Home চেকমেট ২ চেকমেট ২ পর্ব ৩৩

চেকমেট ২ পর্ব ৩৩

চেকমেট ২ পর্ব ৩৩
সারিকা হোসাইন

“সে কী, শুয়ে পড়লে যে?”
কপালে অসংখ্য ভাঁজ ফেলে কথাটি বলতে বলতে বিছানার দিকে এগিয়ে এল রোদ। রোদের নরম হাতটা নিজের করপুটে টেনে নিয়ে শাহরান তাকে নিজের পাশে বসাল। এরপর রোদের কোলে মাথা রেখে চোখ বুজে বলল—
“মাথাটা টনটন করে ব্যথা করছে। সারা দিন অনেক ধকল গেছে। একটু টিপে দেবে?”
কোমল, সুন্দর এক অদ্ভুত আবদার। রোদ কোনো জবাব দিল না। শুধু আলগোছে শাহরানের ঘন, মোলায়েম চুলে বিলি কাটতে লাগল।
শাহরান আবেশে চোখ বুজে বলল—

“একটু ঘুমাই? দশ মিনিট পরই চলে যাব। Promise.”
রোদ ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি ফুটিয়ে শাহরানের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। রোদের নরম হাতের ছোঁয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই ঘুমের ঘোরে তলিয়ে গেল শাহরান।
ঘুমন্ত মায়াবী মুখটার দিকে অনিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রোদ। ছেলেটার ঘন, কালো, মোটা ভ্রু। চোখের পাপড়িগুলো মেয়েদের মতোই ঘন আর বাঁকানো। টনটনে খাড়া নাক, লালচে ঠোঁট। ঠোঁটের নিচে কুচকুচে কালো ছোট্ট একটা তিল। আর বাম গালের চিকবোনের ওপরের তিলটা একটু বড়।
রোদ আনমনে সেই তিলে আঙুল ছোঁয়াতেই ঘুমজড়ানো গলায় শাহরান বলে উঠল—
“Don’t torture me.”

রোদ ঠোঁট টিপে আঙুল গুটিয়ে নিল।
সিলিং ফ্যানের ফুরফুরে বাতাসে শাহরানের ঝলমলে চুলগুলো কপাল ছেড়ে চোখের পাপড়ির কাছে এসে তাকে বিরক্ত করছিল। অস্বস্তিতে যদি মানুষটার ঘুম ভেঙে যায়—এই ভেবে রোদ আঙুলের ডগা দিয়ে চুলগুলো সরিয়ে আবার বিলি কাটতে লাগল।
কিন্তু তার অবাধ্য দৃষ্টি বারবার গিয়ে আটকে যাচ্ছিল শাহরানের খোলা বুকে। প্রশস্ত বুক আর শক্ত কলারবোন দেখে রোদের গলা শুকিয়ে এল। চোখ সরিয়ে নিতে চাইলেও পারল না।
তার ইচ্ছে হলো শাহরানের অ্যাডামস অ্যাপলটা ছুঁয়ে দেখতে।
সে হাত বাড়াতেই খপ করে রোদের কবজি চেপে ধরল শাহরান। ধীরে ধীরে নেশাভরা চোখ মেলে উঠে বসে ঠান্ডা গলায় বলল—
“দশ মিনিটের মধ্যে দশ সেকেন্ডও শান্তিতে থাকতে দিলে না। এখন যদি আমিও তোমাকে এভাবে ছুঁয়ে দিতে থাকি, কেমন হবে?”

