প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১২
ইনান হাওলাদার
ভোরের আলো ফুটেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে।পরিবেশ অনেকটা শীতল।পা থেকে মাথা পর্যন্ত পাতলা কম্বলে ঢেকে ঘুমিয়ে আছে আহি।তবে ঘুমটা গভীর নয়।
‘ আজ তো তূর্য ভাইয়ের চলে যাওয়ার দিন ‘ ঘুমের মধ্যেই হঠাৎ মাথা চাড়া দিয়ে উঠল কথাটা।কানটা একটু খাঁড়া করতেই ড্রয়িং রুমের হাউকাউ শুনতে পেলো।তাহলে কি তূর্য ভাই এখনই চলে যাচ্ছেন? ধড়ফড়িয়ে কম্বলের নিচ থেকে উঠলো আহি।দুই হাতে মাথার এলোমেলো ছোট ছোট চুলগুলো পিছনে ঠেলে বিছানায় এক কোনে পড়ে থাকা ওড়নাটা দুই কাঁধে ফেলে দৌঁড় লাগালো সে।উদ্দেশ্য চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িং রুম।কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই দেখতে পেলো তূর্য বাড়ির মূল ফটক অতিক্রম করে চলে যাচ্ছে। সারা মুখে আধার নেমে এলো তার।তাহলে তূর্য তাকে না নিয়েই চলে গেলো? কয়েক বছর আগে মানে সে যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল তখন একবার তূর্যের সাথে যেতে চেয়েছিল সে।তূর্য প্রথমে ‘না ‘ ‘না ‘ করলেও যাওয়ার দিন ভোরে ঘুম থেকে তুলে বলেছিল ” ফাইভ মিনিটস এ রেডি হয়ে নিচে আয়।”
তাড়াহুড়োয় ভালো করে জামাকাপড় ও নিতে পেরেছিল না।
সে তো ভেবেছিল এবারও এরকমটাই হবে।তাই তো রাতে জামাকাপড় সব গুছিয়ে রেখেছিলো।কারণ,এক ভুল সে আর দ্বিতীয়বার করতে চায় না।
তূর্যের সাথে গিয়ে কোনদিন কোন জামা পরবে সেটা ভাবতে ভাবতে রাতে ভালো করে ঘুমও হয়নি তার।শুধু শুধু নি’র্দয় ,পা’ষাণ লোকটার জন্য ঘুম কামায় করলো।এখন এত এত জামাকাপড় ল্যাগেজ থেকে নামিয়ে আবার আলমারিতে রাখতে হবে।কত কাজ ! মনে পড়লেই কান্না পাচ্ছে তার।তাছাড়া এই খবর যদি একবার শান্ত – প্রান্তের কানে যায় তাহলে তো লজ্জার আর শেষ থাকবে না।
আরো কিছুক্ষণ নানান ভাবনা – চিন্তা করে রুমে গেলো সে।
সাথে সাথে তাহির আগমোন,
” আপু, ভাইয়া তো চলে গেল।আর তুমি মাত্র ঘুম থেকে উঠলে? বিদায় ও দিতে পারলে না ”
” কেনো রে? তোর ভাই কি রাজকার্য সাধন করতে যাচ্ছেন? তাকে বিদায় দিতে হবে! ”
” তোমাকে নেয়নি বলে মন খারাপ লাগছে ।তাই না আপু?”
তাহির হাতে থাকা কিটক্যাট ডার্ক বর্নেও দেখে আহি বলল,
” ওটা কোথায় পেয়েছিস?”
” ভাইয়া দিয়েছে! শান্ত ভাইয়া , প্রান্ত ভাইয়াকেও দিয়েছে।তুমি তো ছিলে না তাই পাওনি । সমস্যা নেয়।আমার থেকে তোমাকে দিবো ”
আহি কপট রা’গ দেখিয়ে বলল,
” খাবোনা আমি।তোদের দিয়েছেন তোরা খা। আমি এখন ফ্রেশ হবো ”
” আরে একটু খেয়ো ”
” মোটেও না ” বলে ওয়াশরুমে চলে গেল আহি।
কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে দেখলো তাহি চলে গিয়েছে।সে চুল আঁচড়ানোর জন্য ড্রেসিং টেবিলের সামনে গেল।চিরুনি তুলতেই চোখ গেলো একটা চকলেটের প্যাকেটে । নির্ঘাত তাহিটা রেখে গিয়েছে।তাই বলে গোটা একটা !
