Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৯

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৯

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন

হলুদের থালা আরাফের মুখে মেরে দিলে কেমন হবে,,কথাটা ভেবেই নুবা মনে মনে হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়লো কারন আরহামকে যেভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মেরে দিলেও দোষ কি,,
নুবার ভাবনার ভিতরে আমিনা বেগম বলে উঠলো
_ নুবা হলুদ ছুইয়েছিস,,
_ না,,
_ আচ্ছা চল,, আরহামের সাথে যেএ দুই গাধা এক সাথে দিয়ে আয়,,,
_ ধূর আমি যাবো না,,থালায় কিছু না দিলে কেমন দেখায়
_ থাপ্পর খাবি একটা,, তুই ছোটো মানুষ কি দিবি তুই,,,আর এই বড় বলদ,,ভাইকে হলুদ ছুইয়ে রিচুলায় অনুযায়ী কিছু হাতে দিস,,, মানুষ কিন্তু দেখবে,,মান সম্মান খাওয়াইস না,,
আরহাম বিরক্তিতে মুখ দিয়ে চ উচ্চারণ করলো,,

আমিনা বেগম দুই জনকে স্টেজে উঠিয়ে দিলো,, আরহাম যেএ আরফের পাশে বসলো,,,নুবা কখনোই আরফের পাশে বসবে না ভেবেছিলো কিন্তু নিচ থেকে আমিনা বেগম চোখ গমড় দিয়ে বসতে বললো
নুবা এক রাশ বিরক্তি নিয়ে আরাফের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বসলো,,,
আরফ এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ সুন্দর লাগছে তো,,প্রথম বার লেহেঙ্গা পড়েছিস,,বেশ মানিয়েছে,,,
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করলো,,, পরপরই আরাফ বলে উঠলো
_ যার মেয়ে তার কোলে দে নাকি মা হওয়ার চেষ্টা করছিস
নুবা আরাফের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
_ জানোয়া***

আরফ মুচকি হাসলো,,,জানতো এমন উত্তর আসবে,,,
আরহাম মায়ের কথা অনুযায়ী ভাই এর গালে হলুদ ছুয়ালো,,সামনে অনেক রকমের খাবার রাখা,,,মনে হচ্ছে এই খাবার দিয়ে ৪ শো মানুষকে মাটি দিবে না হলে খাওয়াবে,,,
আরহাম রিচুয়াল অনুযায়ী সব করলো,,নুবা রাগে জেদে আরফের গালে হলুদ ছুয়ালো,,যা খারাপ লাগা কাজ করছিলো তাও আর ওই ঘটনার পর করছে না,,সব ঘৃনাতে পরিনত হয়েছে,,
নুবা আরাফের গালে হলুদ ছুইয়ে মুখে মিষ্টি পুরে বললো
_ সুখে সুখি হোন,, কারো নজর না লাগুক চরিত্রহীন,,,(লাস্ট শব্দ টুকু আস্তে বললো)
নিচে বসে থাকা মুরব্বিদের মধ্যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে

_ হ্যাঁ হ্যাঁ,, শুনেছিলাম বড় ছেলে এসেছে,,এটাই তো,, দেখেন না আরাফের সাথে চেহারায় কত মিল
_ হুম,, কিন্তু কেমন জানি,,কারো সাথে আলাপ করলো না
_ ভাবির থেকে শুনলাম বিয়ে করে বাচ্চা টাচ্ছা নিয়ে এসছে,,আরাফের পাশেরটা বউ নাকি,,
_ দেখে তো তাই মনে হচ্ছে,,, বাচ্চাটা বেশ সুন্দর তো,, বিদেশিদের মতো,,, পুতুল পুতুল লাগছে না
_ মাশাআল্লাহ,,,বউটা দেখন কম নাকি,, স্বাস্থ্যবান হলেও ভালো লাগছে,,দুই জনকে মানিয়েছে,,
_ বাচ্চাটা মায়ের মতোই গলুমলু হয়েছে
তাদের কথার ভিতর পাশ থেকেই কেউ বলে উঠলো
_ কিন্তু আমি তো শুনালাম বউ আসেনি,,,
_ কে জানে,,, কিছু বলে নাকি পারিবারিক বিষয়,,,এটা বউ না হলে কে
_ জানি না তো,, হয়তোবা হবে কোনো আত্মীয়,,,

