অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৬
রুপা
আর্য পুষ্পকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে নিজের অফিসে চলে গেছে। পুষ্প কলেজে আসার পর সারা পুষ্পর পোড়া হাতটা দেখে একদম চোখ টলমল করে তাকাল পুষ্পর দিকে।
– “কী করে হয়েছে? কখন হয়েছে? আমাকে বলিসনি কেন? সাবধানে কাজ করবি তো!”—এক নিঃশ্বাসে এরকম হরেক রকমের প্রশ্ন করেই যাচ্ছে সারা। পুষ্প অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে সারাকে শান্ত করল। সারা কিছুটা শান্ত হয়ে পুষ্পর দিকে তাকিয়ে বলল—
– “পুষ্প, তোর কি বেশি ব্যথা করছে?”
সারার ব্যাকুলতায় হেসে ফেলল পুষ্প। সে দুই দিকে মাথা নেড়ে বলল—
– “উঁহু, একদমই ব্যথা করছে না! তুই আগে শান্ত হ তো। তারপর আমাকে বল, আজকে কোনো পড়া দিয়েছে নাকি কোনো লেখা?”
সারা এবার পুষ্পকে পড়ালেখার বিষয়গুলো সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বোঝাতে লাগল—গত দুই দিন কোন চ্যাপ্টার পড়ানো হয়েছে, কী কী নোট করিয়েছে সবকিছু। দুটো প্যারাগ্রাফ দিয়েছে নিজেরা লেখার জন্য; সেটা শুনে পুষ্প লিখতে গেলেই সারা খাতা-কলম নিজের কাছে টেনে নিয়ে লিখতে লাগল—‘তোর হাতে ব্যথা, তুই কষ্ট পাবি, আমিই লিখে দিই’ বলে। এর আধা ঘণ্টা পরেই তাদের ক্লাস শুরু হয়ে গেল।
পরপর দুটো ক্লাস শেষ হওয়ার পর শুরু হলো স্নিগ্ধর ক্লাস। স্নিগ্ধ ক্লাসে ঢুকে বাড়তি কোনো কথা না বলে মন দিয়ে স্টুডেন্টদের পড়াতে শুরু করল। মাঝেমধ্যে ভাইভা টাইপ প্রশ্ন করার ছলে সে সারাকে একটা প্রশ্ন ধরল; সারাও খুব সুন্দর করে গুছিয়ে সেটার উত্তর দিল। সারার নিখুঁত উত্তর দেখে স্নিগ্ধর ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসির রেখা ফুটে উঠল, যা সবার চুরক্ষুর আড়ালেই রয়ে গেল। তবে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে স্নিগ্ধ কেন যেন বারবার সারার দিকেই তাকাচ্ছিল; বিষয়টা খেয়াল করে পুষ্প সারার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—
– “সারা, এই স্নিগ্ধ স্যার বারবার তোর দিকে ওভাবে তাকাচ্ছে কেন রে?”
পুষ্পর কথা শুনে মনে মনে চমকে উঠল সারা। সে একবার চট করে স্নিগ্ধর দিকে তাকাল, আবার পুষ্পর দিকে। নিজেকে চটজলদি সামলে নিয়ে বলল—
– “আমার দিকে কেন তাকাতে যাবে? আমার মনে হয় শালার চোখ দুটোই ট্যারা! তাই অন্যদিকে তাকালেও তোর মনে হচ্ছে ও আমার দিকেই তাকাচ্ছে!”
– “কী বলছিস! ট্যারা হবে কেন? দেখতে তো বেশ সুদর্শন আর ঠিকঠাকই মনে হচ্ছে!”
– “ঠিক না ছাই বা*ল!”
– “সারা, চুপ কর! ক্লাসের মধ্যে কীসব বলছিস?”
সারা জিব কেটে মনে মনে বলল—‘ধুর, মুখ আলগা হয়ে গেছে!’
দুজনের এই ফিসফিসানির মাঝেই ঠিক তাদের মাথার ওপর থেকে হঠাৎ শোনা গেল স্নিগ্ধর গম্ভীর ও কড়া কণ্ঠস্বর—
– “স্ট্যান্ড আপ!”
সেই গম্ভীর কণ্ঠ শুনে সারা আর পুষ্প দুজনেই ধড়ফড় করে চোখ তুলে তাকাল। দেখল, স্নিগ্ধ মুখাবয়ব শক্ত করে তাদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে!
– “এতো কিসের কথা? কলেজে পড়তে আসো নাকি দুজনে মিলে গল্প করতে?”
