নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৩৮
রূপন্তী সরকার
ইয়াশফা ইয়ানকে বিছানায় শুইয়ে রেখে জলদি তৈরি হয়ে নিল। এই মুহূর্তে ওর একটু বাইরে যাওয়া খুব দরকার, মাইন্ড ফ্রেশ না করলে মাথাটা একদম জ্যাম হয়ে যাবে। চারদিকের এতসব অদ্ভুত চিন্তা আর অতীতের স্মৃতি ওর মাথায় একনাগাড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। ও আলমারি থেকে নিজের প্রিয় একটা কালো রঙের জামা বের করে পরে নিল। তারপর পুচকে ইয়ানকেও সুন্দর করে রেডি করিয়ে দিল। মা-ছেলে মিলে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল।
নিচে ড্রয়িংরুমে তখন কেউ ছিল না, পুরো ঘরটা নিঝুম। ইয়াশফা ইয়ানকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে এসে যেই নিজের গাড়িতে উঠতে যাবে, ঠিক তখনই কোনো কিছু না বলে হুরমুর করে ড. রোহান ইউভান এসে ওর গাড়ির সামনের সিটে ধপ করে বসে পড়ল!
ইউভানের এই আচমকা স্পর্ধা দেখে ইয়াশফা রেগে আগুন হয়ে গেল। ও নিজের চোখ দুটো বড় বড় করে কড়া গলায় ধমকে উঠে বলল, “আজব! কী সমস্যা আপনার? গাড়িতে কেন বসছেন?”
ইউভান ওর এই রাগ দেখে দাঁত কেলানো হাসি দিলো ও নিজের চশমাটা একটু ঠিক করে রসিকতার সুরে বলল, “আমাকে একটু ড্রপ করে দাও না, বেবিগার্ল? প্লিজ?”
ইয়াশফা নিজের মুখের গাম্ভীর্য ধরে রেখে একদম বিরক্তি মাখা গলায় জবাব দিল, “No! Please leave right now!”
কিন্তু ওদের এই ঝগড়ার মাঝেই হুট করে কোলে থাকা ইয়ান নিজের দুই হাত বাড়িয়ে ইউভানের দিকে যাওয়ার জন্য অনবরত কান্নাকাটি জুড়ে দিল। ইউভান আর এক সেকেন্ডও দেরি না করে নিজের হাত বাড়িয়ে ইয়ানকে এক ঝটকায় নিজের কোলের ভেতর তুলে নিল। আর ওর হাতের ছোঁয়া পাওয়া মাত্রই ইয়ান এক পলকে কান্না থামিয়ে একদম শান্ত হয়ে গেল! ইউভান মুচকি হেসে ইয়ানের পেটে একটা আলতো কাতুকুতু দিয়ে বলল, “এই তো আমার বাব আমাকে রেখে কোথাও যাবে না, তাই না বাবা?”
ইয়ান ওর মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের আধো আধো মুখে খিলখিল করে মিষ্টি করে হেসে উঠল। ইয়াশফা পাশে দাঁড়িয়ে রাগে কটমট করতে করতে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল। ও জোরে একটা ঝটকা মেরে গাড়ির স্টার্ট দিল। গাড়ি চলতে শুরু করতেই ইউভান আড়চোখে ইয়াশফার দিকে তাকাল। ও মনে মনে ইয়াশফাকে যত দেখে, ততই এক অদ্ভুত মুগ্ধতায় ডুবে যায়। এই অল্প বয়সী মেয়েটা একলা হাতে সব পারে, একদম অলরাউন্ডার! অবশ্য ও খুব ভালো করেই জানে, ইয়াশফাকে রিদই নিজের ছায়ায় রেখে অলরাউন্ডার বানিয়েছেন। ইউভান নিজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে এক দৃষ্টিতে ইয়াশফার ওই রাগী মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
গাড়ি চলতে চলতে একসময় একটা বড় পার্কের গেটের কাছে এসে থামল। ইয়াশফা ব্রেক কষতেই ইউভান ইয়ানকে নিজের কোলে নিয়ে সাচ্ছন্দ্যে গাড়ি থেকে নেমে গেল। ইয়াশফাও গাড়ি লক করে নেমে এসে এক পা এগিয়ে গেল। ও রুক্ষ হাতে ইয়ানকে ইউভানের কোল থেকে একপ্রকার জোর করে নিজের বুকে টেনে নিল। তারপর ইউভানের চোখের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল, “এবার আপনি আপনার রাস্তা দেখুন!”
