Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ২৬

নীতিহীন রাজ পর্ব ২৬

নীতিহীন রাজ পর্ব ২৬
আশিকা আক্তার সোহাগী

-খরস্রোতা পাথুরে নদী আমার জীবন।পাথরের ফাঁকে ফাঁকে বিষাক্ত সাপ-বিচ্ছুতে ভরা। সাপ-বিচ্ছুর পরিমাণ এত বেশি যে টলটলে স্বচ্ছ পানিটাও বিষাক্ত হয়ে গেছে।গায়ে লাগলে ফোসকা পড়ে যায় এমন বিষাক্ত।
তাই যেহেতু আটলান্টিকের একখন্ড বরফ তুলার ক্ষমতা আছে। কেন সেই বরফ পাহাড়কে আমার খরস্রোতা নদীতে স্থাপন করবো না? হয় বরফ খন্ড সব সাপ-বিচ্ছু সহ বরফে পরিনত করবে। নাহয় নিজেই খরস্রোতে গলে যাবে।
বলে নিবিড় পরোটা বড় করে ছিড়ে মুখে পুরে দিলো।

-আমি বরফ খন্ড?ব্যবহার করছেন আমাকে?
নিবিড় মাথা দিয়ে না করলো।
-তাহলে?এমন তো না যে ভালোবাসেন?
-খারাপও তো বাসি না।
এমন প্রশ্ন করে জিয়ানার কাছে নিজেকে খুব হ্যাংলা মনে হলো। এরকম বিয়ে আর তাদের এই অদ্ভুত সম্পর্কে এমন প্রশ্ন সম্পুর্ণ বেমানান। নিজেকে সংবরণ করে আবার প্রশ্ন করলো ,
-হেয়ালি করছেন?আমি যদি হেয়ালি করি কুলাতে পারবেন? অনেষ্টলি আন্সার দিতে পারেন না?
-তবে অনেষ্টলিই বলছি শুনো।পৃথিবীতে একটা মানুষের প্রতিটা কথা আমার শিরোধার্য। উনি আমাকে বলেছিলেন ,উনার একটা চাঁদের মতো মেয়ে হবে। আর সে মেয়েটা আমার।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

-আপনার ফু-আম্মু?
-না আমাদের আম্মু।
জিয়ানা কপাল ভাজ করে জিজ্ঞেস করলো ,
-শুধু মাত্র কি ফু-আম্মু থেকে ফু টা বাদ দেয়ার জন্য এই বিয়ে?
নিবিড় কোন উত্তর দিলো না। একমনে ভক্ষণে ব্যস্ত সে।
জিয়ানা নিভে গেলো যেনো।বিয়ে মানেই আবেগ অনুভূতির বাস্তব প্রতিফলন। আর তার বেলায়? নিজের ভাগ্য যেনো নিজেকে ব্যঙ্গ করছে বারবার। হতেই তো পারতো জীবনের একটা পার্ট নরমাল। এত এত ড্রামাটিক লাইফ কে চায়?দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়লো একটা। ভেতর থেকে বিষাদ আর তিক্ত স্মৃতি বের করার সহজ চেষ্টা যেটাকে বলে।

-তাহলে এই পর্যন্ত থামছি আমরা?
-থামা? নো থামা থামি।
-এই যে আপনার সামনে পেছনে ,একশো গজে আসবো না।দেখুন সবই সমান সমান হওয়া উচিত। আমি যেহেতু আসবো না।আপনারও আমার দৃষ্টির মাঝে আসা উচিত না।আর আমিও পরিচয় দিবো না।আপনিও দিবেন না আশা করি।
টেবিল থেকে উঠতে উঠতে আরও বলে,
-আমার ডিএনএ টেস্ট কত বার করেছেন?দুইবার উইগে এমন টান লেগেছে ভেতরের ক্যাপ পর্যন্ত নড়ে গেছে।আবার সুইমিংপুলে মনে হয়েছে একসাথে চার-পাঁচ টা ধরে ছিড়েছেন!
এই পর্যায়ে হো হো করে হেঁসে উঠলো নিবিড়।তারপর বলে,
-এই দেখো আমরা মেইক ফর ইচ আদার।একজন আরেকজনের গায়ের বাতাসেই সব বুঝে ফেলি।তারপরও আবার কিসের থামাথামি?

