Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭০

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭০

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭০
সুরাইয়া জিয়াসমিন

আরহাম বাড়ি ফিরলে আজ তার শেষ দিন হবে,,,নুবা কিছু বুঝে উঠার আগেই পুলিশ আরহামকে আর একটা আঘাত করলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,, মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিলো যে সে কি করলো,, এখন কি করবে,,,
যখন আরহামকে নিয়ে তারা কিছুটা দূরে চলে গেছে তখন নুবা শুকনো ঢোক গিলে ছুটে যেএ তাঁদের সামনে দাঁড়ালো,,, আরহাম চেয়ে রইলো নুবার দিকে,,,
হঠাৎ এভাবে নুবাকে সামনে আসতে দেখে পুলিশ গুলো ভুরু কুঁচকে নিলো,, একজন বলে উঠলো
_ কি হয়েছে,,
নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ আপনারা কি উনাকে নিয়ে যাচ্ছেন,,

_ of course,,,
নুবা ভুরু দুটো নিচু করে কাঁদো কাঁদো চেহারা নিয়ে বললো
_ না নিয়ে গেলে হয় না,, actually উনাকে আমি চিনি,,,
একজন পুলিশ এগিয়ে এসে বললো
_ কি হয় তোমার,,
নুবা ডান হাত,,ফাতের ৫ আঙ্গুল দিয়ে কচলালো,,যেনো হাতের তালু ঘেমে গেছে,,পরপর একটু হাসার চেষ্টা করে বললো
_ ভাই,,,
সবাই তার দিকে তাকিয়ে রইলো,,, আরহাম একটু বেশিই তীক্ষ্ণ চাহনি দিলো,,নুবা বুঝতে পারলো কেউ বিশ্বাস করছে না,,তাই জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_ না না,,আসলে উনি আমার husband ,, আমাদের কোনো এক বিষয়ে মনোমালিন্য হয়েছিলো তাই আর কি,,আমি,,,আসলে আমি বুঝতে পারিনি এতো বড় ঝামেলা হয়ে যাবে,, please, আপনারা উনাকে ছেড়ে দিন,,,

নুবার মুখের কথা শুনে আরহাম তার দিকে সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো,,ভুল করে মিথ্যা ভেবে সত্যি বলে ফেললো মেয়েটা,তবে ভালোই লাগলো তার ,বিষয়টা enjoy করলো সে,,,
একজন পুলিশ এগিয়ে এসে বললো
_ প্রমাণ কি এটা তোমার husband,,(আসলে সব টাকা খাওয়ার ধান্দা)
নুবা ভাবতে লাগলো কি বলবে,,, এখন আরহামকে নিয়ে গেলে এতো বড় ঝামেলা হবে যার একমাত্র দোষী হবে নুবা,,,পরপর নুবা এগিয়ে এসে বললো,,,
_ বিশ্বাস করুন,,,উনার কসম,,
বলেই আরহামের উঁচু মথায় হাত রাখলো,,মরলে আরহাম মরুক,,নুবা কেন মরবে,,,
তার ভিতরে এক জন বলে উঠলো,,
_ এখন তো ছাড়া যাবে না,,, পুলিশ স্টেশনে এসে বিয়ের প্রমাণ দেখিয়ে নিয়ে যাবে,,,,
বলেই নুবাকে সাইড কেটে চলে যেতে লাগলো,, আরহামো বাঁধা দিলো না,,নুবার চোখ বড়বড় করে বললো
এরা তার থেকেও বড় ঘ্যাড়ত্যারা,,,ছাড়তেই চাইছে না,,,

নুবা আবার দৌড়ে যেএ তাদের সামনে দাড়িয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বললো
_ দেখুন আশে পাশের সবাই দেখছে sir,,একে তো আপনারা আমার সৌয়ামি (স্বামী)‌ কে আঘাত করে ঘোর অন্যায় করেছেন তার উপর আমাকে প্রমান দেখাতে বলেছেন,, লজ্জা থাকা উচিত আপনাদের,,সব টাকা খাওয়ার জন্য আমি কি কিছু বুঝি না নাকি,, আমার পেটের বাচ্চাটাও আপনাদের অভিশাপ দিবে,,আপনারা জানেন না উনি কে,, আপনাদের শরীর থেকে এই পোশাক ২ মিনিটে কেড়ে নিতে পারবে,, please আপনারা বোঝার চেষ্টা করুন,,, আমার ভুল ছিলো,,,আমি ক্ষমাপ্রার্থী দরকার পড়লে,,,,
বলেই নুবা পার্স থেকে ৩/৪ হাজার খানিক টাকা বেড় করে বললো
_ please ছেড়ে দিন আপনারা তো আমার বাপ ভাইয়ের মতো,,, please please আঙ্কেল ভাইয়া,,,
নুবা ছলছল দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকালো,,, একজন এসে নুবার হাত থেকে সবার অগোচরে টাকা গুলো নিয়ে বললো
_ ঠিক আছে,,,যাও ছেড়ে দিলাম,,,

