Home সীমান্তরেখা সীমান্তরেখা পর্ব ২২

সীমান্তরেখা পর্ব ২২

সীমান্তরেখা পর্ব ২২
ঝিলিক মল্লিক

মেজবাহকে ব্লক দেওয়ার সাড়ে তিন ঘন্টা কেটে গেছে। এরমধ্যে মেজবাহ আর অন্য কোনো নাম্বার থেকে ওকে কল-টেক্সট করেনি। এবং সেই আশাও করে না আকসা। ও দিব্যি রান্নাঘরে বসে মায়ের সাথে রুটি বানাচ্ছে। আজ রুটি-নেহারি আর হালুয়া রান্না করা হবে। সেজন্য মা’কে কাজে সাহায্য করছে।
ইফান বাইরে থেকে এসেছে সবে। হাতে কতগুলো বাজারের ব্যাগ। ক্লান্ত ও। পুরো বাজার চষে বেড়িয়ে সবকিছু কিনে এনেছে। এতো বাজার-সদাইয়ের লিস্ট, তারওপর বাজারে আজ মারাত্মক ভীড়। সবমিলিয়ে ওর বেশ শ্রম গেছে আজ। ইফান বাসায় এসেই রান্নাঘরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আকসার কাছে পানি চাইলো আগে। আকসা উঠে জগ থেকে পানি ঢালছিল; তখন ইফান পেছন থেকে প্রশ্ন করলো, “মেজবাহ’র সাথে কি তোর কথা হয়েছে আকসা?”
“না ভাইয়া।”

আকসা পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে নির্বিকার চিত্তে জবাবটা দেয়। ইফান চিন্তিতভাবে বলে, “হঠাৎ ওর কি হলো কে জানে! এখানে এসে দশ মিনিটও ঠিকমতো বসলো না৷ পরে আমি কল দিলাম। কলও রিসিভ করলো না৷ বোধহয় গাড়িতে আছে, এজন্য। দেখি পরে আবার কল দেবো।”

আকসা কোনোকিছু না বলে পুনরায় পিঁড়িতে বসে নারকেল কোড়াতে ব্যস্ত হলো। তার ভাইটা আসলেই বোকা। এই একমাত্র বন্ধু তার কাছে এমন যে, এড়িয়ে গেলেও বুঝতে পারে না। মনকে নানান কথা বলে সান্ত্বনা দেয়। আকসা সামান্য দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ভাইয়ের জন্য খারাপ লাগে ওর। তবে কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারে না৷ এখনই কিছু বলা যাবে না কাউকে। সবকিছুর একটা সময়, সুযোগ আর পরিস্থিতি থাকে। আপাতত সেই পরিস্থিতিটা নেই। সময়-সুযোগ বুঝে ঠিক সবাইকে জানিয়ে দেবে ও। আকসার আম্মু রুটি ছেঁকছিলেন তাওয়ায়। তখন ড্রয়িংরুমের টি-টেবিলের ওপরে আয়েশা বেগমের ফোনটা কর্কশ শব্দে বেজে উঠলো। আয়েশা বেগম রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন বলে ইফানকে বললেন ফোনটা নিয়ে আসতে। ইফান বেরিয়ে গিয়ে ড্রয়িংরুম থেকে মায়ের ফোন এনে তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো— “তোমার বেয়াইন কল দিয়েছে।”

আকসা রুটি বেলার পরে কতগুলো হয়েছে, সেটা গুনছিল। ভাইয়ের কথা শুনে দ্রুত ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। ইতিমধ্যে আয়েশা বেগম কল রিসিভ করে ফোন কানে তুলে নিয়েছেন। ফোনের ওপাশ থেকে কথার আওয়াজ আসতেই আয়েশা বেগম হেঁসে জবাব দিলেন, “ওয়ালাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি বেয়াইন। আপনারা সবাই কেমন আছেন?”
ইশা বেগম ওপাশ থেকে জবাব দিলেন, “আলহামদুলিল্লাহ সবাই ভালো আছে। তবে আমি তো একটু চিন্তায় আছি বেয়াইন।”
আয়েশা বেগম উদ্বিগ্নতার সহিত জিজ্ঞাসা করলেন, “কীসের চিন্তা বেয়াইন?”
“এইযে বাড়িতে যা সব কান্ড হচ্ছে।”
“কী হয়েছে?”

