না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৯ (৪)
মাইশা জান্নাত নূরা
আতুশি আর শিউলির অভিমানের স্বরে বলা কথাগুলো শোনামাত্রই তেজ আর নির্ঝর দু’জনের মাঝে অস্বস্তির হাওয়া বয়ে গেলো। ওরা একে-অপরকে চোখাচোখি করলো একবার। অতঃপর দু’জনেই শিউলি ও আতুশির দু’পাশে বসলো। তেজ নরম গলায় বললো…..
—“মেজো চাচী মা, ছোট চাচী মা! বিষয়টা কিন্তু মোটেই এমন না যেমনটা তোমরা ভাবছো। দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজকর্মের ব্যস্ততা কাটিয়ে ঠিক অতিরিক্ত সময়টা পাওয়া হয় না।”
নির্ঝর ওর মা শিউলিকে উদ্দেশ্য করে বললো…..
_”মা! তুমিই তো সবসময় বলো তেজ ভাইয়ের সাথে থাকিস সবসময় অথচ ওর মতো হতে পারিস নি। কোনো কাজ করিস না, লাইফ নিয়ে কোনো সিরিয়াসনেস নাই তোর ভিতর! এখন তাই তেজ ভাইয়ের মতো হওয়ার চেষ্টা করছি। তাই তো তোমাদের সময় দিতে পারছি না ঠিক ভাবে।”
তেজ আর নির্ঝরকে এভাবে অবলীলায় নিজেদের মা-চাচীকে মিথ্যা বুঝ দিতে দেখে নীরা চোখ ছোট ছোট করে ওদের দিকে তাকিয়ে বিরবিরিয়ে বলবো…..
—”নতুন নতুন মজনু হয়েছো লাইলির পিছন পিছন ঘুরঘুর করছো তাই তো পরিবার, দিন-দুনিয়া সবকিছুর কথা মাথা থেকে বের হয়ে গিয়েছে। আর এখন আমার দুই গুণধর ভাইয়ের মন ও মস্তিষ্ক যে শুধু ইলমা-অনু করে তা কি আমি বুঝি না!”
পিহু নীরার দিকে খানিকটা হেলে বললো….
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
—”নিজে নিজে কি এতো বিরবির করছো হুম?”
নীরা ফিসফিসিয়ে বললো…..
_”কিভাবে মিথ্যা গুলো বলছে অবলীলায় তা শুনছি আর শিহরিত হচ্ছি। আমার বড় ভাইটা এতো সৎ ও ডিসিপ্লিন হয়েছে অথচ এই দু’টোকে দেখো পুরোই বিপরীত। আল্লাহ এদের কি মাটি দিয়ে তৈরি করেছে বলো তো ভাবী পু! কলিজায় কোনো ভ*য়-সং*কোচ কিচ্ছু নাই।”
—”খুব শীঘ্রই ওদের দু’টোকে ধরে বিয়ে দিতে হবে। তারপর দু’বেলা বউয়ের হাতে পে*দানী খেলে এমনিই ঠিক হয়ে যাবে দেখিও।”
—”হুম, ঠিক বলেছো।”
শিউলি খান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন….
—“সময় পাওয়া যায় না নাকি সময় দিতে মন চায় না, এই পার্থক্যটাই তো আমরা বুঝে উঠতে পারি না রে বাবারা।”
তেজ বললো….
—“আচ্ছা ভু*ল হয়ে গিয়েছে আমাদের। এখন থেকে রোজ দু’জনেই পর্যাপ্ত সময় দিবো পরিবারকে। তাহলে খুশি হবে তো তোমার?”
আতুশি বললেন……
—”আগে দেখবো কথার মান কেমন রাখো তোমরা। তারপর খুশি-অখুশির হিসাব-নিকাশ করা হবে না হয়।”
তখুনি সারফারাজ সোফার পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে তেজ ও নির্ঝরের ঘাড়ের উপর বেশ জোড়েই চা*প*ড় মে*রে দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর স্বরে বললো….
—”এবার উঠো তোমরা। বেরোতে হবে তো আমাদের। দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।”
চা*প*ড় দু’টো তেজ ও নির্ঝরের ঘাড়ের উপর পড়তেই ওরা কিছুটা বেঁ*কে গেলো, কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ বের করলো না। তেজ আর নির্ঝর কথার তালে ভুলেই গিয়েছিলো এখানে সারফারাজও উপস্থিত আছে। আর সারফারাজের সামনেই ওরা দু’জনে ঝর ঝর করে এতোগুলো মি*থ্যে কথা বলেছে। আতুশি ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে সারফারাজের দিকে তাকিয়ে বললেন…..
—”কি কাজ এখন আবার তোমাদের একসাথে? রাত হয়ে গিয়েছে তো।”
তেজ আর নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালো। তেজ হেসে বললো…
—”ছোট চাচী মা, অনেক জরুরি একটা কাজ আছে আমাদের। শহরের বাইরে আমাদের যে বাংলো বাড়িটা আছে না ওখানে আজ রাতের জন্য কিছু আত্মীয় এসে উঠেছেন হঠাৎ করেই।”
শিউলি ভ্রু কুঁচকে বললেন….
