Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৯

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৯

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৯
নুসাইবা আরা নুরি

ইভানের গাড়ির জানালায় কেও একজন এসে টোকা মারে।ইভান বাইরে তাকায় কাচের ফাক দিয়ে তবে কাওকেই দেখতে পাই না।ইভান চোখ ঘুরিয়ে নিতেই আবারো টোকা পড়ে সাথে সাথে আননোন নাম্বার থেকে কল বেজে উঠে ইভানের নাম্বারে।ইভান অবাক হয় এটা কার নাম্বার।তার নাম্বার তো আজ সন্ধ্যায় কিনেছিলো তাহলে বাইরের কেও নাম্বার পেলো কই।
ইভানের ভাবনার মাঝে কল কেটে গিয়ে আবারো কল বেজে উঠে।ইভান এবার রিসিভ কর‍তেই ওপাশ থেকে গম্ভীর শীতল একটা শান্ত স্বর ভেসে আসে।লোক্টা শান্ত স্বরে বলে,

-সকলের বিপদ।রিভলবার লোড করো আর শুট করো।সবাইকে বাচাতে হবে।তনু আছে ওর ভিতরে।
বলেই কল্টা কেটে যায়।ইভান সাথে সাথে কল ব্যাক করে তবে ফোন বন্ধ।তনু নামটা শুনে বুকের ভিতরে কেমন যেনো করে উঠেছে ইভানের।মেহেরাজের পিঠাপিঠি হওয়াই মেহেরাজের সকল বন্ধুদের সাথেই ইভানের ভালো বন্ধুত্ব ছিলো।তবে মেহেরাজের থেকে দুই ক্লাস জুনিয়র ছিলো ইভান।সেখান থেকে তনু ওরফে তোহার সাথে পরিচয় ইভানের।ক্লাস মেট ছিলো ওরা।
ইভানের চোখ সামনে পড়তেই দেখতে পায় অন্ধকারের মাঝে কেও একজন রাস্তা ধরে হেটে চলে যাচ্ছে সামনে।লম্বা সুপুরুষ। ইভান বুজতে পারে না।এই তনু নামটা লোক্টা জানলো কি করে।কল করা ব্যাক্তি এটা নয়তো।ইভান কিছু না ভেবেই গাড়ি থেকে নেমে পড়ে।গায়ে হুডি চড়ানো মাথায় টুপিটা দিয়ে মাস্ক পরে বেরিয়ে যায়।ওর কাছে রিভল বার নেই।কিন্তু চাকু আছে দুটো।ভিষন ধার।এক বাড়িতে গলা কেটে যাওয়ার মতো ধার।

লোক্টা খুব দ্রুত হাটছে।চোখের পলকে বিশাল দুরত্ব হয়ে যাচ্ছে ওদের মাঝে।ইভানের এক মুহূর্তের জন্য মনে হয় লোক্টা ভুত টুত নয়তো।আবার নিজের ভাবনায় নিজেই হাসে ভুত টুত বলতে আসলে কিছুই নেই।
হটাৎ লোক্টা পিছু ঘুরে দাঁড়িয়ে পড়ে।তা দেখে ইভান দাঁড়িয়ে পড়ে আবারো সামনে যেতে ধরতেই লোক্টা হাতের ইশারায় অন্ধকারের ভেতরেই থামতে বলে।তারপর পাশের নিমগাছের আড়ালে দাড়াতে বলে।ইভান তাই করে।মুহুর্তেই মনে পড়ে লোক্টা তাকে বলল সবার নাকি বিপদ।তাহলে সবাইকি ধরা পড়েছে।তাহলে ইভান কি করবে এখন।
ইভানের ভাবনার মাঝে রাস্তায় একটা গাড়ি আসতে দেখলো।দূর থেকে দেখা যাচ্ছে।লাইটের আলোয় রাস্তা পরিস্কার তবে লোকটা উধাও।ইভান বুঝলো এই গাড়িটাই ওই গাড়ি সে কি বাধা দিবে নাকি পিছু করবে এর মাঝে গাড়ি আর একটু এগিয়ে আসতেই দুটো পরপর গুলির শব্দ শোনা গেলো বাতাসে।নিখুত নিশানা গিয়ে লেগেছে গাড়ির সামনের দুটো চাকায়।
হটাৎ চাকায় গুলি লাগায় আর অনেক গুলো পেরেক যুক্ত কাটা ফোটায় চাকা পাঞ্চার হয়ে গাড়ির টাল সামলাতে না পেরে ড্রাইভার গাড়ি লাগিয়ে দেয় পাশের মোটা শিশু গাছের সাথে।পরপরই ইভান সেদিকে এগুতে যানে তার আগেই তার কলার কেও চেপে ধরে পিছন থেকে।বিদেশে থাকার সময় হ্যাকিং এর ট্রেনিং করার সময় মানুষের থেকে পালানোর অনেক ট্রেনিং নিয়েছিলো ইভান।সেটাই এখন ইউজ করতে যেতেই লোকটা ইভানের এক হাত মুচড়ে পিছন থেকে চেপে ধরে গলায় ধারালো চাকু ধরে নিম গাছের সাথে ঠেশে ধরে।