কথাটা শেষ করেই ও ইউভানের কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করে ইয়ানকে নিয়ে হনহন করে পার্কের ভেতরের সবুজ ঘাসের দিকে চলে গেল। কিন্তু ইউভানও দমে যাওয়ার পাত্র নয় ও নিজের দুই হাত পকেটে গুঁজে দিয়ে ধীরপায়ে ইয়াশফার পেছন পেছন পার্কের ভেতরেই এগিয়ে গেল।
ওরা গিয়ে পার্কের এক কোণায় থাকা একটা বড় কাঠের বেঞ্চের ওপর বসল। আড়াই বছরের পুচকে ইয়ান বেঞ্চের ওপর বসেই ইউভানের হাত-ঘড়ি আর চশমাটা নিয়ে আনন্দে খেলা শুরু করে দিল। আর ওদিকে ইয়াশফা চুপচাপ এক দৃষ্টিতে পার্কের মাঝখানে থাকা ফাঁকা দোলনা গুলোর দিকে তাকিয়ে রইল। দোলনার প্রতি ওর ছোটবেলা থেকেই এক অন্যরকম ভালোলাগা আর দুর্বলতা কাজ করে। এই ঝুম বৃষ্টির ঠিক পরের চমৎকার বিকেলে ওর মনে হতে লাগল যদি ও আগের মতো সব চিন্তা ভুলে ছুটে গিয়ে ওই দোলনাটায় বসতে পারত! কিন্তু একটা বাচ্চার মা হওয়ার পর এই ভরা পার্কে ওভাবে গিয়ে দোল খাওয়াটা যে ওর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব না, তা ভেবে ওর বুকটা একটা দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠল।
ঠিক তখনই ইয়াশফার হাতের ফোনটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে একটা জরুরি নাম্বার ভেসে উঠতেই ও বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়াল। ও ইউভানের দিকে ফিরে গম্ভীর গলায় বলল, “বাবুকে একটু দেখে রাখুন, আমি আসছি।”
ইউভান নিজের চশমাটা ইয়ানের হাত থেকে বাঁচাতে বাঁচাতে ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, “আচ্ছা বেবিগার্ল, তুমি যাও। আমি আছি।”
ইয়াশফা ফোনে কথা বলতে বলতে হেঁটে পার্কের একদম পেছনের দিকে চলে গেল। পার্কের এই সাইডটা বড্ড বেশি নিঝুম আর ফাঁকা, ঝোপঝাড়ের কারণে চারপাশটা কেমন যেন অন্ধকার হয়ে আছে। ঠিক তখনই আচমকা পেছন থেকে কেউ একজন এসে শক্ত হাতে ওর মুখটা চেপে ধরল! ও কিছু বুঝে ওঠার আগেই হুট করে একটা কালো রঙের মাইক্রোবাস এসে ওর ঠিক সামনে থামল। গাড়ির স্লাইডিং ডোরটা এক ঝটকায় খুলে গেল এবং দুজন লোক মিলে ইয়াশফাকে পাঁজাকোলা করে ভেতরের সিটে তুলে নিল।
ইয়াশফা চাইলেই ওখানেই চ্যাঁচামেচি করে লোকগুলোকে এক হাত দেখে নিতে পারত। কিন্তু ও কোনো প্রকার ছোটাছুটি বা চিল্লাচিল্লি করল না। ও নিজের শরীরটা একদম ঢিলে করে দিয়ে সিটের ওপর মাথা এলিয়ে অজ্ঞান হওয়ার নিখুঁত নাটক জুড়ে দিল! ও ঠান্ডা মাথায় চুপ করে বসে বসে নিজের অবোজা চোখের ফাঁক দিয়ে চারপাশের পুরো পরিস্থিতি আর লোকগুলোর কথা পর্যবেক্ষণ করতে লাগল।গাড়ি স্টার্ট দিতেই সামনের সিটে বসা একজন বডিগার্ড পেছনে তাকিয়ে একটু ঘাবড়ে গিয়ে বলল, “কিরে? ম্যাম কি অজ্ঞান হয়ে গেল নাকি? ক্লোরোফর্ম তো বেশি দিই নাই, এত জলদি অজ্ঞান হওয়ার তো কথা না!”