—“ওখানে অতিথি উঠেছে তাও এই রাতে? কিন্তু ওখানে কেনো উঠতে হবে তাঁদের! বাড়ির সবাই আমরা থাকি এখানে অতিথিরা তো এখানে আসবে তাই না!”
নির্ঝর দ্রুত স্বরে বললো….
—“আব-মা! ওনারা আমাদের রিলেটিভদের মাঝে কেউ না। তেজ ভাইয়ের বন্ধুর ছোট বোন হয় ২ জনই সম্পর্কে। আজই লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছে পরিবারকে না জানিয়ে। কাল সকালে তাঁদের সারপ্রাইজ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। অনেক বছর পর দেশে ফিরেছে তাই রাতে নতুন জায়গায় থাকতে ভয় পাচ্ছে। এই কারণে তেজ ভাইয়ের বন্ধু হুট করেই ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে ওনাদের আমাদের বাংলো বাড়িতে এনেছেন। তাই আমাদের ওখানে যেতে হবে। ওনাদের কোনো কিছুর প্রয়োজন পরে কিনা সেটা দেখাটা তো আমাদের দায়িত্বের মাঝেই পরে বলো!”
আতুশি পিহুর দিকে তাকিয়ে বললেন….
—“তুমিও যাচ্ছো নাকি ওখানে মা?”
পিহু বিনয়ের সাথে মাথা নেড়ে বললো….
—“জি, ছোট চাচী মা। মেয়েরা আছে শুনে উনি বললেন আমি আর নীরা সেখানে গেলে ভালো হবে।”
নীরা বললো…
—“হুম মা, আমি আর ভাবী থাকলে মেয়ে দু’জন ওখানে থাকতে একটু স্বস্তি বোধ করবে। দেশে আসার পর এটা ওনাদের জন্য ১ম রাত হবে। তাই ওনাদের অস্বস্তির মাঝে রাখাটা ঠিক হবে না আমাদের।”
শিউলি বললেন—
—“তাহলে ঠিকই আছে যাও তোমরা।”
সারফারাজ সামনে এসে দাঁড়িয়ে শান্ত কণ্ঠে বললো…..
—“চিন্তা করো না তোমরা। আমিও থাকবো ওদের সাথেই। আর আগামীকাল সকাল সকালই বাসায় ফিরে আসবো সবাই ইনশাআল্লাহ।”
আতুশি সারফারাজের দিকে তাকিয়ে সন্তুষ্ট ভঙ্গিতে বললেন…
—“তুমি ওদের সাথে থাকলে আমাদের আর ভয় নেই। সাবধানে যেও সবাই।”
তেজ আর নির্ঝর দু’জনেই যেনো মনে মনে হাঁ*ফ ছেড়ে বাঁচলো। অতঃপর ওরা সবাই একসাথে বের হলো খান ভিলার ভিতর থেকে। মূল দরজা পেরিয়ে বাড়ির বাইরে পা রাখতেই সারফারাজ সেখানে দাঁড়িয়ে গেলো। তেজ আর নির্ঝর সামনের দিকে হাঁটছিলো। পিহু আর নীরা সারফারাজকে দাঁড়াতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো ওর পাশেই। সারফাজার গম্ভীর স্বরে তেজ ও নির্ঝরকে উদ্দেশ্য করে বললো…..
—“এই, দু’জনেই দাঁড়া ওখানে!”
পিছন থেকে সারফারাজের গলা শোনা মাত্রই তেজ আর নির্ঝর থমকে দাঁড়ালো। অতঃপর সারফারাজের দিকে ঘুরতেই দেখলো সারফারাজ শান্ত মুখশ্রী নিয়ে এগিয়ে আসছে ওদের দিকেই। নির্ঝর একবার শুকনো ঢোক গি*ললো। সারফারাজের তেজী রূপের থেকে এই শান্ত রূপটাই ওদের দু’জনকে বেশি ভী*ত করে দেয়। ওদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে সারফারাজ বললো…..
—“এইমাত্র আমার সামনে বসে যা করলি তোরা দু’জন সেটা কি আমি ভুলে গিয়েছি বলে মনে হচ্ছে তোদের? আমাকে কি বধির মনে করিস তোরা?”
তেজ শুকনো ঢোক গিলে বললো….
—“ভাইয়া তখন তো..!”
সারফারাজ ওদের সামনে ডান হাতের শাহাদত আঙুলটা তুলে বললো….
—“চুপ, একদম চুপ। একটা কথা বলবি না।”
নির্ঝর মনে মনে বললো….
—”শেষ, সব শেষ। আজ আর বড় ভাইয়ার হাত থেকে বাঁচার কোনো চান্স নাই।”
সারফারাজ ধমকের স্বরে বললো…..
