প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১৪
আরাফাত আদনান সামি
রাত তখন প্রায় একটা। গভীর নীরবতার চাদরে ঢেকে গেছে চারপাশ। দূরের কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ ছাড়া আর কোনো আওয়াজ নেই। ঠিক সেই সময় বাড়ির মূল ফটকের সামনে এসে থামে কৌশিকের বাইক। সারাদিনের ক্লান্তি যেন শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে তার।বাড়ির সবাই অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। রোহিত সব সামলে নিয়েছিল, তাই কেউ কৌশিকের জন্য অপেক্ষা করেনি। দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে রোহিত এখনো জেগে আছে। হলরুমের সোফায় আধশোয়া হয়ে ফোনে স্ক্রল করছে সে।
কৌশিক হালকা হেসে সোজা গিয়ে বসে তার পাশে। দু’জনের মধ্যে শুরু হয় এক নিঃশব্দ রাতের গল্প। প্রায় ত্রিশ মিনিটের মতো দু’ভাইয়ের কথাবার্তা চলল। মেলায় নানা রকম খাবার খাওয়ার কারণে কৌশিকের ক্ষুধা ছিল না, তাই আর কিছু না খেয়ে উঠে পড়ল। রোহিতের সঙ্গে শুভরাত্রি বিনিময় করে নিজের রুমের দিকে এগোল সে। রোহিতও তখন নিজের ঘরের পথে পা বাড়াল।
রুমে ঢুকে কৌশিক এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।চোখ কপালে উঠল যেন।
তার বিছানার ধারে বসে আছে তিয়াশা একদম নিশ্চুপ, মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্তির ছায়া।
কৌশিক অবাক কণ্ঠে বলল,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“তিয়াশা! তুই এত রাতে আমার রুমে কী করছিস?”
তিয়াশা ধীরে মাথা তুলে হেসে বলল,
“কেন, আসতে পারি না নাকি?”
কৌশিক ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আসতে তো পারিস, কিন্তু হঠাৎ এমন সময় এত রাতে এখানে?”
তিয়াশা বিছানার চাদরটায় আঙুল বুলিয়ে শান্ত গলায় বলল,
“এমনিও তো আর কয়েক বছর পর এই রুমটাই হবে আমার… তাই ভাবলাম, আগে থেকেই একটু দেখে নিই।”
কৌশিক স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল তার দিকে। চোখে অবিশ্বাস, মুখে মৃদু বিস্ময়। তার ঠোঁট দিয়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এল একটাই শব্দ-
“হোয়াট…?”
রাতটা অদ্ভুতভাবে নিস্তব্ধ। বাইরে বাতাসে একটা নরম শীতল পরশ, জানালার পর্দাটা হালকা দুলছে। ঘরের ভেতর ম্লান আলোয় বসে আছে তিয়াশা। আজ তাকে অন্যরকম লাগছে কেমন যেন এক নতুন আলোয় ঝলমল করছে সে। পড়নে হালকা নীল প্লাজুর সঙ্গে ছোট একটা সাদা গেঞ্জি। গেঞ্জিটা এতটাই পাতলা যে সাদা রঙের কারণে আলোয় সবকিছু স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। এতক্ষণ কৌশিক তা খেয়াল করেনি, কিন্তু যেই তিয়াশা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল কৌশিকের চোখ হঠাৎ থমকে গেল। অনিচ্ছায় যেন কিছু দেখে ফেলেছে সে।
এক মুহূর্তের জন্য কৌশিকের দৃষ্টি স্থির হয়ে রইল তিয়াশার দিকে, তারপর হঠাৎই নিজের চোখে হাত দিয়ে ঘুরে গেল অন্যদিকে। তার মুখের ভেতর অস্বস্তি, গলায় গাম্ভীর্য।
গভীর স্বরে বলল,
“এইসব কী তিয়াশা?”
তিয়াশা ঠোঁটে হালকা হাসি এনে ধীরে ধীরে কৌশিকের দিকে এগিয়ে এল।
“কী কৌশিক ভাই?”
