Home ফিরে এসো অনুরাগে ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৭

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৭

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৭
নওরিন কবির তিশা

মধ্যগগনের সূর্যটা আজ যেন অগ্নিবর্ষণ করছে। তপ্ত রৌদ্রকিরণে আবৃত বসুধা এক অসহনীয় উত্তাপে হাঁসফাঁস করছে। রাজপথের পিচ গলা গরম আর যানবাহনের ধোঁয়ায় চারিদিকটা ঘোলাটে। ঠিক এমনই এক বৈরী আবহাওয়ায় রাজপথ চিরে ছুটছে একটি রিকশা, গন্তব্য সুখনীড়।
রিকশায় বসে অবিরাম হাতপাখা নেড়ে নিজেকে বাতাস করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মেহসানা। কপালে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম, আর বিরক্তির রেখাগুলো ভ্রু-পল্লবে স্পষ্ট। কালকের দিনটা ছিল তাদের গ্রুপ ক্লাসের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অথচ কাল সারাটা দিন তৃষা যেন কর্পূরের মতো উবে গিয়েছিল! না ছিল তার কোনো হদিস, না বাস্তবে;না নেটওয়ার্কে।

মেহসানা রিকশায় বসে অস্থিরভাবে ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিল। সকাল থেকে সে অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করেছিল,ভেবেছিল আজ অন্তত কলেজে আসবেন মহারানী তবে আজও তৃষার অনুপস্থিতি মেহসানার বন্ধুসুলভ দুশ্চিন্তাকে এক নিমিষেই উসকে দিল। উৎকণ্ঠা নিতান্তই নিছক নয় পাল্লায় বেশ ভারি তাই এই কাঠফাঁটা রোদের মাঝেও সে রওনা হয়েছে।
সুখনীড় অবশ্য মেহসানার কাছে একদমই যে অচেনা পুরী তেমনটা নয়। গত দু’মাসে ছোট্ট টুইংকেলের সাথে তার এক অদ্ভুত মায়ার সখ্যতা গড়ে উঠেছে। সেই সুবাদেই এই প্রাসাদের অন্দরে তার গমনাগমন কদাচিৎ ঘটলেও, আজকের এই মেঘমেদুর পরিস্থিতির মাঝে তার আগমনটা যেন একটু বেশিই প্রাসঙ্গিক।
সুখনীড়ের বিশাল লোহার গেটের সামনে রিকশাটা থামতেই মেহসানা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল। ভাড়া মিটিয়ে নামার সময় সূর্যের প্রখরতা ওর মেজাজটাকে আরও চড়িয়ে দিল। ওড়না দিয়ে কপাল মুছে বিরবির করে বলল,,

—-‘তৃষার বাচ্চা! তুই শুধু একবার সামনে আয়, তোর এই নোটের খাতা দিয়ে যদি তোকে না পিটিয়েছি তবে আমার নামও মেহসানা না!
গেটের কাছে গিয়ে মেহসানা কলিংবেলে হাত রাখল। সাধারণত হানিফ চাচা কলিংবেল বাজতেই অতি দ্রুত গেট খুলে দেয়, কিন্তু আজ কয়েকবার বেল দেওয়ার পরও কারো সাড়া নেই। বিরক্তি নিয়ে মেহসানা ভাবল, আজ কি সুখনীড়ের সবাই কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমাচ্ছে?ও যখন শেষবারের মতো জোরে বেলটা চাপল, ঠিক তখনই ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে গেটের পাল্লাটা খুলে গেল।
মেহসানা গেট খোলার শব্দ শুনেই লোকটার দিকে ভালো করে না তাকিয়েই গটগট করে ভেতরে ঢুকতে শুরু করল। তার হাতে নোটের খাতা আর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ভেতরে ঢুকতে ঢুকতেই সে আপনমনে বলে উঠল,,

