Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২৩

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২৩

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২৩
আরাফাত আদনান সামি

“উম্’ম্ সুইটহার্ট আরেকটু প্লিজ…”
মায়া বিরক্ত হয়ে ধমক দিল,
“অনেক হইছে, ছাড়েন তো।”
অবশেষে অনেক চেষ্টার পর মায়া নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হলো। মায়াকে ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথেই কৌশিক মুখ ভার করে বলল,
“ধ্যাৎ! সবসময় তুই এমন করিস।মুডের পুরো ১৩টা বাজিয়ে দিস আমার।”
মায়া ছোট্ট একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে জবাব দিল,
“ভালো করি।”

মায়ার কথাটা শেষ হতেই কৌশিকের কপালের ভাঁজটা আরও গভীর হলো। দু’জনের মাঝে অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে এলো।মায়া কৌশিকের সামনে বসে আড়চোখে কৌশিককে দেখছে। কৌশিকের চোখের দৃষ্টিতে কোনো বদল নেই। সেই কখন থেকে কোন কথা না বলে চুপচাপ বসে আছে কৌশিক। এক হাতের উপর থুতনি ভর দিয়ে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। যেন কিছু একটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে যা শুধু চোখে ধরা যায়, কিন্তু কথায় বোঝানো যায় না।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

চাঁদের ফিকে সোনালি আলো দু’জনকে ঘিরে রেখেছে। আলোটা বিশেষ করে পড়েছে মায়ার মুখে। সোনালি চাঁদের আলো মায়াকে আরও নরম, আরও উজ্জ্বল, আরও অসহ্যরকম সুন্দর বানিয়ে তুলেছে। মৃদু বাতাসে মায়ার লম্বা ঘন চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছে। দু’একটা গোছা চুল বারবার নাক-মুখে পড়ে তাকে বিরক্ত করছে। হঠাৎ কৌশিক নীরবে হাত বাড়িয়ে মায়ার মুখের উপর পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিল।
কৌশিকের স্পর্শে মায়ার নিঃশ্বাস থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য। কৌশিক তখনো কিছু বলেনি। শুধু মুচকি হাসছে। মায়ার রজ্জায় গালের কোণে হালকা টোল পড়ে গেছে। চোখ দুটো এক মুহূর্তের জন্যও সরাচ্ছে না। কৌশিকের এভাবে তাকিয়ে থাকা, এভাবে চুল ছুঁয়ে দেওয়া সবকিছুতেই মায়ার গাল লাল হয়ে উঠল। নিজেকে সামলে নিতে নিতে, কৃত্রিম বিরক্তি ফুটিয়ে ভ্রু কুঁচকে সে বলল,

“এভাবে কী দেখছেন শুনি?”
মায়ার কথা যেন কৌশিকের কানে পৌঁছালই না। তার মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই, শুধু সেই গভীর দৃষ্টিটা স্থির হয়ে আছে মায়ার দিকে।মায়া আবার ডাকল তবে এবার একটু জোরে, একটু বিরক্তি নিয়ে,
“কী হলো টা কী? এইভাবে কী দেখছেন শুনি?”
কৌশিকের ঠোঁট হালকা নড়ল, যেন অসচেতনভাবে কথা বেরিয়ে এল।
“তোকে…”

এই একটা শব্দ। একটা নিশ্বাস। একটা স্বীকারোক্তি।মায়ার বুকের ভেতর দপ করে উঠল, কিন্তু মুখে তা প্রকাশ করল না। বরং দুষ্টু ভঙ্গিতে হালকা চোখ পাকিয়ে বলল,
“আমাকে এইভাবে দেখার কী আছে? দুনিয়াতে দেখার মতো আর কিছু নাই নাকি?”
মায়ার কথায় কৌশিক ঠোঁট কামড়ে হাসল। তার চোখে যে মায়াকে ছাড়া সত্যিই আর কিছু দেখার নেই।হঠাৎ খুব ধীরে, খুব নরম স্বরে, প্রায় ফিসফিসিয়ে সুর তুলল,
তোমায় দেখতে দেখতে আমি
যেন অন্ধ হয়ে যাই,
দুনিয়াতে তুমি ছাড়া
কিছু দেখার তো আর নাই…

কথাগুলো মায়ার বুকের মধ্যে সরাসরি গিয়ে আঘাত করল। তার গাল মুহূর্তেই গোলাপের মতো লাল হয়ে উঠল। লজ্জায় যেন পুরো শরীর গলে যাচ্ছিল। মুখের এক পাশে চাপা লজ্জা আর হাসির মিশ্র ছাপ রেখে মায়া নিচু স্বরে বলল,
“ইশ্’শ্’শ্… ঢং…”
মায়ার কথা শুনে কৌশিক মুচকি হাসল।
“লজ্জা লাগছে?”
মায়া চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে মুখ টিপে বলল,
“ভিষণ…”
কৌশিক নরম গলায় বলল,
“ওরে আমার লজ্জাবতী রে, লজ্জা অনেক হইছে,চোখ খোল এবার।”

মায়া ধীরে ধীরে চোখ খুলল। চোখ খুলতেই সামনে কৌশিকের সেই চওড়া দুষ্টু হাসি দেখতে পেল। তার দৃষ্টিতে ঠিক যেন লেখা ‘তুই লজ্জা পাচ্ছিস, আর আমি সেটা উপভোগ করছি।’মায়া আরো লজ্জায় লাল হয়ে গেল।সাথে সাথে আলতো করে কৌশিকের বুকে ছোট্ট একটা পাঞ্চ মেরে বলল,
“অসভ্য লোক! এইভাবে আমাকে হাঁসছেন কেন শুনি?”
কৌশিক ভান করে বিরক্ত হলো,

“যা-বাবা! এখন তোকে দেখে হাসাও যাবে না?”
“না, যাবে না।”
“তাহলে তোর সাথে কী করা যাবে শুনি?”
“কিছুই না।”
কৌশিক ধীরে ঝুঁকে এল,
“ভুল। কিছু তো একটা করা যাবে।”
মায়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল,
“কী?”
কৌশিক একদম থেমে থেমে বলল,
“রোমান্স।”
“অসভ্য!”
কৌশিক ফিসফিসিয়ে হেসে উঠল,
“সুইটহার্ট, তাহলে একটু অসভ্যতামি করি?”

মায়া ঠোঁট পাকাল,
“আপনার সাথে কথা বলাই উচিত না।”
“তাহলে বলিস না।”
“আপনি এত খারাপ কেন!”
“তোর জন্য।”
মায়া চোখ বড় বড় করে বলল,
“আমি আবার কী করলাম?”
কৌশিক হাসল,
“কী করিস নি সেটা বল।”
মায়া বিরক্তির ভান ধরে হাত গুটিয়ে বলল,
“আচ্ছা, কী করিনি?”
“এই যে তুই কাছে থাকলেই নিজেকে সামলাতে পারি না।”

মায়া হালকা দুষ্টু গলায় বলল,
“তো সেটা কী আমার দোষ?”
“তাহলে কী আমার দোষ?”
মায়া চোখ পাকাল,
“অসভ্য।”
কৌশিক ততক্ষণে ভ্রু তুলে দুষ্টু করে বলল,
“চিপকালি।”
“কীহ্..?!”
কৌশিক হেসে মাথা দুলাল,
“এই যে আমার গায়ে গা লাগিয়ে রাগ দেখাস ঠিক চিপকালির মতো।”
কৌশিকের কথা শুনে মায়া একদম রেগে ফায়ার হয়ে গেল। চোখ-মুখ একাকার লাল করে বলল,
“আমাকে কী বললেন আপনি!”
কৌশিক ঠাণ্ডা ভঙ্গিতে ভ্রু তুলে বলল,
“কেন, শুনতে পাসনি? আচ্ছা আবার বলছি,চিপকালি… চিপকালি… চিপকালি।”
কথাটা শেষ হতেই মায়ার রাগ যেন আরও তিন গুণ বেড়ে গেল। ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে কৌশিকের একদম কাছে গিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“ইউ…..!”
কথাগুলো মুখে আনতে আনতেই হঠাৎ থেমে গেল মায়া। কয়েক সেকেন্ড নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস সামলে নিল। তারপর অভিমানভরা, ভাঙা গলায় বলল,
“ধ্যাৎ! আপনার সাথে কথা বলাই উচিত না।”
বলে ঘুরে দাঁড়াল সে। গোলাপি গাল দুটো আরও ফুলে উঠল রাগে। কৌশিক মায়ার রাগ দেখে মৃদু হেসে ফেলল। তার এই রাগ, এই অভিমান সবকিছুই কৌশিকের কাছে অদ্ভুতভাবে আদরের। সে একটু এগিয়ে মায়াকে উদ্দেশ্য করে নরম স্বরে বলল,
“চিপকালি, শোন,আহা রাগ করছিস কেন?”
মায়া ঘাড় সামান্য ঘুরিয়েও তাকাল না। বিরক্তিতে কাঁটা গলায় বলল,
“একদম আমার সাথে কথা বলবেন না। বলে দিলাম। আপনার সাথে কোনো কথা নাই। থাকেন আপনি, আমি চললাম।”

