নীতিহীন রাজ পর্ব ৯
আশিকা আক্তার সোহাগী
কিনকি ফ্রাইডম্যানের একটা বিখ্যাত উক্তি আছে “পলিটিক্সের প্রকৃত অর্থ হলো: পলি মানে একাধিক। আর টিক্স মানে রক্তচোষা পরজীবি। ”
যেই ক্ষমতায় যাবে সে নিজের অজান্তেই একজন রক্তচোষা পরজীবি হয়ে উঠবে।এখানে নিজ থেকে কেউ ভালো থাকতে চাইলেও ভালো থাকতে পারে না। যতক্ষন না লিডার নিজে ভালো হয়।নিবিড়ের কাজকর্ম কেউ ধরতে পারে না। এদিকে নিবিড় প্রতিটা কাজ যে সব মামুন ইসলামের হুকুমেই হয় এটা আবার পাবলিক বুঝে না।সাভারের এই ইউনিয়ন সহ বাকি দশটি ইউনিয়নের জন্য যত সরকারি কাজ আসে ,সব কাজ পায় নিবিড়ের ঠিক করা ঠিকাদারেরা। এখানে থার্টি পার্সেন কমিশন নিবিড় পায়। বাকি হিসেব তার জানার প্রয়োজন পড়ে না। যে ঠিকাদারদের সে লিষ্ট দেয় তারা আবার এক্সট্রা চার্জ আগে থেকেই নিবিড়ের কাছে দিয়ে বুকিং করে রাখে। প্রতিবার সেটাই হয়ে আসছে। কিন্তু এইবার দুইজন ঠিকাদারের নাম কেটে গালকাটা মকবুলের ভাই আর বোন জামাই কেমনে জানি ঢুকে গেছে। বাদ পড়া দুইজন এসে নিবিড়ের কাছে বিচার দিলে তার ইগোতে লাগে। এখানে সব কিছু হয় তার হাতের ইশারায় অথচ বিরোধীদল তার নাকের ডগায় বসে কার্য হাসিল করতে চাচ্ছে। ক্লাবের সিক্রেট রুমের ড্রয়ার থেকে স্মিথ এন্ড ওয়েসন ২৯ রিভালবার টা বের করে ৬রাউন্ড সিলিন্ডার লোড করে কোমড়ে গুজে নিলো।৭নং ইউনিয়নের পরিষদের অফিসে গিয়ে সোজা চেয়ারম্যানের পিএস এর কপলারে রিভালবার ঠেকিয়ে শাসিয়ে বলে,
“এইটাই ফাষ্ট আর এটাই লাষ্ট ওয়ার্নিং। আগে যেমন নিজের নাকটা নিজের কাছে রাখতি এখনো সেইভাবেই রাখবি।এরপরের বার নাক থেকে শুরু করে রাউন্ড শেপের কল্লাটা জাষ্ট উড়িয়ে দিয়ে যাব।”
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অন্যদের নাম কেটে তার পছন্দিতা নাম লিখিয়েছে। সবই ঠিক ছিলো কিন্তু সরকারি অফিসে এমন গুন্ডামী করাই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়ে মামলা করে সেখানকার চেয়ারম্যান। আর সেদিন রাতে ক্যাম্পাসের বাহির থেকে পুলিশ নিবিড়কে এরেষ্ট করতে আসলে পুলিশের সাথে হাতাহাতি করে তার সাংঙ্গু পাংঙ্গু সহ নিজেও আহত হয়। ওসি হাবিব তক্কেতক্কে ছিলো একটা অছিলার। মামলা হওয়ার সাথে সাথেই সে নিবিড়কে ধরে নিয়ে আসে। কিন্তু বিধিবাম সকাল হতে না হতেই মন্ত্রীর ফোনে দুপুরের মাঝেই সব ফরমালিটি শেষ করে বিকেলেই ছেড়ে দিতে হয়।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
