Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৬

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৬

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ আরহাম আমার অনেক সাধনার,,,জানিস ওর মতো আমি আমার ছোটো দুই সন্তানে আগলে রাখতে পারিনি,,ওকে আমি যতটুকু ভালোবাসি তা হিসাব দেওয়া যাবে না,,,
নুবা আমিনা বেগমের কান্না দেখে কাতর কন্ঠে বললো
_ উনি এমন কেন চাচি আমাকে কি বলা যাবে please,, সামান্য কথাম এমন কেন করে,,
নুবা মনে মনে ভাবলো চরিত্র দোষ আরাফের মানা হয় হতেই পারে তবে আরামের এই অবস্থা কেন,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ একদিন সময় করে বলবো
নুবা আহত হয়ে বললো
_ না এখনি please,,,বলো না চাচি,,আমি জেনে আমার সুবিধা হবে উনার থেকে বেঁচে থাকার,,না হলে কোন সময় আবার উঠিয়ে নিয়ে মেরে দেয়,,বলো না
আমিনা বেগম মৃদু হেসে বললো

মির্জা বাড়িতে যেনো কারো নজর পড়েছে,,,আমিনা বেগম একদমি হতাশ,,,বিয়ের পরে স্বামীর চাকরির ক্ষাতিরে শহরে এসেছে,,,বাবার কাছ থেকে শশুরের কাজ থেকে টাকে নিয়ে স্বামীকে নিজ ব্যবসায় দাড় করিয়েছে,,তবু উন্নতি দেখা নেয়,,
এদিকে বিয়ের এতো বছর পড়ো কোনো সমস্যা না থাকলেও আমিনা সন্তান সম্ভাবা হতে পারছে না,,এই নিয়ে আর এক টেনশন doctor দেখিয়েছে,,বলেছে আল্লাহ চাইলেই হবে,,
কিন্তু নেক বছর পার হলেও বাচ্চা পেটে আসলেও টিকছে না,,,আমিনা বেগম এমন অবস্থায় ভেঙ্গে পড়লেও হারুন মির্জা কোনো মতে সামলে নিয়েছেন ব্যপারটা,,,
আমিনা বেগম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো,,

_ যখন এতো চেষ্টার পড়েও বাচ্চা হচ্ছিলো না তখন অনেক কষ্টের পর আরহাম আমার পেটে রয়ে যায়,,,ভয়ে ছিলাম এই সন্তানটাও না পৃথিবীতে আসার আগেই ঝড়ে যায়,,সেই ভয়ে শাশুড়িকে ডাকলাম,,, আরহাম পেটে আসার পর থেকে কোনো কাজে হাত দিতাম না,, সবসময় doctor এর কথা মতো চলতাম,,,
তবু বিপদ যেনো আমার পিছাই ছাড়ছিলো না,,তখন আমার দিন মাস ভারি পেট,,, প্রচন্ড খুশি ছিলাম শেষ পর্যন্ত আমিও মা হবো,, কিন্তু সেই সুখ টিকলো কই,,,একদিন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ফ্লোরে পড়ে b**** ding শুধু হয়,, ভেবেছিলাম সব শেষ কিন্তু আমার আরহাম কিভাবে জানি বেচে গেলো,,,২ মাস আগেই বাচ্চা হওয়ার কারনে doctor বললো আরহামের তখন হার্ড ভালো মতো তৈরি হয়নি ,,,ছেলেটাকে তুলোর ভিতরে রেখে আমার থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া হলো,,,

এতটুকু বলে আমিনা বেগম থামলেন অনেক আবেগ মহি হয়ে পড়লেন,,নুবা মনযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনতে লাগলো আমিনা বেগম চোখের পানি মুছে বললেন
_ এভাবে ৩/৪ মাস লাক্ষ লাক্ষ টাকা তোর চাচা ঋন নিলো,, আমাদের অবস্থা ততটা ভালো ছিলো না,,তবে আমাদের আত্মীয়দের ভিতরে কেউ গরিব ছিলো না,,কেউ দু টাকা দিয়ে সাহায্য করলো না,,,
এর পর আরহাম সুস্থ হলো,,, আমার কলিজাটাকে প্রথমবার কোলে নিলাম,,আমি কখনো ওকে হসপিটালে দেখতে যায়নি,,জানিস না তো নুবা আমি ছোট্ট ছেলেটার দুই হাত মাথা পা এমন কোনো জায়গা বাকি রাখেনি ক্যানুলা ডুকাতে,, ঝাঁঝড়া করে ফেলেছিলো‌ আমার মানিকের দেহটা,,,
আরহাম হওয়ার পর থেকেই তোর চাচার উন্নতি শুরু হয়,,,যেই ব্যবসা প্রায় ডুযা যাচ্ছিলো তা চোখের পলকে আকাশ ছুঁয়ে ফেলে,,৪ বছরের মধ্যে তোর চাচার ছোট্ট কম্পানি এক নাম্বার পজিশনে চলে আসে,,এর পর থেকেই উনি নিজের কম্পানিকে বড় করতে লেগে যান,,

হঠাৎ এরকম উন্নতি দেখে আত্মীয় স্বজনদেরি নজর পরে,,তোর চাচা কোনো সময় অন্যায় ভাবে কিছু করেনি তাই তার পথে বাঁধাও আসতে থাকে বেশি,,, কিছু কিছু শকুনের নজর আমার ছেলের উপর পরে যায়,,,রাস্তায় নিয়ে নামা মুশকিল ছিলো,, জানোয়ার গুলো আমার ছেলেকে মারার জন্য উঠে পড়ে লাগতো,,,
এই পর্যন্ত আসতেই নুবা আমিনা বেগমকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ সব ঠিক আছে কিন্তু উনাকে মেরে ওই শয়তানের কি লাভ হতো,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আরহাম তোর চাচার জান ছিলো,, আরহামের শরীরে‌ তোর চাচা একটা আঘাত হানতে দেয়নি এই ভালোবাসা কাল হয়ে দাঁড়ালো,,, জানোয়ার গুলো উনার মনোবল ভাঙ্গার জন্য আমার ছেলের পিছনে উঠে পড়ে লাগলো,,,ভেবেছিলো আরহামকে মেরে ফেললে অন্ততপক্ষে কিছু দিনের জন্য তোর চাচা থেমে যাবে এর ভিতরে ওরা সব হাতিয়ে নিবে,,তার উপর আরহামের নামেই সকল কিছু ছিলো,,, কিন্তু সমস্যা ছিলো আরহামের ২০ বছর হওয়ার আগে এই সব কিছুর কোনো কিছুই কেউ হাত দিতে পারবে না,,তবে আরহামের কিছু হয়ে গেলে এগুলো তার বাবার নামে আসবে,,তাই সবাই চাচ্ছিলো আরহামকে মেরে তার পর তোর চাচার নামে সব হলে হাতিয়ে নিতে,,,

এভাবে আস্তে আস্তে দিন যেতে থাকে তোর চাচা অনেক ভীত হয়ে যায় ছেলেকে নিয়ে,,,এর পর থেকে আরহামের বাইরের দুনিয়া থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়,,,৪ বছর থেকেই ওকে বাড়িতেই পড়ানো হতো,,, স্কুলে পাঠালে সাথে তোর চাচ যেএ বসে থাকতো,,,,বডি গার্ডরা থাকলেও সে বসে থাকতো,এর পর বাড়ির দারোয়ান থেকে শুরু করে বোডি গার্ড সবাইকে ওই অমানুষ গুলা টাকার লোভ দেখিয়ে কিনে নিলো,,,
অতঃপর আরহামের পুরোপুরি বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ হলো,,,আরহাম নিজেও এই সবে ভীত হয়ে পড়েছিলো,,ওর বাইরে ঘুরতে যাওয়া,, বন্ধুদের সাথে চলে ফেলার সখ ছিলো তবে এই সব কিছুই পেতো না সে,,,বাইরে যাওয়ার জন্য অনেক কান্নাকাটি করতো,,,
হারুন মির্জা না পেরে সবসময় ছেলেকে মিথ্যা বলতেন,,এখন নিয়ে যাবে বিকালে নিয়ে যাবে,,তবে সেই পরিস্থিতি ছিলো না,,হারুন মির্জা নিজেও সেভ ছিলো না,,,তবে নুবার বাবা অনেক ঈমানদার ছিলো উনাকেও টাকা দিয়ে কেনার চেষ্টা করা হয়েছিলো তবে উনি নিজেকে বেচেননি,, বরং নিজের মালিকের পাশে থেকেছেন,,

আরহাম ছোটো বেলা থেকে ধোঁকার আর মিথ্যার উপরে বসবাস করতে থাকে,,,তার বাবা তাকে সকালে বলতো বিকালে বাইরে নিয়ে যাবে,,বিকালে বলতো রাতে,,, এমন কি তাকে বাড়ির বাগানে পর্যন্ত আসতে দিতো না,,
হারুন মির্জার ছেলেকে হারানোর ভয় আর ছেলের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা যেনো আরহামের উপরে বোঝা হয়ে উঠতে থাকে,,,চার দেওয়ালের মাঝে থাকতে থাকতে আর বাবার কাছ থেকে মিথ্যা শুনতে শুনতে আরহামের হারুন মির্জার প্রতি রাগ তৈরি হতে থাকে _
কয় এক বছর যখন পরিস্থিতি কিছুটা সমাল দেওয়ার মতো হয় তখন আরহামকে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করানো হয়,,,তবে একাকী থাকতে থাকতে class 4 এ পড়ুয়া বাচ্চা সবার সাথে মানিয়ে নিতে হিমশিম খায়,,, স্কুলে মানিয়ে নিতে পারছিলো না সে,,আর না ছিলো পরিস্থিতি ঠিক,, স্কুলে ভর্তি করানোর কিছু দিন পরেই আরহামকে গুরুত্ব ভাবে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়,,মরতে মরতে বেঁচে যায় আরহাম,,,
হারুন মির্জা ছেলেকে নিয়ে বুঝে উঠতে পারছিলেন না কি করবেন, এদিক দিয়ে আরহামের মানুসিক অবস্থাও ভালো ছিলো না,,,তাই তাকে সে সেভ রাখার জন্য আর সুস্থ করার জন্য নেপালের ছোটো একটা এলায় গোপন ভাবে রেখে আসা হয়,,ওখানে ভালো একটা আশ্রম ছিলো,,, আরহামের সেফটির পুরো দায়িত্ব নিবে
বাবা হয়ে ছেলেকে শত্রুদের হাত থেকে বাঁচাতে না পেরে হারুন মির্জা ভীষণ ভেঙ্গে পড়েন,, ছোট্ট আরহাম আশ্রমে যাবে না দেখে বাবার পায়ে ধরে কান্না করে তবু হারুন মির্জা বাধ্য ছিলো,, সেদিন আরহামকে বুকে জরিয়ে আমিনা বেগম অনেক কেঁদেছিলো,,,

আশ্রমে রেখে আশায় আরহাম মনে মনে বাবাকে ঘৃনা করতে থাকে,, কারণ তার বাবা কি করে পারলো তাকে এখানে কথা ফেলে যেতে,,সে তো আর জানতো না এই গুলো সব তার ভালোর জন্য করা হচ্ছে,,,
তবে আরহাম আশ্রমেও রক্ষা পেলো না,,,দের বছর পর আরহামকে আবার ফিরিয়ে আনতে হলো,,ওখানে থেকে ভালো হওয়ার বদলে আরহাম আরো বেয়াদবে পরিনত হলো,,,
আরহামের বাবা পুলিশের থেকেও কোনো সাহায্য পাচ্ছিলেন না,,, কারণ এই ষড়যন্ত্রে সরকারের লোক মিশে ছিলো,,,হারুন মির্জা যেহেতু অসৎ কাজ ব্যতিত এই পর্যন্ত এসেছিলো তাই এই কম্পানি দাঁড়া সরকারেরো বেশ লস হতে শুরু করে,,সেই জন্য তারাও হাত মিলায় শত্রুদের সাথে,,,
পরিস্থিতি যখন একটু নিয়ন্ত্রণে তখন আরহামকে class ৪ এ ভর্তি করা হয়,,, কারণ হারুন মির্জা বিশ্বাস যোগ্য একজন উকিল আর কিছু মানুষ পেয়েছিলো যারা এই অমানুষদের থেকে বাঁচতে থাকে সাহায্য করেছিলো,,,,

হারুন মির্জার এক্সিডেন্ট এর পরে মানে নুবার বাবা যখন মারা যাওয়ার পরে কোর্টের মাধ্যমে এই সকল অপরাধীকে সকল প্রমান জোগার করে কাউকে হত্যার চেষ্টায় ফাঁসি,, কাউকে জেল,, আবার কাউকে জাবত জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়,,
এর পর থেকে জীবনে শান্তি নেমে আসে হারুন মির্জার,,তবে শান্তি মিলেও মিলে না তার,,, আরহাম খারাপ ভাবে বিগরে যায়,, মিথ্যা,, ধোঁকা,,, অন্যায়,, এমন কি আত্মীয় স্বজন দের সহ্য করতে পারতো না
আরহাম নিজে চোখে দেখেছিলো তার ছোটো চাচু তাকে মারার চেষ্টা করছে,,,তাকে আঘাত করছে,,, অবশ্য বর্তমানে তার ছোটো চাচু বেঁচে নেই,,,
হারুন মির্জার থেকে আরহামের দুরত্ব তৈরি হয়,,,নিজ বাবাকে সহ্যই করতে পরাতো না আরহাম,,,তার মতে তার বাবা তাকে ভালোবাসে না,,ভালোবাসলে তাকে একা ছেড়ে আসতে পারতো না,,,
আরহাম জেদি,,রাগি,,মুখে মুখে তর্ক করা,,,নিজ মতো চলতে থাকে,,বিগড়ে যায় বরাবর,,হুরুন মির্জা বিগড়ে যাওয়া ছেলেকে ঠিক করতে যেএ আরো বিগড়ে দেন
ছেলের রাগ জেদ কমাতে যেএ না পেরে তার সোনা টুকরা ছেলের গায়ে হাত তুলেন,,,প্রথম মারার কারন ছিলো আরহাম তার teacher এর মাথা ফাটিয়ে ফেলেছিলো,,আর মাথা ফাটানোর কারণ ছিলো তার teacher দূর্নীতি করে তাকে ৮ নাম্বার কমিয়ে দিয়ে তাকে প্রথম পজিশনের জায়গায় ৪থ প্রজিশনে দিয়েছে,,,,

এর পর থেকে বাড়িতে গোল্ড গোল শুরু হয়,, প্রতিদিন বাড়িতে একটার পর একটা বিচার আসতে শুরু করে,,,
হারুন মির্জার ছেলে এই করেছে এই করেছে,, মিথ্যা বলায় করো মাথা ফাটিয়েছে,,,মাকে নিয়ে গাল মন্দ করায় কারো গলা টিপে ধরেছে,,আরো কত কি,,
আর আরামের মুখের কাটা দাগ হলো সেই দাগ যখন তার চাচু তাকে আঘাত করেছিলো,,,এটা যেনো আরো শত্রু হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য,,যখনি আয়না দেখতো তখনি রাগে ফেটে উঠতো,,এই কারনে তার রুম থেকে আয়না সরিয়ে দেওয়া হয়,,,
সারাদিন কাজ থেকে এসে ছেলের নামে বাইরের মানুষের মুখে,,ফোনে,,,এতো বিচার শুনে হারুন মির্জা না পেরে ছেলেকে সুধরানোর জন্য মারতো,,না খাওইয়ে রাখতো,,ঘড়ে বন্দি করে রাখতো,,,
সেই সময়টা আমিনা মির্জা কান্না কাটি করে ছেলেকে বাঁচাতেন,, লুকিয়ে লুকিয়ে ছেলেকে খাবার দিতেন,,,আরহামকে আটকে রাখলে বাইরে থেকে দরজা খুলে দিতেন,,

আমিনা বেগমো হারুন মির্জা কে ভয় পেতো,, কারণ তার হাত ভালো ছিলো না,,,সেও কয় একটা মার খেয়েছে,,,,এভাবে দিন যায় তবে আরহাম ভালো হওয়ার বদলে আরো বিগড়ে যায়,,,
Class 10 এ উঠার পর আরহাম একবার একটা মেয়েকে উল্টো ঝুলিয়ে পুকুরে ডুবিয়েছিলো,,, কারণ ছিলো মেয়েটা তাকে প্রপোজ করেছিলো কিন্তু আরহাম উত্তর না দেওয়ায় আবার অন্য ছেলের পিছনে ঘুরছিলো,,, আরহামের রাগে শরীর ফেটে গেছিলো সেদিন,,মেয়েটাকে তার ধোঁকা বাজ মনে হলো,সেই রাগ থেকে এটা করেছিলো,,
তার কথা আমাকে প্রপোজ করেছিস দুই দিন না যেতে অন্য ছেলের পিছনে ঘুরিস তার মানে তুই আমাকে মিথ্যা বলেছিলি,,,

ওই ঘটনার পর হারুন মির্জা ক্ষিপ্ত হয়ে এই সেয়ানা ছেলেকে অনেক মারধর করেন,,টানা তিন দিন কোনো খাবার ব্যতিত আটকে রেখে দেন,,এই সময় টা আমিনা বেগমি ছেলেকে আগলে নিয়েছিলেন,,,
তখন আবার ছিলো আরাফ,,, আরহামের হাতে আরাফ প্রচন্ড মার খেয়েছে,, কারণ টা হলো আরাফ আরহামকে রেখে অন্য কারো সাথে খেললেই আরাহাম আরফকে ধরে কেলানি দিতো,,
আরহামের কথা ছিলো তুই আমার ভাই আমার সাথে খেলবি অন্য কারো সাথে কেন,,,
যখন old 10 এ পড়ে তখন তার খালাতো ভাই রিহানকে চাকু দিয়ে দুই কপ বসিয়েছিলো আরহাম,, কারণ একটাই ছিলো তাকে ধোঁকা দিয়ে তার পিঠ পিছে অন্য কাউকে best friend বানানো,,টানা ২ বছর রিহান তার best friend ছিলো,,,সে কেন তাকে ধোঁকা দিবে,,,
এই কপ খেএ বেচারা রিহান কোনো মতে বেঁচে গেছিলো,,,তার একি বয়সের হওয়া একি স্কুলে পড়তো,,
এর পর এরকম অনেক কাহিনি ঘটার পর হারুন মির্জা শেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ছেলেকে সামাজ থেকে একদম আলাদ করে দেন,,,তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন,,সাথে একজন কর্মচারী,,যে কিনা শুধু খেলায় রাখবে আরহাম যাতে কারো সাথে না মিশে,,

