নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৮
সুরাইয়া জিয়াসমিন
কোনো মতে ঠেলে নুবাকে সরালো,,,নুবার নাদুসনুদুস দেহটা আরহামের পেটের উপর পড়ে রইলো,,, আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,,এই মেয়ে কবে যে একটু সোজা হয়ে দাঁড়াবে,,,
আরহাম উঠে বসার আগেই নুবা নিজের শরীরের শক্তি প্রয়োগ করে উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করলো তবে এমন জায়গায় জোর দিয়ে উঠার চেষ্টা করলো যে আরহাম হতভম্ব হয়ে গেলো,,,
নুবার ডান হাত আরহামের পেটের অনেকটাই নিচে একদম মেইন পয়েন্ট,, আরহাম কিছু বলতেই যাবে তার আগেই হুস ব্যতিত,,তাল ছাড়া নুবা এখানেই ভর দিয়ে উঠার চেষ্টা করলো,,, অতিরিক্ত চাপ পড়ায় আরহামের ফর্সা মুখ নিলচে হয়ে গেলো,,,তবে বেচারা শব্দও করতে পারলো না,,,, আরহাম কোনো মতে উঠে ওখানে থাকা হাত ঠাস করে ঠেলে সরিয়ে দিলো তাতে যেনো আরো বিপত্তি ঘটলো নুবা খসে পড়া তারার মতো ঠাস করে আরহামের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত স্থানে পরে গেলো,তাও মুকটা ঠিক ওই স্থানে,, আরহাম এবার আর সহ্যে করতে পারলো না,,, আর্তনাদ করে উঠলো,,
_ ahhhhhhhhh,,,mom,,,,এটিকে সরাও,,,
আর না পেরে আমিনা আর ইশিতা মিলে নুবার দুই পা ধরে টেনে সরালো,,সবার মুখে কেমন লজ্জাজনক হাসি,,,সবাই বিব্রত,, এদিকে হুস ছাড়া নুবা মাথার পিছনে ব্যাথা পাওয়ায় সেই পুরানো ক্ষত কানের পিছনে চিনচিন করছে,,নুবা সবকিছু ঝাঁপসা দেখছে,,,নুবা কান্ত হাতে মাথার পিছনে হাত রেখে ফুঁপিয়ে উঠলো,,
এরকম নাদুসনুদুস মেয়েটা খাঁড়া থেকে দপাস করে চিৎ হয়ে পড়েছে এটা কি চারট্টে খানি কথা,, অবশ্যই কায়দা করে ব্যাথা পেয়েছে ,,
আরহাম দুই হাত টাওজারের উপর ধরে নাক মুখ কুঁচকে উঠলো,,জানটা বেড় হয়ে যাচ্ছে তার,,,মাথাটাও ঘুরছে,,মনে হচ্ছে এখনি শরীর থেকে রুহ বেড় হয়ে যাবে,,,
সবাই বিচলিত কাকে রেখে কাকে সামলাবে,,,আমিনা বেগম অস্থির কন্ঠে বললো
_ ইশিতা দেখো তো ওর মাথার নিচে আঘাত পেয়ে গেলো নাকি,,,
ইশিতা তাড়াতাড়ি নুবার মাথা উঁচু করে দেখলো না,,ফুলে গেছে,,তবে নুবা হঠাৎ এভাবে মাথা উঁচু করায় রাও ব্যাথা পেলো,, আর্তনাদ করে উঠলো সে,,
আরহাম নিজের সংকটনিও ব্যাথা ভুলে বাচ্চাদের মতো হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসলো,,আর বললো
_ যখম হয়েছে নাকি,,
ইশিতা বললো
_ না মাথা ফুলে গেছে তবে কয়দা মতো ব্যাথাটা পেয়েছে,,,
আরহাম অস্থির হলো,,,কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না তবে মিনিট খানিকের ভিতরে মাথায় আঘাত পাওয়ায় নুবা জ্ঞান হারালো,,,এর ভিতরে তানিয়া আর হাজেরা চিল্লাচিল্লি শুনে ছুটে আসলো,,,
নুবা চুপচাপ শুয়ে আছে,,, জ্ঞান ফিরেছে অনেক আগেই তবে মাথাটা অনেক ঝিমঝিম করছে,,, আজকে একটা কাহিনিই হয়ে গেলো কি একটা অবস্থা,,