—“এতো সাবলীল ভাবে অভিনয় করতে করতে অবলীলায় ঝর ঝর করে এতোগুলো মিথ্যা বলার সাহস তোরা পাস কোথায়? হ্যাঁ?”
সারফারাজের ধমকে তেজ আর নির্ঝর মৃদু ভাবে কেঁপে উঠে চোখ নামিয়ে নিলো। নীরা পিহুর দিকে খানিকটা হেলে ঠোঁট চেপে হেসে বললো……
_”কিছুদিন পর আমার ভাইদের ঢালিউডের ডিরেক্টররা কিড*ন্যা*প করে নিয়ে যাবে তাদের সিনেমায় একটু অভিনয় করে দেওয়ার জন্য বুঝছো ভাবীপু।”
পিহু হাসি নিয়ন্ত্রণ করে বললো…..
—”চুপ করো, তোমার ভাই শুনতে পারলে তোমাকেও দু’টো কথা শুনিয়ে দিবে।”
নির্ঝর মিনমিনে গলায় বললো….
—“বড় ভাইয়া, তখন তো পরিস্থিতির চাপে পরে বলে ফেলেছিলাম৷”
নীরা ফিসফিসিয়ে বললো….
—“প্রেমে পড়লে সবাই এমনই বলে৷”
সারফারাজ বললো…..
—”আমার সামনে বসে যেভাবে অবলীলায় মি*থ্যা কথাগুলো বললি তোরা আমার মনে হচ্ছিলো আমি তোদের বিনাপয়সায় মি*থ্যা বলার জন্য ট্রেনিং দিয়ে থাকি। অথচ মি*থ্যা জিনিসটাকে আমি কতো ঘৃ*ণা করি৷”
তেজ বললো—
—“সরি ভাইয়া, আসলে তখন মি*থ্যা না বললে আজকে আর বাড়ি থেকেই বের হতে দিতো না চাচী মা’রা।”
সারফারাজ কিছু বলতে নিবে সেইসময় পিহু সারফারাজের পাশে এসে দাঁড়িয়ে ওর কাঁধের উপর হাত রেখে শান্ত কন্ঠে বললো…..
—”আচ্ছা যা হওয়ার হয়েছে তো। এখন বাদ দিন এসব কথা। এমনিতেই বেচারাদের উপর দিয়ে কম ঝড় বয়ে যাচ্ছে না!”
সারফারাজ পিহুর দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো…..
—”তুমি এই তিনটে’কেই সব বিষয়ে প্রশ্রয় দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলে ফেলছো বুঝছো! তাই তো ওরা যেকোনো অ*কর্ম করে বসলে তা থেকে নিস্তার পেতে সবার আগে তোমার খোঁজই করে।”
—”ওরা তো আপনারই ছোট ভাই-বোন। আর আপনার বউ হওয়ার সূত্রে ওরা আমারও ছোট ভাই-বোন হয়। তাই ওদের ভালো-মন্দ উভয় সময়েই সঙ্গ দেওয়া আমার উচিত। তবে ভু*ল করলে যে ব*কা দিবো না এমনও না। ভু*লের পরিমাণ বুঝে শাস*ন করবো অবশ্যই আর তা হবে সীমিত সময়ের জন্য। শা*সনের মাত্রা কখনও এতোটা বাড়িয়ে দেওয়া উচিত না যার ফলে ছোটদের আমাদের সাথে দু’টো কথা বলতে ১০০ বার ভাবতে হয়, বুঝলেন!”
পিহুর কথাগুলো শুনে তেজ, নির্ঝর, নীরা তিন জনের ঠোঁটেই তৃপ্তির হাসির রেখা ফুটে উঠলো। সারফারাজ বললো…..
—”হুম বুঝলাম।”
পরক্ষণেই তেজ আর নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে বললো….
—“শোন, আজকের পর থেকে শুধু আমার সামনেই না আর কারোর কাছে মি*থ্যা কথা বলবি না। পছন্দ করেছিস, ভালোবাসবি বলে ঠিক করেছিস কিন্তু সবার সামনে দাঁড়িয়ে সাহস রাখবি সত্য বলার।”
তেজ আর নির্ঝর এক সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে ‘আচ্ছা’ বললো। অতঃপর ওরা সবাই গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো বাংলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। সারফারাজ ড্রাইভ করছে। পাশের সিটে পিহু বসেছে আর পিছনের সিটে তেজ ও নির্ঝরের মাঝে নীরা বসেছে। নীরা ফিসফিসিয়ে তেজকে বললো…..
—”মেজো ভাইয়া! আমাদের হবু ভাবী কি তোমার স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে সব জানে?”
তেজ ভ্রু কুঁচকে নীরার দিকে তাকিয়ে বললো…..
—”আমার স্বভাব-চরিত্রে কোনো খুঁ*ত আছে নাকি যে তা জানার পর ইলমা আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে?”