কৌশিক ভ্রু কুঁচকে বলল,
“তুই ভালো করেই জানিস আমি কিসের কথা বলছি।”
তিয়াশা ঠোঁট কামড়ে মুচকি হেসে বলল,
“হ্যাঁ, জানি তো… কেনো? সুন্দর লাগছে না আমাকে?”
কৌশিক এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড, তারপর মাথা নাড়ল বিরক্ত মুখে।
“মাথা ঠিক আছে তোর?”
তিয়াশা তবুও থামল না।
“একদম ঠিক আছে। আপনি উল্টো দিকে ঘুরে আছেন কেনো? আমার দিকে তাকান না…”
তিয়াশার কণ্ঠে এমন এক সরল দুষ্টুমি ছিল, যা কৌশিকের মধ্যে আরও অস্বস্তি ছড়িয়ে দিল। আলমারি খুলে কৌশিক তাড়াতাড়ি নিজের একটা শার্ট হাতে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াল।এক মুহূর্তের মধ্যেই শার্টটা তিয়াশার গায়ে জড়িয়ে দিল সে।
“অনেক হয়েছে, পরের বার এমন পোশাক পরবি না তিয়াশা। এখন রুমে যা, আর সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার শার্টটা দিয়ে যাস।”
তিয়াশা কিছু বলল না। তার চোখে তখন এক অদ্ভুত আলো মায়া, অভিমান, আর কিছুটা টান। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল সে, কৌশিকের মুখের দিকে তাকিয়ে।
কৌশিক আবার বলল গম্ভীর গলায়,
“ওই, কী হলো? শুনতে পাসনি নাকি? রাত প্রায় দুইটা বাজতে চলেছে। যা, গিয়ে ঘুমা। আমিও ফ্রেশ হয়ে ঘুমাবো।”
তিয়াশা তখনও নড়ল না। নরম কণ্ঠে শুধু একটা কথাই বলল,
“ভালোবাসি…”
কৌশিক ভ্রুকুচকে তাকাল তিয়াশার দিকে। তার চোখে ঝলসে উঠল বিস্ময় আর রাগের এক অদ্ভুত মিশ্র ছায়া। কিছুক্ষণ নিঃশব্দে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ সে পেছনে একবার ঘুরে দেখল, যেন কেউ আছে কি না নিশ্চিত হতে। তারপর গম্ভীর স্বরে বলল,
“কাকে কী বলছিস তুই? মনে হয় ঘুমের ঘোরে ভুল করে এখানে চলে এসেছিস। দাড়া, আমি কাকিকে ডাকছি।”
তিয়াশা তখনও স্থির দাঁড়িয়ে, চোখ দুটো কাঁপছে হালকা অশ্রুর আভায়। কাপা কণ্ঠে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“আম্মুকে ডাকতে হবে না… আর না, আমি কোনো ঘুমের ঘোরে আসিনি।”
কৌশিক অবাক হয়ে তাকাল তার দিকে।
“তাহলে?”
তিয়াশা এবার গভীর শ্বাস নিয়ে এগিয়ে এল এক পা। মুখের প্রতিটি শব্দ যেন বুকের ভেতর থেকে ছিঁড়ে বেরিয়ে এল,
“কৌশিক ভাই, আমি আপনাকে ভালোবাসি… ভীষণ, ভীষণ, ভীষণ ভালোবা….”
“ঠাস…!”
তিয়াশার বাক্য শেষ হওয়ার আগেই কৌশিকের হাত ছিটকে গিয়ে পড়ল তার গালে। ঘরটা ছিল বন্ধ, চারদিকে দেওয়াল ঘেরা তাই থাপ্পড়ের শব্দ তিন সেকেন্ডের মতো প্রতিধ্বনি হয়ে বাজল বারবার।
তিয়াশা শক্ত হাতে আঘাত খেয়ে ধপাস করে মেঝেতে পড়ে গেল। এক মুহূর্তের জন্য যেন সময় থমকে দাঁড়াল। কৌশিক শ্বাস ফেলে তার কাছে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। তিয়াশার মুখটা ধরে উঁচু করল সে, চোখে রাগ আর অবিশ্বাসের আগুন,
“মাথা ঠিক আছে তোর? কী সব বলছিস তুই জানিস?”