মায়া কথাটা বলেই পিছন ঘুরে যেতে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে কৌশিক হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে এক ঝটকায় মায়ার হাত চেপে ধরল। অপ্রস্তুত মায়া ধপ করে কৌশিকের বুকে এসে ঠেকল। কৌশিকের শক্ত বাহু দু’টো তাকে এমনভাবে আটকে রাখল যেন সে নড়ার কোনো সুযোগই না পায়। মায়া ছুটে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। ধুকপুক করা হৃদপিণ্ডের শব্দ যেন নিজেই শুনতে পাচ্ছিল সে। কৌশিকের গলা নীচু, আগের চেয়ে তীক্ষ্ণ,
“আমাকে একা রেখে কোথায় যাওয়া হচ্ছে, শুনি?”
মায়া দ্বিধাগ্রস্ত, কাচুমাচু হয়ে বিরক্তির স্বরে বলল,

“ছাড়ুন আমাকে।”
কৌশিক চোখ সরু করে তাকাল, ঠোঁটে চাপা হাসি,
“জান রাগ করলি?”
মায়া দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“অনেক,এবার ছাড়ুন আমায়।”
কৌশিক আরো কাছে ঝুঁকে নরম অথচ মালিকানাবোধে ভরা স্বরে বলল,
“নিজের হবু জনাবের উপর এইভাবে কেউ রাগ দেখায়?”
মায়া মুখটা ফিরিয়ে নিয়ে গম্ভীরভাবে বলল,
“করবো না? আপনি আমাকে চিপকালি কেন বললেন?”
কৌশিক মাথা একটু কাত করল, চোখে চঞ্চল দুষ্টুমি,
“যাই বলি, সব মিলিয়ে তুই তো আমারই,তাই না?”
মায়া এবার সম্পূর্ণ চুপ। উত্তর না পেয়ে কৌশিকের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল। সে মায়ার চিবুক আঙুল দিয়ে তুলে ধরে বলল,

“আর কত রাগ করে থাকবি?”
মায়া এ বারও কিছু বলল না। তার এই নীরবতা যেন কৌশিকের ধৈর্যের শেষ সীমায় আঘাত করল। আচমকা কৌশিকের স্বর বদলে গেল। ধমক, রাগ, আর অস্থিরতা মিশে থাকা এক কঠিন শব্দে বলে উঠল,
“কী হলোটা কী! আমার কথা কানে যাচ্ছে না তোর?”
কৌশিকের গলা এতটা কড়া শুনে মায়ার বুক কেঁপে উঠল।আচমকা ধমকে যেন মায়ার পৃথিবীটা থেমে গেল। মায়া চমকে উঠল, শরীরটা কেঁপে উঠল হঠাৎ। ভয়ের চোটে তার চোখ দু’টো ভিজে উঠল, আর এক মুহূর্তেই দু’ফোঁটা নোনাজল গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে। এই দৃশ্যটা কৌশিকের চোখে পড়তেই সে স্তব্ধ হয়ে গেল। নিজের রাগের মাথায় করা ভুলটা যেন মাথায় বজ্রপাতের মতো আঘাত করল। মায়া এখনও ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে।কণ্ঠ কাঁপছে, কাঁধটা উঠানামা করছে। এক সেকেন্ডও দেরি করল না কৌশিক। তড়িঘড়ি করে সে মায়ার দু’গাল নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নরম ভাবে চোখের পানি মুছে দিল। তারপর হালকা জোরে মায়াকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে এনে মাথাটা চেপে ধরে বলল,

