Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৭

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৭

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন

সকালে কারেন্ট ছিলো না তাই দিতে দেরি হয়ে গেলো,,
নুবার হাত পা রিতি মতো কাঁপছে,,,নুবা শুকনো ঢোক গিললো,, পরপরই পিছনে যাওয়ার জন আস্তে করে পা বাড়িয়ে দিলো,,,আরহাম হাঁপিয়ে যাওয়া কন্ঠে বললো
_ ভিতরে আসো,,ওকে রেখে যাও,,
এদিকে আয়ারকে যেই দুই হাত দিয়ে ধরে আছে সেই দুই হাতো কাঁপছে,, কেমন করে কাঁপছে,,তবে নুবা আরহামের অবাধ্য হওয়ার চেষ্টা করলো না,,, কাঁপা কাঁপা পায়ে রুমে ডুকে আয়ারকে শুইয়ে দিলো,,,
আরহাম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললো

_ এদিকে আসো,,
নুবা লাফ দিয়ে দুই কদম পিছিয়ে যেএ বললো
_কে,,কেন,,
_ আসতে বলছি তোকে,,,
নুবা দুই লাফে সামনে এগিয়ে গেলো,,, আরহাম ক্ষত বিক্ষত লোকটাকে দেখিয়ে বললো
_ হাত দুটো ধর,,,
নুবার হাত কেঁপে উঠলো,,বিরবির করে বললো
_ আ,,আমি,,
_ ধরবি নাকি,,,
নুবা খপ করে লোকটা দুই হাত ধরলো,,, আরহাম দুই পা ধরে উঁচু করে বললো
_ উঁচা কর,,খাস না নাকি শরীরে শক্তি নেই,,,
নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,সে কেন এসেছিলো এখানে,,আয়রাকে দিতে এসেছিলো,,রুমে ডুকার কোনো নিয়ত ছিলো না,,,সকাল থেকে আয়রা নুবার কাছেই ছিলো তাই আমিনা বেগম বলছিলো আয়ারকে রেখে একটু আকটু কাজ করতে,,তবে নুবা তো এই রুমে আসবেই না আমিনা বেগম সাহস দিয়ে বললো
_ আরহাম ঘুমাচ্ছে,,পাশে রেখে আয়,,টেরো পাবে না,,
এই সাহসেই নুবা এসেছিলো তবে এসে শুনলো রুমের ভিতর থেকে কারো গুঙ্গানির শব্দ আসছে তাই নুবা শুধু একটু উঁকি দেখতে গেছিলো,, পরপরই তার হাত পা কেঁপে উঠলো,,, আরহাম একটা লোকের উপর বসে তার মুখে আর বুকে ইচ্ছে মতো আঘাত করছে,,লোকটা রক্তাক্ত হয়ে গেছে,,,সে দৌড় দিতেই যাবে তখনি আরহাম ডেকে উঠলো

নুবা আর আরহাম ওই লোকটাকে টেনে ওয়াশরুমে নিয়ে আসলো,, ওয়াশ রুম দেখে নুবার গলা শুকিয়ে গেলো কালকে তাকে এখানেই এই আরহামের বাচ্চা বেঁধে ফেলে রেখেছিলো,,রাতের কথা ভাবতেই নুবার শরীর ঝাড়া দিয়ে উঠলো,,,
আরহাম লোকটা শার্ট খুলতে খুলে লোকটার মুখের ঘুষি মেরে বললো
_ কে পাঠিয়েছে,,,
নুবা কেঁপে উঠলো,,ঘুষিতে লোকটার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে,,নুবা এক হাত মুখে চেপে ধরে বললো
_ কি,,কি করছেন,,মেরে ফেলবেন নাকি,,,
নুবার নিজের কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে করলো,,,তার সামনেই কেন এই সব হয়,,,
আরহাম উত্তর দিলো না,,নুবা কেটে পড়ার জন্য আস্তে আস্তে ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়ে আসতে চাইলো তখনি আরহাম বলে উঠলো,,
_ এটাকে মারলে সাথে তোকেও ফাসাবো নুবা,, আমার সাথে লাশ টেনে আনার কাজ করেছিস,,তোর ফিঙ্গারপ্রিন্ট কিন্তু আছে,,,
নুবা ফাল দিয়ে উঠে বললো

_ তওবা তওবা,,আমি কি করছি,, আপনি কালকে আমাকে মারার চেষ্টা করছেন,,এখন আবার উল্টে আমাকেই খুনের ভাগিদার বানাতে চাইছেন,,,
আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে লোকটার গলায় পাড়া দিয়ে হাতে একখানা ছুরি নিয়ে বললো
_ বলবি না, কে পাঠিয়েছে,,,
লোকটা কম্পিত কন্ঠে কেশে উঠে বললো
_ ফি,,,ফিরোজ,,,ফিরোজ,,,
আরহাম লোকটার মুখ বরাবর লাত্থি মেরে বললো
_ ওই খা***কির পোলা এখনো মরে নাই,,, wait,,দেখছি ব্যপারটা,,
লোকটা হাত জোর করে বললো
_ ভাই আমাকে ছেড়ে দেন,,বউ বাচ্চা আছে টাকার জন্য কাজ করি,,,
_ ফিরোজের জন্য কি করোস,,
_ লোগে লোগে থাকি,,যাতে মারতে বলে তারে মারি,,
_ তোর মন মতো টাকা দিবো আমার জন্য কাজ কর,,,আর উত্তর টা না হলে এখানেই তুই শেষ,,
লোকটা কাঁশতে কাঁশতে বললো
_ টাকার লাইগা সব করতে পারমু,,

একটু আগে যাকে কুত্তার মতো মারলো এখন তাকেই পানি খাওয়াচ্ছে,,ahh দুনিয়া,,,,
আরহাম লোকটার শর্টের কলার ঠিক করে বললো
_ কত দিবো,,,
লোকটা কাঁপতে কাঁপতে বললো
_বেতন ,,মাসে মাসে নাকি কাজ করলে টাকা
_ যখন চাইবি,,
_আপাতত দুই লাক্ষ,,
_ বেইমানি করবি না তো,,
_,,না না ভাই,,,
_ করলে সোজা উপড়ে পাঠিয়ে দিবো,,মনে রাখিস ওই ফিরোজ তোকে যা দিবে তার দুই গুন আমি দিবো,,,
আরহাম আলমারি থেকে কেস টাকা বেড় করতে লাগলো,, পরপর পিছনে তাকিয়ে দেখলো এতো সময় ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দাঁড়িয়ে থাকা নুবা পালিয়েছে,, আরহাম মনে মনে নিজ অজান্তেই হাসলো,,,
আরহাম ৫ লাক্ষ খানিক বিছানায় রেখে বললো

_ ৫ লাক্ষ আছে,,
লোকটা টাকা উঠিয়ে নিলো,, পরপরই আর চোখে ঘুমন্ত আয়রার দিকে তাকালো,, আরহাম গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ চোখ উপড়ে ফেলবো এদিকে চাইলে,,যা,,,
আরহাম মনে মনে ভাবলো,,, আমার পরিবারের উপর নজর দেওয়া,,এই সাহস এবার ঘুচিয়ে দিবো,,
আরহাম আগে থেকেই ঘাটি মেরে ছিলো এই অনুষ্ঠানে কোনো না কোনো ঝামেলা হবেই আর তা হলেও ,,তবে তার শকুনের মতো নজর ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব,,

নুবা দুটো উষ্টা খেতে খেতে নিচে আসলো,,,আশে পাশে তাকিয়ে চাচিকে খুঁজতে লাগলো,,
_ হ্যাঁ হ্যাঁ,,বড় ছেলেটা বিয়ে করে ফেলেছে,বিদেশি মেয়েকে করেছে কি আর বলবো ভাবি,,,
_ আজকালের বাচ্চা গুলো মা বাবার অনুমতি ব্যতিতই এই সব করে ফেলে
_ ছেলে বড় হয়েছে,,,আর কি বলার,,,সাথে নাতনি নিয়ে আসছে কিছু কি বলা যায়
_ তা বউ কোথায় আনে নাই,,
আমিনা বেগম খুঁজে পেলো না কি উত্তর দিবে,,তখনি কোথা থেকে ভীতু নুবা এসে আমিনা বেগমের হাত টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো,,,সামনে থাকা মহিলার দিকে তাকিয়ে বললো
_ ২ মিনিট দাঁড়ান,,আমি আসছি ভাবি,,

