নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন
যদি আপনার বয়স ১৮ বছরের কম হয়, অনুগ্রহ করে এখানেই পড়া বন্ধ করুন।
এই উপন্যাসের সকল চরিত্র, ঘটনা ও সংলাপ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তব ব্যক্তি, স্থান বা ঘটনার সঙ্গে কোনো মিল কাকতালীয়।
নিজ দায়িত্বে পড়ুন। শুভপাঠ! 📖
যতটুকু গল্পে দেওয়া হয়েছে ততটুকুই ভাববেন,একটু পড়ে আর একটু ভেবে গল্প টাকে অন্য রকম করে নিবেন না।(অতিরিক্ত ভাবাভাবির দরকার নেই)(তিলকে তাল বানাবেন না)
_”এতোটাই অস্থির যে এখনি গেঁথে দিতে ইচ্ছে করছে।i can’t control myself sweet honey। চেখে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে, I can do it. ?”
নুবার কান,নাক,গাল সব গড়ম হয়ে গেলো।দুই হাত দিয়ে আরহামের বুক খামচে ধরে বলে উঠলো
_”কি সব বলছেন?”
আরহাম নুবাকে দুই হাত দিয়ে জরিয়ে ধরলো পরপর কানের কাছে ফিসফিস করে বললো
_”sorry bab, সঠিক সময়ে,মুখ ফসকে, সঠিক কথা বলে ফেলেছি, don’t mind। Actually, I am not inside myself. কি রুপ দেখালি জান আমার,এখন আমারি দম বেড়িয়ে যাচ্ছে!”
নুবার তিরতির করে কেঁপে উঠলো। হঠাৎ করেই আরহামের কন্ঠ পরিবর্তন হতেই তার টনক নড়লো এই ভর দুপুরে তার সাথে কি হতে যাচ্ছে।
আরহাম গলা থেকে মুখ সরিয়ে নুবার মুখের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো পরপর ব্যস্ত হাতে ছোট্ট ছোট্ট চুমু একে দিলো তার ঠোঁটে আর পুরো মুখে।
নুবা শুকনো ঢোক গিলে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো। আরহাম কেমন অস্থির হয়ে গেছে। আরহাম নুবার দুই গালে হাত রেখে আঙ্গুল স্লাইড করে ছটফট করতে থাকা কন্ঠে আবদার করে বসলো সে
_”এ,,এটা খুলে ফেলি?”
নুবার শাড়ির আঁচল ধরে সুধালো আরহাম।নুবা একবার আশে পাশে তাকিয়ে চোখ বুঝে নিলো পরপর আরহামের বুকে লেগে গেলো সে মিনমিন করে বলে উঠলো
_”আপনার ইচ্ছা।”
অনুমতি পেতেই আরহাম ঝটপট নিজের কাজ টুকু সেরে নিতে চাইলো। ব্যস্ত হাতে তবে খুবি সতর্কতা অবলম্বন করে নুবার শাড়ির আঁচল টুকু বক্ষ স্থল থেকে সরিয়ে ফেললো।সাথে সাথে নুবার হালকা বুকের ভাঁজ আর পেট উন্মুক্ত হয়ে গেলো।নুবার নিঃশ্বাস আঁটকে আসলো, লজ্জায় আঁটসাঁট হয়ে গেলো সে। নিঃশ্বাসের গতি ক্রমশ বাড়লো।দুই হাত আরহামের হাতের তল দিয়ে নিয়ে তার পিঠ আঁকড়ে ধরলো। সাথে সাথে নুবাকে তাতে লেপ্টে যেতে দেখে আরহাম অসন্তুষ্ট হলো।নুবার উন্মুক্ত কমড়ে হাত বুলিয়ে বিচলিত কন্ঠে সুধালো
_”এভাবে কি করে হবে,একটু দূরত্ব বজায় রাখো sweet honey ,না হলে কিছুই তো দেখতে পারবো না।”
বলতে বলতে আরহাম নুবার কাঁধে মুখ গুজে দিলো,নুবার আরহামের সান্নিধ্য পেয়ে, তাকে এভাবে পাগলের মতো তাতেই ডুবে যেতে দেখে অদ্ভুত এক অনুভূতি ছুঁয়ে গেল তাকে।তার বুকের ভেতর কেমন এক অজানা কাঁপন উঠলো, শরীরটা যেন ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে আসতে লাগলো।নুবা শুকনো কন্ঠে বললো
_”কি,,কি দেখবেন, কিছুই দেখতে হবে না। আমার কেমন লাগছে বোঝার চেষ্টা করুন।”
আরহাম এক প্রকার জোর করেই নুবাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নুবার বদনে চোখ বুলিয়ে নিলো।নুবার নিঃশ্বাসের গতি বাড়লো, অনাবরতো পেট উপর নিচু হতে লাগলো সাথে তার বক্ষ স্থল অস্থির ভাবে কাঁপতে লাগলো।নুবা লজ্জায় চোখ মুখ খিচে লাল হয়ে গেলো।
আরহাম ঠোঁট কামড়ে হেসে নুবার দিকে তাকালো,পরপর নুবাকে লজ্জা পেতে দেখে আবারো বুকে টেনে নিলো।নুবা যেনো এবার শান্তি পেলো। আরহাম নুবার শাড়ির কুচি ধরে খুবি সতর্কতার সাথে একটা একটা করে খুলতে খুলতে,নুবার কানের কাছে যেয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো
_”এভাবে লজ্জা পেলে কি করে হবে, আপনাকে বুকে গেঁথে রাখবো নাকি নিজের কাজ করবো।”
নুবা সাথে সাথে খপ করে আরহামের হাত ধরে নিলো,ভারি নিঃশ্বাস ফেলে কম্পিত কন্ঠে বললো
_”কি করছেন?শাড়ির কুচি ধরে টানাটানি করছেন কেনো?”
