লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৪০
নুসাইবা আরা নুরি
কথাটা বলা শেষ হতে না হতেই নাস্ক পরা লোকটা আদ্রিজ এর উপর ঝাপিয়ে পড়ে।আদ্রিজ নিজেকে বাচাতে চেয়েও পারে না।লোক্টার হাতে থাকা গ্লাভস এর কাটা আদ্রিজের মুখের চামড়া ভেদ করে ভিতরে ঢুকে যায়।আদ্রিজ ছটফটিয়ে উঠে লোক্টা আদ্রিজের বুকের উপর এক হাটুর ভর দিয়ে চেপে ধরে দুই মুখে দুটো থাবা কষলো সাথে সাথে মুখ চিরে রক্ত ছিটকে গেলো অন্য পাশে বাধা অবস্থায় পড়ে থাকা তোহাদের উপর আদ্রিজ চিৎকার করে উঠতেই।লোক্টা আদ্রিজের গালের ভিতর আঙুল ঢুকিয়ে জিভ টেনে বের করে চাকু দিয়ে কেটে আলাদা করে রাস্তায় ছুড়ে মারলো।
সাথে সাথে লোকটা কাটা মুরগির মতো ছটফট শুরু করলো।শামসু গাড়ির ভিতর থেকে এসব দেখে গাড়িতেই প্যান্ট ভিজিয়ে দিলো কাপা কাপা হাতে একটা রিভলবার তুলে তাক করে শুট করতেই বুজলো গুলি শেষ। তখনই লোক্টা শামসুর দিকে মাথা ঘুরিয়ে তাকালো।গাড়ির গাছের ভিতর দিয়েও শামসু টের পেল সেই কালো হিংস্র চোখ জোড়া।
লোক্টা এবার গম্ভীর কন্ঠে আদ্রিজের দিকে তাকিয়ে বলল,
-আজ বুজবি একটা মানুষের মৃত্যু কতটা কষ্টে হয়।
বলেই হাত ঢুকিয়ে আদ্রিজের চোখ বের করে আনলো।আদ্রিজ পাগলের মতো করতে শুরু করলো।তোহা চোখ বুজে নিয়েছে আর সহ্য করতে পারছে না এসব।তুহিন লোক্টার মারার ভঙ্গি দেখে বুজলো রফিক সাহেবের খুন টাও এ করেছে তবে এ কে।তখনই দূর থেকে একটা গাড়ি আস্তে দেখা গেলো।তা দেখে লোক্টা উঠে দাঁড়ায়।তারপর আড়ামোড়া ভেঙে পকেট থেকে চিকন শরু একটা ধারালো চাকু বের করে আদ্রিজের বুকে চিরে চিরে লিখলো।❝Shadow King❞।তার পর একের পর এক চাকুর আগাত সব শেষ এ হাত পা মুড়ে ভেঙে দিয়ে গুলি করলো।
যেনো লোক্টা বহু বছরের রাগ ঝাড়ছে আদ্রিজের উপর।গাড়িটা তোহাদের গাড়ির সামনে এসে থামলো।ইভান ভাবলো হয়তো পুলিশ এসেছে তবে ইভানকে অভাক করে দিয়ে লোকয়া গাড়ির ভিতরে থাকা শামসুর গলা চেপে ধরে।কাটা যুক্ত হাত বসে যায় শামসুর গলার মাংসে।লোক্টা কিছুর পরোয়া না করেই টেনে হিচড়ে গাড়িতে তোলে শামসু কে।ইভান তাড়াতাড়ি বুদ্ধি করে গাড়ির নেম প্লেট এর ছবি তুলতে যায়।তবে আশ্চর্যের বিষয় নেম প্লেট এর যায়গায় লেখা “Shadow”।
লোক্টা বসতেই গাড়ি ছেড়ে দিলো। আর ইভান গাছের পিছন থেকে বেরিয়ে আস্লো।গাড়িটা নিমিষেই উধাও।তার কিছুক্ষন বাদেই পুলিশের দুটো গাড়ি এলো।আর একটা এম্বুলেন্স।এখানের এই অবস্থা দেখে সবার চক্ষু চড়কগাছ।মিলি সহ বাকি দুজন আগেই জ্ঞান হারিয়েছে।শুধু তোহা আর তুহিনের জ্ঞান আছে।তুহিনের মাথার অবস্থা বেহাল।
পুলিশ গুলো তোহাদের একটা গাড়িতে তুলে দিয়ে লাশগুলো এ্যম্বুলেন্স এ তুলতে বলল।পুলিশের এস আই তোহা আর তুহিনকে চিনে বলে তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।ইভান ও নিজেদের গাড়ি নিয়ে পুলিশের গাড়ির পিছু পিছু যেতে শুরু করলো।ওর মাথায় কাজ করা অফ করে দিয়েছে।বার বার মাথায় খেলছে লোক্টা কে হতে পারে আর তাদেরই বা সাহায্য করলো কেন।কি রহস্য লুকিয়ে আছে এর ভিতরে।