ইভান দেখতে পায় পুরো পুরি কালো একজোড়া মনি।গায়ে কালো হুডি আর কালো প্যান্ট।মুখে মাস্ক।যা চোখ জোড়া বাদে সব কিছুই ঢেকে রেখেছে ইভান কিছু বলতে যাবে তার আগেই লোকটা আগের মতোই শীতল শান্ত অথচ প্রচন্ড গম্ভীর আওয়াজে বলে,
-“আই হ্যান্ডেল এভরিথিং।ডোন্ট ওরি।ইউ স্টপ দিস পজিশন।
এতক্ষনে গাড়িতে থাকা লোক গুলো বেরিয়ে পড়েছে।সাথে হাত আর মুখ বাধা তুহিন,, তোহা আর মিলি কে বের করেছে।তুহিনের মাথা দিয়ে রক্ত পড়ছে এখোনো।মিলির ঠোঁট কেটে রক্ত পড়ছে আর তোহার মুখে।গাড়ির হেডলাইট এর আলো সব বোজা না গেলেও এটুকু বুজতে পেরেছে যে ওদের কে মারা হয়েছে।
ইভান রেগে যেতে চায় তবে লোক্টা ওকে আটকে দিয়ে বলে,
-স্টপ।

ইভান দাড়ায়েই দেখতে পারে সবাই অস্ত্র বের করেছে ওদের হাতেও রিভলবার আছে।তোহা দের সাথে আরো দুটো মেয়েকে বের করেছে ইভান চিনতে পারেনা।হটাৎ ই ইভানের পাশের লোকটা গায়েব হয়ে যায়।ইভান কিছু বুজতেও পারে না।তার চোখ মাটিতে বসে থাকা তোহার দিকে।একজন লোক কাকে যেনো কল দিচ্ছে।মোট সাত জন তাহলে এখানে।আর তোহারা মোট পাচ জন।ইভান তাকিয়ে থাকে শুধু নড়ে না।যদি তার কাতনে ওদের কোনো বিপদ হয়।ইভান দ্রুত পুলিশে ফোন দিয়ে খবর টা জানিয়ে দেয়। মেইল করে।
গাড়ির পিছনের ডিকি থেকে চাকা বের করার সময় হটাৎ পেছন থেকে কেও একজন এসে লোক্টার মুখ চেপে ধরে কোনে শব্দ ছাড়ায় হাতের কালো কাটা যুক্ত গ্লাভস দারা লোক্টার মুখ হাচড়িয়ে দিয়ে অন্য হাত দিয়ে প্যান্ট এর পিছন পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে গলায় পোঁচ চালিয়ে দেয় সাথে লোক্টা ছটফটিয়ে উঠে।কালো মুখোশ পরা লোক্টা শক্তি প্রয়োগ ছাড়া লোক্টার ঘাড় মটকে ছেড়ে দেয়।

সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।গাড়ির পেছনে শব্দ শুনে একজন পেছনে এসে টর্চ মারতেই দেখে এখানে থাকা লোকটা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে রক্ত।ও চিতকার করে বাকিদের কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই গাড়ির ডিকিতে থাকা স্ক্রু ড্রাইভার লোক্টার চোখে পুরে মুখ চেপে একই ভাবে গলা কেটে মেরে দেয়।
আদ্রিজ যখ বুজতে পারে তাদের দলের দুজন নেই এখানে। তখন আরো দুজনকে খুজতে বলে।মেজাজ গরম।বসের ফোন বন্ধ।একদিন আগে রফিক সাহেবের মৃত্যুতে এম্নিতেই তার বসের মাথা খারাপ।এখন আবার গাড়ি এক্সিডেন্ট তবে কি করে বুজলো না।গাড়ির গ্লাস লাগানো থাকায় গুলির শব্দ বুজতে পারেনি ওরা।সআথে অন্ধকারে কালো চিকন আগে থেকে বিছানো সুচ গুলো চাকায় বিধে যাওয়াও বুজতে পারেনি।তবে এখন চাকা না বদলালে যাওয়া যাবে না।

তখন শামসু আগেই বেইমানি করে পুলিশ দের খবর গুলো আদ্রিজ কে দিয়ে দিয়েছিলো।তবে আদ্রিজ কাওকে বলিনি।এই পুলিশ গুলোকে সারপ্রাইজ হিসেবে আনাম মিয়ার হাতে তুলে দিয়ে বড় কিছু উপহার পেতে চেয়েছিলো।তাই আনাম মিয়াকে শুধু বলেছে আজ একটা সারপ্রাইজ আছে আর কিছুই না।তখন আগেই শামসু সবার লোকেশন আদ্রিজ কে বলেছিলো।ঘরের ভিতর যে নাটক টা হচ্ছিলো সেটা মাত্র তুহিন দের দেখানোর জন্যই।আসল লোক্টাকে তো আগেই উপরে পাঠিয়ে ছিলো আদ্রিজ।
তারপর তুহিন দের আশা দেখে সবাই এলার্ট হয়ে যায়।শামসু ঘরে যেতেই তুহিন দরজা এসে দাঁড়ায় তখন পিছনে লুকিয়ে থাকা একজন রড দিয়ে বাড়ি দেয় তুহিনের মাথায় সজোরে।আর গাড়িতে তিনজন মিলি আর তোহাকে ধরে ফেলে ধীর পায়ে গিয়ে।আদ্রিজ নিজের কাজে নিজেই খুশি হয়।আনাম মিয়া যে কি খুশি হবে এই গুলোকে পেলে।
আদ্রিজ কে অন্য মনষ্ক হয়ে ভাবতে দেখে একজন লোক বলে,