আরহাম মেডিসিন নিচ্ছে doctor এর পরামর্শে,,নুবা যা করেছে তাতে টিকে থাকা মুশকিল এখনো তার জান যায় যায় অবস্থা,,,সে কোথাও থেকে শুনেছিলো,, পুরুষদের এই স্থান খুবি sensitive হয়,,তবে আজ প্রমাণ পেলো,,,তার সন্দেহ হচ্ছে সে ভবিষ্যত প্রজন্ম আরো আর বাড়াতে পারবে কিনা,,মেয়েটা আস্ত এককা গাধা,,,
আরহাম মেডিসিন খেএ আয়ারার পাশে শুয়ে পড়লো,, একটা মেয়ের মনে কি করে জাগা করতে হয় তার জানা নেই তবে কি করে মন থেকে উঠে যেতে হয় তার তা জানা আছে,, না হলে নুবার সামনে পরির চুলে হাত দিতো নাকি,,
আরহাম জেদ করেই দিয়েছিলো হয়তোবা নুবাকে জেলাস করতে তবে উল্টো তারি ১২ টা বেজে গেলো,,,
আরহাম ভরা সন্ধ্যায় চোখ বন্ধ করলো তখনি রুমের বাইরে কেউ নক করলো,, আরহাম কপাল থেকে হাত সরিয়ে তাকালো,,সে ভাবলো,,তার মা না হয় পরি,,তাই ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_ ভিতরে আসো,,
বলেই আরহাম চোখ বন্ধ করে নিলো,,,
নুবা দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো,,,সামনে তাকাতেই দেখলো আরহাম শুয়ে আছে আয়রা খেলছে শুয়ে শুয়ে,,নুবা নিজের দুই হাত কচলে মাথা নিচু করে বললো
_ s,, sorry,,, sorry,,,
হঠাৎ খুব চিনা পরিচয় কন্ঠে আরহাম ফট করে কপাল থেকে হাত সরিয়ে তাকালো,,,চোখের সামনে নুবা ভেসে উঠলো,,সে অনেকটা অবাক হলো নুবার আসার কথা তো না,, অনেক দিন হলো সে এই রুমে আসে না,,
আরহাম উঠে বসলো,,,নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে মিলিন কন্ঠে বললো
_ চাচি বললো আমার কারনে নাকি আপনি খুব খারাপ ভাবে ব্যাথা পেয়েছেন,,আমি সত্যিই দুঃখিত,,আমি বুঝতে পারিনি এভাবে ঘটনাটা ঘেটে যাবে,,আমি নিজ ইচ্ছায় কিছুই করিনি,, আপনাকে আহত করার আমার কোনো ইচ্ছাই ছিলো না,,,
নুবা এক টানে কথা গুলো শেষ করে আরহামের দিকে তাকালো,,, আরহাম কিছু বললো না,,, চুপচাপ চেয়ে রইলো,,সে কিছু বলছে না দেখে নুবা ইতস্তত করে বললো
_ sorry,,,
আরহাম ছোট্ট করে বললো
_ হুম,,
নিজের মন মতো উত্তর না পেয়ে নুবা বেশ মর্মাহত হলো,, অতঃপর চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে আস্তে আস্তে রুম থেকে বড়ে হয়ে গেলো,,তবে আজ আর কেউ পিছন থেকে ডেকে উঠলো না,,কেউ ভারি কন্ঠে ডাকলো না,,,
না হয় এই রুমে আসার পর এমন কোনো দিনও হয়নি যে আরহাম তাকে পিছু ডাকেনি,,,নুবার কেন জেনো এতোটা খারাপ লাগলো,,, সত্যি বলতে মানুষ নিজ অজান্তেই কখন কিসে অভ্যস্ত হয়ে যায় সে নিজেও জানে না,,কারো কারো ক্ষেত্রে বুঝতে সময় লাগে,, আবার অনেক সময় ভয়ের কারনে বুঝতেও চায় না,,যদি আবারো মন ভেঙ্গে যায়,, একবার যার মন ভাঙ্গে ,,তার দ্বিতীয় বার কাউকে মনে ধরলেও বুঝতে চায় না,ওই যে মন ভেঙেছিলো সেই ভয়,,,
নুবা রুমের বাইরে এসে থামলো,,বাম চোখ দিয়ে তার পানি গড়িয়ে পড়লো,,,তবে কেনো,,নুবা নিজেকে স্তব হয়ে গেলো,,,
নুবা ডান হাত দিয়ে পানির ফোঁটা মুছে হাতের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কতটা স্বার্থপর তুই,, আমার শরীরে থেকে আমার অজান্তেই বিনা কারনে গড়িয়ে পড়ছিস,,,আমি কি কারনটা জিজ্ঞেস করলে রাগ করবি,,?যদি জিজ্ঞেস করি কেনো আসলি তবে বড্ড ক্ষতি হবে কি??