ড্রাইভিং সিটে থাকা আরেকজন লোক ভয় পাওয়া গলায় স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে বলল, “আল্লাহ রে! উনার যদি সত্যি কিছু হয়ে যায়, তবে স্যার আমাদের মায়ের ভোগে পাঠিয়ে দেবে! যাকগে এত কথা না বলে গাড়ি জোরে চালা, আগে গোডাউনে যাই, তারপর বাকিটা দেখতেছি।”
পেছনের সিটে মটকা মেরে পড়ে থাকা ইয়াশফা চুপ করে ওনাদের প্রতিটা কথা নিজের কান খাড়া করে শুনতে লাগল। ওর মনের ভেতর তখন তীব্র কৌতূহলের একটা মস্ত বড় প্রশ্ন জাগল এই লোকগুলোর ওপরে থাকা ‘স্যার’ ক্যারেক্টারটা আসলে কে? কিছুক্ষণ একনাগাড়ে গাড়ি চলার পর ওটা এসে একটা বিশাল বড় গোডাউনের সামনে থামল। লোকগুলো ইয়াশফাকে গাড়ি থেকে নামাল। ইয়াশফা ভেবেছিল গোডাউন মানেই হয়তো নোংরা বা অন্ধকার হবে, কিন্তু ও অবাক হয়ে টের পেল এই গোডাউনটা বিশাল বড় হলেও চারদিকে ঝলমলে আলো জ্বলছে এবং চারপাশটা একদম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ভেতরে ঢোকানোর আগে একজন লোক সাবধানে ইয়াশফার চোখ দুটো একটা নরম কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে দিল। এরপর ওনাদের টিমেরই দুজন মাঝবয়সী মহিলা এসে ইয়াশফাকে হাত ধরে ভেতরে নিয়ে গেল এবং একটা আরামদায়ক কুশন ওয়ালা চেয়ারে বসিয়ে দিল।
ইয়াশফা তখনো মনে মনে অজ্ঞান হওয়ার নাটকটা চালিয়ে যাচ্ছিল। ও বসা অবস্থাতেই মনে মনে চরম অবাক হলো
কারণ এতক্ষণ হয়ে গেল, অথচ এই কিডন্যাপাররা এখনো ওর হাত বা পা দড়ি দিয়ে বাঁধল না! এরা আবার কেমন বোকাসুদা আর আনাড়ি কিসিমের কিডন্যাপার রে বাবা? ইয়াশফা নিজের মনের ভেতর এক চিলতে ঠোঁট বাঁকিয়ে হিসহিসিয়ে গালি দিয়ে বলল, ” আশরাফুল! বোকাসুদা একটা বুকাসুদা কিডন্যাপার,কিডন্যাপটা করতে পারে না বালের কিডন্যাপার হইছে”
ঠিক তখনই ইয়াশফার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ডটার ফোন হঠাৎ সশব্দে কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে একটা নাম ভেসে উঠতেই লোকটা ঝটপট কলটা রিসিভ করে একদম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বড্ড বিনীত গলায় বলল, “স্যার, ম্যামকে একদম সুরক্ষিতভাবে নিয়ে এসেছি। কিন্তু একটা কথা ছিল স্যার… ম্যাম তো হুট করে রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে গেছেন, এখন আমরা কী করবো ওনাকে নিয়ে?”
