না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৯ (২)
মাইশা জান্নাত নূরা
তেজকে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে দেখে নির্ঝরও আর সেখানে না বসে বেড়িয়ে এলো। ইলমা ঠোঁটে হালকা হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলেছে। অনু বললো….
—”শুধু শুধু এখানে থাকতে রাজি হলে কেনো তুমি আপা? আমার শরীরের অবস্থা ওতোটাও খারাপ ছিলো না যে বাসায় ফিরতে পারতাম না।”
ইলমা শান্ত কন্ঠে বললো….
—”বুঝবে না তুমি। এখন চুপচাপ রেস্ট করো।”
অনু ভ্রু হালকা কুঁ*চকে নিয়ে বললো….
—”তোমার কি মনে হয় উনারা উনাদের পরিবারের সদস্যকে মানাতে পারবে আজ রাতটা এখানে থাকার জন্য? আর সব থেকে বড় কথা এতে তো আরো ঝা*মে*লা বাড়বে বলেই আমার মনে হচ্ছে। কারণ ওনারা যদি মানিয়েও নেয় তখন সেই সদস্য আসার পর তো আমাদের সম্পর্কে জানতে চাইবে তাই না!”
ইলমা প্রতিত্তুরে কিছু বললো শুধু শব্দহীন ভাবে হাসলো। অনু ইলমার রিয়াকশনে কেবল অবাকই হচ্ছে। ইলমার মনে ও মস্তিষ্কে কি চলছে তা বুঝে উঠতে পারছে না অনু।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
নিচে নীরাকে নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি শিথিল হওয়ার পর পরই পিহুকে নিয়ে সারফারাজ রুমে চলে এসেছে। একপ্রকার পিহুর হাত ধরে ওকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই রুমে এনেছে সারফারাজ। পিহু বললো….
—”আরে এভাবে টেনে রুমে আনার কি ছিলো বলুন তো! লজ্জা-টজ্জা বলতে তো একটা বিষয় আছে। তখনও বাড়ির সবাই ড্রয়িংরুমে বসেছিলো। তাঁদের সামনে থেকে ওভা….!”
পিহু ওর কথা শেষ করতে পারলো না। তার পূর্বেই সারফারাজকে খানিক শব্দ করে রুমের দরজা বন্ধ করে দেখলো। সারফারাজ পিহুর দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো…..
—”বিশেষ একটা কাজ করা বাকি আছে তাই আর লজ্জা-টজ্জার বিষয়কে পরোয়া করলাম না।”
পিহু একবার ঢোক গি*লে আমতা স্বরে বললো…..
—”বি-বিশেষ কাজ! রুমে আনার পর আবার কিসের বিশেষ কাজ করার থাকছে আপনার?”
সারফারাজ ওর ঠোঁটে বক্র হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে নিচে যাওয়ার আগে চটপট করে পড়া পান্ঞ্জাবির বুকের কাছের বোতাম গুলো খুলতে খুলতে পিহুর দিকে অগ্রসর হতে হতে বললো….
—”বাসরের পর ফরজ গোসল করতে হয় যে তা তো বাকি রয়ে গিয়েছে আমাদের। সেটা কি বিশেষ কাজের কাতারে পরে না বউ?”
সারফারাজের কন্ঠে বউ ডাকটা শুনে পিহুর বুকের ভিতরে অন্যরকম তোলপাড় শুরু হলো। পিহু চোখ নামিয়ে বললো….
—“এ-এভাবে কথা বলবেন না আপনি আমার সাথে দয়াকরে।”
সারফারাজ পিহুর একেবারে সন্নিকটে এসে দাঁড়িয়ে ওর দিকে খানিকটা ঝুঁকে বললো…..
—“বউয়ের সাথে এভাবে কথা বলবো না তাহলে কার সাথে বলবো শুনি? আরেকটা বিয়ে-টিয়ে দিতে চাও নাকি নিজের স্বামীর?”
সারফারাজের মুখে আরেক বিয়ের কথা শুনে পিহুর বুকের ভিতরটা কেমন ছ্যাঁ*ত করে উঠলো। চোখ জোড়া অকারণেই ছলছল করে উঠলো। পিহু সারফারাজের দিকে তাকিয়ে বললো…..