“I want it. Go ahead.”
ফট করে জবাব দিল রোদ।
শাহরান অবিশ্বাস্য চোখে রোদের দিকে তাকিয়ে রইল। আর রোদ লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল। ঠোঁট কামড়ে শক্ত করে মুঠো পাকিয়ে ফেলল। তার সফেদ গাল দুটো মুহূর্তেই রক্তিম আভায় ছেয়ে গেল। হৃৎপিণ্ড ধড়ফড় করে যেন বুকের খাঁচা ভেদ করে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
কী বলে ফেলল মেয়েটা!
মেয়েটার লাজুক লতার মতো ঢলে পড়া শরীরটার দিকে কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল শাহরান। তারপর ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। শার্টের বুকের দিকের বোতাম লাগাতে লাগাতে বলল—
“আগে ভালো করে ফাইনাল এক্সামটা দাও। তারপর দেখা যাবে। সময় কোথাও পালিয়ে যাচ্ছে না।”
রোদ ঠোঁট উল্টে বিরক্তি প্রকাশ করল। তারপর শাহরানের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে তার বুকের দিকে হাত বাড়াল। ফিটিং শার্টের ওপর দিয়েও পেটানো পেশিগুলোর রেখা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। দৃশ্যটা তাকে ভীষণ টানছিল।
সে আলতো করে শাহরানের বুকে হাত রাখল। তারপর সুযোগ বুঝে স্ট্রেস বলের মতো বুকটা চাপ দিয়ে হি হি করে হেসে উঠল।
রোদের এই কাণ্ডে প্রশস্ত হেসে তার গাল টিপে শাহরান বলল—

“Childish.”
বলেই পা বাড়াল।
রোদ মুখ ভার করে বলে উঠল—
“তুমি বোধহয় কিছু ভুলে যাচ্ছ।”
কথাটা শুনে শাহরান থেমে দাঁড়াল। তারপর পেছন ফিরে ফিচেল হেসে বলল—
“আমি কিছুই ভুলিনি। আমি তোমাকে পবিত্র রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”
রোদ মাথা নিচু করে, স্লিপিং পাজামাটা খামচে ধরে দাঁড়িয়ে রইল। পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে টাইলসে অকারণে আঁকিবুঁকি কাটতে কাটতে বলল—
“At least you can kiss my forehead.”
বুক ভরে একটা শ্বাস টেনে শাহরান আবার ফিরে এল। দু’কদম এগিয়ে রোদের সামনে দাঁড়াল। তারপর পরম যত্নে তার হাতটা নিজের হাতে তুলে নিয়ে গোলাপি তালুতে ছোট্ট একটা চুমু এঁকে দিয়ে বলল—

“Happy?”
রোদ মাথা নাড়ল।
শাহরান এক ভ্রু উঁচু করে বিস্মিত হয়ে বলল—
“চুমু চাইলে দিলাম তো! তাও happy নও?”
রোদ ঠোঁট ফুলিয়ে বলল—
“আমি কপালে চেয়েছি।”
এই মুহূর্তে শাহরানের মনে হলো, মেয়েটা ভীষণ অবুঝ। নইলে জেনেশুনে কেউ আগুন নিয়ে খেলতে চায়?
তার এই ছোট্ট ছোট্ট আবদারগুলো শাহরানকে কীভাবে ভেতর থেকে অস্থির করে তুলছে, তা কি এই বোকা মানবী বুঝতে পারে?
শাহরান গলা খাঁকারি দিল। সারা শরীরে এক অদ্ভুত অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে। আর কয়েক মুহূর্ত এখানে থাকলে হয়তো সে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে।
যেভাবেই হোক, তাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে।
রোদের মন খারাপকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে শাহরান বারান্দায় চলে এল।
পেছন থেকে রোদ চিৎকার করে বলল—
“এর জন্য আমি তোমাকে শাস্তি দেব। You’ll regret this!”
শাহরান বাঁকা হেসে মাদকতাময় গলায় বলল—

