Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৬

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৬

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৬
ইনান হাওলাদার

একটা বিষয় নিয়ে খুবই দু’শ্চি’ন্তায় আছে আহি।সাবা যখন তার কাছে তূর্যের ব্যাপারে আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করছিল।সে তখনই বুঝেছে সাবা তার হ্যান্ডসাম ভাইকে দেখে ক্রাশ খেয়েছে।তাইতো সে নিজে থেকেই সাবার মোবাইল নম্বর এনে তূর্যকে দিবে বলেছিল।কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও সা’হ’স করে দিতে পারেনি।তাই না পেরে সাবাকেই তূর্যের পার্সোনাল নম্বর দিয়ে এসেছিল।সাবা কাল রাতে কথাও বলেছে আর আজকে পরীক্ষার পর তাকে এভাবে কথা কেনো শুনালো? সে তো তূর্যের সম্পর্কে মি’থ্যা কিছুই বলেনি!তাহলে সাবা কেনো বলল,” এভাবে মিথ্যা না বললেও পারতে।সত্যিটা বললে আমি তোমাকে কিছু বলতাম ?”

আহি তো মিথ্যা বলার মধ্যে একটা কথাই বলেছে যে তার ভাই খুবই ঠান্ডা মাথার লোক,কখনও কারো প্রতি মে’জা’জ দেখায় না,অনেক মিশুকে আর হাসি – খুশি থাকে সবসময়।ঠোঁ’টের আগা থেকে কখনও হাসি সরেই না। তাহলে তূর্য ভাই কি সাবাকে নিজের আসল রূপ সম্পর্কে বলে দিলো? সে যে র’গ’চ’টা, ব’দ মে’জা’জি,মুখ পো’ড়া,অ’টি’স্টি’ক সেটা বলে দিলো?
ইসস..একটা মানুষ কতটা ভালো হলে নিজের খা’রাপ দিকগুলো অন্যকে বলে দেয়।আহি শুধু শুধুই তাকে খা’রাপ লোক ভাবে।সে আর বড় আব্বু – বড় মার কাছে তূর্য ভাইয়ের না’লিশ করবে না । কখনোই না!
কত দিন যাবৎ তার একটা বিয়ে খেতে মন চাইছে।তূর্যের বিয়ে হলে একটা সেই খাওয়া – দাওয়া হবে।কত আনন্দ হবে,মজা হবে।

সকল পুরুষ মানুষ নাকি বউয়ের কথায় ওঠে আর বসে।তাহলে তূর্য ভাইও তার বউয়ের কথায় উঠবে আর বসবে?ভেবেই তার হাসি পাচ্ছে।
কিন্তু দুই দিনের মধ্যে যেভাবেই হোক তূর্যের সাথে একবার সাবার বিষয়ে আলাপ করতে হবে।যেই ভাবা সেই কাজ!
৪ দিন পরই তার উচ্চতর গণিত দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা।তারপর পরীক্ষা শেষ! আহা! শান্তি আর শান্তি!
আহি আর সময় নষ্ট না করে বইখানা আর একটা খাতা নিয়ে তূর্যের রুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।অংক করতে করতে একবার সাবার বিষয়টা বলে দেখা যাবে।
দরজায় টোকা দিতে দিতে বলল,

” তূর্য ভাই ? আসবো ?”
” কী দরকার ?”
” একটা ম্যাথ বোঝার আছে !”
” আয় ”
আহি ভিতরে গিয়ে বই আর খাতা টেবিলের উপরে রেখে চেয়ার টেনে বসলো। খাট আর টেবিল পাশাপাশি হওয়ার তূর্য বিছানা থেকে না নেমেই হাতের মোবাইলটা পাশে রেখে টেবিলের দিকে ঘুরে বসে বলল,
” বই বের কর”
আহি বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে বলল,
” তূর্য ভাই,আপনি তো ম্যাথ খুব ভালো পারেন। তাহলে ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে ডাক্তার হতে গেলেন কেনো?”
” সেই কৈ’ফি’য়ত কি তোকে দিবো ?”
সাথে সাথে মুখখানা ফ্যা’কাশে হয়ে গেল আহির।ভালো ভাবে কথা বলতেও যে সময় লাগে খা’রাপ ভাবে কথা বলতেও সেই সময় লাগে ।তাহলে এই লোক এমন কেন করে ? আস্ত খা’টা’স একটা!