তবে চোখের পানি উত্তর দিলো,,নিজের প্রতি বিরক্ত হলো নুবা,, নিজেকে ছেছরা মনে হলো,,, সবাইকে মন দিয়ে বেড়াবে নাকি তাও নিজ অজান্তে,,ভালো ব্যবহার করলেই কি মন দিতে হবে,,আর সেতো ১০০% এর ভিতরে ৮০% খারাপ ব্যবহার করেছে তবে কেন মন কাঁদছে,,,তবে কি ২০% এর প্রতি নুবা দূর্বল হয়েছে,,,কেনো হলো দূর্বল,,হওয়ার তো কথা ছিলো না,,,
আজ পরির চুলে হাত দেওয়ায় কেমন জানি লেগেছিলো নুবার,, কেমন লেগেছিলো সে নিজেও জানে না তবে ভারি কষ্ট হচ্ছিলো তার,,, হয়তোবা এই কারনে এতো তাড়াতাড়ি আরহাম তাকে ভুলিয়ে দিলো,,,মেয়ে মানুষ হয়তোবা এমনি নিজের কাছেও রাখবে অন্যেরো হতে দিবে না,,,তারা হয়তোবা চায় “আমি” না” বলেছি তাই কি হয়েছে,, তুমি আমার পিছনে ঘুরতে থাকো তবে আমি খুশি”
নুবা কথা টুকু ভেবেই হেসে দিলো,, অসহ্য সে কি নিব্বি নাকি,,, কয়দিন পর ১৯ শেষ হয়ে ২০ এ পড়বে তার,,,তার কাছে মনে হয় সব থেকে কষ্টদায়ক হলো নিজের অনুভূতি না বুঝার কষ্ট,,নিজেকে না বুঝার পিরা যে আমি কি চাইছি বা কি পেলে খুশি হবো সুখে থাকবো,,,
আরহাম নুবা যাওয়ার পর উপরের দিকে তাকিয়ে রইলো,,পরপর গলার ব্যাথা অনুভব করলো সে,,,মনে হচ্ছে গালার কাছে কোনো কথা এসেও আঁটকে যাচ্ছে,,যা না উচ্চারণ করলে সে মরেই যাবে
আরহাম শুকনো ঢোক গিলে কম্পিত কন্ঠে গলা ছেঁড়ে ডাকলো
_ নুবু,,,,
যেমটা সে প্রতিবাদ করে,,কারনে অকারণে একবার পিছু ডাকে মেয়েটাকে,,এবার ডাকেনি তাই হয়তোবা গলা চিনচিন করছিলো,,, আরহাম ডাকটা দিয়ে বড্ড শান্তি পেলো তবে আগের ন্যায় কেউ গোল গোল চোখ করে ফিরে তাকালো না,,,
আরহাম চোখ বন্ধ করে নিলো,,তখনি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নুবা ডাক শুনে ছুটে আসলো,,যেনো তার পা দুটো তার অবাধ্য হয়ে দৌড়ে চলে আসলো,, শরীর টাকে টেনে নিয়ে আসলো,,,
নুবা রুমে এসেই বললো
_ ডেকেছেন,,,
হঠাৎ নুবার শব্দ শুনে আরহাম ভাবলো হয়তোবা তার ভুল তাই চুপ করে শুয়ে রইলো,,নুবা আবারো বললো
_ ডাকলেন,,,(পরপর নুবা ভাবলো হয়তোবা ভুল শুনেছে,,)
দ্বিতীয় বার নুবার কন্ঠ শুনে আরহাম ভুরু কুঁচকে তাকালো,,,পরপর নুবাকে দেখে নিজেই অবাক হয়ে গেলো,,,এতো জোরেও তো ডাকেনি যে নিচ থেকে বা করিডোর থেকে শুনা যাবে,,,
আরহাম হতভম্ব হয়ে উঠে বসলো,,কি বলবে বুঝতে পারলো না,,নুবা চেয়ে রইলো,,যেনো চোখ দিয়ে জিগ্গেস করছে,,কেনো ডেকেছেন
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কি বলবে ভেবে না পেয়ে বললো
_আ,,আয়ারা কে একটু ফিড করিয়ে দিয়ে যেতে,,,
বেশ অদ্ভুত কন্ঠে বললো সে,,নুবা চোখ গোলগোল করে বললো
_ ও,,,,
নুবা বিছানার এক কোনায় বসে ফিড করাচ্ছে,,, আরহাম আর এক কোনায় বসে,,নুবার সেই দিনের কথা মনে পড়ছে,,ওই যে আরফের বিয়ের আগে,,,নুবাকে এনে টিভি ছেড়ে দিয়ে রেখেছিলো,, তখনকার আরহাম আর এখনকার আরহামের ভিতরে অনেক পার্থক্য,,,
নীরবতা বিরাজমান রইলো,, শুধু শোনা গেলো আয়ার চকচক শব্দ সাথে উম আ শব্দ,,,
নীরবতা ভেঙ্গে আরহাম বলে উঠলো
_ সেদিনের জন্য দুঃখী,,ওভাবে তোমাকে অপমান করা ঠিক হয়নি,,আমার মাথা ঠিক ছিলো না,,,
নুবা মাথা নিচু করে আয়রার শরীরে হাত বুলালো,,পরপর মৃদু কন্ঠে বললো
_ সত্যিই তো বলেছেন,, আমার সেই যোগ্যতা নেই,,,
আরহামের গলা ভারি হয়ে আসলো মনে হলো কোনো শক্ত পাথর গিলে ফেললো,,,
আরহাম একটু থেমে বললো
