নূর ই মহব্বত পর্ব ১৬
তাবাসসুম তাজ্বওয়ারী
আযলান তার মাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নওমির বাসার সামনে। আযলানের মা বারবার জিজ্ঞেস করছে কোথায় এসেছি! আযলান বারবার বলছে ধৈর্য ধরো আম্মু।
– এই আহিল ঠিক করে বল তো কোথায় এনেছিস? এখানে কে থাকে?
আহিল হাত বাড়িয়ে ডোর বেলে হাত দিয়ে হেসে বললো,
– এসেই তো গেছি! দরজা খুললেই বুঝবে।
একবার বেল দিতেই দরজা খুলার শব্দ হলো। আহিলের মা সামনে তাকিয়ে দেখলো একটা অপরিচিত মেয়ে। তিনি আহিলের দিকে তাকাতেই আহিল চোখের ইশারা করলো। অপরিচিত মেয়েটা তাকে সালাম দিয়ে ভেতরে যেতে বললে তিনি সালামের জবাব দিয়ে ইতস্তত করে ভেতরে গেল। পিছে পিছে আহিলও ঢুকলো। তার চোখ ঘরের এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করছে কিন্তু কাঙ্খিত ব্যক্তিগণদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। অপরিচিত ব্যক্তি অর্থাৎ তুহি নয়না বেগমকে বললেন,
– বসেন আন্টি।
নয়না বেগম বসলেন। আহিল ইশারাই তুহিকে কিছু বললে তুহি ঘাড় নেড়ে ভেতরে চলে গেল। তুহি যেতেই নয়না বেগম ফিসফিস করে বললেন,
– তোর কাজ কিছুই আমার মাথায় ঢুকছে না! তুই কোথায় এনেছিস?
– ওই দেখো…
চোখের ইশারা করে বললো আহিল। নয়ন বেগম ভ্রু কুঁচকে পেছনে তাকালো তখনই পর্দার আড়াল থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসলো নওমি। নয়ন বেগম থমকে গেলেন। তিনি কি ঠিক দেখছেন? একবার মাথা ঘুরিয়ে আহিলের দিকে তাকাল। ছেলেটার মুখে উপচে পড়া হাসি। তিনি আবার নওমির দিকে তাকালেন। কুঁচকানো ভ্রু এবং কপাল শিথিল হয়ে এলো। কথা বলতে চাইছেন কিন্তু কণ্ঠ কাঁপছে।
এদিকে নওমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ওড়নার এক অংশ চেপে ধরে আছে। আগাতেও পারছে না আবার পেছনেও যেতে পারছে না। কেমন যেন অস্বস্তিরা জেঁকে বসেছে তার মধ্যে। বারবার ঢোক গিলছে। আচ্ছা? নয়না বেগমের রিয়েকশন কি হবে? তিনি কি কথা বলবেন? নাকি রেগে আছেন? নাকি ওনারও অস্বস্তি হচ্ছে? এসব ভাবতে ভাবতে দেখলে পেল নয়না বেগম এগিয়ে এলেন। নওমির সামনে এসে দাঁড়ালেন। কাঁপা কাঁপা হাত বাড়িয়ে ওকে ছুঁয়ে দিয়ে বললেন,
– তু… তুমি আমাদের নওমি? আমি ঠিক দেখছি?
কতদিন পর আবার এই স্বর শুনতে পেল। পুরনো স্মৃতিরা মস্তিষ্কে হানা দিচ্ছে। নওমি ঠোঁট চেপে উপর নিচ মাথা নাড়ল মুখে কিছু বলতে পারলো না। নিজের অজান্তেই নয়না বেগমের হাত মুখে চলে গেল যেন তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না এটা নওমি! এক ফোঁটা চোখের পানি গাল বেয়ে ঝরে গেল। কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন,
– নও.. নওমি! কোথায় ছিলি তুই? কোথায় চলে গেছিলো? এতগুলো বছর আমাদের মনে পড়লো না?
