Home চেকমেট ২ চেকমেট ২ পর্ব ৩২

চেকমেট ২ পর্ব ৩২

চেকমেট ২ পর্ব ৩২
সারিকা হোসাইন

“কোথায় গিয়েছিলে এতো রাত হলো যে?
ডাইনিং টেবিলে খাবার গুছাতে গুছাতে জিজ্ঞেস করলো রুপকথা।মায়ের প্রশ্নে খানিক থতমত খেলো শাহরান।গলা খাঁকারি দিয়ে নিজেকে সামলে বলে উঠলো —
“হঠাৎ জরুরি কাজ পরে গেছিলো মা।সে সে সেটাই করতে গেছিলাম।
বুকে দুই হাত ভাঁজ করে তপ্ত শ্বাস ছোড়ে রুপকথা বললো —
“সেই কাজটাই জানতে চাচ্ছি।
বেকায়দায় ফেঁসে বোকার মতো হেসে শাহরান বলে উঠলো —
“নিনাদ কল করেছিলো ওর অফিসে ।ওর বিয়ের বিষয়ে প্লানিং করতে।
“তা নিনাদ কি আজকাল গোলাপি লিপস্টিক মাখা শুরু করেছে?
“হোয়াট?

ঘাবড়ে উঠলো শাহরান।রুপকথা ফুস করে শ্বাস ফেলে তর্জনী আঙুল নির্দেশ করে বলে উঠলো —
“তোমার বুকের কাছে লিপস্টিক লেগে আছে।ডেটিং করছো কাউকে?কে সে?রুদ্রের মেয়ে?
শাহরান লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো। তার গাল গোলাপি হলো,কান তপ্ত হয়ে উঠলো।ঠোঁটে বারবার নির্লজ্জের মতো হাসি চলে আসছে।বহু কষ্টে সেই হাসি রোধ করে ইনিয়ে বিনিয়ে বলে উঠলো —
“আমার কেবিনে রোদ আটকে ছিলো।পিয়ন তালা মেরে দিয়েছিল।আমি তো ক্লাস থেকেই নানু ভাইকে দেখতে চলে এলাম ।তোমাকে নিয়ে নামার সময়ই মনে পড়েছে মেয়েটা বন্দি।
“তালা খুলে দিয়েছো ভালো কথা।আমি লিপস্টিক প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছি।ডেট করছো কি না?ইয়েস ওর নো?
মাথা নিচু করে ফাঁকা ঢোক গিলে শাহরান জবাব দিলো —
“ও আমায় সরি বলেছে মা।
“প্রত্যুত্তরে তুমি কি বলেছো?
“আমি ওকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
ছেলের জবাবে ফিক করে হেসে দিলো রুপকথা।শাহরান ভয়ার্ত মুখে বোকার মতো মায়ের পানে তাকিয়ে রয়েছে ।রুপকথা নিজের হাসি থামিয়ে বলে উঠলো —
“যাক এবার তাহলে তোমারও একটা গতি হলো। তা বিয়ে করছো কবে?
বিয়ের কথা শুনে শাহরান লজ্জায় আর টিকতে পারলো না।লম্বা পা চালিয়ে সিঁড়ি ধরে উঠতে উঠতে বলে উঠলো —