যারা অনেক কথা বলে তাদের কথায় ভুল বেশি থাকে। এটাই আমরা যেনে আসছি এতকাল। কিন্তু যারা কথা বেচে খায় তারা কেনো ভুল বলে না? মোটিভেশনাল স্পিকারদের কথা বলছিলাম।আসলে কথা বেশি কমের বিষয় না। বিষয়টা হচ্ছে বিচক্ষণতা আর মনোযোগ। আমরা যেটা বলি সেটা ভেবে আর মনোযোগ দিয়ে ডেলিভারি দিলেই নির্ভুল হয়। তেমনি এই জিনিসটা হয় জিয়ানার ক্ষেত্রে। মেয়েটা প্রচুর কথা বলে। তবে যেটা বলে সঠিকই বলে।
মৌসুমী মনপুত হয়ে জিয়ানার কথা শুনে। ওর ভালো লাগে। ঠোঁট গুলো এদিক সেদিক চলে যায়। মাঝেমধ্যে জিহবা দিয়ে ভিজিয়ে আবার পটপট করে আওয়াজ বের করেই চলেছে। এই মেয়েটা যদি অন্য মেয়েদের বেশে চলতো কিংবা চুলটা অল্প একটু বড় হতো ,তাহলে অর্ধেক ক্যাম্পাসের ছেলেরা লাইন ধরতো। কেমন এশিয়ান একটা চেহারা। যদিও চোখ গুলো বেশ ভাসানো আর নিটোল।
ক্লাসে একটা সাবজেক্ট নিয়ে আলোচনা করছিলো তারা। বাহিরের হট্টগোলের শব্দে জিয়ানা বই ব্যাগে ভরে তাড়া দিলো ,
“চল দেখে আসি কি হলো”
অনাগ্রহী মৌসুমী সাধ দিলো বান্ধবীর। ভার্সিটির গেইট জিয়ানাদের ডিপার্ট্মেন্টের দোতলা হতেও দেখা যায়।অনেক গুলো ফুলের মালা গলায় নিবিড় সবার মাঝখানে হেঁটে আসছে। নিবিড়ের বডি স্টেকচার এত দারুন। হাজার খানেক মানুষের মাঝে থাকলেও দূর হতে স্পষ্ট চিনা যাবে। বিশেষ করে চুলের জন্য। মাথাভর্তি চুল। সেটাও ঘাড় পর্যন্ত। মুখের চোয়াল সবসময় শার্প দেখায়। জিয়ানা এই প্রথম ভালোভাবে লক্ষ করে দেখলো। লোকটার মাঝে সত্যি নেতা নেতা একটা ভাব আছে। সাথে গলার টোনটাও বেশ গমগমে। পুরো পুরুষালীর ফুল প্যাকেজ। তবে চরিত্র খারাপের দিকটা জিয়ানা মিলাতে পারে না।এই বেটাকে নিয়ে হালকা ইনভেস্টিগেট করার ইচ্ছা জাগলো তার।পাশ থেকে মৌসুমী বলে,
“জানিস নিবিড় ভাই একটা গোলকধাঁধা। এটা সবাই জানে উনার চরিত্র খারাপ।ভার্সিটির অর্ধেক মেয়ে উনার শয্যাসঙ্গী হওয়া শেষ। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এই মেয়ে গুলোকে তুই খুজলেও পাবি না ,যারা নিবিড় ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। শোনা যায় দুই তিনদিনের প্রেমিকা কোনটাই আর ভার্সিটিতে আসে না। একমাত্র তামান্না ছাড়া। ” গলাটা একটু ধরে এলো তার।
“তোদের নিবিড় ভাই কি খেয়ে সিল মেরে দেয় “রিজেক্টেড ” টাইপ কিছু?নাকি ল্যাবে ঢুকিয়ে টেস্ট করে মাইয়া খাটি না ভেজাল? নাকি নিজের চরিত্রে উনি নিজেই কালি লেপে রেখেছেন?আই থিংক হি ইজ আ কমপ্লিট মিসটেরিয়াস। ”
জিয়ানাদের ডিপার্ট্মেন্টের নিচতলা দিয়ে যাওয়ার সময় নিবিড় একবার দোতলায় তাকালো। জিয়ানা কপাল ভাজ করে তার দিকেই তাকিয়ে। জিয়ানা গলা উঁচু করে জিজ্ঞেস করলো ,
“এ্যাই যে কাবলিওয়ালা! কেমল লাগলো শ্বশুরবাড়ি? ”
নিবিড় মক্কুর দিকে তাকিয়ে বলে,
“কেউ কি আমাকে শুভ জন্মদিন কিংবা ঈদ মোবারক বলল?”
