Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২ (২)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২ (২)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২ (২)
মাইশা জান্নাত নূরা

ওয়াশরুমের ভেতরে দরজার সাথে হেলান দিয়ে কিয়ৎক্ষণ নিরব ভাবে দাঁড়িয়ে রইলো পিহু। ওর বুকটা যেনো এখনও ধুকপুক করছে অনিয়মিত ছন্দে। পিহুর দৃষ্টি যখন পড়লো সামনে থাকা বেসিনের উপরের আয়না পানে তখন সেখানে নিজের প্রতিচ্ছবিকে দেখতে নিজের কাছেই কেমন অচেনা অচেনা লাগলো ওর। হরিণটানা চোখজোড়া হালকা লালচে মতো হয়ে আছে, কাজল লেপ্টে গিয়েছে, টলমল করছে নোনাজলরা, ঠোঁট জোড়াও কাঁপছে মৃদুভাবে। পিহু এগিয়ে এসে বেসিনের নলটা ছেড়ে দিলো। মৃদু শব্দে পানি পড়ছে এক ধারায়, এক স্থানে। দু’হাত কলের নিচে দিয়ে পানি নিয়ে সম্পূর্ণ মুখে ছিটিয়ে নিলো পিহু। অতঃপর আয়নার উপর দৃষ্টি স্থির করে ধীর স্বরে বললো…….

—“কেনো সবসময় এমন কথা বলেন উনি? ওনার মুখে মৃ*ত্যুর কথা, বি*চ্ছে*দের কথা শুনলে যে আমার বুকের ভেতরে চিনচিনে ব্য*থা অনুভব হয় তা কি উনি বুঝেন না? নাকি বুঝেও বারবার এমন করেন!”
পিহু ওর নিজের করা প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না। অতঃপর পিহু গোসল সেরে নিলো। সারফারাজ ওর গোসলের আগে আলমারি থেকে নিজের কাপড় নেওয়ার সময় পিহুরও এক সেট কাপড় বের করে ওয়াশরুমে নিয়ে রেখেছিলো। তাই এখন গোসল সেরে কাপড় নেওয়ার জন্য আলাদা করে বেগ পেতে হলো না পিহুকে।
ওয়াশরুমের বাহিরে সম্পূর্ণ রুমের পরিবেশটা নিস্তব্ধ রূপ ধারণ করে আছে। সারফারাজ চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। কপালের উপর কয়েকটা ভাঁজ স্পষ্ট ফুটে আছে। বুকের ভেতরে কোনো এক কোণে বইছে অদৃশ্য ঝড়।
লম্বা সময় পর ওয়াশরুমের দরজা খুলে পিহু বের হলো। গোসল করার পরেও ওর চোখের মণির চারপাশে থাকা সাদা অংশের উপর পড়া সেই লালচে ভাবটা পুরোপুরি ভাবে যায় নি। সারফারাজকে নিরব ভাবে শুয়ে থাকতে দেখে পিহু ভাবলো ও ঘুমিয়ে আছে৷ পিহু ওর মাথা থেকে তোয়ালেটা খুলে ভেজা চুলগুলোকে মুক্ত করলো। ড্রেসিনের সামনে দাঁড়াতেই সারফারাজের গম্ভীর কন্ঠ পিহুর কানে এসে পৌঁছালো…..

—”এই অবেলায় এতো লম্বা সময় নিয়ে গোসল করলে যে! ঠান্ডা লেগে যাবে না?”
পিহু আয়নার উপর দৃষ্টি স্থির রেখে নরম স্বরে বললো….
—”অবেলায় গোসল করার অভ্যাস আমার আছে। এতো সহজে ঠান্ডারা আমায় কা*বু করতে পারবে না।”
পিহুর ভিতরে আগের ন্যায় লজ্জা, হালকা অস্বস্তিরা নড়ে-চড়ে বসার চেষ্টা করছে। আর পিহু তাদের দমানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। সারফারাজ শোয়া থেকে উঠে বসলো। পিহুর চুলের আলাগ থেকে টপ টপ করে কিছু পানি ওর কামিজের নিম্নাংশকে ভিজিয়ে দিচ্ছে আর কিছু পানি মেঝের উপর পরে জ্বল জ্বল করছে। সাদা রংয়ের টাইলস হওয়ায় তীব্র লাইটের আলোর প্রভাবেই মূলত এমনটা বোঝা যাচ্ছে।
সারফারাজ ওর কণ্ঠটা এবার আগের তুলনায় খানিকটা নরম করে বললো……

