পৌষপার্বণ পর্ব ১৬
Irfa Mahnaj
আজ ঈদের দিন। নিজের রুমের বিছানায় ধপাস করে শুয়ে পড়ে পৌষ।ভাবতে থাকে এই এক মাসে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো।
এই এক মাস পার্বণ জ্বালিয়ে মেরেছে পৌষকে।গিরগিটিও এতো রং বদলায় না যত রং এই একমাসে পার্বণ বদলেছে।
ওর রং ঢং দেখে ফাল্গুন তো বলেই দিয়েছিলো,
— বৈশাখ তু্ই এটা কি জন্ম দিয়েছিস!
তখন বৈশাখ শুধু স্ত্রীর পানে তাকিয়েই ছিল। সেও বুঝেছে বউ তার কেনো এরকম কথা বলেছে । স্বাভাবিক কারণ জাউরা পার্বণ এমন খেল দেখিয়েছিলো যে বলতে বাধ্য ছিল।
সেদিন কক্স বাজার থেকে ফিরে এসে তো একচট ঝামেলা, ভণ্ডামি আরো কত যে ড্রামা করেছে সেই বান্দা কি আর বলবে পৌষ।
উফ!সেসব কথা এখন ভাবতেও চায় না। ও তবে একটা জিনিস না ভেবেও পারে না।
মায়ের সাথে রাগ করে পৌষকে নিয়ে রুমবন্দি হয়ে বসে ছিল পার্বণ। ওর বক্তব্য কেনো ওকে জানানো হয়নি তাই বউ নিয়ে ঘরে বসে থাকবে সে।
মানে এটাও কোনো লজিক ভাই!তার উপর পুরো রমজান মাস জুড়ে রাতের বেলা পৌষকে জ্বালিয়ে দিনের বেলা মোল্লা সেজে থাকতো পার্বণ।
সেহেরির সময় ভিজা চুল কোনো রকমে ঢেকে ঢুকে বসতো পৌষ পাছে না আবার ধরা পড়ে। তাও তো একদিন ধরা পড়ে গেছে।
সেই কি একটা লজ্জা জনক কাহিনী। এই ব্যাপার নিয়েও বান্দার কোনো হেলদোল ছিলো না।
থাকবে কিভাবে ও ছিলো নির্লজ্জ্ব। তা নাহলে কেউ গোসল করে এসে ভিজে চুল না মুছে খাবার খেতে বসে পড়তে পারতো।
কিছু বললেই উত্তর দিতো,
— আশ্চর্য আমি কি অন্য কারো সাথে কিছু করেছি নাকি অবৈধ কিছু করেছি?
— না তুই কিছুই করিসনি তবে খাবার টেবিলে এভাবে যাবি না। ওখানে বড়রা থাকে।
পৌষ এর কথা শুনে পার্বণ বিজ্ঞদের মতো করে বলে উঠে ,
— শোন পৌষ সেখানে উপস্থিত তোর এবং আমার শশুর শাশুড়িরা প্রত্যেকেই এসব করেছে নাহয় আমরা এসব কাজ করার জন্য পৃথিবীতেই থাকতাম না।
পার্বণের এরুপ উল্টাপাল্টা লাগামহীন কথাবার্তা শুনে পৌষ চুপ হয়ে যায়।
ও তারপর করতো কি ঠিক তার পরের দিন গিয়ে ভিজে চুলে হাত দিয়ে স্লাইড করে পানি ঝাড়তো।
মানে কি পরিমান পুংটা ভাবা যায়!এখানেই এই ব্যক্তির কাজ শেষ নয়।
এই পুরো রমজান মাসে জনাব পার্বণ মহোদয় দিনের বেলায় হুজুর আর রাতের বেলায় খেজুর হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
রাতে পৌষ ছাড়া কিছু বুঝতো না আর দিনের পৌষকে চিনতো ও না। ড্রামা করে পৌষকে জোরজবরদস্তি নিজের রুমে থাকার জন্য আনে পার্বণ।
রাতে আদর দিতে দিতে জান, কলিজা ডেকে টেকে সেহেরি খেয়ে উঠে যেই পৌষ পার্বণ এর রুমে যায় তখনি,
— আপনি কে খালাম্মা? আমি কি আপনাকে চিনি?