মক্কু আর বদি হোঁ হোঁ করে হেঁসে দিলো। নিবিড় নিজের গলার সব মালা খুলে মক্কু হাতে দিলো। আর একটা মালা দোতলায় ঢিল ছুড়লো সেটা গিয়ে জিয়ানার মুখে লেগে পায়ের কাছে পড়লো।জিয়ানা কপাল দ্বিগুণ ভাজ করে বলে,
“কুচ তো শরম করুন।ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে দিক বিজয়ী ফারাও সিংহপুরুষ আর পাশে গর্বিত সেনাপতি সব ।জেলখেটে এসেও ভাবখানা এমন যেনো রাজ্য জয় করে ফিরলেন? ”
“ভাইয়ের রাজ্য আগে থেকেই জয় করা। প্রতিদিন কত রাজ্য ভাই জয় করে সেসব হিসেবের বাহিরে। তোমার রাজ্য যদি রাজাহীন হয় বলে দিয়ো সেটাও ভাই নির্দ্বিধায় জয় করে দিবে। ” বলে উঠলো পেছন থেকে এক চ্যালা।
উপস্থিত সবাই অট্টহাসিতে ফেঁটে পড়লো। জিয়ানা আরও কিছু বলবে তখনই হাতে টান লাগলো। রাফিন হাত ধরে করিডোর দিয়ে নিয়ে সামনে হাটা ধরে।নিবিড় নিচ থেকেই দেখলো তাদের প্রস্থান।
জিয়াউল ল্যাপটপে বসে একটা ইমেইল সেন্ড করে গভীর কিছু চিন্তা করছে ।তখনই রিটার্ণ মেইল আসলো একটা ফোন নাম্বার।কল করে একটা এড্রেস আর সময় জানালো অপর পাশ থেকে।কল কেটে জিয়াউল সেই দিনের স্মৃতিতে ডুবে গেলো…
সাগর হক ফোন দিয়ে আর্জেন্ট রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে যেতে বলে। এখনই রওনা হতে বলেছে।নীলুফার পেইন উঠেছে।বিশ বছর আগে রুপক মন্ডল সাগরের হতেই তুলে দিয়েছিলো নীলুফাকে।নীলুফা চোখের সামনে পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে খুন হতে দেখে বিধ্বস্ত ছিলো। সাগর আগে থেকেই নীলুফাকে ভালোবাসতো। রুপকের বন্ধু হওয়াই দুই একবার তাদের বাড়ি যাওয়ার আসায় প্রেমে পড়ে নীলুর। কিন্তু পারিবারিক ভেদাভেদ এত বেশি বিদায় কখনো বলার সাহস হয়নি। রুপক যখন একবার ফোনে বলে সাগর আর অন্য চিন্তা না করেই হাত ধরে পাড়ি দেয় অজানায়। রাঙ্গামাটি গিয়েই নীলুফাকে বিয়ে করে সাগর। অন্য আর কোন উপায় ছিলো না। তিনদিন এদিক সেদিক ঘুরেও যখন কোন কূলকিনারা পাচ্ছিলো না তখন বিয়ে করে নেয়।হোটেলের টিভিতে নিউজে দেখে পুরো পরিবার খুন হয়েছে সাথে রুপক নিজেও। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোজ্জাম্মেল ইসলাম ,উনার বড় পুত্র মাজাহার ইসলাম আর তার স্ত্রী পুত্র সহ বাড়ির কর্মচারী মিলে বিশজন মানুষ নৃশংস্য ভাবে হত্যার নিউজ প্রতিটা নিউজ পোর্টালের হেড লাইন। মেজো পুত্র মামুন ইসলামের মুখে রাসায়নিক কেমিক্যাল পড়ায় উনাকে মালেশিয়া হাসপাতালে শিফট করা হয়েছে। সাথে ডান হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। মামুন ইসলামের ছোট পুত্রকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পেছনে পাওয়া গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃদ্ধা কুলসুম বেওয়া আর মামুনের স্ত্রী শেহনাজ স্বপ্নাকে বাথরুমে বন্দী অবস্থায় পাওয়া গেছে। উনারা অক্ষত কিন্তু একমাত্র মেয়ে নীলুফা ইয়াসমিন নিখোঁজ।
পুরা ফ্যামিলি এক নিমিষেই ধ্বংস হওয়াই নীলুফা ছিলো ঘোরের মাঝে। রুপক বারবার বলেছিলো লুকিয়ে থাকতে। কারণ অবশ্য তেমন একটা বলেনি। শুধু বলেছে সব সম্পত্তি নীলুফার নামে উইল করা।তার শত্রু তার আপনজনই। কাউকে বিশ্বাস না করতে।তাই সে আর প্রকাশ্যে আসেনি। এমন কি নিজ পরিবারের সাথে যোগাযোগও করেনি আর। একবছর পর হঠাৎ একদিন জিয়াউলের ফোনে কল আসে “ভাই আমার স্ত্রী সন্তানকে বাঁচা। “প্রচন্ড আকুতি মিনতি ভরা সেই কন্ঠ আজো ভুলতে পারেনি জিয়াউল। কথা মতো পরের দিন ভোরে সেই হাসপাতালে পৌঁছায় কিন্তু রিসিপশন থেকে শুরু করে পুরো হাসপাতালে নীলুফার চিহ্ন পর্যন্ত পায়নি সে।
রাফিন হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে তার অফিসের দিকে। অপরদিকে মৌসুমী হা করে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে। এখানে হলো টা কি? নিবিড় ফুলের মালা ছুড়ে মারলো। আবার তার ভাই ওরফে স্যার হাত ধরে টেনে নিয়ে ছুটলো। নিজের ভাবনাকে চাল হাট বলে নিচের দিকে গেলো। জিয়ানার কাছ থেকে পরে জানা যাবে।
রাফিন জিয়ানার হাত একেবারে পার্কিং স্পটে গিয়ে ছেড়ে দিলো। তারপর গাড়িতে উঠতে বলে। জিয়ানা চোখ ছোট করে রাফিনকে প্রশ্ন করল,
“স্যার এটা কি হলো? আমার উত্তর দেয়া হল না। আপনার ভাই জিতে গেল। আর এইভাবে সবার সামনে টেনে আনলেন কেনো?”