_ তুমি ঠিকি বলেছিলে আমার চরিত্র ঠিক করা দরকার ছিলো,,,নিজের বয়স,,,দিক বুঝে কাউকে পছন্দ করা উচিত ছিলো,,,
আরহামের কন্ঠ কাঁপছে,,,মনে হচ্ছে এখনি কেঁদে দিবে সে,,, জীবনে একটা মানুষকে কিছু ঘায়েল না করতে পারলেও আর একটা মানুষ ঘায়েল করতে পারে,, পুরুষ যতোই শক্ত হোক না কেন,,,তবে নিজের প্রিয় মানুষ টাকে যদি ভালোবাসে তবে তার সামনে এসেই হেরে যায়,,, ঝুঁকে যায় তার মানে,,,এটা বাস্তব,,
পৃথিবীতে তিনটা তিনি নিয়ে বেশি যুদ্ধ হয়,,,ভিটা,, টাকা,,নারী,,, ,,সচারোচার জামা জমি নিয়ে সংঘর্ষ হয় টাকা নিয়ে হয় তবে সব থেকে বেশি নারী নিয়ে হয়,,এই নারী এমন একটা জাত কিভাবে যে পুরুষ মানুষকে তারা বশ করে তারা নিজেরাও জানে না,,তবে পুরুষ হলেও তেমন জাতেরি হতে হবে,,, হেলিতেলি হলে কি চলবে,,
আরহামের কথা শুনে নুবার অনেক টা খারাপ লাগলো সেদিন হয়তোবা খুব খারাপ ভাবেই কষ্ট দিয়েছে লোকটাকে,,,
আরহাম একটু থেমে ভিজা কন্ঠে সুধালো,,
_ জীবনে অনেক পাপ করেছি তবে কাউকে মনে ধরা যে এতো বড় পাপ তা আমার জানা ছিলো না,,,যা থেকে রেহাই পাওয়া অসম্ভব,,,,আমি জানি না অন্যদের ব্যপারে তবে আমি অনেক বড় পাপ করে ফেলেছি নিজের সামর্থের বাইরে কিছু চেয়ে ফেলেছিলাম,,তাই হয়তোবা মুখে কালি ঘঁষে চলে গেছে ,,,,
আরহামের চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো যা কখনোই হয়নি,,,দেশ ছাড়ার পর যে কানো কাঁদেনি,,, কখনো না,,তবে দেশে আসলে যে এভাবে আবার কাঁদতে হবে তা সে আগে জানলে কখনোই এখানে আসতো না,,নিজের মেয়ের জন্য কাঁদতে হলো এখন আর একজনের মেয়ের জন্য কাঁদতে হচ্ছে,,
যেই আরহাম বহু বছর ধরে নামাজ পড়ে না সেই আরহাম মায়ের কথা শুনে কাল রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেছে,,
সে জানে না কি করে পড়তে হয় মোবাইল ঘেটে সে শিখেছে,,পুরানো বহু বছর আগে মুক্ত করা সূরা গুলো ঘন্টার পর ঘন্টা লাগিয়ে মনে করেছে,,নিয়ম শিখেছে,,,তার পর নিজের সবটা দিয়ে চেষ্টা করেছে,,
সে সইতে পারেনি নিজেকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছে তবে পারেনি,,, ধৈর্য না ধরতে পেরে সে শেষ পর্যন্ত জায়নামাজ পেতেছে,,,তবে আহত তো সে তখন হয়েছে যখন নুবাকে তৌসিফের সাথে দেখেছে,,,
আরহামের কন্ঠ কাঁপছে,,,বুকটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হচ্ছে,,নুবা উত্তর দিতে পারে না কারণ তার কাছে উত্তম নেই,,, কিছু বলার নেই,,,
আরহাম এক পলক নুবার নিচু মাথার দিকে তাকিয়ে বললো
_ তৌসিফ ভালো,,বয়স কম,, অবিবাহিত,,, তোমার সাথে যায় ভালো তাই তো,,, তুমি চিন্তা করো না তোমার মা”কে কিছুই বলবো না আমি,,
বলতে বলতে আরহামের ঠোঁট কেঁপে উঠলো,,
নুবা আর চোখে আরামের দিকে তাকিয়ে স্তব হয়ে গেলো,,লোকটা কান্না করছে,,,নুবা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো,,,তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হলো,,,
আরহাম নুবার দিকে ফিরে তাকালো নুবা সাথে সাথে চখো সরিয়ে নিলো যাতে আরহাম বিব্রত না হয়,,, আরহাম গলায় আঁটকে থাকা কষ্ট গুলো চেপে বললো
_ যদি আমি বিবাহিত না হতাম,,,যদি এক সন্তান না থাকতো,,যদি বয়সটা কম হতো,,তবে কি মেনে নিতে,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ প্রথমতো আপনি যেমন ভাবছেন তেমন কিছু না,, তৌসিফ ভাই আমার কিছুই হয় না,, হঠাৎ দেখা হয়ে গেছিলো আর দ্বিতীয় হচ্ছে সেদিন আপনাকে এভাবে হার্ড করার আমার কোনো ইচ্ছা ছিলো না,,,আমি বুঝতে পারিনি কি বলবো,,,না করার কারন ছিলো না তাই বলেছি,,,আর,,,,,,