“মা তুমিও না।ধুর এসব কেউ বলে?
“আচ্ছা পাপাকে জানিও। একা একা আর কত দুঃখ বিলাস করবে?
“মা!
“আচ্ছা ফ্রেস হয়ে এসো।তোমার পছন্দের ঝাল ঝাল শুঁটকি ভুনা আর চিংড়ি দিয়ে ধুন্দল করেছি।আর রুদ্রের মেয়েকে বলো রান্না বান্না শিখে নিতে।আমি কিন্তু আর বেশিদিন এভাবে তোমাকে রান্না করে খাওয়াতে পারব না বাপু।বয়স হয়েছে ।এখন আমার ছুটি নেবার পালা।
শাহরান দৌড়ে পালালো।ছেলে যেতেই চোখের কোণে জমে থাকা জল সংগোপনে মুছে নিলো রুপকথা।এই মেয়েটার জন্য তার ছেলে কতটা যন্ত্রণায় ছটফট করেছে তার চাইতে এই খবর আর কে ভালো জানে?বিধাতা যে এতগুলো বছর বাদে ছেলেটার উপর দয়া দেখিয়েছে এই ঢের।এবার ছেলের একটা সুখের সংসার হবে,ঘর জুড়ে নাতি নাতনী আসবে।ছোট খালি খালি পরিবারটা আবার মানুষের কোলাহলে পরিপূর্ণ হবে।সেই ছোট বেলার মতো আবারো প্রাণ খুলে হাসবে শাহরান।ভুবন ভুলানো সেই হাসি।

বিছানায় শুতে শুতে প্রায় সাড়ে বারোটা বেজে গেলো শাহরানের।বিছানায় শরীর এলিয়ে প্রথমেই ফোন হাতে নিলো।মনে প্রাণে অদ্ভুত আনন্দ হচ্ছে। পেটের ভিতর কি জানি নড়ে উঠছে শুধু।সারা শরীর জুড়ে শিহরনের ঢেউ।ইশ কি সুন্দর ভালোবাসার আকুতি!আর ওই ঊষ্ণ স্পর্শ?
শাহরান বিছানায় গড়াগড়ি খেলো সেই অনাবিল আনন্দের মুহূর্ত স্মরণ করে।এরপর ঠোঁটে প্রশস্ত হাসি ঝুলিয়ে ফোন করলো প্রিয়তমার নম্বরে।ফোন কানে ধরতেই শাহরানের ভ্রু উঁচু হলো।নম্বর বন্ধ ।বার কয়েক ট্রাই করলো শাহরান।বারবার একই নিষ্ঠুর বাণী।অস্থির অধৈর্য হয়ে উঠলো শাহ।বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পুরো রুম জুড়ে পায়চারি চালালো সে।অজানা শঙ্কায় শরীর ঘেমে উঠলো।মাথা ঘুরে গেলো।কেমন হাসফাঁস অনুভূতি।নিজেকে শান্ত করতে বারান্দায় এলো শাহরান।চারপাশ নীরব,নিস্তব্ধ ।
বারান্দার শীতল দখিনা সমীরণ শাহরানের অস্থিরতা দমাতে পারলো না।সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলো একবার ওই বাড়িতে যাবে এবং এক্ষুনি।দেখা চাই নিষ্ঠুর মানবী ভালোবাসা জাহির করে কয়েক পল না গড়াতেই কোন নিষ্ঠুর খেলায় তাকে বধ করতে চাইছে।

ঘড়ির কাটা তরতর করে একের ঘরে গিয়ে ঢং ঢং করে বেজে জানান দিলো রাতের প্রথম প্রথম প্রহরের সমাপ্তি হয়ে গেছে ।
রোদ অনিমেষ সেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রইলো।মাথায় সারাক্ষন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা চক্রাকারে ঘুরে চলছে। শাহরানের বোতল এগিয়ে দেবার মুহূর্ত মনে পড়তেই রোদ চোখ মুখ ঢেকে ফেললো বালিশ দিয়ে।এরপর বিছানায় দুই পা আছড়ে বলে উঠলো —
“ইশ কি লজ্জা কি লজ্জা!তাকে মুখ দেখাবো কি করে আমি?
তাৎক্ষনিক মনে ভয়ানক এক প্রশ্ন হানা দিলো —
“ও কি কিছু দেখে ফেললো?
এহেন খতরনাক ভাবনায় রোদের শরীর জমে হীম হয়ে গেলো।চেহারার রং পাল্টে গেলো।রোদ শক্ত হাতে বালিশ গুঁজে চেঁচিয়ে উঠল —