“আরে ইয়ার, সরি, সরি, সরি। পাগলী, এই সামান্য ধমকে কেউ কাঁদে নাকি?”
মায়া ভেজা কণ্ঠে, দম আটকানো কান্নার স্বরে জবাব দিল,
“আপনি অনেক খারাপ, অনেক অনেক অনেক খারাপ আপনি…”
কৌশিক নিশ্বাস ছেড়ে মায়ার মুখটা আলতো করে উপরে তুলল। দুই আঙুলের নরম স্পর্শে আবার তার গাল মুছিয়ে দিল। ভরাট কণ্ঠে, অনুতপ্ত স্বরে বলল,
“সরি জান,আমি আমার ভুলের জন্য সত্যিই অনুতপ্ত। দেখ, এখন থেকে তোকে আর কখনো ধমক দিব না। প্রমিজ। প্রিজ আর কাঁদিস না।”
মায়া ঝাপসা চোখ তুলে তার দিকে তাকাল। চোখগুলো এখনও কাঁদা ভেজা, সে আস্তে প্রশ্ন করল,

“সত্যি তো?”
কৌশিক মাথা নেড়ে দ্রুত দ্রুত বলল,
“সত্যি। সত্যি, সত্যি।”
মায়া নাক টেনে একটু সোজা হয়ে দাঁড়াল।
“তাহলে,আমি কান্না থামাচ্ছি। কিন্তু যদি এরপর থেকে আরেকবার ধমক দেন তাহলে কিন্তু আমি এবারের চেয়েও বেশি জোরে জোরে কাঁদবো। বলে দিলাম।”
মায়ার কণ্ঠে হালকা ক্ষোভ আর নরম কান্নার মিশ্রণ শুনে কৌশিক হঠাৎ ফিকে করে জোরে হেসে উঠল। হাসি থামাতে থামাতে বলল,
“আরে বাবা, বললতাম তো,আর ধমক দিব না। এবার কান্না থামা, পাগলী মেয়ে একটা।”
মায়া কেবল হালকা করে মাথা নেড়ে কান্না থামাল। কৌশিক আবার তার হাতে হাত দিয়ে নরমভাবে চোখের পানি মুছে দিল। এরপর মায়ার ছোট্ট হাত ধরে তাকে আলতো করে দোলনায় বসিয়ে দিয়ে বলল,

“মায়া, চোখ বন্ধ কর।”
মায়ার কণ্ঠ কেঁপে উঠল, নরম স্বরে বলল,
“কেনো?”
কৌশিক হেসে বলল,
“আরে কর না। বিশ্বাস কর, দেখবি তোর ভালো লাগবে।”
মায়া একটু হেসে বলল,
“ঠিক আছে।”
বলেই সে চোখ বন্ধ করে নিল। কৌশিক ধীরে ধীরে পকেটের দিকে হাত বাড়াল, কিছু বের করল, আর মায়ার সামনে পকেটটি ধরে বলল,
“এবার চোখ খোল।”
মায়ার চোখ ধীরে ধীরে খুলল। চোখ খুলতেই সে চমকে উঠল, চোখ বড় হয়ে গেল এবং বিস্ময়ের সঙ্গে বলল,
“ওয়াও গিফট!আমার জন্য?”
কৌশিক মুচকি হেসে বলল,

“তো আর কার জন্য আনবো শুনি? তুই ছাড়া আমার আর আছে টা কে? খুলে দেখ।”
গিফট দেখে মায়ার খুশিতে আত্মহারা।কৌশিকের হাত থেকে ছোট্ট প্যাকেটটা নিয়ে সে এক মুহূর্তও দেরি না করে টান দিয়ে ওপরে থাকা কাগজ ছিঁড়ে ফেলল। ছেঁড়া র‍্যাপারের ভেতর থেকে যখন লাল রঙের ছোট, চিকচিকে একটা পায়েল বেরিয়ে এলো। তা দেখে মায়া অবাক হয়ে গেল। তার মুখে বিস্ময়ের রেশ, চোখে শিশুসুলভ আনন্দে বলল,
“ওয়াও কী কিউট এটা…”
মায়া পায়েলটা হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছিল, আনন্দে প্রায় লাফিয়ে ওঠার মতো অবস্থা। যেই পায়ে পরতে যাবে, ঠিক তখনই কৌশিক গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল,
“এই দারা, পায়েলটা আমার কাছে দে।”
মায়া চোখ গোল করে তাকাল,