-ভাই ওরা আইতাসে না কেন??
-তুই যাইয়া দেখ।
আদ্রিজের কথায় লোক্টা আরো একটা লোক নিয়ে গাড়ির পিছনের দিকে এগিয়ে যেতেই দেকজে লাশ দুটো বেয়ে রক্ত বের হচ্ছে সাথে সাথে চিল্লিয়ে বলে,
-ভাই ওরা পড়ে আছে আর ওদের গলা বেয়ে রক্ত পড়ছে।
ছেলেটার কন্ঠে আদ্রিজ আর শামসু এদিকে আসে আর একটা ছেলেকে তোহাদের পাহারা দিতে বলে পিছনে আস্তেই সামনে থাকা ছেলেটার চিৎকার শুনতে পায়।আদ্রিজ সেদিকে তাকাতেই দেখতে পায় ছেলেটার গলা চিরে রক্ত বের হচ্ছে আর কাটা মাথাটা রাস্তায় পড়ে আছে।আর রক্ত ছিটকে পাশে বসিয়ে রাখা তোহাদের চোখে মুখে লেগে আছে।

আদ্রিজের এবার ভয় লাগে।নিশ্চয় এখানে কেও আছে।আদ্রিজ সবাইকে গাড়িতে উঠে বসতে বলে নিজেও উঠতে যায় তখনই চোখ পড়ে গাছের আড়ালে দাড়ানো ইভানের দিকে সাথে সাথে আদ্রিজ চিল্লিয়ে বলে,
-গাছের পিছনে কে লুকিয়ে ধর শালাকে।জেন্ত কবর দিবো।
আদ্রিজের কথা ইভানের কানে পৌছাতেই ইভান চমকে গিয়ে তাকায়।তখনই দুটো ছেলে এদিকে দৌড়ে আসতে চাইতেই কালো মুখোশ পরা লোকটা গাছের পিছন থেকে বেরিয়ে আসে তারপর কেও কিছু বুজার আগেই পর পর শুট করে পিঠ বরাবর ছেলে দুটোর।নিখুত নিশানায় লেগে বুক গুলি বেধে রাস্তাতেই থমকে পড়ে দুজন।তারপর ধড়াম করে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
ইভান গাছের আড়ালে লুকিয়ে যায়।আদ্রিজ রিভলবার বের করে হাতে নিয়ে বলতে শুরু করে,

-কে কেরে শালা সাহস থাকলে সামনে আই।পিছন থেকে মারছিস কেন।আই সামনে কইলজাডা ছিড়ে চিবাই খামু।
কথাটা বলা মাত্রই অন্ধকার থেকে বেসে এলো কারোর বুট পায়ে দিয়ে এগিয়ে আসার শব্দ।আদ্রিজ সেদিকে বন্ধুক তাক করল। লোক্টা একটা রক্তমাখা তরোয়াল রাস্তায় ঘেশতে ঘেশতে এগিয়ে আসতে শুরু করলো।অন্ধকার থেকে আলোয় এসে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
-নে খা।দেখি তোর সাহস কত।খা আমার কলিজা।
লোক্টার চেহারা দেখা যাচ্ছেনা।তবে গম্ভীর রাগী কন্ঠস্বর শুনে তোহারাও দেখার চেষ্টা করে তবে দেখতে পায়না।এদিকে ইভান অবাক।এমন ভয়ানম সিরিয়াল কিলার তাদের সাহায্য করছে কেন।খুন করার হাত দেখে বোজা যাচ্ছে সিরিয়াল কিলার।আদ্রিজ পর পর কয়েকটা বুলেট ছুড়লো।তবে কিছু হয়নি বরং বুলেট শেষ তা দেখে লোক্টা হেসে বলল,

-কি খাওয়া শেষ।
আদ্রিজ এবার ভয়ে পিছাতে থাকলো আর লোক্টা আগাতে।শামসু নামের গুপ্তচর টা গাড়ির ভিতরে দোম আটকে বসে আছে প্রানের ভয়ে।আদ্রিজ কাপা কাপা কাপা গলায় বলে,

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৮

-ক কে তুই।
আদ্রিজ এর কাপা কাপা কন্ঠের বিপরীতে একটা গম্ভীর হাসি ভেসে এলো তারপর সেই গম্ভীর রাগমিশ্রিত কন্ঠেই বলল,
-তোর জোম।দ্য শ্যাডো কিং।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪০