প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩২
ইনান হাওলাদার
মেহেদীর কোচিং সেন্টারের পাশ ঘেষে ছোট্ট একটি খোলা জায়গা আছে। পুরোপুরি প্রাকৃতিক পরিবেশ।চারিপাশে সবুজ – সবুজ পাছপালাতে ভরা, পায়ের নিচে ঘাস, সকালের আবহাওয়া হওয়ায় ঘাসের উপর শিশির জমেছে।সেখানে একটা বেঞ্চেও রাখা আছে।সেই বেঞ্চের উপর বসে আছে তারিন। জায়গাটা একদম কোচিং সেন্টারের মুখে। মানে, মেইন ফটকের পাশে।যাতায়াতের পথে চোখে পড়ে। তারিনকে দুর থেকে দেখে এগিয়ে আসলো মেহেদী। মাত্রই ,বাইক পার্ক করার সময় নজরে এসেছে। তারিন সাধারণত প্রতিদিন দুই, চার,পাঁচ মিনিট লেইট করে আসে।আজকে সময়ের আগেই চলে এসেছে দেখে সে এসেই প্রশ্ন ছুড়লো,
” এত সকাল সকাল কেন এসেছ? ”
প্রতিদিন বাসা থেকে বেরিয়ে বেশ অনেকক্ষণই রিক্সার জন্য অপেক্ষা করতে হয় তারিনকে। সকাল সকাল হওয়ায় ভাড়া বেশি চায় তারা।এজন্যই মূলত বাসা থেকে আগে আগে বেরোয় সে। রিক্সাওয়ালাদের সাথে বারগেডিং করতে অনেকটাই সময় লেগে যায়।আজকে আর এমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।যার কারণে তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পেরেছে।তবে আসল সত্যটা এড়িয়ে তারিন বললো,
” একটু দরকার ছিল তাই। ”
“আহি আসবে না ? ”
” জ্বি,আসবে ভাইয়া ” হালকা হেসে উত্তর দিলো তারিন।
” কখন?”
” একটু পর ”
” একটা কথা বলো তো ”
তারিন ভদ্র, স্বাভাবিক স্বরে বলল,
” জ্বি,বলুন ”
মেহেদী চোখ সোজা করে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
“তুমি কি মাতৃভাষায় কথা বলো?”
এমন আজগুবি প্রশ্ন শুনে আশ্চর্য হলো তারিন।এটা আবার কেমন প্রশ্ন? মাতৃভাষা কথা বলে না তো পিতৃভাষায় কথা বলে নাকি?সে নিশ্চিত এই মেহেদীর মাথায় কোনো না কোনো প্রবলেম আছেই।একজন সুস্থ – স্বাভাবিক মানুষ কখনো এমন প্রশ্ন করতে পারে না।ভিতরে ভিতরে বি’রক্ত হলেও বাইরে প্রকাশ করলো না সে।বলল,
” জ্বি,বাংলা তো আমাদের সবারই মাতৃভাষা ”
” কিন্তু তুমি তো তোমার মাতৃভাষায় কথা বলো বলে আমার মনে হয় না “হঠাৎ করে গম্ভীর হয়ে গেল মেহেদীর কন্ঠ ,সাথে খোঁচাও বটে।
তারিন বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল,
” মানে? বুঝলাম না ”
” মাতৃভাষা কাকে বলে ? আগে সেটা বলো ”
তারিন সাধারণ ভাবে,পুরো পাঠ্যপুস্তকের মতো করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলো।ছোট বেলায় যা পড়েছে আর কি।
” আমরা জন্মের পর থেকে যে ভাষা শুনি বা শিখি অর্থাৎ মায়ের মুখের ভাষাই মাতৃভাষা ”
মেহেদী এবার ভ্রু তুলল,তারপর বলল,
” কিন্তু তোমার আর তোমার মায়ের মুখের ভাষা তো এক নয় ”
তারিন বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।তারপর এক মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে কিছু একটা ভেবে নিলো।সেদিন রাতের কথা মাথায় আসতেই এবার বুঝতে পারলো মেহেদীর এত গুলো আজগুবি কথাবার্তার মানে।চোখ নামিয়ে নিলো সে। খুব সংকোচ বোধ হচ্ছে, তারপর একটু অনুতপ্ত গলায় বলল,
” আসলে সেদিনের ঘটনার জন্য স্য’রি । আম্মু ভেবেছিলেন আমাদের সামনের বিল্ডিংয়ের ছেলেটা…. ” তাকে থামিয়ে দিলো মেহেদী।তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলল,
” হোক তোমাদের সামনের বিল্ডিংয়ের ছেলে তাই বলে তাকে ওভাবে বলবেন ?”