নুবা থামলো,,,পরপর শুকনো কন্ঠে বললো
_ আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না, please ,,এভাবে রিয়েক্ট করলে আমার নিজেকে দোষী মনে হবে,,
আরহাম যেনো অস্থির হলো বিচলিত কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা নুবা একটা কথা বলো তো,, তুমি কি সত্যিই আয়ারকে ভালোবাসো না,,,নাকি সেদিন পিছু ছাড়াতে বলেছিলে,,,
নুবার কাছে উত্তম নেই,,,সার চোখ জ্বলছে যেনো একনি গড়ম উত্তপ্ত নোনা পানি গড়িয়ে পড়বে,,
আরহাম উত্তর না পেয়ে হাসলো,,,কাতর কন্ঠে বললো
_ আমি আরো ভেবেছিলাম তুমি আমার মেয়েকে ভালোবাসো তাকে নিজের মেয়ে ভাবো তবে বিশ্বাস কতো আমার মনে ওতো খোট ছিলো না যে আমি তোমার দিকটা বুঝতে পারবো না,,,আমি কখনো মানুষ বুঝতে এরকম ভুল করিনি,,এখন নিজের জুতা দিয়েও নিজের গালে বারি মারলেও কম হবে তবে আমি তোমাকে অনেক হার্ড করেছি তার জন্য সত্যি আমি খুবি লজ্জাবোধ করি,,আমি,,,,,,,
আরহামের কন্ঠ ভেঙ্গে আসলো,,, আরহাম ভাবসা কন্ঠে বললো
_ তোমাকে আমি বুঝাতে পারবো না আমার ভিতরে কি হচ্ছে,,, তুমি,, তুমি আমাকে কতটা হার্ড করেছো তুমি নিজেও জানো না,,তখন আমার ইচ্ছা হচ্ছিলো তোমার হাতে জুতা ধরিয়ে দিয়ে বলি আমার কপালে আর মুখে বারি দিতে কতটা নির্লজ্জ আমি একবার ভেবে দেখলাম না যে এর পর কি হবে,,,না বুঝে শুনেও বলে ফেললাম,,,কত বড় অন্যায় করে ফেললাম যার সমাধান নেই,,,যেই শব্দ গুলো পরিবর্তন করতে পারবো না যেগুলো না বলে আমাকে জুতা তুলেই একটা বারি লাগিয়ে দিতে তাও আমি এতোটা কষ্ট পেতাম না,,,,কথার আঘাত অনেক বড় আঘাত বুঝলে নুবা যা ফিরিয়ে নেওয়া যায় না,,,
আরহাম থামলো,,,তবে দাঁড়ালো না বিছানা থেকে উঠে ওয়াশ রুমে চলে গেলো,,,নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কেনো জানি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো,,,তার বুক ভারি হয়ে আসছে কথার ওজন এতোই বেশি যে সে সইতে পারছে না,,,, নির্ঘাত অনেক খারাপ লেগছে তার,,তাই কান্না করে ফেলেছে,, পুরুষ মানুষ তো কম কষ্টে কাঁদে না,,,
নুবার শরীর কাঁপতে লাগলো,,,এখানে আর একটু মূহুর্ত বসে থাকলে সে মরেই যাবে,,,নুবা আয়ারকে বিছানায় রাখলো পেট ভরা থাকায় তেমন কান্না করলো না আয়ার,,নুবা চোখের পানি মুছে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,
আরহাম চোখে মুখে পানি দিচ্ছে,,চোখ দুটো লাল হয়ে এসেছে,,, জীবনে এরকম পাপ সে আর দ্বিতীয় বার কারবে না,,,কখনোই না,,,
সারা রাত নুবার ঘুম হলো না,,চোখ বন্ধ করলেই আরহামের ভাঙ্গা কন্ঠ ভেসে আছে,,নুবা অস্থির হয়ে পড়লো এই সব ব্যপার নিয়ে যা তার ভাবাও উচিত না,,
তখন রাত ৩ টা নাগাত,, আরহাম মোনাজাতে বসে আছে,,আয়রা ঘুমাচ্ছে,, আরহাম চুপচাপ বসে আছে কি বলবে বুঝতে পারছে না তবে মাঝে মাঝে তার প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে,,
আরহাম কিছু না খুঁজে পেয়ে কাতর কন্ঠে শুধালো,,
