চেকমেট ২ পর্ব ৩১
সারিকা হোসাইন
শাহরানের ব্যস্ত উদ্ভ্রান্ত গলায় করা অপরাধী প্রশ্নে কোনো জবাব দিলো না রোদ।সে শাহরানকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে শব্দ করে কেঁদে চললো শুধু।মনে হচ্ছে শাহরানের বুকের ছাতি ভেঙে কলিজায় ঢুকে গেলে কিছুক্ষন আগের পাওয়া ভয়,হতাশা,আর না পাওয়ার বেদনা উপশম হবে কিছুটা।
কাদতে কাদতে শাহরানের শার্টের কলার চেপে ধরে সিক্ত চোখে শাহরানের কাতর চোখে নজর নিবদ্ধ করলো রোদ।এরপর ভেজা গলায় ঠোঁট উল্টে অভিযোগ জানালো—
“তুমি বড্ড নিষ্ঠুর।খারাপ লোক,খুব খারাপ।”
রোদের লাল হয়ে উঠা ভীতু বেসামাল মুখশ্রী নিজের হাতের আজলায় ভরে ফিসফিস করে শাহরান শুধালো —
“আর কি কি অভিযোগ আছে আমার বিরুদ্ধে শুনি? সেসব অভিযোগে আমার মৃত্যুদন্ড অনিবার্য বুঝি?”
রোদ শক্ত এলোপাতাড়ি কিল বসালো শাহরানের প্রশস্ত শক্ত বক্ষে।কিছুক্ষন সেই নরম হাতের মার সহ্য করে রোদের দুই হাত চেপে ধরলো শাহরান।বললো —
“অযথা হাত গুলো লাল করছো শক্তি খাটিয়ে।আমার লাগছে না।
রোদ ঝটকায় হাত সরাতে চাইলো।কিন্তু মুঠি শক্ত করলো শাহরান।বাকা হেসে বললো —
“আবার পালাতে চাইছো?
রোদ ফট করে চেঁচিয়ে বলে উঠলো —
“আমাকে তালা দিয়ে তুমি পালিয়েছিলে।এখন আবার আমার উপর দোষ ঝাড়া হচ্ছে?
মুখ আড়াল করলো হাসলো শাহরাণ।এরপর রোদের নীলচে চোখের কোল ঘেঁষে গড়িয়ে পড়া মোটা জলবিন্দু নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মুছিয়ে টেবিল থেকে টিস্যু নিলো।মেয়েটার লাল হয়ে উঠা নাকের ডগা চেপে নাক সাফ করে বলে উঠলো —
“অনেক রাত হয়েছে।বাকি অভিযোগ কাল শুনবো।তোমার বাবা বোধ হয় এতক্ষণে থানা পুলিশ করে ফেলেছে। পাছে না আবার আমাকে জেলে যেতে হয়।
বলেই রোদের হাত ধরে টান দিলো।কিন্তু রোদ এক পা ও নড়লো না।নিজ স্থানে বহাল দাঁড়িয়ে রইলো।শাহরান কপাল কুচকে বলে উঠলো —
“সেকি বাড়ি যাবে না?
“না যাবো না।
শক্ত ঠোঁটে জবাব দিলো রোদ।
“কেনো কেনো?
বিষ্ময়ে অভিভূত হয়ে জিজ্ঞেস করলো শাহরান। রোদ নির্বিকার নীরব রইলো।মানুষটা তাকে এখানে বন্দি করে কোথায় গায়েব হয়েছিলো এটা তার জানা চাই।শাহরান বুঝলো বোধকরি মেয়েটার মনের ফুঁসে ওঠা জেদ।সে রোদের একদম শরীর ঘেঁষে দাঁড়ালো।এলোমেলো চুলগুলো পরম যত্নে কানের পিঠে গুঁজে মাথায় আদর মাখা হাত বুলাতে বুলাতে বলে উঠলো —
“নানা ভাই হার্ট অ্যাটাক করেছেন।ইমারজেন্সি যেতে হয়েছিলো।
রোদ চমকে উঠল সুফিয়ান চৌধুরীর খবরে।সমস্ত রাগ আর কষ্ট ঝেড়ে ফেলে সে চমকিত ব্যস্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো —
“কেমন আছেন উনি এখন?খারাপ কিছু তো হয়নি না?
