Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২
মাইশা জান্নাত নূরা

নির্ঝর ভাবুক স্বরে বললো….
—”তেজ ভাই আমার মাথায় না একটা বিষয় ঘুরপাক খাচ্ছে।”
তেজ ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”কী বিষয়?”
নীরা একবার তেজের দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার নির্ঝরের দিকে। নির্ঝর বললো….
—”সারফারাজ ভাই সে যে আমাদের দু’জনকে এখানে বসে থাকতে বলে ভাবীর সাথে রুমে গেলেন ফ্রেশ হওয়ার জন্য এখনও আসলেন না। ফ্রেশ হতে কারোর এতো সময় কি করে লাগতে পারে? বিশেষ করে সারফারাজ ভাইয়ের মতো পানচুয়াল ও সিরিয়াস মাইন্ডের একজন মানুষের এটাই আমি ব….!”
নির্ঝর পুরো কথা শেষ করার আগেই তেজ নির্ঝরের মুখ চেপে ধরলো শক্ত ভাবে। অতঃপর দাঁতে দাঁত চেপে বললো…

—”২৪ বছরের দাম*ড়া আ*ড়িয়া গরু হয়েছিস এখনও পশ্চাৎদেশ থেকে বের হওয়া সব গু মাথার ভিতরেই জমিয়ে রাখিস শা*লা!”
নির্ঝর ওভাবে থেকেই কেবল ‘উম উম’ করছে। নীরা অবাক চোখে তাকিয়ে বললো….
—”মেজ ভাইয়া তুমি ছোট ভাইয়ার মুখ কেনো চেপে ধরলে? আর ওভাবেই বা বলছো কেনো ওকে?”
তেজ নীরার দিকে তাকিয়ে জোর পূর্বক হাসার চেষ্টা করে বললো…..
—”ওসব তুই বুঝবি না। যা নিজের রুমে গিয়ে গুড়া দুধ পানিতে গুলে ফিডারের বোতলে ভরে তা খা। তাহলে এই গ*র্ধ*ভের মতো মাথা ভর্তি কেবল গু-ই থাকবে না গু পঁচে সার ও হবে।”
নীরা ওর দু’ভ্রু খানিকটা উঁচিয়ে বললো…
—”মেজ ভাইয়া তুমি সব সময় আমাদের ২ ভাই-বোনকে অ*প*মান করো। এটা কিন্তু ঠিক না।”
—”গেলিইইই..!”
—”যাচ্ছি তো।”

এই বলে নীরা গাল ফুলানো অবস্থাতেই স্থান ত্যগ করলো। তেজ তৎক্ষনাৎ নির্ঝরের মুখের উপর থেকে হাত সরালে নির্ঝর ধপ করে মেঝের উপর বসে জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে বললো…..
—”আমার বিয়ের আগে আমার চল্লিশা খাওয়ার শখ হয়েছিলো তোমার আগে বললেই পারতে। ম*রার জন্য সহজ রাস্তা পছন্দ করে নিতাম। এভাবে দম আটকিয়ে সময় নিয়ে মা*রা*র বে*হুদা রাস্তা অন্তত চিন্তাতেও আনতাম না।”
তেজ খানিকটা বিরক্তি মিশ্রিত কন্ঠে বললো….
—”চুপ শা*লা।”
—”আমি তোমার ছোট ভাই। নির্ঝর খান নাম আমার। তোমার শালা নই আমি না হতে পারা দুলাভাই।”
—”বেশি মুখ চালালে তোর মুখ সোজা আমার টয়লে…!”
নির্ঝর হাত উঠিয়ে তেজকে থামিয়ে দিয়ে বললো…..
—”থাক আর বলতে হবে না। বুঝে গিয়েছি আমি।”
—”বিয়েটা কর তারপর যদি বউকে নিয়ে দিনে-দুপুরে রুমের দরজা লক করেছিস তখন তোর ইংকি-পিংকি-পংকি করা বের করে অবস্থাও খারাপ করবো আমি মনে রাখিস।”
নির্ঝর ভ্রু উঁচিয়ে বললো…..

