না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৩
মাইশা জান্নাত নূরা
তেজ দ্রুত নিশার উপর থেকে চোখ নামিয়ে ফেললেও ওর মনের ভিতরে সাজানো হিসাব-নিকাশের রূপ একটুও বদলালো না। একটু পরই তেজ ওর ঠোঁটের কোণে পূর্বের ন্যায় বক্র হাসির রেখা স্পষ্ট করলো।
নিশা ওর হাতে থাকা গোলাপটা আঙুলের ফাঁকে ঘুরাতে ঘুরাতে তেজের দিকে তাকিয়ে বললো….
—”কি হলো বেইব? চোখ নামিয়ে নিলে যে? আমার এই লুক কি তোমার পছন্দ হয় নি? আমাকে কি দেখতে খুব খা*রাপ লাগছে?”
তেজ বিরবিরিয়ে বললো….
—”মানুষের রূপ নিয়ে স্বয়ং শ*য়*তান দাঁড়িয়ে আছে সামনে তাঁকে দেখার রুচি আমার মতো ভদ্র ছেলের না হওয়াটাই স্বাভাবিক।”
নিশা ভ্রু উচিয়ে বললো….
—”কি বললে?”
গলা খাঁকারি দিয়ে নিশার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বললো….
—“বললাম অনেক সুন্দর ভাবে সাজিয়েছো তুমি জায়গাটা।”
নিশা মন মরা স্বরে বললো….
—”শুধু ঘরটাই সুন্দর লাগছে তোমার কাছে ঘর সাজানো মানুষটাকে না।”
তেজ বললো….
—”তোমাকে শুধু সুন্দরই না এককথায় হট লাগছে।”
এই বলে তেজ ওর শরীর থেকে শার্টটা খুলে ফেললো। এখন শুধু সাদা রংয়ের টি-শার্টটা পড়া আছে ওর পরনে। অতঃপর বললো….
—”তোমার রূপের আগুনে আমার গরম ধরছে দেখেছো!”
তেজের মুখে এমন কমপ্লিমেন্ট শুনে নিশার শরীর ও মন খুশিতে যেনো দুলে উঠলো। নিশা বললো….
—“এই সব আয়োজন শুধু তোমারই জন্য বেইব। পুরো রিসোর্টটা আজ বুক করেছি আমি। এখানে শুধু তুমি আর আমিই আছি। আমাদের বি*রক্ত করার জন্য কাউকে রাখি নি।”
তেজ মনে মনে বললো….
—”তোর ভাড়া করা সাজানো জায়গা আজ তোরই জন্য ফাঁ*দে পরিণত হবে একটু পর।”
নিশা ধীরে ধীরে তেজের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো….
—“তুমি জানো বেইব! আমি তোমাকে কতোটা চাই?”
তেজ হালকা হেসে বললো….
—“হুন অনুমান আছে আমার তোমার চাওয়া সম্পর্কে।”
নিশা তেজের একেবারে সন্নিকটে এসে দু’হাতে ওর গলা জড়িয়ে ধরলো। সঙ্গে সঙ্গে তেজের মনে হলো ওর সর্বশরীর কোনো জোঁ*ক পেঁ*চি*য়ে নিয়েছে। এক্ষুণি সেই জোঁ*ককে নিজের থেকে না সরালে সে ওর সব রক্ত শুঁ*ষে খেয়ে ফেলবে। নিশা তেজের বুকের উপর নিজের শরীরের ভার ছেড়ে দিয়ে একপ্রকার ঝুলে থাকার মতো হয়ে বললো….
—”আজ যেহেতু আমাদের ডি*স্টার্ব করার মতো এখানে কেউ নেই সেহেতু এই সুন্দর সময়টা কোনো অপ্রয়োজনীয় কথা বলে বা কাজ করে নষ্ট করতে চাই না আমি।”
এই বলে নিশা একবার চোখ টিপ দিলো তেজকে। অতঃপর বললো….
—”তাই চলো শুরু করি।”
তেজের চোখের আকৃতি কিন্ঞ্চিত বড় হয়ে গেলো নিশার এহেনু কাজে ও কথায়। তেজ বললো….