আরহাম নুবার কথায় পাত্তা না দিয়ে হুট করে দিলো এক টান,সাথে সাথে শাড়ির কুচি গুলো ফেরফের করে খুলে গেলো। জর্জেট শাড়ির ৩ ভাব ফ্লোরে পড়ে গেলো।নুবা এবার প্রায় লজ্জায় কেঁদেই ফেলবে এমন অবস্থা। আরহাম শাড়ির আবরন টুকু তার শরীর থেকে সরিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আজ এতো দিনের উপস ভাংবো,এই আরহাম মির্জা আর বাসর না সেরে এক কদমো সরবে না।”
নুবা আরহামের শার্ট খামচে বললো
_”বিয়ের অনুষ্ঠান করার কথা ছিলো।”
_”বউ তো তুমি সাজবে,সেটা হোক না কেন আমার এক বাচ্চার মা হওয়ার পর,Come on, I’ll fuck you. ”
নুবার কান গড়ম হয়ে গেলো। লজ্জায় নুইয়ে পড়লো নুবা,তবে নুবার বউ সাজার খুব সখ,সেটা অনেক আগে থেকেই তবে তার সন্দেহ আছে বাসর সেরে ফেললে এই আরহাম আর অনুষ্ঠান করবে না তাই ভয় হচ্ছে তার তাই সে বিরবির করে বলে উঠলো
_”মিথ্যা বলছেন,সবাই এমনটা বলে পড়ে,,,,
আরহাম নুবাকে কোলে তুলে নিলো।নুবার কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো
_”তোর পিছনে আমি জান কুরবান করে দিবো আর তুই বালের অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ে আছিস, আমার উপর ভরসা রাখ,তোকে বউ সাজাবোই তবে আপাতত তুই আগে আমার হোক টুকু বুঝে দে।”
নুবা আরহামের গলা জরিয়ে ধরলো,পরপর খেলায় করলো বিছানায় আয়রা ঘুমিয়ে আছে।নুবা নাক মুখ কুঁচকে নিলো,আরহামের গলায় মুখ গুজে বললো।
_”দয়া করে মেয়ের সামনে না,যতোই ছোট হোক please,,”
আরহাম খুঁজে পেলো না কোথায় যাবে,আয়রাকে কারো কাছে দিবে সেই সুযোগ নেই। আরহাম সময় ব্যায় করলো না, বরং নুবাকে ফ্লোরে শুইয়ে দিলো।নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো।ফ্লোরে পিঠ মাথা ঠেকাতেই যেনো তার শরীর ভেঙ্গে আসলো। আরহাম নুবাকে ফ্লোরে রেখে শার্ট খুলতে খুলতে বললো
_”Don’t make a sound.আমি যদি বেশি হার্ড হয়ে যাই তবে সহ্য করে নিও, causes বেবি ঘুম থেকে উঠে গেলে আমার সাধনায় এক বালতি জল পড়ে যাবে।”
নুবা উঠে বসতে বসতে বললো
_”ফ্লোরে এভাবে,তাও আমার আবার first time, উফ্ অন্ততপক্ষে একটা বালিশ আর খেতা তো দেন,আমি এভাবে,,,,
কথা শেষ হলো না, আরহাম বলে উঠলো,
_”জানি ফ্লোরে বেশি কষ্ট হবে,তবে মানিয়ে নেও sweet honey, এখন মেয়েকে বিছানা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় রাখবো সেই সময় টুকু নেই,বা নষ্ট করতে চাচ্ছি না কারণ আপনার খনে খনে মুড সুইং হয়,যদি আবারো দূরে সরে যান?”