—”আরেকটা বিয়ে করার শখ আপনারই জেগেছে মনে হচ্ছে! তাই তো এমন ইনিয়ে-বিনিয়ে তুললেন এমন কথা।”
কথাটা বলেই পিহু ওর মুখ ঘুরিয়ে নিলো অন্যদিকে। সারফারাজের নজর এড়োলো না পিহুর মলিন হয়ে যাওয়া মুখশ্রী, ছলছল করে উঠা দু’চোখ। সারফারাজ পিহুর থুঁতনি স্পর্শ করে ওর মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো। পিহু সঙ্গে সঙ্গে ওর চোখ শক্ত করে বন্ধ করে নিলো। টপ টপ করে কয়েক ফোঁটা অশ্রু পিহুর গাল বেয়ে নেমে গেলো। পরক্ষণেই সারফারাজ পিহুর বুঁজে রাখা চোখের উপর হালকা ভাবে ঠোঁট ছুঁয়ালে পিহু দু’হাতে নিজের কামিজের নিচের অংশ খাঁ*ম*চে ধরলো। সারফারাজ বললো…..
—”ম*রে যাবো তবুও ২য় কোনো নারীকে এ বুকে ঠাঁই দিবো না বউ। তোমার ভালোবাসা তোমার আছে তোমারই থাকবে সারাজীবন।”
সারফারাজের এরূপ কথাগুলো পিহুর আ*হ*ত বুকটার উপর যেনো ঔষধী পড়ার মতো কাজ করলো। পিহু চট করে চোখ মেলে তাকালো সারফারাজের দিকে। সকল লজ্জা-টজ্জা ভুলে ধীর স্বরে বললো….
—”আপনি আমার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছেন এমপি সাহেব। আপনার ভাগ আমি কাউকে দিতে পারবো না। কক্ষণো না। আপনার আদরগুলো কেবল আমার জন্যই বরাদ্দ রাখবেন।”
সারফারাজ ঠোঁ*ট কাঁ*ম*ড়ে হেসে বললো….
—”আরেহ বাহ! আজ আমার বউয়ের হয়েছে টা কি? কথা দিয়েই আমাকে মে*রে ফেলার পরিকল্পনা করেছে মনে হচ্ছে!”
সারফারাজের এরূপ কথায় পিহুর ঘোর কাটলো। বুঝতে পারলো একটু আগে ওর মুখ থেকে কতোবড় লজ্জাজনক কথা বের হয়ে গিয়েছে। পিহুর কান দিয়ে যেনো এই মূহূর্তে অদৃশ্য গরম ধোঁয়া বের হতে শুরু হলো। শ্যমরঙা গালের উপর হালকা রক্তিম আভাও ফুটে উঠলো। পিহু তৎক্ষনাৎ নিজের থুঁতনি থেকে সারফারাজের হাত সরিয়ে ছুটে পালানোর মতো কিছু করার কথা ভাবলে সারফারাজ পিহুকে পাঁজাকোলে তুলে নিলো। পিহু বললো…..
—”কি করছেন! নামান আমায় দয়াকরে। কেউ দেখে ফেলবে!”
সারফারাজ পিহুর মুখের দিকে ঝুঁকে এলে পিহু নিজের ঠোঁটজোড়া চেপে ভিতরের দিকে নিলো। চোখজোরা ঘনঘন পিটপিট করতে শুরু করলো সে। সারফারাজ বললো…..
—”দরজা তো আগেই বন্ধ করে দিয়েছি। কারোর দেখার অপশন আপাতত নেই। আর যদি দরজা খোলাও থাকতো তাতেও আমার কিছু যায় আসতো না। “After all, we are officially husband and wife now.”
পিহু বললো….
—”নামান না প্লিজ!”
সারফারাজ ফিসফিসিয়ে বললো….