_ আরে আরে কি হয়েছে ছাড় টানছিস কেন,,
নুবা এক হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছলো,,,তবে তার গলার শব্দ যেনো আটকে গেছে,,নুবা দুই হাত মুঠো বদ্ধ করে দেখাতে লাগলো তার ছেলেকে ওই লোকটাকে কি করে মেরেছে,,
_ ডিসুম ডিসুম উইইই,,,
আমিনা বেগম নুবার দুইটা চলতে থাকা হাত থামিয়ে বললো
_ বাচ্চাদের মতো কি করছিস তুই,,কথা তো বল
নুবা কাঁদো কাঁদো মুখে গলায় হাত দিয়ে বুঝাতে চাইলো,,গলা শুকিয়ে গেছে পানি দেও,,,
তবে আমিনা বেগম বুঝলো না,,তখনি নুবা খেলায় করলো মেহমানদের জন্য ঠান্ডা ঠান্ডা শরবত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে,,নুবা ওখান থেকে এক গ্লাস তুলে নিলো,,ডগডগ করে শরবত টুকু খেএ হাঁপাতে লাগলো
আমিনা বেগম বিচলিত কন্ঠে বললো

_ কি হয়েছে বলবি তো
নুবা দুই হাঁটুতে হাত রেখে,, ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_ ওই যে,,ওই যে আছে না তোমার পাগল ছেলে,,,কি করছে জানো ,,আমি নুবাকে থুরি আয়রাকে রাখতে গেছিলাম,,উনি,,,কি করছে
_ কি করছে,,,
নুবা আবারো হাত দিয়ে দেখাতে লাগলো,,, মারামারি করে,,আমিনা বেগম ঠাস করে নুবার মাথায় একটা থাপ্পর মেরে বললো
_ মুখ দিয়ে বল
নুবা মাথায় হাত দিয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_ আরে বাল,,একটা লোককে কেলিয়েছে ,,, আমাকে দিয়ে অর্ধ মরা লাশ টানিয়েছে বলছে আমাকে ফাঁসিয়ে দিবে,,,
_ এ্যাঁ,,

_ এ্যাঁ না হ্যাঁ,, সত্যি বলছি তোমায় কসম,, তাড়াতাড়ি চলো,,
নুবা আমিনা বেগমের কে টেনে টেনে নিয়ে গেলো,,, পরপরই আমিনা বেগম ছেলের রুমে প্রবেশ করে দেখলো এক পাশে আরহাম অন্য পাশে আয়রা শুয়ে আছে,,, আরহামকে যেভাডে ঘুম পাড়িয়ে গেছিলো সেভাবেই শুয়ে আছে,,,
নুবা রুমের পরিস্থিতি দেখে হতভম্ব হলো,,ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এখানেই মারছিলো চাচি,,এই মাত্র এখানে রক্ত লেগে ছিলো,,,
_ আমি তো এমন কিছু দেখছি না,,
নুবা আমিনা বেগমের কে টেনে ওয়াশরুমে নিয়ে যেএ বললো
_ এই দেখো,,আমি নিজে উনার সাথে ওই লোকটাকে উঠিয়ে এখানে এনেছি দেখো রক্ত,,,
আমিনা বেগম ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখলো কিছুই নেই,,,
_ কই রক্ত,,,

নুবা নিজেও ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে অবাক হলো,, বিচলিত হয়ে বললো
_ আরে এখানেই তো ছিলো,,লোকটাকে পানিও খাওইয়েছিলো,,কি যেনো,, কে পাঠিয়েছে টাঠিয়েছে বলছিলো,, বিশ্বাস করো,,, তুমি তো জানো তোমার ছেলে কেমন,,
_ হ্যাঁ হইছে,,তোকে ওই সব বলেই ভুল করছি আমি,,,
নুবা নিজের মাথা চেপে ধরে চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ আরে বিশ্বাস করো না,,
_হ্যা বিশ্বাস করছি এবার যা,,,
নুবা বিরবির করতে করতে চলে গেলো,,,
আমিনা বেগম যেএ ছেলের কান ধরে টেনে উঠালেন,,
_ উঠ,,আমি জানি তুই যে জেগে আছিস,,
আরহাম উঠে বসলো,, পরপরই আমিনা বেগম বিছানায় বসতেই আরহাম মায়ের কোলে মাথা দিলো ,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ নুবা যা বলছি তাই সত্যি,,
_ হুম,,
_ কাকে মেরেছিস,,
_ আছে,,,বাদ দেও,,,
_ মেয়েটাকে ভয় দেখিয়ে ফেলেছিস,,কথা বলতে ভুলে গেছিলো,,আর কি বলেছিস লাশ টেনে ওকে ফাসাবি,,,
_ হুম,,,
_ কবে সুধরাবি,,,
_ উফ্,,,মাথাটা টেনে আবারো ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে যাও,,,

সন্ধা প্রায় হয়ে এসেছে,,নুবা এখনো রুমে বসে চিন্তা করছে ওটা কি তার মনের ভুল ছিলো,,না না নিজের হাতে ওই লোকটাকে ধরলো,,, মিথ্যা হতেই পারে না,,
এমন সময় আরশি রুমে প্রবেশ করলো,,নুবা আরশিকে দেখে গাল ফুলিয়ে বললো
_ কাজিনরা আসাতে আমার কোনো খবরি রাখো না,,
আরশি এসে নুবার পাশে বসে বললো
_ আরে না আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম,
বলেই বড় বড় দুটো পেকেট সামনে রেখে বললো
_ আচ্ছা দেখ,,দুটো গায়ে হলুদের লেহেঙ্গা এনেছি,,একটা গর্জিয়াস একটা হালকা,,এখানে তোর যেটা পছন্দ হয় সেটা নিতে পারিস
নুবা নিরাশ হয়ে বললো

_ আমি কিছুই পরবো না,, আমার এই অনুষ্ঠান টনুষ্টার ভালো লাগে না,,
_ চুপ,,যা বলছি তাই কর
_ সত্যি আমার ভালো লাগে না
_ নাটক কম কর,,, তুই না সাজলে আমিও সাজবো না বলে দিলাম,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি লেহেঙ্গা পড়বো না আপু,,শাড়ি পড়বো,,
_ শাড়ি,,ছি,,,ভালো লাগবে না,,,আরে ভাই দেখতো কোনটা সুন্দর লাগে
_ আমি শাড়ি লেহেঙ্গা মতো করে পড়বো,,ওই যে নতুন তামিল লুক না কি বেড় হয়েছে ওভাবে,, লেহেঙ্গা পড়লে আয়রাকে সামলাতে কষ্ট হবে,,ওভাবে শাড়ি পড়লে একটু সুবিধা হবে
_ তাহলে এই দুটো ড্রেস দিয়ে আমি কি করবো
_ রেখে দেও তোমার বিয়েতে পড়বোনে,,
বলেই নুবা মুখ টিপে হাসলো,,
আরশি কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললো
_ আচ্ছা,,,একটু পর পার্লার থেকে লোক আসবে,,তোর রুমে উনাদের পাঠিয়ে দিবো
_ না না আমি হালকা সাজবো,,, দরকার নেই,,
_ আচ্ছা,,,সেজে গুজে ডাক দিস,,কয় একটা ছবি তুলবোনে,,