শার্ট ছুরে মেরে নুবাকে বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিলো।নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো। আরহাম নুবার পিঠের তল দিয়ে দুই হাত গলিয়ে দিলো পরপর তার বুকে মুখ গুজে ভারি নিঃশ্বাস ফেললো। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁত বসিয়ে দিলো আরহাম।নুবা গুঙ্গিয়ে উঠলো।দুই হাত দিয়ে তাকে ঠেলে সরাতে চাইলো। হঠাৎ দাঁত বসিয়ে দেওয়ার নুবার মনে অনুভূতি ছিটে ফোটাও কাজ করলো না। বরং ব্যথায় ককিয়ে উঠলো সে।
আরহাম বেশি চাপ প্রয়োগ করার বুক ফেটে দুধ বেড় হলো,ভেজা ভেজা অনুভব করতেই আরহাম নিজের নিয়ন্ত্রন ফিরে পেলো।নুবা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে বিরবির করে বলে উঠলো
_”দয়া করে বুকে হাতাহাতি করবেন না আয়রর পাপা। আপাতত এটা আয়রার সম্পদ,আমি চাই না এতে কোনো রকম বেঘাত ঘটুক বা কোনো ভাবে আমার মেয়ে এর থেকে বঞ্চিত হোক। ahhh,,কি করছেন?”
আরহাম দ্বিতীয় বারের মতো দাঁত বসিয়ে সরে আসলো, মৃদু কন্ঠে সুধালো
_”sorry,ভুলেই গিয়েছিলাম। Don’t worry ,আমি এখানে,হাত,পা,মুখ কিছুই দিবো না। relax”
আরহাম নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলো এটা আপাতত হেফাজতে থাক, কারণ এখানে গড়মিল করলে আয়রার সমস্যা হবে।তাই কোনো রকম আঘাত বা বেঘাত সে ঘটাতে যাবে না।
বলতে বলতে আরহাম নুবার গলায় মুখ গুজে দিলো।নুবা চোখ মুখ খিচে নিলো।নরম স্পর্শে তার অনুভূতি গুলো আবারো প্রজাপতির ন্যায় পাখা মিলে উঠতে লাগলো।আরহামের স্পর্শে ডানা মেলে তার মন পাখি উড়ে গেলো।ভয়, লজ্জা,ভালোলাগা,সব মিলিয়ে নুবা নুইয়ে পড়লো।
আস্তে আস্তে আরহাম এক এক করে তাদের মধ্যে থাকা সকল আবরন সরিয়ে ফেললো তবে নুবাকে আনচান করতে দেখে কোনো মতে হাত উঁচিয়ে বিছানা থেকে পাতলা খেতা টেনে দুইজনের শরীরের মুড়িয়ে দিলো।দুই শরীরের চামড়া মিশে একাকার হয়ে গেলো , আরহামের উত্তপ্ত শরীরের সান্নিধ্যে এসে নুবা কম্পিত হলো। লজ্জায় তার বুকে মুখ লুকালো। আরহাম অনেক টা সময় নিয়ে নুবাকে অনুভূতির দুনিয়ায় প্রবেশ করতে সাহায্য করলো।তার লজ্জা একটু একটু ভাংতে লাগলো।
সময় কেটে গেলো অনেকটা, দুপুর গুটিয়ে বিকাল নেমে আসলো ।তবু দুই মানব মানবীর দিন দুনিয়ার খবর নেই।তারা নিজেদের ভিতরেই মত্ত হয়ে আছে। অনুভূতির জালে জর্জরিত হয়ে চোখের পানি ফেলছে নুবা, চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে তার।পুরো কম্পিত শরীর এখন কিছুটা স্থির হলেও ফ্লোরের ঠান্ডা নুবার নগ্ন শরীর কাঁপিয়ে তুলছে।পুরো শরীর ধরে এসেছে তার।
আরহাম খুব গভীর ভাবে নুবার ওধর গুলো ছুঁয়ে দিতে লাগলো।খুবি গভীর ভাবে।নুবা রেসপন্স করলো না,তবে অনুভব করার ইচ্ছা শক্তি আর বাকি রইলো না তার। আরহাম সময় নিয়ে নুবার ওধর ছেঁড়ে আবারো ছোট্ট করে চুমু খেলো।
শেষ পর্যন্ত আরহাম সবকিছু ছিনিয়ে নুলো তার স্ত্রীর থেকে,আজ থেকে নুবা পুরোপুরি ভাবে বিবাহিত জীবনে পা রাখলো।এক ফালি পূর্ণতার বাতাস এসে তাদের ছুঁয়ে গেলো।টানা কয়েক ঘন্টার পর আরহাম শান্তি পেলো।মনে হলো মহত্ত্ব কিছু একটা পেয়ে গেছে সে,যা তার জান্য খুবি সাধনার ছিলো। অনেক অপেক্ষার পর পেয়েছে। শান্তিতে আরহামের মন, মস্তিষ্ক ভরে উঠলো।
আরহাম নুবার লালচে কান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে,নিজেও কান্ত কন্ঠে সুধালো
_”প্রথম বারেই বেশি বেশি হয়ে গেছে জান, trust me আমি বুঝতে পারিনি।”
নুবা চোখের পলক ফেলে ব্যথাতুর মুখশ্রী নিয়ে আরহামের দিকে তাকালো, অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে বিরবির করে বললো
_”কে,,কেমন অদ্ভুত লাগছে আরহাম,তলপেট ব্যথায় ছিরে যাচ্ছে।সব কেমন আগুনের ন্যায় জ্বলে যাচ্ছে।”
বলতে বলতে নুবা শুকনো ঢোক গিললো,নুবার মুখে নিজের নাম শুনে আরহাম মুচকি হাসলো, পরপর নুবার উদরে হাত বুলিয়ে,তার কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো
_”একটু ওষুধ খেয়ে নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।সাথে একটু আদর করে দিবো,তুমিই তো বলেছিলে আদর করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলে খতো পূর্ন হয়ে যায়?”