বাকি পড়া লেখা তার ওখানেই শেষ হয়,,, আরহাম যখন বিদেশে গেছে তখন আরশি অনেক ছোট,,ধরতে গেলে আয়রার মতো,,,
এর পর আর কোনো দিনও আরহাম দেশে ফিরেনি,,,ফোনে মায়ের সাথে প্রায় কথা হতো,, কারণ তার মাই একমাত্র মানুষ যে তাকে আশ্রমে যাওয়ার থেকে আটকাতে চেয়েছিলো,,যে তাকে আগলে নিয়েছিলো,,,তার জন্য কেঁদেছিলো,,
আফসোস আরহাম যদি তার বাবার বাধ্যতা বুঝতো,,সে যদি জানতো তার বাবা তাকে মেরে নিজে বাচ্চাদের মতো কেঁদেছে,,যদি সে জানতো তার বাবা তাকে কতটুকু ভালোবাসে,,, শুধু পুরুষ মানুষ দেখে আমিনা বেগমের মতো প্রকাশে কাঁদতে পারেনি হারুন মির্জা,,,
এই সব কারেনেই আরহামের মানুষিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়,,বাবার চিৎকার চেঁচামেচিতে অতিষ্ট হয়ে পড়ে সে,,

বেশি চিল্লাচিল্লি হলে তার মাথা ব্যথা হয়,, চিৎকার চেচামেচি পছন্দ করে না সে,,
সে তিনটা জিনিসকে প্রচন্ড ঘৃনা করে,,
মিথ্যা, ধোঁকা, অন্যায় (আত্মীয় স্বজন,সমাজ,আর চিল্লাচিল্লি),, সামান্য কথা তাকে গভীর ভাবে আঘাত দেয়,,যতক্ষন পর্যন্ত সেই কথা বা কাজের উশুল না তুলে ততখন পর্যন্ত আরহাম রাগ দমন করতে পারে না,,,
নিজের মেয়ের প্রতি সে এই জন্যই এতো সদয়,, কারণ সে যেই সব সহ্য করেছে সে চায় না তার মেয়ে করুক,,,সে চায় না তার মেয়ের দিকে কেউ আঙ্গুল তুলুক,কেউ গড়ম চোখে তাকাক,,ধমক দিক,,সে তার মেয়েকে তার মতো কোনো পরিবেশ দিতে চায় না
সে চায় তার মেয়ে স্বাধীন ভাবে বড় হোক,,,রাগ জেদের ঠেলায় কেউ কিছু বললে খুন করতেও দু বার ভাববে না সে,,,,
স্কুল জীবনে আরহামের হাতে স্কুলের teacher থেকে শুরু করে অনেকেই চাকুর কোপ খেয়েছে,,,তার রাগ তখনি ঠান্ডা হতো যখন সে অন্যায় করা মিথ্যা বলা ধোঁকা দেওয়া সেই মানুষটার গড়ম উত্তপ্ত রক্ত দেখতো,,,
সে জেনো প্রশান্তি পায়,,, কিন্তু এই সবের ভিতরে সে এটায় ভুলে যায় সামান্য কারনে সে নিজেই অন্যায় করছে,,,

নুবা ওষুধ গুলো খেএ নিলো,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ হয়েছে,,এবার শান্তি,,
নুবা পানি গিলে উত্তেজিত কন্ঠে বললো
_ কোপ কি ভাই,,কোপ দেয় মানে,,
আমিনা বেগম প্লেটে হাত ধুয়ে বললেন
_ খুন করার চেষ্টা করে বুঝিস না,, মাংস রত জাগায় যাতে রক্ত বেশি হয়,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,, আমিনা বেগমের দিকে বড় বড় চোখ করে চেয়ে বললো
_ যেমন,,কোথায়,,
আমিনা বেগম নুবাকে ভয় দেখিয়ে বললো

