নূর ই মহব্বত পর্ব ৯
তাবাসসুম তাজ্বওয়ারী
– আমরা একটু বসে কথা বলি? বেশি সময় না, অনলি টেন মিনিটস! সময় নষ্ট হবে না। প্লিজ চলো আবরার!
আবরার না চাইতেও রাজি হলো। হঠাৎ এতগুলো বছর পর আযলানের হুট করে এখানে আসার কারণ বুঝতে পারছে না। কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলাটা নিরাপদ নয় বুঝতে পেরে আবরার তার এসিস্ট্যান্টকে ক্যাশ সামলানোর দায়িত্ব দিল। তারপর আযলানের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
– আমার শিফট শেষ হতে আরও আধঘণ্টা বাকি। পেছনের স্টাফ রুমে চলুন, ওখানেই কথা বলা যাবে কিন্তু আপনার কোনো অযৌক্তিক কথা শুনতে আমি রাজি নই।
– কোনো অযৌক্তিক কথা বলবো না। চলো!
স্টাফ রুমের এক কোণে দুটো প্লাস্টিকের চেয়ার আর একটা ছোট টেবিল। আবরার একটা চেয়ার টেনে বসে আযলানকে বসার ইশারা করল। আযলান বসার পর রুমের ভেতর কয়েক সেকেন্ডের একটা থমথমে নীরবতা বিরাজ করল।
নীরবতা ভেঙে আবরারই প্রথম শক্ত গলায় বলল,
– বলুন, কী বলতে চান? দশ মিনিট সময় দিয়েছেন, তার এক সেকেন্ডও আমি বেশি দেব না।
আযলান টেবিলের ওপর দু-হাত রেখে কিছুটা ঝুঁকে বসল। সে সোজা আবরারের দিকে তাকিয়ে কোনো ভণিতা ছাড়ায় বললো,
– নওমির ঠিকানা লাগবে আমার।
আযলানের কথায় চকিতে তাকাল আবরার। এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হলেও পরক্ষণেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। সে কঠোর কণ্ঠে কিছু বলতে যাবে তার আগে আযলান থামিয়ে দিয়ে বললো,
– কুল! ঠান্ডা মাথায় কথা বলি? একটুতেই এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই।
আবরারের মাথা ঠান্ডা হওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি গরম হয়ে যাচ্ছে। এত কাহিনী হওয়ার পরও বলছে ঠান্ডা মাথায় কথা বলি! এ কি মানুষ!
– আপনি কিভাবে বলতে পারছেন ঠান্ডা মাথায় কথা বলার জন্য? আপনার কাছে নওমির জীবন তুচ্ছ হলেও আমার কাছে আমার বোনের জীবন অনেক কিছু!
– নওমির জীবন আমার কাছে তুচ্ছ!! তুচ্ছ কেন হতে যাবে?
অবাক কণ্ঠস্বর আযলানের। আবরার তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললো,
– তুচ্ছ নয় বলছেন? আপনার মুখে এটা মানায় না ডক্টর আযলান!
আযলান চোখ বুজে নিজেকে শান্ত করে আবার বললো,
– ওকে এক্সট্রা কথা না বলি! আমি জাস্ট যেটা বলতে এসেছি আর জানতে এসেছি সেটা জেনেই চলে যাবো।
আবরার নিজের কথা বজায় রেখে বললো,
– নওমির ঠিকানা কেন ওর কোনো খোঁজই আমি দেবো না। আপনি আসতে পারেন!
আযলান অসহায় চোখে তাকালো। সবাই তো ওকে ভুল বুঝে বসে আছে এখন কি করবে সে? সত্যিটা জানতে গেলে তো নওমির মুখোমুখি হতেই হবে। সে নমনীয় কণ্ঠে বললো,
– দেখো ভাই আবরার, আমার সত্যিই নওমির ঠিকানা দরকার! একটা বড়শড় মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে এখানে…
– এত বছর পর এসে আপনার মনে হচ্ছে মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং?
আযলান দমে না গিয়ে বলল,
– দেখো পুরো বিষয়টা আমাকে বলতে দাও? আমাদের দুজনের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি করা হয়েছে! কে করেছে কেন করেছে জানি না কিন্তু সে সফল হয়েছে! যেটা আমরা কেউই বুঝতে পারিনি এত বছর! উল্টো আমরা দুজনই একটা চরম নোংরা পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলাম। এখন যখন বুঝতে পারছি এটা কি সমাধান করা উচিত না?
আবরার একটা তপ্ত শ্বাস ফেলে পিঠ সোজা করে বসল। তার রাগ খুব একটা কমেনি। সে একইভাবেই বললো,
– কে কি করেছে না করেছে সেটা এখন আর আমার জানার বিষয় না। যখন নওমি একা জীবনে লড়েছে, যখন নওমিকে সন্দেহ করেছেন তখন আপনার এই সত্য খোঁজার তাগিদ কোথায় ছিল? আজ সব শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসেছেন সমাধান করতে?