এবার আর নওমি নিজেকে সামলাতে পারলো না। দুই হাতে মুখ চেপে ডুকরে কেঁদে উঠলো সে। নয়না বেগম ওকে বুকে টেনে নিলো। পিঠে হাত বুলিয়ে বললো,
– কেমন আছিস মা? কত বছর পর তোকে দেখলাম! কেন চলে গেলি বল তো মা? একটা বারও এই মায়ের কথা মনে পড়ল না তোর? তোর শ্বশুর আব্বু যে তোকে কত খুঁজেছে ওনার শেষ দিনগুলোয়…
বলতে বলতে কথা গলায় দলা পাকিয়ে গেল। নওমি হেঁচকি তুলে বললো,
– আমাকে মাফ করে দিন আম্মু। আমি… আমি আসলেই নিরুপায় ছিলাম।
নওমির মুখে অনেকদিন পর ‘আম্মু’ ডাকটা শুনে নয়না বেগমের বুকটা জুড়িয়ে গেল। তিনি পরম মমতায় ওর গাল দুটো হাত দিয়ে মুছে দিলেন। নওমি থেকে চোখ সরিয়ে চোখে পড়লো নওমির কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছোট বাচ্চা যে গোল গোল চোখে ওনাকেই দেখছে। মুহূর্তেই অজানা চিন্তায় বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। নওমিকে এতদিন পর দেখায় আবেগের বশে ভুলতে বসেছিল নওমি এখানে কেন? কারা এরা? ওর কি নতুন কোনো সংসার আছে? নওমিকেই বা আহিল কোথায় পেল?
এসব ভাবনার মাঝে আহিল এগিয়ে এলো। নয়না বেগম দুজনের দিকে এক পলক তাকিয়ে নওমির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
– এই বাচ্চাটা কে মা?
নওমি কিছুক্ষণ কাচুমাচু করলো। আহিল চুপচাপ দাঁড়িয়ে ওর দিকে অপলক তাকিয়ে। নওমি একটু পর মাথা তুলে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,
– আ… আমার ছেলে। আদনান…. আদনান আজওয়াদ!
“আমার ছেলে” শুনে যেই ভয়টা অনুভব করেছিল “আদনান আজওয়াদ” শুনে তার থেকে বেশি খুশি অনুভব করল নয়না বেগম! আজওয়াদ যেহেতু দিয়েছে তাহলে তো আহিলের ছেলে! তিনি খুশির সঙ্গে অবাক হলেন ভীষণ। আহিলের ছেলে! এক পলক নিচে তাকিয়ে দেখলেন বয়স মনে হচ্ছে দুই আড়াই বছর। তার মানে? তিনি বিস্ফো’রিত চোখে নওমির দিকে তাকাল। নওমি চোখ নামিয়ে ফেলল। নয়না বেগম অবাক কণ্ঠে প্রশ্ন করল,
– তুই আমাদের কিছুই জানালি না? আমাদের ফেলে তো এলি অথচ আমাদের বংশধর সম্পর্কে খোঁজই দিলি না!
নওমি প্রতিত্তর করার কিছু খুঁজে পেল না। সত্যিই তো বলেছেন! সে তাদের জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি। করবে কিভাবে সে নিজেই তো ছিলো মাঝ সমুদ্রে! তখন তো আহিল আর ও নিজেদের বিশ্বাস নিয়ে মেতে ছিলো। নওমি উল্টো তাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতেই চেয়েছিলো কারণ দুনিয়াতে তো আদনান ছাড়া তার কেউ নেই!
নয়না বেগম নওমিকে ছেড়ে আদনানের সামনে ঝুঁকে বললো,
– কেমন আছেন দাদুভাই?
আদনান ভয়ার্ত চোখে নওমির দিকে তাকাল। নওমি ভেজা চোখে হাসলো যাতে আদনান আশ্বস্ত বোধ করে। নয়না বেগম ওর পানে হাত বাড়িয়ে কাছে ডাকলেন,
– আসো দাদুভাই! আমার কাছে আসো তো দেখি!
আদনান একবার মায়ের দিকে আবার তুহির দিকে তাকাল। মা আর টুয়ি যেহেতু আছে কিছু হবে না এই ভেবে আদনান ছোট ছোট পা বাড়িয়ে একটু এগোলো। নয়না বেগম ওকে কোলে নিয়ে দাড়িয়ে গেল। আদনানকে দেখে ওনার মুখ থেকে হাসি সরছেই না! কি আদুরে বাচ্চাটা! এটা আমার আহিলের ছেলে? হ্যাঁ মিল আছে তো! তিনি আদনানকে নিয়ে আহিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আহিলের মুখেও হাসি। সে এগিয়ে এসে আদনানকে ডাকলে আদনান কিছু বললো না। আহিল হেসে ওকে নিজের কোলে নিয়ে বুকে চেপে ধরলো।
আহিলের মা বাচ্চাদের মতো উৎফুল্লের সাথে আহিলকে বললেন,
– এটা সত্যিই তোর ছেলে আহিল?