তোহাদের হসপিটালে এডমিট করা হয়েছে খুব গোপনে।যেহেতু ওরা সিক্রেট মিশনে তাই সবার আড়ালে করেছে।ইভান অনেক ভেবে চিনতে মেহেরাজ কে ফোন করে।কারন তারা যে বাড়িতে যেতে পারবে না আর গেলেও এখন তাদের এই অবস্থা দেখে অনেক প্রশ্ন জাগবে তাই সমস্ত কিছু সামলাতে এক মাত্র মেহেরাজই পারবে।
ইভান প্রথমে বলতে চাইনি কারন তারা চারজন মেহেরাজকে এই প্লানিং না বলেই করেছে এমনকি চার জন ব্যাতীত আর শামসু ব্যাতীত কেও জানেনা।তবে ওই শ্যাডো কিং কিভাবে জানলো আর শামসু কে কেন নিয়ে গেলো।ইভান মেহেরাজ কে কল দিলে পর পর কয়েকবার বেজে কেটে যায়।ইভান যানে তার ভাই ঘুমালে ফোন ভাইব্রেট করে ঘুমাই তাই দেরি হচ্ছে।চার বারের বার কল রিসিভ করে মেহেরাজ ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে,
-এতো রাতে ফোন দিছিস কেন। কি বল।
-ভাইয়া আমরা একটা বিপদে পড়েছি।এখন তুই আমাদের বাচাতে পারবি।প্লিজ না করিস না আমার কথা শোন।
ফোনের ওপাশের মেহেরাজ হয়তো বালিশ থেকে বিছানায় বসে চোখ ডলে বলে,
-কি আবোল তাবোল বকছিস।ঘুমা।
-ভাইয়া শোন।
-আমি তোর ঘরে আসছি তার পরে শুনছি।
পর পর কয়েকটা পায়ের ধাপ আর সুইচ জালানোর শব্দ পেলো ইভান।তখন ইভান জোরে একটা শ্বাস নিয়ে বলল,
-ভাইয়া আমরা একটা মিশনে এসেছিলাম।আমি তুহিন তোহা আর মিলি।কিন্তু আমরা ফেইলড।তুহিনের মাথা ফেটে গেছে দুটো সেলাই পড়ছে আর তোহার হাতে লাগছে মিলির ঠোঁট কাটছে।আমি গাড়িতে ছিলাম তাই ঠিক আছি।তুই এখন আমার কথা শোন।
ইভানের কথায় ভ্রু জোড়া কুচকে যায় মেহেরাজের।গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-সত্যি বলছিস নাকি মজা করছিস এই রাতে।
-সত্তি ভাইয়া!!
-কোথায় আছিস তোরা এখন।আমি আসছি ঠিকানা দে।
-ভাইয়া শান্ত হো।আমরা এখন হসপিটালে।পুলিশ এসেছিলো সময় মতো।তুই ওদিক্টা সামলে নে।সকালে সবাই আমাদের খোজ করবে তখন একটু ম্যানেজ করে নিস।
-আমি সামলে নিবো কিন্তু তুই ঠিকানা দে আমি আসছি।
-এখন আসা লাগবে না ভাইয়া।তুই তো জানিস এটা সিক্রেট মিশন তাই এখন না আসাই বেটার তুই কাল আসিস সব কিছু সামলিয়ে নিয়ে।
-আচ্ছা।
-আচ্ছা ভাইয়া তাহলে রাখছি।
ইভান কল কেটে দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে।তবে মনের কোনে জন্মানো প্রশ্ন গুলো যেনো উত্তর খুজে চলেছে।কে এই শ্যাডো কিং।ইভানের দুজনের উপর সন্দেহ গেছিলো প্রথম তার ভাই দ্বিতীয় তোহার হাজবেন্ড।তবে ইভান দুজনের ফোন নাম্বারের লোকেশন ট্রাক করেছে।দুজনেই আলাডা।একজন ঢাকা আর একজন বাড়িতে।এমন কি লোক্টার সেই অচেনা নাম্বার থেকে কল দিয়ে দেকজে নাম্বার টার সুত্রপাত ঘটনা স্থলে আর সমাপ্তি ও সেখানে।
প্রশ্ন তো থেকেই যায়।লোক্টা জানলো কি করে সে তোহাকে তনু বলে ডাক্তো।তার তনু।তার প্রথম ভালোবাসা।ইভান তো কাউকেই এই নাম বলে নি।লোক্টা কে যে বিনা স্বার্থে তাদের বাচালো।নাকি স্বার্থ আছে।আর স্বার্থ থাকলেও আগে সবাইকে না বাচিয়ে তাকে কেন গাড়ি থেকে বের করলো।কিছু কি দেখাতে চাইছিলো।তবে কি।ইভানের মাথায় প্রশ্নরা দানা বাধতে শুরু করতেই নাইট ডিউটিতে থাকা কয়েকটা নার্স এর আওয়াজ শোনা যায়।সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
ইভান ঘুমন্ত তোহার দিকে একবার দরজার কাচ দিয়ে দেখে রিচিপশনের দিকে চলে যায়।যেতেই তার ও চোখ নিবদ্ধ হয়ে যায় টিভির উজ্জল স্ক্রীনে।