আসিফ চৌধুরী এবং থানার ওসি মুখোমুখি বসে আছেন।সামনে কয়েক প্রকার নাস্তা , চা – কফি ও পান – সিগারেট রাখা। সেদিনের সেই অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে কথা বলছেন।
গু’লি’বি’দ্ধ লোকটাকে কয়েকদিন লা’ইফ সা’পোর্টে রাখার পর প’র’লো’ক গমন করেছেন।বৃদ্ধা মায়ের একটাই সন্তান ছিল।আর লোকটার ফুটফুটে ২ টা সন্তান আছে।বৃদ্ধা মা যখন কা’ন্নায় ভে’ঙ্গে পড়েছিল তখন তিনি কথা দিয়ে এসেছিলেন তাদের খাওয়া – পরা থেকে বাচ্চার পড়া – লেখা যাবতীয় খরচ তিনি বহন করবেন।
কালপ্রিটকে সেটা আসিফ চৌধুরী বুঝতে পারলেও পর্যাপ্ত প্র’মাণের অভাবে সরাসরি ধরতে পারছেন না।যতই হোক সাবেক মেয়র।ক্ষ’মতা তারও কম নয়।স’ন্দেহের বশে কিছু বললে উল্টো তার উপর হয়’রানির অভি’যোগ ঠুকে দিবে না তার কী গ্যারান্টি আছে?
তাদের দুজনের কথার মাঝে মালেক ” ভাই,ভাই ” বলে উচ্চকন্ঠে ডাকতে ডাকতে ভিতরে এসে বলল,

” ভাই,যেই জা’নো’য়ার’ডা শ্যু’ট করছেল হেইডারে পাওয়ন গেছে ।আমগের দলে নতুন পুলাডায় মানে রহমত কিছু লোকজন লইয়া হেরে পাকড়াও করে কিন্তু মাঝ রাস্তায় ওই শু’য়া’ররে কেডায় শ্যু’ট কইরা দেয় ”
মালেকের কথা শুনে অনেকটা অপ্রস্তুত হলেন ওসি মোস্তফা সরদার।তিনি এতক্ষণ ধরে যে আসিফ চৌধুরীকে বোঝাচ্ছিলেন তারা একয়দিন টানা পরিশ্রম করেও শুটার কে খুঁজে পাননি।শহরের ওলি – গলি তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন।আসিফ চৌধুরী তার অপ্রস্তুত চেহারা দেখে বললেন,
” ওসি সাহেব ,আপনি এখন আসতে পারেন ”
” আসলে মেয়র সাহেব…..”
তাকে কথা শেষ করতে দিলেন না আসিফ চৌধুরী।দলের একটা ছেলেকে বললেন,
” সাইফুল,ওসি সাহেবকে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দে ।”
তার হু’কুম মোতাবেক সাইফুল নামের ছেলেটি ওসি মোস্তফাকে নিয়ে বাইরের দিকে চলে গেল।

টানা ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ধরে পড়ে, পুরো মাজা লেগে গেছে আহির।তূর্যের একটাই কথা ” আমার কাছে পড়তে হলে মশায় কামড়ালেও নড়তে পারবি না ”
ব্যাপারটা খুবই কষ্ট দায়ক।একই ভাবে রোবটের মতো কতক্ষণই বা বসে থাকা যায়।আর নড়লেই বই ধরে মাথায় এক বাড়ি !
এত কষ্ট করে মাজা ব্যথা করে বসে থেকেও আসল কথাটা বলতে পারেনি এখনো।কিভাবে কথা শুরু করবে সেটাও বুঝতে পারছে না।হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়ল তার।বই গোছাতে গোছাতে বলল,
” তূর্য ভাই,আপনার পারফিউমের ঘ্রাণটা দারুন !”
” তুই আমার পারফিউমের ঘ্রান নিতে এসেছিস ?”
” না ,তা হবে কেন ? অনেক কাছাকাছি বসে আছেন তো তাই নাকে চলে এসেছে ”
তূর্য কিছুটা দূরে সরে খাটের হেড বোর্ডে মাথা এলিয়ে দিয়ে বলল,

” ঘন কথা বলে বলে মাথা না খেয়ে কোন উদ্দেশ্যে এসেছিস ফটাফট বল ”
আহি যে তার রুমে উদ্দেশ্য বিহীন এক পাও ফেলে না সেটা তূর্যের ভালো করে জানা আছে।
আহি মিনমিন করতে করতে বলল,
” সাবাকে আপনি কি বলেছেন ?”
তূর্য কিছুক্ষণ নীরব থেকে সাবা কে সেটা মনে করার চেষ্টা করলো।তারপর দ্রুত হেড বোর্ড থেকে মাথা তুলে উল্টো প্রশ্ন করলো,
” ওয়ান সেকেন্ড,ওই মেয়েকে আমার পার্সোনাল নাম্বার কে দিয়েছে ?”
আহি তোতলাতে তোতলাতে বলল,
” আ.. মি কি .. ক.. রে বলবো ?”
তূর্য চোখ সরু করে তাঁকিয়ে বললো,