নুবা চুপচাপ গাড়িতে বসে আছে,, আরহাম কিছু বলেছি শুরু ড্রাইভ করছে তবে ড্রাইভ করা দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে কেমন তেতে আছে,,
নুবা আর চোখে একবার আরহমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ sorry,,আমি বুঝতে পারিনি এভাবে আঘাত করে বসবে,,,
আরহাম কটমট করে বললো
_ তামাশা করে শান্তি মিলেছে তো,,
নুবা মুখ ঘুরিয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আপনিও কম করেননি,,কি দরকার ছিলো হাত ধরে টানাটানি করার,, আমাকে ভালো মতো বললে কি আমি নেমে আসতাম না,,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ তোকে প্রথমে আমি ভালো মতো বলিনি,,
নুবা তুরোকারি শুনে একটু তেতে উঠে বললো
_ কুত্তার মতো বলেছেন,,,আর আপনাকে আসতে বলছে কে মরে যাচ্ছিলাম আমি আর গেলেও কি,,
আরহাম নুবার দিকে তাকালো,,,নুবা ভীতু কন্ঠে বললো
_ সামনের দিকে তাকান,, এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে,,,

আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে গাড়ি এক পাশে পার্ক করে স্টিয়ারিংয়ে একটা বারি মেরে বললো
_ তোর নাকি ওই ছেলের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই,, কিন্তু গত সপ্তাহ ধরে তুই প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেড় হোস আর রাত ১০ টায় ফিরিস,,,আর তোর মা”ও কিছু বলে না,,,যেনো নিজেই শিক্ষা দিচ্ছে সব,,
নুবা মায়ের কথা শুনে রেগে বললো
_ একদম আমার মাকে নিয়ে উল্টো পাল্টা বলবেন না,,,
আরহাম ধমকে এগিয়ে আসলো,,,রাগি দৃষ্টিতে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ তৌসিফের সাথে ছিলি না তুই,,আবার কথা বলিস,,
নুবা চোখ মুখ খিচে বললো

_ হ্যাঁ আমি ছিলাম,,তাতে আপনার কি আপনিও তো পরির সাথে থাকেন আমি কখনো কিছু বলেছি,,আর আমাদের ভিতরে এরকম কোনো সম্পর্ক নেই যে কিছু বলবো তাই না,,আমি কার সাথে থাকি না থাকি সেটা তো আপনার দেখে লাভ নেই,, সেদিন যখন মুখের উপর দরজা লাগিয়ে পরির সাথে মজা নিচ্ছিলেন তখন আমি কিছু বলেছি,,,যখন পরিকে ডেকে ডেকে রুমে নিয়ে যান,,,আয়রাকে আমার কাছে দিতে না করেন,,তখন আমি কিছু বলেছি,,,যখন পরির সাথে সময় কাটার তখন আমি তো কিছু বলি না,, কারণ সবার ব্যক্তিগত জীবন আছে আর সে কি করবে না করবে সবি তার ব্যক্তিগত ব্যপার,,, বুঝলেন,,,
নুবা বলেই থামলো,,পরপর নাক টেনে কেঁদে উঠলো সে,,রাগে গজগজ করতে করতে বললো,,
_ মেয়েকে আমার কাছে দেওয়া আগে বলে দেন,,,” ফিড করানো শেষে নিয়ে আসবি ,,ওর কাছে রাখার দরকার নেই” নিজের বউকে ডেকে ডেকে রুমে নিয়ে জান,,,দরজা আঁটকে কি করেন আল্লাহ ভালো জানে,,, দিন দুপুর রাত সবসময় পরি পরি,, আপনার ইচ্ছা তাই আপনি ডাকেন আমি তো কখনো কিছু বলিনি তাই আপনারো বলার right নেই,, আবার আপনি নাকি আমাকে,,,,