“আমার সাথেই কেনো এমন হলো? কেনো কেনো?
পরক্ষনেই মুখ চেপে ধরলো সে ।পাশেই তার বাবা মায়ের ঘর।রুদ্র বেশ চতুর আর সূক্ষ্ম শ্রবণ শক্তি সম্পন্ন মানুষ ।ন্যূনতম আওয়াজ শুনলেই দৌড়ে এসে শুধুবে —
“কি হয়েছে?এখনো জেগে রয়েছো?চিৎকার করছো কেনো?
রোদ ফোস করে শ্বাস ফেলে বিছানায় বাবু হয়ে বসলো।ফোনটা হাতে নিলো।ইচ্ছে করেই শাহরান যাবার পর বন্ধ করে রেখেছে সে।সেই সাথে এও ভেবে রেখেছে আগামী কয়েকদিন ক্লাসেও যাবে না।এর জন্য তার যা শাস্তি হয় হবে।

রোদ বিছানা থেকে নেমে একটা স্লিপিং ড্রেস বের করলো কাবার্ড থেকে।গায়ে এখনো সেই সকালের পোশাক।শরীর চুলকাচ্ছে ।তাৎক্ষনিক বদলানো উচিত।
কোনো কিছু না ভেবে গায়ের টিশার্ট খুলে সবার প্রথমে শরীরে টাইট হয়ে চিপকে থাকা অন্তর্বাস ছুঁড়ে মারলো।এরপর ঢিলে স্লিপিং শার্ট গায়ে জড়িয়ে প্যান্ট খুলে পাজামা পরে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে বসলো।এবার আরাম লাগছে।
ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে আনমনে চিরুনি হাতে তুলে নিলো রোদ।চুল গুলো পাখির বাসা হয়ে আছে।বিনুনি পাকানো উচিত।বেখেয়ালে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে রোদের নজর আকস্মিক আয়নায় স্থির হলো।পিছনে অদ্ভুত এক বিম্ব। রোদ ঘাবড়ে পিছনে তাকালো।বেলকনির দরজা খোলা।সেই দরজার মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে আছে অদ্ভুত এক মানুষ।যার মুখে ডাটি সহ লাল গোলাপ আর স্পাইডার ম্যানের মতো চোখ গুলো ঢাকা।এক মিনিট ওটা কি দিয়ে চোখ ঢেকে রেখেছে এই আগন্তুক?
শাহরান ধীরে ধীরে চোখ থেকে মেয়েলি ছোট জিনিস সরিয়ে হাতে নিলো।চোখের সামনে ধরে বুঝতে খানিক সময় লাগলো জিনিস টা কি।যখন মস্তিষ্ক জানালো এটা কি ধরনের বস্তু তখন শাহরানের হাত কেঁপে উঠলো।পা টাও কেঁপে উঠলো ঠক ঠক করে।প্রেমিকার জন্য ঠোঁটে করে বয়ে আনা ভালোবাসার লাল গোলাপ থপ করে মুখ ফসকে মেঝেতে পড়লো।চোখ হলো বিস্ফারিত।
রোদ আগাগোড়া শাহরানকে পরখ করে চিৎকার করে উঠলো —

“তুমি কি করছো এখানে? ওহহ নো।
শাহরানের তর্জনী আঙুলের ডগায় এখনো ঝুলছে সেই ছোট কাপড় খানা।টিং টিং করে কাপছে পুরো হাত।শাহরানের মনে হলো তার হাতে ভয়ানক এক প্রাণী বসে আছে ।সে রোদের দিকে তাকিয়ে তাল হারিয়ে বলে উঠলো—
“এই আই মাস্কের কারনে আমি কিচ্ছু দেখিনি।কসম।
রাতের বেলা হঠাৎই পিপাসা পেয়েছিল রুদ্রের।পানি খেতে ডাইনিং টেবিলে আসতে না আসতেই মেয়ের গলার চাপা আওয়াজ শুনে পুরো বাসার লাইট জ্বালিয়ে দৌড়ে রোদের দরজার সামনে এলো রুদ্র।দরজায় শক্ত করাঘাত করে ডেকে উঠল —
“রোদ,কি হয়েছে?
রুদ্রের গলা পেয়ে কেঁপে উঠলো রোদ।সংগে ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে উঠলো শাহরান ।
মেয়ের সারা না পেয়ে রুদ্র দরজায় করাঘাত করে উঁচু গলায় বলে উঠলো —
“রোদশী ওপেন দ্যা ডোর। হুয়াট হ্যাপেন্ড দেয়ার?আর ইউ ওকে?
রোদ ঘাবড়ে গিয়ে শাহরান কে ফিসফিস করে বলে উঠলো —