“কেনো?”
“দিতে বলছি দে।”
মায়া একটু ভ্রু তুলল ঠিকই, কিন্তু কোনো জেদ দেখাল না। নিঃশব্দে পায়েলটা কৌশিকের হাতে দিয়ে দিল।কৌশিক পায়েল হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে মায়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। তার এই ভঙ্গিটা দেখে মায়া আরও বেশি অবাক হয়ে গেল। এক হাঁটুতে ভর করল আরেক হাঁটু মাযার ঠিক সামনে উঁচু বসল। কৌশিক মাথা তুলে মায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“তোর বাম পা’টা বাড়া।”
মায়া হতভম্ব। নির্ভাবনায় কণ্ঠে বিভ্রান্তি নিয়ে বলল,
“কোথায়?”
“আমার হাঁটুর উপর তোর বাম পা’টা রাখ।”
মায়া ভ্রুকুচকে বলল,
“কীহ্..! আমি এটা পারবো না।”
কৌশিক হালকা চোখ পিটপিট করে জিজ্ঞেস করল,
“কেনো?”
মায়া নিচু স্বরে বলল,

“আপনি আমার বড়,আমি আপনার উপর কীভাবে পা রাখতে পারি?”
কৌশিক মুচকি হেসে মাথা দোলাল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
“হায় রে,কয়দিন পর যে আমার….”
এতটুকু বলেই কৌশিক থেমে গেল। মায়া বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করল,
“কী?”
“কিছু না, আরে এত কথা বলিস কেন পা’টা বাড়া তো।”
“সত্যিই দি? কিছু হবে না তো?”
কৌশিক হেসে বলল,

“আরে পাগলী, কী হবে? কিছুই হবে না। শুধু তুই পা রাখ আমার হাঁটুর উপর।”
মায়া লাজুক চেহারা নিয়ে তার বাম পা ধীরে ধীরে কৌশিকের হাঁটুর উপরে রেখে দিল। কৌশিক মুচকি হেসে তাকাল তার দিকে। এক হাত বাড়িয়ে আঙুলের কোমল স্পর্শ দিয়ে সে মায়ার পায়ে আলতো করে স্পর্শ করল। মায়া হঠাৎ মৃদু কেঁপে উঠল। শরীরটা লঘুভাবে শিউরে উঠল, গায়ে অজান্তেই রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়ল।কৌশিক আস্তে আস্তে লাল রঙের পায়েলটা মায়ার পায়ে পরিয়ে দিল। পায়েলটি ঠিকভাবে বসার সঙ্গে সঙ্গে সে আরেক হাত দিয়ে মায়ার ডান পা তুলে তার হাঁটুর উপরে রাখল। দুই হাত দিয়ে আলতো করে ধরল মায়ার দু’টো পা। সাথে সাথে হালকা ঝুঁকে কৌশিক মায়ার পায়ে মৃদু করে কয়েকটা চুম্বন খেল। পায়ে ঠোঁটের স্পর্শে মায়া আবার পুরো শরীর শিউরে উঠল। গায়ের প্রতিটি লোম অজান্তে দাঁড়িয়ে গেল, লাজুক হয়ে চোখ স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ করে ফেলল।
কৌশিক মুচকি হেসে বলল,

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২২

“চোখ বন্ধ করে রাখতে হবে না চোখ খোল।”
মায়া আস্তে আস্তে চোখ জোড়া খুলল। তার চোখে লজ্জা আর আনন্দের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছিল। কৌশিক চোখে হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“পায়েল’টা পছন্দ হয়েছে তোর?”
মায়া চোখে উজ্জ্বলতা নিয়ে হেসে বলল,
“খুব,খুব বেশি।”

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২৪