তারিন একটু বি’রক্ত হয়ে কিন্তু নিয়ন্ত্রিত স্বরে বলল,
” ছেলেটা একটু ফালতু টাইপের ”
” কেন কি করেছে ? ” মেহেদী হঠাৎ কৌতূহলী হয়ে উঠেও নিজেকে থামিয়ে নিল,তারপর ফের বলল,
” ওহ,স্যরি ! পার্সোনাল দিকে না যাই ”
এরইমধ্যে আহি এসেও হাজির হলো।তারিনের একটু সকাল সকাল আসা হয়েছে দেখে সে আহিকেও টেক্সট করে বলেছিল একটু তাড়াতাড়ি আসতে। আহি আসতেই মেহেদী এক গাল হেসে জিজ্ঞেস করলো,
” কেমন আছো,আহি ”
আহিও এক গাল হেসে উত্তর দিলো,
” ভালো ভাইয়া।আমি তো ভালোই থাকি।তাও আপনি প্রতিদিন জিজ্ঞেস করেন।আচ্ছা বলুন তো ভালো না থাকলে কিভাবে আসতাম? ”
” তাও তো ঠিক! ভালো না থাকলে কিভাবে আসবে !”
তারিন মোবাইল বের করে একবার সময় দেখে নিলো।গিরগিটি রং বদলায় শুনেছে ,কিন্তু মানুষ এত শিগগির কিভাবে রং বদলায় সেটা মেহেদীকে না দেখলে সে বুঝত না। মাত্রও মেহেদী তার সাথে কিভাবে কথা বলছিল।আর এখন দেখ ,মনে হচ্ছে মুখে কেউ মধু ঢেলে দিয়ে গিয়েছে।
সে তো কখনো সেধে কথা বলতে যায় না। আসে নিজের দরকারে,তাও বে’য়াদবের মতো করে কথা বলে।নেহাত একটু ভালো পড়ায় ,নাহলে কবে পড়া ছেড়ে দিতো!
আহির নাম্বার নেওয়ার জন্যেই তো এত কথা,সে বরং এখনই নম্বরটা দিয়ে রাখুক।তাহলে আর পড়া রিলেটেড ছাড়া কোনো কথাও হবে না আর কোনো প্যারাও নেই। সে সাথে সাথে আহির নম্বর টেক্সট করে দিলো।মেহেদী আহির আত্মীয় বিধাই সে নম্বর দিয়েছে।নাহলে কখনোই দিতো না।
একটু আগেই তূর্য হাসপাতাল থেকে ফিরেছে। সে বাইরে থেকে আসলেই আগে এক কাপ কফি খাবে। কিচেনে মা থাকলে মাকে আর যদি তিনি না থাকেন তাহলে যে থেকে তাকে কফি দিতে বলে।কিন্তু আজ একদম নিরিবিলি রুমে চলে এসেছে। এতে অবশ্য কেউ কিছু মনে করেননি। সারাক্ষণ গম্ভীর হয়ে পড়ে থাকার এই একটা ফায়দা।ভিতরে যতকিছুই হোক বাইরে থেকে মুখ দেখে আন্দাজ করা সম্ভব নয়।তেমনটাই হলো!
পারভিন বেগম কফি করে আহিকে দিয়ে তূর্যের রুমে পাঠালেন।আহিও নেচেকুদে সেটা নিয়ে গেল।ভিতরে ঢুকে সারা ঘর অন্ধকার দেখে সে আগে লাইট অন করল।তূর্য খাটের হেডবোর্ডে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে।লাইট জ্বলে উঠতেই চোখ – ভ্রু কুঁচকে ফেলল সে।বলল,
” লাইট অফ কর ”
চোখ বন্ধ রেখেই তূর্য ভাই কিভাবে বুঝলেন সে এসেছে, জানে না আহি। তবে জানা তো উচিত!উচিত না? সে প্রশ্নটা করেই ফেলল,
” আপনি না দেখে কীভাবে বুঝলেন ,আমি? ” তবে তূর্য সে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলল,
” কফি রেখে, যা ” কিন্তু আহি তো নাছোড় বান্দা।সে গো ধরে বলল,
” আগে বলুন ,তারপর যাচ্ছি ”
” এভাবে চোরের মতো তুই ছাড়া কেউ আসে না।আর….” এইটুকু বলে থেমে গেল সে।আহি বলল,
” আর ?”
তূর্য এবার চোখ খুলে সোজা হয়ে বসল।আহির হাত থেকে কফি নিতে নিতে বলল,
” আর তোর শরীর থেকে চোরাচোরা গন্ধ বের হয় ”
আহি এখন সব বুঝে গিয়েছে।তূর্য যে তাকে এসব খেপানোর
জন্যই বলে জেনে গিয়েছে সে।এতদিন না বুঝেই ঝ’গড়া করত।
তার যেমন তূর্য ভাইয়ের সাথে ঝ’গড়া করতে ভালো লাগে ,তূর্য ভাইয়েরও মনে হয় তাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলতে ভালো লাগে।তবে তূর্য ভাই এত এত ব’জ্জাতি কথা কোথা থেকে খুঁজে পান? সে এখন এই কথার প্রেক্ষিতে আরেকটা কাইজ্জা লাগানো কথা বলবে ,অথচ কোনো কথাই মাথায় আসছে না। অগত্যা চুপ করে রইলো সে। নীরবতা ভাঙলো তূর্য।বলল,
” সানডে অ্যান্ড থার্সডে তোকে ভার্সিটি থেকে কে পিক করে ?”
