Home পৌষপার্বণ পৌষপার্বণ পর্ব ৯

পৌষপার্বণ পর্ব ৯

পৌষপার্বণ পর্ব ৯
Irfa Mahnaj

— শুনছো বনচাঁপা ?
ধক করে উঠে বনচাঁপার বুকের ভিতরটা। ছেলেটা ছোট হলেও কি হবে মানুষকে তার কথায় ঠিক আটকে ফেলবে।
এই যে হেমন্ত বনচাঁপা কে এভাবে আবেগ মিশিয়ে ডাকছে এতেই বনচাঁপার হৃদয়ে খেলে যায় এক পশলা শীতলতা।
কেমন সব থমকে যায়। এভাবে ডাকলে কেউ ঠিক থাকতে পারে? উঁহু পারে না। বনচাঁপা তো একদমই পারে না।
না ছেলেটা ওকে দূর্বল করে দিবে। একটা ডাক যে মানুষকে দূর্বল করতেও সক্ষম হয় তা জ্বলজ্যান্ত ভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে হেমন্ত।
হেমন্তকে আটকাতে হবে। নিষেধ করতে হবে এভাবে না ডাকতে। নাহয় মরণ ফাঁদে বনচাঁপা ও পড়তে পারে। যা বনচাঁপা চায় না।
এসব ভেবেই কিছুটা কড়া গলায় বনচাঁপা হেমন্তকে হুশিয়ারি দেয়,

— এভাবে আমাকে ডাকবে না। তোমার বড় হই । রেসপেক্ট দিয়ে ডাকবে। আর কখনই যেনো না শুনি আমাকে এভাবে ডাকতে।
ছেলেটার মুখে খেলে যায় চমৎকার এক হাসি। পকেটে দুই হাত গুঁজে দুই পা সামনে এগিয়ে বলে,
— কেনো? এই ডাক বুঝি আমার বনচাঁপাকে এলোমেলো করে দেয়?
— প্রথমত আমি তোমার নই। দ্বিতীয়ত এইসব আবেগ আমার নেই। বিশেষ করে তোমার প্রতি তো আসবেই না।আর তৃতীয়ত যা বলতে চাও তা বলে বিদায় হও।
শব্দ করে হাসে হেমন্ত। তারপর শুধায়,
— প্রথমত এখন আমার নও ঠিক তবে হতে কতক্ষণ। দ্বিতীয়ত এসব আবেগ নয় এটা ভালোবাসা। যা তোমার আমার প্রতি আসবেই। আর তৃতীয়ত বলতে তো তোমাকে অনেক কিছুই চাই।
— তোমার মনে হচ্ছে না তুমি একটু বেশি ম্যাচিউর কথাবার্তা বলছো? এগুলো তোমার বয়সের সাথে ঠিক যাচ্ছে না।

— বয়সের সাথে তো অনেক কিছুই যায় না কিন্তু কি করবো বলো মন যে মানতে চাইছে না। বড্ড অবুঝ তো সে।
হেমন্তের আস্তে বলা কথাটি শুনতে না পেলে জিজ্ঞেস করে বনচাঁপা,
— কি বললে?
— বলেছি সিনিয়রকে ভালোবাসি ম্যাচিউর তো একটু হতেই হয়। বুঝদার না হলে সিনিয়র বউ সামলাবো কীভাবে।
— বাজে বকা বন্ধ করে আসল কথা বলো এখানে কেনো এসেছো? আমার বাড়ির সামনে কি চাই তোমার?
— তোমাকে নিতে এসেছি।
— মানে?
— মানে তোমার কলেজ পার হয়েই তো আমার স্কুল। তোমাকে কলেজে পৌঁছে দিয়ে আমি স্কুলে যাবো।
ভ্রু কুঁচকে গেলো বনচাঁপার। বলল,
— আমি নিজের কলেজ নিজে যেতে পারি। তুমি বাচ্চা ছেলে আমাকে গাইড করবে? হাউ ফানি!
— এই বাচ্চা ছেলেই সেদিন আপনাকে প্রটেক্ট করেছিল ম্যাডাম।
হাসফাঁস করে উঠলো বনচাঁপা। হেমন্ত বোধহয় বুঝলো বনচাঁপার মনোভাব। তাইতো তাড়া দিয়ে বলে,
— তাড়াতাড়ি সাইকেলে উঠো চাঁপা। তোমাকে আগলে রাখতে হেমন্ত খুব ভালো করেই জানে। এইটুকু আস্থা আমার উপর রাখতে পারো।

