ্ছে করেই কান ভাঙ্গাচ্ছে। নিজের ছেলের এহেন রূপে হতাশ হওয়া উচিত কিনা বুঝলেন সাজিয়া আফরোজ৷ তবে বললেন,
“ কে এটা? কি করেছে কথা? ”
“ এক ছেলের সাথে কি করছে জিজ্ঞেস করো। আমাদের পরিবারে কেউ এখনো প্রেম করল না, ও প্রেম করার সাহস পায় কিভাবে? আব্বুকে আমি আজই বলব বুঝলে? ”
“ কি বলবি? ”
সাম্য বেশ আয়েশি ভাবেই বলল,

“ ওর এসব কীর্তির কথা। আমার বেলায় হলর নির্ঘাত এতক্ষণে পিঠের চামড়া উঠিয়ে নিত আব্বু। অথচ ও কি করছে? মেডিকেলে চান্স পেয়েছে বলে মাথায় তুলে নাচো আরো। ফল এমনই হবে। ”
“ তুই জানিস তো।বেশি বকিস। ও কাউকে পছন্দ করলে সর্বপ্রথম আমাদেরই বলত। ”
সাম্য মায়ের এমন উদাসীনতা মানতে পারল না যেন। প্রমাণ হিসেবে এবার দিল আরো একটা কাগজের টুকরো। যেটা সাম্য আরো পাঁচ ছয় মাস আগে কথার রুমের কোণে পেয়েছিল দুমড়ে মুঁছড়ে অবস্থায়। বলল,
“ দেখো, দেখো তুমি আম্মু।এখন ওর বিচার করবে না হুহ? ”
সাজিয়া আফরোজ চাইলেন সরু চোখে। গুঁটি গুঁটি অক্ষরে লেখা,
“ ইমোশন! আমার ভুল হয়েছিল কি? একজন মানুষের প্রতি অনুভূতি জমানোটাও ভুল তাই না? ভুলই তো! ”
এইটুকু লিখে আবার কেঁটে ফেলা হয়েছে। বোধহয় পরবর্তীতে ছিড়ে দুঁমড়ে মুঁছড়ে ফেলেও দিয়েছিল। ভাগ্যক্রমে তা এসেছিল সাম্যর হাতে। সাজিয়া আফরোজ ছোটশ্বাস ফেললেন। আপাতত ছেলেকে চুপ করিয়ে তৈরি হতে বলে বাইরে গেলেন।

ঈশানের আম্মুর সাথে দ্বিতীর আম্মুর পরিচয়টা এইতো ঘন্টা দুয়েকের। এ বিল্ডিংয়েই ঈশানদের কোন এক আত্মীয়ের নতুন বাসা নিয়েছে নাকি। তাই তো ঈশান সহই এসেছিল। তারপর এদিক দিয়ে দ্বিতীদের বাসা জেনেই এসেছিল একটু ঘুরে যেতে। কিন্তু এসেই শুনল দ্বিতী নেই। বেরিয়েছে একটু। এদিকে দ্বিতীরা মা সাক্ষ্যরা আসবো বলেই ব্যস্ত ছিল। আবার ঈশানদের সাথেও কথা বলতে হচ্ছিল এইসেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই সাক্ষ্যরা এল সবাই। সাক্ষ্য এসেই দরজায় দাঁড়াতেই একপলক দেখল ঈশানকে। ঈশান? এই বাসাতে? হোয়াই? এইটুকু বিড়বিড় করেই নিজে নিজেই ভ্রু নাচাল। দ্বিতীর সাথে নিশ্চয় ঈশানের সম্পর্ক খুব ভালো রকমেরই। সত্যি সত্যিই এক্সেপ্ট করেছে নাকি? সাক্ষ্য যখন জুতো খুলে বাসায় পা রাখবো ঠিক তখনই নিচ থেকে তার বাবা বলে উঠল,।
“ সাক্ষ্য এসব নিয়ে তো যাও। ”
সাক্ষ্য ছোটশ্বাস ফেলে ফের পা বাড়াল। তবুও মাথায় ঘুরল শুধু ঈশানের উপস্থিতি। এতোটাই ভালো সম্পর্ক যে বাসায় চলে এসেছেে।বাহ বাহ! সাক্ষ্য এইটুকুই মনে মনে আওড়াল। অতঃপর গাড়ি থেকর জিনিসপত্র নামাতে নামাতে একবার শুনতে পেল ঈশানের গলাটা,