আরাফ নুবার মুখে মিষ্টি তুলে দিতে লাগলেই নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আমি মিষ্টি খাই না,,,
_ খেএ নে,, কোনো দিন আমার হাতে আর খেতে পারবি কিনা
_ এতো সখ নেই,,বাটপারদের হাতে খাওয়ার,,,
বলেই নুবা আরাফের হাত সরিয়ে দিলো,,
ক্যামেরা ম্যান ছবি তোলার জন্য পোস দিতে বললো
আরহাম তো সেই গম্ভীর মুখে বসে রইলো,,নুবা ইচ্ছে করে দাঁত কেলালো এই প্রকাশ কররা জন্য যে তার কিছুই যায় আসে না,,তবে আরাফ ফিসফিস করে বললো
_ নিজের কষ্ট লুকিয়ে লাভ আছে,,আমি জানি তোর খুব কষ্ট হচ্ছে,
নুবা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ আমার সা,,,ও,,,য়া হচ্ছে,,,তোর জন্য আর কষ্ট কখনোই না,,,
_ চিন্তা করিস না বিয়ে হলে গেলেও আমি তোরি থাকবো,,বলেছি না একবার আমার তোকে লাগবেই,,,
নুবা বিরবির করে গালি দিলো,,,তারা ফিসফিস করে কথা বলতে থাকলো,,,রিচুয়াল শেষে নুবা আর আরহাম উঠে চলে আসলো,,

আরহাম নিচে নেমেই কাতর কন্ঠে বললো
_ mom ,,,মাথা ব্যথা করছে,,এখন মনে হয় মাথা ফেটে যাবে,,আমি রুমে যাচ্ছি,,,
_ যেএ শুয়ে থাক,,__
_হুম,,
বলেই আরহাম আয়ারকে কোলে নিতে গেলেই আমিনা বেগম বলে উঠলো
_ ও এখানেই থাক,, একবার ক্ষুধা লাগলে নুবা খাওইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে রুমে রেখে আসবে,, তুই যেএ একটু ঘুমা,,
আরহাম মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো,,নুবা আয়ারকে আমিনা বেগমের কাছে দিতে নিলেই বলে উঠলো,,,
_ ওকে তোর কাছেই রাখ কোনো ছেলের নজর তোর উপর পড়বে না,, কিছু হাঁটুর বয়সী জাওরা পোলাপাইন আছে বুঝিল,,ওকে নিয়ে এক জায়গায় বসে থাক,,আমি সামনেই আছি প্রয়জন হলে ডাক দিস,,আর হ্যাঁ আরশিকে পেলে আমাকে খবর দিবি আজ ওর একদিন কি আমার একদিন,,,
নুবা ঠোঁট চেপে মাথা নাড়ালো,,,

আরশি কিছুটা গুঙ্গিয়ে উঠল,,রিহান আরশির ঠোঁট ছুঁয়ে বললো
_ Aren’t you feeling comfortable jan,,,?
আরশি কম্পিত কন্ঠে বললো
_ ভয় হচ্ছে কেউ চলে আসবে
_ আমি আছি তো কিসের ভয়,,,
আরশি রিহানের পিঠ আঁকড়ে ধরলো বিরবির করে বললো
_ অনেক হয়েছে,,,এবার বাইরে যাওয়া যাক
_ আমার তো হয়নি,,
_ আম্মু হয়তোবা খুঁজছে,,, আমাকে ঝাড়ু দিয়ে পিটাবে
_ আমি থাকতে না,,বলে দিবে husband কে সময় দিচ্ছিলে
_ হুম যাতে ঝাড়ুর বারি দুটো বেশি পড়ে,,
রিহান ফিক করে হেসে আরশির বক্ষ স্থলে দখল করে বললো
_ বেশি সময় নিবো না,,i know তোমার পেইন হচ্ছে
_ হুঁ,,একটু একটু,, কিন্তু ভালো লাগছে,,,
রিহান মুচকি হেসে আরশির বক্ষ স্থলে নাক ঘ,ষলো,,,
আরহাম অর্ধ নগ্ন হয়ে শুয়ে আছে,,একটু আগেই দুই গ্লাস মদ গিলে এসেছে,,, অবশ্য এটা তার জন্য খুবি কম,,মজা করার জন্য হলুদের পার্টিতে অনেকেই প্লান করে এগুলো নিয়ে আসছে বিশেষ করে আরাফের বন্ধুগন,,,আসার সময় ওখান থেকেই দুই গ্লাস মেরে এসছে সে,,

