নীতিহীন রাজ পর্ব ৫৯
আশিকা আক্তার সোহাগী
“আমি স্টিভ জবস বা বিল গেইসের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান নই।তাঁরা যদি তাঁদের বাচ্চাদের নিজেদের উদ্ভাবিত গ্যাজেট ব্যবহার করতে না দেন ,তবে আমি কেনো দেবো?”-বাদল সৈয়দ স্যারের এই কথাটা বলে মেহেদী ফিজানের হাত থেকে ট্যাবটা কেড়ে নিয়ে ফ্লোরে ছুড়ে মারলো।
ফারহানা বিস্মিত হয়ে একবার তাকিয়ে আবার ঘুরে ফিজানের কাছে যায়।সে ভেবে পায় না,এতদিন চোখের সামনে ,ডানে বামে সব সময় তো ট্যাব না হয় ডায়নিংয়েই শুধু দেখেছে মেহেদী ফিজানকে।আজ হঠাৎ এত কন্সার্ন?আড়চোখে একবার দেখলো মেহেদীকে।নাক মুখ সব ফাটা।শুকনো রক্তের ছাপ স্পষ্ট। সাক্ষাৎ নিবিড়ের হাতে মা*র খেয়েছে।
ফারহানা সেদিকে আর না তাকিয়ে ফিজানকে বলে,
-চলো রেডি হয়ে নিবে। আমরা গুলশান যাচ্ছি আজ।
মেহেদী কাটা ঠোঁটে কিরমিরিয়ে বলে,
-ওই ভূতের বাড়ি কেনো যাবে?
ফারহানা উত্তর দেয় না দেখে মেহেদী আরও তেতে উঠে বলে,
-ফিজান তোমাকে আজ একটা স্পোর্টস ক্লাবে নিয়ে যাবো এডমিট করতে।প্রতিদিন দুইঘন্টা প্রেক্টিস করবে তোমার পছন্দ মতো গেম।ওকে?
-ওকে ড্যাড। আই উইল চোজ মাইনক্র্যাফট।
ফিজানের কথা শোনে মেহেদী প্রচন্ড খারাপ একটা গালি জিহ্বার ডগায় চলে এসেছিলো। কোন রকম সেটা গিলে কাবাড থেকে ফাষ্ট এইডের বক্স বের করে শক্ত গলায় বলে,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
-ফিজিক্যালি গেমের কথা বলেছি ইডিয়ট।
ফারহানা লাগেজ বের করে সেটাতে কাপড় গুছিয়ে রাখতে রাখতে বলে,
-ফিজান তুমি যদি স্পোর্টসে ইন্টারেস্টেড হও তবে আমাদের এপার্টমেন্টের টপ ফ্লোরের ক্লাবে এডমিট করে দিবো।ঠিক আছে?যাও বুকস গুলো এনে এই ট্রলিতে ভরে নাও।আমি ফাইজাকে দেখে আসি। ওকে?
মেহেদী এদের কান্ডকারখানা কিচ্ছু বুঝতাছে না।হঠাৎ এমন ভং ধরার কি কারণ কে জানে? তবে আজ গাছে উঠার সময় অনলি ফিজানের চেয়ারাপে কেমন যেনো একটা ভালোলাগার শিহরণ বয়ে গেছে।নিজের রক্ত এই কথাটা সবার আগে মাথায় এসেছে।
একদম ছোট বেলায় ওকে কি কোলে নিয়েছে সেটাও মনে পড়লো না।এমন কি কেমন ছিলো দেখতে অনেক ভেবে মনে করতে পারলো না।মেডিসিন কটন প্যাডে লাগিয়ে গালে টেপ করতে করতে পূর্ণ চোখে তাকায় ফিজানের দিকে।গোলগাল ফুলো চেহারার একটা নাদুসনুদুস বাচ্চা।আচ্ছা ওর বয়স কত যেনো? অনার্সের প্রথম বর্ষে ফারহানাকে রুম ডেইট করেছিলো তারপর এই বাড়িতে বিয়ের পর কয়েবার কাছে টেনেছে সেটাও শরীরের টানে।এরপর? এরপর আর মনে নেই।তবে ওর বয়স নয় পাড় হয়ে গেছে?বিদেশ থেকে আসারসময় একগাদা চকলেট আর টয় কিনে আনা ছাড়া পিতার আর কোন দায়িত্ব সে পালন করেনি।এমন কি কখনো স্কুলেও খোঁজ নেয়নি।