—“চুপ। নামানোর বিষয় নিয়ে আর একটা কথা বললে তোমার মুখ বন্ধ করার অন্য পন্থা বেছে নিতে হবে আমায়। এতে কিন্তু আমার সমস্যা নেই।”
সারফারাজের চাপা ধমকের স্বরে বলা কথার মানে বুঝতে পেরে পিহুর বুকের ধুকপুকুনি ভাবটা আরো বেড়ে গেলো। তাই সে আর কথার পিঠে কথা বললো না। বাধ্যমেয়ের মতো সারফারাজের গলা জড়িয়ে ধরে রাখলো। দৃষ্টি নিচের দিকে স্থির রেখেছে পিহু। সারফারাজ হাসিমুখে ওয়াশরুমের ভিতরে প্রবেশ করলো। ঢুকেই সারফারাজ ঝর্ণাটা ছাড়লো। ঝর ঝর করে বৃষ্টির ন্যায় নির্দিষ্ট একটু জায়গা জুড়ে পানি পড়তে শুরু হলো যা পিহু ও সারফারাজকে একসাথে ভিজিয়ে দিচ্ছে। সারফারাজের মুখটা পিহুর মুখের উপর খানিকটা ঝুঁকে থাকায় উপর থেকে পড়তে থাকা ঝর্ণার পানি সারফারাজের চুল ও মুখ বেয়ে পিহুর মুখের উপর পড়ছে। পিহু খিঁচে ওর চোখজোড়া বন্ধ করে নিলো। সারফারাজের বুকের অংশের পান্ঞ্জাবি খাঁ*ম*চে ধরলো একহাতে। এই অনুভূতি অদ্ভুত রকম শিহরণ জাগিয়ে তুলছে পিহুর সর্ব শরীরে। সারফারাজ পিহুর মুখশ্রী পানে তাকিয়ে আছে নিষ্পলক চোখে। পিহুর ভেজা, আড়ষ্ট হতে থাকা শরীরটা সারফারাজের ভিতরটা নাড়িয়ে দিচ্ছে। পিহু বললো….
—”এবার অন্তত নামিয়ে দিন আমায়। আমার কেমন কেমন যেনো লাগছে আপনার সংস্পর্শে থাকতে।”
পিহুর ঠোঁটজোড়া তিরতির করে কাঁপছে। সারফারাজ পিহুর কাঁপান্বিত ঠোঁট জোরার দিকে তাকিয়ে ঘোর লাগা কন্ঠে বললো…..
—”ছাড়বো, বিনিময়ে আমার দেওয়া একটা শর্ত কোনো কথা ছাড়া মানতে হবে তোমায়।”
পিহু ওভাবে থেকেই বললো…..
—”শ-শর্ত! কি শর্ত?”
—”নিজ থেকে আমায় চুমু দিতে হবে তোমায়।”
সারফারাজের অকপটে বলা এমন কথা শোনা মাত্র পিহুর চোখজোড়া খুলে গেলো। আকৃতি হলো স্বাভাবিক তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বড়। ঠোঁট জোড়া ফাঁকা হয়ে মুখটাও খুলে গেলো ওর। বেড়িয়ে এলো ‘কিহ্!’ নামক একটি শব্দ। সারফারাজ বক্র হেসে বললো…..
—”চুমু না দেওয়া পর্যন্ত ছাড়বো না। এখন কতোসময় এভাবেই আমার সংস্পর্শে থেকে ভিজার ক্ষমতা তোমার মাঝে আছে তা তুমি বুঝে নিও। আমার সমস্যা নেই।”
পিহু চোখ পিটপিট করে বললো….
—”ঠান্ডা লেগে যাবে তো বেশিক্ষণ ভিজলে।”
সারফারাজ ভাবলেশহীন কন্ঠে বললো……
—”তা তো লাগবেই মাস্ট। এখন তুমি যদি আমাদের দু’জনের সুস্থতার কথা চিন্তা করে চুমুটা তাড়াতাড়ি দিয়ে ফেলো তাহলে ভালো হবে।”
পিহু পরে গিয়েছে বিপাকে। মনে মনে বললো…..
—”লজ্জা-শরমের মাথা খাওয়া এই লোকটা যখন বলেছে তখন আমায় দিয়ে কাজটা করিয়েই ছাড়বে। তাই দেড়ি করে লাভ নেই।”
ভাবনার জগৎ থেকে বেড়িয়ে পিহু টুপ করে সারফারাজের গালে একটা চুমু দিলো। সারফারাজ ভ্রু কুঁচকে বললো…..