তখন প্রায় রাত ৮ টা,,তখনো নুবা শুয়ে আছে,,অন্য দিক দিয়ে বাড়ির বেশির ভাগ মানুষ রেডি হয়ে গেছে এমন কি আরশিও,,
আমিনা বেগম নিজেও রেডি হয়েছে,,না সাজলেও সুন্দর একটা শাড়ি পড়েছে,,, যেমন সুন্দর তেমন দামটাও বেশি,,
আমিনা বেগম নুবাকে খুঁজতে এসে দেখলো নুবা শুয়ে আছে,,আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ কিরে এখনো রেডি হসনি,,নুবা
নুবা টিপটিপ করে তাকালো,,,
_ আরে উঠ,,শুয়ে আছিস কেন
_ ভালো লাগছে না চাচি,,
_ ভালো লাগছে না মানে,,আর তোর মাকে না বল্লাম রেডি হতে কই গেছে,,,
_ বাইরে মনে হয়,,,
_ উঠ,,আরশি লেহেঙ্গা দিয়ে গেছে,,??
_ হ্যাঁ আসছিলো,,, কিন্তু আমি শাড়ি পড়বো তাই রাখিনি,,
_ তাহলে উঠ,,শুয়ে আছিস কেন,,মেহমান আসতে শুরু করেছে,,এখন কি তোর পিছনে বসে থাকবো,,
_ আম্মুকে আসতে বলো দেখি,,
_ আমি নতুন একটা শাড়ি কিনেছি পড়বি
_ না আম্মুর একটা কাচা হলদে শাড়ি আছে,,

_ মা এদিক দিয়ে ধরো,,,
নুবা YouTube দেখে দেখে শাড়ি পড়ছে,,, হাজেরা বেগম কপালের ঘাম মুছে বললো
_ আল্লাহ,, বল্লাম কুচি দিয়ে পড়িয়ে দি,,তা না সে এই কোন ধরনের শাড়ি পড়ছে আল্লাহই জানে,,
_ আরে হয়ে গেছে,,,
নুবা শাড়ির আঁচল ঠিক করতে করতে বললো
_তুমি রেডি হয়ে নেও,,
_ সারাদিন কাজ করার পর আর ভালো লাগছে নারে মা
_ একটু হলুদ দিয়ে চলে এসো না হলে চাচির খারাপ লাগবে,,,

নুবা চুল গুলো খোঁপা পাকিয়ে নিলো,,হালকা করে সেজেছে সে,,, যেহেতু নুবা একটু স্বাস্থ্যবান তাই হালকা মেকআপ করার বেশ লাগছে,,
নুবার অবশ্য কোনো ইচ্ছাই ছিলো না এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরপরই ভাবলো যেই মানুষটা তার কথা ভাবে না,,তার বিড়হে পুড়ে নিজের ইচ্ছাকে কেন মাটি করবে,,
নুবা এক পলক আয়নার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো
_ সবকিছু ভুলে যাওয়াই উত্তম,, চরিত্রহীনদের বুকের বা পাশে জায়গা দিতে নেই নুবা,,
এর ভিতরে হাজেরা বেগম থ্রিপিস পড়ে রেডি হলো,,গড়মের ভিতরে শাড়ি পড়বে না,, অবশ্য আমিনা হাজেরাকে একটা নতুন শাড়ি দিয়েছে,,
হাজেরা মাথার ওরান ঠিক করে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ বড্ড সুন্দর লাগছে
নুবা মুচকি হাসলো,, হাজেরা বেগম নিজের চোখের কাজল নিয়ে মেয়ের বা কানের নিচে লাগিয়ে বললো
_ কারো নজর না লাগুক আমার গলুমলু মেয়েটার উপর,,বাড়িতে অনেক মানুষ সবার থেকে দূরে থাকবি,
_ হুম,,
_ কাঁচা হলুদতো দেখি তোকে বেশা মানিয়েছে,,,এর পর আর তোকে কাঁচা হলুদ পড়াবো না,, একদম বিয়ের দিন পড়াবো,,,

_ হ্যাঁ হঠাৎ করে পড়লে চকচক করবো তাই না,,
(বলেই নুবা হাসলো)
এর ভিতরেই আরশি এসে হাজির হলো,,,আরশিকে বেশ সুন্দর লাগছে লেহেঙ্গাটা তার উপর বেশ মানিয়েছে,,,
আরশি এসেই নুবাকে জরিয়ে ধরে বললো
_ কিরে তোকে দেখি আমার থেকেও বেশি সুন্দর লাগছে,,,চকচক করছিস কেন হুম ব্যপার কি
নুবা লজ্জা পেয়ে বললো
_ চাপা মারছো,,
আরশি হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো
_ তা আন্টি তুমি যদি বলো আমার কোনো খালাতো মামাতো ভাইকে তোমার মেয়ের গলায় ঝুলিয়ে দিবো নাকি,,,
হাজেরা বেগম আরশির মাথায় মেরে বললো