“ছেলেটা সপ্তাহখানেকের ছুটি নিয়ে এসেছিল বাড়িতে। এদিকে দু’দিন পেরোতেই আবার চলে গেল। এমনিতেও আমার ছেলেটা খুব একটা ছুটি কাটায় না৷ বেশিরভাগ ছুটি পেন্ডিং রেখে দেয়। এবার আসলেও হঠাৎ কেন যে চলে গেল, সেটাই বুঝতে পারলাম না৷ আবার সাথে বৌমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও নিলো না৷ ওকে আপনাদের বাড়িতে দিয়ে আসলো। আমাদেরকেও সেভাবে কিছুই বললো না৷ কি যে হচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছি না৷ ছেলেটাকে ফোন কোরেও পাচ্ছি না। দুশ্চিন্তা হচ্ছে খুব।”
“আমিও ঠিক বুঝতে পারিনি বেয়াইন। জামাই এসে তো বসলো না। ঠিকমতো কিছু খেলোও না৷ মেয়েকে দিয়েই হুট করে চলে গেল।”

“ওদের মধ্যে কী কোনো ঝামেলা হয়েছে?”
ইশা বেগমের প্রশ্নের জবাবে আয়েশা বেগম বললেন, “আকসাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বললো তো কোনো ঝামেলা হয়নি।”
ইশা বেগম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, “একটা অনুরোধ করবো আপা?”
“জি আপা বলুন। কী অনুরোধ?”
“বলছিলাম, বৌমাকে পাঠিয়ে দেওয়া যায় না আজ? আসলে আগামীকাল আমাদের আমার ছোট ননদের বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত আছে তো, সেখানে সবার যাওয়ার কথা। আমার ছেলে আর বৌমারও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হুট করে কি থেকে যে কি হয়ে গেল! এখন তাদের বাসায় আগামীকাল আকসাকে ছাড়া গেলে তো তারা ওর কথা জিজ্ঞাসা করবে। হয়তো অসন্তুষ্টও হবেন। কারণ, আকসার সেখানে নিশ্চিতভাবে যাওয়ার কথা ছিল। আমি আগে থেকেই বলে রেখেছিলাম। এখন ও না গেলেই নয় বেয়াইন। দেখেন, কোনোভাবে ওকে এখন একটু কষ্ট করে পাঠিয়ে দেওয়া যায় কিনা। দরকার হয়, ওকে আগামীকাল দিন পরে পরশু আবার দিয়ে আসবো আমি। ক’দিন আপনাদের ওখানে থাকবে।”

আয়েশা বেগম কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়ে বললেন, “আচ্ছা আপা। দেখি, আমি ইফানকে দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
আকসা এতোক্ষণ রুটি বেলা বাদ দিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ওর মায়ের কথা শুনছিল। শেষোক্ত কথাটা শোনামাত্র ও নড়েচড়ে বসলো। ওর আম্মু কল কাটতেই আকসা অস্থিরতার সহিত জিজ্ঞাসা করলো, “কী হয়েছে আম্মু?”
“তোমাকে ও বাড়িতে যেতে হবে এখন। কাজবাজ ছেড়ে দ্রুত তৈরি হয়ে নাও। ইফান গিয়ে দিয়ে আসবে।”
শেষোক্ত কথাটা আকসার উদ্দেশ্যে বলে ইফানের দিকে তাকালেন আয়েশা বেগম। তারপর আদেশের সুরে বললেন, “আকসাকে ওর শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে আসো এখন। আগামীকাল ওর ননদের শ্বশুরবাড়িতে যেতে হবে। সেখানে না গেলেই নয়। মুখ রক্ষা তো করতে হবে। নাহলে লোকে নানান মন্দ কথা বলবে। তাছাড়াও বেয়াইন অনুরোধ করলেন খুব। না পাঠিয়ে থাকি কীভাবে? দাঁড়াও আমি হালুয়া, রুটি-নেহারি দিয়ে দিচ্ছি। সেগুলো নিয়ে যাও।”
আকসা হঠাৎ বেঁকে বসলো। বললো, “আমি যাবো না আম্মু।”
আয়েশা বেগম টিফিনবক্স বের করছিলেন। মেয়ের কথা শুনে চকিতে ঘাড় ঘুরিয়ে অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, “যাবে না মানে?”