—”কি শুরু করবে?”
নিশা হেসে বললো….
—”বুঝেও অবুঝ সাজছো আমার সামনে? ঠিক আছে আজ না হয় কাঠ-খড় সব আমিই পু*ড়াই।”
এই বলে নিশা ওর চোঠ বন্ধ করে ঠোঁটজোড়া চুমুর স্টাইলে ভাঁজ করে তেজের দিকে মুখ এগিয়ে আনলে তেজ মুখ কুৃচকে নিয়ে নিশাকে ঘুরিয়ে ধা*ক্কা মে*রে বিছানার উপর ফেলে দিলো। তেজের আকস্মিক এমন কাজে নিশা শুরুতে অবাক হলেও পরপরই মুড ঠিকঠাক রেখে এক কাঁত হয়ে শুয়ে তেজের দিকে তাকিয়ে বললো….
—”ধীর গতিতে শুরু করতে চাইলাম তা পছন্দ হলো না তাই সরাসরি বিছানায় ফেললে আমায় বেইব!”
নিশার এমন বেহায়াপনার চরম পর্যায়ে যাওয়া অবস্থা দেখে তেজের ভিতরের বিরক্তিরা যেনো আকাশ ছুঁয়ে নিলো। তবুও তেজ নিজেকে সংযত রেখে বক্র হেসে বললো….
—”ঠিক ধরেছো। তোমার ইচ্ছে পূরণ করার জন্য আর তর সইছে না আমার।”
—“তাহলে এসো আমার কাছে, তেজ।”
তেজ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে নিশার দিকে। তেজের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও ঠোঁটে লেগে থাকা বক্র হাসির আড়ালে সাজিয়ে রাখা ওর পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশার কোনো আন্দাজ পর্যন্ত নেই৷ নিশা একটা ঘোরের মাঝে আছে। এতোকিছুর পর নিশা ওর কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে নিজের করে পাবে সেই ভেবেই ওর ভিতরে অন্যরকম ঘোর কাজ করছে। তেজ বিছানার পাশে এসে বসে নরম স্বরে বললো….
—“একটা গেইম খেলবে?”
নিশা হেসে বললো….
—“গেইম? রোমান্টিক গেইম নাকি?”
—“হুম, তবে এই গেইমকে আমি নাম দিয়েছি ‘ট্রাস্ট গেইম’।”
নিশা বুঝতে না পেরে বললো…..
—“মানে?”
তেজ বিছানার পাশে রাখা সিল্কের রিবনগুলো হাতে তুলে নিয়ে বললো….
—“এই গেইমে তুমি চোখ বন্ধ করে আমাকে ট্রাস্ট করবে। আমি তোমাকে বেঁধে ফেলবো আমার রোমান্টিক কায়দায়। নড়াচড়া করা যাবে না। শুধু অনুভব করবে আমার প্রতিটি ছোঁয়া।”
নিশা খানিক লজ্জায় ডুব দিলো তেজের কথা শুনে। অতঃপর বললো…..
—“উফফ তেজ! আমার আজকের দিনটাকে তুমি এতো সুন্দর ও কাল্পনিক করে তুলবে আমি ভাবতেও পারি নি।”
—“চোখ বন্ধ করো।”
আর কোনোরূপ চিন্তা-ভাবনা না করে নিশা ওর চোখ বন্ধ করলো। তেজের ঠোঁটে এবার শিকারকে ফাঁ*দে ফেলার মতো হাসি ফুটে উঠলো। তেজ সচেতনতা অবলম্বন করে নরম স্বরে নিশার সাথে কথা বলতে বলতে প্রথমে নিশার দুই হাত বিছানার দুই পাশে সিল্ক রিবন দিয়ে বেঁধে ফেললো। নিশা ওর হাতে টান ও হালকা ব্য*থা অনুভব করতে পেরে চোখ বোঁজা অবস্থাতেই বললো…..
—“তেজ, এতো টাইট ভাবে বাঁধছো কেনো? আমার ব্য*থা লাগছে।”
তেজ বললো….