স্নিগ্ধর এমন গম্ভীর কণ্ঠে ধমক শুনে সারা মনে মনে মুখ ভেংচি কেটে বলল— ‘শালা! আমরা পড়তে আসছি নাকি গল্প করতে আসছি, সেটা জেনে তুই কী করবি? তোর কাজ পড়ানো, তুই পড়াবি। কে পড়ল আর কে পড়ল না, সেটা তোকে কে দেখতে বলেছে?’
তবে মুখে সে কিছুই বলল না। এত এত স্টুডেন্টের সামনে মুখে মুখে তর্ক করলে নির্ঘাত ‘বেয়াদব’ খেতাব জুটে যাবে। তাতে অবশ্য সারার নিজের কিছু যায়-আসে না, কিন্তু এই লোকটা যদি বাসায় গিয়ে নালিশ ঠুকে দেয়? এই লোকের তো আবার কিছু হলেই বাড়ি বয়ে নালিশ করার মস্ত বড় অভ্যাস আছে!
স্নিগ্ধ দুজনকেই চুপ করে থাকতে দেখে আরও রেগে গিয়ে ধমক দিয়ে বলল—
– “আমার ক্লাস শেষ হওয়া পর্যন্ত তোমরা দুজনে ক্লাসের বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকো!”
ব্যস, সারা আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে নিজের আর পুষ্পর ব্যাগটা হাতে নিয়ে হনহন করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেল। পুষ্পও মাথা নিচু করে তার পেছন পেছন বেরিয়ে এল। স্নিগ্ধ তাদের এই তেজ দেখে কিছু বলতে গিয়েও বাকি স্টুডেন্টদের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলল না। তবে দুজনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বাঁকা হেসে বিড়বিড় করে বলল— ‘দুই দিন ধরে নিজে থেকে কথা বলার চেষ্টা করছি আর তুমি ইগনোর করছ? এবার দাঁড়িয়ে থাকো বাইরে!’ পরক্ষণেই আবার ভাবল— ‘এই মেয়েটা এত জেদি কেন? কীভাবে যে একে মানাব!’
স্নিগ্ধ আবার ক্লাস কন্টিনিউ করল বটে, কিন্তু তার মন পড়ে রইল ক্লাসের বাইরে। কোনোমতে ঘড়ির কাঁটা ধরে ক্লাস শেষ করে সে যখন বাইরে বেরিয়ে এল, দেখল বারান্দা একদম ফাঁকা! ক্লাসের বাইরে কেউ নেই। স্নিগ্ধ অবাক হয়ে ভাবল— গেল কোথায় ওরা? এখানেই তো দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিল!
এদিকে কলেজের মূল গেটের বাইরে, গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে কাগজের ঠোঙা হাতে নিয়ে আয়েশ করে ঝালমুড়ি খাচ্ছে সারা আর পুষ্প! এমনিতেও এরপরে আর একটাই ক্লাস ছিল, তাই সারা নিজেই বলেছে—‘ধুর, ওটা আর করার দরকার নেই!’ এই বলে দুজনে ব্যাগপত্র নিয়ে আগেই কলেজ থেকে কেটে পড়েছে। দুজনে ঝালমুড়ি খাওয়া শেষ করে ফুচকা খাবে বলে ফুচকাওয়ালাকে দুই প্লেট স্পেশাল ফুচকা দিতে বলল।
বেশ কিছুটা দূর থেকে স্নিগ্ধ বাইকে বসে সারার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মনে মনে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল— ‘এই মেয়েকে কোনোদিন যদি নিজের একটা কথা মানাতে পারতাম! সারাজীবন তো এর ভোগান্তিতেই কাটবে আমার। ও নিজে তো শয়তানের কাঠি, সাথে পাশের শান্ত মেয়েটাকেও নিজের মতো বানাচ্ছে! না জানি আমার মতো কোন হতভাগা ছেলের কপাল পুড়বে এই মেয়েকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী বানিয়ে!’
আর্য অফিসে বসে আছে। কিছুক্ষণ আগে পরপর দুটি জরুরি মিটিং শেষ করে সে নিজের কেবিনে এসে বসেছে। এর মধ্যেই আর্যর ফোনে একটা কল আসে। আর্য কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কেউ বলে উঠল—
– “হ্যালো, মিস্টার সরকার!”
– “ইয়েস, মিস্টার বোস!”
– “আপনার দেওয়া ওড়নার ছবিটা দেখলাম। তবে এক্সাক্টলি ওই রকম ওড়না শুধু ছবি দেখে বানানো যাবে না। আপনি কি মেইন কাপড়টা আমাদের একবার দিতে পারবেন?”