—–‘হানিফ চাচা, এত দেরি কেন? রোদে পুড়ে তো কয়লা হয়ে গেলাম! পানির জগটা রেডি রাইখেন তো।
দুই কদম এগোতেই পেছন থেকে এক গম্ভীর অথচ বেশ ধারালো পুরুষালি কণ্ঠস্বর ভেসে এল,,
—‘এই যে মিস! নিজেকে কি খুব বড় কোনো লাটসাহেব মনে হয় আপনার? অনুমতি না নিয়ে এভাবে কারো অন্দরমহলে ঢুকে পড়াটা কি আপনার ডিকশনারিতে স্মার্টনেস?
মেহসানা থমকে দাঁড়াল। কণ্ঠটা হানিফ চাচার নয়। ও চট করে পেছনে ফিরল। দেখল এক সুদর্শন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। পরনে খুব বেশি ফরমাল ড্রেস নেই ঠিকই, কিন্তু আভিজাত্য ঠিকরে বেরোচ্ছে। তবে রোদের তাপে মেহসানার মাথা তখন এতটাই গরম যে, সে যুবকের চেহারা বা পোশাকের আভিজাত্য লক্ষ্য করার চেয়ে তার দারোয়ান সুলভ আচরণেই বেশি মনোযোগ দিল। সে ভাবলো হানিফ চাচা হয়তো ছুটিতে, তাই এই নতুন ছোকরাকে রাখা হয়েছে।
মেহসানা ভ্রু কুঁচকে একটা অবজ্ঞার হাসি দিয়ে বলল,,

—‘ও আচ্ছা, নতুন লোক বুঝি? তা হানিফ চাচা সালাম শেখায়নি? আসসালামু আলাইকুম। এবার পথ ছাড়ুন তো ভাই, এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে।
আদ্রিয়ান এহসানের চোখ দুটো চশমার আড়ালে বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। সে জীবনে অনেক কিছু হয়েছে, কিন্তু কেউ তাকে দারোয়ান ভেবে সালাম ঠুকবে—এটা তার দুঃস্বপ্নেও ছিল না। আদ্রিয়ান নিজের ভেতরের রাগটা সামলে নিয়ে বাঁকা হেসে বলল,,

—‘সালামের জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু এই ভাই ডাকটা কি আপনার এই অদ্ভুত বুদ্ধির পরিচয় নাকি আপনার স্বভাবজাত অভ্যেস? আর আপনাকে ভেতরে যাওয়ার পারমিশন কে দিয়েছে?
মেহসানা এবার রীতিমতো ক্ষেপে গেল। সে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,,
—‘দেখুন, বেশি কথা বলবেন না। আমি এই বাড়ির মেহমান টুইংকেলের মিমি। আপনার মালিকের সাথে আমার বন্ধুত্ব। বেশি তড়পালে কিন্তু আপনার চাকরিটা নড়বড়ে হয়ে যাবে বলে দিলাম! আমাকে চেনেন আপনি?
আদ্রিয়ান এবার অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। হাসি থামিয়ে সে মেহসানার দিকে এক পা এগিয়ে এসে বলল,
—‘চাকরি নড়বড়ে? ইন্টারেস্টিং! তা মিস মিমি, আপনি কি জানেন আমি কে? আমাকে কি আপনার বাড়ির কাজের লোক মনে হচ্ছে?
ঠিক তখনই ভেতর থেকে ছোট্ট এক মিষ্টি কন্ঠের এক চিলতে আনন্দধ্বনি ভেসে এল।

—‘মিমি! ও মিমি! তুমি এসেছো?
টুইংকেল দুমদুম করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে মেহসানার দিকে দৌড়ে এল। মেহসানা আদ্রিয়ানের দিক থেকে নজর সরিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে টুইংকেলকে জড়িয়ে ধরল। ব্যাগ থেকে একটা রঙিন লজেন্স বের করে টুইংকেলের হাতে দিয়ে বলল,,
—‘হ্যাঁ জান পাখি, আমি এসেছি। আচ্ছা কিউটি পাই, তোমাদের এই নতুন দারোয়ানটা এত অসভ্য কেন বলো তো? আমাকে ভেতরে ঢুকতেই দিচ্ছে না! এই দামড়াটাকে কোত্থেকে ধরে এনেছে তোমার বানি?
দামড়া শব্দটা শুনে আদ্রিয়ানের মুখটা মুহূর্তেই লাল হয়ে গেল। সে রাগে রীতিমতো তোতলাতে শুরু করল,
—‘এক্সকিউজ মি! আপনি আমাকে কী বললেন? দামড়া?হোয়্যাট দ্য!
টুইংকেল লজেন্সটা মুখে পুরে অবাক হয়ে মেহসানার দিকে তাকাল। তারপর আদ্রিয়ানের দিকে আঙুল তুলে খিলখিল করে হেসে উঠল।