—“আমায় ট্রাস্ট করো তো!”
নিশা মাথা উপরনিচ নেড়ে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলো। তেজ বললো…..
—”তাহলে কোনো কথা বলো না। নড়াচড়াও করো না।”
নিশা আর কোনো অভিযোগ পেশ করলো না তেজের নিকট। এরপর তেজ ধীরে ধীরে নিশার দুই পা-ও বিছানার ওপাশের ২ কোণায় বেঁধে ফেললো। এবার নিশা পুরোপুরি আটকে পড়লো তেজের পাতানো ফাঁ*দে। নিশা বললো….
—“ওহ মাই গড তেজ! আমি তো একদমই মুভ করতে পারছি না!”
তেজ বললো….
—“এটাই তো গেইমের আসল মজা।”
তেজ এবার নিশার চোখ বেঁধে দিলো। নিশা বললো….
—”উফহহ, তেজ। তোমার রোমান্টিকতার ধাপগুলো আমার মধ্যকার আগ্রহের মাত্রা তরতরিয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
তেজ এবার বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ওর পকেট থেকে ফোন বের করে এক লাইনের মেসেজ পাঠালো কাউকে। মেসেজ সেন্ড হওয়ার মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ওদের রুমের দরজা খোলার ক্ষীণ শব্দ হলো। তেজ দরজার দিকে তাকাতেই নির্ঝর ভিতরে প্রবেশ করলো। নির্ঝরের হাতে একটা মাঝারি সাইজের প্লাস্টিক বক্স ধরা আছে।
নিশার চোখ বাঁধা থাকায় ও কিছু দেখতে পারছে না ঠিকই কিন্তু শব্দ অনুসরণ করে বললো….
—“বেইব! ঘরে কি অন্য কেউ আসলো নাকি?”
তেজ ঠান্ডা গলায় বললো….
—“হুম এতোসময় তুমি আমায় একের পর এক সারপ্রাইজ দিয়েছো তাই এইবার আমার সারপ্রাইজ দেওয়ার পালা।”
নির্ঝর ঠোঁট চেপে ওর হাসি আটকানোর চেষ্টা করতে লাগলো। তেজের দিকে খানিক হেলে ফিসফিসিয়ে বললো…
—“ভাই, ৫০ আনতে বলেছিলে কিন্তু আমি আমার তরফ থেকে আরো ৫০ এক্সট্রা এনেছি।”
তেজ ভ্রু তুলে নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে বললো….
—“বাহ এই না হলে আমার ভাই!”
নিশা ওর কৌতুহলী ভাব ধরে রাখতে না পেরে বললো…..
—”তেজ! শোনো না! আমার চোখের বাঁধনটা খুলে দাও এইবার। নয়তো আমি তোমার সারপ্রাইজটা দেখবো কিভাবে?”
তেজ বললো…
—”দিচ্ছি দিচ্ছি।”
এই বলে তেজ নির্ঝরের হাত থেকে বক্সটা নিয়ে নিশার পাশে এসে দাঁড়ালো। অতঃপর বক্সটা হালকা খুলে ভিতর ঢেকে কয়েকটা নিশার পায়ের উপর দিতেই নিশার সুরসুরি মতো অনুভূতি কাজ করতে শুরু হলো। নিশা একটু নড়াচড়া করার চেষ্টা করতে করতে বললো….
—”কি করছো তেজ তুমি? আমার পায়ের উপর কেমন যেনো লাগছে! সুরসুরি অনুভব হচ্ছে। কি করছো?”
তেজ কিছু না বলে আরো কিছু ছাড়লো নিশার উপর। এবার সুরসুরির এই অনুভূতি আরো গাঢ় হলো। হাত-পায়ের বাঁধন গুলো শক্ত-পোক্ত হওয়ায় ঠিকভাবে নড়তে-চড়তে পারছে না নিশা। তাই এবার কিছুটা বিরক্তিও কাজ করছে নিশার এই অনুভূতি নিয়ে। নিশা বললো…..