নুবা আয়ারকে বুকের সাথে লাগিয়ে আরশিকে খুঁজতে লাগলো,,একা একা যেমন ভয় করছে তেমন খারাপো লাগছে,,,
নুবার ভাবনা চিন্তার ভিতরেই ইয়াশ তার পালে এসে বসলো,,বরাবরের মতো মুচকি হেসে বললো
_ হাই মিস ভূত কেমন আছেন,,
নুবা চমকে পাশে তাকালো,,ইয়াশকে দেখে ভুরু কুঁচকে বললো
_ আপনি এখানে কি করছেন,,
_ আপনাকে দেখে আসলাম,,,তা আয়ারকে কোলে নিয়ে বসে আছেন কেন,,ওর বাপ কোথায়,,
_ জানি না,,যান তো বিরক্ত করবেন না,,
_ আপনি মুখের উপর বলে ফেললেন এটা কি ঠিক,, কষ্ট পেলাম তো
_ ভাইয়া please অন্য মেয়ের পিছনে লাইন মারেন,,
_ বেশ চালাক তো আপনি বুঝে গেলেন লাইন মারছি,,
_ হ্যাঁ তা নয় তো কি,,

আরাফের পাশেই বসা বন্ধু বিরবির করে বলে উঠলো
_ কিরে ভাই,,খাওয়ার জন্য যেই মালটাকে পটিয়েছিলি ওটা কোথায়,,
আরাফ আশে পাশে নুবাকে খুঁজে চোখের ইশায় বললো
_ এই যে ৪ নাম্বার লাইনে পাশে বাচ্চা কোলে বসে আছে যে,,
ছেলেটা সেই দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ সুন্দর তো,,তা খেয়েছিস নাকি এখনো ঝুলিয়ে রেখেছে,,
_ মাদার****। ডিট একটা,,, অনেক চেষ্টা করেছি,,বারবার কোনো না কোনো ভাবে বেঁচে গেছে আর তুই তো ভালো মতোই জানি জোরজবরদস্তি করা আমার নিয়মের ভিতরে পড়ে না,, তবু কয় একবার করেছি বেঁচে গেছে,,,
_ তুই তো পারলি না আমারা চেষ্টা করি,,,
_ জুতা পেটা কারবো,,ওর উপর আগে আমার হোক,,আমি পেলে তার পর তোদেরও দিবো,,,এখন চুপ থাক,,,কেউ জানতে পারলে ভ্রদতার মুখোশ খুলে টুপ করে নিচে পড়ে যাবে,,বুঝলি,,
_ ইস্ বন্ধু বিয়ে করে নিচ্ছে আর আমার এখনো single ছি ছি

আমিনা বেগম মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে বাড়ির ভিতরে এসে দেখলেন আরশির রুম ভিতর থেকে অফ,,আমিনা বেগম দরজা ধাক্কা দিয়ে বললেন
_ আরশি,, তুই কি রুমে,,
আরশি চমকে উঠলো,,,আমিনা বেগম আবরাও ডাকলো
_ আরশি,,,
আরশি রিহানের মুখ চেপে ধরে নিজেকে স্বাভাবিক করে বললো
_ হ্যাঁ মা,,
আমিনা বেগম রেগে বললো
_এই বান্দির বাচ্চা রুমে কি তোর,,দরজা আটকে কি করছিস রুমে,,
আরশি শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আ,,আসলে মা লেহেঙ্গা নষ্ট হয়ে গেছে সেটাই ঠিক করতে আসছি,,,
_ দরজা খুল দেখি কি হয়েছে,,,
আশির শরীর তিরতির করে কেঁপে উঠলো,,কোনো মতে মাকে সামলানোর জন্য বললো
_ তুমি যাও আমি ২ মিনিটের ভিতরে মেকআপ ঠিক করে আসছি,,,
আমিনা বেগম ব্যস্ত কন্ঠে বললেন