আচ্ছা ও নিজেও কি নিজের পিতার মতো জঘন্য পিতা হয়েছে? না না তার পিতা জঘন্য হবে কেনো? ছেলের জীবন বাঁচাতে গিয়ে যে নিজের বুক পেতে দিতে পারে সে কখনো খারাপ পিতা হতে পারে না। মেহেদীর বুক কামড়ে ধরে আবার।তাকে তো বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। তবে তার জন্য জঘন্য পিতাই উনি।মহৎ হলে সেটা নিবিড়ের জন্য।হাতের কটন প্যাড মুচড়ে ধরে সামনে থেকে মেডিসিন বক্স ছুড়ে ফেলে ফ্লোরে।ফিজান চমকে উঠে তারপর ছুটে পালায় রুম থেকে।
মেহেদী কাবার্ডের ভেতরে খুঁজে চলে অতি দরকারী কিছু একটা।
মন খারাপের সময় সবচেয়ে সুন্দর মুখটাও বিষন্ন দেখায়।ঝলঝলে রোদ খেলে না সে মুখে।জিয়ানার ভালো লাগলো না উম্মে কুলসুমের আহাজারি। সে কাছে গিয়ে একটু মুখোমুখি ফ্লোরে হাটু গেড়ে বসে বৃদ্ধার কুচকানো হাত জোড়া নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে,
-প্রাপ্ত বয়স্ক তিনজন দামড়া নাতি খিস্তি করেছে বলে তুমি এভাবে কাঁদছো কেনো নানু? সবসময় ভাঙ্গাচোরা সম্পর্ক দেখলে ভয় পেতে নেই।
-আমার দেখা জীবনটা আসলে মায়ার উলে বুনা কোন শীতের পোশাকের মতো। একপাশে টান পড়লে হুড়হুড় করে পুরোটা খুলে যায়।শুধু একদলা এলোমেলো সুতা নিয়ে আমি বসে আছি জিয়ানা।
আহাজারি থামিয়ে উত্তর দেয় বৃদ্ধা।জিয়ানা হাত দিয়ে গালের পানি মুছে বলে,
-কিং সুগি নামের একটা শিল্প আছে জাপানে। জানো?কোনকিছু ভেঙে গেলে সেটার ফেলে না দিয়ে বেটার শেপ তৈরি করা হয় ।আঠার সাথে গোল্ড পাওডার মিক্সড করে জোরা লাগিয়ে নতুন চমৎকার একটা জিনিস বানায় আর সেটার দাম আগের চেয়ে বেশি হয়।এই যে এদের তিন ভাইয়ের সম্পর্ক এতদিন নেতিয়ে ছিলো।আজ সেটা ভেঙে গেলো।এখন এই ভাঙা সম্পর্ক হয় আবার চমৎকার ভাবে জুড়ে যাবে। না হয় একেবারেই নাসাৎ হয়ে যাবে।তোমার এখন সেদিকে নজর দেয়ার দরকার নেই নানু।ওরা নিজেরাই ওদের ভালোটা বুঝে নিবে।
-আমার মেহদী আর রাফিনকে নিয়ে চিন্তা নেই।চিন্তা নিবিড়কে নিয়ে।ছোট থেকেই প্রচন্ড বুদ্ধিমান হলেও রাগ আর জেদের মাত্রাও অত্যাধিক। রাগের সময় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে যা ইচ্ছা তাই করে ফেলতে পারে।একদম ছোট বয়স থেকেই প্রচন্ড শঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এই পরিবারের প্রতি ওর মনোভাব খুবই বাজে।
-প্রচন্ড বুদ্ধিমানরা কখনো অত্যাধিক রাগী হয় না।এরা হয় রাগের ভান করে আর না হয় সব একেবারে নিজের মনে করে রাগ প্রয়োগ করে। ওইসব নিয়ে তোমার বেশি ভাবতে হবে না। এখন রেডি হয়ে নাও।একটু পর আমরা বাহিরে যাবো সবাই।
-আমি বেশি হাটতে পারি না।তোমরা যাও। আমি বাসাতেই ঠিক আছি।
-আচ্ছা তোমার যেটা ভালো মনে হয়।তবে এটা বলো কি আনবো তোমার জন্য?