” কেন? আপনি!” বলে তূর্যের পাশে বসে পড়লো আহি। তূর্য তার টানটান করে রাখা পা জোড়া একটু বামে সরিয়ে নিয়ে বললো,
“আমি! তো আজকে কী বার? ”
” বৃহস্পিবার ”
” হুম থার্সডে! দ্যান ?”
” শুক্রবার !মানে ফ্রাইডে ” কথাটা বলেই আবার দুই পাশে মাথা ঝাঁকালো আহি।বুঝলো ভুল উত্তর দিয়েছে। তূর্য ভাই এটা জানতে চাননি।সে অ’পরাধীর মতো বলল,
” খেয়াল ছিল না তূর্য ভাই।আসলে …..”
” যা ! এক্সপ্লেনেশন দিতে হবে না ”
” আপনি রে’গে আছেন ,না? স্য’রি ,মনে ছিল না আমার । ”
” যেতে বলেছি তো। রা’গ করিনি! রা’গ করলে নিশ্চয়ই এভাবে কথা বলতাম না? যা এখন।”
এত সফটলি কথা তূর্য কোনো দিনও তার সাথে বলেনি।আহি বেশ বুঝলো তূর্য রে’গে আছে।কিন্তু প্রকাশ করছে না। কিন্তু কেন প্রকাশ করছে না আহি জানে না।এজন্যেই তার বেশি খারাপ লাগছে। তূর্য ভাই তো একটুতেই ধ’মকা ধ’মকি করেন ।তাহলে আজকে কী হলো? আজ তো সে সত্যিই অ’পরাধ করেছে। সে মন খারাপ করে বলল,
“আসলে মেহেদী ভাইয়া বাইকে করে এদিকেই আসছিলেন তাই আমাকে বলল …..”
এতক্ষণ তো শুধু অভিমান ছিল,একটু পর ঠিক হয়ে যেত।
মেহেদীর নাম শুনে মাথার ভিতর দপ করে আগুন জ্বলে উঠলো তূর্যের।আহির মুখে মেহেদীর নাম শুনলেই তার শরীর জ্বলে যায়।আর সেখানে আহি ওই ছেলের সাথে এসেছে।তাও আবার বাইকে করে! কফির মগটা শব্দ করে খাটের পাশে থাকা টেবিলের উপর রাখলো সে।
দুই হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে নিজেকে যথেষ্ট স্বাভাবিক রেখে বলল,
” তোকে বলল আর তুই ওর সাথে চলে এলি ?”
” আজকে বৃহস্পতিবার মনে থাকলে আসতাম না ”
” হেডেক হচ্ছে আহি,যা তুই “আঙুল উঁচিয়ে দরজা দেখাতে দেখাতে বলল তূর্য।
” স্য’রি !”
” প্লিজ যা ,মি’সবিহেব করে ফেলবো ”
” স্য’রি তো!”
এইবার আর তূর্য নিজের রা’গকে ধরে রাখতে পারলো না। ক্ষিপ্ত গলায় বলল,
” দুই ঘন্টা ধরে আমি তোর ভার্সিটি গেইটের সামনে বসে ছিলাম।দুই ঘন্টা !
হাজার বার কল করেছি,টেক্সট দিয়েছি ! সারা ক্যাম্পাস হন্যে হয়ে খুঁজছি। কতটা টেনশন হচ্ছিল ভাবতে পারছিস তুই? হ্যাহহ?