—”হুম সেটাই, তোমার স্বভাব-চরিত্র তো ফুলের মতো পবিত্র। মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
তেজ সঙ্গে সঙ্গে নীরার কাঁধ ছোঁয়া চুলের একটু অংশ টান দিতেই নীরা হালকা ব্য*থা অনুভব করে ‘আহহ’ বলে উঠলো। সারফারাজ বললো……
—”কি শুরু করেছিস তোরা পিছনে বসে? আর একটা শব্দ করলে এখানেই গাড়ি থেকে সব ক’টাকে নামিয়ে দিবো বললাম।”
সঙ্গে সঙ্গে ওরা তিনজন একসাথে এপাশ-ওপাশ মাথা নাড়িয়ে ‘এমনটা না করার কথা’ বুঝিয়ে নিজেদের মুখের উপর আঙুল ঠেকালো। পিহু ওর দৃষ্টি জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে স্থির করে রেখেছে। সব চুলই হাত খোঁপা করে রাখা রয়েছে তবুও সামনের কিছু ছোট অবাধ্য চুল যা খোঁপার বাঁধনে বাঁধতে রাজি না তা বাতাসে উড়ছে। সারফারাজ ড্রাইভ করার পাশাপাশি আঁড়চোখে পিহুকে দেখছে। খানিকটা অন্যমনস্ক মনে হচ্ছে পিহুকে সারফারাজের। তবুও এখানে বাকিদের সামনে এ বিষয়ে কথা তুললো না সারফারাজ। মনে মনে ঠিক করলো, নিরিবিলি ক্ষণ বুঝে জিজ্ঞেস করবে পিহুকে ওর অন্যমনস্তক থাকার পিছনে কি কারণ রয়েছে।
লম্বা সময় এর ড্রাইভ শেষে সারফারাজ গাড়ি নিয়ে ওদের বাংলো বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। যথাস্থানে গাড়ির ব্রেক কষতেই ওরা সবাই একে-একে গাড়ি থেকে নামলো। সারফারাজ গাড়িটা পার্কিং সাইডে রাখার জন্য চলে গেলো। কিয়ৎক্ষণ পর সারফারাজ ফিরে আসতেই ওরা সবাই একসাথে বাংলো বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। পিহুর এ নিয়ে ২য় বার আসা হলো এ বাড়িতে। এ বাড়ির প্রতিটা জিনিস পিহুকে বড্ড আকর্ষণ করে, মুগ্ধ করে।
সারফারাজ সোফায় গিয়ে বসলো। তেজ বললো….
—”আমি ওদের ডেকে আনছি। দোতলার ঘরে আছে ওরা।”
সারফারাজ ছোট্ট করো ‘হুম’ বললো। নির্ঝর আর নীরাও বসলো সোফায় গিয়ে। পিহু ড্রয়িংরুমে রাখা শো-পিচ গুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে। তেজ সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় ইলমা ও অনু যে রুমে আছে সেই রুমের দরজায় নক করলো। ভিতর থেকে ইলমার কন্ঠে ভেসে এলো….
—”কে?”
তেজ বললো….
—”আমি, তেজ। ভিতরে আসতে পারবো কি?”
—”হুম, আসুন।”
তেজ আধ ভিড়ানো দরজাটা খুলে ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখলো অনু ঘুমিয়ে গিয়েছে আর ইলমা অনুর মাথার পাশে বসে আছে। ইলমা ধীরস্বরে বললো….
—”আপনাদের আসার অপেক্ষা করতে করতেই মেয়েটা ঘুমিয়ে গিয়েছে। এতো সময় লাগলো আসতে!”
তেজ বললো….
—”কাজ তো ছোট দেন নি। বাড়িতে গিয়ে বাড়ির সদস্যদের মানিয়ে এখানে আনতে হয়েছে সময় তো লাগবেই।”
ইলমা ভ্রু উঁচিয়ে বললো…..
—”আপনি সত্যি সত্যিই আপনার বাড়ির সদস্যদের নিয়ে এসেছেন এখানে?”
—”কেনো আপনি সত্যিই আনতে বলেন নি তখন আমাদের?”
—”আমি তো এমনিই বলেছিলাম। কিন্তু আপনি যে আমার এক কথায় কাজটা করে ফেলবেন ভাবি নি।”
ইলমার এমন কথা শুনে তেজের মুখ হা হয়ে গেলো মূহূর্তেই। কি বলে এই মেয়ে? মজা কেউ এভাবে করে? ইলমা বিছানা থেকে নেমে তেজের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো…..
—”কে কে এসেছেন?”
তেজ নিজেকে সামলে নিয়ে বললো…..
—”আব-আ-আমার বড় ভাইয়া, ভাবী আর ছোট বোন এসেছে। নির্ঝর তো আছেই।”
—”আচ্ছা, চলুন ওনাদের সাথে পরিচয় হয়ে আসি।”
—”হু-হুম চলুন।”
অতঃপর ওরা দু’জনে একসাথে রুম থেকে বের হলো। ইলমা ওরা পরণে থাকা ওড়নাটা ভালো শরীরে জড়িয়ে নিলো। সিঁড়ি বেয়ে ওরা যখন নিচে নামছিলো তখন ড্রয়িংরুমে বসারত সবার দৃষ্টি ইলমার উপর স্থির হলো। সারফারাজ তীক্ষ্ণ নজরে ইলমাকে একবার দেখে নিয়ে পরপরই দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। নীরা বললো…..