নুবা একটু থেমলো,,,পরপর আবার বললো
_,আর লাং ঠাপাঠাপি, করবতে আসিনি আমি এখানে ,, আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই এসেছি,,,আর আসলেও কি আপনার সমস্যা কোথায় সেটাই বুঝতে পারিনা,,ভাব এমন করেন যেনো আমি আপনার বউ তাই আপনার অনুমতি ব্যতিতো কিছু করতে পারবো না,,,,I’m bored with all this please,, leave me,,, সেদিন বলেছিলেন সব মাটিচাপা দিয়েছেন তাহলে আবার খুঁড়ে তুলছেন কেন,,
আরহাম চুপ করে রইলো,,পরপর বলে উঠলো
_ তুমি আমাকে পছন্দ করো না তাহলে পরিকে ছাড়া কাকে ডাকবো,, নিশ্চয় তোমাকে না,,,
নুবা আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ তাহলে এখানে রঙ্গ করতে এসেছেন,, আসছেন কেন,,আমি আপনাকে পছন্দ করি না এখানেই কথা শেষ,,,এতো বাড়াবাড়ি কিসের,,
আরহাম উত্তর দিলো না,নুবা বিরবির করে বলে উঠলো,,,
_ আপনি কখনোই আমার life এ দখলআন্দাজি ‌করবেন না,, enough is enough,,,আপনি আপনার মতো আমি আমার মতো,,,আপনি কার সাথে কি করলেন,কার সাথে শুলেন কার সাথে থাকলেন,,আমি যেমন কোনো খবর রাখি না তেমনি আমার কার সাথে কোথায় গেলাম,,না গেলাম আপনি কিছু বলতে পারবেন না,,এখন আমি করাও সাথে রাত ১০ টায় এসে হোটেলে শুয়ে পড়ি বসে থাকি কিচ্ছু দেখার দরকার,,,,,,,

নুবা রাস্তার এক পাশে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,কথা শেষ হওয়ার আগেই এক চটকানা মেরে গাড়ি থেকে ফেলে রেখে চলে গেছে তাকে এমন কি পার্স টাও নিয়ে গেছে,,নুবা গাল থেকে হাত সরিয়ে বিরবির করে আরহামকে বকে উঠলো
_ বেয়াদব লোক কোথাকার,,, আল্লাহ মাফ করবে না কখনোই,,,বেয়াদব,,,বেহাইয়া,,, চরিত্রহীন,,,কয়টা লাগে আল্লাহই জানে,,,শয়তানের বাচ্চা,,,
বকা গুলো দিয়ে নুবা হাঁসফাঁস করে উঠলো,,এখন কি করে বাসায় যাবে সে,, হেঁটে হেঁটে,,,
রাত প্রায় ১১টা বাজে, চারপাশে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার।নির্জন রাস্তায় একা একা হাঁটছে নুবা, চারদিকে শুধু নীরবতা আর হালকা বাতাসের শব্দ।
রাস্তার মৃদু আলোয় তার ছায়াটাও যেন অচেনা লাগছে।মাঝে মাঝে দূরের কোনো শব্দে বুকটা কেঁপে উঠছে তার।ভয়ের মাঝেও নুবা নিজের সাহস জড়ো করে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে,,,
রাগে শরীর ফাটছে তার কতটা নিষ্ঠুর এই রাত করে একা রেখে চলে গেলো,,, নিশ্চয় আল্লাহ আল্লাহ তাকে মাফ করবে না,,,
নুবা হাঁটতে হাঁটতে সামনে তাকাতেই দেখালো অনাকাঙ্ক্ষিত গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে,,,আর গাড়িতে হেলান দিয়ে আরহাম দাঁড়িয়ে আছে,,,

নুবাকে আসতে দেখে আরহাম গাড়ি উঠে বসলো,,এটা ছিলো উল্টা পাল্টা কথা বলার শাস্তি,, ইচ্ছা তো করছিলো রেখেই চলে যেতে তবে কিভাবে যাবে যতোই হোক বউ তো তার,,
নুবা চোখ তুলে গাড়ির দিকে তাকিয়ে মুখ ভারি কন্ঠে গাড়ি উপেক্ষা করে চলে গেলো,, আরহাম তা খেয়াল করে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আস্ত ঘ্যাড়ত্যারার বাল,,,কিছু বুঝবে তো না শুধু নাটক করবে,,
বলতে বলতে আরহাম গাড়ি started দিয়ে নুবার পিছনে এগিয়ে গেলো,,পরপর আরহাম হর্ন বাজিয়ে উঠলো,,নুবা হঠাৎ এমন হওয়ায় কেঁপে উঠলো,,
আরহাম গাড়ির জানালা খুলে চেঁচিয়ে বললো
_ রাত করে নাটক কম করে গাড়িতে এসে বস,,
নুবা নাটকের কথা শুনে আরো এগিয়ে গেলো,,নাটক করছে সে,,ভালোই তো,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো

_ আসবি না তুই,,,
নুবা উত্তর দিলো না আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগলো,, আরহাম গাড়ি থামিয়ে,,গাড়ি থেকে বেড় হয়ে নুবার দিকে এগিয়ে গেলো,,নুবা পিছন ফিরে তাকালো,,আরহামকে আসতে দেখে কেন জানি দিলো এক দৌড়,,, আরহাম নুবার বাচ্চামো দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো,, আস্ত একটা আহাম্মক নাকি,,,
আরহাম পিছনে ছুটে বললো
_ দাঁড়া বলছি
নুবা পিছনে ফিরে দৌড়াতে দৌড়াতে বললো
_ যাবো না তোর সাথে,,,
বলছি দৌড়ের স্পিড বাড়ালো,, আরহাম হতোবাক হলো এই রাস্তায়,,এই রাত ১১ টায় কি সে দৌড় করতে এসেছে আশ্চর্য,,,
তবে আরহামের সাথে নুবা পারলো না,,খপ করে যেএ ধরে ফেললো নুবাকে,,নুবা ছটফট করে উঠলো আর বললো

_ ছাড়ুন বলছি,,যাবো না আমি,,,
আরহাম হাঁসফাঁস করতে থাকা নুবাকে কোলে তুলে নিলো,,,নুবার ছটফটানি কিছুটা কমে গেলো সে যেনো এটাই চাচ্ছিলো,,,খুব করে চাচ্ছিলো আরহাম জোর করুক তার সাথে,,,তার উপর অধিকার খাটার যে”যাবি না কেন তোকে যেতেই হবে”
হঠাৎ নুবাকে শান্ত হতে দেখে আরহাম ফিরে তাকালো তার দিকে,,,নুবা দুই হাত দিয়ে গলা জরিয়ে ধরলো তার বিরবির করে বললো
_ ফেলে দিবেন না তো,,
_ আর একটা কথা বললে ঠিকি দিবো,,
নুবা পা ঝুলিয়ে বিরবির করে শান্ত কন্ঠে বললো
_ তৌসিফ শুরু আমার বন্ধুর মতো,,আর আমি এখানে আসি কয় একটা বাচ্চার জন্য,,,,ওরা আমি আসলে অনেক খুশি হয়,,(পরপর নুবা বিরবির করে সব খুলে বললো)
নুবা নিজ ইচ্ছায় সব খুলে বলছে দেখে আরহামের প্রচন্ড ভালো লাগলো,, আরহাম এগিয়ে যেএ নুবাকে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে চাইলো,,,নুবা ছাড়লো না আরহামকে,,গলা জরিয়ে ঝুঁলে রইলো,,, আরহাম চোখ তুলে নুবার মুখের দিকে তাকালো,,নুবা কাতর কন্ঠে সুঝালো
_ আমি বুঝতে পারিনি ওরা আপনাকে এভাবে আঘাত করবে,,,sorry,,,
আরহাম বিরবির করে বললো

_ শুধু sorry,,,
নুবা চোখ টিপটিপ করে তাকালো,,,গাড়ির ভেতরে হালকা আলো জ্বলছে, সেই মৃদু আলোয় নুবা আর আরহামের মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।দুজনের মাঝের দূরত্ব খুবই কম, নীরবতায় যেন অনেক না বলা কথা জমে আছে।নুবার চোখে এক ধরনের অনুভূতি, আর আরহামের দৃষ্টিতে গভীরতা।বাইরের রাতের অন্ধকারের মাঝে গাড়ির ভেতরটা যেন আলাদা এক জগৎ হয়ে উঠেছে।দুজনেই চুপ, শুধু মুহূর্তটা নীরবতায় ভরপুর,,
নুবা কি বলবে বুঝে পেলো না,,, আরহাম নুবার মুখ পানে চেয়ে ফিসফিস করে বললো
_ I want to do this.,,,
আরহামের চোখ দুটো ধীরে ধীরে নুবার লালচে ঠোঁটের দিকে থেমে গেল।তার দৃষ্টিতে ছিল এক গভীর অনুভূতি, যেন অনেক কথা নীরবতায় লুকিয়ে আছে।
নুবার উপস্থিতিতে মুহূর্তটা আরও শান্ত আর মায়াবী হয়ে উঠলো।দুজনের চোখের মাঝে জমে থাকা অনুভূতিগুলো যেন শব্দ ছাড়াই প্রকাশ পাচ্ছিল,,
নুবা আরহামের এক কাঁধে হাত রেখে তার দিকে তাকালো,,,না করবে সে,,নাকি, হ্যাঁ করবে,,কি করবে সে,,নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কম্পিত কন্ঠে বললো,,
_ আপনি কি সত্যিই চাইছেন,,,
আরহাম অনেকটা এগিয়ে এসে ছোট্ট করে বললো