ফোনের ওপাশ থেকে তখন লোকটা গম্ভীর আর পুরুষালি কণ্ঠে এক চিলতে মলিন হেসে বলে উঠল
“ও অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে, তাই তোরা এখনো আস্ত আছিস! এর জন্য ওপরওয়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় কর। নাহলে ও যেই গুন্ডি বেডি, এতক্ষণে তোদের সবাইকে পিটিয়ে মামার বাড়ি থেকে এক চক্কর ঘুরিয়ে নিয়ে আসতো!”
লোকটা নিজের কপাল বেয়ে ঝরে পড়া ঘামটা মুছে আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল, “বস, আপনি কি আজকে এখানে আসবেন?”
ফোনের ওপাশের মানুষটি নিজের চেয়ারে একটু হেলান দিয়ে বসল। নেশা জড়ানো আর গভীর কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলল, “উমম চুমু খেতে ইচ্ছে করছে। যাচ্ছি তাহলে আমি ওখানেই। তোরা ওকে একদম সাবধানে দেখে-শুনে রাখ, আর খবরদার ওর হাত-পা ভুলেও বাঁধিস না, ব্যথা পাবে ও।”
বডিগার্ডের লোকটা সমীহ করে বলল, “ওকে স্যার, আপনি যা বলবেন।”
ইয়াশফা চেয়ারে স্থির হয়ে বসে থাকলেও ওপাশের লোকটার গলার আওয়াজ বা কথাগুলো ও এক ফোঁটাও শুনতে পাচ্ছিল না। কিন্তু ওর ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই বডিগার্ড লোকটার প্রতিটি সংলাপ ও এক এক করে নিজের মাথায় গেঁথে নিচ্ছিল। ও নিজের শ্বাসকষ্ট আর রাগ কোনোমতে চেপে রেখে ঘাপটি মেরে পড়ে রইল। ও দেখতে চায়, শুনতে চায় এই পুরো নাটকটার আড়ালে থাকা আসল মাস্টারমাইন্ড মাথাটা আসলে কে!
প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ইয়াশফা চেয়ারে একদম মটকা মেরে পড়ে রইল। ও মনে মনে বুঝতে পারছে না ওর ফোনটার আসলে কী হলো। ফোনটা কি পার্কের পেছনে ধস্তাধস্তির সময় রাস্তায় পড়ে গেছে, নাকি এই আনাড়ি বডিগার্ডগুলোর কাছে আছে সেটাও ও নিশ্চিত হতে পারছে না। একনাগাড়ে এভাবে চোখ বুজে সোজা হয়ে বসে থাকতে থাকতে ওর পিঠ আর কোমরে ব্যথা হয়ে গেল। ওর ধৈর্যের বাঁধ যখন প্রায় ভেঙে আসছিল, ঠিক তখনই বাইরে একটা গাড়ির ব্রেক কষার তীক্ষ্ণ শব্দ হলো।
পরমুহূর্তেই একজন বডিগার্ড ফিসফিসিয়ে বলল, “এই, বস এসে গেছে! চল সবাই বাইরে চল।”
কথাটা বলা মাত্রই তভেতরে থাকা বাকি লোকগুলোও এক সেকেন্ডে বাইরে চলে গেল। পুরো বিশাল গোডাউনটায় হুট করে এক থমথমে নিস্তব্ধতা নেমে এলো।
ঠিক তার কয়েক সেকেন্ড পরেই ইয়াশফার মনে হলো দরজার ওপাশ থেকে কেউ একজন অত্যন্ত ভারী পায়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করল। লোকটা পা ছোঁয়াতেই পুরো ঘরের বাতাস যেন এক নিমেষে বদলে গেল। ইয়াশফার খাড়া নাকে এসে ধাক্কা দিল এক তীব্র, অদ্ভুত আর মাদকতায় ভরা পুরুষালি পারফিউমের সুবাস। গন্ধটা নাকে যাওয়া মাত্রই ইয়াশফার মনে হতে লাগল ওর চারপাশে এক নেশাক্ত প্রহর শুরু হয়েছে এখন। নিজেকে মাতাল মাতাল আর অবশ লাগল।
লোকটা একদম নিঃশব্দে হেঁটে ওর কাছে চলে এলো। ইয়াশফা চোখ বন্ধ করে থাকলেও ও স্পষ্ট টের পাচ্ছিল লোকটার এই চেনা উপস্থিতি ওর ঠিক কতটা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা ওর একদম গা ঘেঁষে ঝুঁকে পড়ল। তারপর কোনো ভূমিকা ছাড়াই ইয়াশফার পেটের ওপর নিজের ঠোঁট দুটো চেপে ধরে গভীর একটা চুমু খেল!