—”মাশাআল্লাহ, কি সুন্দরী উনি।”
নির্ঝর বললো….
—”তেজ ভাইয়ের আগে ওনাকে আমি দেখেছিলাম আর কেস তেজ ভাই-ই আগে খেয়েছে।”
—”উনিই তাহলে ইলমা!”
—”হুমম।”
ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়াতেই ইলমা সারফারাজকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিলো….
—”আসসালামু আলাইকুম, বড় ভাইয়া।”
সারফারাজ সালামের উত্তর দেওয়ার পর পিহু স্বাভাবিক সৌজন্যে ইলমার দিকে এগিয়ে এসে মৃদু হেসে বললো….
—“ওয়ালাইকুম আসসালাম। আমি পিহু, তেজের বড় ভাই সারফারাজের স্ত্রী।”
ইলমা পিহুর দিকে তাকিয়ে রইলো কিয়ৎক্ষণ। পিহুর শ্যমরঙা মুখশ্রী জুড়ে অসম্ভব মায়া রয়েছে যার কারণে যে কারোর নজর ওর উপর আটকে যায় ক্ষণিকের জন্য। ইলমা বললো……
—“আপনাকে দেখে খুব ভালো লাগলো ভাবী। আপনাকে অনেক শান্ত ও স্নিগ্ধ মনে হচ্ছে।”
—“তোমাকেও মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর লাগছে।”
সেইসময় নীরা পিহুর পাশে এসে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে বললো….
—“আমি নীরা। এ বাড়ির সবথেকে ছোট সদস্য।”
ইলমা হেসে বললো….
—”আপাতত যেখানে দাঁড়িয়ে আছো সেখানে তোমার থেকেও বয়সে ছোট আরেকজন আছে।”
নীরা ভ্রু উঁচিয়ে বললো….
—”কে আছে?”
তখুনি ওর স্মরণ হলো অনুর কথা। সঙ্গে সঙ্গে নীরা বললো….
—”অনু!”
ইলমা মাথা নেড়ে বললো…..
—”হুম অনু। তোমাকে দেখার পর আন্দাজ করে মনে হলো অনু তোমার ছোটই হবে।”
পিহু বললো….
—”অনু কোথায়? ও নিচে আসলো না যে!”
নির্ঝরের নজর তখন পুনরায় দোতালার রুমটির দিকে গেলো। মনে মনে বললো…..
—”সত্যিই তো অনু নিচে আসলেন না কেনো! অসুবিধা কি বেড়ে গিয়েছে ওনার!”
ইলমা বললো….
—”অনু একটু অসুস্থ। জ্বর আছে। তাই ঘুমিয়ে গিয়েছে আপনারা আসার আগেই। যদি বলেন তাহলে ডেকে আনতে পারি!”
এই পুরো সময়টাই সারফারাজ চুপচাপ ইলমাকে পর্যবেক্ষণ করছিলো। ইলমার কথা বলার ভঙ্গি, চোখের ভাষা, দাঁড়ানোর ভদ্রতা কোনো কিছুই সারফাজাজের চোখ এড়ায় নি। সারফারাজ গম্ভীর কণ্ঠে বললো…..
—”না থাক, ঘুমিয়েছে যখন তখন আর ডাকার দরকার নেই। আপনি এসে বসুন। দাঁড়িয়ে কথা বলার দরকার নেই। বাকিরাও বসে পড়ো।”
ইলমা সহ সবাই মাথা নেড়ে সোফায় এসে বসলো। পিহু, নীরা, ইলমা পাশাপাশি বসেছে আর ওদের মুখোমুখি ছেলেরা বসে আছে৷ সারফারাজ সোজাসাপটা প্রশ্ন করলো…..
—”আপনার সাথে তেজ ও নির্ঝরের পরিচয় কিভাবে হয়েছিলো?”
ইলমা বিনা সংকোচে সবটা বললো। এখানে কতোদিন ছিলো সে বিষয়েও বললো৷ সারফারাজ শক্ত চোখে একবার তেজ ও নির্ঝরকে দেখে নিলো। তেজ আর নির্ঝর এখানে আসার পূর্বে ইলমার সাথে পরিচয় কিভাবে হয়েছিলো সে বিষয়ে সারফারাজ, পিহু ও নীরাকে বলার সময় এটা বলে নি যে তখন ২দিন মতো ইলমা এখানে থেকেছিলো। নীরা বিরবিরিয়ে বললো…..
—”তোমরা দু’জনেই যে গভীর জলে ডুবে ডুবে জল খাওয়া জলপা*ঠা তা আমার আর বুঝতে বাকি নাই ভাইও।”
সারফারাজ বললো….