_ বড্ড ইতর হয়েছিস,,বেয়াই লাগি তোর,, হুঁ,,যে ফাজলামি করছিস,,
_ আরে বলো না,,,
_ ওর খেলায় রাখিস,,আমি গেলাম,,
বলেই হাজেরা চলে গেলো,,,আরশি নুবার সামনে একটা নিচু comfortable জুতা রেখে বললো
_ তুই তো উঁচু জুতা পড়তে পারিস না তাই এটা আমি পছন্দ করে অনলাইন থেকে এনেছি,,এই মাত্র আসলো,,দেখতো কেমন হয়েছে
নুবার জুতাটা পছন্দ হলো,,এক গাল হেসে বললো
_ সুন্দর হয়েছে,, আমিও ভাবছিলাম নতুন কোনো জুতা নেই,,
_ আচ্ছা তুই বাগানে যা আমি আসছি একটু কাজ আছে

কয় একজন বাদে পুরো বাড়ি ফাঁকা,, হলুদ, বাগানের খোলা জায়গায় হবে,,এতো মানুষের জায়গা ছাদে হবে না,,তাও ছাদ সাজানো হয়েছে,, কারণ এরা ভাই বোন অনেক গুলো অবশ্যই ছাদে যেএ আড্ডা দিবে,, আবার অনেকেই আছে বেশি ভির পছন্দ করে না তাই এই ব্যবস্থা,,
নুবা জুতা পড়ে হাতে মোবাইল নিয়ে বেড় হলো,,, খোঁপায় গাজরা পড়েছে সে,,দুই হাত ভর্তি হলুদ চুরি,,বেশ সুন্দর লাগছে,,,
নুবা বাইরে বেড় হতেই নজরে পড়লো,,সাদা পাঞ্জাবি পড়ে আরাফ নিচে নেমে আসছে,,সাদা পাঞ্জাবির সাথে বুকের কাছে বাম পাশে হালকা হলুদের কাজ করা,,, পাঞ্জাবিটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে কেমন রাজকিও ভাব,,,
নুবা কেটে পড়ার আগে আরাফ এসে নুবা কব্জি টেনে ধরলো,,,নুবা এক রাশ বিরক্ত হলো,,,
আরাফ নুবাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বিরবির করে বললো
_ আমি তো ভেবেছিলাম তুই রুমের এক কোনায় বসে আমার জন্য কান্নাকাটি করছি,, কিন্তু তুই তো দেখি সেজে গুজে অন্য ছেলেকে ঘায়েল করার জন্য বাইরে ছুটে চলছিস ব্যপার কি,,,
_হাত ছাড়ুন,,কেউ দেখে ফেললে আপনারি সমস্যা হবে
_ সমস্যার কথা পাশে রাখ,,আগে বল আমাকে কেমন লাগছে,,,তোর চোখ দুটো প্রেমিকার তো তাই সঠিক ভাবে বলতে পারবি,,
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ ঠিক ঠকবাজ, চরিত্রহীন ,লম্পট এর মতো লাগছে,,

_ oh,, জানতাম তেজ দেখাবি,, কিন্তু তোকে অনেক সুন্দর লাগছে,,,মন চাচ্ছে গিলে খেএ ফেলি,,
নুবা হাত ছাড়তাএ ছাড়াতে বললো
_ চরিত্রহীন যে,,,
_ আরশি না তোর জন্য লেহেঙ্গা কিনলো ওটা পড়িসনি
_ না,,
_ কেন,,,সবার ভিতরে তোকে খেত খেত দেখা যাবে না,,সবাই এতো দামি দামি ড্রেস পড়ে আসবে আর তুই এর দু টাকার শাড়ি,,,
বলেই থামলো আরাফ পরপর,,কাতর কন্ঠে সুধালো,,,
_কিন্তু অবশ্য প্রচন্ড সুন্দর লাগছে,,চেয়ে থাকার মতো,,,চেয়ে থাকলেও যেনো তৃষ্ণা এ জনমে মিঠবে না,,,তোকে যদি না পাই তবে এ জনম আমার বৃথা,,,
নুবার বুকটা কেঁপে উঠলো,,,আরফের কন্ঠ ঠিক আগের মতো শুনাচ্ছে,,,আগে যখন নুবা নতুন ড্রেস পড়ে সেজে গুজে আরফের সমানে যেতো তখন আরফ ঠিক এভাবেই বলবো,,,
আরফ আবার বলে উঠলো,,

_ অনেক সুন্দর লাগছে,,, ইচ্ছে হচ্ছে কলিজার সাথে লাগিয়ে রাখি,,,যাতে কেউ না দেখে,,, অতিরিক্ত সুন্দর,,,তোকে এতো ভালো লাগে কেন,,,খুব ভালোবাসিযে কি করে প্রকাশ করি,,,তোর চাহনি আমাকে ভিতর থেকে উতলা করে তুলে,, ইচ্ছে হয় সারাজীবন চোখের পানে তাকিয়ে পার করে দি,,,কি বলিস তাকিয়ে থাকতে দিবি,,,
নুবার বুক কেঁপে উঠলো,,,চোখ বন্ধ করতেই চোখের পাতা ভিজে উঠলো,,আরাফ কি কোনো ভাবে তাকে গলানোর চেষ্টা করছে,,,আরফ কথায় কথায় নুবার পাতলা কমড় জরিয়ে ধরলো,,,নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো,,,
নুবা তিরতির করে কেঁপে উঠলো,,আরফ নুবার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো
_ বউ হবি আমার,,,আরাফ শাহারিয়ার মির্জার লক্ষী বউ,,,নুবা মির্জা,,, আমার সম্পদ,, আমার স্ত্রী,,,হবি আমার অর্ধাঙ্গিনী,,,দিবি আমাকে স্বামী অধিকার,,,
নুবা অনেক আবেগি হয়ে পড়লো,,যতো যাই হোক এই মানুষ টাকে সে প্রচন্ড ভালোবেসেছিলো ,, নারীর ধর্মই তো একটু দুষ্টু মিষ্টি কথা বললে গলে যাওয়া,,নুবার সাথেও ব্যতিক্রম হলো না,,প্রিয় পুরুষের আগের ন্যায় মিষ্টি কথা শুনে নুবা হু হু করে কেঁদে উঠলো,,,দুই হাত দিয়ে আরাফের পাঞ্জাবি খামচে ধরে তার বুকে মাথা ঠেকিয়ে বললো

_ কেন এতো কষ্ট দিচ্ছেন আমকে,,,
আরফ ঠোঁট কামড়ে হাসলো,,,নুবার কপালে পড়ে থাকা চুল গুলো কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে বললো
_ ভালোবাসিস আমাকে,,বিয়ে করবি,,যা তোকে বউ এর অধিকার দিবো,,আমি তোর হয়ে যাবো,,হবি আমার,,, অনেক দূরে পালিয়ে যাবো দুজন মিলে,, তুই আর আমি,, আমাদের ছোট্ট সংসার,,,
নুবার শরীর শিরশির করে উঠলো উত্তর দিতে পারলো না সে,, শুধু চোখের পাতা ভিজে উঠলো,,
আরাফ নুবার কানের লতিতে ঠোঁট ছুয়ালো,,নুবা বিরবির করে বলে উঠলো
_ সব ভুলে যাবো,,আর কখনো আপনাকে বাজে কথা বলবো না,,আমাকে ছেড়ে যাবেন না,,,,আপনি যা বলবেন তাই করবো আপনি,,,, আমার সব কিছু আপনাকে দিয়ে দিবো তাও আমাকে এভাবে ছাড়বেন না,,,
আরফ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো ফিসফিস করে বলে উঠলো,,
_ সত্যি তো যা বলবো তাই শুনবি,,
নুবা ছোট্ট করে মাথা ঝুকালো,,
_ হুম,,,