“Do you have a death wish?”
রোদ মুখ বাঁকিয়ে গটগট করে বিছানায় উঠে উপুড় হয়ে শুয়ে চেঁচিয়ে বলল—
“Get lost!”
শাহরান একপলক রোদকে দেখে বেলকনি ডিঙিয়ে পাইপ ধরে বহু কষ্টে নিচে নেমে এল। নিচে নামতে নামতে তার মনে হলো তার ব্যক্তিত্ব এবং প্রফেশনের সাথে এসব যায় না। কিন্তু ভালোবাসা এসব স্ট্যাটাস, পদমর্যাদা বোঝে না। সে অবুঝের থেকেও অবুঝ। প্রিয় মানুষকে এক পলক দেখার জন্য সে মরিয়া হয়ে ওঠে। তখন সাত সাগর তেরো নদী পাড়ি দেওয়াও সহজ মনে হয়।
শাহরান নিচে নেমে গায়ের কাপড় আর হাত ঝেড়ে নিল, এমন মুহূর্তে পেছন থেকে কেউ বলে উঠল—
“চুরি করে ভালোবাসা করা খুব কষ্ট, তাই না?”
এহেন ঠান্ডা ভারী গলায় হকচকিয়ে লাফিয়ে উঠল শাহরান। ভয়ে ভয়ে পেছনে তাকাতেই রুদ্ররাজ চৌধুরীকে দেখা গেল। কেমন বাঁকা হেসে বুকের কাছে আড়াআড়ি দুই হাত ভাঁজ করে উত্তরের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ভদ্রলোক।
শাহরান নিজেকে সামলে গলা ঝাড়ল। এরপর কলার ঠিক করতে করতে বলল—

“চু চু চুরি করব কেন? আমি কি চোর নাকি? কী সব আজেবাজে বকছেন?”
রুদ্র শাহরানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ব্যঙ্গাত্মক হাসল। এরপর শাহরানের বুকে চাপড় দিতে দিতে বলে উঠল—
“নেক্সট টাইম থেকে লুকালে আলমারির ভেতর লুকাবে। পর্দার পাশ দিয়ে তোমার হাত দেখা যাচ্ছিল। আর খাটের তলায় পুরো পা।”
কথাগুলো শুনে খুক খুক করে কেশে উঠল শাহরান। রুদ্র তির্যক হেসে শাহরানের পিঠ বুলিয়ে বলে উঠল—
“এমন বোকা চোর আমার পছন্দ নয়।”
আর দাঁড়াতে পারল না শাহরান। ভদ্রলোক ইচ্ছে করেই তাকে হেনস্তা করছে। লজ্জায় শাহরানের কপালের কাছে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমল। আলগোছে রুদ্র তা মুছিয়ে দিয়ে বলে উঠল—
“বেশি রাত জাগা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। যাও, বাড়ি যাও।”
বলেই লম্বা পা ফেলে বাড়ির ভেতর ঢুকে গেল। শাহরান রুদ্রের যাবার পানে তাকিয়ে বলে উঠল—
“আমি আপনার মেয়েকে কলঙ্কিত করতে আসিনি। শুধু দেখতে এসেছি।”
রুদ্র পেছন ফিরে বলে উঠল—
“আই ট্রাস্ট ইউ। সেই জন্য এখনো আমার বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছ তুমি। নয়তো তখনই ধরে জ্যান্ত গেড়ে দিতাম। মানুষ তো দূর, কাকপক্ষীও টের পেত না।”

🥂 হোয়াইট মুন ওয়াইন বার, ক্যালিফোর্নিয়া
ক্যালিফোর্নিয়ার হোয়াইট মুন ওয়াইন বারের নির্দিষ্ট এক কক্ষে গোপন মিটিংয়ে বসেছে কয়েকজন ব্যবসায়ী মহারথী। গ্লাসে গ্লাসে ওয়াইন গেলার সঙ্গে বিশ্রী এক কুচিন্তায় মত্ত হয়েছে তারা।
মিটিংয়ের আয়োজক আগন্তুক গ্যাস লাইটারের সহিত সিগারেট জ্বালিয়ে ঠোঁটে চেপে লম্বা এক টান দিয়ে চোখ বুজে সোফায় মাথা হেলাল। এরপর ঠোঁট বাঁকিয়ে বিশ্রী হেসে বলে উঠল—
“যেহেতু কোনোভাবেই সারফরাজকে দমানো যাচ্ছে না, তবে তাকে মেরে ফেলছ না কেন?”
আগন্তুকের কথায় মদের গ্লাস শক্ত হাতে চেপে দাঁত পিসল একজন। এরপর হিসহিস করে বলে উঠল—
“বহুবার চেষ্টা করেছি। হি ইজ আ ওয়াইল্ড বিস্ট। আমাদের পরিকল্পনা বারবার বুঝে যায় সে। আর তার দেহরক্ষীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে তাকে ঠিক বাঁচিয়ে নিয়ে যায়।”
আগন্তুক প্রশস্ত হাসল এই জবাবে। এরপর সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে আয়েশ করে ঠান্ডা গলায় বলে উঠল—