“চলে যাও।
শাহরান মা নাড়িয়ে বলে উঠলো—
“আমার কেমন জানি লাগছে।আমি যেতে পারবো না।আর কীভাবে যাবো?
“কিভাবে যাবে মানে?যেভাবে এসেছো সেভাবে যাবে।
“পাইপ বেয়ে এসেছি।শরীরে তখন পুরো দমে তেজ ছিলো।কিন্তু তোমার এই অদ্ভুত খাঁচা আমার সব শক্তি শুষে নিয়েছে।পায়ে একদম শক্তি নেই ট্রাস্ট মি।এই যে তোমাকে ছুঁয়ে বলছি।
বলেই হাত বাড়াতে নিলো। রোদ হাত সরিয়ে দিয়ে দূরে সরে দাঁড়ালো।মাথা কাজ করছে না। এতো রাতে রুদ্র যদি এসে শাহরণকে রোদের ঘরে দেখে বিশ্রী এক কাণ্ড ঘটে যাবে!তাছাড়া শাহরানকে ভুল বুঝে রুদ্র যদি গুলি মেরে দেয়? রোদ কেঁদে ফেলতে নিলো। ওধারে অধৈর্য্য রুদ্র দরজা ভেঙে ফেলার উপক্রম করলো।কোনো উপায় না পেয়ে রোদ বলে উঠলো —

“পর্দার পেছনে লুকাও।
“আমি কেনো লুকাবো আমি কি চোর?
রোদ নিজের চুল টেনে ধরে ঠোঁট কামড়ে নাক ফুলিয়ে বলে উঠলো —..
“তুমি না লুকালে আমি এক সপ্তাহ তোমার থেকে ভ্যানিশ হয়ে যাবো।এবার ভেবে দেখো লুকাবে নাকি আমি লুকাবো তোমার থেকে?
প্রেয়সী ভ্যানিশ হয়ে যাবে ভেবেই শাহরানের বুকে মোচড় দিলো।সে তাৎক্ষনিক মাথা ঝাঁকিয়ে পর্দার দিকে পা বাড়ালো ।সামনে ফিরলো তাৎক্ষনিক।মেঝে থেকে পড়ে যাওয়া গোলাপ তুলে কানে গুঁজে লুকিয়ে গেলো পর্দার পেছনে।
রোদ চারপাশে পরখ করে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দরজার দিকে এগুলো।দরজার ছিটকিনি খুলতে খুলতে ঘুমের ভান ধরে চোখ কচলে দরজা খুললো ।এরপর হাই তুলতে তুলতে ঘুম কাতুরে গলায় জিজ্ঞেস করলো —

“কি হয়েছে পাপা?এতো রাতে তুমি?কিছু হয়েছে?
রুদ্র মেয়ের ঘরে লাফিয়ে ঢুকে এদিক সেদিক নজর বুলিয়ে বলে উঠলো —
“আমি স্পস্ট তোমার চিৎকার শুনলাম ।
রোদ ঘাবড়ালো অল্প ।তবে তাৎক্ষনিক নিজেকে প্রস্তুত করে বলে উঠলো —..
“আ আ আমি তো ঘুমাচ্ছিলাম ।চিৎকার করবো কেনো?
রুদ্রের বিশ্বাস হলো না।সে পুরো ঘরে নজর বুলালো।বারান্দার দরজা খোলা ।সে বেলকনিতে গিয়ে চারপাশে পরখ করে দরজা আটকে বলে উঠলো —