ইউ হ্যাভ এনি আইডিয়া ? আর তুই বাড়িতে চলে এসেছিস! তাও আবার কার সাথে? ওই সো কল্ড মেহেদীর সাথে! আর এখন স্য’রি স্য’রি বলে কানের মাথা খাচ্ছিস । যা চোখের সামনে থেকে ”
কথাগুলো বলতে বলতে চোখ লাল হয়ে উঠেছে তূর্যের । রাগে শরীর কাপছে। এতক্ষণে অনেক কষ্টে স্বাভাবিক বিহেভ করেছিল সে।কিন্তু আর কত? আহি কি এখনো ছোট আছে? ও বুঝে না সে কি চাই? কালকের পর থেকে তো আরো বোঝার কথা। তাহলে কেন বারবার একই কাজ করবে। এটা একদিন দুইদিনের রা’গ – অভিমান না।প্রথমে পায়েস রান্না করে খাওয়ানো, তারপর কফি খেতে যাওয়া,রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করে কথা বলা,এখন আবার তারই সাথে বাইকে করে আসা।
ভার্সিটি গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে না পেয়ে যখন সারা ক্যাম্পাস পাগলের মতো খুঁজেও পাচ্ছিল না তখন তার মনের অবস্থা কি হয়েছিল সে জানে ও? মনে হচ্ছিল এই বুঝি শ্বাস আটকে মরে যাবে। চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল কেউ যেন বুকের মাঝে সজোরে হাতুড়ি পেটা করছে। তারপর যখন কাপকাপা হাতে পারভিন বেগমকে কল করে জানতে পারে আহি বাড়িতে তখন ধড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মস্তিষ্ক ঠান্ডা হয়েছে।
সামনে বাহারি রকমের খাবারের আইটেম সাজানো।ধোঁয়া ওঠা গরুর মাংস, রোস্ট, মশলার গন্ধে মন মাতানো কোর্মা, ঝরঝরা পোলাও, আরো নানান প্রকার খাবার।সেগুলোই কব্জি ডুবিয়ে খেতে ব্যস্ত নাবিল।
অন্যদিকে পিংকি দূর থেকে হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।চোখ-মুখে বি’রক্তির ছাপ স্পষ্ট। সে দাঁড়িয়ে আছে শুধু এই অপেক্ষায় যে, নাবিল খাওয়া শেষ করুক, আর টেবিলের আশপাশটা একটু ফাঁকা হোক।
আজ সকালে যখন নাবিল তাকে ফোন করে বাইরে বেরোতে বলেছিল, পিংকি তখন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়েছে। কিন্তু সেই এড়ানোই কাল হলো । রা’গে-অভিমানে নাবিল সোজা তাদের বাড়ি চলে এসেছে।
আর হবু জামাইকে বাড়িতে পেয়েই পিংকির মা তো খুশিতে আটখানা! রান্নাঘরে সারা সকাল ধরে একের পর এক পদ তৈরি করেছেন তিনি।প্লেটে এক থাকতে এক তুলে দিচ্ছেন। এইমাত্র বড় এক মাছের মাথা তুলে দিলেন এবং বললেন,
“এই নাও বাবা, মাছের মাথাটা নাও” বলে হেসে প্লেটে তুলে দিতেই পুরো প্লেটটাই যেন ঢেকে গেল বিশাল মাথাটা দিয়ে।
নাবিল কিছু বলতে না বলতেই তিনি ফের বললেন,
” আরেকটা দিই?”
প্লেটে আর জায়গা কোথায় যে আরেকটা মাথা দিবেন তিনি। নাবিলের বলতে ইচ্ছা করলো,
“আরেকটা কি আমার বা’ড়ার উপর রাখবো?” কিন্তু মোটেও বেফাঁস কথা বলা চলবে না।তার সুন্দরের থেকেও সুন্দরতম মুখের ভাষা শুনে শেষে দেখা গেল শ্বাশুড়ি আম্মা মাথা তো দূরে থাক মেয়েই দিলেন না। তখন কি হবে?
একটি ভুল তার সারা জীবনের কান্না হয়ে দাঁড়াতে পারে। মুখে বলল,
“না ,না আন্টি ”
কিন্তু কে শুনে কার কথা! পিংকির মা মাছের মাথা না দিলেও বাকিসব খাবার একটার পর একটা দিয়ে যাচ্ছেন।
অনেকটা সময় নিয়ে, ধীরেসুস্থে খাওয়া শেষ করতে হলো নাবিলকে। পেট এতটাই ভরে গেছে যে নড়াচড়া করাও যেন কষ্টকর।
খাওয়ার শেষে পিংকির মা আদর করে বললেন,
“যাও বাবা, একটু শুয়ে বিশ্রাম নাও। পিংকি, রুমে নিয়ে যা।”
অগত্যা পিংকিকেই নাবিলকে গেস্ট রুমে পৌঁছে দিতে হলো।
গেস্ট রুমে পৌঁছে পিংকি বুকে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে বলল,
” তুই কোনো দিন মানুষ হবি না ?”
” আমি মানুষ না তো কিতা ? ওওও.. বুঝছি!একটু বেশি খাইছি এরজন্যে তুই আমারে রা’ক্ষস কইতে চাইতাছস ,না?
কি করতাম বা’ড়া তোর মা তো আমারে দেইখাই খাদক ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বানাই দেছে “বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে নাবিল এমন ভাবে কথাগুলো বলল যেন তার কথা বলতেও খুব ক’ষ্ট হচ্ছে।
” খেয়েছিস ,এখন রেস্ট নিয়ে রাস্তা মাপ । একটুপর বাবা চলে আসবে ”
” তোর বাপের ভ’য় দেহাস? তোর কুকীর্তি আমি জানিনা ভাবতাছস? বা’ড়ার মিছা কাহিনী বানাইয়া আমার তিন দিনের ঘুম হা’রাম করছস ”
পিংকি থতমত খেয়ে বলল,
” কী মিথ্যা কাহিনী ?”