“তুমি নিবিড়ের কাছ থেকে দূরে ,বহুদূরে থাকবে। ও একটা সাইকো। মাথায় গন্ডগোল আছে। আর ও তোমাকে ফুল ছুড়েছে কেনো?”
“সেটা আমি কি জানি?”
“চলো কোথাও বসি। বলে গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে যাওয়ার ইশারা করলো। জিয়ানা নিজের সাইকেল দেখিয়ে বলে,
“আজ না স্যার। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। বাসায় যেতে হবে।”
“প্লিজ পাঁচ মিনিট জিয়ু।সাইকেল গাড়ির ডিকিতে নিচ্ছি। ”
বলে সাইকেলে যেই হাত দিয়েছে অন্য কেউ এসে খপ করে সেটা নিজের দিকে টেনে নিলো। জিয়ানা আর রাফিন ঘুরে দেখে নিবিড় দাঁড়িয়ে। সাইকেলটা একটানে পেছনে নিয়ে মক্কুকে বলল “জিয়ানাদের বাড়ি পৌঁছে দিস সাইকেলটা। ”
মক্কু তার দায়িত্ব পালন করতে সাইকেল নিয়ে হাঁটা দিলো । এদিকে জিয়ানা তব্দা লেগে গেছে এদের সাইকেল নিয়ে টানাটানি দেখে।
নিবিড় এগিয়ে এসে জিয়ানার হাত ধরে টেনে নিজের দিকে নিয়ে বলে,
“তোমার সাথে আমার কথা আছে। চলো।”
রাফিন খপ করে অন্য হাত ধরে বলে ” না আমার সাথে যাবে। আমার কথা আছে। ”
এদের ডানে বামে টানাটানিতে জিয়ানা মাঝখানে চিড়ে চ্যাপ্টা না হয়ে চিড়ে ফাল্টা হওয়ার যোগাড়। কিন্তু জিয়ানার স্বভাব হচ্ছে সিরিয়াস মুহূর্তে নিজের চেহারার কথা মনে করে হেঁসে দেয়া। আজও তাই হল।দুইজন তালগাছের মাঝখানে তাকে নিশ্চয়ই চারা গাছের মতো লাগছে।হঠাৎ খিলখিলি করে হেঁসে দিলো জিয়ানা। দুই ব্যাক্তি একসাথে বিমোহিত হলো সেই হাসির ঝংকারে। হাত ছেড়ে কয়েক পল থমকে চেয়ে থাকলো মুক্তার ন্যায় দন্তের চিকন ঠোঁটের প্রসারিত হাঁসির দিকে। জিয়ানা হাঁসলে চোখও হাঁসে। ছোট ছোট হয়ে যায়। বেশি হাঁসার কারণে ফর্সা মুখে লাল পলাশের আভা ফুটে উঠল যেন।নিবিড় সেই জাদুকরী হাঁসির শব্দে শুকনো ঢোক গিলে সাথে তার তীক্ষ্ন এডাম আপেল উঠানামা করে।তারপর সমসুরে একসাথে ভেসে আসে,
“এইভাবে কোন পুরুষের সামনে হাঁসবে না জিয়ানা।”
দুইজনের মুখে একই কথা শুনে জিয়ানার হাঁসি আরও বেড়ে যায়।হঠাৎ তার ফোন বাজায় হাঁসির ব্যাঘাত ঘটে। দুইজনের থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে রাব্বির ফোন। একটু সাইডে গিয়ে সে কথা বলতে লাগল।
নিবিড় আর একটু এগিয়ে গিয়ে রাফিনের সামনে টানটান করে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো ,
“আমার সব জিনিসেই তোর দখলদারি করা লাগে না?”
“তোর কোন জিনিস আমি দখল করেছি দেখা?”রাফিনও সোজা হয়ে প্রশ্ন করলো।
“মা ,দাদি পুরো পরিবার ,বাড়ি ঘর সব তো আগে থেকেই নিয়েছিস এখন আবার ওর দিকে হাত বাড়িয়েছিস। ” জিয়ানাকে ইশারা করে বলে নিবিড়।
“জিয়ানা কবে থেকে তোর জিনিস হলো?”
“প্রথম দিন থেকেই। ”
“আমি ওকে পাঁচ বছর আগে থেকেই চিনি। তাহলে এইবার তুই আমার জিনিসে দখলদার হয়ে যাচ্ছিস না?”