—”গালে দিলে হবে না। সরাসরি ঠোঁটে দিতে হবে।”
পিহু বললো….
—”আপনি একটা চুমুই দিতে বলেছিলেন কেবল, শর্তে এটা উল্লেখ করেন নি যে কোথায় দিতে হবে না। এখন আমার যেখানে ইচ্ছে হয়েছে সেখানে দিয়েছি। শর্ত পূর্ণ হয়েছে। এখন নামিয়ে দিতে হবে আপনাকে কথানুযায়ী।”
সারফারাজ ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”বাসর হওয়ার আগে পর্যন্ত গালে চুমু দেওয়ার বিষয়টা নরমাল ছিলো কিন্তু এখন তো চুমু চাওয়া মানেই বুঝতে হবে তা ঠোঁটে উপর চাইছি তাই না!”
—”এমন ধরাবাঁধা নিয়ম কোথাও লেখা আছে নাকি?”
—”আমার ঠোঁটের স্বাদ কি এতোই বাজে যে কারণে-অকারণে নিজ থেকে সেখানে চুমু দেওয়া যাবে না!”
সারফারাজের প্রতিটা কথায় পিহুর কান গরম হয়ে যাচ্ছে লজ্জায়। পিহু বললো…..
—”নামান তো আমায়। আপনার মতো যাচ্ছে তাই লোকের সাথে মুখ নেড়ে জিততে পারবো না আমি জানি।”
—”ধূর তোমার নামানো, ছাড়ানো, আসল মজা এখন বুঝাবো তোমায় আমি।”
এই বলে সারফারাজ পিহুকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ওর ঠোঁটে নিজের ঠোঁট বসিয়ে দিলো। ঘটনার আকস্মিকতায় পিহু এতোটাই অবাক হলো যে ওর হেঁচকি উঠে গিয়েছে। তবুও সারফারাজ পিহুকে ছাড়লো না। একটু পর আপনা-আপনি পিহুর হেঁচকি বন্ধ হলো। সারফারাজ পিহুর ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে ওকে কোলে নেওয়া অবস্থাতেই পাশের পানিতে টইটুম্বুর বাথটাবের ভিতরে ওকে বসিয়ে দিলো। পিহু কিছু বলতে নিলে সারফারাজ ওর ঠোঁটের উপর আঙুল রেখে ওকে চুপ করিয়ে দিলো। সারফারাজ ওর পরণ থেকে পান্ঞ্জাবিটা খুলতেই পিহুর সামনে উন্মুক্ত হলো সারফারাজের লোমশ বুকটা। পিহু সঙ্গে সঙ্গে ঢোক গি*ললো। অতঃপর সারফারাজ নিজেও বাথটাবের ভিতরে নেমে পিহুর হাত ধরে হ্য*চকা টান দিয়ে ওকে নিজের বুকের উপর এনে ফেললো। পিহুর ইচ্ছে করছে এইমূহূর্তে এখান থেকে ছুটে পালিয়ে যেতে। কিন্তু ওর সর্বশরীর কেমন অসাড় হয়ে এসেছে। মস্তিষ্ক ছুটতে চাইলেও মনের অসাড়তার সামনে পিহুকে হার মানতে হলো। সারফারাজ পিহুর চোখের সামনে আসা গালের সাথে লেপ্টে থাকা ছোট চুলগুলো ওর কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে ওর ভেজা লতিতে আলতো করে চুমু খেলো। পিহু সঙ্গে সঙ্গে দু’হাতে জড়িয়ে ধরলো সারফারাজকে। সারফারাজ পিহুর মাঝে পুনরায় ডুবে গেলো।
বাংলো বাড়ির ড্রয়িংরুমে পায়চারি করছে তেজ। নির্ঝর সিঁড়ির শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে রেলিং এর সাথে হেলান দিয়ে আছে। কিয়ৎক্ষণ পর নির্ঝর বললো…..
—”ভাই কি করবে কিছু ঠিক করলে?”
