প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ৭
insia isha chowdhury
সূচনার এমন মুখ লুকানো দেখে প্রণয় বেশ বুঝতে পারল, মেয়েটা তাকে ভালোভাবেই ঘোল খাইয়ে মিথ্যে কথা বলেছে। হঠাৎই বেচারা প্রণয় কেশে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে শায়লা খাতুন ছেলের পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে বললেন,
“প্রণয়, পানিটা খেয়ে নে।”
প্রণয় চুপচাপ পানি খেল। তারপর শায়লা খাতুন আবার প্রশ্ন করলেন,
“প্রণয়, সূচনার দাদি অসুস্থ! এই কথা তোকে কে বলল?”
প্রশ্নটা শুনেই সূচনার বুক ধক করে উঠল। সে আতঙ্কিত চোখে প্রণয়ের দিকে তাকাল। এখন যদি প্রণয় সব সত্যি বলে দেয়!
কিন্তু প্রণয় শান্ত গলায় বলল,
“আসলে আমারই বুঝতে ভুল হয়েছে। তেমন কিছু না। এসব কথা বাদ দাও।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিনও তাড়াতাড়ি কথার মোড় ঘুরিয়ে বলল,
“আরে, এসব পরে হবে। আগে সূচনার প্রশংসা করতে দাও!”
রবিনের কথা শুনে সবাই সূচনার দিকে তাকাল। এমনকি সূচনাও অবাক হয়ে নিজের দিকে তাকাল যেন। রবিন মুখভরা হাসি নিয়ে বলল,
“সূচনা, তোমার হাতের রান্না সত্যিই দারুণ হয়েছে।”
আরিফুল মির্জাও সম্মতি জানিয়ে বললেন,
“সত্যিই আম্মু, পরোটাগুলো খুব ভালো হয়েছে।”
এত প্রশংসা শুনে সূচনার মন আনন্দে ভরে গেল। জীবনে এই প্রথম সে কোনো কাজ ঠিকঠাকভাবে করতে পেরেছে। অবশ্য পারবেই বা না কেন? তার প্রফেসর ওরফে হাজব্যান্ড যে পুরো সময়টা পাশে থেকে সাহায্য করেছে। খুশিতে ঝলমল মুখে সূচনা প্রণয়ের দিকে তাকাতেই মুহূর্তের মধ্যে ওর হাসি মিলিয়ে গেল। কারণ প্রণয় ওর দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, যেন এখনই তাকে কাঁচা গিলে ফেলবে। সেটা দেখে সূচনা নিঃশব্দে একটা ফাঁকা ঢোক গিলল।
বাড়ির সবাই যখন সূচনার প্রশংসায় মেতে উঠেছে, তখন সুপ্তি ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি টেনে বলল,
“কিন্তু সূচনা তো এগুলো একা বানায়নি। বরং প্রণয়ই ওকে অনেক হেল্প করেছে।”
মুহূর্তেই ডাইনিং টেবিলের পরিবেশটা খানিক থমকে গেল। সূচনার মুখের হাসিটাও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এলো।
শায়লা খাতুন বিস্মিত চোখে ছেলের দিকে তাকালেন। তার ছেলে নিজের স্ত্রীকে রান্নায় সাহায্য করেছে! ভাবতেই তার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ল।
ছোটবেলা থেকেই প্রণয় ছিল ভীষণ গম্ভীর স্বভাবের আর একটু রাগীও ছিল। অন্য বাচ্চাদের মতো দুষ্টুমি, হৈচৈ এসবের সাথে তার খুব একটা সখ্য ছিল না। একটু বড় হওয়ার পর তো পড়াশোনা নিয়েই ডুবে থাকত সবসময়। তারপর একসময় উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছিল ডেনমার্কে। সব মিলিয়ে শায়লা খাতুনের মাঝে মাঝে মনে হতো, তার ছেলে যেন জীবনটাকে কখনো ঠিক করে উপভোগই করতে পারেনি।
তাই তো তিনি ইচ্ছে করেই প্রণয়ের জন্য এমন এক চঞ্চল, দুষ্টু-মিষ্টি মেয়েকে বেছে এনেছেন। যে তার ছেলের নিরস জীবনে একটু রঙ ছড়াবে, একটু হাসি এনে দেবে। আজকের এই ছোট্ট দৃশ্যটা দেখে তার মনে হচ্ছিল, তিনি হয়তো ভুল করেননি। কারণ তার গম্ভীর ছেলে আজ নিজের স্ত্রীকে রান্নাঘরে সাহায্য করছে। এই সাধারণ মুহূর্তগুলোর মাঝেই তো লুকিয়ে থাকে সংসারের আসল সুখ।