– শুধু আমার দোষটাই দেখছো তোমরা! কিন্তু এখানে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে সেটা তোমরা বুঝতে পারছো? আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম নওমিকে বিশ্বাস করতে কিন্তু সব এমনভাবে ঘেটে গেল! যাইহোক যেটা হয়ে গেছে সেটা বাদ এখন সব ঠিক করার সময়। তুমি প্লিজ আমাকে হেল্প কর!
আবরার নিজেও বুঝতে পারছে এখানে দুইজনই পরিস্থিতির স্বীকার। নওমি ওর বোন হওয়ায় ওর জন্য মায়া লাগছে ঠিকই কিন্তু আযলানও কম কষ্ট পায়নি। আর নওমিও খোলামেলা কিছুই শেয়ার করেনি কিন্তু ওর কথায় অনেক কিছু লুকিয়ে আছে যেগুলো এক মাত্র খোলামেলা কথা আলোচনায় উঠে আসবে! সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
– আমি আপনাকে শুধু একটা সূত্র দিতে পারি, কিন্তু নওমির ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি বা আপনি, কেউই কিচ্ছু করতে পারব না। ও যদি আপনাকে ক্ষমা না করে, তবে আমি ওর ভাই হিসেবে আপনাকে আর কোনোদিন ওর ছায়াও মাড়াতে দেব না। আপনি চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নওমি যা চাইবে, সেটাই হবে।
আযলান চট করে আশার দৃষ্টিতে তাকালো যেন চাতক পাখি মেঘের সন্ধান পেয়েছে। সে ব্যাকুল হয়ে বলল,
– নওমির ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো জোর করবো না আমি। সেটা নিয়ে চিন্তা নেই ওকে আমি রাজি করাবো তুমি আমাকে ওর সন্ধান দাও শুধু।
আবরার একটু ভেবে বলল,
– ওর বাসার ঠিকানা আমি দেবো না। নওমি এক বাচ্চা নিয়ে থাকে এমনিতেই সোসাইটিতে ওদের এমনভাবে দেখা হয় যেন অপরাধ করে ফেলেছে তাই এমন সময় একজন পুরুষের উপস্থিতি ওরা ভালো চোখে নিবে না। আপনি যে ওর কে সেটা ওরা জানবে না। সো আপনাকে আমি অন্য ব্যবস্থা করে দিতে পারি।
– কি?
– নওমি লিটল অ্যাঞ্জেলস কিন্ডারগার্টেন এ পড়ায়। আপনি ওখানেই যান। আজ দুপুর একটায় ছুটি হবে। তবে হ্যাঁ মনে রাখবেন, কোনো জোরজবরদস্তি নয় কোনো রাগারাগি করবেন না!
আযলান দ্রুত উঠে দাঁড়াল। ফোন হাতে নিয়ে বেরোতে বেরোতে বললো,
– থ্যাংকস আবরার!
এর পরই নওমি আর আযলানের দেখা। আযলান এগুলো ভাবতে ভাবতে বাড়ি পৌঁছে গেল। অন্যদিনের চেয়ে হালকা লাগছে কিছুটা। এবার শুধু সবটা মিটমাট করার অপেক্ষা! নওমি আর ওর খোলামেলা কথা বলতে হবে দুজনের মধ্যে কথা না হলে কখনোই ঠিক হবে না।
এদিকে নওমি ঘরে আসার পর থেকেই কেমন শান্ত হয়ে আছে। সে জানে আযলান এতো সহজে পিছিয়ে যাবে না। আদনানের কথা ভাবলেই কান্না পাচ্ছে তার। যদি তার ভয়গুলো সত্যি হয়? আযলান কি ছেলের খোঁজ পাওয়ার কারণে ওর সামনে এসেছে? এখন নাটক করছে নিশ্চয় আদনানকে ওর থেকে কেড়ে নিয়ে তারপর আগের মতো হয়ে যাবে! এই একটা মানুষ কীভাবে এতগুলো বছর পর হুট করে এসে তার গুছিয়ে নেওয়া শান্ত জীবনে আবার ওলট-পালট করে দিতে পারে?
নওমির মনের পর্দায় একে একে ভেসে উঠতে লাগল অতীতের সেই বি’ষাক্ত স্মৃতিগুলো যেগুলো ভাবলে আযলানকে তার কাছে জঘন্য মনে হচ্ছে। কিন্তু একটাই চিন্তা! আযলান কেন ওদের কাছেই ফিরছে আবার? ও কি বিয়ে করেনি?