“আমি ওই মেরে ফেলার কথা বলছি না। ওকে প্রাণে মেরে লাভ নেই। চেষ্টা বারবার বিফল হবে। তারচেয়ে ওর ছেলেকে পুঁতে দাও। শুনেছি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর সে। ছেলে যে বাপের মতো বন্য জন্তু হয়নি, তা তার সাদাসিধে ছেলেকে দেখে আগেই বুঝেছি আমি। সারফরাজের শরীরে আঘাত না করে সরাসরি হৃৎপিণ্ডে আঘাত করো। হৃৎপিণ্ড ছাড়া মানুষ এমনিতেই মরে যায়।”
বলেই হো হো শব্দে বিশ্রী হাসিতে মেতে উঠল আগন্তুক। আগন্তুকের কথায় পুরো কক্ষ জুড়ে হাসির রোল পড়ল। বুদ্ধি যৌক্তিক। সারফরাজের মতো তার ছেলে দেহরক্ষী নিয়ে ঘোরে না। তাকে ঘায়েল করা একদম সোজা। কিন্তু কাজটা করবে কে?
আগন্তুক সিগারেটের ফিল্টারে শেষ টান দিয়ে বলে উঠল—

“প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটায় একাই ড্রাইভ করে ভার্সিটি যায় সে। কার্গো ট্রাক দিয়ে পিষে দাও। কাজ শেষ হলে ড্রাইভারকেও টপকে দাও।”
সকলের মাঝখান থেকে একজন মহারথী আপত্তি জানিয়ে বলে উঠল—
“সারফরাজ মাটি খুঁড়ে হলেও তার ছেলের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করবে। বিষয়টা এতটাও সহজ নয়।”
মুহূর্তেই নিজের লোড করা গান সামনে তাক করে নির্দ্বিধায় গুলি চালিয়ে দিল আগন্তুক। সেগুলো উক্ত ব্যক্তির কপাল ফুটো করে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে গেল। কেউ কিছু বলার আগেই বসা থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল সে। চোখ জোড়া এখনো খোলা। সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণ বেরিয়ে আকাশ ছুল।
ধোঁয়া ওঠা বন্দুকের নলে ফুঁ দিয়ে আগন্তুক নাটকীয় ভঙ্গিমায় বলে উঠল—
“I am not here for anyone’s predictions. My decision is final. I don’t have the slightest interest in hearing anyone’s pointless talk.”
বলেই নিজের গার্ডদের আঙুলি নাড়িয়ে ডেকে বলে উঠল—

“সমুদ্রে ফেলে দাও। হাঙর এসে গিলে নেবে। এসব ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ফেলে পরিবেশ দূষণ করার কোনো মানে হয় না।”
গার্ড মৃত ব্যক্তির দুই পা ধরে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গেল। মাথা থেকে এখনো গলগল করে উষ্ণ তাজা রক্ত ঝরছে। সেই রক্তধারা পুরো মেঝেকে রাঙিয়ে তুলল ভয়ানকভাবে। সকলেই আতঙ্কিত হয়ে এই দৃশ্য দেখে শিউরে উঠল। বাকি আলোচনা শেষ করার মতো শক্তি কারোর রইল না। কিন্তু আগন্তুক এসব তোয়াক্কা পর্যন্ত করল না। সে কাচের সেন্টার টেবিলে একটা ফাইল ছুঁড়ে বলে উঠল—
“কাজটা যে সম্পন্ন করতে পারবে তাকে আমি আমার কোম্পানির অর্ধেক শেয়ার লিখে দেব।”
সকলের মধ্য থেকে ভিক্টর নামের এক যুবক দাঁড়িয়ে বলে উঠল—
“মিস্টার ভলকোভ, আমি আপনার প্রস্তাবে রাজি। আপনি শেয়ারের পেপার রেডি রাখুন। শাহরান শাহজাইন খুব শীঘ্রই নিউজের হেডলাইন হতে চলল বলে।”
কথাখানা শুনে মিস্টার ভলকোভের ঠোঁটে শয়তানি হাসি ফুটল। কিন্তু পাশে বসা সকলের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে উঠল। তারা চোখের সামনে বোধ হয় তাণ্ডব দেখতে পেল। মোটা শেয়ারের বিনিময়েও তাদের মুখে হাসি ফুটল না। বরং বুকের ভেতরের হৃৎপিণ্ড বরফের ন্যায় শীতল হয়ে উঠল।