“আমি যদি বলি ওর জন্মের আগে থেকেই সে আমার জন্য বরাদ্দ। ”
“নাইস জোক। প্রতিদিন যে নারী সঙ্গে মেতে থাকে তার আবার ফিক্সড বরাদ্দ।তাহলে তোকে একটা ফ্রি এডভাইস দেই শোন। জিয়ানা খুবই চুজি বিশেষ করে যেটা ওর সেটা একান্তই ওর মনে করে। ওর গ্লাস প্লেট এমন কি চামচ পর্যন্ত আলাদা। আমার রিলেশন ছিলো বলে আমাকেই ঝুলিয়ে রেখেছে আর তুই তো হাজার রমণীর রাজা। তোর বাতাসও সে নিজ গায়ে লাগাবে না। তাই আমার সাথে জেদ করে অহেতুক সময় নষ্ট করিস না। ”
“চ্যালেঞ্জ করছিস? দখলদার যত ইচ্ছা দখল করে রাখতে পারে কিন্তু আসল মালিক আসলে তাকে সব ছেড়ে লেজ গুটিয়ে পালাতে হয়। বেটা জিলে আপনে জিন্দেগী। সময় মতো আমার জিনিস আমি বুঝে নিবো। ” রাফিনের কাধে হাত দিয়ে চাপড়িয়ে হাঁটা শুরু করল নিবিড়।
রাফিন ভ্রু ভাজ করে নিবিড়ের যাওয়া দেখল। তারপর ঘুরে জিয়ানাকে খুঁজে দেখে সেও নেই। নিবিড় কে সে চিনে ,জেদ করে নিজের বারোটা বাজাচ্ছে।অথচ ছোটবেলায় কত সুন্দর সম্পর্ক ছিলো তাদের। রাফি দা রাফি দা বলে পেছন পেছন ঘুরতো। একটা ঝড়ে সব লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে। আর ঠিক হবে না এই অগোছালো সম্পর্ক। তবে সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলো মামুন ইসলামের সাথে কথা বলবে।উনি কখনো রাফিনের আবদার অপূর্ণ রাখেননি।
ভুলে তাড়াহুড়োই আজ টাকার ব্যাগ আনতে ভুলে গেছে জিয়ানা।সিএনজি দিয়ে অর্ধেক এসে দেখে টাকা নেই।মনে মনে ছক কষে বিকল্প চিন্তা করছে। কাছাকাছি গিয়ে চিল্লিয়ে বলল,
“ওই মামা এইটা তো নবীনগর। আমি যামু গোহাইল তুমি আমারে উল্টো আনছো কেন?”
সিএনজি ওয়ালা ঘাবড়ে গেলো যেনো। তারপর ইতিউতি করে বলে,
“আফনে দেইখা উঠবেন না?এহন ভাড়া দিয়ে নামেন। ”
“আরেহ আশ্চর্য একে উল্টো আনছো তারপর আবার টাকা চাও?”
সিএনজির আরও দুই প্যাসেঞ্জার এইবার বিরক্ত হয়ে ড্রাইভারকে শাসালো। ড্রাইভার গাইগুই করে চলে গেলো। এদিকে জিয়ানা নিজের কাধে নিজেই চাপড়ালো। এমন বুদ্ধি সে তার গুরু সমরেশ মজুমদারের কাছ থেকে অর্জন করেছে।
একটু হাটলেই রাব্বিদের বস্তি। মনে মনে নিবিড়কে খাটি বাংলা গালিতে বাংলা ওয়াশ করলো। সাইকেল থাকলে এত কসরত করা লাগতো।এইদিকে রাব্বির ফোনে তাড়াহুড়ো করে চলে তো আসলো কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেছে। গলির ভেতর ঢুকে দেখলো নিরব বেশ।এই দিক দিয়ে আজই প্রথম যাচ্ছে বড় রাস্তা হয়ে বস্তিতে ঢোকা ইজি। কিন্তু ভাড়ার চক্করে আজ এই দিক কাছে। কিছুটা যেতেই দেখলো একজন কালো হ্যাংলা পাতলা লোক একদম তার সাথে সাথে তাল মিলিয়ে হাটছে।কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো
“১৬?২০?৩০?”
জিয়ানা গলা টানটান করে বলে “মানে?”
“মা”গি সব বয়সেই আছে কোনটা লাগবে?”
জিয়ানার কানে মনে হলো গরম সিসা পড়ল।সেটা মস্তিষ্ক বেদ করে চলে গেছে। নিজেকে ধাতস্থ করে কোন জবাব না দিয়ে হনহনিয়ে এগিয়ে গেলো।লোকটা ওকে পুরুষ ভেবেছে।
রাব্বিদের ঘর জিয়ানা চিনে বিধায় কয়েক মিনিটেই পৌঁছালো। রাব্বি ঘরের দরজায় বসে মুখ বিষ করে বসে। জিয়ানাকে দেখে বলে,
“উস্তাদ। আব্বার মনে হয় মরার টান উঠছে। সারাদিন থেকে নড়েচড়ে না ,খাইয়ো না। দুপুরের দিকে চোখ দিয়া পানি পড়ছে। এহন আবার হেডাও বন্দ।কি করমু?”
“চল ” বলে ঘরে ঢুকে গেলো। হাতের নার্ভ পেলো না। তাই রাব্বিকে বলল বুকে কান পেতে ধুকপুক শব্দ শুনতে। রাব্বি সেই মতো কান পাতলো। মিনিট হয়ে গেলেও রাব্বি যখন সাড়াশব্দ করলো না। জিয়ানা রাব্বির মাথায় হাত রাখলো। ময়লায় চুল গুলো সব এক হয়ে গেছে। রাব্বি মাথা তুলে বলে
“মইরা গেছে। বুকের মেশিন শব্দ করে না। এহন কব্বর কই দিমু?”