—”তেজ! কি হলো? কথা বলছো না কেনো? কি দিয়েছো তুমি আমার শরীরের উপর? আমার এমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে কেনো? প্লিজ আমার চোখের বাঁধনটা খুলে দাও। আমি দেখতে চাই।”
তেজ বললো….
—”দেখতে চাও!”
—”হ্যাঁ, খুলে দাও।”
তেজ নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলে নির্ঝর এগিয়ে এসে নিশার চোখের বাঁধন টান দিয়ে খুলে দিলো। নিশা নির্ঝরকে দেখা মাত্র বললো….
—”তুমি? তুমি এখানে কি করছো?”
নির্ঝর হেসে বললো….
—”আমার চেহারা দেখে এতো মজা পাবে না তুমি যতোটা মজা নিজের শরীরের অবস্থা হতে দেখে পাবা তুমি। এটা শুধু চোখ দিয়ে দেখার বিষয়ই না এটা অন্তর দিয়ে অনুভব করারও বিষয়। বুঝলে পাগলী?”
নিশা রাগী স্বরে বললো….
—”What Rubbish..?”
নির্ঝর ওর চোখ দিয়ে নিশাকে ইশারা করলো নিজেকে দেখার জন্য। নিশা তৎক্ষনাৎ নিজের দিকে তাকাতেই দেখলো একটা বড় সাইজের তেলাপোকা ওর গলার কাছে চলে এসেছে। কেমন নিজের মাথার কাছের পাতলা লম্বা শিং দু’টো নাড়াচ্ছে তেলাপোকাটি। নিশা যেনো কয়েক সেকেন্ডের জন্য কোনো অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষাই হারিয়ে ফেলছে। পরপরই নিশার হুস ফিরলে সে ‘আআআআ’ বলে চিল্লিয়ে উঠলো।
নির্ঝর তৎক্ষনাৎ নিজের এক কান ঢাকলো একহাত দ্বারা আর অন্যহাত রাখলো তেজের কানের উপর। নিশা ছোটার চেষ্টা করে বললো….
—”তেজ এসব কি? প্লিজ সরাও একে। আমার তেলাপোকায় বড্ড ভয় হয়। আআআআ, তেজ, বেইব, প্লিজ প্লিজ প্লিজ। এমন মজা করো না।”
তেজ বক্র হাসি হেসে বললো….
—”আমার রোমান্টিক অ*ত্যা*চারের এটা শেষ ধাপ যা এখন আমি তোমার উপর প্রয়োগ করবো।”
নিশা বললো….
—”আগে আমার উপর থেকে এই তেলাপোকাকে সরাও তুমি। আআআআ, কেমন কিলবিল করছে। তেজজজ, দেখো আমার মুখের কাছে চলে এসেছে। আআআ, আমি পারছি না এটা নিতে। সরাওওওও।”
তেজ এবার নির্ঝরকে বললো….
—”বেশি চিল্লাচ্ছে মাতারি। মাজা নেহি আ রাহা হে। স্প্রে-টা করে দে।”
নিশা বললো….
—”এ-স্প্রে? কিসের স্প্রে করবে আমার উপর? তেজজজ!”
নির্ঝর ওর পকেট থেকে স্প্রের বোলতটা বের করতেই তেজ আর নির্ঝর ওদের নাক-মুখ রুমাল দিয়ে ঢেকে নিলো। নির্ঝর নিশার মুখের উপর স্প্রে-টা করে দিলো। নিশা চোখ-মুখ কুঁচকে নিলো সঙ্গে সঙ্গে। কয়েক সেকেন্ড পর তেজ আর নির্ঝর ওদের মুখের উপর থেকে রুমালটা সরালো। নিশা অদ্ভুত ভাবে হাসতে শুরু করলো। হাসির মাত্রা শুরুতে ধীর গতির ছিলো কিন্ত সময়ের সাথে তা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। নিশা জোড়ে জোড়ে হাসছে। নির্ঝর আর ওর হাসি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না এবার। সেও সমান তালে হেসে উঠলো। নিশা হাসতে হাসতে বললো….