ওর কথা শুনে তারপর পৌষ ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতো। আর পার্বণ? সে পৌষকে নিজের রুম থেকে বের করে দিয়ে মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিতো।
পৌষ তখন ঠিক করে এর প্রতিশোধ সে রাতে তুলবে। করেও তবে পার্বণ তো পার্বণই। সে জোর জবরদস্তি করে টেনে হিচড়ে ঠিকই নিয়ে যেত।
এভাবেই পুরো এক মাস পার্বণের নাটক চলেছে। যা পৌষকে সহ্য করতে হয়েছে।
অবশেষে সেই নাটকের সমাপ্তি ঘটেছে আজ। কি যে শান্তি লাগছে।
এসব ভাবতে ভাবতেই শুনতে পায় পার্বণের হাঁকডাক। এতো জোরে ডাকছে যে রাস্তা দিয়েও মানুষ শুনবে।
না শান্তি আর এ জীবনে পৌষ পাবে না। যেদিন থেকে এই বান্দা জানতে পেরেছে পৌষ ওর বউ সেদিন থেকেই এর অত্যাচার দ্বিগুন বেড়ে গেছে।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠতে হলো পৌষকে। ধূপধাপ পা ফেলে দরজা পর্যন্ত যেতেই দেখতে পায় পায়জামা, পাঞ্জাবী পড়ে এক স্নিগ্ধ পুরুষকে।
অপলক পার্বণের দিকে তাকিয়ে রয় পৌষ। এই ছেলেকে এতো পবিত্র ও স্নিগ্ধ লাগছে যে কেউ বলবেই না এই ছেলে শয়তানের বন্ধু।
এতক্ষণরে সব বিরক্তি কোথায় যেনো কর্পূরের মতো উড়ে গেছে পৌষ এর। পৌষকে নিজের দিকে তাকিয়ে এভাবে পলকহীন তাকিয়ে থাকতে দেখে মনে মনে সন্তুষ্ট হয় পার্বণ।ভাবে,
— যাক বউয়ের পছন্দ হয়েছে তবে। এতো কষ্ট স্বার্থক আমার।
বেশ ভাব নিয়ে পাঞ্জাবির কলার ঝাকিয়ে পার্বণ বলে,
— কি লাগছে না আমাকে নায়ক নায়ক? আমি জানতাম। কি করবো আমি আসলেই এতো সুন্দর যে আমাকে সবসময় সুদর্শন দেখায়।
থতমত খায় পৌষ। মনে মনে বলে,
— ইস কি করলি এটা তু্ই পৌষ। এখন তো এই বেটার ভাবের ঠেলায় পাই পড়বে না মাটিতে।
কথা গুছিয়ে নিয়ে পৌষ বলে,
— মোটেই না।
— কি মোটেই না তু্ই একটু আগেও তো তু্ই কেমন ড্যাবড্যাব করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলি।
পৌষ বিস্মিত হওয়ার ভান করে বলে উঠে,
— কে আমি? অসম্ভব।
পৌষ এর অস্বীকার করতে দেরি কিন্তু পার্বণের ওর গাল ঠেসে ধরে চুমু খেতে দেরি হয়না।
সাবধান করে বলে পার্বণ,
— খবরদার পৌষ নামাজ পড়তে যাচ্ছি ততক্ষন সবুর কর। এসে তোকে দেখছি। নামাজের আগে আমি অশ্লীল কাজকারবার করতে উত্তক্ত করিস? সাহস কত বড়!
আহাম্মক বনে তাকিয়ে থাকে পার্বণের যাওয়ার পানে পৌষ। কি বলল এটা ও? ও কখন ওকে অশ্লীল কাজ করতে উত্তক্ত করলো!
যেতে যেতে পৌষের উদ্দেশ্যে পার্বণ বলে,
— নতুন জামা পড়ে আমার রুমে গিয়ে বসে থাকবি। নামাজ পড়ে এসেই জানি তোকে আমার রুমে পাই। যদি না যাস তাহলে দেখিস কি করি।
— কি করবি তু্ই?
— বেশি কিছু না। শুধু তোর গোসল করতে করতে ঠান্ডা বাধিয়ে দিবো।
ভোঁতা মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে পৌষ। সামনেই পার্বণ। তখনকার দেওয়া থ্রেট এর জন্য না এসে থাকতে পারে নাই পৌষ।
তবে সেও একটা ফন্দি এঁটে এসেছে। আজকে ওর পকেট ফাঁকা করবে পৌষ। যদিও পৌষেরসন্দেহ আছে এই বেটা ফকিরের কাছে কিছু আছে কিনা তাও।
— পার্বণ আমার সালামি দে।
— কি চাই তোর?
— সালামি। ঈদ সালামি।
— সেটা আবার কি জিনিস খায় না মাথায় দেয়।
তেতে উঠে পৌষ। দেয় বসিয়ে এক লাথি ওর পশ্চাদেশে।
— আউ! এভাবে কে স্বামীকে মারে জল্লাদ।
— আমি মারি। এখন তাড়াতাড়ি সালামি বের কর।
— সালাম কর আগে।
পার্বণ ভেবেছিলো পৌষ নাকোচ করবে ওর প্রস্তাব। কিন্তু না ওকে অবাক করে দিয়ে পৌষ সালাম করে।
— এবার দে।
ফাঁকা কাশি কাশে পার্বণ। বলে,
— স্বামীকে মেরেছিস তোকে আবার কিসের সালামি?
এতক্ষন ধরে জমিয়ে রাখা রাগ এবার আর নিজের কন্ট্রোলে রাখতে পারে না পৌষ।
— পার্বণের বাচ্চা তু্ই টাকা দিবি কিনা বল।
কথা শেষ করেই ঝাঁপিয়ে পড়ে পার্বণের উপর পৌষ। পার্বণকে নিয়েই বেডের উপর পড়ে। ক্ষান্ত হয়না তাতেই পৌষ।
ওর উপর উঠে ওর দুই হাত বেডের সাথে চেপে ধরে।জোশে এসে পৌষ বেমালুম ভুলে গেছে ওর অবস্থান।
তবে পার্বণ ভুলেনি। ও মিটিমিটি হাসছে। দেখতে চাইছে কি করে পৌষ।হঠাৎ পৌষের খেয়াল আসে ও আসলে করছে কি? ওর অবস্থান। বুঝতেই শিউরে উঠে পৌষ।
চুপচাপ পার্বণের উপর থেকে উঠতে নিলে এবার পৌষকে নিজের নিচে চেপে ধরে পার্বণ। এতক্ষন ধরে পার্বণ খেয়াল করছিলো পৌষের কার্যকলাপ।
যখনই দেখলো পৌষ উঠতে নিয়েছে তখনি ওর নিজের কাজ শুরু করে দেয়।বাঁকা হেসে পার্বণ বলে,
পৌষপার্বণ পর্ব ১৫
— তোকে সালামি দিবো। নিবি না?
চকচক করে উঠে পৌষের চোখ। ও উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।
— দিবো তবে একটা শর্তে।
— কি?
— যত টাকা সালামি তার দ্বিগুন চুমু। অর্ধেক তু্ই আমাকে দিবি বাকি অর্ধেক আমি তোকে দিবো।