হেমন্তের কথায় কি ছিলো কে জানে তবে বনচাঁপা আর মানা করতে পারলো না। সাইকেলের পিছনে গিয়ে বসলো।
স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত হেমন্তের শার্টটা পিছন দিয়ে কিছু অংশ মুঠো করে ধরে। ছেলেটা বয়সে ছোট হলে কি হবে দেখতে শুনতে সেই এক যুবক লাগে।
লম্বায় বনচাঁপা হেমন্তের কাঁধের সামান্য একটু নিচে পরে। অনেক ছেলে থাকে না গ্রোথ ভালো সেরকমই হেমন্তের।
শুধু হেমন্ত নয় ওদের বাড়ির সবারই গ্রোথ ভালো। তারা প্রত্যেকেই লম্বা। বয়সের তুলনায় পৌষ, পার্বণ, হেমন্ত, বসন্ত ওদের বড় বড় লাগে।

অজ্ঞান পৌষকে নিজের বরাদ্দকৃত রুমে নিয়ে এসেছে পার্বণ। কেউ জিজ্ঞেস করলেই বলছে,
— বউ রেখে অন্যরুমে ঘুমাবো অসম্ভব।
পার্বনের এসব কথা শুনে চৈত্র ফোড়ন কেটে আবার বলে,
— এহহ আসছে আমার বউভক্ত। আজ না জানলে তো জানতেই পারতি না। আবার বউ ছাড়া থাকবে না সে।
— তোরা তো একেকটা মীরজাফর, ঘষেটি বেগম আর রাজাকারের বংশধর তাই আমাকে এত বড় একটা সত্যি জানাসনি।
এভাবে মহিলাদের মত ঝগড়া করে পৌষকে নিজের রুমে আনতে সক্ষম হয় পার্বণ। এতে রাজ্য জয় হাসি দিয়ে নিজের খুশি বোঝায় সে।
তারপর যখন সবাই পৌষের জ্ঞান ফিরানোর কথা বলে তখন তাদের ডেঙ্গিয়ে গিয়ে রুমের দড়জা সপাটে বন্ধ করে দেয় সবার মুখের উপর।
জানায় জ্ঞান ফিরানোর নিনজা টেকনিক পার্বণের খুব ভালো মতোই জানা। সবাই যেনো তাকে আর পৌষকে একলা ছেড়ে দেয়।

অগত্যা পার্বণের কাছে সবার হার মানতে হয়। সেভাবেই ওদের রেখে যে যার মতো চলে যায়।
এদিকে রুমের দরজার সিটকিনি ভালো মত লাগিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে গিয়ে বেডের উপর হাজির হয় পার্বণ।
আবেগে আপ্লুত হয়ে পর পর পৌষের কপালে পাঁচটা চুমু খায়। এখানেই শেষ হয় না।
পৌষের সারা মুখ অসংখ্য চুমুতে ভরিয়ে দেয়। পার্বণের খুশি যেনো আজ ধরে না। কেনো খুশি তা তার দেখার দরকার নেই।
পৌষের গাল কপাল ভিজে যায় পার্বণের চুমু থেরাপিতে। বেচারি অজ্ঞান পৌষ নিজেও জানে না ওর সাথে হচ্ছে কি।
জিভ দিয়ে নিজের ঠোঁট ভিজিয়ে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয় পৌষের মুখপানে পার্বণ। সেভাবেই লো ভয়েসে বলে,