আরাফ নুবার ডান হাত বক্ষ স্থলের দিকে অগ্রসর করে বিরবির করে সুধালো,,,
_তোর সুন্দর দেহটা আমাকে এক রাতের জন্য দিয়ে দে নুবা,,,খুব ভালোবাসি,,,তোকে না পেলে মরেই যাবো,,, আমি চাই ইশিতাকে স্পর্শ করার আগে আমি তোকে স্পর্শ করি,,,তোর রঙ্গে রংএ যাই,,,খুব সাধ আমার,,বুঝলি,,,, তুই যদি বলিস আজ রাতে___
নুবা আরাফকে বাকি কথা শেষ করতে দিলো না,,,সে স্তব্ধ হয়ে গেলো,,,এক মূহুর্তের জন্য দুষ্টু পুরুষের মিষ্টি কথায় গলে গেছিলো সে তবে এবার তার হুস ফিরলো কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না,,,
নুবা সজোরে আরাফকে নিজের থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো,,আরফ হু হু করে হেসে উঠলো,,,ত্যাচ্ছিলো করে বললো
_ আমি জানতাম না তোদের মতো মেয়েদের মন গলিয়ে ফেলা দুটো কথার কামাল,,,এতো সহজে গলে গেলি ইস্,,,বোকা নুবাইরা রহমান,,এখনো ভাবছে সে আরফ মির্জার বউ হবে,,,
নুবার নিজের উপর লজ্জা হলো,,ছি ছি কি করে সব ভুলে গেলো সে,,,নুবার চোখের পাতা ভিজে আসলো,,এক পলক আরফের দিকে তাকিয়ে এক প্রকার দৌড়ে রুমে চলে গেলো,,আরাফ ঠাস করে দরজা আটকানোর শব্দে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললো
_ বাআ,,, ভেবেছিলাম গলবে না,, এতোদেখি বোকার উপর আহাম্মক,,,

নুবা রুমের দরজা আটকে নিজের পড়েন সব কিছু ছিরে ফেললো,,,রাগে শরীর ফেটে যাচ্ছে তার,,সে কি করে ভাবতে পারলো আরাফ তাকে ভালোবাসে,,সে সব ঠিক করতে চাইছে,,
নুবা আঁচল পড়ে রইলো ফ্লোরে,, হাঁটুতে মুখ গুঁজে নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,,, দুই হাত দিয়ে শক্ত করে দুই হাঁটু খামচে ধরলো,,তিরতির করে কাঁপছে তার শরীর,,তাও রাগে,,,

_ দাঁড়ান Mr আরাফ শাহারিয়ার মির্জা,,,
আরাফ মাত্র বেড় হবে এমন সময় পিছন থেকে ডাক শুনে থমকে গেলো,,পিছন ঘুরে তাকাতে যেনো আর একটু ঘায়েল হলো,,নুবার বুকেল আচল ফ্লোলে পড়ে আছে,,, দুই হাত মুঠো বন্ধ করে রনোমুর্তি ধারন করে দাঁড়িয়ে আছে,,
নুবা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ সবকিছু নিয়ে নেন আমার,,,তার পর আমার গলা টিপে মেরে ফেলুন,,,নিজের হাতে মারার সাহস আমার নেই,,,এর থেকে ভালো পরামর্শ আর হতেই পারে না,,, আপনারো সখ মিটলো আমিও মরে বেঁচে গেলাম,,
আরফ ফিছন ফিরে দেখলো এক দল লোক এদিকে আসছে আরফ ছুটে নুবা কাছে গেলো,,,পড়ে থাকা আচল বুকে টেনে বললো

_ রুমে চল,,
নুবা আরাফের পাঞ্জাবি চেপে ধরে বললো
_ আপনার চরিত্রে আচল তুলে দেওয়া না,,খুলে ফেলা মানায়,,,
আরফ নুবাকে এক হাত ধরে টেনে তার রুমে নিয়ে যেএ দরজা আটকে দিলো,,,নুবা শাড়ি খুলতে শুরু করলো,,,বিরবির করে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৬

_ সব লুটে নেন,,, শুধু একটা রহম করবেন মেরে ফেলবেন আমাকে,,,
আরফ কি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ কখনোই না,,,আরফ নুবার এক হাত ধরে টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো,,নুবার লালচে গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো_

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here