—”আপনার আশ্রমের ঠিকানাটা দিয়েন আমাকে।”
ইলমা বললো….
—”আমি ঠিকানা দিতে পারবো না আপনাকে ভাইয়া। মাফ করবেন আমায়। কারণ ঐ আশ্রমের সকল স্মৃতি আমি আমার মন ও মস্তিষ্ক থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলেছি। আমি চাই না এ বিষয়ে আর কখনও কিছু মনে করতে।”
পিহু সারফারাজের চোখের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো এখানেই থেমে যেতে। সারফারাজ পিহুর চোখের ভাষা বুঝতে পেরে এ বিষয়ে আর কথা বাড়ালো না৷ পিহু বললো….
—”সমস্যা নেই৷ আমাদের সবার লাইফেই ভালো-মন্দ উভয় সময়ই আসে। তাই ভালো সময় গুলো মনে রেখে খারাপ সময় গুলোর স্মৃতি মুছে ফেলে আমাদের সবসময় হাসিখুশি থাকা উচিত। তুমি যা করছো ঠিকই করছো।”
ওরা আরো বেশ কিছু সময় বসে কথাবার্তা বললো। অতঃপর রাত যথেষ্ট হওয়ায় মেয়েরা সবাই চলে গেলো রুমে রুমে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে। তেজ আর নির্ঝর সারফারাজের সাথে রয়ে গিয়েছে ড্রয়িংরুমেই। তেজ বললো…..
—”ইলমাকে তোমার কেমন লাগলো ভাইয়া?”
সারফারাজ শব্দ করে একবার নিঃশ্বাস ফেলে বললো…..
—”মানুষ চিনতে মানুষরাই বড্ড ভু*ল করে তেজ। অনেকেই ১০ বছর একসাথে থেকেও অপর মানুষটিকে চিনতে পারে না। সেখানে এই ক্ষণিকের আলাপে কোনো শিউরিটি তোকে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। যা সিদ্ধান্ত নেওয়া ভেবে-চিন্তে নিস। এতোটুকুই বলবো। আর নির্ঝর একই পরামর্শ আমার তরফ থেকে তোর জন্যও রইলো। তোরা আমার ছোট ভাই। তোদের খারাপ হোক তা আমি কখনও চাই না৷”
তেজ আর নির্ঝর ওদের নজর নামিয়ে রেখেছে। সারফারাজ ওদের পাশ থেকে উঠে রুমের দিকে অগ্রসর হলো। নির্ঝর তেজের কাঁধের উপর নিজের মাথাটা রেখে শান্ত কন্ঠে বললো…..
—”কি করবে তাহলে ভাই? সামনের দিকে আগাবে নাকি এখানেই থেমে যাবে?”
তেজ কিয়ৎক্ষণ নিরব থাকার পর বললো…..
—”রি*স্ক না নিলে আফ*সোস থেকে যাবে। তাই রি*স্ক নিয়েই দেখি। পরে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে নাকি খা*রাপ তা তখনই দেখা যাবে না হয়।”
নির্ঝর আর কিছু বললো না।
পরেরদিন সকালবেলা……
পিহু নীরার সহযোগীতায় সকাল সকাল সবার ঘুম থেকে উঠার আগেই নাস্তা বানানোর কাজ শেষ করেছে। খাবার টেবিলের উপর সব খাবার সুন্দর করে সাজানোর সময় সকলেই নিজ নিজ রুম থেকে বেড়িয়ে এলো। দোতলা থেকে অনুকে নিয়ে ইলমাও নিচে আসছে। অনুর জন্য ওরা অপরিচিত। তাই ভিতরে ভিতরে কিছুটা সং*কোচ বোধ কাজ করছে অনুর। ইলমা অনেক বুঝিয়ে নিচে আসার জন্য রাজি করিয়েছে ওকে।
নিচে ডাইনিং টেবিলের চারপাশে ইতিমধ্যেই সবাই জড়ো হয়েছে। পিহু খাবারের শেষ প্লেটটা টেবিলে রেখে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই চোখে পড়লো দোতলা থেকে নামতে থাকা ইলমা ও অনুকে। পিহুর ওর ঠোঁটে হালকা হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে বললো….
—“এই যে, আমাদের মাঝের সবথেকে ছোট অতিথি এসে পড়েছেন!”
পিহুর কণ্ঠে এরূপ কথা শোনামাত্র অনুর ভিতরে অন্যরকম বোধ কাজ করলো। ইলমা ফিসফিস করে বললো….
—“ভয় পাচ্ছো কেনো অনু? ওনারা সবাই অনেক ভালো।”
ইলমা অনুকে নিয়ে ডাইনিং টেবিলের সামনে আসতেই নীরা চেয়ার ছেড়ে উঠে অনুর পাশে এসে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বসিত গলায় বললো…..
—“এই তুমিই অনু তাই না? আমি নীরা। তুমি আমার থেকে ছোট তাই আজ থেকে আমি তোমার আপু হবো। আমায় আপু বলেই ডাকবে কেমন!”