-স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টা হেয়ালির কিংবা সহায় সম্পত্তির মতো না। আন্ডারস্ট্যান্ডিং ,বন্ডিং থাকতে হয়।সবচেয়ে বড় কথা তাদের মাঝে কোন প্রাইভেসি নামের জিনিস থাকে না। কিন্তু আমাদের মাঝে এইসব কিছু পসিবল না।
-কেনো পসিবল না?
নিবিড় একদম চোখের দিকে স্থির দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো। জিয়ানা আবার চেয়ারে বসে একবার মনে মনে ভাবলো বলবে, আপনি আর কখনো এইভাবে তাকাবেন না।পরক্ষণেই স্বীদ্ধান্ত বদলিয়ে বলে,
-আপনি আমার কাছে একটা ধারাবাহিক ধাঁধার মতো।একটা ধাঁধা সমাধান করার পর অন্যটা এসে হাজির।আমাদের মাঝে হাজার হাজার সিক্রেট।
-কোন সিক্রেট নেই। সব ওপেন সিক্রেট।
প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলল নিবিড়।
-আচ্ছা? আপনি আমার সম্পর্কে এইসব বেসিক ছাড়া একটা সিক্রেট বলেন।
– Je Mujita

জিয়ানা ফট করে আবার দাঁড়িয়ে পড়লো।
নিবিড় মুচকি হেঁসে বলল
-কিন্তু আইনের চোখে সেটা অন্যায়।
-রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,অন্যায়ের ছুরির কোন বাঁট থাকে না।যে মারে সে নিজেও রক্তাক্ত হয়।
জিয়ানা বেশ ধীরতার সাথে উত্তর দিলো।
-বুঝলাম।এবার আমার সম্পর্কে তুমি একটা বল।
জিয়ানা কলের পুতুলের মতো স্তব্ধ হয়ে ঠোঁট নাড়িয়ে বলল,
-পি টি এস ডি। পাষ্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার।
-সাব্বাস।
-আপনি কি জানেন জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে ভুল বিয়ে?
এবার নিবিড় উঠে দাঁড়িয়ে বলে ,

-আমরা একজন আরেকজনের জন্য শুধু পার্ফেক্টই না।একজন ঢাল হলে আরেজন তলোয়ার। তোমার সকল কিছুর দায়িত্ব আমি সুখনীল নিবিড় নিজ কাধে স্বজ্ঞানে ,স্বইচ্ছায় নিয়েছি।আমার যদি বিন্দু মাত্র অনিহা কিংবা ইচ্ছা না থাকতো এই দুনিয়াতে এখনো কেউ পয়দা হয়নি যে আমাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একচুল নড়াতে পারতো। এখানে আমার দিক দিয়ে কোন ভুল নেই।আই ওউন ইউ। আই উইল ওউন ইউ। সেটা মেরে ধরে যা ইচ্ছা হয় সেভাবেই। সবকিছু সময়ের উপর ছেড়ে আমি দেই না।
আর একটা কথা তোমার জন্য,

-Never go out your way for something that’s not part of your plans।
-সব রেখে আমিই কেনো?একটা লম্বা সময় আপনি অসংখ্য নারীর সান্নিধ্য পেয়েছেন? শুধু মাত্র আমার আম্মুর সাথে কমিটেড ছিলেন এইজন্য?
-আমার সামনে সৌন্দর্য্যের রানী আফ্রোদিতি উলঙ্গ হয়ে দাঁড়ালেও আমি নিবিড় চোখ মেলে দেখবো না।অথচ তুমি যতই ওভার সাইজ ড্রেস কিংবা কয়েক পরতের বোরখা পড়ে দাঁড়াও। সেটা কমপ্লিট ট্রান্সপারেন্ট লাগে। আই ক্যান স্যে ইউর সাইজ 36,24,36। সমঝদারো কে লিয়ে ইশারাই কাফি হ্যা?
জিয়ানার শুকনা কাশি শুরু হলো। তারপর আস্তে করে বলে,