— এতক্ষণ তো শুকনো চুমু খেয়েছি এখন ভিজা চুমুটা খাই।
আর দেরি করে না তৎক্ষণাৎ মেয়েলি ওষ্ঠের ভাঁজে পুরুষালী ওষ্ঠের ভাঁজের মিলন ঘটায়। ছোট চুমু দিয়ে গভীর চুমু খায়।
যা আস্তে আস্তে গভীর থেকে গভীর চুমুর রুপ লাভ করে। নিজের ওষ্ঠের চাপ পৌষের ওষ্ঠে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চুমু খায়।
আবেশে চোখ বুঝে মনের মতো করে চুমু খায়। কায়দা করতে, আরেকটু মনমত ওষ্ঠ সুধা পানে চুম্বনরত অবস্হাতেই পৌষের উপর উঠে বসে পার্বণ।
দুই হাত দিয়ে পৌষের হাত দুটো মুঠো করে ধরে বালিশের সাথে চেপে রাখে। এরপর আবারো একই তবে এবারে একটু বেশিই তীব্র ভাবে ওষ্ঠ চুম্বন করে পার্বণ।
মুখ বন্ধ করে রেখেছে অধরের চাপে। আবার নাকের সাথেও নাকের সংঘর্ষনের ফলে শ্বাস নিতে না পেরে তড়াক চোখ খোলে পৌষ।
হাসফাঁস করে উঠে ও। ওর দম বন্ধ লাগছে। হাত নাড়াতে গেলে বুঝে হাত দুটোও ঠোঁটের মত অন্য কারো দখলে আছে।
বেচারি দম বন্ধ হয়ে মোচড়ামুচরি শুরু করে দেয়। ওর এভাবে নড়াচড়াতে দিন দুনিয়া ভুলে যাওয়া পার্বণের টনক নড়ে।
সেও নিজের বুজে রাখা চোখ দুটো খুললে মিলন ঘটে আরো দুটো চোঁখের সাথে। একদম কাছে, নিকটে সেই চোঁখ।
কি মনে করে পৌষের শরীরের উপর দিয়ে উঠে যায় পার্বণ। পার্বণ উঠতেই দ্রুত নিজেও উঠে বসে পৌষ।
লম্বা লম্বা শ্বাস টানছে ও। বুকটা হাপড়ের মতো ওঠানামা করছে। সেদিকে এক নজর তাকিয়েই গলা খাঁকারি দেয় পার্বণ।
পাশ থেকে পানির বোতল পৌষকে এগিয়ে দিলে ও সেটা নিয়ে নেয়। একদমে বোতলের অর্ধেক পানি খেয়ে ফেলে।
পানি খাওয়া শেষে পার্বণকে উদ্দেশ্য করে পৌষ ঝাঁঝালো গলায় বলে,

— দম বন্ধ করতে মারতে চেয়েছিলি নাকি তুই?
মিছে অবাক হওয়ার ভান করে পার্বণ। নাটকীয় ভঙ্গিমায় বলে,
— এমা ছি ছি আমি তো আরো তোর জ্ঞান ফিরিয়েছি। তুই তো অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলি।
— এই ভাবে মানুষ মানুষের জ্ঞান ফিরায়? চুমু খেয়ে দম আটকে?
শয়তানি হাসে পার্বণ। বলে,
— আমি তো মানুষ না এলিয়েন আমি। আমি এভাবেই জ্ঞান ফিরাই।
— হয়েছে তোর বাজে বকবক এখন মুখটা বন্ধ রাখ।
তারপর চারিপাশে নজর দিলেই বুঝতে পারে ও এখন পার্বণের রুমে আছে।

— আমি এই রুমে কি করছি? আমাকে আমার রুমে দিয়ে আয়।
নাটকে যেভাবে মাথায় বাজ পড়ার সিন দেখায় না ঠিক সেরকম অভিনয় করে পার্বণ। বলে উঠে,
— না না না! এ হতে পারে না।
কপালে ভাঁজ পড়ে পৌষের জিজ্ঞেস করে,
— কি হতে পারে না?
— স্বামী ছেড়ে স্ত্রীদের দূরে থাকতে নেই। জানিস না আল্লাহ পাপ দেয় এতে।
বিজ্ঞদের মতো করে আঙ্গুল নাড়িয়ে বলে পার্বণ। আর পার্বণের কথা শুনে পৌষের ভাঁজ পড়া কপাল শিথিল হয়।
মনে পড়ে কিছুক্ষণ আগের ঘটনা। এও মনে পড়ে যায় পার্বণ যে পৌষের স্বামী।

পঞ্চাশ বার কান ধরে উঠবস করে মাফ চাওয়ার পর বসন্তের সাথে প্যাচ আপ করেছে আম্রপালি।
তাই তো আজ দুজনে একসাথে স্কুলে যাচ্ছে। এই দুইদিন বসন্ত দৌড়ের উপর ছিল। আজ একটু শান্তি।
শান্তি বোধহয় বসন্তকে পছন্দ করে না তাইতো ওর শান্তি গায়েব করতে শান্তি বেগম পাঠিয়েছে অশান্তি মহাশয়কে।
বসন্ত আর আম্রপালি হাঁটছিল তখনই ওদের সামনে আসে বাতাসি। কিছুটা লাজুক হেসে কানের পিছে চুল গুঁজে বসন্তকে বলে,
— বসন্ত শোনো তোমার সাথে কিছু কথা ছিল যদি একটু আলাদা আসতে।
জমে যায় বসন্ত। থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে পাশে তাকাতেই দেখে আম্রপালির ভয়ংকর মুখশ্রী।
আতকে উঠে বসন্ত। লাফিয়ে আম্রপালির থেকে দুরে সিটকে পড়ে। ঢোক গিলে কাপা কাপা গলায় ডাকে,