-তুমি একটা কিছু আনলেই হবে।
জিয়ানা মুচকি হেঁসে উঠে যায় বসা থেকে।একবার উপরে তাকায়। লাট সাহেব তো কেলানি খেয়ে ফুলে ঢোল হয়ে আছেন। তার দিকে একটু নজর দিতে হচ্ছে।পেছনে ঘুরে দেখে বাচ্চারা সব হা করে তাকিয়ে মাথা ঘুরিয়ে দেখছে চারপাশ।জিয়ানা হাত তালি দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে,
-চারপাশে সিসি ক্যামেরা আছে।কেউ যদি কোন জিনিস নিজের পকেটে ভরেছিস তবে তাকে উল্টা লটকাবো। মনে থাকবে?
আক্কাস এগিয়ে এসে বলে,
-টেনশন নট ওস্তাদ। আমি আছি।
জিয়ানা মুচকি হেঁসে আক্কাসের কানে কানে বলে,
-আহা রে সোনা গো আমার।তোমাকে নিয়ে আরও বেশি ভয়।লাষ্টবার আমার ছু*রি কলমটা তুই সরিয়েছিলি।এখনো ভুলি নাই।
আক্কাস মাথা চুলকিয়ে বলে,
-ওস্তাদ ছরি।আসলে আমি ওইটা কলম ভাইব্বাই নিছিলাম। আবার ফেরত দিছি না?
-ওক্কে যা।সবাইকে পাহাড়া দে।সবাই একসাথে বের হবো।
বলে রান্নাঘর থেকে একটা বোলে করে আইস কিউব নিয়ে উপরে উঠে।
কুলসুমের পাশে বসা স্বপ্না আর মেহেদীর মা রেবেকা একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে।রেবেকা আস্তে করে বলে,
-নিবিড়ের উপযুক্ত বউ এই মেয়েটা।মানুষকে খুব সহজেই আপন করে নিতে পারে। স্বপ্না দেখে রাখিস ওকে।কালসাপ কিন্তু নিজ বাগানেই ঘুরেফিরে।
স্বপ্না দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,
-আপা আমার হাতে কিছু নেই।
তারপর কুলসুমের দিকে ইশারা করে বলে,
-আন্টি যদি ওর একটা অন্য ব্যবস্থা করতেন তবে এত ভয়ে থাকতে হতো না।
-আমি কি করতে পারি বলো?
নিজ সন্তানের পাপের খেসারত দিতে হচ্ছে জীবনভর।লতা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে সে এই পরিবারের বউ।ওদের মন্দিরে নাকি রীতিনিতি মেনে বিয়ে হয়েছিলো।
বৃদ্ধা ভরাক্রান্ত গলায় বলে সোফায় হেলান দেন।
তেতে উঠে স্বপ্না বলে,
-দুই ধর্মের দুইজনের বিয়ে হয় না আন্টি।আপনার ছেলেরা এইসব ভাউতাবাজি করে আমাদের মতো অসংখ্য মেয়েদের জীবন নরক বানিয়ে দিয়েছে।সবাই আর স্বপ্না না মুখ বুঝে তবুও মঙ্গল কামনা করবে।সুযোগে বড় একটা কামড় দেয়ার অপেক্ষায় আছে অনেকেই।আপনি ব্যবস্থা না নিলে আমি নিবিড়কে বলবো ,ওর বউকে নিয়ে আবার ফ্ল্যাটে উঠতে।আরেকটা শেহনাজ স্বপ্নার জন্ম আমি হতে দিবো না।
বলে গটগট করে চলে যায় স্বপ্না।রেবেকাও উঠে দাঁড়িয়ে বলে,
-স্বপ্নার কথা সত্যি আম্মা।অন্য ব্যবস্থা না নিলে জিয়ে রাখা আগুনে আবার সব পুড়ে ছাই হবে।
বৃদ্ধা চোখ বুঝে।সে অনেক কিছুই বুঝে তবে করতে পারে না কিচ্ছুই।
নিবিড় উদাম শরীরে বিছানায় থম মেরে বসে ভাবছে,কেমন কেয়ারলেস বউ তার।জামাইটা ইনজুর হয়ে এলো। অথচ বান্দির কোন হেলদোল নেই।একবার দরজার দিকে তাকানোতে বিরক্ত চেহারায় আরও বিরক্ত ভর করে।ফোনটা কোথায় তাকিতুকি করার সময় জিয়ানা প্রবেশ করে রুমে।হাতের আইস বল তেপায়ায় রেখে নিবিড়ের দিকে এগিয়ে কাধে চাপড় দিয়ে বলে,
-সাব্বাস।চারটা খেলার মাঝে দুইটাতে জিতার জন্য আজ আপনাকে সেবা করা ফরজ।
নিবিড় কপাল ভাজ করে জিয়ানার কান্ড কারখানা দেখে।জিয়ানা একটা পাতলা কাপড়ে আইস কিউব পেচিয়ে নিবিড়ের ঠোঁট আর নাকে আলতো করে ছেক দেয়।আর আস্তে করে ফু দেয়।নিবিড়ের চোখ জিয়ানার ঠোঁটে বিদ্যমান। সেই ঠোঁট ডানে বামে ছড়িয়ে গিয়ে বলে,
-আর একটু বেশি করে দিতেন কয়েক ঘা।যেনো হাটা চলা বন্ধ হয়ে যেতো বদ দুইটার।
এরমাঝে জিয়ানার পকেটে নিবিড়ের ফোন আবার বিপবিপ করে উঠলে ,জিয়ানা ইশারা করে কোমর দিয়ে। নিবিড় সেই ইশারা না বুঝে কোমড় চেপে ধরে। জিয়ানা মৃদ্যু চিল্লিয়ে বলে,
-ফোন বাজে আপনার।সেটা আমার পকেটে।সুযোগ পেলেই ব্যাটাগিরী না?