সে তো কক্ষনোই খাবে না।তূর্য ভাই কিভাবে পারলেন তাকে না দিয়ে বাকিদের দিতে? তিনি তো জানেনই এই চকলেটটা তার কত প্রিয় !
থাক খাবে না সে। আজ বড় আব্বু আসলে তাকে বলবে বাড়িতে বড় করে একটা পিকনিকের ব্যবস্থা করতে।সেখানে তূর্যের যত প্রকার পছন্দের খাবার আছে তাই রান্না করতে বলবে।তারপর ভিডিও কলে তাকে দেখাবে আর খাবে।
একটু পর কিছু একটা ভেবে বাঁকা হাসি দিলো আহি।আর বিড়বিড় করে আউড়ালো ” আমাকে না নেওয়া তাই না? আপনার ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ যদি নষ্ট না করেছি ,তাহলে আমার নামও আহি না ”
শহর যেন এখনো ঘুমঘুম ভাব নিয়ে পড়ে আছে।চারপাশে কোলাহল কম,দোকানপাট অনেকটা বন্ধ।রাস্তায় এখনো ভিড় জমেনি____ লোকজন খুব কম!শুধু পাখিদের ডাক শোনা যাচ্ছে।
রোদটা ততক্ষণে শহরের উপর ছড়িয়ে পড়েছে।রাস্তার দুইপাশের ভবনগুলো ঝলমল করছে সেই আলায়।গাছের পাতায় পাতায় আলো খেলা করছে।আর হালকা ধুলো উড়ে এসে রোদে ঝিকমিক করছে।
BMW টা মসৃন রাস্তা বেয়ে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।যার ভিতরে হালকা ভলিউমে গান চলছে ।
পিংকি আর আলিয়া জানালার কাঁচ নামিয়ে সকালের বাতাসে হাত ছুঁইয়ে দিচ্ছে।তাসিন আর নাবিল নানান বিষয় নিয়ে ঝগড়া ,খুনসুঁটি করছে।থেকে থেকে তাদের সাথে আলিয়া ,পিংকিও জয়েন করছে।
গাড়িটি ড্রাইভ করছে তূর্য।তার পাশে, ড্রাইভিং সিটে বসে আছে তাসিন।আর পেছনের তিনটায় বসে আছে পিংকি,নাবিল আর আলিয়া।
নাবিলকে মাঝে বসিয়ে দুই পাশে তারা দুইজন বসেছে।তাসিন বলেছে ,” যখনই নাবিল গালি দিবে দুইজন দুইপাশ থেকে গুতা দিবি” তারাও তাসিনের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে।তাই বেচারা যত কম কথা বলে পারছে !
বাকিরা নানান কথা বার্তা বললেও তূর্য চুপচাপ ড্রাইভ করছে দেখে তাসিন একটা কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে বলল,
” ভাই,তুই যে একা আসলি ? তোর পিচ্চি ভাই – বোনেরা আসতে চেয়েছিল না?”
” নাহ ” গাড়ির স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে সংক্ষেপে জবাব দিলো তূর্য।
” তোর কাজিন বোন আছে না ? আহি ! সে ও আসতে চাইল না? ” শেষ কথাটা অনেকটা অবাক হয়ে বলল তাসিন।
কেননা,কয়েক বছর আগে একবার তূর্য আহিকে তাদের সাথে ট্যুরে নিয়ে গিয়েছিল।আহি কান্না – কাটি করে একাকার করে ফেলেছিল।সে তূর্যের সাথে ছাড়া ঘুমাবে না।তূর্য একপ্রকার বাধ্য হয়ে তাকে নিজের জন্য নেওয়া কটেজের একটা রুমে নিয়ে এসেছিল। পরে সারা রাত তাকে মেঝেতে কাটাতে হয়েছিল।কোনো রকম রাতটা কাটিয়েই পরদিন ভোরে বাড়িতে ফিরে এসেছিল ।
তাসিনের কথা শুনে তূর্য ড্রাইভিং করা অবস্থায় একবার শ’ক্ত দৃষ্টি মেলে তার দিকে তাঁকিয়ে বলল,
” ওকে এনে কি তোর কোলে বসাতাম?”