_ আচ্ছা আয়,,সবাই তোকে খুঁজছে,,,
বলেই তিনি চলে গেলেন,,আরশি রিহানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বললো
_হুম,,উঠুন,, গোসল করে আসুন,, আমার আবার রেডি হতে হবে,, অনেক হয়েছে,,
রিহান শেষ বারের মতো দুষ্ট হেসে আরশির তল পেটের নারি ভুরি সব ঘেটে নাড়িয়ে তুললো,,
আরশি আর্তনাদ করে বললো
_ কুত্তা,, উঠুন,,,,,
রিহান আরশির ঠোঁট ছুঁয়ে বিরবির করে বললো
_ আভাস্য করে নেও এবার তো চাকরিও ছাড়িয়ে দিলে প্রতিদিন হবে মনে রেখো
_ আসছে চুপচাপ যান তো
রিহান হেলে দুলে উঠে খুলে ফেলা জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ডুকে গেলো,,,
পরপরই দুই জন গোসল সেরে সেই আগের মতো রেডি হয়ে গেলো,,,আরশি আঁকা বাঁকা করছ হাঁটতে হাঁটতে বললো
_ হাঁটতেও পারছি না,, করলেন টা কি,,
রিহান আরশির কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বললো
_ শক্তি নেই নাকি জান,,,সব শেষ,,,
আরশি দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আগে আমি বেড় হই তার পর আপনি কিছু সময় পর বেড় হবেন,,
_ ওকে,,,

নুবা আরশিকে দেখে বেশ চিন্তা মুক্ত আর খুশি হয়ে গেলো,,,এক প্রকার ছুটে যেএ বললো
_ কই ছিলা তুমি,,কতখন ধরে খুঁজছি,,আর চাচি আজ তোমাকে পিটানি দিবে,,,
_ দুর বাল,,সর বসতে দে,,আর আম্মুই ডেকে আনছে,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বলে উঠলো
_ তোমাকে এতো ক্লান্ত লাগছে কেন,,আর এভাবে হাঁটছো কেন,,আর আর মুখের মেকআপ এতো হালকা হলো কি করে,,
আরশি নুবার হাত টেনে পাশে বসিয়ে বললো
_ তোর কমড়ের হাচর দেখে আমি কিছু বলেছি,,আমি কিন্তু জানি ওগুলো এলার্জির জন্য কোনো দিনও না, এমন হবেই না,,আমি কি তোকে ঘেটেছি,, তুই কেন ঘেটছিস,,,
নুবা জোরপূর্বক হেঁসে বললো,,,
_ ইয়ে মানে বাদ দেও,,,

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান জমে উঠেছে পুরোপুরি। চারদিকে রঙিন আলো আর ফুলের সাজে মুখর হয়ে আছে পরিবেশ।উচ্ছ্বসিত গানের তালে তালে তরুণ-তরুণীরা নাচছে, হাসি-আনন্দে মেতে উঠেছে সবাই।আত্মীয়-স্বজনেরা গল্প আর আড্ডায় ব্যস্ত, মাঝে মাঝেই ভেসে আসছে হাসির রোল।
হলুদের সুগন্ধ আর উৎসবের আমেজ মিলিয়ে চারপাশ যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
সবার মুখে খুশির ঝলক, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে কেটে যাচ্ছে মুহূর্তগুলো।
নুবার কপাল বিরক্তে কুঁচকে আসছে এই মাত্র আরশি আপু আসলো আবার কোথাও যেনো চলে গেলো,,এখন কোথায় খুঁজবে,,,
নুবা আশে পাশে তাকিয়ে খুঁজতে খুঁজতে দেখলো আরশির লেহেঙ্গা বাড়ির সামনের নিরব স্থানের থেকে কিছু অংশ আলোতে ভেসে আছে,,

