নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৯
রূপন্তী সরকার
ড্রয়িং রুমে সবাই বসে আছে। কালকের ঘটনা এখনো কারো নিয়ে আতঙ্ক কমে নি। মুগ্ধ তো কালকে থেকে লাফিয়ে উঠছে।
ইয়াশফা গুটি গুটি পায়ে ঋষভের ঘরে উঁকি দিলো। ঋষভ অন্য মুখ ঘুরে কিছু একটা করছে। ইয়াশফা হঠাৎ ❝ভৌ” বলে চিৎকার করতেই ঋষভ চমকে গেলো। তাড়াহুরু করে কিছু একটা লুকিয়ে নিলো। এরপর ইয়াশফা কে ঠাসস করে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো। ইয়াশফা গিয়ে টেবিলের উপর পড়লো। সাথে সাথে কপাল কেটে রক্ত বের হতে শুরু করলো। ইয়াশফা অবাক হয়ে ঋষভের দিকে তাকিয়ে আছে। ঋষভ ইয়াশফার কপালের দিকে তাকিয়ে বললো
“বাঁদর তুমি? এরপর থেকে এমন হুট করে আমার রুমে আসলে পা কেটে হাতে ধরিয়ে দিবো”
ইয়াশফা কিছু না বলেই চলে গেলো ড্রয়িং রুমে রিদ দেখলো ইয়াশফার কপাল ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। রিদ জিজ্ঞেস করলো
“কি হয়েছে মা এটা কিভাবে হলো?”
ইয়াশফা মুচকি হেসে বললো
“আপনার ছেলের দেওয়া উপহার”
কথাটা শুনেই রিদ সহ সবাই অবাক হয়ে গেলো। ঋষভ মেয়েটাকে এভাবে মেরেছে? মিহি রেগে গেলো। ছেলেটা দিন দিন বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে। তবে এসব দেখে আরাধ্য বেশ খুশি হলো। তার মানে ওর ঋষভ এই মেয়েকে ভালোবাসে না। কথাটা ভাবতেই আরাধ্যার মন ভালো হয়ে গেলো। রিদ ঋষভ কে ডাকতে লাগলো। ঋষভ কোনো সারা শব্দ করলো না। রিদ এবার ঋষভের ঘরে গেলো। ঋষভ কিছু একটা খুঁজছে। রিদ গিয়ে বললো
“তুই এটাম বোম কে মেরেছিস কেনো?”
ঋষভ অবাক হয়ে রিদের দিকে তাকালো। ও আবার এটাম বোম কে কখন মারলো? ঋষভ বললো
“আমি কোনো এটাম বোম কে মারি নি আমি ক্যাকটাস কে মেরেছি”
রিদ রেগে বললো
“মিথ্যা বলবি না ঋশ তুই এটাম বোম কে মেরেছিস ওর কপাল দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে”
ঋষভ ও রেগে গিয়ে বললো
“আজব তো। আমি আমার বউকে মেরেছি কোনো এটাম বোম কে না”
রিদ ঋশের “আমার বউ” কথাটা শুনে খুশি হলো। কিন্তু ইয়াশফা কে মেরেছে এটা শুনে রেগে গিয়ে বললো
“তুই মেরেছিস কেনো আমার মেয়েকে?”
ঋষভ বললো
“ভালো করেছি।”
রিদ একটা শয়তানি হাসি দিয়ে চলে গেলো।
একটু পর ইয়াশফা আবার ঋষভের ঘরে আসলো। ঋষভ ওয়াসরুমে গেছে। ইয়াশফা এসে ওয়াশরুমের দরজা বাহিরে থেকে আটকিয়ে দিয়ে চলে যায়। একটু পর ঋষভ চেচামেচি করতে থাকে কিন্তু রুম সাউন্ড প্রুফ হওয়াই ওর কথা কেউ শুনতে পেলো না। ঋষভ ভালো করেই বুঝতে পারে এটা কোন বাঁদরের কাজ। ওর সাথে এমন বেয়াদবি করার সাহস এই বাড়িতে কারো নেই শুধু একটা বাঁদর ছাড়া। ও ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার পর বুঝাবে মজা কাকে বলে। প্রায় ১ ঘন্টা পর এসে ইয়াশফা দরজা খুলে দিয়ে পালিয়ে যায়…ঋষভের রাগে চোখ লাল হয়ে গেলো। কতো সময় লস হলো ওর। এই মেয়েকে কিছুতেই ছাড়বে না। ঋষভ তেড়ে গিয়ে ইয়াশফা কে খুঁজতে লাগলো কিন্তু এই মেয়ে কোথাও নেই। ওকে একটা শিক্ষা না দেওয়া অব্দি শান্তি নেই। ইয়াশফা ছাঁদে গিয়ে চুপ করে বসে আছে। মন টা ভালো লাগছে না। বাবার কথা ভিষণ মনে পড়ছে। এই বাড়িতে ওর আেন বলতে কেউ নেই। রুহি আর তিথি বাদে কেউ তেমন কথা বলে না। ওর দম বন্ধ হয়ে আসে। ইয়াশফা আপন মনে গান গাইতে থাকে
“নান্টু ঘটকের কথা শুইনা।অল্প বয়সে করলাম বিয়া।
মুরুব্বিরা কইলো সবাই নো টেনশন নো চিন্তা।”
বাকিটা বলার আগেই ঋষভ ইয়াশফার কান ধরে টেনে দাড় করিয়ে দেই। ইয়াশফা ঋষভের দিকে তাকিয়ে থ হয়ে যায়। ঋষভের গায়ে কাপর নেই কোমড়ে টাওয়েল বাধা। ঋষভ কে এমন ভাবে দেখে গা শিরশির করে উঠলো। ইয়াশফা অন্য দিকে তাকিয়ে বললো
“আপনার কি জামা কাপড় নেই? সব সময় এই বালের মাথা পড়ে ঘুরেন কেনো?”