—‘ওহ মিমি! ও তো দারোয়ান না। ও তো আমার আদ্রিয়ান চাচু!
মেহসানার হাতের নোটের খাতাটা যেন হাত থেকে ফসকে পড়ে যেতে চাইল। সে স্থবির হয়ে গেল। একবার টুইংকেলের দিকে তাকাচ্ছে, আর একবার ওই দামড়া নাম দেওয়া লোকটার দিকে। আদ্রিয়ান এবার হাত দুটো বুকের ওপর ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে বিজয়ী হাসি হাসল।
—‘শুনলেন তো মিস মিমি ? আমি এই বাড়ির দারোয়ান আদ্রিয়ান এহসান। পেশায় একজন সার্জন। তা আপনার দামড়া থিওরিটা কি আমার প্রফেশনের সাথে ম্যাচ করে? নাকি আমি আবার আপনার ইন্টারভিউ নেব যে আপনি কার অনুমতিতে এখানে ঢুকেছেন?
মেহসানার তখন ইচ্ছে করছে মাটির নিচে ঢুকে যেতে। সে আমতা আমতা করে বলল,,

—‘আমি… আমি আসলে… ভেবেছিলাম হানিফ চাচা… মানে আপনি গেট খুললেন তো তাই…
আদ্রিয়ান এক কদম আরও এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল,
—‘হানিফ চাচা অসুস্থ। তাই ডাক্তার হিসেবে আমিই গেটের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। কিন্তু জানতাম না গেট খুলতেই একটা তপ্ত মরিচের সাথে দেখা হবে! বাই দ্য ওয়ে, লজেন্সটা কি শুধু টুইংকেলের জন্যই? এই দামড়া চাচার জন্য কিছু নেই?
মেহসানা রাগে-লজ্জায় রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো। সে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে বলল, —‘আপনার জন্য ঝাল মরিচ আছে, খাবেন? টুইংকেল, তোর বানি কোথায়? আমি ওর কাছে যাব।
আদ্রিয়ান যাওয়ার পথ আগলে দাঁড়িয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলল,,

—‘ওহ, আগে তো ক্ষমা চাইতে হবে। একজন সিনিয়র সার্জনকে আপনি দামড়া বললেন,দারোয়ান বানালেন এত সহজে নিস্তার নেই মিস মিমি! সে স্যরি।
মেহসানা নোটের খাতাটা বুকের সাথে চেপে ধরে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
—‘স্যরি? স্বপ্ন দেখুন যান! আপনার মতো ফাজিল ডাক্তার আমি জীবনে দেখিনি।
টুইংকেল মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুজনের এই ঝগড়া উপভোগ করছিল আর লজেন্স খাচ্ছিলো। সে হাসতে হাসতে বলল,,
—‘চাচু, মিমি কিন্তু খুব ভালো। তোমরা ফাইট করো না!
আদ্রিয়ান হাসল, মেহসানার পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় নিচু স্বরে বলল,,
—‘ফাইট তো কেবল শুরু মিস মিমি। সুখনীড়ে আপনাকে স্বাগতম!
মেহসানা গটগট করে ভেতরে চলে গেল ঠিকই, কিন্তু তার হৃৎপিণ্ডটা কেন যেন অসময়ে লাফাচ্ছে। রোদের তাপের চেয়েও আদ্রিয়ানের ওই বাঁকা হাসিটা যেন তাকে বেশি অস্থির করে তুলল।

মেহসানা যখন গটগট করে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করল, তখন তার গালের রক্তিম আভা লজ্জার না কি আদ্রিয়ানের সাথে হওয়া রণক্ষেত্রের উত্তাপের তা বোঝা দায়। তবে অন্দরে পা রাখতেই তার সেই চঞ্চলতা এক লহমায় স্তিমিত হয়ে এল। সুখনীড়ের আজকের পরিবেশটা যেন অন্য কোনো বসন্তের প্রভাতী আবেশে আচ্ছন্ন।
সে দেখল, কিচেনে হামিদা বেগম বসে আছেন। বসে আছেন বললে ভুল হবে তৃষার রান্না তদারকি করছেন। মাঝে মাঝে নিজেই রান্না করছেন। আর তাকে ঘিরেই সাবরিনা আর মৃত্তিকার গুঞ্জন। মেহসানা এই মানুষগুলোকে চেনে, তাদের সাথে তার পূর্বপরিচয় নেহাত কম নয়। কিন্তু আজ যেন সবকিছুতেই এক নতুন রঙের প্রলেপ পড়েছে।
তৃষা আমিনা বেগমের সহায়তায় রান্না করছিল নিয়েছো নাকি দেখা মাত্রই দৌড়ে আসলো সে। মেহসানা নোটের খাতাটা শক্ত করে চেপে ধরে তৃষার কাছে এগিয়ে দিয়ে হামিদা বেগমের উদ্দেশ্যে সালাম দিলেন।
হামিদা বেগম সস্নেহে হাসলেন। মমতা ভরা কণ্ঠস্বরে তিনি বললেন,,