তেজ পায়চারি করতে করতেই বললো….
—”শুধু নীরাকে নিয়ে আসা যাবে না। ওর পেট পাতলা। ভাবীকে না বলে থাকতে পারবে না। ভাবী জানা মানে ভাইয়াও জানতে পারবে। আর ভাইয়া জানলে রক্ষে থাকবে না। বড় মুখ নিয়ে বললাম ওদের আজ রাতটা এখানে থাকার জন্য। কিন্তু ইলমা যে এভাবে ফাঁ*সিয়ে দিবেন তা তো ভাবতেও পারি নি।”
নির্ঝর বললো….
—”বড় মুখ নিয়ে যখন বলেছো তখন মুখ রাখতে পরিস্থিতিও সামাল দিতে হবে। তাই ভাবীকেই সরাসরি বলতে হবে। দরকার পড়লে তার পায়ে ধরে হলেও পেটের কথা পেটেই রাখার জন্য অনুরোধ করতে হবে। বড় ভাইয়ার সামনে কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না।”
—”না না, বড় ভাইয়ার থেকে লুকিয়ে ভাবী আর নীরাকে নিয়ে এখানে আসা অসম্ভব। ভুলে যাস না যে, এখন আর ভাইয়ার কাছে আমাদের আসল সত্য লুকায়িত নেই। তিনি সব জানেন। তাই এটা-সেটা বাহানা দেখালে গতবার তাঁর তোলা জুতা যার বা*রি অল্পের জন্য আমাদের উপর ধ্য*রা-ধার ভাবে পরে নি তা আর এবার মিস যাবে না। সাথে উল্টা লটকিয়ে চোখের জলে কপাল ভিজিয়ে ফেলার ব্যবস্থা মাস্ট থাকবে।”
নির্ঝর এগিয়ে এসে বললো…..
—”আস্তে বলো ভাই, উপর তলাতেই আমার ক্রাশ আছে। এসব শুনলে কি ইজ্জত থাকবে আমার ওনার সামনে বলো!”
তেজ একবার দোতলার দিকে তাকালো। পরক্ষণেই নির্ঝর তেজের ডান হাতের কনুইয়ের উপরের মাংসপেশি দু’হাতে ধরতেই তেজ শুরশুরি অনুভব করে ঝ*টকা মে*রে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো….
—”সর সর, শরীরের সাথে ঘেঁ*ষা-ঘেঁ*ষি শুরু করেছিস কেনো?”
নির্ঝর ওর হাত নামিয়ে একত্রে ভাঁজ করে বললো…..
—”ভাই, আমি তো আরেকটা অ*কাজ করে বসে আছি।”
তেজ ভ্রু কুঁচকে বললো…..
—”কাজের কাজ কবে করেছিস তুই? আমি তো দেখি নি এই বয়সে এসেছি পর্যন্ত।”
—”এখন আর তোমার করা অ*প*মান গাঁয়ে মাখতেছি না।”
—”সেই বোধটাই তো নেই তোর৷ মাখবি কেমনে।”
নির্ঝর ঠোঁট হালকা উঁচিয়ে নাক ছিঁ*ট*কে বললো…..
—”শত ভুল – অকাজ করলেও আমি তো তোমারই ছোট ভাই বলো! সব ঝামে*লা থেকে আমায় বাঁচিয়ে দেওয়া তোমার উচিত তাই না! বলো বলো!”
—”এসব পাম ওয়েলের সস্তার তেল আমার উপর না ঢেলে কি অকাজ করেছিস সেটা বল৷”
নির্ঝর ওর ডান হাতের শাহাদত আঙুলের নখ কাঁ*ম*ড়াতে কাঁ*মড়া*তে বললো…..