ওর ভাবনার মধ্যেই ওর ওড়নায় টান পড়লো। নওমির ভাবনার সুতোটা হুট করে ছিঁড়ে গেল। সে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখল, ছোট্ট আদনান তার মায়াবী বড় বড় চোখ দুটো তুলে মায়ের ওড়না খামচে ধরেছে। নওমি চিন্তা ভুলে হেসে ওকে কোলে নিয়ে আদুরে গলায় বললো,
– কী হয়েছে আমার আব্বুটার?
আদনান তার কচি দুই হাত দিয়ে নওমির গলা জড়িয়ে ধরল। মায়ের কাঁধে ছোট্ট মাথাটা এলিয়ে দিয়ে আধো-আধো বোলে বলল,
– টুয়ি আচে না।
– আসবে তো! তুহি খালামনি তো অফিসে গেছে বাবা, কাজ শেষ করে তোমার জন্য চকলেট নিয়ে একসাথে আসবে কেমন?
আদনান খুশি হয়ে মাথা তুলে হাত তালি দিয়ে বললো,
– ইয়েএএ তকলেত।
নওমি ওকে ড্রইং রুমে নিয়ে প্লে ম্যাট বিছিয়ে ওকে বসিয়ে দিলো। ওর কিছু খেলনা বের করে দিয়ে বললো,
– তুমি খেলো। আম্মু সুজি বানিয়ে তোমাকে খাওয়াবো কেমন?
আদনান খেলতে খেলতেই মাথা নাড়ালো। রান্নাঘর থেকে ড্রইং রুম দেখা যায় যার কারণে নওমির রান্না করতে আর আদনানকে দেখতে আলাদা শ্রম দিতে হয় না। নওমি রান্না করছে আর আদনান খেলছে। নওমি চুলার আঁচ কমিয়ে সুজির বাটিটা নাড়তে নাড়তে ড্রইং রুমের দিকে তাকাল। ফেক পেজ এআই গল্প না পড়ে লেখিকার নামে তার পেজে গল্প পড়ুন। আদনান তার রঙিন পাজল ম্যাটের ওপর বসে একটা খেলনা গাড়ি নিয়ে আপনমনে খেলছে আর মুখ দিয়ে ‘পিপ পিপ’ আওয়াজ করছে। ছেলের এই নিষ্পাপ চঞ্চলতা দেখলে নওমির বুকটা জুড়িয়ে যায়। এই ছেলের জন্যই তো ও শক্ত হয়ে বাঁচতে শিখেছে। কিন্তু আযলানের কথা মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা ধ্বক করে উঠলো। ওর কানে বাজছে আযলানের আকুল কণ্ঠে বলা একটাই কথা, “আদনান আমার ছেলে, তাই না? একবার বলো প্লিজ!”
সে মনে মনে বললো,
– আমি কিছুতেই আদনানকে নিয়ে যেতে দেবো না। কোন অধিকারে এখন ছেলেকে চিনতে এসেছে! আমি নূরজাহান নওমি আর আগের মতো অসহায়, দুর্বল মেয়েটা নই। নিজের সন্তানের জন্য আমি শেষ সীমা পর্যন্ত লড়বো।
নওমি রান্না শেষে ড্রইং রুমে আসতেই দরজায় বেল পড়লো। কেন কেন বুকটা কেঁপে উঠলো ওর। দরজার দিকে এগিয়ে পিপহোল এ দেখলো বাইরে কে আছে। তুহিকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে হাসলো। নিজের মানেই নিজেকে বললো, “কীসের ভয় পাচ্ছিলি রে নওমি? সে এখানে কি করে আসবে? ধুর মাথাটা গেছে!”
দরজা খুলতেই কাক ভেজা তুহিকে দেখে বললো,
– তুমি এভাবে ভিজলে কেন তুহি আপু?
তুহি দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
– শখে ভিজেছি। সর সামনে থেকে।
নওমি চুপ করে সরে গেল। আড়ালে একটু হেসেও নিলো সে। তুহি বৃষ্টি একদম পছন্দ করে না আর একটু আগেই বৃষ্টি এলো আর তুহি ভিজে গেল হাহা! তুহি ভেতর যেতেই দেখল আদনান ওর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। ও হাসতেই আদনান বললো,
– টুয়ি বিচটি!
বলেই ফিচ ফিচ করে হেসে দিলো। তুহি আদনানের কথায় ওর নাক টেনে দিল। এমনি হলে আদনান ছুটে আসতো আর তুহি কোলে নিতো আর আজ এইটুকু আদরই থাক নাহয় দুজনকেই জ্বরে পড়তে হবে! নওমি তোয়ালে এনে বললো,
– নাও মাথা মোছো! এই বৃষ্টিতে বের হতে গেলে কেন?