মায়ের প্রশ্নে আহিল বুক ফুলিয়ে বললো,
– হ্যাঁ আম্মু! এটা আমারই ছেলে!
আহিলের মা আবার আদনানকে ওর কোল থেকে টেনে নিজের কোলে নিলো। এভাবে বারবার অপরিচিত, অর্ধ পরিচিত একেকজনের কোলে ট্রান্সফার হওয়া আদনান ভয় পেয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে ফেলল। মা দূরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে কিন্তু তাকে নিচ্ছে না দেখে মুহূর্তেই কেঁদে উঠল হাত বাড়িয়ে। নওমি তড়িঘড়ি করে এগিয়ে আসলো। আদনানকে নিজের কোলে নিয়ে ওর চোখ মুছে দিল। আড়চোখে একবার আহিলের দিকে তাকালো। আহিল ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলো। চোখে চোখ পড়তেই চোখ সরিয়ে আদনানের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে বললো,
– কাঁদতে হয় না বাবা! এটা… এটা তোমার দাদু হয়!
আদনান কান্নার গতি কমিয়ে গোল গোল চোখে তাকালো। সে তো চিনে দাদুকে! তার মা তো তাকে বলেছিল!
এদিকে আহিলের বুকে ধাক্কা লাগল। সে আশা করেছিলো নওমি হয়তো এটাও বলবে যে আযলান ওর বাবা। কিন্তু না, দাদুকে পরিচয় করালো অথচ মুখ ফুটে বলল না, “এটা তোমার বাবা!” সে বুক ভরে একটা দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু বাতাস যেন তার ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছাল না। মন খারাপ হলো, বুক ভার হলো কেন যেন।
আজ এত খারাপ লাগছে কেন? যেদিন হাসপাতালে আদনান “বাবা” বলেছিলো তাকে সেদিন তো কোনো অনুভূতি হয় নি! নওমি যখন ওর সামনে দাঁড়িয়ে অস্বীকার করে বলেছিল সে ওর বাবা নয় তখন তো খারাপ লাগে নি? আজ কেন লাগছে? জেনেছে বলে? সে তো সেদিন চিনতেই পারে নি! নওমি বোধহয় বুঝলো আযলানের মনের অবস্থা কিন্তু সে আহিলের দিকে তাকালোই না! আদনানকে শান্ত করে দাদুর সাথে পরিচয় করিয়ে ওর সাথে সহজ করে দিল।
আর আহিল শুধু একদৃষ্টে নওমি আর তার ছেলের দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু মন খারাপ রাখল না। মনে মনে ভাবল,
“আম্মুকে দাদু বলেছে মানে আমি তো বাবাই হবো! বাচ্চাদের মতো রাগ করলে হবে না আহিল! একবার রাগ করে সব হারিয়েছিস এবার আর তা করলে হবে না, একদম না। তাছাড়া এই মুহূর্তগুলো আমি অনুভব করতে চাই। রাগ করে মন খারাপ করে কাটিয়ে দিলে পরে নিজেই আফসোস করবি!”
এই ভেবে সে মুখে হাসি ফুটিয়ে পকেট থেকে দুটো চকলেট বের করলো। আদনানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
– নিবে আদনান?
আদনান চকলেটগুলো দিকে হাত বাড়িয়ে নিতে গেলে আহিল সেগুলো সরিয়ে দিয়ে বললো,
– নিতে হলে আমার কোলে আসতে হবে। নো কান্নাকাটি!
আদনানের চেহারা দেখে মনে হলো সে চিন্তিত কি করবে। আহিল হেসে দুই হাত বাড়াল অর্থাৎ কোলে আসো। আদনানও সুড়সুড় করে হাত বাড়িয়ে দিল মায়ের কোল থেকে। আহিল ওকে কোলে তুলে চকলেট হাত দিয়ে বললো,
– নাও।
আদনান খুশি মনে আহিলের কোলেই বসে রইল। আহিল ওকে একটু পর পর চুমু খাচ্ছে আবার গাল টিপে দিচ্ছে। মন চাচ্ছে কচলে ফেলতে! এত আদুরে বাচ্চাটা যে তার যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না! ইশ ও ছোটবেলায় নিশ্চয়ই আরও কিউট ছিলো? দেখতে পারলো না। আদনানের ছোটবেলার কথা মনে পড়তেই মনটা একটু খারাপ হলো। তবে যেমনই হোক আদনানকে নওমি খারাপ রাখে নি। খুব যত্ন করেই বড় করেছে বোঝা যায়। কিন্তু নওমিকে অনেক সাফার করতে হয়েছে এইটুকু বুঝতে পারে আদনান। একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে সমাজে চলা কম কথা না! আমাদের সমাজ তো মেয়েদের ছোট করেই দেখে! কিছু না করেও দোষী বানাতে ছাড়ে না তার উপর নওমির সাথে পরিবারের কেউই ছিলো না।
– আম..মা!
