Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_সবাই স্বার্থপর হয় না নুবাইরা,,সবাই নির্ধারিত সময়ে জন্য এসে আবার সঠিক সময়ে চলে যায় এটা নিয়তি,, যেমন দেখ তোর বাবা,,এসেছিলো আবার তোকে দিয়ে চলে গেছে,,,আর সবাই স্বার্থপর আসলেই স্বার্থপর,, যেমন আমার মেয়েকে নিয়ে আমি স্বার্থপর তার জন্য তাকে রেখে যেতে পারিনি,,না হলে বয়সটা এতোই বেশি ছিলো না যে দ্বিতীয় বিয়ে বসতে পারতাম না,,,
মায়ের কথা শুনে নুবা একটু হেসে বললো

_ মা তুমিও না,, আমাকে রেখে কোথায় যাবে,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ হয়তোবা যায়নি তবে একটা সময় আসবে যখন তোর একা চলতে হবে,,এতো নরম মনের হলে একা পথে কি করে চলবি,,,
নুবা ঠোঁট ফুলিয়ে মায়ের কাছে আদুরে কন্ঠে বললো
_ আমি তোমাকে কোত্থাও যেতে দিবো না,বলে দিচ্ছি,,
মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে হাজেরা কম্পিত কন্ঠে বললেন
_ একটা সময় সবাই কেউ যেতে হবে নুবাইরা,,,এখন থেকে নিজে প্রস্তুত কর,,মনকে শক্ত কর,,,বুঝলি,,,
নুবা মাকে ছেড়ে দিয়ে বললো
_ আমি গোসোলে গেলাম,, অনেক হয়েছে,,,
বলেই নুবা জামা কাপড় নিয়ে গোসলে চলে গেলো হাজেরা বেগম পিছন থেকে তাকিয়ে রইলেন,,যেনো সেই তার ছোট্ট নুবাটা দৌড়ে চলে গেলো,,হাজেরা বেগম চোখের পানি মুছে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন,,,

আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বসে আছে,,, শুধু শুধু তার মায়ের কারনে এই স্থানে এখনো কোনো রকম গন্ডগোল হয়নি,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে হাসফাস করতে দেখে ইনিয়ে বিনিয়ে বললেন
_ আসলে অনেক কথা আছে তো তাই এতো আগে আশা,,
পরির মা হেসে বললো
_ সমস্যা নেই আপনারা যে এই গড়িবের ভিটায় পারা দিয়েছেন এতেই আমারা খুশি,,,
আমিনা বেগম হেসে ছেলের দিকে তাকালেন,,
তারা বাড়ি থেকে বেড় হয়েছে ২ টা নাগাত,, অনেক আগে থেকেই হারুন মির্জা কথা বার্তা বলছিলেন এই ব্যপারে তাই দুপুরে বেশ আয়োজন করা হয়েছে পরিদের বাড়িতে,,তাই দুপুরে এখানেই খাওয়া দাওয়া হয়েছে,,,

সবাই বাড়ি থেকে খেএ গেলেও সম্মান রাখার ক্ষেত্রে পরিবদের বাড়িতে লাঞ্চ করেছে,,তবে আরহাম তো খাবেই না,,,এক প্রকার যুদ্ধ করে তাকে খাওয়ানো হয়েছে তাও কোনো রকম,,,
,ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকে তারা,, নিজের জামি জমা আছে তবে গ্ৰামে,,, আপাতত ফ্লাটের ছোট্ট লিভিং রুমে সবাই বসে আছে,,
আরহামের ঘাম ছুটছে শরীর দিয়ে তার এখানে আসায় ঠিক হয়নি,,সে তো আসবেই না,,তাই আমিনা ছেলেকে আনার জন্য নাতিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে বলেছেন
_ আজ যদি তুই না আসিস তবে আয়ারকে পরির কাছেই রেখে আসবো,,,
আরহামের মায়ের ধান্দা ভালো লাগেনি তাই মেয়ের জন্য এক প্রকার নিজের সাথে যুদ্ধ করে এসেছে,,,

