প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫
ইনান হাওলাদার
ড্রয়িং রুমে আসিফ চৌধুরীর কন্ঠ শুনে নিচে নামার জন্য ছটফট করছে আহি।কিন্তু সাহস করে বেরোতে পারছে না।সেই সন্ধ্যা থেকে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বারান্দা থেকে নিচে উঁকি দিচ্ছিলো।কিন্তু তখন আসিফ চৌধুরী আসেননি। এখন বাড়ির প্রেসিডেন্ট এসেছে আর এখনই তাকে আসতে হয়েছে।তার উপর নিচে যেতে হলে তূর্যের রুম পার করে পরে যেতে হবে।যদি একবার ধরা খায় তাহলে জীবন – যৌবন সব খতম।
আহি আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো।খেতেও ডাকছে না যে সেই বাহানায় নিচে নামবে।আর না পেরে নিজের রুম থেকে চুপিচুপি মাথা বের করে একবার বারান্দার এমাথা – ওমাথা ভালো করে দেখে নিলো ।
নাহ! তূর্য ভাই নেয়।এবার তূর্যের রুমের দরজার দিকে একবার তাঁকালো।দরজা ভিজিয়ে রাখা দেখে একটা প্রশান্তির নিশ্বাস বের করলো।
আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে তূর্যের রুম পার করেই এক দৌঁড়ে ড্রয়িং রুমে চলে গেল আহি।এসেই হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
” ছোট বাবা, কাল এক্সাম দিতে আপনি নিয়ে যাবেন ।”
আসিফ চৌধুরী সোফায় বসে চা খাচ্ছিলেন আর টিভিতে খবর দেখছিলেন।আহিকে এভাবে হাঁপাতে দেখে টিভি বন্ধ করে নিজের পাশে বসতে ইশারা করে বললেন,
” আচ্ছা বসে কথা বল।আমাকেই কেন যেতে হবে ? রহিম কি ছুটিতে আছে?”
” না! রহিম চাচা আছেন । কিন্তু কাল আপনি নিয়ে যাবেন ।”
” আমার কাল তো একটা মিটিং আছে, মা ।অন্য একদিন নিয়ে যাই?”
“আহি? এক কাপ কফি দিয়ে যা ” আহি কিছু বলতে নিচ্ছিলো ।কিন্তু উপর থেকে তূর্যের কন্ঠ শুনে সেদিকে তাঁকালো।মানুষ বলে না,” যেখানে বা’ঘের ভ’য় ,সেখানেই রাত পোহায় ” সত্যিই !
আজ আহি শেষ।এত চুপিচুপি এসেও বা’ঘের হাতে ধরা পড়তেই হলো।
” ফাস্ট ” কথাটা বলে তূর্য আবার নিজের রুমে চলে গেল।
আহি দ্রুত এক কাপ কফি হাতে ইউনূস নবীর দোয়া পড়তে পড়তে তূর্যের রুমের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।দরজায় দুইবার কড়া নেড়ে বলল,
” তূর্য ভাই,কফি ”
” দিয়ে যা ”
শেষ! আহি এবার সত্যি সত্যিই শেষ !সে যদি ভুলেও বা দরকারে কখনও তূর্যের রুমে যায় তখন পারলে ঘাড় ধরে বের করে তূর্য।আর এখন রুমে ডাকছে ? কেন?
দরজা লাগিয়ে উদুম কে’লানো কে’লাবে না তো? তাহলে কাল পরীক্ষা দিবে কিভাবে ? ইয়ার গ্যাপ গেলে তো শান্ত আর প্রান্ত ফেল্টুস বলে খেপাবে।
” কী হলো?” তূর্যের ধমকে ভাবনার জগৎ থেকে বের হলো আহি।জামা উঁচু করে বুকে কয়েকবার থু থু দিয়ে রুমে প্রবেশ করলো।
তূর্য ডিভানে বসে দুই ঊরুর উপর ল্যাপটপে রেখে কি যেন করছিল।আহি কে দেখে কফি রাখার জন্য টি -টেবিলের দিকে ইশারা করলো।আহি টেবিলের উপর কফি রেখে যেতে নিচ্ছিলো কিন্তু পেছন থেকে তূর্য বলে উঠলো,
” এক্সাম হলে কী হয়েছে?”
এভাবে সরাসরি আসল কথাটা শুনে আহি থতমত করতে করতে বলল,
” ক… কী হবে ? কি..কিছু না ”
তূর্য এবার ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে আহির দিকে তাঁকালো।ঊরুর উপর থেকে ল্যাপটপ ডিভানে রেখে উঠে আহির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
“রং ঢং না করে তাড়াতাড়ি বলে ফেল ”
” কি..চ্ছু হয় নি তো ভা..ইয়া ”
” মাইর খাবি নাকি বলবি ?”