_ সে যদি আমার জন্য উত্তম হয় তবে আমার করে দিন,,আর যদি আমার জন্য তৈরি না হয় তাকে আমার মন থেকে মুছে দিন,,,,আজ পর্যন্ত কিছুর জন্য হাত পাতিনি আপনার কাছে তবে আজ কোনো না কোনো উসিলা আমাকে এই পর্যন্ত টেনে এনেছে,,,আমি শুধু চাইছি ওকে আমার করে দিন,,, হঠাৎ করেই আমি ওর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি,,না পেলে হয়তোবা মরেই যাবো,,,
সকালের নাস্তার টেবিলে সবাই উপস্থিত,,আর পরি সব এনে এনে রাখছে,,,সবাই মুখে আলাদা একটা হাসি,,,পুরো পরিবার এক সাথে হলে এমনি হয়,,
পরি তরকারির বড় বাটি এগিয়ে আনতে নিলো তবে সে শাড়ি পড়া,, আরহাম খেলায় করে শান্ত কন্ঠে বললো
_ আস্তে আসো পড়ে যাবে,,,
পরি একটু হেসে বললো
_ কিছু হবে না,,,
এদিকে নুবা ওখানেই বসে ছিলো এরকম আদিখ্যেতা দেখছ রাতে যাও আরহামের প্রতি একটু মায়া দয়া হয়েছিলো তাও যেনো শেষ হয়ে গেলো,,,,নুবার কেমন কেমন হিংসা লাগলো যা সে অনুভব করলো,,, কালকে রাতে তার জন্য কাঁদল আর আজ হবু বউ এর প্রতি দরদ উতলে পড়ছে,,দু মুখো সাপ,,
তাও এটাই স্বাভাবিক কারণ নুবা যদি তাকে পাত্তা না দেয় তাও তার অন্ততপক্ষে আয়ারার জন্য তো কাউকে লাগবেই সেটা তো পরিই,,,তারা তো আর সিনেমার নায়ক নায়কা না যে তাদেরি মিল হবে তাই নায়ক তাতেই আটকে থাকবে,, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নেই,,সে রিজেক্ট করেছে,,যদি মেনে নিতো তবে কি আরহাম অন্য লাইনে যেতো,, আরহাম শুধু পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে,,,
উনা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো,,, পরপর রান্না ঘড়ের দিকে গেলো,,ইয়া বড় একটা তরকারির বল নিয়ে এগিয়ে আসলো,,,, আরহাম ফিরে তাকালো না,,,তাই নুবার কেমন একটা অনুভুতি হলো,,
নুবা একটু ঈর্ষায় ভুগলো তাই তরকারির বাটি নিয়ে যেএ আরহামের সামনে শব্দ করে রাখলো,,, হঠাৎ শব্দে আরহাম মাথা উঁচু করে তাকালো,,,পরপর নুবাকে দেখে আবারো মাথা নিচু করে নিলো,,,
নুবা পাত্তা না পেয়ে কেমন যেনো বিচলিত হয়ে পড়লো,,এর ভিতরে প্লেটে খাবার সার্ভ করা হলো,,,পরি এগিয়ে এসে আরহামের প্লেটে দুটো রুটি তুলে দিয়ে বললো
_ ডিম দিবো,,,,
নুবা আজ দ্বিতীয় বারের মতো আরহামের পাশে বসলো,, এদিকে হাজেরা এদিকে আসছিলো নুবাকে আরহামের পাশে বসতে দেখে মেয়েকে চোখ গড়ম দিলো,,,নুবা খেয়াল করেও খেয়াল করলো না,,,
হারুন মির্জা সবার দিকে এক পলক তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমার ডিম কোথায়,,,তেল দিয়ে পোস ডিম খাই না এটা কি কারো জানা নেই,,
তানিয়া দৌড়ে এসে বললো
_ এই যে ভাইজান দেরি হয়ে গেলো,,,
নুবার নিজের প্লেটে দুটো পরাটা তুলে নিলো,,, এদিকে পরি আরহামের আর এক পাশে বসলো,,,আয়রা ঘুমাচ্ছে,, লিভিং রুমে ছোট্ট দোলনায় শুয়ে আছে এখান থেকে দেখা যাচ্ছে,,,
পরি হাত বাড়িয়ে আরহামের প্লেটে ভাজি তুলে দিয়ে বললো
_ আর কিছু লাগবে,,
বলতে বলতে পানি এগিয়ে দিলো,,,নুবা কেমন কেমন লাগলো যেনো মুখটা চুলকাচ্ছে তার
এদিকে বিশাল ডাইনিং টেবিলজুড়ে একের পর এক খাবার সাজানো। গরম গরম ক্রোসাঁ থেকে ভেসে আসছে মাখনের ঘ্রাণ। পাশে নরম চিজ অমলেট, সোনালি হ্যাশ ব্রাউন, প্যানকেকের ওপর ঝরছে ম্যাপল সিরাপ। কাঁচের বাটিতে রঙিন ফল, ছোট ছোট জ্যামের জার, আর ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ যেন সকালের আভিজাত্যকে আরও পরিপূর্ণ করে ,,,এর ভিতরে আছে রুটি,,ভাজি,,,আরো কত কি যার যা ইচ্ছা হচ্ছে তাই নিয়ে খাচ্ছে,,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আর কিছু লাগবে না,,