রিহান আরশির অধরে আঙ্গুল ছুঁইয়ে চু মু খেলো,, তৃপ্ত কন্ঠে বললো
_ তখন লাস্ট চু মটা দিতে ভুলে গেছিলাম,,
আরশি ভীত কন্ঠে বললো
_ আজ আপনি আমাকে ফাসাবেন মনে হচ্ছে,,
বলতে না বলেই নুবা মুখে হাত দিয়ে বলে উঠলো
_ আ,,আরশি আপু,,
নুবার শব্দ শুনে দুইজন দুইজনের থেকে ছিটকে দূরে সরে গেলো,,,আরশি ভীতু দৃষ্টিতে নুবার দিকে তাকালো,,নুবা এক হাতে আয়রাকে ধরে আর এক হাত গালে ছুঁইয়ে বললো
_ তওবা তওবা,,,এই জন্য তোমাকে পাওয়া যাচ্ছিলো না,, কিন্তু এভাবে সবকিছু উজার করে দেওয়ার ঠিক না আপু,,, তুমি তো বুদ্ধিমান চুমু খেতে দিলে কি করে,,,
আরশি এসে নুবার মুখ চেপে ধরলো,,বিরবির করে বললো
_ এখানে কি করোস শালি,, আমার romance এর ১২ টা বাজিয়ে দিলি তো,,,
_ উম উঁহু,, উঁহু,,,
আরশি রিহানকে চোখ টিপি মেরে বললো

_ এটাকে ধরেন তো,,,আজি ওর নিঃশ্বাস বন্ধ করে দিবো,, আমারদের গোপন রহস্য জেনে গেছে,,
রিহান আরশির কথা শুনে কেশে উঠে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই আরশি চোখ টিপ মেরে ইশারা করলো,,,
রিহান গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ হ্যাঁ হ্যাঁ,,, বস্তা নিয়ে আসবো,, বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দিয়ে আসি
ওদের কথা শুনে নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,,নুবা কোনো মতে আরশির হাত ছাড়িয়ে হাঁপিয়ে উঠে বললো
_ ওই,,তোমরা কেউ আমার কাছে আসবা না,,ভুলেও না,, আমার কাছে কিন্তু আয়রা আছে ওর কিছু হলে ওর বাবা কিছু তোমাদের কেল্লা ফতে করে দিবে,,,
_ আচ্ছা আগে আয়ারকে ওর কাছ থেকে নেন,,
নুবা কেঁদে দিবে প্রায়,,নুবা পিছনে সরতে সরতে বললে
_ তোমরা সবাই আমার ছোট্ট জীবনের পিছনে কেন পড়ে আছো,,পুরো বংশই খুনির দল,,,পালা নুবা না হলে আজ তুই শেষ,,,

নুবা দৌড় দিতে নিলেই আরশি ধরে ফেললো নুবা কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_ কারো কাছে বলবো না আপু তুমি আমাকে মারতে পারো না আমি তো তোমার ছোটো বোন please ,,আমি মরে গেলে আয়ারা কি খাবে,, তোমাদের আবার কষ্ট করে মেয়ে খুঁজতে হবে এর থেকে ভালো আমি কাউকে কিছু বলবো না
আরশি খিলখিল করে হেসে উঠলো,,আরশির জানা ছিলো নুবা অনেকটাই ভীতু,,আরশি নুবার মাথায় মেরে বললো
_ ধুর ছেমরি,,পরিচিত হ,,এটা আমার জামাই,,উফরে আমার খালাতো ভাই ছিলো,,,
নুবা এক পলক রিহানের দিকে তাকিয়ে দেখলো সেও মুখ টিপে হাসছে,,
নুবা ভীতু চোখে সবার দিকে তাকালো,,আরশি বলে উঠলো,,
_ আচ্ছা চল সব বলছি কিন্তু ভুলেও কাউকে বলবি না,,বাসার কেউ কিন্তু জানে না,,
নুবা নিষ্পাপের মতো মাথা ঝুকালো,,
রিহান,নুবা,আরশি এক কোনায় চেয়ার নিয়ে বসলো,,রিহান আয়ারাকে কোলে নিয়ে কথা বলতে লাগলো আয়রা রিহানকে পকপক করতে দেখে খিলখিল করে হাসতে লাগলো,,রিহান আয়রার গাল টেনে বললো
_ জল্লাদ বাপের ওপুতুল হয়েছে একটা,, মাশাআল্লাহ,,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নুবরা দিকে তাকিয়ে বললো