-বডিলাইন থ্রো দিচ্ছেন।একজন মেয়ে হয়ে এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
-তুমি চাইলেও এড়িয়ে যেতে পারবে না।
-ঠিক আছে আপনার উপর সব ছেড়ে দিলাম।
খুবই নিরুৎসাহিত শুনা গেলো জিয়ানার কন্ঠ।
-গুড এন্ড আল্লাহ হাফেজ।
-আরেহ আরেহ সুখ!বিল দিয়ে যান।আমার কাছে টাকা নেই।
-এখানে পে-ফাষ্ট। সো বিল দেয়া হয়ে গেছে।
বলে নিবিড় বড় বড় পা ফেলে চলে গেলো। আর জিয়ানার মস্তিষ্কে একটু আগের কনভেনশন ঘুরপাক খেতে খেতে কুন্ডলী পাকিয়ে ফেললো। নিবিড়ের অনুভূতি বুঝা বেশ কঠিন। তারপর মনে হলো সেতো নিজের অনুভূতিও জানে না।অবশ্য জানার সুযোগই পেলো কোথায়। অনুভূতি নিশ্চয় খুল যা ছিমছিম বললেই খুলে যাবে না।কিছু ক্ষেত্রে রয়ে সয়ে আস্তে ধীরে আগাতে হয়।

না থাক দুই দিনের দুনিয়া এত ওভার থিংকিং করে কি হবে?সময়েরটা সময়ে দেখা যাবে।তাছাড়া নিবিড় জটিল হলেও কড়কড়ে ব্যাক্তিত্ববান পুরুষ। দেখতে শুনতেও চমৎকার। একটু মানিয়ে চললেই যদি সব শান্তিময় হয় তবে সমস্যা কোথায়। তবে যদি আবার হাত উঠায় সে হাত জিয়ানা এমনি এমনি ছেড়ে দিবে না। সকল সামাজিকতা আর পাপ পূন্য সাইডে রেখে সে নিজেও নিবিড়কে প্যাদানী দিবে।হুম এইবার দিবেই দিবে।মারতে না পারলে থু থু দিয়ে দৌঁড় দিবে।

মক্কু জেনিকে নিয়ে বাসার দিকে রওনা হলো। স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাদের বিয়ের রাত। কমপ্লিট একটা ড্রামা সিরিজ সম্পন্ন হয়েছে একরাতেই।জেনি হাটতে হাটতে জিজ্ঞেস করলো ,
-আমি মনে হয় আর একটা ভুল করে ফেলেছি মুসাদ্দিক।
মক্কু জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকায় বোবা জবানে।
জেনি অত্যন্ত ভীত আর সংকুচিত সরে বলে,
-আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছি।আমাদের মনে হয় সংসার করার স্বপ্ন না দেখায় ভালো। কাল ঝোঁকের বসে এতকিছু চিন্তা করিনি।

-আমি সব জানি জেনি।তোমাদের পরিবারের উপর ভাই অনেক আগে থেকেই নজর রেখেছে।এমন কি ভাইয়ের এই যে বিয়ের প্ল্যান সেটাও নিজের করা।তবে আমরা আউট অফ সিলেবাস।
-কিহ?
জেনি বেশ জোরেশোরেই চিল্লিয়ে উঠে।
মক্কু মুচকি হেঁসে মাথা নেড়ে বলে,
-জিয়ানার পরিচয় জানার জন্য আরও ছয়মাস আগেই ভাই ডিএনএ টেস্ট করেছিলো।তারপর ফাইনাল টেস্টের রিপোর্ট আমি নিজেই আনি।আর ভাই প্ল্যান সাজাতে থাকে কিভাবে আগাবে। নিবিড় ভাইয়ের সব কাজ গুছানো। উনার ফ্রিল্যান্সিং এর কথা কেউ জানেই না।কারণ ফ্রিল্যান্সিং করার হাই মডিফাইড ডেস্কটপ সেটাপ এক বিশেষ রুমে আছে। আমার আর ভাইয়ের মাঝে কোন সিক্রেট নাই।তবে ভাইকে বুঝতে পারি না।বিশেষ করে উনার পরিবার নিয়ে।