জিয়ানা সেই মাটির ফ্লোরে বসে পড়ে।একটা দশ বছরের বাচ্চার জীবন কেমন কঠিন হলে একমাত্র পিতা বিয়োগেও চোখের পানি না ফেলে তাড়াতাড়ি কবরের চিন্তা করতে পারে। জীবন যেখানে যেমন এই কথাটা কি এই মর্মে লিখেছিলেন কবি? হঠাৎ জিয়াউলের চেহারা ভেসে উঠলো চোখে। দপ করে দাঁড়িয়ে গেলো আবার। আব্বু তাকে সব সময় এমন রাব্বির মতো কঠিন বানাতে চেয়েছেন। কঠিন পানিশমেন্টে কাঁদলে ,পানিশমেন্ট ডাবল বেড়ে যেত।কিন্তু এই ছেলে জীবনমুখী ট্রেনিং প্রাপ্ত। তার কাছে এই রোগা-সোগা জীর্ন শরীর টা একটা বোঝা। যে বয়সে বাচ্চামিতে মেতে থাকার কথা। বাবা মার আশ্রয়ে বেড়ে উঠার সে বয়সে সে বাবা মা হীন স্বাবলম্বী একজন টোকাই। জিয়ানা এগিয়ে গিয়ে লাশের মুখটা ঢেকে দিয়ে রাব্বিকে বলে,
“তুই কি একটু কাঁদবি রাব্বি?”
রাব্বি জিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে,
“নাহ ওস্তাদ।যে জীবন আল্লাহ দিছে ,এহনই কাইন্দা চোখের পানি নষ্ট করবার চাই না। আব্বা মরছে ভালো হইছে। আর কত কষ্ট করব বাইচ্চা থাইক্কা। বিষ-বেদনায় কুকড়া হইয়া যাইতো। এহন আল্লাহ নিয়ে গেছে ভালাই হইছে। বেডা মানুষ কান্দে না। ”
কিন্তু জিয়ানার কান্না পাচ্ছে। না জীর্ণশীর্ণ লাশটার জন্য না। এই অল্প বয়সী কিন্তু কঠিন বাচ্চাটার জন্য। সাথে সাথে মনে মনে একটা প্রতিজ্ঞা করল”আজ থেকে এই বাচ্চাকে বাচ্চা হিসেবে বড় করবে। এর আগে ফোন বের করে মৌসুমীকে কল দিয়ে বদির নাম্বার নিলো।
বদি ফোন সবসময় লাউড স্পিকারে কথা বলে। আজও তাই করলো।
“বদি ভাই আমি জিয়ানা। আচ্ছা নবীনগর বড় রাস্তার বস্তিতে একজন মানুষ মারা গেছেন। উনাকে দাফন করতে হবে।কেউ নেই উনার এক পিচ্চি ছেলে ছাড়া। আপনারা কোন ব্যবস্থা করতে পারবেন? ”
নিবিড় ফোনটা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো ” তুমি কি এখন ওইখানে?”
জিয়ানা একটু থেমে কন্ঠ চেনার চেষ্টা করলো তারপর আস্তে করে উত্তর দিলো “জ্বি”
“আচ্ছা ওইখানেই থাকবে। বের হবে না। দশ মিনিটের মাঝেই আসছি আমরা। এসে যদি দরজাতেও পাই কানের নিচে একটা দিবো। ”
বলে বদি আর মক্কু কে ইশারা করলো বের হতে।
জিয়ানা এতক্ষণে বুঝলো এটা নিবিড়। রাব্বিকে বলে,
“আক্কাসরা কই সব?”
“হালার পুতগরে দরকারের সময় পাওন যাইলে তো হইতোই। আজ ওগোর একটা বড় খ্যাপ আছে। আমারেও কইছিলো যাওয়ার জন্য কিন্তু মন সায় দেয় নাই। এহন বুঝলাম আব্বা মরবো দেইখাই আমার মন আজ বাড়ি থেকে বের হইতে দেয় নাই।”
“এই বস্তিতে কেউ নেই যে তোদের বিপদে সাহায্য করবে এমন? বা নেতা টাইপ কেউ যারা এসব কাজে এগিয়ে আসে?”
“নাহ এইহানে সবার পেটের ধান্দা খালি। বস্তির ঘরের ভাড়া তুলে গাল কাডা মকবুইল্লা। হে হালার ঘরে হালা আরেক খা** “শেষ করতে পারলো না রাব্বি। জিয়ানার চোখ রাঙানিতে থেমে আবার বলে,
“মকবুইল্লার এরিয়া এইডা কিন্তু হেয় আমাগোরে দেখতে পারে না কারণ আমরা নিবিড় ভাইয়ের মেলা কাম করছি।ফাঁকে পাইলে আমগোর কল্লাডা ঢালাই দেবে।আবার সাহায্য?”