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে সুধালো
_”ঠা, ঠান্ডা লাগছে”
আরহাম বুঝতে পারলো ফ্লোর থেকে নুবার শরীরেরে বিদ্যুতের মতো তিরতির করে ঠান্ডা গুলো ছেয়ে যাচ্ছে। আরহাম নুবার কপালে চুমু খেলো। বিন্দু বিন্দু ঘেমে গেছে সে।এবার তারো বেশ ঘুম পাশে, কেমন কান্ত লাগছে।
আরহাম হাত বাড়িয়ে নুবার ফেলে রাখা শাড়ি তুলে নিলো। অতঃপর একটু উঁচু হয়ে নুবাকে জরিয়ে দিলো।নুবা নিনর পুতুলের মতো সবটা পড়ে রইলো। আরহাম তাদের গায়ের উপর থাকা পাতলা খেতা কমড়ে পেঁচিয়ে নিলো পরপর নুবাকে পাঁজা কলো তুলে ওয়াশ রুমের দিকে এগিয়ে গেলো।
নুবা আরহামের বুকে লেপ্টে পড়লো যেনো সদ্য মাটির তৈরি কোনো পাতিল,যা ছুঁয়ে দিয়েছে তার মালিক আর সে তার মালিকের মন মতো গড়ে উঠেছে। আরহাম নুবাকে নিয়ে যেতে যেতে বিরবির করে বললো
_”খুব কষ্ট হয়েছে? তুমি তো অনেক ভয় পেতে,দেখলে এমন কিছুই না।”
নুবা হালকা শব্দ করে হাসলো । পূর্ণতা ঘিরে ধরেছে তাকে,এতোটা সুখ সুখ আগে লাগেনি,আজ প্রথম নিজেকে কারো বউ বউ মনে হচ্ছে,অন্য কারো সম্পতি,নুবা এই সব ভেবে আবারো মুচকি হেসে আরহামের বুকে মাথা রেখে নুইয়ে যাওয়া কন্ঠে বললো
_”সবটা কেড়ে নিয়ে বহুত খুশি হয়ে গিয়েছেন দেখি মির্জা সাহেব।”
_”সাধনা যে,খুশি কি হওয়ার কথা নয়।”
নুবা পিটপিট করে উঠলো,আদুরে কন্ঠে বললো
_”আপনি খুব খারাপ বিহেভ করেছেন, আমার একটা কথাও শুনেনি, আমার খারাপ লেগেছে।”
আরহাম নুবাকে নিয়ে যেয়ে ওয়াশরুমে নামিয়ে দিলো পরপর কেমন অসহায় কন্ঠে বলে উঠলো
_”আমি নিজেকে অনেক নিয়ন্ত্রণ করেছি।তবে আপনার যদি মনে হয় আমি অতিরিক্ত করে ফেলেছি তবে I am so sorry sweet honey ।তবে এই ব্যপার নিয়ে আমার উপর রাগ করবে না,বলে দিলাম।”
নুবা আরহামের গাল জরিয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে সুধালো
_”আয়রার পাপার উপর রাগ করা যায় বুঝি।সে আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে,এতোটা আগলে রেখেছে।তা না হয় তার জন্য একটু কষ্ট সহ্য করে নিলাম।আয়রার পাপার জন্য আমি সব করতে পারি।”
আরহাম দুষ্টু হাসলো আর বললো
_”তবে আরেকবার হয়ে যাক।”
নুবা চোখ বড় বড় করে নিলো, কিছুটা চেঁচিয়ে বলে উঠলো
_”নাআআ।”
নুবার ঠোঁট গুলো কাচলে হয়ে কেমন কাঁপছে,নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো
_”হয়েছে,আর না, ঠান্ডা লেগে যাবে।”
আরহাম নুবার কথা শুনলো না, বরং তাকে নিয়ে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে রইলো।নুবা হালকা শীতে কাঁপতে লাগলো। আরহাম নুবার ভেজা শাড়ি ঠিক করে বললো
_”কিচ্ছু হবে না।”
বলতে বলতে নুবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে নিলো।আসলে গোসল তো বাহানা সে নুবাকে দেখতে ব্যস্ত।তা টের পেলো নুবা তবে টু শব্দ করলো না,দেখুক তারি তো সব।
আরো কিছু সময় কেটে গেলো তবে আরহামের সখ যেনো মিটলো না,এই নুবাকে চুমু খাচ্ছে,আবার জরিয়ে ধরে পানির নিচে দাঁড়িয়ে তার নরম বদনখানা ছুঁয়ে দেখছে,যেনো মেপে মেপে দেখছে। আরহাম নুবার কাঁধে ঠোঁট ছুঁইয়ে থুতনি ঠেকিয়ে বিরবির করে বললো
_”এই চোখের তৃপ্তি মেটানোর জন্য আজীবন লেগে যাবে তাও মিটবে না।”
নুবা ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_”লুচ্চো, এবার অনেক হয়েছে,আমর ঠান্ডা লাগছে।”
_”আর ৫ মিনিট, pleaseee.”