ঋষভ ইয়াশফার কথায় অবাক হয়ে গেলো। বালের মাথা মানে কি? ও তো বালের মাথা পড়ে নি ও পড়েছে টাওয়েল। তাছাড়া সব সময় কই পড়ে? ঋষভ রেগে ইয়াশফা কে কোলে নেই। এরপর ছাঁদের কোণায় নিয়ে গিয়ে বলে
“দেবো ফেলে? ফেলে দেই? এইখান থেকে পড়লে তোকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে?”
ইয়াশফা মনে মনে ভয় পেলো কিন্তু প্রকাশ করলো না। ঋষভ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। ঋষভ ইয়াশফার দিকে বড়ো বড়ো চোখ করে বললো
“কেনো এখন কেনো জড়িয়ে ধরছিস? ভয় করছে? এমন বেয়াদবি আর করবি আমার সাথে?”
ইয়াশফা মাথা নাড়িয়ে না বলে। এই লোক কে পরে বুঝাবে মজা। ঋষভ ইয়াশফা কে নামিয়ে দিয়ে বলে
“এক ঘন্টা আমার সময় নষ্ট করেছো। এখন এক ঘন্টা কান ধরে উঠ বস করো”
ইয়াশফা ঋষভ কে বললো
“করবো না আমি।”
ঋষভ আবার ইয়াশফার দিকে এগিয়ে যায়। ইয়াশফা ঋষভের কে এগিয়ে আসতে দেখে কান ধরে উঠ বস শুরু করে দিলো। এভাবে এক ঘন্টা বেচারি উঠ বস করলো। মাজা কোমড় শেষ। এটা একটা আস্ত বেয়াদব পুরুষ। ঋষভ হাতে হাত গুঁজে ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে আছে। এরমধ্যেই ছাঁদে রিদ আসে। ঋষভ কে এমন অবস্থায় দেখে রিদ বললো
“কিরে তুই বলে এই বাচ্চা মানবি না আবার এই বাচ্চার সামনেই টাওয়েল পড়ে ঘুরে বেড়াস লজ্জা করে না?”
ঋষভ মুখ কালো করে নিলো। ওর বাবা ওর জীবনের সব থেকে বড়ো শত্রু। ঋষভ ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে দেখলো ইয়াশফা মুচকি মুচকি হাসছে। ঋষভ কিছু বলার আগেই ওর টাওয়েল খুলে যেতে নিবে এমন সময় রিদ তাড়াহুড়ো করে ঋষভের টাওয়েল ধরে। রিদের নিজেরই লজ্জা লাগছে এই মুহুর্তে। ইয়াশফা বিষয় টা খেয়াল করে নি। ও হুট করেই ছাঁদের পাশে একটা টিয়া পাখির দিকে নজর দিয়েছে। দিন দুনিয়া ভুলে মুগ্ধ চোখে পাখিটা কে দেখছে। রিদ ঋষভ কে বললো
” বউ কে দেখে কি আপনার টাওয়েল খুলে যাচ্ছে বাবা ঋশ?”
ঋষভ রেগে গিয়ে বললো
“ও আমার বউ না। মানি না ওকে”
রিদ ইয়াশফা কে বললো
“এই এটাম বোম শোনো কালকে থেকে স্কুলে যাবে আর ওইখানে কি নতুন বর খুঁজবে মনে থাকবে? আমি তোমাকে একটা ভালো ছেলের সাথে বিয়ে দিবো”
ঋষভ কিছুটা রেগে রিদের দিকে তাকালো। রিদ সেদিকে পাত্তা চলে গেলো। ইয়াশফা একবার ঋষভের দিকে তাকিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার সময় বলে গেলো
“পারলে একটা জাইঙ্গা পইড়েন। তাও সর্বনাশ হওয়ার চান্স থাকবে না। এই টাওয়েল যখন হুট করে খুলে যাবে তখন বুঝবেন ঠ্যালা কাকে বলে”
ঋষভ ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে বললো
“খুলে গেলেও কোনো সমস্যা নেই। তুমি যদি দেখতে চাও আমি এখনি খুলে দিবো”
ঋষভের মুখ এমন কথা হয়তো ইয়াশফা আশা করে নি। ও ছোট কিন্তু এতোটাও ছোট না যে ঋষভের কথার মানে বুঝবে না। অবশ্য দোষ টা ওরই। ওই প্রথমে পাকা পাকা কথা বলেছে। ওর মুখ টা নিমিষেই কালো হয়ে গেলো। ইয়াশফা চলে গেলো।
“এই শালি কই তুই?”
_”জান মায়ের সাথে বাজারে এসেছি”
শুভ্র রেগে গিয়ে বললো
“বাজারে মানে? এই শালি তোরে বারণ করি নি তুই বাড়ির বাহিরে যাবি না। তুই গেছোস ক্যান কো? কোন পোলারে থোবড়া দেখাতে গেছোস। সত্যি করে কো?”
মেয়েটা ভিতু কন্ঠে বললো
নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৮
“আরে জাউড়া পাডা তোর বাপ রে আমার থোবড়া দেখাইতে আইছি। এতো সন্দেহ কইরা কি পাস ভাই? আমারে একটু শান্তি দে।”
শুভ্র আরো রেগে বললো।
“ওরে হারামি বেডি তুই কই আছোস কো আমি যাচ্ছি। আজকে তের একদিন কি আমার ২ দিন।”