” তোর বিয়া ঠিক হয়ে যাইতাছিল? বা’ড়ার মিথ্যুকবাজ!”
সে কি সাধে মিথ্যা বলেছে?মিথ্যা কাহিনী না বানালে সারা জীবন আইবুড়ো হয়েই কাটাতে হতো। সেদিন ওভাবে না বললে আজ নাবিল এভাবে জামাই আদর খেতে পারতো?
প্রসঙ্গ এড়ালো পিংকি।বলল,
” তিন দিন ঘুম হয়নি ,এখন বাড়িতে গিয়ে ম’রার ঘুম ঘুমা । যাহ ”
” এখানে ঘুমাবো ” বলে নাবিলের ধপ করে নিজের মাথাটা পিংকির কোলের উপরে রাখলো। আকস্মিক ঘটনায় পিংকি শিরদাঁড়া সোজা করে ফেলেছে। নাবিল চোখ বন্ধ করে বলল,
” তোর মায়ের দেওয়া ডেজার্ট পছন্দ হয়নি ,তুই একটু দিবি ”
” কি খাবি ? ” বলেই আবার নাবিলের কথায় মানে আন্দাজ করতে পারলো পিংকি। দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
” নি’র্লজ্জ,বে’হায়া কোথাকার ! ”
” চু’মু খাইতে চাইলেই কেউ নি’র্লজ্জ ,বে’হায়া হয় না মাংকি। তোর কপাল ভালো আমি একটু ..না, অনেকটাই লাজুক,নাহলে বুঝতি ঠ্যালা । ”
” ওরে আমার লজ্জাবতী,লাজুক লতা ” ব্য’ঙ্গ করে বলল পিংকি।
” একবার ভেবে দেখ তো ….” কথাটা সম্পূর্ণ না করেই নাবিল ফের বললো,
“না থাক! ”
বলেই আবার হো হো করে হেসে উঠলো। কেন হাসলো সে জানে না।এই মুহূর্তে পিংকির মুখ দেখে তার প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছে। মেয়েটার দুই গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।অথচ,এমন ভাব করছে যেন সে খুব বি’রক্ত।
এরই নাম মেয়ে মানুষ। বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না।
আসরের আজান পড়েছে বেশ কিছুক্ষন আগে।তূর্য ভেবেছিল আজ হাসপাতাল থেকে একটু দ্রুত আসার চেষ্টা করবে।কিন্তু দ্রুত তো দূরে থাক ,অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে আরো বেশি লেইট হয়েছে।
একটু দ্রুত করে আসতে চাওয়ার কারণ আহি।ইদানিং তো তাকে ছুঁয়ে কথা বলা যায় না। তুই থেকে তুমি হলেই মুখে কুলুপ এটে বসে থাকে। সেবার শুধু পায়ে ধরেনি। আর এভাবে বারবার স্য’রি বলতেও তার নিজের ইগো হা’র্ট হয়।
আসলে মানুষ একবার অন্যের দুর্বলতা খুঁজে পেলে বারবার সেই দুর্বলতায়ই আ’ঘাত হানে। আহিও সেটার ব্যতিক্রম নয়। যেভাবেই হোক বুঝেছেন ,ম্যাডাম কথা না বললে বা মুখ ফুলিয়ে বসে থাকলে সে গিয়েই স্য’রি টরি বলবে। এজন্যেই সে সবসময় নিজের দুর্বলতা ,অনুভূতি হাইড করে চলার চেষ্টা করে।কিন্তু সেটা আর হচ্ছে কই! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো তূর্য।
এতসব ঢং করে স্য’রি না বলে সেও আহির দুর্বলতায় আ’ঘাত করবে।ঘুরতে যাওয়ার পাগল মেয়েটা।এখন যদি একবার বলে ‘ চল,ঘুরতে যাই ‘ এক পায়ে খাড়া হয়ে যাবে।রা’গ উড়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে।যদিও আহি রা’গ করেছে কিনা সে জানে না।
তবে সে ওসব মান – অভিমানের চ্যাপ্টার ফেইস করতে চায় না। তাই পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এসব নানান চিন্তা মাথায় করে ড্রাইভ করে বাড়ি ফিরল সে। গাড়িটা গ্যারেজে রেখে বাইক নিয়ে ফের বাড়ির বাইরে গেল।অন্দর মহলে ঢুকতে গেলে বেশি টাইম লেগে যাবে তাই আর গেল না।মোবাইল বের করে আহির নাম্বারে কল করলো। রিসিভ হতেই স্বভাবসুলভ ভারী কন্ঠে বললো,
” রেইডি হয়ে বাইরে আয় ”
আহি তূর্যের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিল। কল দেখে দ্রুত কল রিসিভ করে কানে ধরেছে। তূর্য ভাই এখন ,এই সময়ে বাইরে কেন যেতে বলছেন? আরেকটু পর তো সন্ধ্যা নেমে যাবে।সে একবার প্রশ্ন করতে চাইলো,
” কেন? কোথায় যাবেন?” কিন্তু করলো না। কাল পর্যন্ত রে’গে ছিলেন তিনি।এখন এত এত প্রশ্ন করলে যদি আরো রে’গে যান তখন আরেক জ্বা’লা। এমনিতেই ভেবেছিল রে’গে আছেন।যেহেতু রে’গে নেই ,সেহেতু বেশি কথা বলে রা’গানো বোকামি হবে।আর সে তো মোটেও বোকা নয়।যদিও আগে একটু একটু ছিল,এখন আস্তে অস্তে ঠিক হয়ে যাচ্ছে । তাই সে দেরি না করে দ্রুত গতিতে সম্মতি দিলো ।বলল,
” আচ্ছা ”
” বাড়িতে কি বলবি ?”