একটু টেনে বললো আরহাম,নুবা বুঝতে পারলো এই লোক,এক লাফে তাল গাছে উঠতে চাইছে ” ধৈর্য হারা আরহাম সব লুফে নিতে চাইছে তাও একবারে।কোনো কিছু বাকি রাখবে না সে।নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ফ্যালফ্যাল করে আরহামের দিকে তাকালো।
আরহাম নুবার দুই গাল ধরে ওধরে চুমু খেলো।পানির ফোঁটা গুলো নিতান্তই অদ্ভুত সুন্দর লাগছে আরহামের কাছে।নুবার গায়ে লেগে যাওয়ার বিন্দু বিন্দু পানি গুলো চিকচিক করছে যা দেখে আরহাম চোখের তৃপ্তি পাচ্ছে।টানা ঘন্টা খানিক লাগিয়ে আরহাম নুবাকে শুকনো কাপড়ে মুড়িয়ে দিলো।নুবা যেনো হাপ ছেড়ে বাঁচলো।
নুবাকে ফ্রেশ করে আয়রার পাশে শুয়ে দিলো আরহাম, আজকে আয়রা good girl হয়ে গেছে, সন্ধা হয়ে যাচ্ছে তবু ঘুম থেকে উঠেনি।
আরহাম নুবাকে বিছানায় রেখে কপালে চুমু খেয়ে বললো
_”এখন আপনার গভীর একটা ঘুম প্রয়োজন ।ঘুমান।”
বলতে বলতে নুবার শরীর কম্বল টেনে দিলো।নুবা ক্লান্ত চোখ দুটো বুজে নিলো। পরপর বিছানার থেকে পিছনে এক কদম এগিয়ে যেতেই পায়ের তলে কিরকম ভেজা অনুভব হলো তার।ভুরু কুঁচকে ফ্লোরের দিকে তাকাতেই দেখলো এক এক জায়গায় ছোপ ছোপ রক্ত লেগে আছে। আরহাম আরো ভালো মতো খেলায় করলো কেমন রক্তের দলা। আরহাম শুকনো ঢোক গিললো।আর ভাবলো
_”what the h** এই সব কি?”
ইলোরার সময় তো এমন হয়নি,না ইলোরা এমন নেতিয়ে পড়েছিলো। পরপর আরহাম মুচকি হাসলো।তার ননির পুতুল,একটুতেই গলে গেছে।তবে ফ্লোর দেখে আরহাম বেশ চিন্তিত হলো তবে সময় নিয়ে সব পরিষ্কার করে ফেললো।
আরহাম এসে আয়রার কপালে চুমু খেয়ে বললো
_”thanks আম্মু,আজ এতো লম্বা একটা ঘুম দেওয়ার জন্য। ”
বলেই যেই না একটু তার কান্ত বউটার কাছে একটু শুতে যাবে তখনি কেউ এসে দরজায় কড়া নাড়লো। আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো ।এই সময় আবার কে। আরহাম উঠে যেয়ে দরজা খুলে দিলো ।সাথে সাথে আমিনা বেগম পটপট করে বলে উঠলেন
_”কিরে,,,নুবা কোথায়,সেই সকাল থেকে দুটোর খাওয়া দাওয়া নেই ,দুপুরের তুই একা যেয়ে মেয়েকে নিয়ে ঘুরঘুর করে আসলি,খেলি না ব্যপার কি?”