” জানিস না তুই?”
আহি এদিক – ওদিক মাথা নাড়ল।যার অর্থ সে ‘ জানে না ‘
তূর্য মনে মনে কিছু একটা ভেবে বলল,
” না জানলেই ভালো।ওই মেয়েটা আমার সাথে ফ্ল্যাট করার চেষ্টা করছিল জানিস ? আমি জানতে চাইলাম তাকে নাম্বার কে দিয়েছে।দ্যান..”
আহি উতলা হয়ে জিজ্ঞেস বলল,
” তারপর? তারপর কি ? থামলেন কেনো ,তূর্য ভাই ? নাম বলে দিয়েছে নাকি ?”
” নারে নামটা কিছুতেই বলল না। মেইবি, কড়া নির্দেশ ছিল।

দ্যান ,আমি বলেছি ‘যে তোমাকে নাম্বার দিয়েছে সে আমার বউ হয়।ইন ফিউচার আর ডিস্টার্ব করবে না।’ ”
” এটা কেনো বললেন?আল্লাহ গো! আমি আপনার বউ কবে হ….?”কথাটা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই আহি নিজের দুই হাত দ্বারা মুখ চেপে ধরেছে।ইসস… আবার ভুল করে ফেললো।তূর্য ভাই কথার জালে ফাঁ’সিয়ে সত্যিটা বের করে নিলো।আহি আর এক সেকেন্ডও অপেক্ষা না করে দৌঁড়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল।তূর্য বিছানা থেকে নামতে নামতে বলল,
” একদম পালাবি না ,ব’দ’মা’শ। দাঁড়া! দাঁড়া বলছি !”
আহি কি আর তূর্যের ডাক শোনে ! সে তো আজও দৌঁড় কালও দৌঁড়।হাদীসে আছে ‘ জীবন বাঁচানো ফরজ ‘ ।তাছাড়া এখনই মরে গেলে তূর্য যে বউয়ের কথায় উঠছে আর বসছে সেটা কিভাবে দেখবে ?

শত চেষ্টা করেও তাহির কান্না থামাতে ব্যর্থ তার দুই ভাই শান্ত আর প্রান্ত।নানান প্রকার সান্ত্বনা দিয়েও থামাতে পারছে না তাকে।
প্রতিদিনের মতো আজ বিকেলেও তারা খেলার জন্য ছাদে যায়।তবে ক্রিকেট ব্যাট না পেয়ে মায়েদের কাছে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারে গতকাল তাদের চেঁ’চা’মেচির জন্য তূর্যের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটেছে তাই সে ব্যাট আর বল নিজের রুমে নিয়ে গিয়েছে।যার ঐগুলা লাগবে তাকে তার (তূর্যের )সাথে দেখা করতে বলেছে। তূর্যের রুমে ব্যাট আনতে যাওয়ার সাহস ওদের কারোরই নেয়।এখন তারা বুঝতে পারছে আহির মর্ম।আহির পরীক্ষা না হলে যেভাবেই হোক সে তূর্যের রুম থেকে ব্যাট নিয়ে আসত।চুরি করে হলেও এনে দিতো।
তাই খেলার আর কোনো জিনিস না পেয়ে তারা রান্নাঘর থেকে একটা লেবু নিয়ে সেটা দিয়েই খেলছিল।খেলার মধ্যে হঠাৎ লেবুটা তাহির চোখে গিয়ে লাগে।যার ফলস্বরূপ সে এখন কান্না করছে। তাকে সা’ন্ত্বনা দিতে শান্ত বলল,

” থাক আপি, কান্না করে না।ভাইয়া কি দেখে দিয়েছি নাকি ? কান্না করে না । ”
প্রান্ত বলল,
” কাঁদিস না বনু। কাল কলেজ থেকে ফেরার সময় চকলেট নিয়ে আসবো। ঠিক আছে ?”
” আমি সবাইকে বলে দেবো তোমরা আমাকে ইচ্ছা করে মেরেছ ” হেঁচকি তুলতে তুলতে বলল তাহি
” ইচ্ছা করে কোথায় মা’রলাম ? ভুল করে লেগে গেছে ”
” তুই কি আহিপুর মতো হয়ে গেলি তাহি ?না’লিশ করার ভ’য় দেখাচ্ছিস !”
“এখন আমি যদি কাঁ’না হয়ে যায় তাহলে আমাকে কে বিয়ে করবে ?”
তাহির কথা শুনে শান্ত আর প্রান্ত বহু কষ্টে হাসি থামিয়ে রেখেছে।শান্ত দুষ্টুমি করে বলল,

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫

” নো টেনসন তাহি ।প্রান্ত আছে না ? ও তোকে বিয়ে করবে”
প্রান্ত শান্তের পিঠে একটা কি’ল দিয়ে রে’গে বলল,
” আমি কেন? তুই ঘা’ই মে’রেছিস তুই বিয়ে করবি ”
তাহি কা’ন্নার বেগ আরেকটু বাড়িয়ে বলল,
” দেখেছো? তোমরাই আমাকে বিয়ে করতে চাইছ না ।তাহলে অন্য কেউ কেন করবে ?”

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৭