_ তিন বছরের রিলেশন আমাদের,,দের বছর বিয়ে হয়েছে,, কিন্তু কেউ জানে না,,,উনি বলেছে সময় হলে জানাবে,,আসলে আমি চাইছিলাম পড়া লেখার শেষে হলে এই বিষয়ে সবাইকে জানাতে,,,
নুবা এক পলক রিহানের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ এটা কি সেই রিহান যে তোমার বড় ভাই এর হাতে দুই কোপ খেয়েছিলো
আরশি ফিসফিস করে বললো
_ হ্যাঁ,, তুই এই সব কিভাবে জানলি
_ জেনেছি কোনো ভাবে,, কিন্তু এ তো তোমার ভাই এর জাত শত্রু,, তোমার ভাই কি মেনে নিবে,,তিন নাম্বার কোপ যদি বসিয়ে দেয়
_ তার জন্যই তো বলিনি,,,পড়া লেখা শেষ হলে বলবো যাতে বাসা থেকে বেড় করে দিলে জামাই এর সাথে কাজ কর্ম করে খেতে পারি,,
নুবা আরশির কথা শুনে হেসে ফেললো,,, পরপরই বুকের ভিতরে কেমন আনচান করে উঠলো তার,,সবার পূর্ণতা হয় তার কেন হলো না,,আসলে অপর পাশের মানুষ টা তাকে ভালোই বাসে না পূর্ণতা হবে কোথা থেকে,,,

রাত তখন ১২ টা,,আয়রা ক্ষুত ক্ষুত করছে,, হয়তোবা ঘুমাবে,, এদিকে অনুষ্ঠান জমে উঠেছে,,,
নুবা উঠে দাঁড়িয়ে আয়ারকে বুকের সাথে লাগিয়ে আমিনা বেগম কে খুঁজতে লাগলো,,,পরপর পেয়েও গেলো,,,
_ আয়ারা ক্ষুত ক্ষুত করছে চাচি,,ঘুমাবে হয়তোবা,,
_ আরশি কোথায়,,
_ ওই তো (নুবা আঙ্গুলের ইশারায় দেখালো)
আমিনা বেগম আরশিকে ডেকে আদেশের কন্ঠে বললেন
_ নুবার সাথে যা,,, দুই জন মিলে আয়ারকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে আসবি,,আর একটু দেখে আছিস আরহাম কি করছে,,
আরশি মাথা ঝুকালো কিন্তু অর্ধেক রাস্তায় এসে বললো
_ শুন বনু,,তোর দুলাভাই আমাকে ডাকছে,,,আমি যেএ আর কি করবো,, তুই খাওইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে আয়,,
নুবা বড় বড় চোখ করে বললো

_ না না,,তুমিও চলো
আরশি সরু চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ এমন করছিস কেন,,আমি কি ওকো ফিড করাবো নাকি একটু ঘুম পাড়িয়ে রেখে আয়,,কত দিন পর উনাকে একটু কাছে পেয়েছি please,,
_ আপু please,,
_ নুবা please,,যা না,,, তোর ভাইয়া আমার জন্য অপেক্ষা করছে,,
**
নুবা চুল গুলো ভালো মতো বেঁধে আয়ারাকে ফিড করাতে লাগলো,,পরপর আয়রার গলুমলু হাত পায়ে চুমু খেলো বিরবির করে বললো
_ কি টেন্ডোর রে,,রাত ১ টা বাজে এখনো জেগে আছে,,
নুবা আয়ারকে অনেক গুলো আদর করলো আজ সকাল থেকেই তার কাছে,,নুবার কেমন জানি লাগে মনে হয় এই মেয়েটা তারি অংশ,,তবে এটা সত্য না যা নুবার জানা,,,নুবা ভয় পায় মায়ায় না আটকে যায় এই পুতুলের,,তখন ছেড়ে চলে গেলে কি করে থাকবে,,,
নুবা আয়ারকে খাওয়াতে খাওয়াতে তার মাকে ডাকলো

_ ও মা ঘুমিয়ে গেছো
হাজেরা ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো
_ কি হইছে,,
_ না এমনি খাইছো,,
_ হ্যাঁ,,
নুবারো খাওয়া শেষ রাত ১০ টার দিকে বিরানি করা হয়েছিলো সবার সাথে খেএ নিয়েছে,,,তার উপর হালকা খাওয়া দাওয়া এখনো চলছে সবার,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৮

২০ মিনিট খানিকের ভিতরে আয়ারা ঘুমে লুতুপুতু হয়ে গেলো,,,নুবা লেহেঙ্গা গুছিয়ে আয়ারকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,,রুমে রেখে আসবে,,
তবে একটু একটু ভয় হতে লাগলো,,, আবার রুমে গেলে কি হয় আল্লাহই জানে,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here