ডিজাইনারের কথা শুনে আর্য গভীর ভাবনায় পড়ে গেল। সে পুষ্পর মায়ের ওই পোড়া ওড়নার টুকরোটা মেয়েটার ব্যাগ থেকে লুকিয়ে বের করে ছবি তুলেছিল। কিন্তু এখন যদি ওই ওড়নার কাপড়টা সে নিজের কাছে নিয়ে আসে, আর পুষ্প যদি ওটা না পেয়ে আবারও কান্না শুরু করে দেয়? এমনিতেই ওই মেয়ের চোখের জল ইদানিং কেন যেন একদম সহ্য হয় না আর্যর। অকারণে মনের ভেতর একটা তীব্র অস্থিরতা আর অশান্তি শুরু হয়! আর এই সবকিছুই হচ্ছে শুধু ওই একটা মেয়ের জন্য। আর্যকে ওপাশে চুপ করে থাকতে দেখে ডিজাইনার আবারও বলল—
– “মিস্টার সরকার, শুনতে পাচ্ছেন?”
– “হুম!”
– “ওড়নার কাপড়টা কি দেওয়া যাবে? আসলে যে তাঁতি ওড়নাটা বুনবে, তাকে কাপড়ের একটা স্যাম্পল দিলে সে একদম নিখুঁতভাবে ওটা বানিয়ে দিতে পারবে। কোন কোন সুতো সেখানে ইউজ করা হয়েছে, সেটা সামনে থেকে দেখলে তার জন্য বোঝাটা অনেক ইজি হবে।”
আর্য কিছু একটা ভেবে ওপাশ থেকে বলল— “ঠিক আছে, আমি জানাচ্ছি।” এই বলে সে ফোনটা কেটে দিল।
তারপর চেয়ারের ব্যাকরেস্টে মাথা হেলান দিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল সে। গতকাল রাতে সে অফিস থেকে ফিরে রুমে ঢোকার ঠিক আগে দেখেছিল—মেয়েটা তার মায়ের ওই আংশিক পোড়া ওড়নাটা হাতে নিয়ে নীরবে কাঁদছে। কিন্তু আর্যকে রুমে ঢুকতে দেখা মাত্রই সে তাড়াহুড়ো করে চোখের জল মুছে ওড়নাটা ব্যাগে লুকিয়ে রেখে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। পুষ্প চলে যাওয়ার পর আর্য ওর ব্যাগ থেকে ওই পোড়া ওড়নাটার ছবি তুলে একজন পরিচিত ডিজাইনারের কাছে পাঠিয়েছিল, জাস্ট জানার জন্য যে সেম টু সেম ওড়না বানানো সম্ভব কি না।
আর্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে আসলে কী করবে? সে তো মেয়েটাকে হার্ট করে নিজের জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়; কিন্তু ইদানিং মেয়েটার চোখের জল দেখলেই তার নিজের ভেতরটা কেমন যেন অশান্ত আর অস্থির হয়ে ওঠে! আর্য মনে মনে ভাবল—মেয়েটার থেকে তাকে দূরেই থাকতে হবে, তাহলে হয়তো নিজের মনের ওপর এই নিয়ন্ত্রণটা আর হারাতে হবে না। সে চাইলেও পুষ্পকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না; কারণ যদি বিশ্বাস করার পর অতীতের সেই পুরোনো ইতিহাস আবারও রিপিট হয়? মেয়েটার বয়স এখনও অনেক কম। তার চেয়ে ভালো, মেয়েটার থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়; তাতে সে নিজেও শান্তিতে থাকবে, আর মেয়েটাও নিজের মতো শান্তিতে বাঁচতে পারবে।
ইভান আজকেও পুষ্পর কলেজের সামনে এসেছে, যদি মেয়েটার সাথে একটু কথা বলা যায়—এই আশায়। কিন্তু এসে দেখল ইতিমধ্যে শেহনাজ সরকারের গাড়ি চলে এসেছে। পুষ্প সারাকে বিদায় দিয়ে শেহনাজ সরকারের গাড়িতে উঠে বসল। পুষ্প গাড়িতে বসতেই শেহনাজ সরকার জানালার কাচ বন্ধ করে এসি অন করে দিলেন। কড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকায় পুষ্প বেশ ঘেমে গেছে; সেটা দেখে তিনি নিজের সুতি শাড়ির আঁচল দিয়ে পুষ্পর ঘামে ভেজা মুখটা পরম মায়ায় মুছে দিলেন। পুষ্পকে আচমকা সাদা হিজাব পরা দেখে একটু অবাক হয়ে বললেন—
– “এই গরমে তোকে হিজাব কে পরতে বলেছে? মাথায় একটু বাতাসও লাগছে না!”
শেহনাজ সরকার কিছু একটা খেয়াল করে আবারও বললেন—
– “আর তুই তো সকালে নীল রঙের একটা হিজাব পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলি! তাহলে এই সাদা হিজাব কখন পরলি?”