এদিকে সুপ্তির কথায় প্রণয় কিছু বলতে যাবে, তার আগেই সূচনা শান্ত গলায় বলে উঠল,
“আমার মনে হয় তুমি শুধু এটুকুই ভাবছো যে আমি উনাকে বিয়ে করেছি। কিন্তু উনিও তো আমাকে বিয়ে করেছেন। আমরা দুজনেই একটা সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছি। এই সম্পর্ক, এই সংসার সবকিছুই যেমন আমার জন্য নতুন, তেমনি উনার জন্যও নতুন। একটা সম্পর্ক তখনই সুন্দরভাবে টিকে থাকে, যখন দুজন মানুষ একে অপরকে সাহায্য করে। আজ আমার সাহায্যের দরকার ছিল, তাই আমার হাজব্যান্ড আমাকে সাহায্য করেছে। এখানে আমি তো কোনো অন্যায় দেখি না। বরং অন্যায় তখন হতো যদি উনি আমার প্রয়োজনের সময় পাশে না দাঁড়াতেন। বিয়েটা আমরা দুজন করেছি, তাই একে অপরের খেয়াল রাখাটাও আমাদের দুজনেরই দায়িত্ব।
সূচনার এত বড়, গুছিয়ে বলা কথাগুলো শুনে সবাই কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে তার দিকেই তাকিয়ে রইল। এমনকি সুপ্তির মুখটাও থমথমে হয়ে গেছে।
শায়লা খাতুন ধীরে ধীরে সূচনার পাশে এসে দাঁড়ালেন। তারপর স্নেহভরা গলায় বললেন,
“একদম ঠিক কথা বলেছো মা। একজন স্বামী তার স্ত্রীকে সাহায্য করবে, এটাই তো স্বাভাবিক।”
প্রণয় নিজেও নিঃশব্দে সূচনার দিকে তাকিয়ে আছে। বিস্ময়ে তার চোখদুটো স্থির হয়ে গেছে।
এই মেয়েটা এত সুন্দর করে এত বড় কথা গুছিয়ে বলতে পারে। ভাবতেই সে অবাক হয়ে গেল।
আরিফুল মির্জা খুশিমাখা মুখে বললেন,
“সে আমার ছেলে সাহায্য করুক আর না-ই করুক, সেটা এখন বিষয় না। বিষয় হলো, আজ বৌমা প্রথমবার এই বাড়ির জন্য রান্না করেছে। সেই হিসেবে তো ওর একটা উপহার প্রাপ্য।”
কথাটা বলেই তিনি মানিব্যাগ খুলে দশ হাজার টাকার জন্য নোট বের করলেন। তারপর স্নেহভরা দৃষ্টিতে সূচনাকে কাছে ডাকলেন।
সূচনার চোখ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রণয়ের দিকে চলে গেল। প্রণয় হালকা চোখের ইশারায় ওকে যেতে বলল। সূচনা বাধ্য মেয়ের মতো ধীর পায়ে এগিয়ে গেল শ্বশুরের সামনে। আরিফুল মির্জা টাকাগুলো সূচনার হাতে তুলে দিয়ে বললেন,
“নাও মা, এটা তোমার উপহার। এই সংসার এখন তোমারও।”
টাকাগুলো হাতে নিয়ে সে মিষ্টি হেসে বলল,
“ধন্যবাদ, বাবা।”
আরিফুল মির্জা স্নেহভরে এক হাত সূচনার মাথায় রেখে বললেন,
“সুখী হও মা।”
সূচনা মিষ্টি করে হাসল। এমন সময় ছোট্ট তামজিদ হঠাৎ উৎসাহী গলায় বলে উঠল,
“আমিও চাচিমাকে কিছু উপহার দিতে চাই!”
ছেলের কথা শুনে রিমা হেসে ফেলল। সে মজা করে জিজ্ঞেস করল,
“আচ্ছা বাবা, তুমি চাচিমাকে কী উপহার দিতে চাও?”
ঠিক তখনই আরিফুল মির্জার ফোন বেজে উঠল। তিনি ফোন রিসিভ করতে করতে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। সঙ্গে শায়লা খাতুনকেও ডাকলেন। দুজন একসাথে সেখান থেকে একটু দূরে চলে গেলেন।
ওদিকে তামজিদ খিলখিল করে হেসে বলল,
“বাবা মাকে যেমন কিসি দেয়, আমিও চাচিমাকে তেমন কিসি উপহার দিতে চাই!”