রোদের থুতনি চেপে মিষ্টি হেসে শাহরান জবাব দিলো —
“উনার কিছু হলে আমি এখানে থাকতাম?তুমি সারা রাত এখানে বন্দি থাকতে।কৃপা করে পিয়ন ডানো যদি দরজা খুলত তবেই মুক্তি পেতে।
বৃদ্ধ মানুষটার খবরে রোদের মন ভার হলো।শাহরানের কতটা জুড়ে সুফিয়ান চৌধুরীর অবস্থান সেটা ভেবে তার বুক কেঁপে উঠলো।উনার কিছু হলে শাহরান নিশ্চিত উন্মাদ হয়ে যাবে।শাহরানের ভালো থাকার মূল ওষুধ সুফিয়ান চৌধুরী।শাহরান রোদকে ভালোবেসে অনেক অবজ্ঞা ,অপমান আর বিরহে জ্বলে পুড়ে মরেছে।সুফিয়ান চৌধুরী সেই দুর্বিষহ মুহূর্ত গুলোতে নাতিকে বুকে আগলে নিয়ে সামলেছেন। রোদ মনে মনে সুফিয়ান চৌধুরীর দীর্ঘায়ু কামনা করে শাহরানের শার্টের বোতামে আঁকিবুকি করতে করতে বলে উঠলো —
“একটা প্রশ্ন করবো?
“হুম অবশ্যই।
“এতদিন আমায় খুব ঘৃণা করেছিলে তাই না?আচ্ছা আমার ভালোবাসা কি এতদিনের জমানো ঘৃণার সেই পাহাড় টাকে ধ্বসাতে পারবে?
বলেই কাতর হয়ে শাহরানের জবাবের জন্য উন্মুখ তাকিয়ে রইলো রোদ।রোদের পাংশু নজরের পানে তাকিয়ে ফোস করে ঠোঁট গোল করে শ্বাস ছাড়লো শাহরান।এরপর অকপটে বললো —
“আমি কখনো তোমাকে ঘৃণাই করিনি।
জবাবে রোদের চোখ থেকে অনবরত জল ঝরতে লাগলো।হাতের করপুটে সেই জল মুছতে মুছতে শাহরান বলে উঠলো —
“যাকে নিজের জীবন দিয়ে এতগুলো বছর ভালোবেসেছি তাকে কিভাবে ঘৃণা করতাম বলো?তোমার ইচ্ছে হয়নি তুমি ভালোবাসোনি।আমি তো তোমায় ভালোবেসেছিলাম।আমি শুরু থেকেই জানতাম আমার ভালোবাসা অনিশ্চিত।পূর্ণতা পেলে সেটা আমার জন্য মস্তবড় জ্যাকপট হতো।যখন বুঝলাম আমার ভালোবাসা তোমাকে চূড়ান্ত ত্যক্ত বিরক্ত করছে,তোমাকে অস্বস্তিতে ফেলছে,কষ্ট দিচ্ছে তখনই আমি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি।আমি কক্ষনো চাইনি আমার কারনে বিন্দু মাত্র কষ্ট এসে তোমায় ছুঁয়ে যাক।আমি সব সময় চেয়েছি তুমি হাসো।খুব হাসো।তোমার মুখের ওই সুন্দর হাসি আমার আজীবনের পিপাসার্ত হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণের অবলম্বন।যার বাস হৃদয়ের একদম গহীনে তাকে হাজার বার চাইলেও ঘৃণা করা যায়না রোদশী অরোরা।ভালোবাসা বড্ড বেয়াড়া।তুমি যত ঘৃণা করতে চাইবে সে তোমায় আরও চূড়ান্ত ভালোবাসায় ডুবিয়ে মারবে।
শাহরানের জবাবে রোদের মনে জমে থাকা সমস্ত ভয়,দ্বিধা আর দীর্ঘদিনের জমানো নীল রঙের ব্যাথা মুহূর্তেই কেমন হালকা হলো।শাহরান কে পুনরায় শক্ত আলিঙ্গনে জড়িয়ে বুকে মুখ লুকিয়ে রোদ বললো —
“আমি না বুঝে তখন তোমার সাথে ওতো গুলো অন্যায় করে ছিলাম।বিশ্বাস করো তুমি চলে আসার পর আমি হুট করেই সব হারিয়ে ফেললাম ।এমনকি ওই ছোট ছোট অবলা প্রাণী দুটোকেও।যারা আমার নিঃসঙ্গ দিনের সাথী ছিলো।তুমি আমার সুখ,শান্তি,আনন্দ,বেঁচে থাকার কারণ সব নিয়ে চলে এলে।আর আমি মৃত্যু পথ যাত্রীর ন্যায় প্রাণ ফুরাবার দিন গুনলাম।আমি সত্যিই অনুতপ্ত।কীভাবে ক্ষমা চাইলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো জানিনা।সারাজীবন পাগলের মতো তোমাকে ভালোবেসে এই অপরাধ থেকে আমি নিজেকে মুক্ত করতে চাই।প্লীজ আমাকে সাদরে গ্রহন করো। যতো অন্যায় করেছি তার দ্বিগুণ ভালোবাসা দিয়ে তোমার হৃদয়ের সমস্ত দগদগে ক্ষত আমি সরিয়ে দেবো।আমাকে শেষ বারের মতো সুযোগ দেবে,?