” আমার কোলে কেনো বসাবি ভাই? বোন তোর! তোর কোলেই না হয় বসত !”
ভোলা – ভালা মুখ করে বলল তাসিন। এবার আর তূর্য তার দিকে তাঁকালো না।ড্রাইভিং করা অবস্থায় চোয়াল শ’ক্ত করলো।
সেটা দেখে তাসিন আবারো বলল,
” না মানে আগে একবার এনেছিলি তো। যে কাণ্ডটা নাই করেছিল! ”
তার একমাত্র কাজ কিভাবে কোন কথা বলে তূর্যকে রা’গানো যায়।আর তূর্যও রে’গে যায়।তবে কিছু বলে না।চুপ চাপ থেকে নিজের রা’গকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে । তাসিনের কথা হলো ” তূর্য তো এমনিতেই কোনো কারণ ছাড়া গম্ভীর হয়ে বসে থাকে। তার চেয়ে বরং সে একটু রা’গিয়ে দিলে তাও একটা কারণ থাকবে।”
বাকিরা তূর্যের রিয়াকশন দেখে ঠোঁট টিপে হাসি আটকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।তাসিন নিজের হাসি আটকে রেখে আবারো বলল,
” তূর্য ,বলছিলাম যে ……” তাসিনের কথার মাঝেই তূর্য গাড়িতে ব্রেক কষে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
” আর একটা বলবি ।জাস্ট একটা! এখানেই রেখে চলে যাব।গড প্রমিজ!”
তূর্যের ঠান্ডা কথার হুমকিতে দমে গেল তাসিন।কারণ,তূর্যের রাগ সম্পর্কে তার যথেষ্ট ধারণা আছে। শুধু ধারণা বলা ভুল হবে অভিজ্ঞতা আছে।একবার তো রাতের অ’ন্ধকারে এক ভূতুড়ে রাস্তায় তাকে ফেলে চলে গিয়েছিল।কি সাং’ঘাতিক অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেদিন তার।এই শা’লার ঘরে বউ একদিনও টিকবে না তাসিন স্যিউর।
স্যিউর? না ওভারস্যিউর! আর কোনো ভাবে যদি টিকেও যায় ।জীবনেও বাপ হতে পারবে না।সারাদিন বউয়ের উপর মে’জাজ দেখাবে ।আর রাতে বউ কাছ ঘেঁষতে দেবে? লা’থি মেরে ভবিষ্যৎ অন্ধ’কার করে দেবে শা’লার ।
টেবিলের মাঝখানে ধোঁয়া ওঠা ভাত,গরম ডাল ,দুই প্রকারের ভাজি,দেশি মুরগির ঝোল আর কাঁচা সালাদের প্লেটগুলো রঙিন হয়ে উঠেছে টিউবলাইটের সাদা আলোয়।চৌধুরী বাড়ির সবাই খাবার টেবিলে। খাচ্ছেন আর গল্প করছেন।এই বাড়ির তিন কর্তার দুনিয়ার সকল কথা যেন খাবার টেবিলে বসলেই মনে পড়ে।সারাদিনের সকল কাহিনী এখানে বসেই করেন।তবে তূর্য মোটেও বাবা – চাচাদের মতো নয়।তার মতে ‘ খাবার টেবিলে বসে এত কিসের কথা?’ আজ তূর্য নেয় তাই কোনো সমস্যাও নেয়।যদিও এটা নিয়ে সে কখনও কিচ্ছু বলেনি।তবে মুখের এক্সপ্রেশন দেখে বোঝা যায় সে বি’রক্ত ।
“কালও একটা সম্বন্ধ এলো।তোমার ছেলেকে একটু বুঝিয়ে বলো।”প্লেটে সালাদ তুলতে তুলতে বললেন আকবর চৌধুরী।
” আমি আর বলতে পারবো না।তুমি বলেছে তাই নিয়েই বাড়ি ফিরে আমার সাথে রা’গা’রা’গি করেছে।”
” একসময় ভালো করে বুঝিয়ো।জিজ্ঞেস করো তার কেমন মেয়ে পছন্দ।সেই অনুযায়ী মেয়ে দেখবো। পরে বয়স হয়ে গেলে আর কোনো বাবা তার মেয়ে দেবে না ”
আসলাম চৌধুরী খাবার চিবোতে চিবোতে বললেন,
” আমাদের ছেলে লাখে একটা । কোন বাবা মেয়ে দেবে না,ভাইজান? আর বয়সের কথা বলছো ! তুমি তো পঁয়ত্রিশ পার করে বিয়ে করেছিলে। সেখানে আমাদের তূর্যের তো এখনো ত্রিশ পার করতেই পারল না।তোমাকে ভাবির বাবা মেয়ে দেননি বুঝি?”