-জিয়ানার প্রতি উনার এত আগ্রহ কেনো?সম্পত্তির জন্য?
প্রশ্ন শোনে মক্কু হি হি করে হেঁসে উঠলো। তারপর উত্তর দেয়,
-আমার মনে হয় ভাই জিয়ানার প্রেমে পড়ছে। তবে বোম মারলেও সে সেটা স্বীকার করবে না আমি জানি।জিয়ানার উল্টা পাল্টা কথা ভাইয়ের ছোট্ট একটা নোট খাতায় লেখা আছে আমি দেখছিলাম।
আবার এতগুলা আর্টিফিশিয়াল গোলাপ কিনে এনে ক্লাবের রুমে রেখেছিল। সেখান থেকে প্রতিদিন একটা করে জিয়ানার সাইকেলে রাখতেন।
আমাদের বলতো জিয়ানাকে বিরক্ত করতে করছেন অথচ উনার নিজের লেখা কাগজের গোলাপ কবিতাটা যে কেউ পড়লে বুঝবে কি অর্থ ,

“একখানা কাগজের গোলাপ,
গন্ধহীন প্রাণহীন অবয়ব।
তবুও মরে না কিংবা পঁচে না সে
নয়হীন ক্ষয়হীন সংকেত যে ।
হে প্রাণ আর স্নায়ুর উত্তেজক
লয়ে যাও সেই অবয়ব সংকেত।
রাখিয়ো যতনে কিংবা শীতনে
যে পঁচে গন্ধ ছড়াবে না।
কিংবা শুকিয়েও হারিয়ে যাবে না।”
-সুখনীল নিবিড়।
জেনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে ,

-কবিতা আর নিবিড় ভাই? মানে রাজনীতির সাথে কবিতা জিনিসটা বড্ড বেমানান হয়ে গেলো না?
-রুকো জারা! শুধু কবিতা না ভাই চমৎকার গিটারও বাজাতে পারে সাথে স্পেসিফিক কিছু গান উনার ভরাট গলায় জাষ্ট অসাধারণ লাগে। তুমি মনে হয় ভাইয়ের ইন্সট্রাতে ফলো করো না।প্রায়ই তো আপ দেন ছোট্ট ছোট্ট ভিডিও ক্লিপ।
আজ যেনো জেনির অবাক দিবস চলে। অথচ জিয়ানা সম্পুর্ণ উল্টা।কবিতা শুনলেই সে খিলখিলিয়ে হেঁসে লুটোপুটি খাবে। কবিতা আবৃত্তির সময় যে ইকো সাউন্ড ব্যবহার করে সেটা শুনে সে হাঁসি আটকে রাখতে পারে না।এমন কি চমৎকার কতগুলো গানকেও সে বিকৃতি করে গাইবে। সত্যি বিপরীত মেরুর দুই মানুষকে সৃষ্টিকর্তা যেনো জোর করেই জোড়া লাগিয়ে দিলেন।

জিয়ানার মনে হচ্ছে অদৃশ্য শেকড় গজিয়ে গেছে। তাই তো চেয়ারে যে বসেছে আর উঠতে পারছে না।খেয়ে শরীর প্রচন্ড ক্লান্ত লাগায় একপ্রকার তব্দা হয়ে বসেই আছে।নিবিড় চলে গেছে প্রায় দশ মিনিট হয়।
হঠাৎ হঠাৎ হৃদপিন্ডে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় ,যখন আনিস আর তার পরিবারের কথা মনে পড়ে।জিয়ানা একটা জিনিস মেইনটেইন করে চলার চেষ্টা করে এসেছে এতকাল।তার দ্বারা যেনো একটা প্রাণীরও ক্ষতি না হয়।কিন্তু হঠাৎ সব চেষ্টা যেনো অলীক বস্তুতে পরিনত হলো।এই যেনো সত্যি অতিমূল্যবান বিয়ের কাফফারা।
আস্তে-ধীরে নিজেকে টেনে চেয়ার থেকে উঠে কাত হয়ে হাঁটা শুরু করে কিছুটা যাওয়ার পর পাশ থেকে কেউ একপ্রকার ছুটে এসে জিজ্ঞেস করলো ,