এদিকে হারুন মির্জা আর আরাফ কোনো মতে নাকে মুখে ২ মিনিটের ভিতরে একটা রুটি খেলো,,আরাফ শুধু জ্যাম দিয়ে Bread খেএ নাকে মুখে ছুটলো আজকে দেরি হয়ে যাচ্ছে তাদের,,আরফ বাইরে ছুটলো হারুন মির্জা হাত টিস্যু দিয়ে মুছে বললো
_ অন্ততপক্ষে এবার একটু আফিসে আরো আরহাম,,,
আরহাম রুটিতে হাত দিতে দিতে বললো
_ ইনশাআল্লাহ,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চলে গেলেন,
নুবা পরটা ছিরে ভেজা ডাল মাখালো,,,দেশি খাবার বেশির ভাগ মানুষের নাস্তা,,,সে পরটা মুখে পুরে আর একটা পরটা নিয়ে আরহামের প্লেটে দিয়ে বললো
_ রুটি কেন খান,,পরটা খান,,,পরের আটা খেতে খুবি মজা,,,(কথাটা পরির দিকে তাকিয়ে বললো নুবা)
আরহাম পোরটা সরিয়ে রেখে বললো
_ আমি পরোটা খাই না,,,
নুবা ঠোঁট বাঁকিয়ে তাকিয়ে বললো
_ অনেক মানুষ প্রথম প্রথম অনেক কিছু অপছন্দ করে পরে আবার পছন্দ হয়ে যায়,,,একটা খেয়েই দেখেন,,
আরহাম কিছু বলবে তার আগে পরি বলে উঠলো
_ উনি তেল যুক্ত খাবার পছন্দ করে না নুবা,,,
নুবা চোখ বড়বড় করে বললো
_ ও তাই নাকি ভাবি,,আমি তো জানতামি না,,আসলে খোঁজ খবর রাখি না তো আপনি আবার সব জানেন দেখছি নিশ্চয় খোঁজ খবর নিয়েছেন,,কত ভালুপাসা,,,
পরি নুবার কথা ধরতে না পেরে হাসলো,,,তবে একটু অবাক হলো কারণ নুবা তাকে মেম ব্যতিত ভাবি কখনো ডাকেনি কিন্তু তার কাছে ভালোই লাগলো,,,
হাজেরা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ তাড়াতাড়ি খেএ উঠ,,এতো কথা বলিস,,
নুবা কিছু বলার আগে আমিনা বেড় বলে উঠলো,,
_ওদেরটা ওদের বুঝতে দেও তো হাজেরা,,ছোটোদের ভিতরে কথা বলে লাভ আছে,,,
হাজেরা মেয়ের দিকে গড়ম চোখে তাকিয়ে খাবার নিয়ে উঠে চলে গেলো,,,নুবা পাত্তা দিলো না,,এটা তার মায়ের অভ্যাস হয়ে গেছে চোগ গড়ম দেওয়া,,,
আরহাম শান্ত ভাবে খাচ্ছে এমন সময় নুবা পাশে বসা থাকা আরশির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ জানো আপু কিছু কিছু মানুষ আছে ন্যাকা কান্না করে,,,,আমি তোমাকে ভালোপাসি,,কত ভালুপাসা কিন্তু আসলে এমন কিছুই না সব ঢং,,,
আরশি শান্ত কন্ঠে খেতে খেতে সুধালো,,
_ আজকাল সবাই এমন প্রয়জন ফুরিয়ে গেলে ছেড়ে দেয়,,আগের মতো ভালুপাসা কোথায় পাবেন আপনি
আরশি বেঙ্গ করে কথা গুলো বললো,,,
নুবা আর কথা বাড়ালো না,,একটা পরোটা খেএ উঠৈ গেলো,,, পরপর আরহামের দিকে তাকিয়ে মুখ বাকালো বিরবির করে বললো”যতসব ফালতু ঢং”
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,
নুবা রুমে যেতেই হাজেরা রেগে বলে উঠলো
_ ওই ছেলের সাথে কি,,এতো কিসের কথা
নুবা বিরক্তে মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে বললো
_ দেখো মা তার বউ বাহিতে তুমি শুধু উল্টাপাল্টা ভাবো,,, please আমাকে উল্টা পাল্টা ভেবে রুমে আটকে মারার চেষ্টা করো না,,,আগের মতো সরল সোজা মা হয়ে যাও মা,, কারণ তোমার এই রুপ আমার ভালো লাগে না,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমাকে পুলিশের মতো পাহারা দেওয়া বন্ধ করো আমি চোর না,,
_ ওই ছেলে ভালো না বুঝিস না তুই,,
_ সেটা তো আমিই জানিই,,আর আমার রুচি এতো খারাপ পা please নিজের খোফিয়া গিরি ছেড়ে আমার আগের মা হয়ে যাও,,,
_ ওই ছেলের থেকে দূরে থাকবি,, দেখলেই অসভ্য মনে হয়,,