—‘এসো মা, মেহসানা। রোদে পুড়ে তো একসার হয়ে গেছ। তৃষার সাথে কথা বলতে এসেছো বুঝি?
মেহসানা সামান্য হেসে বলল,,
—‘জ্বী আন্টি, কালকে আমাদের একটা ক্রুশিয়াল ক্লাস ছিল। এই মহারানী তো কাল উধাও, ফোনেও নেই, নেটওয়ার্কেও নেই। তাই নোটগুলো বুঝিয়ে দিতে এলাম। ভাবলাম দিয়ে এক দৌড়ে পালাব, রোদের যে তেজ!
সাবরিনা পাশ থেকে ফিক করে হেসে দিল। সে মেহেসানার দিকে এগিয়ে এসে ভ্রু নাচিয়ে বলল,,
—‘আরে মেহু, পালাবে বললেই পালানো যায় না! এই বাড়ির এন্ট্রেন্স তো সহজ, এক্সিট অনেক টাফ। আর আজ তো স্পেশাল মেনু হচ্ছে, ভাবি আর আম্মু মিলে জাস্ট ফাটিয়ে দিচ্ছে। তুমি না খেয়ে গেলে আমাদের সেলিব্রেশন তো জমবেই না।
মৃত্তিকা তখন সালাদ সাজাতে ব্যস্ত ছিল। সে হাতের ছুরিটা নামিয়ে রেখে বলল,,

—‘রাইট! আর মেহুপু, আজকের ভাইবটা খেয়াল করেছ? পুরো হাউস আজ লাইভলি। তুমি বরং ভাবির রুমে গিয়ে একটু এসি-তে বসো। এই গরমে তোমার ফেস তো পুরো টমেটোর মতো রেড হয়ে আছে!
মেহসানা মনে মনে ভাবল, ‘টমেটো হয়ে নেই রে ভাই, একটু আগে এক ডাইনোসর সার্জনের সাথে যুদ্ধ করে এসেছি!’ তবে মুখে শুধু বলল,,
—‘আরে না মৃত্তিকা, টমেটো না, জাস্ট সানবার্ন। বাট তৃষা, তুই কি কাল কলেজ করবি।
তৃষা মাথা নাড়িয়ে বলল,,
—–‘হুম কালকেও তো একটা প্রেজেন্টেশন আছে আচ্ছা সেসব বাদ দে তুই বরং একটু ড্রয়িংরুমে বোস, আমি এই ডেজার্টটা সেট করে আসছি।
হামিদা বেগম স্নেহমাখা কণ্ঠে যোগ করলেন,,,
—‘না তৃষা, তুমি বরং ওকে নিয়ে ওপরেই যাও। আদ্র বোধহয় নিচে আসছে। মেহসানা মা, তুমি তৃষার সাথে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও।
মেহসানা আদ্রিয়ানের নাম শুনেই একটু চমকে উঠল। সে দ্রুত তৃষার হাত চেপে ধরে বলল,,
—‘চল চল, ওপরেই যাই। এখানে বড্ড বেশি মানুষের আনাগোনা!
তৃষা মেহসানার এই আকস্মিক তাড়াহুড়ো দেখে অবাক হলেও কিছু বলল না। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় মেহসানা একবার পেছনে আড়চোখে তাকাল।