থাপ্পড়টা বেশ জোরেই পড়েছিল তিয়াশার গালে। ব্যথায় তার মুখ দিয়ে শব্দ বেরোচ্ছিল না, তবুও কান্নার ফাঁকে ফাঁকে কষ্টে ভরা কণ্ঠে বলল,
“হ্যাঁ… জানি আমি কী বলছি। কিন্তু আপনিও জেনে রাখুন,আমি আপনাকে ভালোবাসি, আর ভালোবাসতেই থাকব।”
কৌশিক কিছুক্ষণ স্থির বসে রইল। তারপর হঠাৎ তিয়াশার হাত ধরে তাকে টেনে তুলল। কণ্ঠটা গম্ভীর, অথচ কেমন যেন কাঁপছিল ভেতরে।
“এই মুহূর্তের মধ্যে আমার চোখের সামনে থেকে সরে যা।”
তিয়াশা ফুঁপিয়ে উঠল,
“কৌশিক ভাই, প্লিজ আমার কথাটা একবার শুনুন না।”
কৌশিক গলার স্বর আরও কঠিন করে বলল,
“দেখ তিয়াশা,আমাকে আর রাগিস না। না হলে কী থেকে কী করে ফেলব, নিজেও জানি না। তাই বলছি, এই মুহূর্তেই আমার ঘর থেকে বের হয়ে যা।”
তিয়াশা কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে এল, চোখভরা জল নিয়ে বলল,
“প্লিজ, কৌশিক ভাই, এইভাবে আমাকে তাড়িয়ে দেবেন না।”
কিন্তু তিয়াশার কথা শেষ হওয়ার আগেই কৌশিক তার হাত চেপে ধরে এক ঝটকায় টেনে দরজার কাছে নিয়ে গেল। রাগে আর অস্থিরতায় এক হেঁচকা টানে তিয়াশাকে বাইরে ঠেলে দিল সে। তিয়াশা সামলাতে না পেরে মেঝেতে পড়ে গেল দরজার ওপারে।
কাঁদতে কাঁদতে তিয়াশা বলল,
“আমি আপনাকে ভালোবাসি, আর আমি এটাও জানি, কৌশিক ভাই, আপনিও আমাকে ভালোবাসেন।”
কৌশিক থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য। তারপর যেন নিজের রাগকে বিদ্রূপে ঢেকে হো হো করে হেসে উঠল। হাসিটা কেমন যেন কষ্টে ভরা ছিল। কিছুটা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
“কখন, রে তিয়াশা? তুই আমার চেয়ে কমপক্ষে পাঁচ–ছয় বছরের ছোট। তার ওপর তুই রোহিতের বোন,মানে আমারও ছোট বোনের মতো। তবু কেন যেন তোকে সহ্য করতে পারতাম না আমি! হয়তো এই কারণেই।আর তুইও তো ভালো করেই জানতি যে আমি তোকে পছন্দ করি না, সহ্য করতে পারি না! তবু কেন এত কিছু জেনেও ভালোবাসতে গেলি আমাকে? জানতিস না, এর পরিণতি এমনই হবে?”
কৌশিকের কণ্ঠে কষ্ট আর রাগ মিলেমিশে একটা অচেনা ঝড় বইছিল।তিয়াশা চোখ মুছে কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“আমার সঙ্গে এমন কথা বলবেন না, কৌশিক ভাই… প্লিজ। একবার শুধু একবার আমার কথাটা বোঝার চেষ্টা করুন। আর আপনি মিথ্যা বলছেন কেন? আপনি যদি সত্যিই আমাকে সহ্য করতে না পারতেন, তাহলে এতদিনের সব আচরণ, সেই যত্ন, সেই নিরবতা,সেগুলো কি সবই নাটক ছিল?”