” বলবো , তূর্য ভাই বেরোতে বলেছেন ”
” যদি বলে,কি জন্যে? তখন কি বলবি ?”
” বলবো….বলবো…. ” কোনো কথা ভেবে না পেয়ে আহি বলল,
” তাই তো !কেন বেরোতে বলছেন?কি বলবো?”
” কি বলে বেরোবি তুই জানিস ,আমি কিভাবে বলবো? বাট টেন মিনিটস এর মধ্যে বেরোবি ,কি বলে,কিভাবে সেটা তোর ব্যাপার। আই ডোন্ট নো ” বলে কল কাটে তূর্য।
আহি ফোন হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল।কি বলে বেরোবে সে? তূর্য তো দায় সারা ভাবে গায়ের জোরে বলে দিল। সে এখন কি বলবে? আর তূর্য ভাই কেন ডাকছেন সেটাও তো সে জানে না ,তাহলে কি বলবে?ইদানীং বেশি তূর্য ভাই,তূর্য ভাই করলে মারুফা বেগমও ব’কাবকি করেন।
না,এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে সময় নষ্ট করলে চলবে না। রেইডি হতে হতে কিছু একটা ভেবে নিবে। সে আলমারি খুলে নিজের সবথেকে পছন্দের জামা বের করলো।কিছুক্ষণ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে তারপর আবার সেটাকে রেখে দিলো।তূর্য ভাই সবসময় ব্ল্যাক,হোয়াইট, অ্যাস নাহলে ডার্ক ব্লু এসব কালারের শার্ট – টিশার্ট পরেন। কিন্তু এই ড্রেসটা তো গাঢ় বেগুনি রঙের। এটা পরা যাবে না।
কিন্তু তূর্য যেসব কালারের শার্ট পরে তার সেসব কালারের জামা খুব কম।নেই বললে চলে । সে খুঁজে খুঁজে ব্ল্যাক কালারের একটা ড্রেস বের করলো এবং তড়িঘড়ি করে সেটাকে পরে নিলো। চেইঞ্জ করার পরপরই মোবাইলে একটা ম্যাসেজ এলো।আহি সেটাকে চেইক করতেই দেখে তূর্যের ম্যাসেজ,
‘ বাইরে ঠান্ডা ,শীতের কিছু পরে আসিস।আর হ্যাঁ,একদম সাজাসাজি করবি না।মাইন্ড ইট! ‘
ম্যাসেজটা পড়ে আহি একবার ঠোঁট উল্টালো। বাইরে বেরোবে আর সাজবে না? সে কি বেশি সাজে নাকি? শুধু একটু লিপস্টিকই তো দেয় । সেটাও দিবে না? বললেই হলো নাকি?
একটু ফেইস পাউডার লাগিয়ে ঠোঁটে হালকা করে লিপস্টিক দিলো আহি। চুলগুলো বিনুনি করে নিলো।সেটা গিয়ে পরেছে তার ঊরু বরাবর। জর্জেট পাতলা ওড়নাটা গলায় ঝুলিয়ে গায়ে একটা ওড়না শাল জড়ালো।কিন্তু গরম গরম লাগছে দেখে সেটাকে আবার রেখে দিলো।
তূর্য দশ মিনিটের মধ্যে বেরোতে বললেও আহির বেরোতে বেরোতে আধ ঘন্টার বেশি সময় লেগেছে। গেইটের সামনে বাইকে হেলান দিয়ে বুকে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে তূর্য।পরনে অফ হোয়াইট শার্ট আর ব্ল্যাক প্যান্ট। ভ্রু দুটো কিঞ্চিৎ বাঁকিয়ে আহি দিয়ে তাকিয়ে আছে। সে আস্তে আস্তে আবিষ্কার করতে পারলো তার হৃদয়েশ্বরী তার কথা মানেনি। বাঁকিয়ে রাখা ভ্রু যুগল আস্তে আস্তে সোজা হলো। হুট করেই নিজের ভিতরের অস্থিরতা আবিষ্কার করলো সে।আহির এগিয়ে আসার তালে তালে সেটা বাড়ছে।
আহি এসে একদম তূর্যের মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো।বাইক দেখে তার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠেছে। মিষ্টি করে হেসে বলল,
” বাইক নিয়ে বেরোবেন,তূর্য ভাই ?”