“ দ্বিতী তুমি তো বাসায় নেই। অনেকটা সময় ছিলাম তোমার জন্য। চলে যাচ্ছি এখন। ”
বাহ! কি প্রেম! সাক্ষ্যর এখন সত্যিই মেজাজ খারাপ হচ্ছে। সত্যিই সত্যিই যদি দ্বিতী ঈশানকে এক্সেপ্ট করে তো দ্বিতীকে সাক্ষ্য কি করবে? এইটুকু ভেবেই থমথমে মুখ নিয়ে পা বাড়াল সে। বড়োরা তখন সবাই ড্রয়িং রুমে বসেছে। এইসেই কথা বলছে৷ সাক্ষ্য বসেছে অন্য পাশটায়। দ্বিতীর মা তখনই বলল,
“ সাক্ষ্য, তোমাদের আকদ হয়েছে। একটা সম্পর্কে তো জড়িয়েছো। সম্পর্কটা স্বাভাবিক করে নাও আব্বু। দুইজনই ইগো নিয়ে চললে কিভাবে হয় বলো? তোমরা তো কেউই কাউকে সহ্য করতে পারো না। এমন হলে হবে বলো? আমার মেয়েটা বাচ্চা এখনো। মনে যা রাগ ওর! ও যেটা বলবে সেটাই ও করবেই। এই দেখো না, আজও বেরিয়ে গেছে। কারণ এটা ওর জেদ।না জানি বিয়ের অনুষ্ঠানটাও ও করবে কিনা। মত দিবে কিনা। ”
স্বাক্ষ্য শুনল। জেদ? যা বলে তাই করে? সংসার করবে না বলেছে এটাও সাক্ষ্য মেনে নিবে হুহ? গম্ভীর স্বরে বলে উঠল,
“ আন্টি, আকদটা আপনার মেয়ের ইচ্ছেতে হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানটা এবার আমার ইচ্ছেতে হোক। আপনার ঘাড়ত্যাড়া মেয়েকে ঘাড় সোজা করিয়ে শীঘ্রই রাজি করান।নয়তো ঘাড় সোজা করার দায়িত্বটা আমি নিজ দায়িত্বেই কাঁধে তুলে নিব।”
সাক্ষ্য এইটুকু বলেই চায়ের কাপে চুমুক রাখল। যেন স্বাভাবিক একটা কথা।

দ্বিতী এল প্রায় আধঘন্টা পর। সাক্ষ্য এসেছে জেনে আসবেই না বলেছিল সে৷ অবশেষে বাবার কল এবং জোরাজুরিতে এসেছেে।কারণ বাবাকে সে খুবই মেনে এসেছে ছোটবেলা থেকে। দ্বিতী এসে নিজের ঘরে বসতেই সবার প্রথমমে কথা বলল,
“ আরে দ্বিতী। রাজি হয়ে যা না। আমার ভাইয়া সত্যি তোকে ভালোবাসে। ”
দ্বিতী ফুঁসে উঠে বলল,
“ তোর ভাইয়া একটা গিরগিটি কথা। উনার পক্ষ নিয়ে কথা বলিস কি করে?”
“তো কার পক্ষ নিয়ে কথা বলব? ”
পাশ থেকে সাম্য তখন মুখ ভেঙ্গিয়ে বলল,
“ ও নিজেই তো একটা এলাচি। আমাদের সুস্বাদু বিরিয়ানিময় ফেমিলিতে ও নিজে আস্ত এক এলাচি। তুই ওর কথা শুনিস না দ্বিতু। আমার কথা শোন। তোদের বিয়ে তো এমনিতেও হয়ে গেছে৷ তোর উচিত এখন ভাইয়র কাঁধ চাপকে ধরে সারাক্ষন পরখ কি না কি করছে। পুরুষ মানুষ! বিশ্বাস আছে বল? ”
“ এমনিতেও বিশ্বাস নেই তোমার ভাইয়ার উপর। ”
সাম্য তাকিয়ে বলল,

“ এই কারণেই বলছি আমাদের বাড়ি চল। সারাক্ষণ পরখ করতে পারবি। জামাই ভাগলে লোকে তোকে বলবে পালানো জামাইয়ের বউ! ”
দ্বিতী কপাল কুঁচকে তাকাল এবারে। বলল,
“ সাম্য ভাই। চালাকি করবে না আমার সাথে। তোমার যে একই দল তা আমি জানি। ”
সাম্য এবার কাঁদো কাঁদো হয়ে চাইল। বলল,
“তো করবি না তুই বিয়ে? বিশ্বাস কর বই, বহুকাল হলো আমি বিয়েতে নাচি। মাজাটা ঝং ধরে গেছে। তোদের বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচলে তাও একটু আমার কোমড়টা ঠিক হতো। ”
দ্বিতী পরবর্তী নাটক দেখার জন্য বলল,
“ তারপর?”
“ বহুকাল হলো আমি বিয়ে খাইনি দ্বিতী। আমার পেটের নাড়িবুড়ি গুলো শুঁকিয়ে গিয়েছে বইন৷ শুধু একটু বিরিয়ানির জন্য। অথচ এমন নিষ্ঠুর কি করর হোস? এই হতভাগা ছেলেটার পেটের প্রতি একটু দয়া করবি না? একটুও না? একটু বিরিয়ানি খেতে দিবি না? ”
দ্বিতী দাঁতে দাঁত চাপল। বলল,