“যাবো না মানে যাবো না। আমার এখন ওই বাড়িতে যেতে ইচ্ছা করছে না। এখানেই থাকবো আমি।”
“একটা দিনের-ই তো ব্যাপার। কষ্ট করে একটু থেকে আসো। তাছাড়াও তোমার শাশুড়ি অনুরোধ করেছেন। সেখানে তুমি না যাও কীভাবে? আর একটা কথাও শুনবো না আমি৷ জলদি গিয়ে তৈরি হও।”
মায়ের ধমক শুনে দপদপ করে হেঁটে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল আকসা। মনের বিরুদ্ধে গিয়ে তৈরি হয়ে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য ভাইয়ের সাথে রওয়ানা দিলো ও।

রাত তখন প্রায় সাড়ে বারোটার ওপরে। জেমির শাশুড়ি রান্নাঘরে অবস্থান করছেন তখনও। সাথে ওর চাচিশাশুড়ি, খালা শাশুড়ি আর বড় দুই খালাতো ননদও আছেন। তাদের ছেলেমেয়েরা সবাই ড্রয়িংরুমে হৈ-হুল্লোড় করছে। পুরো বাড়িতে লোক সরগরম। জেমির ছেলেকে ওর এক ননদ কেয়া কোলে নিয়ে ঘুরছে।
জেমি সব কাজ সেরে সবে হাত-মুখ ধুয়ে এসে বিছানায় বসেছে। তখনই ঘরের ভেজিয়ে রাখা দরজা খট করে খুলে গেল। জেমি তোয়ালে দ্বারা মুখ মুছছিল। তাকিয়ে দেখলো, আফসান এসেছে অফিস থেকে৷ ব্লেজারটা খুলে হাতে রাখা, গলার টাইও ঢিলা করে রাখা। সাদা ফর্মাল শার্টের কলারের অংশের পরপর তিনটে বোতাম খোলা। নিশ্চয়ই মেজাজ চমৎকার রকমের খারাপ লোকটার। নাহলে সর্বদা ডিসেন্ট, ফ্যাশন-সচেতন মানুষের একমাত্র মেজাজ খারাপ ব্যতীত এ-হাল হয় না কখনো। জেমি আড়চোখে দেখেও পাত্তা দিলো না৷ নিজের কাজে যেন ভয়ংকর রকমের ব্যস্ত ও। তোয়ালে রেখে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে বসে চুল আঁচড়াতে লাগলো৷ আয়নায় তাকিয়ে দেখলো, আফসান শিকদার ব্লেজারটা রকিং চেয়ারের ওপরে একপ্রকার মানুষ আছড়ে ফেলার মতো ছুঁড়ে মেরেছে। জেমি তবুও তোয়াক্কা করলো না৷ অন্যদিন একগ্লাস ফ্রিজের ঠান্ডা পানি এনে দেয়। আজ তা-ও আনলো না৷ আফসান ততক্ষণে ওয়াশরুমে চলে গেছে ফ্রেশ হতে। বের হলো যখন, তখনও জেমি ড্রেসিং টেবিলের সামনে। জেমি আয়নায় দেখলো, আফসান এবার ওর থেকে হাত তিনেক দূরে দাঁড়িয়ে। ওর দিকেই তাকিয়ে আছে একদৃষ্টিতে। মুখের হাবভাব ঠিক শান্ত নয়। হঠাৎ বন্ধ দরজার ওপাশ থেকর কেয়ার ডাক শোনা গেল। কেয়া ডাকছে বাইরে থেকে — “বৌমণি, আয়ান বাবু তো ঘুমিয়ে পরছে।”