“আচ্ছা চল দেখি এইভাবে তো হাত গুটিয়ে বসে থাকা যাবে না। উনার গোসলের ব্যবস্থা করতে হবে। কাবলিওয়ালা এসে সরকারি কোন গোরস্তানে কবরের ব্যবস্থা করবে।” বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। রাব্বি দুই ঘর পরের ঘর একজন রিক্সাওয়ালার কাছে গিয়ে বলল।উনি বের হয়ে আশেপাশের কয়েকজনকে খবর দিয়ে যোগাড় করলেন। তারমধ্যে গাল কাটা একলোক এসে হাজির হলো। রাব্বি জিয়ানাকে ফিসফিসিয়ে বলে “এইটাই সেই হালার পুত ”
জিয়ানা খেয়াল করে দেখলো লোকটার নামের সাথে চেহারা একদম মানানসই ভাবে মিল। গালের মাঝ বরাবর এমনভাবে কাটা। তারপর কালো কুচকুচে। পার্ফেক্ট গুন্ডা একেই বলে। মকবুল এতক্ষণে জিয়ানাকে খেয়াল করে।
“এই নমুনা আবার কে? বেডা না বেডি কিছুই বুঝতাছি না।এমন ভং ধরা পাবলিক তো মনে হয় না সাভারের। ” গাল চুলকে প্রশ্ন করে।
জিয়ানার মনে হলো কাটা গালটা অনেক চুলকায়। আহারে গুন্ডাটা মনে হয় ভালো জিনিস খেতে পারে না। যেমন বিফ ,মাটন ,চিংড়ি। মায়াই লাগলো। স্বভাব বশেই প্রশ্ন করলো ,
“আপনার গালের এই নকশা কে করে দিয়েছে? একদম পার্ফেক্ট হরিবোল লুক দিয়েছে কিন্তু। ”
মকবুলের মুখ শক্ত হয়ে গেলো। রাব্বি জিয়ানার শার্টের এককোনা ধরে টানছে আস্তে আস্তে করে। বুঝাতে চাচ্ছে আরেহ ওস্তাদ থামেন। তখনই পেছন থেকে গমগমে গলা ভেসে এলো
“এমন নকশা শুধু সুখনীল নিবিড়ই করতে পারে।ওই পিচ্চি তোর ঘর কোনটা? ”
জিয়ানাকে দেখেও না দেখার ভান করে রাব্বির হাত ধরে তার ঘরের দিকে গেলো। মকবুল বলে উঠে,
“দেখ নিবিড় এইডা আমার এলাকা এইখানে তোরা আইসা যদি ঝামেলা করিস তাইলে আমরাও কিন্তু শিখে রাখলাম।”
“পুরা সাভারটাই ভাইয়ের এলাকা। এইখানে তোকে থাকতে দিছে। মুখ বেশি চালাইলে সাভার কেন দুনিয়াতেই তোর জায়গা ফুরিয়ে যাবে। “বলে মক্কু জিয়ানাকে ইশারা করলো আগাইতে।
নিবিড় এগিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসলো মকবুলের দিকে
“আমার এলাকা এই কথাটা যদি আর কোনদিন তোর মুখ দিয়ে বের হয় কসম ওইদিন তোরে পুতে ফেলবো ঠিক যেখানে থাকবি। ”
“কিহ?” মকবুল অল্প ফুসে উঠে বলে
” মক্কু আর বদি দুইজন একসাথে ওর দুইকানে চটকানা দিবি। আমি যখন ওয়ান টু থ্রি বলবো তখন। বা*লাডা কানে কম শুনে মনে হয়।”
মকবুল একটু হকচকালো। আগের বারের মাইর সে এখনো ভুলে নাই। আর এর সাথে পাংঙ্গা নিয়ে লাভ নাই। পুলিশ থেকে লোক সব এখন তার আন্ডারে। তাই তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করে বলে”ভুল হইছে ভাই। ”
“একটা রোল রেগুলেশন আমিও মানি। তোর বস্তি যেহেতু তাই মৃত্য দেহের সব সংস্কার করে সরকারি গোরস্থানে নিয়ে যাবি। আমি বলে রাখছি সেখানে। দায়িত্ব টুকু তোর যা।” বলে পকেট থেকে ওয়ালেট নিয়ে দুইটা বড়নোট বের করে হাতে দিয়ে মক্কু দের বলে “চল”
জিয়ানা এখনো দাঁড়িয়ে আছে দেখে কাছে গিয়ে একটা ঠাস করে থাপ্পড় দিয়ে বলে”ভার্সিটির স্টুডেন্ট এই এলাকায় আসা নিষেধ। আর একটু আগে কি বলেছিলাম? যেখানে আছো সেখানেই থাকতে? বেয়াদব মেয়ে কোথাকার! হবা তো সেই জন্ডিস সাংবাদিক। তারপর এত উড়াউড়ি কেন?”