নিবিড় ফোন নেয়ার নাম করে আরও বেশি করে ছুঁয়ে দেয় জিয়ানাকে। জিয়ানা চোখ ছোট করে দেখতে থাকে নিবিড়ের কাজকারবার। নিবিড় কল রিসিভ করে কানে ধরে।মক্কুর ফোন,
-বল
-ভাই পোলাপান হাঁসি মস্করা করতাছে।আপনি নাকি বউ পাইয়া আমাদের ভুলে গেছেন?চব্বিশ ঘন্টা থেকে আপনার কোন হদিস নাই।কিন্তু আমার চিন্তা অন্য জায়গায়?আমার শালিটা ঠিক আছে তো?
-ফালতু বকতে ফোন দিছিস?
-ভাই এটা সেমি জরুরী কথা।আমার বউ খুব টেনশনে আছে।আর তার টেনশন মানে আমার টেনশন।
-তোর শালি কি মানুষ? সেতো এলিয়েন। তোদের আমাকে নিয়ে চিন্তা করা উচিত ,তার পাল্লায় পড়ে কেমন আছি ,না গেছি।
বলে নিবিড় জিয়ানার দিকে তাকিয়ে কাটা ঠোঁট নিয়েই মুচকি হাঁসে।জিয়ানা কাটা ঠোঁটে শক্ত করে বরফ চেপে ধরে।এতে নিবিড়ের কোন হেলদোল যদিও হলো না।ওপাশ থেকে মক্কু বলে,
-হেব্বি কেলানো হয়ে গেছে ভাই।এখন কি করমু এইটারে?শালা বহুত শয়তান।মুখ খুলে কিচ্ছু স্বীকার করে না তবুও।
-আমার জন্যও কিছু বাকি রাখ।আমি বিকেলে আসবো ক্লাবে।আপাতত পরিবার নিয়ে ব্যস্ত।
মক্কুর কাছ থেকে আকাশ ফোন কেড়ে নিয়ে সালাম দিয়ে বলে,
-ভাই সব ঠিকঠাক?
-ফোন রাখ।
-একটা প্রশ্ন ভাই?প্লিজ?
-হুহ
-বিবাহিত ভালো ,না অবিবাহিত?
-প্রথমটা।
বলে কট করে কেটে দেয় নিবিড়।জিয়ানা চোখ মুখ শক্ত করে বলে,
-আমি এলিয়েন?
নিবিড় ফোন বিছানায় ছুড়ে জিয়ানার কোমড় ভালো ভাবে আকড়ে ধরে বলে,
-তা নইতো কি? এতটা শক্ত কি করে একটা মেয়ে মানুষ হয়?
-একদিনেই তুলা থেকে শক্ত হতে গেছি?
-শক্ত তো তুলার ভেতরের হার্টটা।
বলে নাক ডুবায় জিয়ানার গ্রীবাদেশে।জিয়ানার শরীর চনমনিয়ে উঠে পেছাতে চায়। কিন্তু নিবিড়ের কারণে পারে না।জিয়ানার গাইগুই কাজে দেয় না।নিবিড়ের কাজে বাধা না দিয়ে বলে,
-নিচে বাচ্চারা অপেক্ষা করছে। সবাইকে নিয়ে বের হবো না আমরা?