সূর্য্যিমামা তখন বিদায়ের প্রস্তুতিতে মগ্ন;দিগন্তজুড়ে লালচে মেঘের ভেলাগুলো অলস ভঙ্গিতে ভেসে বেড়াচ্ছে, যেন শ্রান্ত দিনশেষে তারা কোনো এক অজানা ঠিকানার সন্ধানে ব্যস্ত। উত্তপ্ত সূর্যের তপ্ত দহন স্তিমিত হয়ে কনকপ্রভায় রূপ নিয়েছে। এক স্নিগ্ধ তামাটে আভা ছড়িয়ে পড়েছে সুখনীড়ের আঙিনায়। বাগানের দেবদারু আর হাসনাহেনার পাতায় সেই আলো লেগে ঝিলমিল করছে।
বাড়ির অতিথিরা একে একে বিদায় নিয়েছেন। কোলাহলমুক্ত শান্ত নিস্তব্ধতা আবার ফিরে এসেছে সুখনীড়ে। আর ঠিক এই গোধূলি বেলায় বাগানের ঘাসের ওপর তৃষা আর টুইংকেল মিলে অন্য জগত সৃষ্টি করেছে। তৃষা ঘাসের ওপর বসে একমনে ফুঁ দিয়ে এয়ার বাবলস তৈরি করছে আর টুইংকেল সেই রঙিন বুদবুদগুলো ধরার জন্য প্রজাপতির মতো এদিক-ওদিক ছুটছে।
আকাশের সেই আবির মাখা রং তৃষার শুভ্র মুখে এসে পড়েছে, যা তাকে এই মর্ত্যের মানবী অপেক্ষা কোনো রূপকথার রাজকন্যার ন্যায় মোহময়ী করে তুলেছে।টুইংকেলের খিলখিল হাসি আর বাতাসের ঝিরিঝিরি শব্দ মিলেমিশে এক অদ্ভুত একতান সৃষ্টি করছে। তৃষা যখন ওপরের দিকে ফুঁ দিচ্ছে, তখন তার অবিন্যস্ত ক’গাছি কেশ গুচ্ছ কপালে এসে দুষ্টু নৃত্যে লিপ্ত হচ্ছে।
হঠাৎ টুইংকেল দৌড়ে এসে তৃষার কোল ঘেঁষে বসে বললো,,—-‘ও বানি?
তৃষা তৎক্ষণাৎ হাতে থাকা বাবলস মেকার কাঠিটা সল্যুশনের বোতলে ডুবিয়ে পাশে সরিয়ে রাখল। পাশে রেখে বলল,,—-‘হুম সুইটহার্ট,কি হয়েছে?

টুইংকেল তার ডাগর ডাগর চোখ জোড়া নাচিয়ে বলল,—‘বানি, চলো আমরা ট্যাগ গেম খেলি! তুমি পুলিশ হবে আর আমি চোর। তুমি কিন্তু আমাকে কিছুতেই ধরতে পারবে না, ওকে?
সন্তু ফোঁটা স্নিগ্ধ গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁট জোড়া সামান্য প্রকম্পিতপূর্বক হেসে ওড়নার আঁচলটা নিজের সঙ্গে ভালোভাবে জড়িয়ে বলল,—‘ওহ রিয়্যালি? তুমি চোর? তাহলে পুলিশ কিন্তু রেডি! এই ধরলাম কিন্তু!
বলেই তৃষা চপল চরণে টুইংকেলের পশ্চাদ্ধাবন করিল। ক্ষুদ্র চরণে টুইংকেল সবুজাবৃত উদ্যানের প্রান্ত হইতে প্রান্তরে বক্ররেখায় ধাবমান, আর তৃষা কৃত্রিম পরাজয়ের ছলনায় তাকে ধরার প্রচেষ্টায় মগ্ন। হাস্যরসের সেই কলতান যখন চরমে, যখন তৃষা প্রায় টুইংকালের নাগাল পেয়েছে, ঠিক তখনই এক নিবিড় গুল্মরাশির অন্তরালে আত্মগোপনের নিমিত্তে টুইংকেল আকস্মিক মোড় নিল। আর তাকে ধরার অন্তিম ক্ষণে তৃষা নিজের ‌অলক্ষ্যে শিথিল হওয়া ওড়নার কুঞ্চনে চরণের ভারসাম্য হারালো।

একটি অস্ফুট আর্তনাদ আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করিয়া যখন সে সম্মুখপানে পতনোন্মুখ, ঠিক তখনই এক জোড়া বাহু তাকে শূন্যের মাঝেই ধরে ফেলল। তৃষা আছড়ে পড়ল এক সুবিস্তৃত বক্ষপঞ্জরের ওপর।
নাসিকাগ্রে এসে বিঁধল সেই অতি পরিচিত কাষ্ঠল সৌরভের মোহনীয় ঘ্রাণ। নেত্রপল্লব নিমীলিত তৃষার ভয়ার্ত হৃদয়ে কম্পিত হচ্ছে,বক্ষস্পন্দন বোধ হয় কণ্ঠনালীর দ্বারে এসে করাঘাত করছে। ধীরলয়ে দৃষ্টি মেলে সে দেখল সে বর্তমানে আর্যর বক্ষলগ্না, আর আর্যর সেই অতলস্পর্শী নিথর আঁখিজুগল তার ওপর স্থির হয়েছে।
আর্যর ললাটে বিরক্তির রেখাগুলি তখন কৃষ্ণপক্ষের মেঘের ন্যায় ঘনীভূত। সে অতি সন্তর্পণে তৃষাকে আলতো করে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বেশ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,,