—”এ আমার সাথে কি করছো তুমি তেজ? আমার হাসি থামছে না কেনো? আমি তো হাসতে চাইছি না। আমার হাসি বের হচ্ছে কেনো তবুও?”
তেজ বললো….
—”লাফিং গ্যস তার খেলা শুরু করে দিয়েছে।”
নিশা হাসতে হাসতেই বললো….
—”হোয়াট? লাফিং গ্যস মানে? একটু আগে তোমরা আমার উপর লাফিং গ্যস প্রয়োগ করেছো? ফাজলামো করছো আমার সাথে? আমাকে কি জোকার মনে হচ্ছে তোমাদের?”
নির্ঝর হাসতে হাসতে বললো….
—”জোকার না জোকারনি লাগছে।”
নিশার মুখ রাগে-দুঃখে লাল হয়ে এসেছে কিন্তু ওর হাসি থামছে না। নিশা এবার পারে না তো কেঁদেই ফেলবে। তেজ এবার ওর হাতের থাকা বাক্সের পুরো মুখ খুলে দিয়ে সব তেলাপোকা নিশার শরীরের উপর ঢেলে দিলো। নিশা হাসতে হাসতে চিৎকার করছে। কিন্তু ওর এই চিৎকারের শব্দে কারোর বোঝার শক্তি নেই ও নিজেকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করছে। যেই শুনবে সেই মনে করবে নিশা মজা পাচ্ছে কোনো বিষয় নিয়ে তাই হাসছে ওভাবে।
নিশার গলাএবার শুকিয়ে এসেছে চিৎকার করতে করতে হাসতে হাসতে। নিশা ওভাবেই ছটফট করতে করতে বললো….
—“তেজ, না, প্লিজ! খুলে দাও, খুলে দাও! প্লিজ তেজ! আমি মরে যাবো নয়তো। আআআআআ। ওরা আমার টপস, স্কার্টের ভিতরে চলে গিয়েছে। আআআআআ।”
বিছানার সাথে বাঁধা থাকায় নিশা কেবল মোচড়া-মোচড়ি করছে, আর চিৎকার করছে। তেজ নিশার দিকে একটু ঝুঁকে এসে ওর চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে বললো….
—“আমাকে ফাঁসাতে চেয়েছিলি কিভাবে মনে আছে?”
নিশা হাসতে হাসতে বললো…
—“আআআআ, আমি-আমি ভুল করেছি তেজ। প্লিজ সরাও ওদের।”
তেজ নিশার চোয়াল ছেড়ে দিয়ে বললো….
—“একবার না, দুইবার না, বারবার এই চেষ্টা চালিয়েছিস তুই।”
একটা তেলাপোকা নিশার নাকের নিচে ঠোঁটের উপর এসে বসেছে। নিশা এবার আর পারছে না মুখ খুলতে, চিৎকার করতে। ভ*য় করছে মুখ খুললে যদি মুখে ভিতরে ঢুকে যায় তেলাপোকাটা? নিশা ঠোঁট খুব কষ্টে শক্ত করে চেপে ধরে আছে। হাসছে তবুও ওভাবেই। মাথা হালকা নাড়ছে নিশা এপাশ-ওপাশ করে। কিন্তু তেলাপোকা ওর মুখের উপর থেকে নড়ার কোনো নাম-গন্ধ নিচ্ছে না। নিশার মনে হচ্ছে ওর শরীরের অন্তর্ভাগে যে তেলাপোকা গুলো ইতিমধ্যে প্রবেশ করেছে তারা কাঁ*ম*ড়াতে শুরু করেছে। কাঁ*ম*ড়ের সেই অনুভূতি নিশা ভালোভাবে ফিল করতে পারছে। তেজ বললো….
—“মজা লাগছে না? আমার আদর খেতে খুব মত্ত হয়ে উঠেছিলি তো! এখন তেলাপোকার আদর কেমন লাগছে?”
নিশার মুখের উপর থেকে তেলাপোকাটা নেমে যেতেই সে এবার আরো জোড়ে হাসতে শুরু করলো। এমন ভাবে হাসছে মনে হচ্ছে নিশা চাইছে হাউমাউ করে কাঁদতে একেবারে হাত-পা ছেড়ে দিয়ে। নিশা বললো….