তুহি তোয়ালে নিয়ে বললো,
– এই অসময়ে বৃষ্টি আসবে কে জানতো? হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় আকাশ একদম পরিষ্কার ছিল। মোড়ে এসে রিকশা নিলাম, আর ঠিক তখনই কোনো জানান না দিয়ে ধড়ফড় করে নামল বৃষ্টি! রিকশার হুড তুলতে তুলতেই আমি অর্ধেক শেষ।
– আচ্ছা বসো। আদনানের জন্য সুজি রান্না করতে গিয়ে আমি সুজির হালুয়া করেছি খাবে?
– নিয়ে আয়! এমনিতেও খিদে পেয়েছে খুব। আজ যা ব্যস্ততা গেল না!
নওমি গিয়ে ওর জন্য এক বাটি নিয়ে এলো। নওমিকে অদ্ভুত রকম শান্ত দেখে তুহির মনে খটকা লাগলো। মেয়েটাকে গত তিনবছর ধরে চেনে সে একটু হলেও বুঝতে পারে। খেতে খেতে স্বাভাবিকভাবে বললো,
– আজকে কেমন গেল দিন?
নওমি চমকে উঠল। হঠাৎ এই প্রশ্ন? সে আমতা আমতা করে বললো,
– কেমন যাবে? সবসময় যেমন যায়!
তুহি কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল। হুট করে চোখ বড় করে একবার আদনানের দিকে তাকালো আরেকবার নওমির দিকে। নওমি সেই দৃষ্টিতে দৃষ্টি না মিলিয়ে চোখ নামিয়ে নিল। তুহি সন্দেহের সুরে বলল,
– ব্যাপার কি বল তো? কিছু হয়েছে
– কি হবে?
– আজ ডক্টর আযলান হাসপাতালে আসেনি। অথচ উনি ডিউটি বাদ দেওয়ার লোক না।
নওমি চমকে বললো,
– তো আমি কি করব এসব জেনে?
– তোর উপর তো সন্দেহ হচ্ছে আমার। আজকে তোর বিহেভিয়ারও অদ্ভুত।
নওমি হাসার চেষ্টা করে বললো,
– কি বলছো আপু?
– নওমি, আমার কাছে লুকানোর চেষ্টা করিস না। তোর ফেস রিড করতে আমার এক সেকেন্ডও লাগে না।
নওমি চুপ করে হাত মোচড়াচ্ছে। তুহি একইভাবে তাকিয়ে আছে। নওমি ভাবছে বলবে কি বলবে না। তুহিকে বলা প্রয়োজন মনে হচ্ছে কিন্তু তুহি যা জেদি ও না ঝামেলা করে বসে। সে অনেক ভেবে মুখ খুললো,
– আজকে স্কুল থেকে আসার সময়…
– হু?
– উনি মানে আ… আহিল এসেছিল। আজ ছুটির পর স্কুলের সামনে ও আমাদের রাস্তা আটকে দাঁড়িয়েছিল।
নওমির মুখে আযলানের নামটা শুনে তুহি যেন আকাশ থেকে পড়ল। তার চোখ দুটো চড়কগাছ হয়ে গেল। সে তোয়ালেটা একপাশে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠল,
– হোয়াট! ডক্টর আযলান এখানে? ও কীভাবে তোদের স্কুলের ঠিকানা পেল?
– আমি জানি না… ও জানতে চাচ্ছিল আদনান ওর ছেলে কি না! আমার খুব ভয় করছে তুহি আপু ও যদি আদনানকে আমার থেকে কেড়ে নিতে চায়? এখন যদি ও জোর খাটায়, আমি কি করব?
– তুই ছোট না নওমি যে কেউ এসে তোকে ভয় দেখালেই তুই গুটিয়ে যাবি। ও যদি বাচ্চার খোঁজ পেয়ে নাটক করতে আসে, তবে ও আযলান আজওয়াদকে মনে করিয়ে দিবি সেই পুরনো কর্মকাণ্ড। নিজেকে শক্ত কর নওমি! লুকোচুরি করে কিছু হবে না, তোকে এবার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জবাব দিতে হবে।
নূর ই মহব্বত পর্ব ৮
তুহি উত্তর দিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে গেল। তার মনে হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল। সে নিজে মুখ খোলেনি, তাহলে আযলান কীভাবে জানল নওমি এই স্কুলেই পড়ায়? আর খুঁজেও যদি পায় তাহলে আযলান কেন এত বছর পর এতটা ডেসপারেট হচ্ছে? নওমির মতে আযলানের এমন আচরণের কোনো মানে হয় না। আযলান অন্য কাউকে হয়তো পছন্দ করতো। নওমি ক্লিয়ার করে কিছুই বলেনি ওদের। এখন হঠাৎ আযলানের এই হন্যে হয়ে খোঁজার পেছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো সূত্র আছে, যা তারা এখনো জানে না। আসলেই কি তাই? ওদের বিচ্ছেদের আড়ালে কি আরো সত্যি আছে?