অনু হালকা হাসি দিয়ে মৃদু স্বরে বললো….
—“নীরা আপু বলবো।”
নীরা হাসিমুখে বললো……
—“ভিতরে ভিতরে কেমন তৃপ্তি কাজ করছে। এতোদিন আমি পরিবারের সবথেকে ছোট হওয়ায় আমার উপর বড়রা রাজত্ব চালিয়েছে আজ আমার থেকেও ছোট কাউকে পেলাম। যার উপর আমিও একটু আধটু রাজত্ব চালাতে পারবো।”
তখুনি নির্ঝর নীরার মাথার পিছনে আলতো করে একবার বা*রি মে*রে বললো…
—”কিসের রাজত্ব চালিয়েছি রে আমরা তোর উপর? কোন দিক থেকে স্বাধীনতা কম পেয়েছিস তুই?”
নীরা নাক ছিঁ*টকে বললো…..
—”বড় ভাইয়া, দেখো না ছোট ভাইয়া সবার সামনে আমার মাথায় চা*টি মা*রলো।”
নির্ঝর ইশারায় ভে*ঙা*লো নীরাকে। নীরা আবারও ‘বড় ভাইয়াআআ’ বলা মাত্র সারফারাজ বললো….
—”নির্ঝর, চুপচাপ বস নিজের জায়গায়। কেনো জ্বা*লা*তন করছিস ওকে!”
নির্ঝর নীরাকে জিহ্বা দেখিয়ে চেয়ারে বসে পড়লো। ভাই-বোনের এমন খুনসুটি দেখে অনুর ভ*য় ও সং*কোচ উভয় কে*টে গেলো অনেকটা। পিহু অনুর সামনে এসে দাঁড়িয়ে কোমল স্বরে বললো…..
—“জ্বর কেমন এখন? মাথা ব্যথা করছে?”
অনু লাজুকভাব নিয়ে মাথা নেড়ে বললো…..
—“এখন একটু ভালো লাগছে আপু।”
—”উহুহ, আপু না। ভাবী বলে ডাকবে আমায়।”
অনু ‘আচ্ছা’ বললো। পিহু অনুর কপালে-গালে হাত রেখে জ্বরটা মেপে ইলমার দিকে তাকিয়ে বললো….
—“হুম, তামপাত্রা খুব বেশি নেই। নাস্তা করিয়ে ওকে ঔষুধটা খাইয়ে দিয়ো ইলমা।”
ইলমা হাসিমুখে বললো…..
—“আপনি অনেক মিশুক ভাবী। আপনাদের সবারই মন অনেক ভালো। অনুর ভ*য় টা কাটিয়ে দিলেন আপনারা।”
পিহু হালকা হেসে বললো……
—“ভ*য় পেলে চলবে? এখানে আমরা কেউ কারোর পর না।”
পিহু ‘পর না’ কথাটা অনুর কানে পড়তেই ও আবার পিহুর দিকে তাকালো। অনুর চোখে এখন আর আগের সেই জড়তার ছাপ নেই। সারফারাজ নিরব থেকে পিহুর আচরণ, ওর প্রতিটা কথা লক্ষ্য করছিলো। পিহুর কথা ও আচারণের মধ্যে সম্পর্কে-বয়সে ওর থেকে ছোট সবার জন্য যে সহজাত মমতা সারফারাজ খুঁজে পাচ্ছিলো তা ওকে পিহুর প্রতি আরো মুগ্ধ করে দিচ্ছে। সারফারাজ শান্ত কণ্ঠে বললো…..
—“অনেক গল্প হয়েছে। এবার সবাই বসে পড়ো। অনু, তুমি আমার পাশে এসে বসো।”
অনু একটু অবাক হয়ে তাকালো ইলমার দিকে। ইলমা ইশারায় অনুকে বসার জন্য বললে অনু ধীরে সারফারাজের পাশে গিয়ে বসলো। নির্ঝর তেজের দিকে হালকা হেলে বললো…..
—“বড় ভাইয়ার মনে হয় অনুকে পছন্দ হয়েছে।”
তেজ বললো……
—“ভালো মানুষদের প্রতি ভাইয়ার দুর্বলতা চিরকালই ছিলো এখনও আছে।”
অতঃপর সবাই নাস্তা করতে শুরু করলো। পিহু নিজের হাতে সবার প্লেটে খাবার তুলে দিলো। নীরা একের পর এক বিষয় নিয়ে গল্প শুরু করে দিয়েছে অনু ও ইলমার সাথে। নীরাী স্কুল, কলেজ ও ভাইদের সাথে বাড়িতে করা খু*ন*সুটির কাহিনী শুনে অনু ও ইলমা প্রাণখুলে হাসছে। বাকিরাও শুনছে সেসব। মাঝেমধ্যে নির্ঝর আর তেজের গোপন দুষ্টুমির বিষয়ে নীরা বেফাঁ*সে কিছু বলতে নিলে ওর দু’পাশে বসা তেজ ও নির্ঝর একসাথে নীরাকে হয় কনুই দ্বারা গুঁ*তো দিয়ে ওকে থামিয়ে দেয় নয়তো চিম*টি কা*টে। সারফারাজ ইলমা ও অনুর দিকে তাকিয়ে বললো…..