তিযাশার কথা শুনে কৌশিক হঠাৎ করেই জোরে হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই তিয়াশার দিকে তাকিয়ে বলল,
“নাটক? কিসের নাটক? হ্যাঁ, তোর আচরণ আমি আর সহ্য করে নিতাম কেন জানিস? কেননা তোকে নিজের ছোট বোনের মতো দেখতাম। নিজের কোনো বোন না থাকায় তোকে ছোট বোনের মতোই আদর-যত্ন করতাম ভেবে ভুল করেছিলাম। কিন্তু এখন বুঝছি তুই আমার বোন হবার যোগ্যই নস। একটা ছন্দ বলি, মাইন্ড করিস না।”
কৌশিক মুখে একরকম ব্যঙ্গের হাসি এনে উচ্চস্বরে ছন্দটা আওড়াল,
“বোন হিসাবে প্রিয় ছিলি গতকাল,
আজকের ব্যবহারের জন্য হইলি বাল,
আর এখন থেকে বাল হয়েই থাকবি চিরকাল।”
তারপর ঠোঁটের কোণে একফোঁটা তাচ্ছিল্যের হাসি এনে বলল,
“কেমন, ছন্দটা সুন্দর হয়েছে না? তোর সঙ্গে বেশ মানিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। তোকে ফ্রীতে ছন্দও শুনিয়ে দিলাম এবার তুই তোর রাস্তা ধর। সোজা গিয়ে ডানদিকে তোর রুমে চলে যা। আর হ্যাঁ, এত অপমানের পরেও যদি বিন্দুমাত্র লজ্জা থেকে থাকে, তবে আমার সামনে আর কখনও যেন না পড়িস। গুড নাইট।”
বলে কৌশিক ঠাস করে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
দরজার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিয়াশা থরথর করে কেঁপে উঠল। গালের ব্যথা, শরীরের জ্বালা সব মিলিয়ে যেন অসহ্য যন্ত্রণায় বুকটা ভারী হয়ে এলো। সে অঝোরে কাঁদতে লাগল। বারবার পড়ে যাওয়ার কারণে কোমর ও হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছে, তবু কোনো মতে দেয়াল ধরে নিজেকে সামলে দাঁড়াল। চোখের পানি মুছে, কান্নাভেজা কণ্ঠে বিড়বিড় করে বলল,
“আমিও দেখে নেব, তুমি আমার থেকে কতদিন পালাতে পারো…”
বলে তিয়াশা ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে গেল।
অন্যদিকে কৌশিকের মেজাজ তখন ভীষণ খারাপ। মাথার ভেতর এখনও ঘুরছে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া সবকিছু। সারাদিনের ক্লান্তি, তার উপর এমন মানসিক অস্থিরতা সব মিলিয়ে সে একদমই বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তাই সাইট থেকে তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার নিল।বেশ কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে শুধু হাঁটুসমান শর্টস পরে বিছানায় শুয়ে পড়ল। শরীর-মনের ক্লান্তি এতটাই চেপে বসেছিল যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই কৌশিক গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
সকাল প্রায় সাড়ে দশটা।চৌধুরী বাড়িটা আজ যেন উৎসবের আমেজে ভরে উঠেছে। কেনই বা হবে না! বহুদিন পর আজ সবাই একসাথে সকালের খাবারের টেবিলে বসেছে। নানান কথার ভাঁজে, হাসি-ঠাট্টায় মুখরিত পুরো টেবিল। কেবল একজন ছাড়া,তিয়াশা।
সবার কথার মাঝেই আসিফ চৌধুরী চামচ নামিয়ে তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তিয়াশা কোথায়? কতবার ডেকে পাঠালাম, এখনও এল না যে?”
সাথে সাথে রোহিতও বলে উঠল,
“হ্যাঁ আম্মু, তিয়াশা কোথায়? সকাল থেকে দেখছিই না!”
সায়েরা চৌধুরী হালকা বিরক্ত স্বরে বললেন,
“দেখবে কীভাবে? আসার পর থেকে নিজের বোনের ভালো-মন্দের খবর রাখার ফুরসত পেয়েছ কখন?”
রোহিত চমকে উঠে জিজ্ঞেস করল,
“কেন আম্মু, কী হয়েছে?”