-ভালো আছেন ম্যাম?
জিয়ানা পাশ ফিরে দেখে একজন নার্স হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে। জিয়ানা চিনতে না পারায় হালকা হাঁসি দিয়ে মাথা ঝাকালো।
নার্স এগিয়ে এসে আবার বলে,
-চিনতে পারেন নাই না? ওই যে আপনাকে আপনার হাজবেন্ড কোলে করে আশা ক্লিনিকে নিয়ে গিয়েছিলো ,আমি তো আপনার পায়ে ড্রেসিং করেছিলাম।
জিয়ানার হাঁসি এবার আস্তে আস্তে সংকুচিত হওয়া শুরু করল।আর নার্সটার হাঁসি এখন মনে হচ্ছে ভ্যাটকি মাছের মতো।হুদাই দাঁত কেলিয়ে রেখেছে।
ওয়েট সেটা তো মাস তিনেক আগে। তখন হাজবেন্ড কোত্থেকে আসবে। তাই জিয়ানা আস্তে করে বলে,

-আপনার কোথায় ভুল হচ্ছে?
-নাহ ম্যাম। আপনি নিবিড় ভাইয়ের ওয়াইফ না? ভাই কতটা কাতর ছিলো সেদিন আপনি তো দেখেন নাই।আপনাকে ইঞ্জেকশন দেয়ার সময় উনি বারবার সাবধান করছিলেন।আপনাকে প্রচুর কেয়ার করেন উনি।অথচ বাহির থেকে বুঝা যায় না।
জিয়ানা বোকা হেঁসে হে হে করে বলে ,
-হ্যাঁ উনার প্রচুর কেয়ারের আমার চান্দির চুল খাড়া হয়ে যায়।আসি হ্যাঁ?
বলে ঘুরে হাটতে হাটতে বিরবির করলো,
-বজ্জাত বেডা কত আগে থেকেই সব প্ল্যান করে রাখছে দেখছো।তোর বউ তো শুধু নামে আমি ,কামের কাম কিচ্ছু করতে পারবি? অসভ্য ,ভন্ড লোক তোর দজ্জাল বউ হোক।
তারপর জিহবায় কামড় দিয়ে বলে ,

-না না তোর মেইন সার্কিটে গন্ডগোল হোক।
আবার বলে
-দেততেরিকি। কি অভিশাপ দেই। হ্যাঁ তুই মন্ত্রী হয়ে পাবলিকের গালি খা দিন রাত।
বিড়বিড়ের মাঝে আবার কেউ পেছনে ডেকে উঠলে প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে একপ্রকার চিল্লিয়ে উঠে বলে,
-কে বে…
রাফিন দাঁড়িয়ে আছে হাতে কিছু ডাক্তারি টেস্টের কাগজ পত্র।উপরের ফাইলে বেবির ফটো ওয়ালা ব্রসিয়োর। জিয়ানা এবার এগিয়ে গিয়ে লম্বা করে সালাম দিয়ে অতি উৎফুল্ল হয়ে জিজ্ঞেস করে ,