“ তুমি প্লিজ আমার সাথে রেস্টুরেন্টে চলো। আমি তোমায় পেট পুরে কাচ্চি খাওয়াব। ”
“ ঐ খাচ্চি খাওয়া আর বিয়ে খাওয়া এক না রে বইন। ”
ঠিক ঐ মুহূর্তেই ওখানে এল সাক্ষ্য ও। এসেই গলা ঝাড়ল। দ্বিতীর দিকে শীতল এক চাহনি ফেলতেই সাম্য আর কথা সুরসুর করে বের হয়ে গেল এক মুহুর্তেই। সাক্ষ্য বলল,
“ যদি ঈশানকে সত্যি সত্যিই এক্সেপ্ট করার চিন্তাভাবনাও করেছেন না মিসেস সাক্ষ্য এহসান? সোজা মাথা ফাটিয়ে চিন্তাভাবনা করার সক্ষমতায় দূর করে দিব। ”
ফের পরমুহূর্তেই আবার প্রশ্ন করল,
“ এতই ভালো সম্পর্ক যে ঈশান তার মাকে নিয়েই চলে এসেছে আপনাদের বাসায়? ওয়াও দারুণ! আমার কি খুশি হওয়া উচিত? ”
দ্বিতী এবারে মজা পেল যেন। বলল,

“ শুধু এসেছে? বাকিটা শুনেননি? ঈশান তো ওর মাকে নিয়ে এসেছিল বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য। ”
সাক্ষ্য এক পা এক পা করে এগোল। একদম দ্বিতীর সামনে দাঁড়িয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“তাই নাকি? তাহলে আপনাকে সত্যি সত্যিই ডাবল বিয়ে দেওয়া উচিত। রাজি? ”
সাক্ষ্য আরো এক কদম এগোল এবারে। দৃষ্টি কেমন ধারালো যেন। ঠোঁটে বাঁকা রেখা দৃশ্যমান। দ্বিতী সে দৃষ্টিতে নজর ফেলে বলতে নিতেই টের পেল সাক্ষ্য তার কোমড় টেনে ধরেছ নিজের বাম হাতে। ভ্রু নাঁচিয়ে বলল,
“ এটাই শেষ বুঝানো। সোজাসুজি বলছি, শীঘ্রই রাজি হয়ে আমার আম্মুর সংসারে ট্রান্সফার হবেন। অন্য কারোর সংসার তো দূর নাম টামও ভাবা যাবে না। ওকে? ”
তারপরই সাক্ষ্য ফের আবার আগের মতে ভদ্র ছেলে সেজে বেরিয়ে গেল। দ্বিতী আহাম্মকের মতো চেয়ে রইল। কি সাংঘাতিক। এই লোকের হুট করে কাছে আসা, হুট করে চলে যাওয়া সবই অদ্ভুত। একবার এক রূপ দেখানো এটাও অদ্ভুত!

দ্বিতী সেদিন ভার্সিটি থেকে ফিরছিল সবে। রাস্তার মাঝপথেই প্রায় সাক্ষ্যর গাড়ি এসে থামল তার সামনেই। গাড়ির গ্লাস নামিয়েই সর্বপ্রথম বলল,
“ উঠে পড়ুন। ”
“ কেন?”
“ উঠতে বলেছি বলে। আপনার আম্মুই বলেছে। ”
“ কেন বলেছে? ”
“ কি করে জানব? ”
দ্বিতী এবারে উশখুশ করে উঠে বসল। সাক্ষ্য বাঁকা হাসে এবারে। গাড়ি চালাতে চালাতে পকেট থেকে ফোনটা নিয়ে কল দিল তার আম্মুকে। বলল,

দুইজনাতেই পর্ব ১৩

“ আম্মু বের হচ্ছি। তিনদিন কি চারদিন লাগবে ওখানে। এরপর চলে আসব। চিন্তা করো না। ”
দ্বিতী চাইল মুহূর্তেই। ভ্রু কুঁচকে সঙ্গে সঙ্গেই বলল,
“ কোথায় যাচ্ছি আমরা? ”
সাক্ষ্য ফোন রেখে বাঁকা হাসল। বলল,
“ এক্সপেরিমেন্ট করতে। আসলেই একরুমে থেকে খু’নাখু’নি হয় কিনা তা।”

দুইজনাতেই পর্ব ১৫