আমিনা বেগম জেনো প্রশ্নটা করেই ফেলে গেলেন, হয়তোবা সে ভুলে গিয়েছিলেন তার ছেলে ঠোঁট কাঁটা, আরহাম দরজা দুই হাত দিয়ে প্রায় বন্ধ করতে করতে বললো
_”দেখো মা,বহু সাধারণ পর, অনেক কষ্ট করে তোমার বউমাকে রাজি করিয়ে বাসর সেরেছি।এখন আমার বউটা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে।যদি তোমার আমাদের খেতে খুতে দিতে ইচ্ছে করে তবে রুমে দিয়ে যেও ,আর হ্যাঁ অন্ততপক্ষে ২ সপ্তাহ আমাদের দরজায় কড়া নেড়ে আমাদের ডিস্টার্ব করবে না।ওমন সময়ে কড়া নাড়লে খুবি বিরক্ত লাগে।এখন যাও,নুবা ঘুম থেকে উঠলে খাবার নিয়ে আসতে বলবো।”
বলেই আমিনা বেগমের মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলেন।আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন,কোন অলুক্ষনে মুখে সে এখানে এসেছিলেন আল্লাহ জানে।আমিনা বেগম নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে গলা ছেড়ে কেশে ওখান থেকে সরে আসলেন।
আরহাম যেয়ে নুবার পাশে শুয়ে তাকে বুকে আগলে নিলো।নুবা ক্লান্ত কন্ঠে বিরবির করে, নিজেকে শান্তনা দিয়ে বললো
_”আপনি বুকে আগলে নিলে সব ব্যথা আপনাআপনি সেরে যায়, আপনার বুকে জাদু আছে আয়রার পাপা।”
আরহাম নুবাকে জরিয়ে ধরে কপালে চুমু খেয়ে বললো
_”ঘুমাও।”
নুবা আর একটু জাগা করে নিলো তার বুকে।তার ব্যক্তিগত মানুষ,তার স্বামী,তার অর্ধ জীবন।আজ তাদের অর্ধ জীবন মিলে একাকার হয়ে পূর্ন হলো।
তারা ঘুমানোর একটু পড়েই এশার আযান শোনা গেলো ,তখনি আয়রা মুচরামুচরি করে উঠলো ,মুখ দিয়ে অভ্যাসগত ভাবে শব্দ বেড় করতে করতে উঠে বসলো ।আয়রা উঠে কিছু সময় স্তব হয়ে রইলো, অতঃপর আশে পাশে তাকিয়ে খেয়াল করলো তার দুই পাশে বালিশ দিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তার মা,তার বাপকে বুকে জরিয়ে ধরে কি সুন্দর ঘুমাচ্ছে।
ছোট্ট আয়রা কি বুঝলো কে জানে তবে হয়তোবা হিংসা হলো তার, আগে সবসময় ঘুম ভাংলে দেখতো তার মায়ের বুকে লেপ্টে আছে সে তবে এই বাপ নামক হারামজাদা আসার পর থেকে, তার মা তাকে পাত্তা দিচ্ছে না। অবশ্য বুকে টেনে আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দেয় তবে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখা যায় সে অন্যের সেবায় ব্যস্ত।তাকে রেখে তার বাপকে বুকে আগলে শুয়ে আছে।
কিছু সময় চুপা থেকে আয়রা পরিস্থিতি মেপে নিলো পরপর ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠলো দুষ্টু আয়রা। কাঁদতে কাঁদতে আরহামের পিঠের কাছে যেয়ে আরো চেঁচিয়ে উঠলো।নুবা মেয়ের কান্না শুনেও কেমন চুপ রইলো, ইচ্ছা শক্তি হচ্ছে না উঠে আয়রাকে ধরতে।
আরহাম মেয়ের কান্নায় ফাল দিয়ে উঠে বসলো।আরহামকে উঠতে দেখে আয়রা কিছুটা শান্ত হলো। আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে এক পলক ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মেয়েকে কোলে তুলে নিলো।পরপর বুকে লাগিয়ে আদুরে গলায় সুধালো
_”আমার little honey উঠে পড়েছে।”
আয়রা একটু নাক টেনে বুঝালো “হ্যাঁ সে উঠে পড়েছে”
আরহাম মেয়ের গালে চুমু খেলো,আয়রা মুখে আঙ্গুল দিয়ে হাত চুষতে লাগলো।তা দেখে আরহাম নরম সুরে বললো
_”আমার আম্মুর কি ক্ষুধা লেগেছে?”
আয়রা লালা দিয়ে আরহামের গেঞ্জি মেখে দিলো। আরহাম মুচকি হাসলো।পরপর বিরবির করে বললো
_”আমার আরু কি এখন দুধ খাবে নাকি অন্যকিছু?”
আয়রা বুঝলো না আরহামের কথা তবে নেমে নুবার কাছে যেতে চাইলো। আরহাম বুঝতে পারলো এখন তার মেয়ে গলা ভেজাবে। আরহাম মুচকি হাসলো।মেয়ের গালে গাল ঠেকিয়ে মিনমিন করে মেয়েকে সাবধান করলো সে,একটু ফিসফিস করে বললো
_”আপনার মাম্মা অনেক tired,একটুও জ্বালাবেন না তাকে। চুপচাপ শান্ত বাচ্চার মতো দুদু খেয়ে সরে আসবেন। Ok মামুনি!”