—-‘এই মেয়ে! আপনার কি কোনো সেন্স নেই? সারাক্ষণ এমন ছোট বাচ্চাদের মতো প্যানিকড হয়ে লাফালাফি করেন কেন? একবার যদি কোনো বড় চোট পেতেন? নিজের প্রতি এতো কেয়ারলেস কেনো হ্যাঁ।
তৃষা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে;তার কান দুটো লজ্জায় আর আর্যর হাতের সেই উষ্ণ স্পর্শে লাল হয়ে গেছে।ললাটের ঘর্মবিন্দু আর কপোলের আরক্তিম আভা যেন পড়ন্ত বিকেলের গোধূলি আলোর সহিত পাল্লা দিচ্ছে। গোধূলির এই শান্ত আকাশটা যেন হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। সে অপরাধীর মতো নিজের ওড়নার খুঁট আঙুলে পেঁচাতে লাগল। আর্যর চোখের সেই তীক্ষ্ণ চাউনি তার হৃৎপিণ্ডের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।সে ‌কাঁপা গলায় অস্ফুট স্বরে বলল,,

—‘আসলে… আমি খেয়াল করিনি। টুইংকেলের সাথে খেলতে গিয়ে ওড়নায় পা আটকে গিয়েছিল। আমি… আমি..স্যরি।
আর্য এক মুহূর্তের জন্য তৃষার ওই নতমুখী অবয়বটার দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার চোখেমুখে ভয়ের চেয়েও বেশি এক অদ্ভুত দ্বিধা খেলা করছে। আর্যর শক্ত চোয়াল কিছুটা শিথিল হলো, কিন্তু কণ্ঠের গাম্ভীর্য কমল না। সে পকেটে হাত গুঁজে শীতল স্বরে বলল,,
—‘নিজের ব্যাপার একটু কেয়ারফুল থাকা উচিত। নাথিং এলস।
ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হলো ছোট্ট টুইংকেল। সে এতোক্ষণ দূর থেকে পাপা আর বানির এই গম্ভির আলোচনা পর্যবেক্ষণ করছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে গুটিগুটি পায়ে আর্যর কাছে এগিয়ে এল। আর্যর প্যান্টের কাপড় টেনে ধরে মুখটা উঁচিয়ে বেশ বিজ্ঞের মতো বলল,,

—‘পাপা! তুমি বানিকে বকছো কেন? বানি তো পুলিশ হয়েছিল, আর আমি চোর! চোর ধরতে গিয়ে পুলিশ তো একটু পড়ে যেতেই পারে, তাই না?
মেয়ের এমন অকাট্য যুক্তি শুনে আর্যর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটতে গিয়েও থমকে গেল। সে নিচু হয়ে টুইংকেলকে কোলে তুলে নিল। টুইংকেল আর্যর গলা জড়িয়ে ধরে তৃষার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপল।আর্য টুইংকেলকে কোলে নিয়েই তৃষার পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বলল,
—‘পুলিশ যদি নিজেই ধরাশায়ী হয়, তবে চোর তো পালাবেই সঙ্গে নিজেও বোল্ড আউট হয়ে যাবে।
আর কোনো কথা নয় আর্য তুমি কালকে কোলে নিয়েই সোজা গটগট করে ভেতরে চলে গেল। তৃষা সেই জায়গাতেই স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার কানে তখনো আর্যর সেই গাঢ় কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

সুখনীড়ের বাতায়নতলে রজনীর নিস্তব্ধতা তখন ঘনীভূত হয়ে আসছে। বাইরের উদ্যান হতে হাসনাহেনার উগ্র সুবাস নৈশবায়ুর ডানায় চড়ে কক্ষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। টেবিলের এক কোণে রক্ষিত ল্যাম্পশেডের ম্লান পীতালোক তৃষার টেবিলের ওপর ঝুকে পড়েছে। সম্মুখে মেহসানার দেওয়া সেই নোটের খাতা আর কয়েকটা রেফারেন্স বই খোলা।
তৃষা স্থির নয়নে খাতার পাতায় দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু তার মন যেন আজ অবাধ্য পক্ষী, বারংবার পিঞ্জর ছেড়ে সেই গোধূলি-লগ্নে ছুটে যাচ্ছে। ঘাসের ওপর সেই পতনোন্মুখ মুহূর্ত, আর্যর সেই বলিষ্ঠ বাহুবন্ধন, আর নাসারন্ধ্রে বিদ্যমান সেই কাষ্ঠল সুগন্ধ সবই যেন অক্ষরের রেখায় রেখায় ভেসে উঠছে। দোলা দিচ্ছে স্মৃতির পাতায়।
আর্যর সেই শাসনমিশ্রিত কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কক্ষের নিস্তব্ধ দেওয়ালগুলোর মাঝেও।হঠাৎ এক তীব্র আক্রোশে তৃষার কপাল কুঞ্চিত হলো।সহসা দুই হস্তে সশব্দে নোটের খাতাটি বন্ধ করেই সে চেঁচিয়ে উঠল খানিক,,