_ হুম,,,
নুবা চোখ মুখ টানটান হয়ে বললো
_ ভালো তো বাসেন না,,
_ এটা আবার কি,,,বিয়ে করতে চাই,,,
_ পরি,,,
_ জাহান্নামে যাক,,,
নুবা আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরহাম নুবার অধর আস্তে করে দখল করে নিলো,,,
নুবা আবেশে চোখ বুঝে ফেললো, চারপাশের সবকিছু যেন মুহূর্তের জন্য থেমে গেলো।দুজনের মাঝে জমে থাকা অনুভূতিগুলো নীরবতায় আরও গভীর হয়ে উঠলো।আরহামের স্পর্শে নুবার মনে এক অদ্ভুত শান্তি আর মায়া ছড়িয়ে পড়লো।রাতের নিস্তব্ধতার মাঝে সেই মুহূর্তটা তাদের দুজনের কাছেই বিশেষ হয়ে রইলো,,,
নুবা কেমন তিরতির করে কেঁপে উঠলো,, শক্ত করে আরহামের পেশিবহুল বাহু আর বক্ষ স্থল আঁকড়ে ধরলো,,, আরহাম আর একটু গভীর হলো,,,,

অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু দুটোর সংঘর্ষ একটু একটু করে বাড়লো,, আরহাম অনুভব করলো নুবার ছোট্ট পাতলা অধর দুটো কাঁপছে,,,তবু নিজের পাষান্ডু অধর দিয়ে চেপে ধরে রইলো,,,নুবা রেসপন্স করলো না শুধু আরহমকে নিজের মতো মন-মতলবি করতে দিলো,,,
মিনিট খানিক পর,, আরহাম নুবাকে শাঁস নিতে দিলো তবে ছাড়লো না,,নুবার আরহামের ঠো,,টের ফাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিলো,, হাঁপিয়ে উঠলো সে,,বুক ধুকপুক করতে লাগলো তেমন ভয় লাগতে শুরু করলো,,, আরহাম সেকেন্ড খানিক সময় নিয়ে আবারো নিজের কারসাজি চলোমান করলো,,
এক অদ্ভুত অনুভূতি যা নুবার কখনো হয়নি,,কখনোই না নুবা অনুভব করছে,,ভয় মিশ্রিত কেমন আনন্দদায়ক,,, কেমন অস্থিরকর,,, আশ্চর্যের ব্যপার হচ্ছে নুবার খারাপ লাগছে‌ না বরং ভালোই লাগছে,,
আরো মিনিট খানিক সময় নিলো আরহাম তার পর হালকা সরে আসলো,,,নুবা আরহামের দিকে তাকানোর সাহস পেলো না,,, ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো নুবা,,শুধু বিরবির করে বললো

_ কয়টা লাগে আপনার,,, চরিত্রহীন,,
আরহাম ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলো,,নুবার গালে গাল ঠেকিয়ে বললো,,
_ একটা হলেই চলবে,,
নুবার ঠোঁট দুটো কম্পিত হলো,,নাক টেনে বললো
_ তবে পরির সাথে কি ছিলো,,,
আরহাম নুবার ঠো,,টে গাল ঠেকিয়ে বললো
_ একটা সময় খুলে বলবো,,সময় হোক,,,
নুবা আরো ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ কি খুলে বলবেন,, লুচ্চা,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৯

আরহাম গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ একদমি না,,, শুধু তোমার ক্ষেত্রে,,,
_ মিথ্যা,,সব মিথ্যা,,,
_ অভিমান করিও না সব বলবো সময় দেও,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ আমার first kiss ছিলো,,আমি আমার husband এর জন্য বাঁচিয়ে রেখেছিলা

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here