-আমার বাচ্চারাও অপেক্ষা করছে।
নিবিড় আটকা কন্ঠে বলে আবার ঠোঁট ব্যস্ত রাখে।
-নাইস জোকস।কোন বাচ্চা হবে না। অনেক গুলা বাবা মা হীন বাচ্চাদের রেডিমেড মা বাবা হবো আমরা।অযথা এই ঝামেলার দুনিয়ায় নতুন করে কাউকে আনতে চাই না।
-এজ ইউর উইশ মাই কুইন।
বলে দূর্বার গতিতে হাতের দুষ্টুমি শুরু করে নিবিড়।
জিয়ানা বুঝে এই লোকের আবার মতিভ্রম হয়েছে।তাই গুরুত্বপূর্ণ কথা খোঁজে চলে।ফট করেই মনে পড়ে সাইকাইট্রিসের কথা।নিবিড়ের অত্যাচারের প্রান্তেই সে বলে,
-শোনোন আপনার সাইকাইট্রিস একটা বেয়াদপ।
এবার নিবিড়ের হাত ঢিলা হয়।জিয়ানার দিকে মুখ তুলে তাকায়।জিয়ানা নিবিড়ের কাছ থেকে একটু সরে বলে,
-উনি আপনাকে প্রশ্ন করতেই পারে কিন্তু আমাকে এত কিছু জিজ্ঞেস করতে না করবেন।আমি ফাইনাল সেশনে তানাহলে যাবো না।
-কি জিজ্ঞেস করেছে?
-আমাদের সম্পর্ক আই মিন কাল রাতের কথা উনি ডিটেইলস জানতে চেয়েছেন।আমি যতটুকু বলার বলেছি।
-কি বলেছো? আমার হাজবেন্ড সিংহ পুরুষ?
-কচু।
বলে জিয়ানা উল্টা ঘুরে যায় নিবিড় জিয়ানার লজ্জা পাওয়া দেখে হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,
-যাক আমার বউয়ের লজ্জা আর জড়তা আছে তাহলে?তবে সে অল্প এলিয়েন আর অল্প মানবী।
জিয়ানা আবার নিবিড়ের দিকে ঘুরে ধুপধাপ কিল দেয়া শুরু করে।নিবিড় কিল খেতে খেতে জিয়ানাকে সহ বিছানায় শুয়ে পড়ে। কিল খাওয়ার মাঝে টপাটপ চুমুও খেয়ে নিলো কয়েকটা।আর মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে,
-এলিয়েন হলেও আমার বউটা সুইট। মুখটা সুইটনেসে ভরে গেলো। বাট আই এনজয় ইউর আনারিপনা চাঁদ।
-আমি আপনার রাক্ষসপনা এনজয় করিনি।
জিয়ানা মা*র থামিয়ে আবার বলে,
-তবে হ্যাঁ সুইট তো অবশ্যই। তানাহলে বারবার মনে করিয়ে দিতে হয় আমি জিয়ানা আপনার বউ।আপনি আপনার রাক্ষস পানা চালিয়ে যান।সুইট না হলে কেউ এইসব বলতে পারে?
-রাক্ষসপনা? লাইক সিরিয়াসলি? দেখো তো তোমার সারাশরীরে একটা স্পট পাও কিনা?কত আলতো ভাবে ছুঁয়েছি।যদি হার্ট হও তবে সেটা তোমার শরীরের দোষ ,তাকে এত কোমল হতে কে বলেছে?
জিয়ানা উঠে দাঁড়িয়ে তেপায়ার সামনে গিয়ে চেক করে। এবং অবাক হয়ে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
-কোন লাভ বাইট নেই কেন? আমাদের কাজকর্ম কি ঠিকঠাক মতো হয়নি?তাই তো বলি কষ্ট লাগে কেন?
নিবিড় হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,
-রং পাথে ছিলা এতদিন।জেনারেশনকে রং সে*এক্সুয়াল এডুকেশন শিখানো হয়েছে। মাংসাশী প্রাণী নিজের বাচ্চাদের কিভাবে ক্যারি করে?
-দাঁত দিয়ে আকড়ে ধরে।
-তাদের দাঁত কেমন?
-কেমন আবার প্রচন্ড শার্প।
-শার্প দাঁতে শাবকদের আকড়ে ধরলে কি কেটে যায়?নাকি রক্তাক্ত হয়?