ছেলের কথা শুনে রিমার চোখ যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে গেল।
কিন্তু তামজিদ নির্বিকার ভঙ্গিতে আবারও বলল,
“আমি চাচিমাকে কিসি উপহার দিতে চাই!”
রবিন সঙ্গে সঙ্গে কেশে উঠে ছেলের মুখ চেপে ধরে বলল,
“চুপ কর! তোর মতো ছেলে থাকলে শত্রুর আর দরকার কী!”
রিমা এবার লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলল। আর সূচনা? সে তো ঠোঁট চেপে হেসে উঠল। তারপর তামজিদের কাছে গিয়ে নরম গলায় বলল,
“হ্যাঁ বাবা, তুমি আমাকে কিসি দিতে পারো।
কথাটা বলেই সূচনা নিজের গালটা এগিয়ে দিল। তামজিদও দেরি না করে ছোট্ট করে একটা চুমু খেল সূচনার গালে। তারপর আনন্দে হাততালি দিয়ে হেসে উঠল। সূচনা নিজেও তামজিদের গালে একটা চুমু দিল। আর তারপর সূচনাও ওর সাথে তাল মিলিয়ে প্রাণখোলা হাসিতে মেতে উঠল।
তামজিদ এবার মিষ্টি গলায় বলল,
“চাচিমা, তুমি অনেক কিউট।”
সূচনা হেসে তামজিদের গাল টেনে দিল। তারপর আদুরে স্বরে বলল,
“আর তুমি তো পুরো কিউটের ডিব্বা।”
ওদের এমন খুনসুটি দেখে প্রণয় বিরক্ত চোখে তাকিয়ে রইল। এত ঢং করার কী আছে? সেটাই ওর মাথায় ঢুকছে না। আর সবথেকে বড় কথা তামজিদ কেন ওর বউকে চুমু খাবে?
ভাবনাটা মাথায় আসতেই প্রণয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। পুরো বিষয়টাই ওর একদম ভালো লাগছে না। কিন্তু পরমুহূর্তেই নিজের চিন্তাভাবনায় নিজেই থমকে গেল সে। এসব সে কী ভাবছে?
রিমা ওদের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে সূচনাকে বলল,
“সূচনা, তুমিও এবার খাবার খেয়ে নাও।”
সূচনাও শান্তভাবে সম্মতি জানাল। এরই মধ্যে সুপ্তি অনেক আগেই ড্রয়িং রুম ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিছুক্ষণ পর রবিনও সেখান থেকে উঠে গেল।
সূচনা আর রিমা একসাথে খাওয়া শুরু করল। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রণয়ের ফোনটা বেজে উঠল। ফোনের স্ক্রিনে রাজার নামটা ভেসে উঠতেই সে কল রিসিভ করে ধীর পায়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে করিডরের দিকে চলে গেল। ফোন কানে নিতেই ওপাশ থেকে রাজার চেনা হাসিখুশি কণ্ঠ ভেসে এলো,
“কি ব্যাপার প্রণয়? দিনকাল কেমন কাটছে? তুই তো এমনিতেই আমাদের খুব একটা মনে রাখিস না। এখন তো আবার বিয়েও করে ফেলেছিস! এবার বন্ধুদের কথা পুরোপুরি ভুলে যাবি মনে হচ্ছে।”
প্রণয় নির্বিকার গলায় বলল,
“এসব বাদ দিয়ে ফোন দেওয়ার আসল কারণটা বল।”
রাজা হালকা হেসে বলল,
“আরে বলছি! আগে এটা বল— আমাদের ভাবী সাহেবা কেমন আছেন? বিয়ের দিন তোকে দেখেই নাকি অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন! আর তারপর শুনলাম, ভাবী আবার তোর ছাত্রীও! এই কথা শুনে গ্রুপে যে কী পরিমাণ হাসাহাসি হয়েছে, বলে বোঝাতে পারব না।”
প্রণয় বিরক্ত গলায় বলল,
“তুই কি ফোন দিয়েছিস আমার বউকে নিয়ে ট্রল করার জন্য?”
ওপাশ থেকে রাজা হো হো করে হেসে উঠল।
“আরে না ভাই, সিরিয়াসলি বলছি। আমরা তো অবাক! আমাদের রাগী, স্ট্রিক্ট প্রণয় স্যার শেষমেশ নিজের স্টুডেন্টকেই বিয়ে করে ফেলল! এটা তো ইতিহাস!”