“এটা খুলে রেখেছো কেনো?
হকচকিয়ে উঠলো রোদ।বললো —
“মনে ছিলো না এসেই ঘুমিয়ে গেছি।
রুদ্র জানালার পর্দার দিকে এগুলো। রোদ সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো —
“ঘরে কিচ্ছু নেই পাপা।আমার ঘুম পাচ্ছে।তুমি চলে যাও ।
রুদ্র শুনল না।চেক করলো জানালার পর্দা।
রোদ আবার বলে উঠলো —
“পর্দার পিছে কেউ নেই পাপা।

এই কথা শুনে শাহরান ঘেমে উঠলো। সরফরাজ পুত্র কিছুতেই রুদ্র রাজ চৌধুরীর কাছে ঘায়েল হতে পারে না এভাবে ।রোদ যখন রুদ্রকে অন্য দিকে দৃষ্টি ডাইভার্ট এর চেষ্টা চালালো সেই সুযোগ বুঝে বিড়ালের মতো খাটের তলায় ঢুকে গেলো শাহরান।হাতে এখনো রোদের অন্তর্বাস কানে গুঁজে রাখা গোলাপ।অদ্ভুত এক ভয়ানক মুহূর্ত।বৃহত শরীরটা খাটের নিচে লুকিয়ে রাখতে বড্ড নাস্তানাবুদ হলো শাহ।
এদিকে রুদ্র পরের জানালার পর্দার দিকে হাত বাড়াতেই কেঁদে ফেললো রোদ।এবার নিশ্চিত ভয়ানক কিছু ঘটবে।কিন্তু একি শাহরান গেলো কোথায়?
মাঝ রাতে বাবার এমন গোয়েন্দা গিরীতে বিরক্ত হয়ে রোদ বললো—
“মাঝ রাতে মেয়ের ঘরে এসে এমন তল্লাশি চালাতে লজ্জা করছে না তোমার?
মেয়ের প্রশ্নে হাত গুটিয়ে নিলো রুদ্র।থতমত খেয়ে বললো —
“শত্রুর তো অভাব নেই।কখন কে কী করে বলা যায়?
“আমি তো কখনোই দেখলাম না তোমার কোনো শত্রু আছে এখানে!আজ শত্রু আচানক কোথা থেকে অবতার হলো?
রুদ্র কথা বলার ভাষা হারালো।সে বাইরের দিকে পা বাড়াতে নিলেই রোদ বলে উঠলো —

“খাটের নিচ বাকি আছে ওখানেও উকি মেরে যাও।ওটা বাদ রাখছো কেনো?তোমার শত্রু তো শাহরান ।বলা তো যায়না খাটের নিচে এসে লুকিয়ে তোমাকে বধ করতে পারে!
রোদের কথা শুনে ঘেমে নেয় চোখ উল্টে ফেললো শাহরান।তার মনে হলো মেয়েটা বাপের মতো উন্মাদ।নয়তো প্রেমিকের লুকিয়ে থাকার জায়গা বাপ কে কেউ দেখিয়ে দেয়?ভয়ে হাত কামড়ে চোখ বুজে উপুর হয়ে পড়ে রইলো শাহরান।আগে আগে কি হয় তা দেখার আশায়।
মেয়ের কথার ঝাঁজে টিকতে না পেরে রুদ্র তাৎক্ষনিক পা চালিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে উঠলো —
“সরফরাজ পুত্র কখনো খাটের তলায় লুকাবে না। এতো অধঃপতন এখনো হয়নি তার।ঘুমাও।
রুদ্র দরজা আটকে চলে যেতেই রোদ সিটকিনি আটকে দিলো। শাহরান হামাগুড়ি দিয়ে খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে মুখ চেপে কেশে উঠলো।প্রাণ যাচ্ছে।শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।বুকের ছাতি ঢুম ঢুম করে পেটাচ্ছে কেউ।
হাতে থাকা রোদের ছোট কাপড় দিয়ে নিজের মুখ মুছে বহু কষ্টে আওড়ালো —
একটু পানি পাওয়া যাবে?
রোদ ছো মেরে শাহরানের হাত থেকে অন্তর্বাস কেড়ে নিয়ে ক্লথ বিনে ছুঁড়ে বলে উঠলো —