—“আমি কি তোমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলাম?”
পিহু দ্রুত এপাশ-ওপাশ মাথা নেড়ে বললো…..
—“না তো।”
সারফারাজ এবার পিহুর দিকে ছুঁ*ড়লো সহজ একটি প্রশ্ন….
—“তাহলে পালালে কেনো?”
প্রশ্নটা ছোট্ট ও সহজ শোনালেও উত্তরটা করতে পারছে না পিহু। পরক্ষণেই সে বিছানার ঠিক সেই স্থানে এসে বসলো যেখানে খানিক আগে হাঁটু জড়িয়ে বসে ছিলো। সারফারাজের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পিহুর উপরেই স্থির। পিহু দৃষ্টি নত রেখেই ধীর স্বরে বললো……

—“আপনি হঠাৎ ওমন কথা বললেন তা শোনার পর মনে হলো বুকের ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে আসছিলো। নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিলো। তাই..!”
সারফারাজ কিছুক্ষণ নিরব রইলো। অতঃপর বললো….
—“আমি বাস্তব মেনে চলি। সত্য কথা অকোপটে বলে ফেলি। সাজিয়ে-গুছিয়ে কথা বলার অভ্যাস আমার নেই।”
পিহু নিরব প্রতিবাদী স্বরে বললো…..
—“সব বাস্তব কথা সবসময় বলতে হয় কি?”
সারফারাজের ভ্রু-যুগল কিন্ঞ্চিত কুঁচকে এলো। সে বললো….
—“তুমি চাইলে তাহলে আমি নিরব থাকতে পারি।”
পিহু তৎক্ষণাৎ মাথা তুলে তাকালো সারফারাজের মুখপানে। দ্রুত স্বরে বললো…..
—“না! একেবারে তো চুপ হয়ে যেতেও বলি নি।”
কথার মাঝে মাঝে ওদের মধ্যকার স্থিতিশীল নিরবতা ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টাচ্ছে যেনো। একবার গুমো*ট রূপ নিচ্ছে তো আরেকবার একে-অপরের মধ্যে কাজ করা চাপা অনুভূতি গুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা করছে।
সারফারাজ হাত বাড়িয়ে বেড সাইড টেবিলের উপর থেকে পানির বোতলটা তুলে পিহুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো….

—“পানি পান করো।”
পিহু দৃষ্টির রং পাল্টে অবাক রূপ নিলো। পিহু বললো…..
—“আমি তো…!”
পিহু কথা শেষ করার আগেই সারফারাজ আবারও বললো…..
—“তোমার কন্ঠস্বর কাঁপছে কথা বলার সময়। হাঁটুর উপর এনে রাঁখা আঙুলগুলোও কাঁ*পছে মৃদুভাবে। এই ছোট্ট বিষয়গুলো নজর এড়াতে পারে নি আমার।”
পিহু তখন খেয়াল করলো সত্যিই ওর আঙুলগুলো কাঁপছে মৃদুভাবে। পিহু তৎক্ষণাৎ পানির বোতলটা নিতে গিয়ে ওর আঙুল ছুঁয়ে গেলো সারফারাজের আঙুলে। ক্ষীণ এই স্পর্শে পিহুর শরীর কম্পিত হলো। পিহু এক নিঃশ্বাসে বোতলের অনেকটুকু পানি পান করলো। সারফারাজ শান্ত কণ্ঠে বললো…..