“আমার পাশে যে মেয়েটা বসেছে ,সাবা।ও আমার কাছে তাহি থেকে শুরু করে বড় আব্বু পর্যন্ত সবার সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল ।তখন আমি বলেছি,’ আমার বড় আব্বু আর আব্বু ফ্যামিলি বিজনেস সামলান ,মেয়র আসিফ চৌধুরী আমার ছোট বাবা আর বড় ভাই নাম করা হার্ট সার্জন।তখন আমার পেছনের মেয়ে দুটো হাসতে হাসতে বলেছিল ‘ তোমার মেয়র চাচাকে একদিন নিয়ে এসো ।চাপা মারার আর জায়গা পায় না।’ তাই ছোট বাবাকে কাল সাথে করে নিয়ে যাব” মাথা নিচু রেখে মিনমিন করে কথাগুলো বলল আহি।
এতক্ষণ খুব মনোযোগ সহকারে তূর্য কথা গুলো শুনছিল।আহি কথা থামাতেই সে বলে উঠলো,
” এক্সাম দিতে গিয়েছিলি নাকি শো অফ করতে ?”
” শো অফ করতে যাবো কেন? সাবা জিজ্ঞেস না করলে বলতাম নাকি ?”
” আচ্ছা ,যা এখন ”
জীবনের প্রথম সে তূর্যের কাছে ধ’ম’ক না খেয়ে যেতে পেরে মনে মনে খুবই খুশি খুশি লাগছে।হেলেদুলে রুম থেকে বের হচ্ছিল।হঠাৎ বিছানায় চোখ পড়ল । পা থামিয়ে জিজ্ঞেস করল,
” তূর্য ভাই,আপনার কি পা’য়’খা’না হয়েছে?”
তূর্যকে কিছুক্ষণ শক্ত দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকতে দেখে আহি আবারও বলল,
” না মানে ,ঐযে বিছানার উপর হলুদ ট্যাবলেট রাখা তাই বললাম আর কি”
” আজ কি তোর গায়ে হলুদ ?”
” আল্লাহ ! আমার গায়ে হলুদ হলে আপনি জানতেন না ?”
” তাহলে হলুদ ড্রেস পড়েছিস কেন ?”
” হলুদ কালারের ড্রেস পড়লেই গায়ে হলুদ হয় নাকি?”
” তাহলে হলুদ কালারের ট্যাবলেট হলই সেটা পা’য়’খা’না’র ট্যাবলেট হয় নাকি ? ইডিয়েট! বের হ ”
এটাতো হওয়ারই ছিল।আহির নিজের কাছেই খারাপ লাগছিল।সে তূর্যের রুমে আসবে ,অথচ বকা খাবে না ? এটা কিভাবে সম্ভব?
সেটা আহির নিজেরই হজম হচ্ছিল না।অসম্ভব ব্যাপার – স্যাপার।নয় কি?
সকাল সকাল চৌধুরী বাড়ির সবাই নাস্তার টেবিলে ব্যস্ত।বাড়ির বড় আর মেঝ কর্তার ফ্যাক্টরি,ছোট কর্তার রাজনৈতিক কার্যকলাপ,বড় ছেলের ডাক্তারি আর বাকিদের স্কুল ।সব মিলিয়ে সবাইই ব্যস্ত ভঙ্গিতে নাস্তা সারছে।অন্যান্য দিনের মতো বাড়ির কর্তিগণ আজও সবাইকে খাওয়াতে ব্যস্ত।
ইদানিং প্রান্ত একটা কথা বলার জন্য সুযোগ খুঁজছে ।কিন্তু পাচ্ছে না।তবে আজকের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে ‘ এখনই সুযোগ ‘ ।তাই সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গলা খাঁকারি দিলো।এটা প্রান্তের বরাবরের অভ্যেস।কোনো সিরিয়াস বা নালিশ জাতীয় কথা বলতে হলে সে এমনটা করে ।
আকবর চৌধুরী ব্রেডে জ্যাম লাগাতে লাগাতে বললেন,
” কি বলবে বলে ফেল ”
” আসলে বড় আব্বু,আহিপুর এক্সাম চলছে তবুও ও প্রায়ই লুকিয়ে লুকিয়ে আম্মুর ফোন নিয়ে যায় ”
আহি গালে খাবার তুলতে নিচ্ছিলো প্রান্তের কথা শুনে খাবারটা প্লেটে রেখে দাঁত কিটিমিটি করে বলল,
” এই দূরন্তের বা’চ্চা।আমার লাগলে আমি নেবো না?তোর কী?” আকবর চৌধুরীর দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে নরম কণ্ঠে বলল,