আয়রা চেয়ে রইলো, আরহাম মেয়েকে সাবধান করে টুপ করে মেয়ের গালে চুমু খেলো পরপর আয়রাকে মাঝখানে জাগা করে দিলো,নিজ দায়িত্বে আরহাম মেয়েকে ফিড করাতে চাইলো তবে হলো না,নুবা কাত হয়ে শুয়ে থাকায় ড্রেস টেনেও তুলতে পারছে না।
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো পরপর নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে ধীরো কন্ঠে বললো,
_”মেয়ে ফিড করবে নুবা।”
নুবা শুনলো কান্ত হাতে আয়রার জন্য নিজ বক্ষ স্থল উন্মুক্ত করে দিলো।আয়রা ভদ্র মেয়ের মতো নুবার বুকে লেপ্টে গেলো।পরপর শুধু আয়রার খাওয়ার শব্দ শোনা গেলো।নুবা ঘুমের ঘড়ে আয়রাকে বুকে জরিয়ে নিলো।
আরহাম মা মেয়ের কপালে চুমু খেলো।তার দুটো কলিজা,যার ভিতরে একটি হারিয়ে গেলে তার বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে পড়বে। আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।সে বহুদিন বাঁচতে চায়,তার মিনি হাতির সাথে,তার মেয়ের মাথার উপর ছায়া হয়ে, অনেক দিন বাঁচতে চায় সে।
অর্ধ রাতে আরহামের অস্থির কন্ঠ শুনা গেলো, আরহাম নুবার বাহু ঝুঁকিয়ে বিচলিত কন্ঠে বললো
_”নুবা,এই মেয়ে,কি হলো? উঠছিস না কেন?”
আরহাম পুরটা সময় জেগে ছিলো, কারণ সে অপেক্ষা করছিলো নুবা কখন উঠবে আর মা,মেয়েকে সে দুটো খাবার মুখে তুলে দিবে। বিশেষ করে নুবার কারনে জেগে আছে,মেয়েটা নাকি সকাল থেকে কিছু খায়নি।সকালে দুটো রুটি খেয়েছিলো আর কিছু পেটে পড়েনি তার,তাই আরহাম সজাগ ছিলো যাতে নুবা উঠলেই খাবার নিয়ে আসতে পারে।তবে অর্ধ রাত পার হতেই ঘুমের ভিতরে নুবা জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। আরহাম নুবার ধারালো নিঃশ্বাসের শব্দ শুনে, নুবাকে ছুঁয়ে দেখলো,তখনি তার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো।নুবার পুরো শরীর উত্তপ্ত বস্তুর ন্যায় গড়ম হয়ে আছে। শরীর দিয়ে হঠাৎ করেই তাপ ছুটছে।জ্বরে শরীর পুরে যাচ্ছে নুবার,সাথে অনাবরতো ঘামছে সে,অস্বাভাবিক ভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
এই সব অনুভব করে আরহামের বুকটা ছ্যাত ছ্যাত করে উঠলো। আরহাম মেয়েকে সরিয়ে নুবাকে বুকে আগলে নিলো,তাকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে ডাকলো।তবে ঘুমের ভিতরে গুঙ্গিয়ে উঠলো নুবা।
আরহাম শুকনো ঢোক গিললো,এই অনাকাঙ্ক্ষিত মিলনের কারনে তার বউটা অসুস্থ হয়ে পড়লো না তো।এই ননির পুতুল কি একটুতেই নুইয়ে পড়লো।আরহামের চিন্তায় কপাল বেয়ে ঘাম ছুটলো।
আরহাম নুবার এক গালে অঙ্গ ছুঁইয়ে ডাকলো
_”নুবা,কি হয়েছে? খারাপ লাগছে, মেডিসিন নিবে,নাকি ক্ষুধা লেগছে? বলো না বললে বুঝবো কি করে।”
নুবা ঘুমের ভিতরে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো।সবি শুনছে সে, অনুভব করছে তবে চোখ খুলে দুটো কথা বলার শক্তি পাচ্ছে না। হঠাৎ করেই টানা কয় এক ঘন্টা শরীরের উপর দিয়ে কালবৈশাখী তান্ডব হওয়ায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সে, তার উপর না খেয়ে থাকায়,অসময়ে গোসল করায় ,সাথে ফ্লোরের ঠান্ডা শরীরে লাগায় ,জ্বর এসেছে তার। ভয়ংকর জ্বর ,যা ক্ষনে ক্ষনে বাড়ছে।
আরহাম অস্থির হলো, চিন্তিত কন্ঠে বললো
_”এই মেয়ে, বলবি তো কি হচ্ছে,না হলে বুঝবো কি করে। একটু আমার দিকে তাকা জান।”
নুবা আরহামের বুকে নুইয়ে পড়ে ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো। আরহাম আরো বিচলিত হলো,হাত দিয়ে নুবার কপাল আর গলা ছুঁয়ে বোঝার চেষ্টা করলো জ্বর কতটুকু বেড়েছে।আরহামের হাত জ্বলে গেলো প্রায়, নিশ্চয় প্রচন্ড জ্বর এসেছে।
আরহাম চোখ মুখ খিচে নিলো।বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো তার, আফসোসের সুর টেনে বললো
_”ওকে ঘন্টা খানিক লাগিয়ে গোসল করানো আমার একদমি ঠিক হয়নি। উফ্,এই মেয়ে এতো নরম। সামান্য কারনে এভাবে কেউ নুইয়ে পড়ে?”