জিয়ানা মাথা নাড়ে।হয় না কিছুই।নিবিড় শোয়া থেকে উঠে বসে বলে,
-কেয়ার জিনিসটাই এমনই।যেখানে রাফনেস থাকবে না।নিজের দাঁত আর নখের কন্ট্রোল থাকবে শতভাগ।একটা হিংস্র পশুও সফটনেস আর রাফনেসের পার্থক্য বুঝে। মানুষ কেনো বুঝবে না?
জিয়ানা মাথা নাড়ে।ঠিক বলেছে নিবিড়। কাল রাতে সেও নিবিড়কে একটা আছড়ও কাটেনি।মানুষ কেনো ব্রুটাল হবে? ভালোবাসার স্পর্শে যদি আঘাতই থাকে তবে সেটা ভালোবাসা কম জঙ্গলিপনা বেশি।আর শো-অফের কাতারে চলে যায় সেটা।
নিবিড় জিয়ানাকে চুপচাপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে,
-তবে তোমার নেকের নিচের তিলটা খুবই ডিস্টার্বিং। ওইটাকে আমি দেখে নিবো।
জিয়ানা চোখ ছোট করে রাগ দেখায়। নিবিড় মুচকি হেঁসে আবার বলে,
-এবার আসো তোমাকে আরও একটা নতুন জিনিস শিখায়।নতুন অভিজ্ঞতা হবে।কাম ফাষ্ট।আম ওয়েটিং।
-কোন দরকার নেই।উঠে ব্রেকফাস্ট করতে যান।সবাই অপেক্ষায় আছে।আমি রেডি হয়ে নামছি।আর শুনোন আপনি যদি সব জায়গায় এমন কর্তৃত্ববাদি দেখান তবে ভোটের ভ টাও পাবেন না।
-আমি লী কুয়ান টাইপ কর্তৃত্ববাদের বিশ্বাসী।
-কে এই ব্যাটা?
-সিঙ্গাপুকে ফাষ্ট ওয়ার্ল্ড বানাতে যিনি ভীষণ কর্তৃত্ববাদি ছিলেন।
-তাই বলে আমার সাথেও এমন কমান্ডিং বিহেভ করবেন?
-কেমন বিহেভ চাও বলো?কিংবা উন্নয়নের জন্য কর্তৃত্ববাদ ছাড়া আর কোন ফাষ্ট ওয়ে তোমার জানা আছে বলো?
-আমি যদি বলি ব্যাপারটা এমন হয়ে গেলো না,সুপারি গাছ বটবৃক্ষকে বলছে “যত পারো ডালপালা বিস্তার করো।”
বলে আলমারির দিকে এগিয়ে যায় জিয়ানা।তখনই দরজায় নক হয়।জিয়ানা হাতের ইশারায় নিবিড়কে থামতে বলে নিজে এগিয়ে যায়।দরজা খুলার সাথে সাথেই একটা লম্বা শ্যামা শরীরের কাটা ঠোঁট ,চোখের সাইডে গাঢ় খয়েরি দাগ নিয়ে দাঁড়ানো মেহেদী দেকে ফিক করে হেঁসে দেয় জিয়ানা।মেহেদী সেই হাঁসি দেখে রেগে দাঁতের সাথে দাঁত চেপে বলে,
নীতিহীন রাজ পর্ব ৫৮
-বেয়াদপ মেয়ে! নিবিড় কই?
নিবিড় ততক্ষণে জিয়ানার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।মেহেদী নিজের হাতের একটা খাম নিবিড়ের দিকে বাড়িয়ে দেয়।নিবিড় সেটা নেয়ার সাথে সাথে হনহনিয়ে মেহেদী প্রস্থান করে সেখান থেকে।
অপরদিকে নিবিড়ের ঠোঁটে বিশ্ব জয়ের হাঁসি।সে জানতো মেহেদীর সরি বলার স্টাইল হচ্ছে অতি দরকারী কিছু গিফট দেয়া।তাই তো এতদিন জেনে বুঝে তার ধারণা ভাঙ্গাইনি নিবিড়।
দরকার ছাড়া কোন কাজই করার ধাচে নেই সুখনীল নিবিড়ের।বাহির থেকে মনে হতে পারে স্বার্থপর সে।ভেতরে ভেতরে আসলে সে মহা স্বার্থপর।নিজের যেটা দরকার অন্যকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হলেও সেটা সে হাসিল করবেই করবে।