—”কেনো? কেনো? আমি আবার তোমার কোন পাঁকা ধানে মই দিলাম?”
তেজ হিসহিসিয়ে বললো…..
—”ছোট বোনের সামনে নিজের মাথার সব গু ফ্লাশ মে*রে মুখ নামক পশ্চাৎদেশ দিয়ে বের করলি যে একটু আগে ভুলে গিয়েছিস?”
নির্ঝর ভেঁ*ব*লা কান্তের মতো হেসে বললো….
—”ওও ঐ কথা!”
তারপরই নিজের কথার মানে নিজেই উপলব্ধি করতে পেরে নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে ওর জিহ্বায় কাঁ*ম*ড় বসালো। তেজ বললো…
—”কি চান্দু? মাথা খুলেছে তাহলে এইবার? রিয়াকশন দেখে তো মনে হচ্ছে যে খুলেছে।”
নির্ঝর ‘হেহেহে’ শব্দ করে হেসে বললো….
—”নিশ্চিৎ ছোট বেলায় মা আমাকে হরলিক্স এর ডেইট এক্সপায়ার হয়ে যাওয়ার পরও সেই গুলো ঘুঁটে খাইয়েছিলো তাই বুদ্ধির উৎপত্তি সঠিক সময়ে না হয়ে চোর পালানোর পর হয়।”
তেজ ‘উফহহহ’ বলে শব্দ করে নিঃশ্বাস ছেড়ে নিজ রুমের উদ্দেশ্য হাঁটা ধরলো। নির্ঝর গালের উপর হাত রেখে তখনও ড্রয়িংরুমেই বসে আছে।

সারফারাজ আর পিহুর অবস্থানরত রুম জুড়ে এইমূহূর্তে একধরনের নরম লজ্জা আর অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছে।
ঘরের বাতিটা ম্লান ভাবে আলো ছড়াচ্ছে। পিহু দু’হাটু ভাঁজ করে চুপচাপ বসে আছে বিছানার একপাশে। লম্বা, ঘন কালো চুলগুলো হালকা এলোমেলো অবস্থায় ছড়িয়ে আছে। কিছু চুল অবাধ্যের ন্যায় মেঝেকে ছোঁয়ার বৃথা চেষ্টা করছে।
পিহুর শ্যম রঙা গাল জোড়ায় ছড়িয়ে আছে হালকা লালচে আভা। দৃষ্টি দু’পায়ের উপর স্থির। দু’হাতের শাহাদাত আঙুল দ্বার পায়ের উপর এসে পরা ওড়নার আঁচলটা খুঁ*টে যাচ্ছে সে।
সারফারাজ উন্মুক্ত বুকে কেবল একটা ট্রাউজার পরিহিত অবস্থায় সোফায় বসে পানি পান করছে। পরিচিত সেই গাড় নীলাভ মণি বিশিষ্ট তীক্ষ্ণ চোখ জোড়া পিহুর উপরেই স্থির করে রেখেছে সে। সাওয়ার নিয়েছে একটু আগে তাই উন্মুক্ত ফর্সা বুকজুড়ে থাকা লোমকূপ গুলোতে জমে আছে বিন্দু বিন্দু পানি। হালকা জ্বল জ্বল করছে তা। সারফারাজ পানির গ্লাসটা টি-টেবিলের উপর রেখে ধীরস্বরে বললো…

— “এভাবে চুপচাপ আর কতো সময় বসে থাকবে হায়াতি?”
আজ অনেকদিন পর সারফারাজের কন্ঠে ‘হায়াতি’ নামে নিজেকে সম্বোধিত হতে শুনে পিহু সঙ্গে সঙ্গে মাথা তুলে তাকালো সারফারাজের দিকে। পরপরই চোখাচোখি হতেই লজ্জায় পিহু দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে নিচু স্বরে বললো….
— “আমি এভাবেই ঠিক আছি।”
সারফারাজ ভ্রু তুলে বললো….
—“ঠিক আছো বলে তো মনে হচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে আমি তোমাকে অপ*হরণ করে এনেছি তাই বিছানার উপর চুপচাপ জড়ো-সড়ো হয়ে বসে আছো।”
পিহু কিছুটা হক*চ*কিয়ে উঠে বললো…..
—”কই না তো! আমি তো এমনিই, এমনিই এভাবে বসে আছি।
সারফারাজ এগিয়ে এসে বিছানার সামনে দাঁড়ালো। দৃষ্টি স্থির করলো পিহুর মুখশ্রীপানে। অতঃপর বললো….
—“কথায় কথায় লজ্জায় মূ*র্ছা যাওয়ার অভ্যাসটা কখনও তোমার পিছু ছাড়বে না তাই তো বউ?”
পিহু কিছু না বলে দু’হাটুর আড়ালে মুখ লুকালো। সারফারাজ হালকা হেসে বললো…..
—”পরপর দু’বার বাসর করলাম। তবুও বউ আমার এমন ভাবে লজ্জা পাচ্ছে যেনো আজ আমাদের ১ম রাত হতে চলেছে।”
পিহুর ইচ্ছে হচ্ছিলো ছুটে কোথাও পালিয়ে যেতে। পিহু ওভাবে থেকেই বললো…..