প্রণয় চোয়াল শক্ত করে বলল,
“স্টুডেন্ট পরে, এখন আমার স্ত্রী। তাই সম্মান করে কথা বলবি।”
প্রণয়ের গলায় অধিকার মেশানো কঠোরতা টের পেয়ে রাজা একটু থামল। তারপর মুচকি হেসে বলল,
“উফফ! বন্ধু দেখছি পুরোপুরি হাজব্যান্ড মুডে চলে গেছে। যাই হোক, ভাবী দেখতে কিন্তু সত্যিই অনেক মিষ্টি। তবে একটা কথা বিয়ের দিন তোকে দেখে অজ্ঞান কেন হয়ে গিয়েছিল?”
প্রণয়ের চোখ হঠাৎ করেই ডাইনিংয়ের দিকে চলে গেল। সেখানে সূচনা আর রিমা বসে খাচ্ছে। সূচনা মাথা নিচু করে শান্তভাবে খেতে ব্যস্ত। মেয়েটাকে দেখতেই প্রণয়ের চোখ কিছুটা নরম হয়ে এলো।
সে ধীর স্বরে বলল,
“ও একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিল।”
রাজা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
“ভয়? তোর মতো মানুষকে দেখে ভয় পাওয়াটাই তো স্বাভাবিক! আমি তো ভাবছি কি পরিমান তোকে ভয় পাই ভাই ভাবি! যে তোকে দেখেই অজ্ঞান হয়ে গেল।”
“রাজা এসব তোকে ভাবতে হবে না!” প্রণয় এবার কড়া গলায় বলল।
রাজা আবার হেসে বলল,
“আচ্ছা আচ্ছা রাগ করিস না। আসলে আমরা সবাই ভাবীকে নিয়ে খুব কৌতূহলী। তুই তো কোনোদিন কোনো মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়াসনি। আর হঠাৎ করেই বিয়ে!”
প্রণয় কিছুক্ষণ চুপ থেকে শান্ত গলায় বলল,
প্রণয় ঠান্ডা গলায় বলল,
“হঠাৎ করেই সব কিছু হয়নি। মা অনেক আগে থেকেই এই মেয়ের কথা বলতো তখন বুঝিনি মেয়েটা ‘আরূশি শিকদার সূচনা’।
প্রণয় আবারো কিছু একটা মনে করে বলল,
“এছাড়া আমি তো কোনোদিন রিলেশনও করিনি। তারপরও দেখ সবার আগে আমারই বিয়ে হয়ে গেল। আর ম্যারেড লাইফে যে কত রকম ঝামেলা থাকে, সেটা তোদের মতো সিঙ্গেল মানুষ বুঝবে না।”
ওপাশ থেকে রাজা আফসোসের গলায় বলে উঠল,
“প্রণয়! তুই আমাকে অপমান করলি! সিঙ্গেল বলে এতগুলো কথা শুনিয়ে দিলি?”
প্রণয় ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,
“একদম ঠিক ধরেছিস। আর আমি এখন ম্যারেড মানুষ, ভীষণ ব্যস্ত। পরে কথা হবে।”
কথাটা বলেই সে ফোন কেটে দিল।
ঠিক তখনই ছোট ছোট পায়ে হেঁটে তামজিদ করিডরে চলে এলো। এসে প্রণয়ের শার্টের কোনা আলতো টান দিতেই প্রণয় পিছন ফিরে তাকাল।
তামজিদ কৌতুহল গলায় বলল,
“চাচ্চু, চাচ্চু… আমাকে চকলেট দাও।”
প্রণয় ফোনটা পকেটে রেখে নিজের গ্রীবা একটু নিচু করে তামজিদের দিকে ঝুঁকে বলল,
“এখন থেকে তুই আর একটা চকলেটও পাবি না।”
তামজিদ সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট ফুলিয়ে রেগে গেল।
“কেন? কেন তুমি আমাকে চকলেট দিবে না, চাচ্চু?”
প্রণয় গম্ভীর ভাব ধরে বলল,
“আমার কথা শুনলে তাহলে তোকে চকলেট দেব।”
তামজিদ কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে বলল,
“কি কথা, চাচ্চু?”
প্রণয় এবার ফিসফিসিয়ে বলল,
প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ৬
“আমার বউয়ের থেকে দূরে থাকবি। তাহলে তোকে অনেক চকলেট দেব।”
তামজিদ অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে ফেলল।
“কেন, চাচ্চু? আর আমি কেন তোমার বউয়ের থেকে দূরে থাকব?”
প্রণয় হেসে বলল,
“ওহো! পুটুর বাচ্চা পুটু তুই যদি তোর চাচি মার থেকে একটু দূরে দূরে থাকিস, তাহলে তোকে রোজ চকলেট কিনে দেব। আর ভুলেও যদি তুই আমার বউ এর কাছে গিয়ে আদর নিস, তাহলে তোকে কিছু দেব না।”