-কংগ্রাচুলেশনস স্যার। বাবা হতে চলেছেন?
রাফিন যেনো নিভে গেলো। অনুৎসাহিতে হয়ে বলে,
-না।আমার ভাইয়ের বাচ্চা অসুস্থ তার কিছু রিপোর্ট নিতে এসেছিলাম।তোমার কি অবস্থা? দেখায় পাওয়া যায় না তোমার? তোমার ডিপার্টমেন্টে গেলেও পাই না। বেশ এড়িয়ে চলছো আমাকে।
-না না স্যার কি বলেন না বলেন।এড়িয়ে চলবো কেনো? আমাদের পরিবারের উপর দিয়ে যা গেছে সবকিছুর চাপায় পড়ে ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়েছে খুবই কম।

-শুনেছি। খুবই খারাপ লেগেছে।তোমাকে ফোনে বেশ কয়েকবার ট্রাই করেছিলাম?
-ফোনের সাথে আমার সম্পর্ক খুব খারাপ। কোথায় থাকে কে জানে।এখন আসি স্যার পড়ে কথা হবে।
বলে জিয়ানা পা বাড়াবে তখন রাফিন আটকালো আবার। জিয়ানার গলার সাইডে লাল হয়ে রক্ত জমাট বাঁধা অংশে আঙুল দিয়ে ইশারা করে জিজ্ঞেস করলো ,
-এখানে কি হয়েছে জিয়ানা?
জিয়ানা সেই আঙুল অনুসরণ করে তাকায়। পরক্ষণেই কেউ তাকে সাইড হাগ করে নিজের বুকে চেপে ধরে গমগমে গলায় বলে উঠলো ,

-আহা জিয়ু। ভাশুরের সামনে নিজের হাজবেন্ডের দেয়া ফাষ্ট সাইন কেউ দেখায়?
জিয়ানা বেক্কেল হয়ে তাকিয়ে দেখে নিবিড় তাকে একপ্রকার চেপে নিজের সাথে মিশিয়ে রেখেছে।অপরদিকে রাফিন অবাকের উপর অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
-ভাশুর?ফাজলামি হচ্ছে নিবিড়?
রাফিন কড়া গলায় জিজ্ঞেস করলো।
-আরেহ ফাজলামি হবে কেন? তাড়াহুড়োতে কাল রাতে বিয়ে করেছি আমরা ,দাওয়াত দিতে পারিনি। তাই না জিয়ু?
জিয়ানা হা হয়ে গেছে এই ভণ্ড নেতার অভিনয় দেখে।বিয়ের চব্বিশঘণ্টা পাড় না হতেই চ*ড় থাপ্পড় সব খাওয়া শেষ তার। এখন আবার কেমন মধু মধু করছে দেখো।
জিয়ানা কিছু বলছে না দেখে নিবিড় জিয়ানার কপালের সাইডের ছোট চুল গুলো সরিয়ে নাক টেনে রাফিনের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো ,

-আসি হ্যাঁ। আমরা অনেক টায়ার্ড। কাল সারারাত জেগে ছিলাম একেবারেই ঘুম হয়নি।
জিয়ানার চোয়াল হাঁ হয়ে ঝুলে যাওয়ার জোগাড়। নিবিড় জিয়ানাকে ধরেই সামনে হাটা শুরু করলো।
আর পেছনে স্তব্ধ অনুভূতিহীন রাফিন দাঁড়িয়ে রইলো সেইভাবেই।
রাফিন দৃষ্টি সীমার বাহিরে আসার সাথে সাথে একপ্রকার ছিটকে সরে দাঁড়ালো নিবিড়। তারপর আদেশ করে ,

নীতিহীন রাজ পর্ব ২৫

-রাফিন সহ যাবতীয় পুরুষের থেকে কয়েক হাত দুরত্ব বজায় রেখে চলবে।অন্যথা হলে পা কেটে গলায় ঝুলিয়ে দিবো।
বলে গটগট করে চলে গেলো।অপরদিকে জিয়ানা নিবিড়ের চমৎকার অভিনয় দেখে যেমন ভিমড়ি খেয়েছিলো। এখন আবার ওরিজিন ব্যবহার দেখে বাস্তবে ফিরে এলো। স্বাদেই তো জিয়ানা একে ভণ্ড নেতা বলে না।

নীতিহীন রাজ পর্ব ২৭