” মেয়ে দেবে ।তবে তোর ভাইপোর রূপ দেখে দেবে।মুখের কথা শুনলে তো… আর বিয়ে হয়েছে ”
” আব্বু কী বলছো তুমি? ভাইয়া তো আমার সাথে কি সুন্দর করে কথা বলে।ভাবির সাথেও সুন্দর করেই কথা বলবে । সে যা বলবে ভাইয়া তাই শুনবে। দেখে নিয়ো ”
তাহির কথা শুনে একযোগে সবাই হেসে দিল।
এভাবে খাবার টেবিলে বসে তারা এটা – ওটা নিয়ে কথা বলে একে একে সবাই উপরে চলে গেলেও আহি যায়নি।মারুফা বেগমও আহিকে ডেকে উপরে চলে গেলেন।কিন্তু আহি এখনো ঠাঁয় বসে আছে দেখে পারভিন বেগম এসে তার পাশে দাঁড়ালেন।
দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা নিয়ে গভীর চি’ন্তায় আছে সে তাই পারভিন বেগম বললেন,
” বসে বসে কী এত চি’ন্তা করছিস ? উঠবি না?”
” আচ্ছা বড় মা,বড় আব্বু যে বললেন তূর্য ভাইয়ের কেমন মেয়ে পছন্দ সেটা জানতে।আমার বিয়ের সময়ও কি আমার কেমন ছেলে পছন্দ জানতে চাইবেন?”
পারভিন বেগম মুচকি হেসে বলল,
” অবশ্যই চাইবে।কেন চাইবে না ?”
” কিন্তু আমার তো তখন বলতে লজ্জা লাগবে।কিভাবে বলবো বলো?” খুবই সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল আহি।
পরক্ষনেই আবার চট করে বলল,
” বড় মা,আমি বরং আপনাকে বলে রাখি।বিয়ের সময় যখন আমার কাছে জানতে চাইবে আমি বলবো ‘ আপনাদের পছন্দই আমার পছন্দ ‘ আর আপনি বলবেন ‘ছেলেকে অবশ্যই লম্বা,অনেক লম্বা আর চিকন হলে চলবে না লম্বার সাথে মিলিয়ে শরীর – স্বাস্থ্যও হতে হবে। নাক,চোখ,ঠোঁট,ভ্রু অনেক সুন্দর হতে হবে।আর ধবধবে ফর্সা যেন না হয়। খবর’দার! তবে শ্যামলার চেয়েও ফর্সা হতে হবে।’ এই সামান্য চাওয়াই আমার।বুঝেছেন ?”
পারভিন বেগম আহির পাশের চেয়ারে বসে ঠোঁট উল্টে মাথা নাড়ালেন।যার অর্থ তিনি বোঝেননি । আর মনে মনে মেয়ের কথা শুনে হাসলেন এত কিছু বলে ফেললো।এটা নাকি আবার সামান্য
আহি একটু ভেবে বলল,
” আচ্ছা!আমি আপনাকে কারোর সাথে তুলনা দিয়ে বোঝায় তাহলে বুঝবেন।উম্ম…..উম্ম….”
আহির ভাবনার মধ্যে পারভিন বেগম আপ’সোসের সুরে বললেন,” এরকম ছেলে মনে হয় পৃথিবীতেই নেয় রে, মা ”
আহি ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে উত্তে’জিত হয়ে বলল,
” পেয়েছি বড় মা। কে বলেছে নেয়? একদম তূর্য ভাইয়ের মতো।ঠিকাছে? বাহ্যিক ভাবে পায়ের নখ থেকে মাথার চুল অব্দি তূর্য ভাইয়ের মতো হবে।কিন্তু অভ্যন্তরীণ ভাবে পুরো বিপরীত হবে। মানে আপনার ছেলের মতো রা’গি, খি’ট’খি’টে, রগ’চটা, মুখপো’ড়া হবে না ।বুঝলেন?”