নিজের কেবিনে বসে ল্যাপটপে নিজ লেকচার ডকুমেন্ট সাজিয়ে নিচ্ছে শাহরান। এখন তার অফ পিরিয়ড। নেক্সট পিরিয়ডে অনার্স প্রথম বর্ষের ক্যালকুলাস ক্লাস আছে। শাহরান যখন নিজের কাজে চূড়ান্ত ব্যস্ত তখন দরজায় নক হলো। ল্যাপটপে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেই শাহরান বলল—
“Come in!”
নির্দেশ পেতেই ভেতরে ঢুকল মিস নায়রা। হাই হিলের ঠকঠক আওয়াজে আভিজাত্যে পা ফেলে এগিয়ে এল একদম শাহরানের সন্নিকটে। গম্ভীর ব্যস্ত পুরুষকে একবার পরখ করে ঠোঁট এলিয়ে হেসে ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে শাহরানের হাতের উপর রাখল নিজের হাত।
তাৎক্ষণিক নিজের কাজ বন্ধ করে শাহরান চোয়াল শক্ত করে নিজের হাত ছাড়িয়ে ধমকে বলে উঠল—
“এসব কী হচ্ছে নায়রা?”
শাহরানের ধমকে নায়রা ঠোঁটের হাসি অক্ষুণ্ণ রেখে বলে উঠল—
“তুমি সব জানো! তারপরেও কেন না জানার ভান করছ?”
শাহরান শক্ত গলায় বলে উঠল—

“তোমাকে আমি ওভাবে দেখি না, নায়রা। তুমি জাস্ট আমার কলিগ। কলিগের সাথে যেটুকু সম্পর্ক না রাখলেই নয়, ততটুকু সম্পর্ক তোমার সঙ্গে আমার। আমি চাইব নেক্সট টাইম থেকে একজন কলিগ হিসেবে আমাকে সম্মান করবে এবং দূরত্ব বজায় রেখে চলবে।”
নায়রা আমলে নিল না সেসব কথা। সে শাহরানের কলার চেপে ধরে শাহরানের মুখের কাছে মুখ এনে বলে উঠল—
“ওই মেয়েটাকে এখনো মন থেকে সরাতে পারছ না বলে আমাকে একসেপ্ট করছ না। Isn’t it?”
“None of your business, Nayra.”

চেকমেট ২ পর্ব ৩২

বলেই নায়রার হাতের কব্জি চেপে ধরল শাহরান। এমন সময় দরজার কাছে কিছু পড়ে যাবার শব্দে নায়রাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সামনে তাকাল শাহরান। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রোদ। তার হাতে থাকা নোট খাতাগুলো হাত খসে মাটিতে পড়ে গিয়েছে। মাথাটা কেমন ঘুরছে। চোখ থেকে নোনা ঢেউয়ের ধারা উপচে পড়তে চাইছে। ফিনফিনে পাতলা ঠোঁট জোড়া তিরতির করে অনবরত কাঁপছে। মনে কেবল ভয়ানক এক প্রশ্ন হানা দিচ্ছে—
“মিস নায়রা শাহরানের অতো কাছে গিয়ে কী করছে?”

চেকমেট ২ পর্ব ৩৪