থাপ্পড় খেয়ে জিয়ানা কয়েক মিনিট স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে। যদিও জোরে মারেনি তবে মাস্কের একপাশ খুলে গেছে।কিন্তু কি বলল জন্ডিস সাংবাদিক মানে হলুদ সাংবাদিক। অপমানে রাগে টান দিয়ে মাস্ক পুরোটাই খুলে নিবিড়ের দিকে দৌঁড়ে গিয়ে শার্টের কলার চেপে ধরলো। বদি এগিয়ে এলে নিবিড় হাত দিয়ে না করলো। জিয়ানা রাগে রি রি করে বলে,
“হাউ ডিয়ার ইউ? ”
নিবিড় কলার ছাড়িয়ে হাত ধরে টেনে বড় রাস্তার দিকে নিয়ে গেলো। মক্কু আর বদি মুচকি মুচকি হেঁসে পেছন পেছন চললো।
বড় রাস্তায় এসে নিবিড় বলে,
“যতই ভংচং করো ,শরীর টা মেয়ে মানুষের। উপরের পোশাকটার কোন সেফটি লক নেই যে ,যেখানে সেখানে যখন তখন চলে যাবা। বেক্কেল মেয়ে মানুষ কোথাকার। বাইকে উঠো।” বলে নিবিড় বাইক স্টার্ট করলো। কিন্তু জিয়ানা রাগে সামনে হাটা দিলো।
মক্কু আর বদি একসাথে গেয়ে উঠলো “হিরিয়ে হিরিয়ে আয়ায়ায়ায়া
…..”
রাব্বির বাবার দাফন কাফন হতে বেশি সময় লাগল না।চল্লিশ মিনিটেই সব কমপ্লিট। যে যার মতো চলে গেলো। রাব্বি কিছুক্ষণ বসে থাকল কবরের কাছে। তারপর উঠে হাট শুরু করলো। আজ সারাদিন তেমন কিছু খায়নি। এখন পেটে টান পড়েছে খুব। হাটার শক্তিটাও পাচ্ছে না। মাটিতে পা ছেছড়িয়ে ছেছড়িয়ে বাজারের ফার্মেসীর সামনে এসে থেমে গেলো। আব্বার ওষুধ কিনতে হবে।পরক্ষণেই মনে পড়লো আজ থেকে আর ওষুধের জন্য টাকা খরচ হবে না। পকেটে হাত দিয়ে টাকা বের করে গুনে দেখে বিরাশি টাকা আছে।পাশেই বিরিয়ানির দোকান দেখে ঢুকে গেলো।হাফ প্লেট বিরিয়ানি অর্ডার করে বসে গেলো কোনার টেবিলে।বিরিয়ানি আসা মাত্রই বড় বড় লোকমা করে মুখে পুড়ে দিলো। নিচু হয়ে থাকায় চোখের কয়েক ফোটা পানি খাবারে মিশে গেলো। দুইমিনিটেই খেয়ে সব সাবাড় । বিল আশি টাকা দিয়ে ক্যাশিয়ারের সামনে মিষ্টি ধনিয়া একমুঠ নিয়ে বের হয়ে এলো রাস্তায়। ক্যাশিয়ার সেই হাতে একটা চড় মারে।কিন্তু রাস্তায় এসেই পেট নাড়া দিয়ে উঠেই হড়বড় করে বমি করে দিলো।
ক্যাশিয়ারের চেয়ারে বসা লোকটা উচ্চস্বরে বলে উঠলো ,
“শালা কু*ত্তার পেটে ঘি হজম হয় না যেমন তেমনই গরীবের পেটে বিরিয়ানি। ”
চল্লিশ মিনিট থেকে জিয়ানা হেঁটে চলেছে। গাড়ি পেলেও উঠতে পারছে না। কারণ নিবিড় গাড়ির ড্রাইভার গুলার দিকে এমন একটা চাহনি দেয় তারা পালিয়ে বাঁচে। জিয়ানা রিলাক্সে হেঁটে যাচ্ছে। পেছনে পেছনে নিবিড়ও স্লো মোশনে বাইক চালিয়ে আসছে। মক্কু আর বদি কিছুটা এগিয়ে।
হঠাৎ একটা মালটানা প্যাডেলের ভ্যান দেখে জিয়ানা সেটাতে উঠে বসে। পা দুলিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছে আজ কার মুখ দেখে উঠেছিলো। সারাদিন শুধু প্যারার মাঝেই গেলো। নিবিড় ভ্যানের কাছে এসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা উদাসী কন্যাকে দেখে মনে মনে আওড়ালো..
নীতিহীন রাজ পর্ব ৮
জোয়ান চাঁদ ফালি ফালি করে ফেলে তপ্ত রক্ত
শিহরনের কাপুরষ খুন করে আই বুড়ির কপাল চুমে
চরকির শেষ সুতো তখন আঁটলে পড়ে
চাঁদের কলঙ্ক কি মানুষ এমনিই বলে? -কাসাফাদ্দৌজ নোমান
“আমার ব্যাক্তিগত চাঁদ ”