শাহরান মাথা নিচু করে ঠোঁট কামড়ে অমায়িক হাসলো।জীবন হুট করেই তাকে অপার্থিব এক সুখ উপহার দিলো।এই সুখ পায়ে ঠেলে সরানোর সাধ্য তার নেই।কারণ এই সুখের জন্য পাগলের মতো এদিক সেদিক দিকবিদিক ছুটেছে সে।আজ সেই সুখ নিজে থেকে তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।আলবাত তাকে হৃদয় খাঁচায় বন্দি করবে শাহরান।নয়তো দ্বিতীয়বার মৃত্যু এসে কড়া নাড়বে তার দুয়ারে।এবার রুহ না নিয়ে ফিরবে না সে।এই সুখের বৃষ্টিতে অবগাহন না করে কিছুতেই প্রাণ খোয়াতে পারে না শাহরণ।কিছুতেই না।
রোদের জিজ্ঞাসু চোঁখের পানে ঘোর লাগা দৃষ্টি মেলে খানিক তাকালো শাহরান।এরপর বাজ পাখির মতো ছো মেরে রোদের কোমর জড়িয়ে কুলে তুলে বসালো নিজের ডেস্ক এ।
অধিক কান্নায় হিচকি উঠে গেছে রোদের।তাতে পুনঃ পুনঃ কেঁপে উঠছে নরম পাতলা গোলাপি ঠোঁট জোড়া।ওই কম্পিত অধরের দারুণ যাতনায় শাহরানের গলবিল শুকিয়ে কাঠ হলো।ফাঁকা ঢোক গিললো সে। অ্যাডাম অ্যাপল ক্রমাগত উঠানামা করছে ।ঠোঁট কামড়ে নিজের অস্থিরতা কমাতে চাইছে বিধ্বংসী মানব।কিন্তু তনু মনে অস্থিরতা হানা দিল সহস্র গুণ।শার্টের দুটো বোতাম খুলে নিজেকে স্থির করতে চাইলো প্রেমিক পুরুষ।শরীরের রক্ত টগবগ করে ফুটছে।নিজেকে শাশালো কঠিন ধমকে।মন বুড়ো আঙুল উচালো সেই শাসনে।অপারগ শাহ রোদের দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠলো —
“ইউ উইল সাফার আ্য লট লিটল ক্যাট।
রোদ মাদক মিশ্রিত চাহনিতে জবাব দিলো —
“আই ওয়ান্ট।
বাকা হাসলো শাহরান।বড্ড ভয়ানক দেখালো সেই হাসি।অতপরঃ রোদের কপালে কপাল ঠেকিয়ে নাকে নাক ছোঁয়ালো।বললো —
“নিষিদ্ধ বাসনা তাড়া দিচ্ছে।বাড়ি ফিরে যাও।নয়তো সব হারাবে।তখন কেঁদে কুল পাবে না।
রোদ ঘাবড়ালো।শক্ত করে দুই হাতে টেবিলের কোণ চেপে ধরলো।হৃদযন্ত্রের ধুকপুক ধ্বনী বাইরে থেকে স্পস্ট। শাহরান সেই শব্দে তাল হারিয়ে রোদের নরম অধরে নিজের পৌরশালী ঠোঁট ছোঁয়ালো।সেকেন্ডের ব্যবধানে তাৎক্ষনিক ছিটকে সরে দাঁড়িয়ে ধমকে উঠল —
“বাড়ি চলো এক্ষুনি।
রোদ কেঁপে উঠলো সেই ধমকে।টেবিল থেকে ধীরে নেমে ব্যাগ কাঁধে তুলে মাথা নিচু করে ভয়ে ভয়ে দরজার দিকে এগুলো। শাহরান দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বুজে দাঁড়িয়ে। রোদ নিভু গলায় মিনমিন করে বললো —
“একা একা কীভাবে যাবো?