পারভিন বেগম আহির কথা শুনে উচ্চ কন্ঠে হাসতে আরম্ভ করলেন।একই ভাবে হাসতে হাসতে বললেন,
” আমার সামনে আমার ছেলের এতগুলো গুণ বলে দিলি ? ভ’য় করলো না তোর? আমি যদি বলে দেই !”
আহি পারভিন বেগমকে জড়িয়ে ধরে বলল,
” আমি জানি আপনি বলবেন না।তাছাড়া আমি তো মি’থ্যা বলিনি ”
পারভিন বেগমও আহিকে আগলে নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন,
” রাগি মানুষের ভালোবাসাটাও কিন্তু বেশিই হয়!এক কাজ কর আমার রুমে বিছানার ডান পাশে মোবাইল রাখা আছে ।মোবাইলটা নিয়ে তূর্যকে একটা কল কর ।ছেলেটাকে বিকালে কল করে পেলাম না । যাহ!”
আহি পারভিন বেগমের কাঁধ থেকে মাথা উঠিকে বলল,
” আমি পারবো না,বড় মা।আপনার ছেলে খালি ব’কাবকি করে ”
” তোর কথা বলতে হবে না।রিং হলে আমাকে ডাক দিস ।আর শোন ,মোবাইল নিয়ে তোর রুমে চলে যাবি ।তোর বড় আব্বু ঘুমাচ্ছে ।”
আহি অগত্যা মাথা নাড়িয়ে সাঁই জানাল।মন চাইছে না তবুও বাধ্য হয়ে পারভিন বেগমের রুম থেকে মোবাইলটা নিয়ে নিজের রুমে গিয়ে ফোন লাগালো তূর্যের ফোনে।রিং হচ্ছে দেখে দ্রুত গলা উঁচু করে পারভিন বেগমকে ডাকলো সে।নিচ থেকে পারভিন বেগমও গলা উঁচু করে বললেন,” কথা বলতে থাক।আসছি!”
কয়েকবার রিং হতেই কল রিসিভ হলো।আহি কন্ঠটা যথাসম্ভব মিষ্টি করে বলল,
” হ্যালো ,তূর্য ভাই ”
” বল ” সে যতটা মিষ্টি করে হ্যালো বলেছে তূর্য তার থেকে দ্বিগুণ তেঁতো করে কথাটা বলল।
আহি মনে মনে একটা ভেং’চি কেটে বলল,
” পৌঁছেছেন ?”
” নাহ! আরো তিনদিন তিন রাত সময় লাগবে ”
কী খ’চ্চর লোক! বললেই হয় পৌঁছেছে। বাঁকা বাঁকা কথা না বললে যেন পেটের ভাত হজম হয় না।এদিকে বড় মাটাও আসছেন না। নিজের বিরক্তি লুকিয়ে ফের বলল,
” কেমন আছেন ?”
” ভালো নেই রে! তোর বিরহে ম’রে যাচ্ছি ”
এবার আর নিজের রাগকে সামলাতে পারলো না আহি।খি’টখিটে মে’জাজে বলল,
” আপনি ভালো করে কথা বলতে পারেন না,তূর্য ভাই? সব সময় ত্যাঁ’ড়া করে কথা না বললে পেটের ভাত হজম হয় না,নাকি?”
প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ১১
” না,পারি না !আমার ত্যাঁ’ড়া কথা শুনতে কল দিয়েছিস কেনো?এত কথা না বলে আম্মুর কাছে ফোন দে, ফাস্ট !”
” আমিও আপনার সাথে কথা বলার জন্য ম’রে যাচ্ছি না।বড় মা নেয় দেখেই কথা বলছি ”
“হ্যাং আপ দ্যা ফোন।আম্মু আসলে আবার কল করবি”
” পারবো না আমি ”
বলে আহি ফোন কেটে দিলো।এত বড় ঘাড় ত্যাঁ’ড়া লোক পৃথিবীতে দুটো আছে কিনা স’ন্দেহ।একটু ভদ্র – সভ্য ভাবে কথা বললে জাত যায় নাকি?খা’টাস লোক কোথাকার!