সবাই খোশ গল্প করছে,,,পরিকে এখনো আনা হয়নি,,তাকে রেডি করানো হচ্ছে,, অবশ্য খাবারের সময় কয় একবার আমিনা বেগমের সাথে পরির কথা হয়েছে,,,পরির এই সম্পর্কে অমত নেই,, মানুষ টাকে তার ভালো লেগেছে হোক এটা দ্বিতীয় বিয়ে,,
হারুন মির্জা মুচকি হেসে বললেন
_ অনেক কথা তো হলো এবার মেয়েকে আনুন,,,না মানে ছেলে আমার খুব অধৈর্য,,
আরহাম হারুন মির্জার কথায় দাঁতে দাঁত চাপলো,,, ইচ্ছা করছে সব ধংস করে দিতে তবে আয়রা যে তার মায়ের হাতে,,সে বলেছে কিছু উল্টা পাল্টা করলেই আয়রাকে নিয়ে টান দিবে আমিনা,,,এই নিয়েই ভয়ে আছে সে,,
হারুন মির্জার কথায় পরির বাবা পরশ হাওলাদার মুচকি হেসে বললেন

_ মেয়েকে তো আপনারা গত ২/৩ মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন,,,,তবু একটা রিচুয়াল আরে তাই আজ এই আয়োজন,,,
আমিনা বেগম হেসে বললেন
_ হ্যাঁ তা তো আছেই ভাই,,,
এদিকে হানিমুন থেকে কয়দিন আগে ফিরেছে আরফার আর ইশিতা,,আজ তারা আসতে চাইছিলো না তবু আসতে হলো,,,বিয়ের প্রায় ১/২ মাস কেটে গেলো বুঝতেই পারলো না তারা মনে হচ্ছে এই দুই দিন আগে বিয়ে হলো,,,
আরাফ চুপচাপ ইশিতা কড়া নজরে রেখেছে তাকে,,বলেছে আজ যদি উল্টা পাল্টা চোখে পররি দিকে তাকায় তবে বাড়িতে যেএ তার চোখ তুলে ফেলা হবে,,ব্যাস এটা শুনার পর আরাফ উপর দিয়ে একদম নিষ্পাপ হয়ে গেছে তবে মনে মনে অন্য কিছু চলছে,,,
আরহাম অস্থির হয়ে উঠলো পাশে বসে থাকা আমিনাকে বললো
_mom আমি উঠছি আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে,,
আমিনা বেগম চোখ গড়ম করে বললেন
_ এখনি উঠবো ,, চুপচাপ বস,,,

কিছু সময় পড়েই পরিকে একটি জামদানি নীল রংয়ের শাড়ি পড়িয়ে নিয়ে আসা হলো,,,
পরি এসে সবাইকে সালাম দিলো,, অতঃপর তাকে আরহামের বরাবরের বসানো হলো,,, আরহাম হাঁটুর উপর দুই হাত এক সাথে চেপে ধরে বসে আছে,,, বিরক্ত লাগছে তার,,,
আমিনা বেগম পরিকে দেখে মুচকি হাসলো,,আর বললো
_ কেমন আছো মা,,,
পরি শান্ত কন্ঠে বললো
_ আলহামদুলিল্লাহ আন্টি,,আপনারা কেমন আছেন,,,
_ তোমাকে দেখেছি না সবার মন ভালো হয়ে গেছে
একটু বেশি তেল লাগানো আমিনা বেগম
পরির আব্বু বলে উঠলো

_ আপনারা যেকনো প্রশ্ন করতে পারেন,, আমার মেয়ে আল্লাহর রহমতে সব পারে,,
হারুন মির্জা এক পলক পরির দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললো
_ তা আর বলতে,, আমার বেগম সবি খবর নিয়ে নিয়েছে,,প্রথম দিন পরিকে দেখার পর থেকেই ছেলের বউ বানাবে ভেবে রেখেছে সে তাই তো এই পর্যন্ত আসা,,,
পরশ সাহেব দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আপনারা যে আসবেন তা আমি কল্পনাও ভাবিনি,, বড্ড খুশি হয়েছি,,,
অতঃপর এভাবে খোশ গল্প চলতে লাগলো,,,আমিনা বেগম ছেলেকে খুঁচিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ একটু সামনের দিকে তাকা,,তাক লেগে যাবে,,পরিকে নীর শাড়িতে হেব্বি মানচ্ছে,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো

_ তুমি যদি আমাকে এই মূহুর্তে এখান থেকে বেড় হতে না দেও তবে একটা বোম ফাটবে যা তুমিও সামাল দিতে পারবে না,,মান সম্মান নিয়ে টানাটানি হয়ে যাবে তোমার,,,
আমিনা বেগমো বেশ তেজি কন্ঠে বললেন
_ আমিও দেখবো আমার ছেলে কি করে তার মাকে অসম্মান করে,,,
আরশি চুপচাপ বসে আছে কেন জানি পরিকে তার ভালো লাগলেও নিজের ভাবি হিসাবে মেনে নিতে পারছে না,, এদিকে uk যাওয়ার কথা ছিলো তার,,তা পড়া লেখা রেখে সে ডেং ডেং করে রিহানের সাথে ঘুরঘুর করছে কি একটা অবস্থা,পড়া লেখা চাঙ্গে আমি ভাসি গাঙ্গে”
আমিনা বেগম পরির বাবা মায়ের সাথে কথা বলছে ,,এর ভিতরে, আমিনা বেগম হারুন মির্জাকে কুনুই দিয়ে খোঁচা মেরে চোখের ইশারায় কিছু বোঝালো,,,

হারুন মির্জা আমিনার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না আমিনা,, তোমার ছেলে এমনে কেটকেট করছে,,
_ আরে তুমি বেশি বুঝো যা বলছি তাই করো,,,
হারুন মির্জা গলা ছেড়ে কেশে বললেন
_ আসলে একটা কথা ছিলো ভাইজান,,,
পরশ হাওলাদার হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে বললো
_ জ্বী বলুন ভাই,,,
_ না মানে বলছিলাম কি পরিকে তো আমার এই ২/৩ মাস ধরে চিনিই তাই না,,আর কি নতুন করে চিনবো তাই বলছিলাম যে ওকে আন্টি পড়িয়ে রেখে যেতে চাইছি আরকি মানে engagement টা করতে চাইছি যদি আপনাদের অমত না থাকে,,,আর আজকেই যদি বিয়ের ডেটটা নির্ধারিত হয়ে যেতো তবে আমাদের জন্য ভালো হতো
কথাটা শুনে সবাই একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলো কারণ আজকে শুধু দেখতে আসার কথা ছিলো,,,
পরশ মির্জা ইতস্তত বোধ করে বললেন

_ বিয়ের তারিখ না হয় ঠিক করা হলো তবে আমরা তো আন্টির ব্যবস্থা করিনি,আগে বললে,,
আমিনা বেগম শান্ত কন্ঠে বললেন
_ সমস্যা নেই,,আমরা নিয়ে এসেছি ভাই জান,,একদমি চিন্তা করবেন না,, আপনাদের কোনো আপত্তি না থালকেই হলো,,
_ না না আপত্তি থাকবে কেন,,তবে পরি যদি একটু বলতো,,,
বলেই মেয়ের দিকে তাকালো পরশ হাওলাদার,,,
পরি মাথা নিচু করে শান্ত কন্ঠে বললো
_ আমার কোনো সমস্যা নেই,,

সবার মুখে এরকম কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো আরহাম,,,তার মানে এরা সব প্লান করেই এসেছে,,,
আরহাম মায়ের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ হাত ছাড়ো,,,(আমিনা বেগম ছেলের হাত ধরে বসিয়ে রেখেছেন)
_ হাত ছাড়ো না হলে অভ্রদের মতো ছাড়াতে সময় লাগবে না,,,
সবাই আরহামের দিকে তাকালো,,আমিনা বেগম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একটু হেসে বললো
_ ওয়াশ রুমটা কোন দিকে,,,আরহামের শার্টে একটু ময়লা ভরে গেছে,,,
পির ছোটো বোন প্রিউর দিকে তাকিয়ে পরশ হাওলাদার বললেন
_ প্রিউ মা আন্টিকে একটু ওয়াশ রুমটা দেখিয়ে দিয়ে আসো,,,
আমিনা বেগম আয়ারকে হারুন মির্জার কাছে দিয়ে ছেলেকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,তিনি পড়েছেন মহা বিপদে,,,না পারছেন সবার সামনে কিছু বলতে না পারছেন সামাল দিতে,,,