আদনানের আওয়াজে ধ্যান ভঙ্গ হলো আহিলের। নওমি আর তার মা রান্নাঘরে যেটা এখন থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। আদনান নওমির দিকে ইশারা করে ডাকছে যে। অর্থাৎ মায়ের কাছে যাবে। আদনান ওকে চেপে ধরে বললো,
– কেন রে মায়ের কাছে তো সারাক্ষণই থাকিস! আমার কাছে একটু থাকলে কি হয়?
আদনান ফ্যালফ্যাল নয়নে তাকিয়ে থাকলো। সে দৃষ্টি দেখে আহিল বললো,
– আমি তোর বাবা! আমার কাছে থাক। মায়ের কাছে পরে যাস।
– বা…ব্বা?
কি কিউট করে বললো! আহিল হেসে ওর গাল টেনে টুপ করে চুমু দিয়ে বললো,
– হ্যাঁ বাব্বা! একবার বাবা বলো তো?
এবার আদনান চুপ হয়ে গেল। বাবা তো দূর কোনো কথায় বললো না। আযলান হতাশার শ্বাস ছেড়ে বললো,
– তোকে কি’ডন্যা’প করে নিয়ে যাবো বুঝলি তখন আমার সাথে থাকতে হবে।
আদনানকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে জিভ কে’টে বললো,
– ইশ কি বলে ফেললাম! না তোমাকে কিছু করবো না আমি। তোমার মায়ের থেকে আলাদা করবো না বলেছি না? এইটা ভুলে মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। তুমি মায়ের কাছেই থাকবে তোমাকে আর তোমার মাকে আমার কাছে নিয়ে যাবো।
আদনান নামার জন্য ছটফট করতে লাগলো। তা দেখে আহিল বললো,
– আরে বললাম তো কোথাও নিবো না, এমন করছিস কেন হু? থাক না আমার কোলে। হয়েছিস মায়ের মতো জেদি তাই না?
আদনানের ছটফটানি কমলো না। আহিল ওর গালটা আলতো করে ছুঁয়ে একটু হাসল, তারপর আদনানকে আলতো করে কোল থেকে নামিয়ে মেঝেতে দাঁড় করিয়ে দিল। মেঝেতে নামতেই আদনান দুই হাতে চকোলেট দুটো শক্ত করে ধরে দৌঁড়ানোর চেষ্টা করে রান্নাঘরে চলে গেল। আহিল হেসে ফেলল ওকে এমন দৌঁড়াতে দেখে। তারপর সোফায় হেলান দিয়ে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার চোখ জোড়া রান্নাঘরের দরজার দিকেই আটকে রইল। ওখান থেকে ও স্পষ্ট দেখতে পেল, নওমি আদনানকে আসতে দেখে নিচু হয়ে ওকে নিজের কাছে টেনে নিল। আদনান খুব উৎসাহ নিয়ে আহিলের দেওয়া চকোলেট দুটো উঁচিয়ে ওর আম্মুকে দেখাচ্ছে। নওমি চকোলেট দুটোর দিকে তাকিয়ে একবার আড়চোখে ড্রয়িংরুমের দিকে তাকাল, যেখানে আহিল একদৃষ্টে ওদের দিকেই চেয়ে আছে। নওমি দ্রুত চোখ সরিয়ে নিয়ে আদনানকে ওখানকার একটা ছোট টুলে বসিয়ে দিল। আদনান টুলে বসে একবার ড্রইং রুমে উঁকি দিলো। আহিলকে দেখে ফিচফিচ করে হেসে দিলো সেটা দেখে আহিলের মনে পাখিরা যেন ডানা মেলে উড়াল দিল! বিড়বিড় করে বললো,
নূর ই মহব্বত পর্ব ১৫
– আমি যে তোমাদের অপেক্ষাতেই আছি! আমি হাল ছাড়বো না যত যাই হোক! আজ আদনান বাবা বলতে থেমে যাচ্ছে, তুমি পরিচয় দিতে অস্বস্তিতে পড়ছো কিন্তু একদিন ও নিজেই দৌড়ে এসে আমার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলবে, “তুমি আমার বাবা।” ইনশাআল্লাহ্!