নুবা মনে মনে একটু হাসলো,,তার মা ঠিক চিনেছে,,তবে সে কিছু একটা অনুভব করলো,,,তার কাছে মনে হলো আর যাই হোক পুরুষ মানুষ মিথ্যা কান্না করতে পারে না,, মেয়ে মানুষ পারে তবে কান্নার ব্যপারে পুরুষ মানুষ খুবি লয়াল হয় কারণ চাইলেই কি কাঁদা যায়,,,
সকাল টা এভাবেই কেটে গেলো ,,, হয়তোবা দুপুরে আবারো দেখা হবে,,,হলোও তাই,,,
আয়রা পরির কাছে,,, দুপুর ২ টা নাগাত সবাইকে লাঞ্চ করার জন্য ডাকা হলো,,বরাবরের মতো আরহাম গোসল সেরে করিডোর পাড় করতে লাগলো তখনি দূর থেকে নজরে পড়লো নুবা এদিকে আসতে,,নুবাকে দেখে আরহাম মনে মনে তার নাম উচ্চারণ করে কিছু বিরবির বললো
_ ইয়া ওয়াদুদু(পরপর ১১ বার পড়লো সে)ইয়া সালামু (১১ বার),,
এগুলো পড়ে নিঃশ্বাস ফেললো সে,, মোবাইলে কোনো এক ভিডিওতে দেখছিলো সে,,,দূর থেকে কারো ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তার নাম মনে করে ইয়া ওয়াদুদু পড়তে হয় ১১ বার,,সামনের মানুষের মন নরম করার জন্য ইয়া সালামু,,,১১ বার,,তার জানা নেই ঠিক কিনা তবে চেষ্টা করতে সমস্যা কি ,, তবে হালাল হতে হবে,,একটু হলেও তো বৈধ,,তালহে কেন হবে না,,
আরহাম পড়া শেষ করতে করতে নুবা তার মুখোমুখি চলে আসলো,, আরহাম পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগলো,,,নুবা সামনে যেএ দাঁড়ালো,,, আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো,,নুবা কিছু সময় চেয়ে থেকে বলে উঠলো
_ ভালোবাসেন আমাকে,,(তার কন্ঠে কেমন বিদ্রোহ,, কেমন অদ্ভুত,, আশ্চর্য,,,)
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ না,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,মুখটা কিছুটা কালো হলো তার,,,নুবা একটু মেজাজ দেখিয়ে বললো
_ তাহলে বাল ফালায়তে সেদিন ওতোগুলো কথা বলছিলেন,,
আরহাম কেমন যেনো শান্ত বাচ্চা হয়ে গেছে,, আরহাম সরে যেতে যেতে বললো
_ আগের কথা তুলতে চাই না এর জন্য তোমার কাছে মাফ চেয়েছি,,,
নুবা আরহামের পড়নের হালকা নীল রঙা শার্ট টেনে ধরে বললো
_ কালকে কি অপমান করেছিলাম দেখে কাঁদছিলেন,,নাকি আমাকে পাননি বলে
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এই সব বলে বিব্রত করতে এসেছো আমাকে,,
নুবা উঁকি মেরে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ও,, তাহলে তো ভালো দিন দিন জ্ঞান বুদ্ধি বাড়ছে,,আগে তো ভাবতাম আপনি ঠোঁট কাটা তবে একটু আকটু লজ্জা শরম আছে,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ সমস্যা কি,,, তোমাকে তো তোমার মতো ছেড়ে দিয়েছি,,কোনো সমস্যা থাকার তো কথা না,,
নুবা চোখ বড় বড় করে আঙ্গুল নাড়িয়ে বললো
_ আপনি আমার জীবনে দখল আন্দাজি করেছেন এটাই সমস্যা,,,
_ ছেড়ে দিয়েছি,,সব মেনেও নিয়েছি,,
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৭
_ তাহলে কালকে এতো ঢং না করলেও পারতেন আমি আরো ভাবলাম,,,যাক গ্গে সুখে থাকুন ভালো থাকুন,,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ কি ভাবছিলে,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ কই কিছু না,,,এমনি,, আচ্ছা যান খেতে যান আপনার বউ অপেক্ষা করছে,
আরহাম উত্তর দিলো না,,,চলে গেলো,,নুবার কেমন কেমন শরীর জ্বলে উঠলো,,,একটু অধিকার বোধো দেখালো না,,, ভালোবাসে না আবার ঢং করে,,নুবার