ত্বরিত চোখ খুলল শাহরান।হনহন করে রোদকে ফেলেই বেরিয়ে গেলো সে। রোদ পিছু পিছু যেতে যেতে বলে উঠলো —
“এতো জোরে হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে।
শাহরান পায়ের গতি শ্লথ করলো।এরপর রোদের সাথে পা মিলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল —
“তোমার বাবা জিজ্ঞেস করলে বলবে নানু অসুস্থ।তাকে দেখতে গিয়েছিলে হাসপাতালে।
রোদ ঘাড় কাত করলো।গাড়ির কাছে এসে শাহরান পেছনের দরজা খুলে বলে উঠলো —
“একদম চিপায় গিয়ে চুপ করে বসে থাকবে।রাস্তায় একটা শব্দ পর্যন্ত করলে ঠোঁট ছিঁড়ে নেবো।মনে মনে ভাববে তোমার মুখ গায়েবী স্কচ টেপ দিয়ে সিল করা। গট ইট?
“ঠিক আছে।
শাহরান চোখ গরম করে বলে উঠলো —
“কথা বলতে নিষেধ করেছি।একদম বোবা হয়ে থাকবে।একদম।
বলেই আঙুল উঁচিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসলো। রোদ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে মানুষটাকে পরখ করে গাড়ির এক কোণে সেটে রইলো।শাহরান গাড়ির ইঞ্জিন চালু করতেই রোদ নড়েচড়ে বসলো।দুই মিনিট গাড়ি চলতে না চলতেই রোদের মুখের রঙ পাল্টালো।সে পেট চেপে ধরে হাঁটু গুটিয়ে ফেললো।গাড়িতে বসে থাকা দায় হলো।শরীর ঘেমে গলে উঠলো।গাড়ির জানালা খুলে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলো রোদ ।কিন্তু উদরের স্রোত বেগ তাকে অশান্ত অধীর করে তুললো।মিনিট দশেক নিজের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে গাড়ির সিটে নেতিয়ে পড়লো রোদ।
মেয়েটার অস্থির নড়াচড়া পরখ করে কপালের চামড়া গুটালো গম্ভীর শাহরান।গলা খাকারি দিয়ে খসখসে গলায় জিজ্ঞেস করলো —
“জোকের মতো মুচড়াচ্ছ কেনো?
রোদ ঠোঁট টিপে বহু কষ্টে জবাব দিলো —
“গাড়ি থামাও।
কপালের ভাঁজ আরেকটু ঘন করে শাহরান জবাব দিলো
“এটা হাইওয়ে।এখন গাড়ি থামানো যাবে না ঝামেলা হবে ।
রোদ দাঁত চেপে বলে উঠলো —
“তুমি গাড়ি না থামালে তার চাইতেও বড় ঝামেলা হয়ে যাবে ।প্লীজ গাড়ি থামাও।নয়তো আমি দরজা খুলে মাঝ রাস্তায় ঝাপিয়ে পড়বো।
রোদের আকস্মিক এহেন ধমকিতে ঘাবড়ে গিয়ে গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে শুনশান নীরব এক জায়গায় গিয়ে গাড়ির শক্ত ব্রেক কষলো শাহরান ।এরপর ত্বরিত গাড়ি থেকে নেমে জিজ্ঞেস করলো —
“এখন বলো কি হয়েছে?
কথা বলার পরিস্থিতে রোদ নেই ।গাড়ি থেকে পড়িমড়ি করে বেরিয়ে চারপাশে নিরাপদ জায়গা খুঁজতে লাগলো সে। শাহরান এবার ব্যস্ত হলো ।সে থমথমে গলায় বললো —
“তোমাকে কেমন অসুস্থ দেখাচ্ছে।কি হয়েছে আমাকে বলো?
রোদ কেঁদে দেবার ভঙ্গিতে কনিষ্ঠা আঙুলি উচালো।শাহরানের এক ভ্রু উঁচু হলো তাতে ।এরপর নিজেও উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটতে লাগলো।অবশেষে বৃহত মোটা একটা গাছের সন্ধান পাওয়া গেলো। রোদ সেদিকে দৌড় দিতেই গাড়ি থেকে ঝটপট একটা বোতল নিয়ে রোদের সামনে দাঁড়িয়ে রোদের হাতে গুঁজে বলে উঠলো —
“ইউ নীড দিজ।
রোদ লজ্জায় মিইয়ে ছুটে গেলো ।রোদের যাবার পানে তাকিয়ে শাহরান বলে উঠলো —
“এই মেয়ে বড় হবে কবে?পাগল নাকি?আজীবন আচমকা টেনশন দিয়ে এই মেয়ে আমায় মেরে ফেলবে।উফ কি জ্বালাতন!