কেয়ার কথা শোনার পর জেমি কিছু বলার আগেই আফসান এপাশ থেকে জোরে কেয়ার উদ্দেশ্যে বললো, “ওকে তোদের রুমে নিয়ে যা কেয়া। আমি যখন কল করবো, তখন দিয়ে যাস।”
আফসানের কথা শুনে বোধহয় কেয়া চলে গেল৷ ওর কথা শুনে জেমি এবার আর গুরুত্ব না দিয়ে পারলো না৷ চকিতে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। দেখলো, আফসান প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে দেখছে ওকে৷ জেমি এবার দ্রুত উঠে দরজার দিকে পা বাড়ালো। আফসানকে পাশ কাটাতে যাবে, তখনই আফসান ওর হাত টেনে ধরলো। জেমি চমকে দাঁড়িয়ে গেল৷ আফসান ওকে টেনে নিজের সামনে নিয়ে আসলো। জেমি পেশিবহুল হাতের মুঠো থেকে নিজের চুড়িসমেত হাত বের করার দৃঢ় প্রচেষ্টা করতে করতে বললো, “হাত ছাড়ুন। বাইরে যাবো আমি।”
আফসান আরো দ্বিগুণ শক্তিতে চেপে ধরে জেমিকে নিজের কাছে টেনে এনে দাঁতে দাঁত পিষে বললো, “রেহনুমাকে কী বলেছিলে যেন? আমি জাহেল? অমানুষ? তোমাকে সময় দিই না, গুরুত্ব দিই না। আমি ভালো স্বামী না?”
জেমি চমকে তাকালো আফসানের চোখের দিকে। অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো, “আমার বন্ধুর সাথে বলা কথাবার্তা আপনি জেনেছেন কীভাবে?”

“কী মনে করো তুমি? একেকটা স্ক্যান্ডাল করবে, আর আমি জানতে পারবো না? নিজের মতো বোকা ভাবো সবাইকে? ইউ নো না, আফসান শিকদারের কোনোকিছু জানতে পরিশ্রম করতে হয় না। ইনফরমেশন তার কাছে পায়ে হেঁটে চলে আসে। এতো বছর সংসার করেও আমাকে এখনো চিনতে পারোনি তুমি। সাচ অ্যা স্টুপিড গার্ল!”
শেষোক্ত কথাটা বলে জেমিকে আরেকটু কাছে টেনে নেয় আফসান। ওকে টেনে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে ফিসফিস করে বলে, “আমি ভালো স্বামী না, জাহেল, অমানুষ, তোমাকে সময় দিই না, গুরুত্ব দিই না— ব্লাব্লাব্লা! আসো, আজ তোমাকে ভালো স্বামী হয়ে দেখাই। এতো বেশি ভালো স্বামী হবো যে, তুমি সহ্যই করতে পারবে না৷ কাঁদতে কাঁদতে সেন্স হারাবে।”
জেমি এবার না পেরে ডুকরে কেঁদে উঠলো। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় কান্নারত স্বরে বললো, “আমি বাইরে যাবো। প্লিজ আমাকে ছাড়ুন। শাশুড়িআম্মা, কেয়া, তিন্নি কেউ আছো? প্লিজ দরজা খুলে দিয়ে যাও।”
“চুপ! এই দরজা আজ খুলবে না। যতক্ষণ না তুমি মন থেকে অনুতপ্ত হয়ে স্বীকার করবে, আমি একজন ভালো স্বামী। ওকে ডিয়ার ওয়াইফি?”

আকসা ওর শ্বশুরবাড়িতে এসে এখনো পর্যন্ত কারো সাথে সেভাবে কথা বলেনি। অবশ্য সময়-সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ওর শাশুড়ি আসামাত্রই ওকে আগে খাবারের টেবিলে বসিয়ে খাইয়ে দিয়েছেন। তাছাড়াও ইফান ছিল। তার সাথে কথাবার্তা বলেছেন। আকসার খাওয়া শেষ হওয়ার পরে ওকে ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছেন ঘুমানোর জন্য, যেহেতু অনেক রাত হয়ে গেছে। আকসা ভেবেছিল, ওর শাশুড়ি নিশ্চয়ই সন্ধ্যার বিষয় নিয়ে ওকে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন। কিন্তু ওর ধারণা ভুল হলো।