পেটের ওপর ওই চেনা উষ্ণ ছোঁয়া পেতেই ইয়াশফার পুরো শরীরটা শিউরে উঠল, ও সামান্য নড়েচড়ে বসল। ও একদম নিশ্চিত হয়ে গেল যে ওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই ছায়াটা কে।
ঋষভ ওভাবেই ঝুঁকে থাকা অবস্থায় মুখটা সামান্য ওপরে তুলে ইয়াশফার কানের লতির কাছে নিজের গরম নিশ্বাস ফেলল। ও বরফশীতল কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলল
“আমি পছন্দের জিনিস নিজের করি না বরং যা আমার অপছন্দ তা আমি আমার করি। যাতে সোটার প্রতি আমার কোনো দুর্বলতা কাজ না করে, অথচ সেই অপছন্দের জিনিস ও সর্বশেষে আমার দুর্বলতা হয়ে গেলো।”
ইয়াশফা নিজের দাঁতে দাঁত চেপে পাথরের মতো শক্ত হয়ে বসে রইল, মুখ দিয়ে একটা টু শব্দ পর্যন্ত করল না। ও শুনতে চাইল এই নিষ্ঠুর লোকটার মনের ভেতর আরও কী জঘন্য অহংকার লুকিয়ে আছে।
ঋষভ ওর এই নীরবতা দেখে নিজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে পৈশাচিক হাসি ফুটিয়ে তুলল। ও এবার মুখটা আরও কিছুটা নামিয়ে সোজা ইয়াশফার গলার নরম ভাঁজে নিজের ঠোঁট দুটো শক্ত করে চেপে ধরল। ” উমম এই লক্ষী বউ তুমি কি অজ্ঞান হওয়ার নাটক করছো? একটা চুমু দাও না?”
লোকটার এই কথা শোনা মাত্রই ইয়াশফার মাথার সব কটা রগ এক সেকেন্ডে চিড়বিড় করে জ্বলে উঠল, পুরো মাথায় আগুন চড়ে গেল ওর। লোকটা যখন গলার কাছে মুখ নামিয়ে ছিল, ইয়াশফা ঠিক সেই মোক্ষম সুযোগটাই কাজে লাগাল। ও চোখের পলকে নিজের ডান হাতটা মুষ্টিবদ্ধ করে পুরো শরীরের সমস্ত শক্তি এক জায়গায় এনে সজোরে একটা ঘুসি মেরে দিল সরাসরি লোকটার থুতনি বরাবর!
নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৩৭ (২)
লোকটা এই আচমকা অ্যাটাকের জন্য বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিল না। ও নিজের থুতনিতে ওই ঘুসিটা খাওয়া মাত্রই তাল সামলাতে না পেরে এক ধাক্কায় ছিটকে গেলো৷ এরপর নিজে নিজেই
গম্ভীর গলায় বলে উঠলো
“বউটা ভালো না, ঘুষি মেরেছে আমার নাকে”