— জজান…
খেঁকিয়ে উঠে আম্রপালি। কর্কশ গলায় বলে,
— খবরদার জান বলে ডাকবি না। বাতাসির সাথে ওর হওয়া হয়ে গিয়ে চিপায় গিয়ে আলাপ কর।
তারপর ধুমধাম পা ফেলে সাপের মতো ফুঁসতে ফুঁসতে সেখান থেকে চলে যায় আম্রপালি।
বেচারি বসন্ত। বাশ বোধহয় ওর পা*ছাই চিনছে। আপন গৃহালয় ভেবে যখন তখন ডুকে যাচ্ছে।
কাঁদো কাঁদো মুখ করে বাতাসিকে জিজ্ঞেস করে বসন্ত,
— বোন তুই আর আসার সময় পেলি না। কি এমন কথা যা তোর চিপায় গিয়ে বলতে হবে।
নিজের ঝকঝকে দাঁত গুলো দেখিয়ে বাতাসি জানায়,
— হেমন্তকে আমার ভালো লাগে। ওরে পটাইতে সাহায্য লাগতো।
— তো এই কথা তো তুই সামনেই বলতে পারতি। কিন্তু না তা পারবি কেনো আমার শান্তি তো সহ্য হয়না।
— হে হে হে ওই সরম করতাছিলো।
নিজের মাথা নিজেরই ফাটাতে ইচ্ছে করছে বসন্তের । না না নিজের মাথা ফাটালে চলবে না। তাহলে তো ব্যথা পাবে। থাক এই বুদ্ধি বাদ।

যত পিছে আগাচ্ছে ততোই পৌষের নিকট এগোচ্ছে পার্বণ। তার মুখ চোখে খেলে যাচ্ছে দুষ্টুমি।
পৌষ প্রায় কান্নাই করে ফেলবে এরকম একটা অবস্থা। বলে,
— এই একদম না। কাছে আসবি না পার্বণ। ভালো হবে না বলে দিলাম।
মুখ দিয়ে চুক চুক শব্দ করে পৌষের কাছে যেতে যেতে পার্বণ জবাব দেয়,
— কাছে না গেলেই উল্টো ভালো হবেনা। না তোর সাথে আর না আমার সাথে।
— লাগবে না আমার ভালো হওয়া তুই শুধু দুরে থাক।
খপ করে পৌষের হাত ধরে ওকে টেনে নিজের নিচে নিয়ে আসে পার্বণ। পৌষের কানের লতিতে আলতো একটা কামড় দিয়ে ফিসফিস করে বলে,
— এখন এই মুহূর্তে দূরে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না বেবি। আমাকে আমার কাজ করতে বাঁধা দেওয়ার কথা ভুলেও চিন্তা করবি না।

আবারো দূরে যেতে নিলে এক হাত দিয়ে পৌষকে চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে হাতড়ে পৌষের ওড়না নেয়।
ওর দুই হাত খাটের সাথে বেঁধে দেয় ভালো মতো। এরপর এক টানে নিজের টিশার্ট খুলে ফেলে পার্বণ।
মুখ নামিয়ে নেয় পৌষের ঘাড়ে। সেখানে নাক গুঁজে কিছুক্ষণ শ্বাস টেনে সেখানের ঘ্রাণ টেনে নিজের মধ্যে নেয়।
তারপর নাক মুখ ঘষে চুমু খায়, শেষে নিজের ভ্যাম্পায়ার টিথ বসিয়ে দেয় সেখানে।”আহ” করে উঠে পৌষ।
হাত নাড়াতে না পারলেও পা নাড়ালে পা দুটোও এবার নিজের পা ধারা চেপে ধরে পার্বণ।
শরীরের ভর পৌষের উপর ছেড়ে দিয়ে কখনো এ পাশের ঘাড়ে নাক মুখ ঘষে, চুমু, কামড় দেয় তো কখনো অন্যপাশের ঘাড়ে।

পৌষপার্বণ পর্ব ৮

ঘাড়ের পালা শেষে এবার মুখ নিয়ে রাখে পৌষের গলায়। একদম থুতনির নিচের সংলগ্ন অংশ থেকে শুরু করে কিস করতে করতে নিচের দিকে নামে।
নিচে নামতে নামতে কলার বোনের কাছে এসে থামে। দুই পাশের কলার বোনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানে শব্দ করে একটা চুমু খায়।
সঙ্গে সঙ্গে আবার দন্তপাটি বসিয়ে দেয় সেথায়। দাঁত বসাতেই পৌষের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে ব্যাথাতুর ধ্বনি।
কিন্তু পার্বণ থেমে নেই। সে এবার এলোমেলো হতে লাগে। নিচে নামতে থাকে সে।

পৌষপার্বণ পর্ব ১০