মিনিট তিনেক পর স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ফিরে এলো রোদ।কিন্তু শাহরানের সামনে আসতেই লজ্জায় গুটিয়ে গেলো।বিব্রতকর পরিস্থিতি।রোদকে দেখেই শাহরান বলে উঠলো —
“হয়েছে?
রোদ আড়ষ্ট হয়ে শাহরানের গলা টিপে ধরতে চাইলো।কিন্তু পারলো না।চুপচাপ গাড়িতে বসে চোখ বুঝে পরে রইলো।মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলো কয়েকদিন নিজের চেহারা দেখাবে না এই মানবকে।
ঘড়ির কাটা দশের ঘরে অথচ মেয়ে এখনো বাসায় ফিরেনি ভেবেই রুদ্রের পায়ের তলার মাটি সরে গেলো।মাঝে মাঝে রোদ বিভিন্ন ফ্রেন্ডস দের সংগে ঘুরতে যায়।কিন্তু রাত আটটার মধ্যে ফিরে আসে ।তবে আজ কি হলো?পরিচিত সকলের বাসায় ইতোমধ্যে খুঁজ নিয়ে জানা গেছে রোদ যায়নি সেখানে।তবে এত বড় মেয়ে কোথায় গায়েব হলো?
চুপকথা ফ্যাকাশে রক্ত হীন মুখ নিয়ে এদিক সেদিক পায়চারি করছে।রুদ্র তখনই বলে উঠলো —
“একবার পুলিশে কল করা উচিত।নিশ্চিত মেয়েটার কিছু হয়েছে।
এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো।রুদ্র দৌড়ে দরজা খুলতেই শাহরান আর রোদকে দেখে স্থির দাঁড়িয়ে রইলো। রোদ শাহরানকে মাড়িয়ে মাথা নিচু করে ঘরে ঢুকলো ।রুদ্রের জিজ্ঞাসু মুখের পানে তাকিয়ে শাহরান বলে উঠলো —
“নানা ভাই হার্ট অ্যাটাক করে হসপিটালে ভর্তি। রোদ আমার সঙ্গে নানা ভাই কে দেখতে গিয়েছিলো। ফোনে চার্জ ছিল না বলে আপনাদের জানাতে পারে নি।আর বিভিন্ন চাপে আমিও ভুলে গেছিলাম।দেরিতে পৌঁছে দেয়ার জন্য দুঃখিত।আসছি।
শাহরান পা বাড়াতেই রুদ্র ডেকে উঠল —
“সেকি চলে যাচ্ছ কেনো?ভেতরে এসো!
শাহরান শক্ত চোয়ালে বলে উঠলো —
“মা বাড়িতে একা।নানা ভাইয়ের সংগে পাপা হসপিটালে।আমাকে যেতে হবে ।
“কিছু খেয়ে তো যাও।আর তোমার নানুর শরীরের অবস্থা কেমন এখন?
“শঙ্কা কেটে গিয়েছে।সকালেই বাসায় চলে আসতে পারবে ।
বলেই শাহরান হনহন করে হাঁটা ধরলো।রুদ্র বুঝলো ছেলেটা তার উপর এখনো ভীষণ রেগে আছে।কিন্তু এখানে তার দোষ কোথায়?মেয়েকে নিয়ে তো দিব্যি ঘুরে এলো!অথচ বাপের বেলায় রাগ প্রদর্শন।রুদ্র কি তার ভালোবাসা রিজেক্ট করেছে?দোষীকে গলায় পেঁচিয়ে ঘুরছে অথচ নির্দোষ কে পায়ে পিষে কচলে দিচ্ছে।
তাৎক্ষনিক রুদ্রের বিবেক শুধালো—
চেকমেট ২ পর্ব ৩০
“তুমি কি আসলেই নির্দোষ?
রুদ্র থমকালো সেই প্রশ্নে।রুদ্রের অবচেতন মন জবাব দিলো —
“বড় দোষী তো তুমি রুদ্র রাজ চৌধুরী।যা কিছু পূর্বে ঘটেছে তার প্রত্যেক ঘটনার পিছনের মূল আসামী তুমি।তুমি তখন ঠিক থাকলে সব কিছু অন্যরকম হতো আজ।ভুলে যেও না পূর্বে কি কি অন্যায় করেছো তুমি ।