—“তেজ প্লিজ! মুক্তি দাও আমায় এই অসহনীয় য*ন্ত্র*ণা থেকে। আমি আর করবো না তোমার সাথে উল্টো-পাল্টা কিছু! প্লিজ খুলে দাও আমায়! আমি শপথ করছি!”
তেজ দাঁতে দাঁত চেপে বললো…..
—“তোর জন্য আমার পিতৃতুল্য বড় ভাইয়ের নজরে আমি কতো ছোট হয়েছিলাম জানিস? কতো কষ্ট পেয়েছিলো সে জানিস? আমাকে মৃ*ত বলেছে, আমার মতো ভাই তার না থাকা ভালো এমনও বলেছিলো। তখন আমার বুকের ভিতর কতোটা য*ন্ত্র*ণা হয়েছিলো জানিস তুইইইই?”
শেষের দু’টো শব্দ তেজ অনেকটা জোড়েই উচ্চারণ করলো। পুরো রুমের দেওয়ালের সাথে বারি খেয়ে তা যেনো আরো প্রখর শোনালো। নিশা কেঁ*পে উঠলো মনে হয়। নিশা কোচড়-মোচড় করার চেষ্টা করে বললো….
—”আমি মাফ চাচ্ছি তোমার কাছে তেজ। আমায়মুক্তি দাও তুমি। দোহাই লাগে তেজ।”
তেজ নির্ঝরকে বললো….
—”ওর মুখে কাপড় গুঁ*জে দে। ওর এই চিৎকারে আমার কান ঝালা-পালা হয়ে গেলো মনে হচ্ছে।”
নির্ঝর তাই করলো। এবার নিশার মুখ থেকে কেবল উমউম শব্দ বের হচ্ছে। তেজ পাশেই থাকা ইজি চেয়ারে বসে পড়লো। সারা মেঝের উপরেই আনাচে-কানাচেতে তেলাপোকারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। নিশার শরীরের উপরেও আছে বেশ অনেকগুলোই। নিশা এবার ক্লান্ত হয়ে সেন্সলেস হয়ে গেলো।
নির্ঝর বললো….
—”তেজ ভাই, এ তো সেন্স লেস হয়ে গিয়েছে।”
তেজ ওভাবে থেকেই বললো….
—”ওয়াশরুম থেকে বদনাটা ভরে পানি আন। ঐ বদনার পানি সব ছুঁড়ে মা*র ওর মুখে-চোখে। ঐ পানিরই যোগ্য এই শা*লী।”
নির্ঝর তৎক্ষনাৎ ওয়াশরুম থেকে বদনা ভরে পানি এনে সবটা পানি নিশার মুখের উপর ঢেলে দিলো। পরপরই নিশার সেন্স ফিরে এলো। হাঁপড়ের মতো নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করলো নিশা। তেজ বললো…
—”কিরে আমার পশ্চাৎদেশ পরিষ্কার করার পানি যেই পাত্রে রাখি সেই পাত্রে পানি পান করে ফিলিংস কেমন কাজ করছে তোর?”
না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২ (৩)
নিশার উপর থেকে এখন ‘লাফিং গ্যস’ এর করা স্প্রের রিয়ালশনটা কেটে গিয়েছে। নিশা এখনও উম উম করছে। মুখে গুঁজে রাখা কাপড়টা ভিজে চিপচিপে হয়ে গিয়েছে। মূলত তা দিয়ে এখনও কিছু পানি পড়ছে নিশার মুখের ভিতরে। নিশা তা না পারছে গিলতে আর না পারছে উকলে ফেলতে। তেজ এবার নির্ঝরকে নিশার মুখ থেকে গুঁজে রাখা কাপড়টা সরাতে বললে নির্ঝর তা সরালো। নিশার মনে হলো ভিতর থেকে সবকিছু উল্টে এবার বেড়িয়ে আসবে। কিন্তু বের হলো না কিছুই। পাশেই শুধু অল্প থুথু ফেললো সে।