_ কোনো engagement করছি না আমি,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে শাশিয়ে বললেন
_ কেন সমস্যা কি,, পরির ভিতরে কম্পতি কি আছে,,
আরহাম রাগে হাসফাস করে বললো
_ আমাকে এখান থেকে যেতে দেও mom না হলে ভালো হবে না,,
_ আস্তে কথা বল,,কেউ শুনে ফেললে কি ভাববে,,,
_ উফ্,, বিরক্ত লাগছে আমার,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_পরিই তোর বউ হবে এটাই আমার শেষ কথা,,আজ যদি তুই আমার কথার অমান্য করিস তবে এখান থেকে আমার লাশে পারা দিয়ে যাবি,, সারাজীবন তোর কথা আমি শুনেছি আজ তুই শুনবি,,,
_ enough is enough mom,, অতিরিক্ত করছো,,
_ আচ্ছা,,তালহে মরা মুখটা দেখিস আমার,,
আরহাম হতভম্ব হয়ে বললো

_ কিরকম ক্রিটিক্যাল বাঙালির মা দের মতো ফিল্মি Dialogue মারছো তুমি,, অসহ্য লাগছে আমার,,,
আমিনা বেগম কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ পরি খুবি ভালো একটা মেয়ে,,ওর সাথে ভালো থাকবি,,,এর থেকে বেশি আমি না বলতে চাই,,না শুনতে চাই,,,তোর কাছে হাত জোর করছি তোর বাপ বুক টানটান করে এই বাড়িতে ডুকেছে আর সেভাবেই মাথা উঁচু করেই যাতে যেতে পারে,,, উল্টা পাল্টা কিছু করবি তো বুঝে নিস তোর মা তোর জন্য মরে গেছে,,,
বলেই আমিনা বেগম ওখান থেকে সরে গেলো,,, আরহাম হাত মুঠো বদ্ধ করে নিলো,,রাগে শরীর জ্বলছে তার,,,
না পারছে আগে যেতে না পিছনে,,আগে কুয়া পিছে খাই এমন অবস্থা,,,এখন আমিনা বেগমকে কিছু বললে নিশ্চয়ই নুবা সব জেনে যাবে আর নুবা একবার যদি জানতে পারে আরহাম তাকে এভাবে প্রতারণা করে বিয়ে করেছে তাহলে জনমে কেন আগামী সাত জনমেও মেনে নিবে না কারন এখনো পর্যন্ত আরহাম নুবার চোখে তার জন্য অন্য রকম কিছু দেখেনি ,,,আয়রার জন্য সে যতটা ছটফট করে তার এক পার্সেন্ট ও আরহামের জন্য না,,,

এই সময়টাতে সবকিছু জেনে গেলে শুধু ঘৃনায় করবে নুবা,,,আর ওই চোখে ধিক্কার দেখার সাহস আরহামের নেই,,,
তাই সে চাইছিলো নুবাকে সময় দিতে,,নিজের প্রতি Attracted করতে যাতে বিয়ের বিষয়টা সে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়,,,
তবে এই সময়টাতে নুবা সবকিছু জেনে গেলে সব উল্টা পাল্টা হয়ে যাবে,,আরহামকে একসেপ্ট করবার বদলে আরো ঝামেলা করবে,,,কোনো দিনও আরহামকে মন থেকে মেনে নিবে না,,এতো বড় ধোঁকা দেওয়ার পর কে মেনে নিবে যেখানে নুবার ব্যক্তিগত জীবনে একটা স্বপ্ন আছে তার জীবন সঙ্গী কেমন হবে,,,
আরহাম ওখানে দাঁড়িয়ে এই সব ভাবে লাগলো,,,এক পর্যায়ে সে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,পরপর ভাবলো আগে যেএ দেখা যাক বিয়ের ডেট কবে ফেলেছে তার পর সব হবে,,,

ভাগ্যক্রমে পরশ হাওলাদার বললেন
_ আমি চাচ্ছিলাম আগস্ট মাসের প্রথম শুক্রবার বিয়েটা হোক,, বড় মেয়ের বিয়ে বলে কথা,, অন্ততপক্ষে ২ মাস হাতে রাখলে একটু আকটু গোছগাছ করে নেওয়া যাবে,,
আমিনা বেগম শুকনো ঢোক গিললো ,,এতো দেরি,,তবু সে বললো
_ সমস্যা নেই,,,তবে আপনারা চাইলে সময়টা এগিয়ে নিয়ে আসতে পারেন গোছগাছ না হয় আমরাই করে নিলাম,,,,
পরশ হাওলাদার হেঁসে বললেন
_ না আপা,,আসলে আমি চাইছি নিজের যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু দিয়ে মেয়েকে বিদায় করতছ,,সবারি একটা স্বপ্ন থাকে,,
_ হ্যাঁ হ্যাঁ তা তো আছেই,,
হারুন মির্জা স্ত্রীর দিকে গড়ম চোখে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন

_ আক্কেল জ্ঞান আছে তোমার,,যা মুখে আসে তাই বলে ফেলো,,কি ভাববে তারা টাকার গমড় দেখাচ্ছো,,
আমিনা বেগম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললেন
_ না মানে আমি বুঝতে পারিনি,,
হারুন মির্জা পরশ হাওলাদারের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন
_ কোনো সমস্যা নেই ভাইজান,,,তাহলে এটাই কথা রইলো, আমাদের শুধু মেয়ে লাগবে আর কিছু না,,,
কথাটখ শুনে সবাই একটু হাসলো,,
এসে ২ মাস পর বিয়ে ডেট ফেলা হয়েছে দেখে আরহাম যেনো একটু শান্তি পেলো,,,প্রায় তিন মাস হাতে আছে কার এই মাসের মাত ৭ তারিখ,,so এই সময়ের ভিতরে নুবাকে পটিয়ে ফেলতে পারলে পরি যাক নদীতে,, কিন্তু কিভাবে এটাই বুঝতে পারছে না,,,

আরহাম আর পরিকে সামনাসামনি দাঁড় করানো হয়েছে,,দুই জনের হাতেই আন্টি,,,পরি হাত পেতে দাঁড়িয়ে আছে,,আমিনা বেগম পাশে দাঁড়িয়ে ছেলেকে বলছে পরিকে আন্টি পড়িয়ে দিতে তবে আরহাম ঠেডার মতো দাঁড়িয়ে আছে,,,,
পরি হাতটা আর একটু এগিয়ে দিলো তবে আরহামের কোনো হেলদোল নেই,,, শেষ পর্যন্ত না পেরে আমিনা বেগম সবার দিকে তাকিয়ে হেসে শান্ত কন্ঠে বললেন
_ ছেলের পড়াতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই,, আমার সময় আমার দাদি শাশুড়ি পড়িয়ে দিয়েছিলো তবে আমার শাশুড়ি তো আসেনি আমিই না হয়,,,,
বলেই এগিয়ে এসে আরহামের হাত থেকে আন্টি নিয়ে পরিকে পরিয়ে দিলেন,,,পরপর ছেলের বাম হাত টেনে পরির সামনে ধরে বললেন

_ মা তুমি পড়িয়ে দেও,,,
পরি মিষ্টি হেসে হাত এগিয়ে নিয়ে আসলো,, আরহাম তার হাত পিছনে নিলো,,,আমিনা বেগম বিরবির করে বললেন
_ আরহাম কি করছিস,,,
আমিনা বেগম টেনে ধরলেন ছেলের হাত,,পরি বুঝতে পারলো আরহাম হয়তোবা এই বিয়ে নিয়ে বিব্রত তাই এমন করছে তবে সে সব সামলে নিবে,,,
পরি আন্টি পড়াতে আসলো আরহাম ঠোঁটে এক চিলতি হাসি দিয়ে ইতরের মতো সব আঙ্গুল একটা একটা করে বুজিয়ে ফেললো,,হাত মুঠো বদ্ধ হয়ে আসলো তার,,,,আমিনা বেগম রাগে ফেটে বললেন
_ আরহাম,,,, বাচ্চা হয়ে গেছিস,,,
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,একে সমলাতে গেলে তার ধৈর্যবান হতে হবে,,, আরহাম পরপর আস্তে আস্তে Middle finger মুঠো থেকে বেড় করে পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ come on,,,