“দিচ্ছি।
গ্লাসে করে পানি এনে শহরণের হাতে দিয়ে রোদ দাঁত চেপে বলে উঠলো —
“আমাকে হয়রানি করতে এতো রাতে কেনো এসেছো?
ঢক ঢক করে পানি সাবাড় করে মুখ মুছে শাহরান বলে উঠলো —
“আমি তোমাকে হয়রানি করছি?হয়রানি তো করছো তুমি আমাকে।সন্ধ্যায় ভালোবাসার সাগরে ভাসিয়ে রাতে ডুবিয়ে মারছো।ফোন বন্ধ কেনো তোমার?
রোদ মিইয়ে গিয়ে ঠোঁট কামড়ে বলে উঠলো —
“চার্জ দিতে মনে ছিলো না।
শাহরান বিছানা থেকে ফোন তুলে হাতে নিয়ে বাকা হাসলো।বললো —
“ফুল চার্জ ,ফ্লাইট মোড। বাহ। লায়ার!
রোদ ছোঁ মেরে ফোনটা নিয়ে হাতের মুঠোয় পুরে বলে উঠলো —
“পালিয়ে যাচ্ছি নাকি?সকালে কথা বলা যেত না?
“না যেতো না।আমার প্রাণ যাচ্ছিলো তখন।

বলেই রোদের দিকে পা বাড়ালো।ঘাবড়ে গিয়ে দু কদম পেছালো রোদ।শাহরান এগুলো। রোদ পুনরায় পিছালো।এগুনো পিছানোর খেলায় রোদের পিঠ দেয়ালে আটকালো।তার পালানোর পথ রুদ্ধ।শাহরান দেয়ালের দুই পাশে নিজের হাত দিয়ে রোদকে মাঝে ফেলে বেষ্টনী তৈরি করলো।এরপর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল —
“খুব টর্চার করছো আজকাল।
রোদ মুখ নামিয়ে শাহরান কে ঠেলে সরানোর চেষ্টা করলো।শাহরান বাকা হেসে বলে উঠলো —
“You’re wasting your energy unnecessarily, baby. Save it for me.
লজ্জায় রোদের মুখ লাল হয়ে উঠলো।শাহরানের বুকে মুখ লুকিয়ে কম্পিত গলায় বলে উঠলো —
“সত্যি করে বলো একটু আগেই কিছুই দেখো নি তুমি।
শাহরান ঠোঁট এলিয়ে হাসলো।বললো—

“ কিচ্ছু দেখিনি।দেখার সুযোগ ই পাইনি ।
বলেই কান থেকে গোলাপ হাতে নিয়ে রোদের গলার ভাঁজ থেকে থুতনি পর্যন্ত আলতো করে ছুঁইয়ে ঘোর ধরানো গলায় বললো —
“But trust me, that beauty mark just below your waist is driving me crazy.

চেকমেট ২ পর্ব ৩১

রোদ শিউরে উঠল শাহরানের এহেন ভয়ানক স্পর্শে।সে ঠোঁট টিপে ফাঁকা ঢোক গিললো।শাহরান এক হাত রোদের কোমরের কাছে এনে অল্প আঙুলি ছোঁয়ালো। রোদ চোখ বুজে দেয়ালে মাথা হেলিয়ে ফেললো।ডেভিল হেসে সরে দাঁড়ালো শাহরান। রোদ অবিশ্বাস্য চোখে শাহরানের পানে তাকালো।শাহরান বিছানায় আরাম করে শুয়ে বলে উঠলো —
“Not now. I’ll touch every part of you on our first night.

চেকমেট ২ পর্ব ৩৩