সায়েরা চৌধুরী নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,
“সকালে ডাকতে গিয়েছিলাম, দেখি ওর শরীরে প্রচণ্ড জ্বর। শরীর জ্বরে পুড়ছে।”
মুহূর্তেই টেবিলের পরিবেশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। সবার খাওয়া থেমে গেল, কেবল কৌশিক চুপচাপ খাবার খেতে থাকল। আসিফ চৌধুরীর কণ্ঠে হালকা রাগের সুর,
“কী বলছো এসব! আমার মেয়ের জ্বর উঠেছে আর আমি জানতেও পারিনি? এতক্ষণ বললে না কেন?”
সায়েরা চৌধুরী শান্তভাবে বললেন,
“আহ্, এত চিন্তা করবেন না। তখন আপনি ঘুমাচ্ছিলেন, তাই বলিনি। আমি দেখা মাত্রই ডাক্তার সাহেবকে ডেকে এনেছিলাম। উনি এসে পরীক্ষা করে বলেছেন চিন্তার কিছু নেই কিছু ঔষধ দিয়ে বলেছে, ওষুধগুলো নিয়মিত খাওয়ালে তিয়াশা দ্রুত সেরে উঠবে।”
কথা শেষ হতেই আসিফ চৌধুরী তাড়াতাড়ি হাত ধুয়ে উঠে গেলেন মেয়েকে দেখতে। রোহিতও উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু সায়েরা চৌধুরী মৃদু হেসে বললেন,
“খাবার শেষ করে তারপর যেও।”
রোহিত মাথা নাড়িয়ে বলল,
“ঠিক আছে আম্মু।”
কিন্তু কৌশিক তখনও নিশ্চুপ। একদম নির্বিকার মুখে বসে আছে।রোহিত খেতে খেতে বলল,
“কী ভাইয়া, সবাই মজা করে গল্প করছে, আর তুমি একদম চুপচাপ!”
রোহিতের কথায় মাহিমা চৌধুরী ছেলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“কৌশিক, আজ এত চুপচাপ কেন? কিছু হয়েছে?”
কৌশিক ধীরে উত্তর দিল,
“না আম্মু, কিছু হয় নি।”
“তাহলে তোমাকে আজ এত অস্থির লাগছে কেন?”
“না, তেমন কিছু না।”
রোহিত আবার হেসে বলল,
“তাহলে এত চুপচাপ বসে আছো কেন ভাইয়া?”
“এমনি।”
বলেই কৌশিক খাবার শেষ করে টেবিল থেকে উঠে গেল।ঠিক তখনই পেছন থেকে আশরাফ চৌধুরী ডাকলেন,
“কৌশিক, শুনো।”
“হ্যাঁ আব্বু, বলো।”
“বিকেলে আমার সঙ্গে একটু বাইরে যেতে হবে।”
“ঠিক আছে, আব্বু।”
বলেই কৌশিক হনহন করে চলে গেল নিজের ঘরে।রুমে ঢুকেই দরজা বন্ধ করল সে। ফোনটা হাতে নিয়ে বিছানায় উঠে বালিশে হেলান দিল। ফোনের স্ক্রিন অন করেই সরাসরি মায়াকে কল দিল। প্রথম রিংয়েই কলটা রিসিভ হলো।ফোনের এপাশ থেকে কৌশিক ভালোবাসায় ভরা স্বরে বলল,
“কেমন আছে, আমার মায়াবতী’টা?”
কিন্তু পর মুহূর্তেই ও-পাশ থেকে এক অচেনা নারীকণ্ঠ ভেসে এলো,
প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১৩ (২)
“আপনার মায়াবতী এখন বাসায় নেই, প্রাইভেটে গেছে। ও আসলে বলে দেব, তার মায়াবতা ফোন করেছিল।”
কণ্ঠটা চিনতে দেরি হলো না। এটা মায়ার সই সালামা বেগমের। কৌশিক মুহূর্তেই থমকে গিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
“খাইছে রে…”
বলেই সাথে সাথে ফোনটা কেটে দিল কৌশিক।