পরি চোখ তুলে আরহামের দিকে তাকালো এদিকে আমিনা ছেলের কান্ড দেখে রাগে যাওয়ার বদলে হতাশ,, একদমি হতাশ,,,
পরি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে এগিয়ে আসলো middle finger এ‌পড়ানোর জন্য,,সাথে সাথে আরহা হাত সরিয়ে নিলো,,,সামনে আমিনা বেগম দাঁড়িয়ে থাকায়,,আমিনা বেগমের পিছনে থাকা কেউ এই সব কান্ড দেখতে পেলো না,,,
হাত সরিয়ে নেওয়ার পরি চোখ তুলে আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম আর একটা শব্দ ব্যায় করলো না,,,সরে গেলো ওখান থেকে পরপর আরশির কোল থেকে আয়ারকে নিয়ে কোনো রকম সতর্কতা ব্যতিত ফ্লাট থেকে বেড় হয়ে গেলো,,আমিনা বেগম শুকনো ঢোক গিলে পরির দিকে তাকালো,,,
এদিকে আরাফের মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে এমন করলো কেন আরহাম,,এতো সুন্দর মেয়েকে কেউ রিজেক্ট করে,,,তাকে এখন অফার করলে সে ২ টা বউ নিয়েই সংসার করবে,,তবে ইশিতা যা চিজ তা আর হয়েছে,,,আসলে তারা এই পাশটায় বসে থাকায় বস খেলায় করেছে,,
আমিনা বেড় কি বলে পরিস্থিতি সামাল দ বে বুঝতে পরালো না তখনি পরি নিজ বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,,

_ actually হয়তোবা এই ছোট্ট খাটো স্থানে তার অস্থির লাগছিলো,,আর উনি বেশি গেদারিং পছন্দ করে না তাই আরকি,,,,
পরশ হাওলাদার মেয়ের কথা শুনে মাথা ঝুকালো,,,
হারুন মির্জা উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ আচ্ছা আজ তো সব কথা হলো তালহে উঠি,,
সবাই যখন উঠে যেএ এক জন আর একজনককে হেসে হেসে কোলাকুলি করে বিয়ের মোবারক বলে মিষ্টি খাওয়াতে ব্যস্ত তখনি আমিনা বেগম বলে উঠলেন
_ ভাইজান আপনার কাছে আমার আর একটা আবদার আছে,,,
পরশ হাওলাদার আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ জ্বী বলুন আপা,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন

_ ছোটো থেকেই আরহাম বিদেশের মাটিতে বড় হয়েছে তাই ওর দেশিও নিয়ম কানুনের দিকে ঝোঁক কম,,,এই যে বিয়ে সাদি বলুন আর কি,,তো আমি চাচ্ছিলাম পরি আর আরহামের ভিতরে যাতে ভালো একটা বোর্ডিং তৈরি হয়,,আর তার থেকে বড় কথা আয়রা,,আয়রা হলো আমার ছেলের জান পরি যদি একটু ওকে আগলে নিতে পারে আমার ছেলে ১০০% পরিকে আগলে নিবে,,,,
কথা টুকু বলে থামলো আমিনা বেগম,,, অতঃপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_ তাই আমি চাচ্ছিলাম যে বিয়ের ২ সপ্তাহ খানিক আগ পর্যন্ত মানে এই দুই মাস পরি আমাদের বাড়িতেই থাক,,,ওকে তো আমারা ছেলের বউ হিসাবে মেনেই নিয়েছি,,, আমাদের বাড়িতে থাকলে ভালো হবে কি আয়রা আর আরহামের সাথে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হবে তখন বিয়ের পর কোনো সমস্যা হবে না,,,আসলে আমার ছেলেটা একটু জেদি তাই আরকি বলছিলাম,,তবে আপনাদের মতামতের উপর নির্ভর করে,,তা কি বলেন,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৪

আমিনা বেগমের কথায় সবাই বেশ অবাক হলো,, হারুন মির্জা বেশি অবাক হলো কারণ বাড়ি থেকে বেড় হওয়ার আগে এমন তো কোনো কথা ছিলো না,,
পরশ হাওলাদার কিছু সময় চুপ থেকে একটু ভেবে বললো
_ আচ্ছা,,এই বিষয়টা আমি পরিবারের সাথে আলোচনা করে নি,,,
আমিনা বেগম মৃদু কন্ঠে বললেন
_ আশা করি ভেবে চিন্তে মতামত দিবেন,,কথাটা ভেবে দেখবেন ভালোর জন্যই বলেছি আর পরির পুরো খেয়াল রাখার দায়িত্ব আমাদের,,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here