আর কিছু সময় ডাকার পর নুবা বিরবির করে নিজের অসুবিধার কথা বলে উঠলো,
_”মা,মাথাটা অনেক ব্যথা করছে আয়রার পাপা,”
নুবাকে কথা বলতে দেখে আরহাম চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেলে আদুরে গলায় বিচলিত হয়ে বললো
_”আ,,আর কোথায় কি হচ্ছে,বেশি খারাপ লাগছে, শুধু কি মাথাই ব্যাথা করছে। আ,আমাকে বলো,আমি সব ঠিক করে দিবো।”
নুবা বেশ ভরসা পেলো,চোখ বুঝেই ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো ,অভিযোগের সুরে বললো
_”আ,আপনি অনেক খারাপ,বা,বারবার বল্লাম আমি ভিজবো না,,তাও আপনি?আ, আপনার জ, জন্য সব হয়েছে,i love you আয়রার পাপা, sorry i l,,l. ঘৃনা you!”
কথা টুকু শেষ করে নুবা আরহামের দিকে পিটপিট করে তাকালো,শুকনো ঢোক গিলে আরহামের গেঞ্জি খামচে ধরে ঠোঁট ফুলিয়ে বললো
_”ঘৃ,ঘৃনা ইংরেজি কি? ধুত,ভুলেই গেছি,, কেমন লাগে।”
আরহাম এমন একটা মূহুর্তে হেসে ফেললো,নুবাকে ঠেসে চুমু খেলো, পরপর মন না ভরায় আবার গালে মুখে চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিলো বিরবির করে বললো
_”এটা না জানাই ভালো,এতো জানতে হবে না।এখন বলুন আপনার আর কোনো সমস্যা হচ্ছে,আমি doctor ডাকবো।”
নুবা জ্বরের ঘোরে নেশা খোরের মতো বলে উঠলো
_”আ,,আপনি বললেন আপনি সব ঠিক করবেন,তাহলে doctor কেনো ডাকবেন?”
_”এদিক ওদিকে কথা না বলে, আমার প্রশ্নের উত্তর দেও তো।”
_”আগে আমার কথা শুনুন।”
_”হ্যাঁ শুনেছি তো,এবার বলো আর কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা?”
নুবা আরহামের বুকে মুখ গুজে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_”কষ্ট হচ্ছে আমার, ব্যথা হচ্ছে,পেট,গলা,বুক,সব জায়গা,পুরো শরীর ব্যথায় টনটন করছে।মাথার ভিতরে টপকাচ্ছে,কানের ভিতরে চিলিক পাড়ছে,নাকের ভিতরে জ্বলছে,চোখো জ্বলছে। অনেক খারাপ লাগছে।”
আরহাম আরো বিচলিত হয়ে পড়লো।নুবা গুঙ্গিয়ে কেঁদে উঠলো,বিরবির করে বললো
_”আ, আমার,মা”কে ডাকুন।মাথায় পানি দিতে হবে। অনেক খারাপ লাগছে।”
বলতে বলতে নুবার নাক দিয়ে মিষ্টির সিরা পড়তে লাগলো। ঠান্ডা লেগে গেছে তার,নাক দিয়ে চোখের পানির মতো পানি বেড় হচ্ছে।নুবা নাক টেনে বাচ্চাদের মতো হাতের উল্টো পাশ দিয়ে মুছে ফেললো।
বিষয়টা খেয়াল করলো আরহাম।তখনি আবারো নাক দিয়ে সর্দি পড়ায় নুবা এবার আরহামের গেঞ্জি টেনে তা শব্দ করে মুছে নিলো। আরহামের মুখটা চুপসে গেলো।এ কোন খাচ্চরের পাল্লায় পড়লো সে,তবে কেনো জানি বরাবরের মতো তার ঘৃনা হলো না বরং হাত বাড়িয়ে বেডের পাশে রাখা ছোট্ট টিস্যুর বক্স থেকে টিস্যু নিয়ে নুবার নাক মুছে দিলো।
নুবা নাক টেনে উঠলো। আরহাম নুবার নাকে টিস্যু ধরে বললো
_”ঝাড়ো”
নুবা ঝাড়লো না বরং টেনে আরো ভিতরে নিলো, আরহাম কপাল চাপড়ে বললোআ
_”টেনে টেনে ভিতরে নিয়ে গিলে খাচ্ছো কেনো পিচাস,,না ঝাড়লে ভিতরে থাকলে পেকে যাবে।তখন নাক দিয়ে সাদা সাদা বিজলা বেড় হবে,তখন টের পাবে কেমন লাগে।”
নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৬
ঘুমের ভিতরে আরহামের কথা শুনে নুবার বমি পেয়ে গেলো,এক হাত দিয়ে ঠেলে টিস্যু সরিয়ে দিলো, আরহাম মনে মনে ভাবলো “কি দিন চলে আসলো এখন বউয়ের সর্দি পরিষ্কার করতে হচ্ছে।”কি একটা জ্বালায় পড়ে গেলো সে। মনে হচ্ছে সবি তার দোষ।