তূর্য নিজের ভিতরের উষ্ণ অনুভূতিকে সামাল দিলো। সে আহির করা প্রশ্নের ধারে কাছে ঘেঁসলো না , রাশভারি কন্ঠে বলল,
” সাজতে নিষেধ করেছিলাম?”
আহিও তূর্যের করা প্রশ্নের ধারে কাছে না ঘেঁষে হেলমেট পরতে আরম্ভ করলো।আহির হেলমেট পরা শেষে তূর্য ওকে বাইকে উঠতে বলে নিজেও উঠতে উঠতে বলল,
” কী বলে বেরিয়েছিস ?”
তূর্যের প্রশ্নে মিচকে হাসলো আহি। সন্দেহ হলো তূর্যের।মনে মনে নিশ্চয়ই কোনো তালগোল পাকিয়েছে।সে পুনরায় প্রশ্ন করলো,
” কী বলেছিস?”
” বলেছি,শীত আসছে তো তাই তূর্য ভাইকে বলেছিলাম একটি হুডি কিনে দিতে,তো উনি এখন বেরোতে বলেছেন ”
” সুযোগের সদ্ব্যবহার !”
আরেক গাল হেসে নিলো আহি।এই না হলে তার বুদ্ধি।অজুহাত তো শুধুমাত্র হুডি, একবার মলে ঢুকতে পারলে হয় মন ভরে কিনবে।বিগত সকল বছরের হিসাব একবারে উসুল করবে। দোকানে গিয়ে এটা ওটা ধরলে তো আর তূর্য ভাই না করতে পারবেন না।
আর দোকানে নিবেন না ,এটাও বলতে পারবেন না।কারণ,তাহলে হুডি না নিয়ে বাড়িতে ফিরলে সবাইকে কি বলবেন? হুডি কিনে নিয়ে না গেলেও বাড়ির লোকেরা প্রশ্ন করবে।সুতরাং,তূর্য ভাই দোকানে নিতে বাধ্য। সে বাইকে না উঠে তূর্যের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।একটা হাসি দিয়ে বলল,
” তূর্য ভাই আপনার মনের মধ্যে একটা গান বাজছে, কি গান আমি বলি?
‘আমি ফাইসা গেছি ,আমি ফাইসা গেছি !’
তাই না ?”
” নাহ ! কিনে দিলে তবেই না ফাসবো!”
” তূর্য ভাই জানেন? আমার মনের ভিতরেও এখন একটা গান বাজছে ”
তূর্য ভ্রু কুঁচকে বলল,
” আবার কি গান?”
” না,না,না,, তা হবে না ,কথা শুনে….”
” ইডিয়ট! ওঠ ফাস্ট” বাকিটা শেষ করার আগেই ধ’মকে উঠল তূর্য।থেমে গেল আহি । তূর্য ফের বললো,
” বাড়ি ফিরে বলবি তোর কোনো হুডি পছন্দ হয়নি ”
“এ্যাঁহ ?”
” এ্যাঁহ নয় হ্যাঁ !এবার ওঠ”
” আরেকটা গান মাথায় ঘুরছে ।গাই?” বলে তূর্যের অনুমতির অপেক্ষা সে করলো না।জানে এইবার আর কোনো অনুমতি পাবে না।
উল্টো – পাল্টা লিরিক্সে গেয়ে উঠলো,
” Tute Hain Iss Tarah Dil
Awaj Naa Tak Aaye
Hum….”
এবারে আর তূর্যের ধ’মকের অপেক্ষা করতে হয়নি তার।গানের পরের অংশ ভুলে যাওয়ায় এমনিতেই থেমে গিয়েছে।
সেটা দেখে তূর্য বলল,
“থেমে গেলি কেন?আরো কোনো গান জানা থাকলে গা ”
” বলুন কি গান শুনতে চান।জাস্ট একবার বলুন।
কি চান?”