—”আজকে তোমার বাহিরে যাওয়ার পর অনু অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি আমাদের পারিবারিক ডাক্তার আঙ্কেলকে ডেকেছিলাম অনুকে চেকআপ করার জন্য। উনি চেকআপ শেষে আমার থেকে জানতে চাইলেন অনুর সাথে আমার সম্পর্ক কি? আমি কোনোকিছু ভেবে না পেয়ে তাঁকে সরাসরি বলে দিয়েছি অনু আমার হবু বউ হয়। কিছুদিন আগেই পারিবারিক ভাবে ওর সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। খুব শীঘ্রই বড় কোনো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের বিবাহ কার্যও সম্পন্ন হবে এমনটাই আঙ্কেল আশা রেখেছেন।”
নির্ঝরের বলা কথাগুলো শুনে তেজের মুখ হা হয়ে গেলো৷ তেজ একহাতে নিজের কপাল চাঁ*প*রে বললো…..
—”স*র্ব*নাশ।”
নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে ওর নিচের উপর কাঁ*মড়ে ধরে ভ্রু জোড়া উঁচিয়ে বললো…..
—”এবারের মতো বাঁচিয়ে নাও আমায় তুমি ভাই।”
তেজ বললো…..
—”তোরে বাঁচানোর ক্ষমতা আর আমার নাই রে নিজ্ঝরিয়া।”
—”এভাবে বলো না ভাই৷ আমার মনে হচ্ছে কিনডিতে অ্যা*টাক হয়ে যাবে টেনশনে।”
—”তুই কেমনে পারলি ডাক্তার আঙ্কেল এতো বড় একটা ডা*হা মি*থ্যা কথা বলতে? তুই জানিস না ডাক্তার আঙ্কেলের যখন তখন আমাদের বাড়িতে যাওয়া-আসা হয়? এখন বাড়িতে গিয়ে সিনিয়র জনদের মাঝে তোর বিয়ের আলাপ উঠালে তোর সাথে সাথে ফাঁ*স*বো আমিও। কারণ আমার লে*ঙ্গু*র হয়ে ২৪ ঘন্টা ঘুরিস তুই। বংশের সবথেকে ডিসেন্ট ছেলেটার সঙ্গে থেকেও মেয়েলি ফাংশনে জড়িয়ে এতো বড় কে*চ্ছা রটালে কি থেকে কি হয়ে যাবে তা তো আমি কল্পনাও করতে পারছি না।”
নির্ঝর ধপ করে মেঝের উপর বসে পড়লো। পশ্চাৎদেশের ব্যথাতুর জায়গায় বসার সাথে ব্য*থা অনুভব করে মুখ দিয়ে চাপা স্বরে ‘আহহ’ শব্দ বের করে বললো……
—”তাহলে কি আমার জীবনের অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলো বলে এতো তাড়াতাড়ি তেজ ভাই! আমার কি আর ক্রাশকে মনের কথা বলা হবে না? আমার কি বিয়ে করা হবে না? বাসর, হানিমুন, বাচ্চার মুখে বাপ ডাক শোনা আর হবে না? আমার ডে*ড সার্টিফিকেটে কি লেখা থাকবে মাত্র ২৪ বছর বয়সে অতিরিক্ত মানসিক চাপ নিতে না পেরে কিডনিতে অ্যা*টাক হয়ে পটল তুলেছে নির্ঝর খান!”
নির্ঝরের মুখে এমন আ*হা*ম্মকের মতো কথা তেজ হাসবে নাকি রাগে ওর মা*থা ফাঁ*টাবে তা ভেবে উঠতে পারছে না। পরক্ষণেই তেজ নির্ঝরের পাশে পা ভাঁজ করে বসে বললো….
না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৯
—”যেমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিস তেমন ভাবেই এটার সমাধান বের করতে হবে। তবে এতোটুকু বলতে পারি বাঁচলে একসাথে বাঁচবো আর ম*রলে একসাথেই ম*রবো। শত হলেও আমার সব সুকর্মের সঙ্গী তুই। এতো তাড়াতাড়ি তোরে পটল তুলতে দিতে পারি না। এখন আগে আজকের রাতের বিষয়টা মেনেজ করে নিতে হবে।”
নির্ঝর আবেগে আপ্লুত হয়ে তেজকে জড়িয়ে ধরলে তেজ পিছনের দিকে ঝুঁকে গেলো। তেজ বললো….
—”আরে ছাড় ব্যডা। পাছায় ব্য*থা লাগতেছে তোর চিপকানো জন্য।”
নির্ঝর হেসে তেজকে ছেড়ে দিলো।