—-‘অসহ্য! মিস্টার মুড কি’লা’র কোথাকার! সারাক্ষণ জ্ঞান দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই? জাস্ট মেজাজটাই বিগড়ে দিয়েছে আমার। ভাবটা এমন যেন এই দুনিয়ার সব ডিসিপ্লিন উনার একার কেনা! আস্ত একটা ওল্ড-স্কুল অ্যারোগ্যান্ট খাম্বো!
নিজের এই আকস্মিক চিৎকারে নিজেই লজ্জিত হয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরল তৃষা।ঘরের নিস্তব্ধতা যেন তাকে ব্যঙ্গ করছে। মনটা বড্ড অস্থির হয়ে উঠছে; হঠাৎ তার মনে হল একদণ্ড অন্য কোথাও ঘুরে না আসলে তাই এই অযাচিত অস্থিরতার উপশম হবে না। অতঃপর যেমন ভাবনা তেমন কাজ সে ধীর চরণে কক্ষ থেকে বের হল। পার্শ্ববর্তী কক্ষেই টুইংকেল থাকে। বলা বাহুল্য আজ সারাদিন বেশ দৌড়াদৌড়ি করাই ক্লান্ত হয়ে নিজের রুমে খেলছিল টুইংকেল।
তৃষাকে আর জ্বালায়নি। নতুবা এমন সময় তৃষাকে ফাঁকা পাওয়া বড্ড দায়।তৃষা টেবিল ছেড়ে উঠেই ভাবলো ‌টুইংকেলের তুলতুলে প্রশান্ত মুখখানি দেখলে হয়তো তার মনের এই তপ্ত মেঘ কিঞ্চিৎ লাঘব হবে।
টুইংকেলের কক্ষের দ্বার ঈষৎ উন্মুক্ত ছিল। তৃষা অতি সন্তর্পণে, পদশব্দ গোপন করে ভেতরে প্রবেশ করল। কক্ষের অভ্যন্তরে নীলচে নিশি-প্রদীপের ন্যায় আলোয় এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তৃষা দেখল, টুইংকেল তাহার প্রিয় বেয়ার টেডিটি বুকে চেপে অঘোরে নিদ্রায় মশগুল। তার প্রশান্ত ললাটে ঘামের বিন্দু দেখেই তৃষা অতি মমতায় আঁচল দিয়ে তা মুছে এক স্নিগ্ধ চুমু আঁকলো।

ঠিক তখনই ‌ হঠাৎ তৃষার ষষ্ঠেন্দ্রিয় জানান দিল বিশাল এই কক্ষে সে একা নয়। অন্ধকারাচ্ছন্ন কোণ হইতে এক দীর্ঘ ছায়া যেন তার দিকেই এগিয়ে আসছে। ছোট থেকেই বড্ড ভিতর তৃষা ভয়ে ও বিস্ময়ে দ্রুত পিছনে ঘুরতে যেতেই আকস্মিক সেই সঞ্চালনে পার্শ্ববর্তী কাষ্ঠাসনে রক্ষিত বহুমূল্য চিনা-মাটির ফুলদানিটি তার অলক্ষ্য স্পর্শে টলমল করে উঠলো।
তৃষার চক্ষুদ্বয় ভয়ে বিস্ফারিত হয়ে গেল। তার মনে হইল, এই বুঝি দামী কাঁচের সশব্দ পতনে নিস্তব্ধ রজনীর শান্তি ভঙ্গ হবে আর তার মিষ্টি টুইংকেলের ঘুমটা ভাঙবে। ভয়ে চোখে খিচেঁ বন্ধ করে নিল সে কিন্তু ফুলদানিটি ভূমি স্পর্শ করার পূর্বেই এক জোড়া দক্ষ ও দীর্ঘ হাত সেটিকে শূন্যেই লুফে নিলো।
তৃষা স্থবির হয়ে দেখল, ল্যাপটপ হাতে আর্য তার অতি সন্নিকটে দণ্ডায়মান। আর্যর দৃষ্টিতে তখন ক্ষুরধার তীক্ষ্ণতা। সে অতি সাবধানে ফুলদানিটি স্বস্থানে স্থাপন করে তৃষার নয়নে নয়ন রাখল। তার কণ্ঠস্বর নিম্নগামী হলেও তাতে গাম্ভীর্যের লেশমাত্র অভাব ছিল না। আর্য রুক্ষ ভঙ্গিতে বলল,,