হঠাৎ করে তূর্যের মুখের হাবভাব বদলে গেল। তীক্ষ্ম, ধারালো চোয়াল নমনীয় হলো।আহি বরাবর একটু সামনের দিকে ঝুঁকে বাদামী বর্ণের ঠোঁট জোড়া বাঁকিয়ে ফিসফিস করে গেয়ে উঠলো ,
” শুধু তুই,শুধু তুই,
আর চাইছি না কিছুই !!”
আহি দুই ভ্রু নাচাতে নাচাতে দুষ্টু হেসে বলল,
” সত্য কখনো গোপন থাকে না ,বুঝলেন?মুখ ফসকে বলেই তো দিলেন ”
তূর্য মুখের আদল পুনরায় গম্ভীর করলো।সোজা হয়ে বসে বললো,
” ঘোড়ার ডিম বলেছি ।ব’কবক না করে ওঠ ”
সেভাবেই মিচকে হাসতে হাসতে উঠে বসলো আহি। তূর্যের পাশে বসতেই তার এতক্ষণ করা দু’ষ্টুমি মুড গায়েব হয়ে গিয়েছে।একটা অদ্ভুদ রকমের অনুভূতি। হঠাৎ করে এত লজ্জা কেন লাগছে? এই লজ্জা জিনিসটা তো তার কোনোদিনই ছিল না।ইদানিং হুটহাট করেই কেন চলে আসছে?
সে কাপাকাপা হাত তূর্যের কাঁধে রাখলো। হাতের তালু ঘেমে যাচ্ছে ।তূর্য ভাই না এক ধ’মক দিয়ে হাত নামাতে বলেন।কিন্তু তূর্য সেটা বলল না।সে হেলমেট পরে বাইকে স্টার্ট দিয়ে বলল,
” ভালো করে ধরে বস । পড়ে গেলে তো আবার তোর চৌ’দ্দগোষ্ঠী মা’মলা ঠুকে দেবে ”
আহি এবার আরেকটু কাছে এগিয়ে গিয়ে দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তূর্যকে। ভিতরের অস্থিরতা ক্রমশ বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে শিথিল হয়ে গেল।
তূর্য ভাইকে জড়িয়ে ধরার অনুভূতি কেমন সেটা অনুভব করার অনেকে দিনের সুপ্ত বাসনা তার।অবশেষে সেটা পূরণ হলো।কোনো রকমের ধ’মকা ধ’মকি ছাড়া।
তূর্যও চোখ বন্ধ করে আহিকে অনুভব করলো। তারপর বাইক নিয়ে সাঁই সাঁই করে ছুটে চলল।আচ্ছা,সুযোগের সদ্ব্যবহার কে করলো? আহি নাকি সে? এই যে ,এই প্রা’ণনাশীটা তাকে পিছন থেকে যেভাবে জড়িয়ে ধরেছে,এটা যদি সামনে থেকে করত তাহলে কি হতো?
কি আর হতো! নিশ্চিত আজকেই ধরা পরে যেত। বাইরে থেকে নিজেকে সামলে রাখলেও ভিতর ঝড় কিভাবে সামলাত সে ? হুট করে পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাওয়া হার্টবিট এর শব্দ শুনে ফেলত। আর লুকোচুরি করার উপায় থাকতো না।
তূর্য বাইক রাইড করতে করতে কোমল কণ্ঠে বললো,
” এখন কোনো গান মাথায় আসছে না তোর? ” আহি ধপ করে মাথা তুলল।কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ভাবলো।তারপর একবার নিজের দিকে এবং আরেকবার
তূর্যের দিকে দেখে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠলো,
” সাদা সাদা , কালা কালা
রং জমেছে সাদা কালা
সাদা সাদা , কালা কালা
রং জমেছে সাদা কালা
হইছি আমি মন পাগলা
বসন্তকালে ……”
প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩১
” স্টপ ইট,স্টু’পিড !”বাকিটা বলার আগেই আরেকদফা ধ’মকে উঠল তূর্য। কত বড় জা’উরা ! আস্ত এক আ’বালের বস্তা!
নিজে এসব মুড নিয়ে ঘোরে আর তাকে আন রো’মান্টিক বলে বেড়ায়।পুরো মুডটারই বারোটা বাজিয়ে দিলো। সামনের ট্রাকটার সাথে বাইকটা লাগিয়ে মাথাটা ফাটাতে পারলে মনে শান্তি আসতো। ই’ডিয়ট একটা!
এদিকে ধ’মকানোর কি আছে আহি ভেবে পায় না। সে যদি একটু রো’মান্টিক গান গাইতো,তখন তূর্য ভাই নির্ঘাত বলতেন ,’ ঘুরতে বেড়িয়েছি রো’মান্স করতে নয় ‘ তার থেকে বরং সে তাদের ড্রেস আপ এর সাথে মিল রেখে গানটা গাইলো।একদম খাপে খাপ। তবুও পছন্দ হলো না।
কিন্তু এতে যেহেতু লোকটা রে’গে গেলেন আরেকবার গান – টান