—“প্রহেলিকা পিহু!”
এই প্রথমবার সারফারাজ ওর পূর্ণ নাম ধরে ডাকলো। সবসময়‘হায়াতি’বা‘বউ’ডাক শুনে শুনে অভ্যস্ত হওয়া পিহুর সারফারাজের মুখে নিজের পূর্ণ নাম শুনতে কেমন যেনো লাগছে। পিহু ছোট্ট করে বললো…..
—“জি!”
—“তুমি কি এখনও আমাকে নিয়ে অস্বস্তিতে আছো?”
পিহু ধীরে মাথা নেড়ে বললো…..
—“ঠিক অস্বস্তি না। আপনার সাথে ফ্রী হওয়ার অভ্যাসটা তৈরি হয় নি আমার এখনও।”
সারফারাজ ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বললো….
—“আর ক’বার বাসর করলে তৈরি হবে তোমার সেই অভ্যাস?”
—”জানি না৷”
—”যখন তুমি লজ্জা পাও তখন তোমায় দেখতে আমার এতো ভালো কেনো লাগে জানো?”
পিহুর দৃষ্টি বলে দিচ্ছে সে জানে না, তবে জানতে চায়। সারফারাজ বললো….
—”তখন তোমার মুখ জুড়ে সত্য অনুভূতিরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। তোমার চোখ জোড়া অদ্ভুত মায়া ছড়ায়। ঠোঁট জোড়া মৃদু ভাবে কাঁপে, গালে রক্তিম আভা বিরাজ করে যার প্রভাব তোমার নাকের ডগা-কানের লতি পর্যন্ত এসে পড়ে।”
পিহু সারফারাজের পানে তাকিয়েই পিট পিট করে চোখজোড়ার পাতা ফেলছে। সারফারাজের নিরব দৃষ্টি ছন্দ তুলে বলছে…..

❝মায়াবিনী, আমার চোখে চেয়ে দেখো…
দেখো না চেয়ে! ভাঙা মনে আমারও আছে কতো আশা…
ভেবো না আর, বাঁধন তোমার খুলে দিলাম…
আকাশ নীলে ডানা মেলে দিও তোমার
ডাকে তোমায় নতুন জীবন…..❞
কয়েক সেকেন্ড পর সারফারাজের গভীর নীলাভ চোখজোড়া অদ্ভুত শান্ত রূপ ধারণ করলো। সে মৃদু স্বরে বললো…..
—“দেখো, পারছো আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে।”
পিহুর গলা শুকিয়ে এলো সারফারাজের এমন কথায়। ছোট্ট করে বললো….
—“কষ্ট হচ্ছে।”
—“আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে?”
—“না।”
—”তাহলে?”
—“নিজেকে সামলাতে কষ্ট হচ্ছে।”
এক মুহূর্তের জন্য সারফারাজের দৃষ্টি নরম হলো। সারফারাজ হাত বাড়িয়ে পিহুর মুখের উপর এসে পড়া কিছু এলোমেলো চুলকে ওর কানের পেছনে সরিয়ে দিলো। ওর এই হালকা স্পর্শেও পিহু শিউরে উঠলো। সারফারাজ বললো…..

—“এভাবে প্রতি পদে পদে নিজেকে এমন আড়ষ্ট করে নিলে আমাদের সংসার কিভাবে চলবে, হায়াতি?”
পিহু বললো—
—“ভয় হয়।”
—”আমাকে ভয় পাও?”
—”না, আপনাকে হারানোর ভয় হয়।”
—“আমি তো কোথাও যাচ্ছি না তোমায় ছেড়ে বউ।”
—“তবুও আজ আপনার কথাগুলো শুনে মনে হল, যেনো আপনি দূরে কোথাও চলে যাচ্ছেন আমাকে ছেড়ে।”
সারফারাজ ছোট্ট করে শ্বাস ফেলে বললো…..
—“জীবনে চলার পথে সময়রা সরল পথে চলে না সবসময়, বউ।”
পিহু চমকে তাকিয়ে বললো….

—“মানে?”
সারফারাজ সরাসরি উত্তর না দিয়ে পিহুর ডান হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় আলতো ভাবে বন্দি করে বললো…..
—“যদি কোনোদিন সময় উল্টো দিকে ঘুরে যায়, তখনও কি আমার পাশে এভাবেই দাঁড়াতে পারবে তুমি?”
পিহুর শ্বাস আটকে আসবে মনে হচ্ছে। তবুও বললো…..
—“আমি তো আপনার পাশেই আছি, এমপি সাহেব।”
—“সব পরিস্থিতিতে?”
পিহু ভাবার জন্য সময় নষ্ট না করেই বললো…..
—“হুম, সব।”
সারফারাজ স্মিত হাসলো। ওর সেই হাসির রূপ ছিলো শান্ত, স্নিগ্ধ। সারফারাজ বললো…..
—“তাহলে আজ থেকে একটা অভ্যাস তৈরি করতে হবে তোমায়।”
—“কি অভ্যাস?”
—“আমার থেকে না পালানোর অভ্যাস।”
পিহু ধীরে বললো…..