উপস্থিত সবার নজর টিভিতে।টিভির ভিতরে চেয়ারে বাধা অবস্থায় পড়ে আছে একজন লোক।আর তার গায়ের উপর মাস্ক পরা একজন অনেকগুলো লাল পিপড়া ছেড়ে দিলো।পিপড়া কামড়ানোয় লোক্টা চিল্লাতে শুরু করে।তা দেখে মাস্ক পরা লোকটা বাধা অবস্থায় পড়ে থাকা লোক্টার মুখে বারুদ ভরতে শুরু করলো।লোক্টা চিৎকার করল তবে কাজ হলো না।এক সময় ভরা শেষ এ একটা সুতো দিতে পুরো মুখ টা সুই আর সুতা দিয়ে সেলাই করে দিলো।সবাই হা হয়ে স্ক্রীনে তাকিয়ে।তারপর লোক্টা আঠা আর টেপ দিয়ে মুখ একদম বুজিয়ে দিলো।
লোক্টা এখন শুধু কাপছে।ইভানের চিনতে অসুবিধা হয়নি এটাই শামসু আর শ্যাডো কিং।ইভানের ভাবনার মাঝে স্ক্রীনের আলো নিভতে আর জলতে শুরু করলো একজন স্টাফ সাউন্ড বাড়াতেই লোক্টার হাসির শব্দ শোনা গেলো।পুরো ঘরে একটা হলুদ আলো জলছে।শামসুর যে দেয়ালে বাধা সেই দেয়ালে লাইটের আলোয় জ্বলজ্বল করছে কয়েকটা অক্ষর আর একটা নাম।“Tsk Anuvob Chattarge” ইভান বুজতে পারে Tsk মানে দ্যা শ্যাডো কিং।ইভানের ভাবনার মাঝের লোক্টা নিজের ক্যামেরার সামনে কিবোর্ড নিয়ে কিছু একটা টাইপ করতে বসে সাথে সাথে টিভির স্ক্রীনে ভেসে উঠে বাংলা লেখা।সকলে মনযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করে।
-আম দ্য শ্যাডো কিং ওরফে অনুভব চ্যাটার্জী দ্যা সিরিয়াল কিলার।আজ সকল পাপি স্পাই বা গুপ্তচরদের জন্য টাটকা ধুতুরা ফুলের ভালোবাসা আর একটা সারপ্রাইজ। তারা দেখবে আজ একজন গুপ্তচরের তার মালিকের সাথে বিশ্বাস ঘাতকার ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে।।দেখতে সবাই চোখ রাখুন চ্যানেল ওয়ানের স্ক্রীনে
লেখাটা বেশ অনেক্ষন থাকলো।সবাই যেনো দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে লোকটা ধীরে ধীরে শামসুর দিকে এগিয়ে গেলো।নিজের হাতের চাকু দিয়ে মায়া দয়া হীন ভাবে শামসুর কান গুলো শান্ত ভাবে পোচের উপর পোচ দিয়ে কাটতে শুরু করলো।শামসু ছটফটিয়ে উঠলো।তখনি লোক্টা লবন আর গুড়ো ঝাল দুই আধ কাটা কানে আলাদা আলাদা লাগিয়ে দিলো।
শামসুর চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।তখন লোকটা ধীর পায়ে এসে ক্যামেরা টা দূরে সরিয়ে এক এক করে শামসুর নখ গুলো প্লাস দিয়ে তুলতে শুরু করলো।সবাই চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে নিয়েছে।তারপর পা।অবশেষে একটু ব্লার করে শামসুর পুরুষাঙ্গ ও কেটে নেই লাওক্টা।শামসু মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে।তখন লোক্টা গিয়ে লোহার চেয়ারে কারেন্ট এর লাইন লাগিয়ে সুইচ চালু করে দেই।
লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৯
স্ক্রীনে তাকানো লোক গুলোর গায়ের পশম কাটা দিয়ে উঠেছে।লোখটা সুইচ অফ করে এক টানে লোক্টার চোখের কোটর থেকে চোখ দুটো তুলে নিয়ে লোক্টার সামনে রাখলো তারপর একটা লাইটার জ্বালিয়ে লোক্টার মুখ থেকে বেরিয়ে থাকা সুতোটাই আগুন লাগিয়ে দিয়ে দূরে সরে গেলো।কিছুক্ষন পর বিকট শব্দে লোক্টার মুখ ব্লাস্ট করলো। রক্ত মাংস ছড়িয়ে গেলো সাথে সাথে চারিপাশে।সবাই চোখ খিচে বন্ধ করে নিতেই স্ক্রীন অফ হয়ে গেলো।