পুষ্প এবার একটুও না লুকিয়ে সকালে আর্য তাকে শপিং মলে নিয়ে গিয়ে কী কী কিনে দিয়েছে, রেস্টুরেন্ট থেকে কী কী খাইয়েছে—সব এক এক করে শাশুড়িকে বলল। পুষ্পর মুখে সব শুনে শেহনাজ সরকার মনে মনে বেশ প্রসন্ন হলেন। যাক, ছেলে তাহলে আস্তে আস্তে হলেও পুষ্পর খেয়াল রাখতে শুরু করেছে! একজন মা হিসেবে ওনার আর কিছু চাওয়ার নেই। এবার ওনাকে শুধু চেষ্টা করতে হবে আর্য যাতে পুষ্পকে পুরোপুরি নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দেয়; যাতে উনি কোনোদিন এই পৃথিবীতে না থাকলেও আর্য পুষ্পকে অবহেলা না করে মন থেকে মেনে নেয়। শেহনাজ সরকার নিজের হাতে পুষ্পর হিজাবের পিনটা খুলে দিয়ে ওটা গলায় পেঁচিয়ে দিলেন আর বললেন—
– “এখন তো আমরা সোজা বাড়িতেই যাচ্ছি, তাই হিজাবটা একটু আলগা করলে কোনো সমস্যা নেই। একটু বাতাস লাগুক গায়ে।”
শেহনাজ সরকারের কথা শুনে পুষ্প মৃদু হাসল। তারপর সে শাশুড়ির সাথে এটা-ওটা নিয়ে গল্প করতে লাগল, আর শেহনাজ সরকারও খুব মন দিয়ে তার কথা শুনছিলেন এবং হাসিমুখে উত্তর দিচ্ছিলেন। গাড়ির লুকিং মিররে তাদের এই মিষ্টি সমীকরণ দেখে ড্রাইভার মনে মনে বিড়বিড় করে বলল— ‘কোর্টে কিছুক্ষণ আগে একটা খুনের আসামিকে লোকসম্মুখে যেভাবে কড়া থাপ্পড় মেরে এলেন, আর এখন নিজের ছেলের বউয়ের সাথে কত নরম! শেহনাজ সরকারের আসলেই তুলনা হয় না।’
গাড়ি থেকে নেমে পুষ্প বাড়িতে ঢুকতেই দেখল ড্রয়িং রুমে বেশ কয়েকজন নতুন মানুষ বসে আছেন। অচেনা মানুষদের দেখে সে কিছুটা থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। পেছন পেছন শেহনাজ সরকার পুষ্পর কলেজ ব্যাগ আর নিজের জরুরি ফাইলগুলো নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন। পুষ্পকে ওভাবে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন—
– “কী হয়েছে পুষ্প? দাঁড়িয়ে পড়লি কেন?”
শেহনাজ সরকার কথাটা শেষ করতেই ওনার চোখ গেল সোফায় বসে থাকা মেহমানদের ওপর। তিনি একপলক সেদিকে তাকিয়ে পুষ্পকে উদ্দেশ্য করে নিচু স্বরে বললেন—
– “পুষ্প, ওনাদের সালাম দিয়ে উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে মা।”
পুষ্প শাশুড়ির কথামতো বাধ্য মেয়ের মতো সোফায় বসা মানুষদের সুন্দর করে সালাম দিল। ওনারাও কুশল বিনিময় করলেন। এরপর পুষ্প ধীরপায়ে উপরে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। শেহনাজ সরকার কাজের মেয়েকে ডেকে পুষ্পর ব্যাগটা উপরে দিয়ে আসতে বললেন। তারপর তিনি ড্রয়িং রুমের সোফার দিকে এগিয়ে গেলেন—যেখানে বসে আছেন ওনার একমাত্র ননদ রেশমা আর তার শাশুড়ি; সাথে এসেছে তাদের দুই মেয়ে শিফা আর নিশি!
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৫
শেহনাজ সরকারকে সামনে দেখে সবাই একযোগে সালাম দিল। শেহনাজ সরকার সবার সাথে কুশল বিনিময় করে কাজের লোককে নাস্তা-পানি দিতে বললেন। তারপর ওনাদের বললেন— “তোমরা নাস্তা করো, আমি উপর থেকে একটু ফ্রেশ হয়ে আসছি।” এই বলে তিনি উপরে চলে গেলেন।
এদিকে, রেশমার বড় জা-এর মেয়ে নিশি চঞ্চল চোখে এদিক-ওদিক তাকিয়ে পুরো বাড়িটা দেখছে। তার চোখ দুটো যেন বড্ড ব্যাকুল হয়ে বাড়ির আনাচে-কানাচে বিশেষ কাউকে খুঁজছে…!