_ বুক,,গলা,,হাতের পেশি,,,পায়ের রান,,,বুঝলি ভীতুর ডিম,,,
নুবার কাশি উঠে গেলো,,,চোখ টিপটিপ করে বললো
_ আশ্চর্য তুমি এই সব এতো গর্ভ করে বলছো কেন,, তোমার ছেলে একটা সাইকো বুঝতে পারছো না,,
_ হ্যাঁ,, জানি তো,,তাই তোকে সাবধান করছি,, কিছু বলার আগে ভেবে চিন্তে বলবি,,,
_ চিকিৎসা করাও না কেন উনার,,যদি খুন টুন করে দেয়,,
আমিনা বেগম নুবার ভীতু মুখ দেখে আরো ভয় দেখিয়ে বললো
_প্রথমত এই চিকিৎসা জন্য ওষুধ নেই,,আর দ্বিতীয় তো একটা গোপন কথা বলি তোকে,,আজ পর্যন্ত আরহাম ১০/১২ টা খুন করেছে,,বুঝলি,,
নুবার চোখ যেনো এবার ভিতর থেকে বের হয়ে আসবে এমন অবস্থা,,নুবা নিজের গলায় হাত চেপে বললো
_ কি,,খু,,খুন,,দ,,,দশ বারোটা,,,,
আমিনা বেগম হেসে ফেললেন,,ভাতের প্লেট হাতে উঠিয়ে বললেন,,

_ এমন কিছুই না,,এটা সত্যি যে অনেক কে মেরে রক্তাক্ত করেছে,,, হসপিটালে পাঠিয়েছে,,, টর্চার করেছে,, কিন্তু আল্লাহ রহমতে ওর হাতে কেউ কখনো মরেনি,,, হয়তোবা আল্লাহ ওর উপর সদয় আছেন,,আমি তো শুধু ভাবি আমার বোনের ছেলেকে দুই কপ দিলো তাও ও আবার ফিরে আসলো,,যা হয় ভালোর জন্যই হয় ওর কিছু হলে আমি কখনোই আরহামকে মাফ করতে পারতাম না,,,
নুবা এক হাত মাথায় দিয়ে বললো
_ তওবা তওবা,,, টর্চার কি,,,, হ্যাঁ,,
_ যেমন কালকে হাত পা বেঁধে তোকে পানিতে চুবিয়েছিলো,, এমন
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো এমন মা সে বাপ কালেও দেখেনি কি সুন্দর আবার বলছে,,,
নুবা আঙ্গুল নাড়িয়ে বললো
_তার মানে তুমিও তোমার ছেলের সাথে যুক্ত সব জেনে শুনে,,আরে আল্লাহ,,কাল যদি আমার গলা কেটে দিতো,, তুমি,, তুমি কি করতে তখন ছেলের সাথে আমার লাশ গুম করতে,,,
আমিনা বেগম যেতে যেতে বললো

_ অবশ্যই,,, আমার ছেলেকে ফাসাবো নাকি,,,ও আমার কলিজা,,,
আমিনা বেগম চলে গেলো,,নুবা দুই হাত নিজের গালয় চেপে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_ এই চাচি আর চাচির ছেলে দুই জন থেকেই দূরে থাকতে হবে কেউ ভালো না,,,
আমিনা বেগম যেতে যেতে আবারো ফিরে আসলো নুবাকে শান্ত কন্ঠে বললো
_ তোকে যা বলেছি তোর পর্যন্তই যাতে থাকে,,আর ভুলেও আরহামের সামনে বলার চেষ্টা করিস না,,,তখন আমিও কিছু করতে পারবো না,,,তখন আমার একটাই কাজ হবে ছেলের সাথে লাশ গুম করা,,
বলেই আমিনা বেগম চলে গেলো,,,নুবার মাথায় হাত,,,তার লাশ,,সে মরে যাবে,,না না সে এতো তাড়াতাড়ি মরতে চায় না,,

তখন দুপুর ঠিক ২ টা,,,আজ কারো খাওয়া দাওয়া ঠিক নেই রাতে গায়ে হলুদ এগুলো নিয়ে ব্যস্ত সবাই,,,
আমিনা বেগম গোসল করতে রুমে প্রবেশ করেই দেখলেন আরহাম তার রুম তন্ন তন্ন করে কিছু খুঁজছে,,
আমিনা বেগম যেএ খপ করে ছেলের হাত ধরলেন মৃদু কন্ঠে বললেন
_ কি খুজা হচ্ছে,,
আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ ওগুলোকে কোথায় রেখেছো,,মাথা যন্ত্রনায় ফেটে যাচ্ছে,,,
আমিনা বেগম ছেলের কথা বুঝে গেলে,,,ছেলে্য দিকে কাতর চোখে তাকিয়ে বললেন
_ তোর সব স্বভাব গ্ৰহন করলেও এটা তো পারছি না বাপ,,এই সব কবে থেকে শুরু হয়েছে,,
_ উফ্ জেনে কি করবে mom,,দেও,,i can’t control myself,,,
আমিনা বেগম ছেলের দুই গালে হাত রেখে বললো
_ আরহাম,,এটা কেমন ব্যবহার,,,এই সব চলবে না,,আয়রার কথা ভাব,,, বাচ্চাটার কি হবে,,,
আরহাম মায়ের দুই হাত ধরে বললো,,,