ঘরে আসার পরে আকসা ব্যালকনিতে যেয়ে চেয়ারে বসে ফোনে কথা বলছিল এতোক্ষণ। বাইরে বেশ হইচই চলছে। ও ভেবেছে, বাড়িতে এতো মানুষ, তারা নিশ্চয়ই হৈ-হল্লা করছে। আকসা আর ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দেখেনি। সেই ইচ্ছাও হয়নি ওর৷ কলির সাথে কথা বলা শেষ করে ও যখন ঘরে প্রবেশ করলো, তখন ঘরের লাইট অফ। আকসা-ই আলো নিভিয়ে ব্যালকনিতে গিয়ে বসে ছিল। ফোনটা মাত্রই বিছানার ওপরে রেখেছে। ফোনের ফ্ল্যাশ চালু করে লাইট অন করতে হবে। এজন্য ও বিছানা হাতড়ে ফোনটা খুঁজতে লাগলো। হঠাৎ দরজা খট করে খোলার আওয়াজ হলো৷ আকসার কর্ণকুহরে শব্দটা প্রবেশ করা মাত্রই ও চকিতে দাঁড়িয়ে গেল। অন্ধকারে বুকের ভেতর ঢিপঢিপ শব্দ হতে লাগলো। ও ধীরে ধীরে ঘুরে পেছনে ফিরে দাঁড়ালো। কিন্তু অন্ধকারে কিছুই স্পষ্ট দেখতে পেলো না। আকসা অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়াতেই আচানক পেছন থেকে দু’টো পেশিবহুল হাত ওর কোমর পেঁচিয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। আকস্মিক ঘটনায় চমকে উঠলো আকসা। হাতদু’টো একজন পুরুষের। কোনো অপরিচিত পুরুষ নয়। হলে এতোক্ষণে জোরে একটা চিৎকার দিতো আকসা৷ কিন্তু চেনা পুরুষের হাতের স্পর্শে হতবিহ্বল ও। একেবারেই অপ্রত্যাশিত। স্বপ্ন, কল্পনা নাকি ভ্রম—? আকসা কাঁপা স্বরে বললো, “কে—?”

“আমি, মেজবাহ ইফতেখার।”
তারমানে ভ্রম নয়, সত্যি! আকসা হতবাক। শরীরের সর্বশক্তি দ্বারা মেজবাহকে ধাক্কা দিতে দিতে কঠোর গলায় বললো, “আপনি না চট্টগ্রামে ফিরছিলেন? তাহলে এখানে কেন আবার?”
“ফিরছিলাম, ফিরিনি। এগেইন ব্যাক করলাম। দেখতে যে, তুমি কীভাবে আমাকে ডিভোর্স দাও।”
আকসা এতোটুকুও অবাক হয়নি৷ দাম্ভিক ব্যক্তিদের দ্বারা সব সম্ভব। ও মেজবাহ’র পায়ে এবার বারবার লাথি মারতে মারতে বললো, “ভালো কাজ করেছেন ব্যাক করে৷ এবার নাহয় চাক্ষুষ দেখুন, আপনাকে আমি কিভাবে ডিভোর্স দিই।”

সীমান্তরেখা পর্ব ২১

“হ্যাঁ, সেটাই তো দেখতে আসলাম—”
হঠাৎ আকসাকে সামনে ঘুরিয়ে এনে ওর অধরযুগল আচমকা নিজের অধরের মাঝে আঁটকে নিলো মেজবাহ। ফিসফিস করে বললো— “তুমি কীভাবে ডিভোর্স দাও, আমি মেজবাহ ইফতেখার সেটা দেখে ছাড়বো!”

সীমান্তরেখা পর্ব ২৩

3 COMMENTS

  1. এই যে সীমান্তরেখা গল্পের লেখিকা তুমি গল্পের পর্ব গুলো কমিয়ে দিলে আবার 2দিন পর দিতে এটা কিন্তু ঠিক না

Comments are closed.