—“আপনি যদি ওমন কথা আর না বলেন তাহলে তৈরি করবো সেই অভ্যাস।”
সারফারাজ পিহুর দিকে খানিক ঝুঁকে এসে নিচু স্বরে বললো…..
—“আমি আর মৃ*ত্যুর কথা বলবো না বিনিময়ে তোমায় আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলারও অভ্যাস করতে হবে।”
পিহুর বুক আবারও ধুকপুক করতে লাগলো। মনে মনে নিজেকেই সে শুধালো…..
—”কি পারবি তো তুই এই অভ্যাসগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে?”

রাত ৯ টা….
বাংলো বাড়ির ডাইনিং টেবিলে বসে রাতের খাবার খাচ্ছে সারফারাজ, তেজ, নির্ঝর, পিহু, ইলমা, নীরা। ডাক্তার দেখানো শেষে সেই যে নীরা ইলমা ও অনুর জন্য খাবার দিয়ে এসেছিলো তখন খেয়ে অনু ঘুমিয়েছে আর উঠে নি। ইলমা এখন নিচে আসার আগে ডাকলে বলেছে, ‘এখন আর সে খাবে না, ক্ষুধা নেই’। ইলমা তাই আর জোর করে নি। একাই নিচে এসেছে। খাবার খেতে খেতে সারফারাজ শান্ত কন্ঠে বললো….
—”অনুর চেক-আপ শেষে ডাক্তার কি বললো তেজ?”
তেজ পুরো বিষয়টা খোলাশা করে বললো। সারফারাজ বললো…..
—”আগে ঠিক করা হয়েছিলো অনুর শরীর কিছুটা সুস্থ হলে ওরা ২জন চলে যাবে নিজ বাসায়। কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছি। অনু যতোদিন না পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছে ওরা ২জনে আমাদের সাথেই থাকবে।”
ইলমা কিছুটা অবাক চোখে তাকালো সারফারাজের দিকে।নীরা বললো…
—”কিন্তু বড় ভাইয়া এতোদিন বাড়ি ছেড়ে আমরা এখানে থাকবো কিভাবে? আর নির্বাণকেও আনার ব্যবস্থা করেছো তুমি। তখন তো আমাদের ও বাড়ি যেতেই হবে।”

—”এখানে তো থাকবো না ততোদিন।”
নির্ঝর বললো….
—”তাহলে?”
সারফারাজ সহজ ভাবে বললো…..
—”ইলমা আর অনু আমাদের সাথে খান ভিলায় যাবে। ওখানেই থাকবে ওরা।”
তেজ আর নির্ঝরের মুখ হা হয়ে গেলো তৎক্ষনাৎ। ওরা দু’জনেই একসাথে একপ্রকার চিল্লিয়ে বললো ‘কিহহহহহ!!’
ওদের দু’জনের এমন রিয়াকশনে পিহু, নীরা, ইলমা কিছুটা হতভম্ব হলেও সারফারাজ আগের ন্যায় স্বাভাবিক-ই আছে। সারফারাজ শান্ত কন্ঠে বললো…..
—”হুম। আশা করছি আমার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উপস্থিত কারোর কোনো সমস্যা নেই।”
ইলমা ছোট্ট করে একবার নিঃশ্বাস ফেলে বললো…..
—”ভাইয়া, হুট করে আমরা ২জন প্রায় প্রাপ্তবয়সের অবিবাহিত মেয়ে আপনাদের বাসায় গিয়ে থাকতে শুরু করলে বিষয়টা কি আর সবাই ভালো নজরে দেখবে? সমাজ…!”
ইলমাকে বাকি কথা শেষ করতে না দিয়ে সারফারাজ বললো….

—”সমাজের পরোয়া সবসময় করলে চলে না ইলমা। এইমূহূর্তে অনুর সুস্থতা, তোমাদের ২জনের নিরাপত্তাটাই আমার কাছে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর আমাদের বাড়ির সিনিয়র সদস্যরা সবাই মাটির মানুষ। ভিষণ সহজ-সরল। মেজো চাচা খানিক রাগী। তবে মনটা ভালো তারও। একটু বুঝিয়ে বললে সবাই মেনে নিবেন। কোনো জটিলতা তৈরি হবে না এ নিয়ে চিন্তা করো না।”
ইলমার অশান্ত মনটা খানিক স্বস্তি পেলো সারফারাজের কথায়। সারফারাজ এমনই একজন মানুষ যার প্রতিটা কথার মাঝেই ভরসা, বিশ্বাস, সততা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ খুঁজে পাওয়া যায়। ইলমার নজরে সারফারাজ যেনো পরিপূর্ণ ভাবে গুণী একজন মানুষ।