—-‘সিরিয়াসলি তৃষা? ক্যান ইউ জাস্ট বি কুয়াইট ফর অ্যাটলিস্ট টু মিনিটস? আপনার কি কোনো শান্ত থাকার সেন্স নেই? ড্যাম ইট! এই ফুলদানিটা যদি এখন ফ্লোরে পড়ত, সেই সাউন্ডে টুইংকেলের ঘুম তো ভাঙতই, প্লাস এই শার্প গ্লাসগুলো আপনার পায়ে বিঁধে কী হতো আইডিয়া আছে? আপনি কি সবসময় এমন মেসড আপ? সিচুয়েশন ক্রিয়েট না করলে শান্তি পান না?
তৃষা অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। আর্য নিজের গভীর পৌরুষ কন্ঠে আবার বলল,,
—‘লুক এট ইউ! এই যে আপনি সারাক্ষণ এমন আনমাইন্ডফুল হয়ে ঘোরেন, এতে কার লাভ হয়? বিকেলে বাগানে ওইভাবে পড়ে যাচ্ছিলেন, এখন আবার এটা! নিজেকে কি খুব সুপারহিউম্যান মনে হয় আপনার? আপনি কি জানেন না আপনার এই কেয়ারলেসনেস অন্য কাউকেও কতটা প্যানিকড করে দিতে পারে? আই মিন, হোয়াই আর ইউ সো ইরেসপন্সিবল অ্যাবাউট ইয়োরসেলফ?
তৃষা আমতা আমতা বলতে চাইল,,

—-‘আমি তো আসলে…
আর্য তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই পুনর্বার বলল,,
—‘জাস্ট স্টপ ইট। অজুহাত দেবেন না। নেক্সট টাইম অন্ধকারে এমনভাবে ড্রাইভ করার আগে অন্তত নিজের সেফটির কথা ভাববেন। ইউ আর নট আ চাইল্ড এনিমোর। যান এবার, নিজের রুমে গিয়ে রেস্ট নিন। এই টালমাটাল অবস্থায় বেশিক্ষণ জেগে থাকা আপনার নার্ভের জন্য মোটেও ভালো না। গুড নাইট।
আর্যর হাতের সেই ক্ষণস্থায়ী স্পর্শ আর শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রচ্ছন্ন উদ্বেগের সুর তৃষার হৃদস্পন্দন ওলটপালট করে দিল। সে কিছু না বলে দ্রুত কদম ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। সত্যিই তো তার ভেতরে শিশুসত্ত্বা টা এখনো বড্ড প্রবল রূপে বিদ্যমান। এর জন্য হয়তো বাচ্চাদের সাথে একটু তাড়াতাড়ি বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার তবে মাঝে মাঝে এই সত্ত্বাটার কারণেই ভীষণ বিপদে পড়তে হয় তাকে।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৬

বাচ্চাদের মত লাফালাফি ঝাপাঝাপিতে ওস্তাদ তৃষা প্রায়শই আ’ঘা’তে ভোগে। যাতে আর কারো কিছু এসে যায় কিনা বলা দুষ্কর তবে য’ন্ত্র’ণা’টা একমাত্র তাকেই উপভোগ করতে হয়। তবে এত কিছুর পরেও নিজের ব্যাপারে একদমই সচেতন নয় তৃষা, হবেও বা কি করে কেউ কি আগে কখনো এভাবে তাকে বলেছে নাকি? বড়জোর এই বিষয়ে বকা আর মার খেয়েছে ভাইয়া ভাবির কাছে।
তবে কেউই কখনো এতটা যত্ন করে শাসনের মধ্যেও মমতা মিশিয়ে তাকে বলেনি। তাই কক্ষে যেতে যেতেই তৃষা ভাবল এখন থেকে অন্তত নিজের ব্যাপারে একটু হলেও সচেতন হবে সে।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৮