—”আপনার কি আর কোনো কাজ নেই আমাকে লজ্জা দেওয়া ছাড়া?”
—”আপাতত অবসর সময় কাটছে আমার। আর এই অবসর সময়ে সবথেকে প্রিয় যে কাজটা সেটাই করছি এইমূহূর্তে আমি।”
—”আপনার ঠোঁট-কাঁটা স্বভাবের জন্যই লজ্জা নামক শব্দটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”
সারফারাজ ঠোঁট চেপে হেসে বললো…..
—”আমার স্বভাবের ঠোঁটও আছে জানতাম না তো? আর তা কাঁটলো কিভাবে?”
পিহু হাঁটুর ভাঁজ থেকে মুখ তুলে সারফারাজের দিকে তাকিয়ে বললো…..
—”রঙ্গ করতে বসেছেন?”
—”বসতে আর দিলে কই? কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি তো তোমার পাশেই।”
পিহু বিছানা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে হাতখোঁপা করতে করতে বললো….
—”নিন পুরো বিছানাটাই ছেড়ে দিলাম আপনার বসার জন্য।”
এই বলে পিহু যেতে নিলে সারফারাজ পিহুর হাতটা টেনে ধরে নিজের কাছে টেনে আনলো কিছুটা। টাকর খানেক দুরত্ব বিরাজ করছে ওদের মাঝে এই মূহূর্তে। পিহু দূর্বল কন্ঠে বললো…..

—”কি হলো!”
—”কই কিছু হয় নি তো।”
পিহু ওর দৃষ্টি নত রেখে বললো…..
—”ওয়াশরুমে যাবো আমি।”
—”কেনো?”
লজ্জারা আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে পিহুকে। পিহু বললো……
—”সব ভেঙে-চুড়ে বলতে হবে আপনাকে আবার?”
—”বলতে পারবে না জানি তাই বুঝে নিলাম।”
নিজেকে সারফারাজের হাতের বাঁধন থেকে মুক্ত করার খানিক চেষ্টা নিয়ে বললো….
—”ছাড়ুন।”
—”আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো ‘ছাড়ুন’ ছেড়ে দিবো।”
—”আমার লজ্জা করছে।”
—”বিয়ের পর থেকে এখনও পর্যন্ত আমার দিকে ঠিকভাবে তাকিয়ে কথা বলতে পারো নি তুমি।”
পিহু নিশ্চুপ। ওর বুকের ভিতরটা ধুকপুক ধুকপুক করছে যেনো। সারফারাজ পিহুকে ছেড়ে দিকে বিছানায় বসে বললো…..

—”সময় থাকতে প্রিয় মানুষদের দু’চোখ ভরে দেখে নিতে হয়, ভিতরে জমে থাকা সব কথা বলে শেষ করতে হয়, তার সামনে প্রাণ খুলে হাসতে হয়, প্রতিটা সেকেন্ড এমন ভাবে কাটাতে হয় যদি পরের সেকেন্ডটাই জীবনের শেষ সময় হয় তখন যেনো কোনো কিছু নিয়ে ভিতরে আফসোস জমে না থাকে।”
পিহুর সব লজ্জা-টজ্জা মূহূর্তেই গায়েব হয়ে গেলো যেনো। চোখ তুলে তাকালো সে সারফারাজের দিকে। অদ্ভুত লাগছে দেখতে পিহুর কাছে ওর সামনে বসে থাকা মানুষটাকে। পিহু একবার ঢোক গি*লে নিয়ে বললো…..
—”আপনার আগে আল্লাহ আমার মরণ কবুল করুক।”
সারফারাজ বললো…

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩১

—”এমনও তো চাইতে পারতে আমাদের মৃ*ত্যু*টা একসাথে হোক। যেনো কেউ কাউকে ছেড়ে থাকার কষ্টে একা অনুভব করে ধুঁ*কে ধুঁকে না ম*রে।”
—”সইতে পারবো না।”
—”নিয়তির লিখন কেউ কি জানে? ভাগ্যের চাকা যেকোনো সময় যেকোনোদিকে ঘুরে যেতে পারে।”
পিহু আর দাঁড়াতে পারলো না সারফারাজের সামনে। ছুটে চলে গেলো ওয়াশরুমের ভিতরে। দরজাটা লাগিয়ে দিলো খানিকটা শব্দ করেই। সারফারাজ কিয়ৎক্ষণ সেপানে চেয়ে থাকার পর বিছানায় এলিয়ে দিলো শরীরটা।

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২ (২)