_ Trust me, I’ve been holding myself back for Ayra for so long, but now I can’t. Please ,, understand mom,,,I promise you this is the last time. আমার এতোটা খারাপ লাগছে,,,
_ মিথ্যা বলছো এটা লাস্ট টাইম না,,তুমি আবারো এই সব করবে
আরহাম মায়ের কথায় একটু হেসে বললো
_ একটু একটু,,, please,,
_ no way,,,মাথা ব্যথা করছে,,রুমে যাও আমি গোসল করে আসছি,,মাথা টিপে দিবো,,আর ব্যথা তো করবেই,,চুলের কি অবস্থা মাথায় তেল দেও,, তুমি যাও আমি আসছি,,
_ no ,, আমার লাগবেই,,,
_ পুড়িয়ে ফেলেছি কিছুই নেই,,, চুপচাপ রুমে যাও,,নিজের মেয়ের কথা ভাবো যাও,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,, অতঃপর ধীরো স্বরে বললো
_তাড়াতাড়ি আসো,,

রিহান কিছু সময়ের জন্য থমকে গেলো,,,তার চোখ দুটো স্থির হয়ে রইলো,,,তবে আরহাম পাত্তা দিলো না করিডোর পার করে চলে যেতে লাগলো,,, অনেক বছর পর আরহামকে দেখে রিহান এগিয়ে গেলো,,,সব ভুলে কৌশল বিনিময় করে বললো
_ কেমন আছিস,,,দুই দিন হলো এসেছি,,কোথায় ছিলি দেখলাম না যে,,
আরহাম এক পলক রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো
_ দুটো কোপ খেয়েছিলি মনে আছে রিহানননন,,
রিহান হেসে ফেললো,, ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_ ভুলে যাওয়ার মতো নাকি,,
_ তৃতীয় বার কোপ খেতে না চাইলে সামনে থেকে সর,,তোকে দেখলে আমার শরীর এখনো জ্বলে উঠে,,,
বলেই আরহাম রিহানকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো,,রিহান ডান হাত বাম বুকে রেখে বিরবির করে বললো
_ তিন নাম্বার কোপ তো খাবোরে ভাই,,সেই দিন খুবি কাছে,,তোর বোনটাও ঠিক তোর মতো পাষান হয়েছে,,,একটিবার দেখা দিলো না,,,

আমিনা বেগম ভেজা চুল খোঁপা পাখির হাত তেল নিয়ে ছুটলেন,, এমন সময় আরফ পিছন থেকে ডেকে বললো
_ মা,,কোথায় যাচ্ছো,, আমার বন্ধুরা এসছে,, ওদের সামনে সামান্য চা কফি দেওয়ার মানুষ পাচ্ছি না,,
_ বাড়িতে এতো মানুষ কাউকে বললেই তো হয়
_ ফুপি,,খালা চাচি,,সবাই কাজ করছে,,আর দাদি এখনো আসেনি,,,
_ না তোর দাদি আসবে,,দেরি হবে,,,বাআ দাদির খোঁজ নিলি নানি যে আসেনি সেই খবর নিলি না,,
আরাফ দাঁত দিয়ে জিভ কেটে বললো
_ না মানে,,আমি তো জানি দাদি আর নানি এক সাথেই আসবে,,
_ নিচে যেএ তোর বোনকে না হলে বড় খালাকে বল যাতে তোর বন্ধুদের সামনে একটু নাস্তা পানি রাখে,,
বলেই আমিনা বেগম ব্যাস্ত পায়ে আরহামের রুমের দিকে গেলো,,আরফের রাগ হলো,,আরাহাম আসার পর থেকে তাকে পাত্তাই দিচ্ছে না,,,

আরফ আশে পাশে মানুষ খুঁজে দেখলো মেহেরিমা বসে আছে,,আরাফ মেহেরিমার কাছে যেএ বললো
_ এ মেহু,,, আমার বন্ধুরা এসেছে বুঝলি,,,একটু ফল মূল কেটে দে না,,,
মেহেরিমা উঠে গিয়ে বললো
_ পারবো না,,
_ জানতাম পারবি না অলস কোথাকার,,আরশি কোথায় বলে যা
_জানি না,,,