—“আজ দিনের জন্য তোমাদের কোনো পরিকল্পনা আছে নাকি?”
ইলমা বললো…..
—“বিশেষ কিছু নেই বড় ভাইয়া। অনুর জ্বরটা যেহেতু নেমেছে তাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা আমাদের বাসার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়বো।”
এই কথাটা শোনামাত্র তেজ ও নির্ঝর উভয়ের মুখের রং বদলে গেলো। ফট করেই নির্ঝর বলে ফেললো…..
—“আজই যেতে হবে?”
পরপরই নির্ঝর ওর মুখের উপর হাত রাখলো। কারণ ভুল জায়গায় ভুল প্রশ্ন করে ফেলেছে সে।
নীরা সারফারাজের দিকে তাকিয়ে বললো……
—”বড় ভাইয়া, তুমি যদি পারমিশন দাও তাহলে আমি একটা কথা বলতে চাই।”
—”হুম বল।”
—”বাড়িতে আমি আর ভাবী সারাদিন একা-একা থাকতে থাকতে বড্ড বোর হয়ে উঠেছি। আজ ইলমা আপু আর অনুর সাথে থাকার পর অনেক ভালো লাগছে। তুমি যদি রাজি থাকো তাহলে আমরা কিছুদিন এখানে থাকতে চাই। ইলমা-অনুও এখানেই আমাদের সাথে থাকবে না হয়!”
ইলমা দ্রুত স্বরে বললো….
—”না, না। সে কি করে হয়! এমনিতেই তেজ আর নির্ঝর আমাদের অনেক উপকার করেছেন। এর মাঝে আপনাদের এখানে আরো ক’দিন থাকাটা ঠিক হবে না। তাছাড়া আমি নতুন নতুন কাজে জয়েন করেছি। সেখানে আজ থেকেই যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কাল থেকে যাবো ঠিক করেছি। তাই ফিরে যাওয়াটাই ঠিক হবে আমাদের জন্য।”
পিহু শান্ত স্বরে বললো….
—“অনু তো অসুস্থ। তুমিও কাল থেকে কাজে চলে যাবে চলছো। তখন অনু বাসায় একা থাকবে। ওর কোনো স*মস্যা হলে তো দেখার কেউ থাকবে না।”
ইলমা শব্দ করে নিঃশ্বাস ফেললো কেবল। সারফারাজ বললো…..
_”পিহু ঠিক বলেছে। ইলমা, আমারও মনে হয় তোমাদের ক’টাদিন এখানেই থেকে যাওয়াটা ভালো হবে। তোমার কাজে যাওয়া যদি এতোটাই জরুরি হয় তাহলে তেজ তোমায় তোমার কাজের জায়গায় এ ক’দিন দিয়ে আসা-নিয়ে আসার কাজটা করবে না হয়।”
ইলমা কিছু বলার আগেই তেজ বললো…..
—”আমার কোনো সমস্যা নেই ইলমাকে নিয়ে যেতে ও আসতে।”
নীরা আর নির্ঝর ঠোঁট চেপে হাসছে তেজের রিয়াকশন দেখে। ইলমা অনুর দিকে তাকালো। অনুরও এখানে থাকা নিয়ে সম্মতি আছে যে তা ওর নিশ্চুপতাতেই বুঝতে পারলো ইলমা। অতঃপর ইলমা শান্ত স্বরে বললো…..
—“ঠিক আছে ভাইয়া। আমরা থাকছি এখানেই ক’দিন।”
তেজ আর নির্ঝরের ঠোঁটে হাসির রেখা ফুটে উঠলো। পিহু সারফারাজকে উদ্দেশ্য করে বললো….
—”আপনি বাসায় মা-চাচী’মা দের বলে দিয়েন তাহলে আমাদের বাসায় ফিরতে ক’দিন দেড়ি হবে। এখানেই থাকবল আমরা এ-ক’দিন।”
না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৯ (৩)
সারফারাজ ছোট্ট করে ‘ঠিক আছে’ বললো। ড্রয়িংরুমে সোফায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলো ওরা সবাই। সারফারাজ বেড়িয়েছে জরুরি কিছু কাজের কথা বলে অনেকক্ষণ হলো। আড্ডার ফাঁকেই ইলমা তেজের পাশে এসে বসলো পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে। অতঃপর বললো…..
—”মনে আছে আপনার আজ অনুকে আপনার বন্ধু ডাক্তারের কাছে চেক আপ এর জন্য নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো!”
তেজ বললো….
—”হুম, মনে আছে। নিয়ে যাবো। ভাবী আর নীরাও সাথে থাকবে। সমস্যা হবে না কোনো।”
ইলমা কিছু বললো না প্রতিত্তুরে।