সকাল বেলা…..
সারফারাজ ওর কাজে বেড়িয়ে গিয়েছে সকাল সকালই। সকালের নাস্তা পর্যন্ত করার ফুরসত হয় নি আজ ওর। নাস্তার টেবিলে বসে সকালের নাস্তা করছিলো বাকিরা সবাই। অনু এখন উপস্থিত আছে সবার মাঝে। আগের মতোই চুপচাপ নিজের মতো খাবার খাচ্ছে সে। ইলমা তেজকে উদ্দেশ্য করে বললো…..
—”তেজ! আমাকে আজ কফিশপে ছেড়ে দিয়ে আসবেন!”
তেজ বললো….
—”আজ থেকেই কাজে লেগে পড়বেন ঠিক করেছেন!”
—”হুম। এখন থেকে নিয়মিত যেতে হবে।”
—”আচ্ছা, খাওয়া শেষে রেডি হয়ে নিন। নামিয়ে দিয়ে আসবো আপনাকে।”
পিহু বললো….
—”তোমার কাজের সময় শেষ হয় কয়টায় ইলমা?”
—”রাত ৮ টা মনে হয়।”
—”তেজ, আবার রাতে ইলমার কাজ শেষে ওকে আনতে ভুলো না যেনো তুমি। দায়িত্বটা নিষ্ঠার সাথে পালন করিও।”
তেজ বললো….

—”চিন্তা করবেন না ভাবী। আপনার দেবররা দুষ্টুমিতে সেরা হলেও নিজেদের উপর বর্তানো দায়িত্বের প্রতি অব*হেলা করে না এখন আর।”
অতঃপর ওরা সবাই খাওয়া শেষ করলো। ইলমা নীরাকে বলে দিয়েছে অনুর দুপুরের ঔষধ গুলো যেনো সে দেয়। নীরা সে বিষয়ে আস্থা দিয়েছে ইলমাকে। ৩০ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে ইলমা ড্রয়িংরুমে আসতেই দেখলো তেজ একটা সাদা গোল গলার গেন্ঞ্জির উপর গাঢ় নীল রংয়ের শার্ট পড়েছে। শার্টের সবগুলো বোতাম ই খুলে রাখা রয়েছে। হাতা দু’টো কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে রাখা। নিচে একটা স্লিম ফিট জিন্স পড়া। বাম হাতে মিনিমাল ডিজাইনের ঘড়ি পড়েছে। আর পায়ে রয়েছে স্নিকার্স। চুলগুলো পরিপাটি ভাবে সেট করে রেখেছে। এই রূপে তেজকে সাধারণ, এলিগ্যান্ট লাগছে।
ইলমা ওর দৃষ্টি সরিয়ে নিলো তেজের উপর থেকে। তখুনি তেজের নজর ইলমার উপর পড়তেই ওর চোখ আটকে গেলো। ইলমরা ফর্সা মায়াবি মুখশ্রী ও পাতলা গড়নের শরীরে বাটিক প্রিন্টের থ্রি-পিচটা দারুণ মানিয়েছে। পিঠ ছুঁই ছুঁই চুলগুলো খুলে রেখেছে। ওড়না ঠিকঠাক ভাবে জড়িয়ে রেখেছে শরীরের উপরিভাগে। হাতে সিম্পেল একটা ঘড়ি, আর পাশে ফ্লাট জুতো ব্যস ইলমার মেকআপ বিহীন এই মার্জিত সৌন্দর্যপূর্ণ লুকে তেজ মুগ্ধ। তেজ এক প্রকার ঘোর লাগা কন্ঠে বললো…..

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২

—”বিউটিফুল।”
কিন্তু ওর মনটা যেনো ছন্দ তুলে বললো…..
❝Kya pukaroo tumhe….?
(কি বলে ডাকবো তোমায়….?)
Dilnashi🍁
(মনের রাণী)
Najniiii❤️‍🔥
(স্নিগ্ধতা)
Mahruu💞
(লাবন্যময়ী)
Mehjabee💝
(মোহনীয়া)
yea saab hea naam tumhareee…❞
(এই সবগুলো নাম-ই তোমারই)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২ (৩)