আরাফ নুবার রুমে ডুকলো,,,যেএ দেখলো আয়ারকে নিয়ে কি সুন্দর শুয়ে আছে বাআ,,আরফ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ শুয়ে না থেকে উঠ,,কাম কাজ করবি তো নাকি,, আমার বিয়ে বলে কথা,,,
নুবা চোখ বন্ধ করেই বললো
_রুম থেকে বেড় হ
_ তোর কথায়,, আসছিলাম তো কিছু একটা করতে তবে ভাইয়ের চামচাটা তোর সাথে কি করছে,,
নুবা বালিশ ছুরে মেরে বললো
_ আপনাকে দেখলেও শরীর জলে উঠে,,এখান থেকে বের হন,,
_ আমার কিছু বন্ধু এসেছে ,ex হিসাবে না হলেও বাসার মেড হিসাবে হলেও একটু নাস্তা পানি দিয়ে আয়,,, আমার বিয়ে বলে কথা
_ তোর বন্ধুদের কি গু পানি খাওয়াবি যেএ খাওয়া আমাকে কেন বলছিস,,আমি পারলে ওর ভিতরে বিষ ডেলে দিবো,,,বুঝলি চরিত্রহীন লম্পট,,,
আরফের দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,,,রাগি কন্ঠে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই হাজেরা বেগম পিছন থেকে বলে উঠলো,,,

_ তুমি এখানে যে বাবা,,
আরাফ নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে বললো
_ আন্টি আমার কিছু বন্ধু এসেছে,, বলছিলাম ওদের একটু নাস্তা পানি দিলে ভালো হয়,,,
_ আচ্ছা যাও আমি আসছি,,
আরাফ রুম থেকে বেড় হয়ে গেলেও রাগে তার শরীর জলতে লাগলো,,,তুতোকারি করলো কত বড় সাহস,,এর হিসাব সুদে আসলে নিবে,,,

আমিনা বেগম ছেলে মাথায় তেল দিয়ে ছুল টেনে দিতে দিতে বললো
_ এই সর আর খাবি না আমি জেনো না দেখি,, নিজের মেয়েকে ভালো রাখতে চাইলে এই সব থেকে দূরে থাকবি,,,
আরহাম চুপ রইলো,,,মায়রের কোলে মাথা দিয়ে বললো
_ এই জাগাটা টেনে দেও অনেক পেইন হচ্ছে,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আয়রার মা কোথায় আরহাম,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ ছেড়ে চলে গেছে বল্লাম তো,,
_ অন্য কারো সাথে সম্পর্ক ছিলো
_ হ্যাঁ,,
_ বেঁচে আছে,,
_ হ্যাঁ,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো

_ মিথ্যা বলছিস
_ তুমি জানো তো মিথ্যা আমার কাছে কতটা জঘন্য লাগে,,
_ তোর হাত থেকে চিট করে কি করে বেঁচে গেলো,,
আরহাম আলসামি ভঙ্গিতে বললো
_ হাতের কাছে পায়নি,,আর মেয়েকে নিয়ে খোঁজার সময় ছিলো না,,না হলে ওর ঠিক কলিজা বড়াবড় ছুরি ঠুকতাম,,,
_ গ্যান (বন্ধুক)ব্যবহার করেছি
_ হ্যাঁ,,, কিন্তু তুমি এই সব জিগ্গেস করছো কেন,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আর কখনো নুবার কোনো ক্ষতি করিস না,,মেয়েটা অনেক ভালো,,
_ আমার চোখে পড়লে ছাড় পাবে না,,
আমিনা বেগম বিরক্তি নিয়ে বললেন
_ আরহাম,,কবে ভালো হবি,,, তুই চাইলেই সব ঠিক হয়ে যাবে,, চেষ্টা তো কর,,,
আরহাম মায়ের এক হাত শক্ত করে চেপে ধরে বললো

_ আমি অনেক বার চেষ্টা করেছি মা,,হয় না,,মনে হয় আমার মস্তিষ্ক ফেটে যায়,, শরীরের রগ গুলো কেউ টেনে টেনে ছিরছে,, trust me mom,, প্রচন্ড খারাপ লাগে,,আমি এগুলো ভিতরে বেঁধে রাখতে চাইলে আমি নিজেই মরে যাবো,,
_ তাই বলে তুই অন্যদের মারবি,, টর্চার করবি হ্যাঁ,,
_ হ্যাঁ,,, অন্যায় করলে শাস্তি তো পাবেই,,,
_ আরহাম,, সামান্য কথায় কেউ এভাবে আচরন করে না ,,, এমন করিস না বাবা,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৫

_ আমি পারবো না মা বলেও লাভ নেই,,নিয়েকে শান্ত করতে চাইলে বোডি এমনি এমনি এগিয়ে যায় নিজের মতো চলতে থাকে আমি চাইলেও control করতে পারি না,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ সবার থেকে দূরে থাকবি,,কারো সাথে মেশার দরকার নেই কারো কোনো ক্ষতি করারো দরকার নেই,,,বুঝলি,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৭