” বড় আব্বু,তারিন এর থেকে কিছু ইম্পর্ট্যান্ট নোট নিতে ২ দিন নিয়েছিলাম ”
” আল্লাহ,আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম আমাদের আহি বড় হয়ে গিয়েছে তার একটা ফোন দরকার ”
আহি প্রান্তকে উদ্দেশ্য করে বলল,
” নালিশ করে কয়টা বালিশ সেলাই করলি? হুম ? আমাকে একটা দিস কিন্তু !” প্রান্তের অবস্থা খুবই করুন ।কোথায় ভেবেছিল একটু বকা শোনাবে।সেটা তো হলোই না উল্টে ফোন পাশ হয়ে গেলো।আসলেই অন্যের জন্য কুয়া খুঁড়লে সেই কুয়ায় নিজেকেই পড়তে হয়।
” আহি,তোকে কতদিন বলেছি আমার পাশে বসে পা নাচানাচি করবি না ” তূর্যের ধমকে পা নাচানো থামিয়ে দিলো আহি।প্রান্তকে ভোঁতা মুখে খাবার চিবোতে দেখে মনের আনন্দে পা নাচাচ্ছিল।সেটা আর হতে দিলো না এই ট্রাউজার ভাই।
” এক্সামের সময় কিসের ফোন ,বড় আব্বু ?” শান্তের কথা শুনে আহির ইচ্ছা করছে কানের উপর একটা লাগাতে।
” ঠিক ! আহি এক্সামের পর দিনই কিনে দিবো মা।ঠিক আছে?”
তূর্য নাস্তা সেরে একটা টিস্যু নিয়ে হাত মুছতে মুছতে বলল,
” এডমিশনের আগে এই বাড়িতে যেন কোনো মোবাইল না আসে ”
বড় আব্বু এক্সামের পরেই কিনে দিবে শুনেই আহির খারাপ লাগছিল । আর এখন সোজা এডমিশনের পর?আহি এইটুকু সময়ের মধ্যে কত কিছু ভেবে রেখেছিলো ! ফোন পেলেই এটা করবে ,ওটা করবে।তার কিছুই হলো না।সব ভাবনায় এক বালতি গরম পানি ঢেলে দিয়ে চলে গেলেন তূর্য ভাই।একেই বলে ‘ অতি আশা যার কপাল পুড়ে তার ‘
ভর দুপুরের কড়া রোদ যেন টিনের চালে সেঁক দিচ্ছে।ছোট একটা কাঠের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন আসিফ চৌধুরী।মুখে দৃঢ়তা,কপালে ঘাম জমে চকচক করছে কিন্তু কন্ঠে একটুও ক্লান্তি নেয়।এই কড়া তাপের ভিতরও সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো মনোযোগের সহিত কথাগুলো শুনছে।কেউ রুমাল দিয়ে ঘাম মুছছে তো কেউ চোখ – ভ্রু কুঁচকে তাঁকিয়ে আছে নেতার দিকে।মাঠের পাশের গাছগুলো যেন নিচু হয়ে একটু ছায়া দিতে চাচ্ছে।কিন্তু তারা ব্যর্থ।মাঝে মাঝে গাড়ির হর্ন,বিক্রেতাদের হাক – ডাক শোনা যাচ্ছে।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে আসিফ চৌধুরী উচ্চস্বরে বলেছেন নতুন স্বপ্ন আর পরিবর্তনের কথা ।যেটা ভরা রোদে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে জনগণের মনে।শ্রোতাদের চোখে – মুখেও একটা প্রত্যাশার ঝিলিক বিদ্যমান।আসিফ চৌধুরীর কথা যেন এই কাঠ ফাঁটা রোদের মধ্যে এক পশলা বৃষ্টি।
এমন সময় হঠাৎ একটা বুলেট আসিফ চৌধুরীর থেকে ২ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রেখে একটা লোকের বুকে গিয়ে বিধলো। মুহুর্তেই হৈচৈ শুরু হয়ে গেল।যে যার প্রাণ নিয়ে পালানোর চেষ্টা । এতক্ষণ যারা মনোযোগের সাথে কথা শুনছিল তারাই এখন চি’ৎ’কা’র চেঁ’চা’মে’চি করে দৌঁড়া – দৌঁড়ি আরম্ভ করেছে।
বুলেট বিধ্বস্থ হওয়ার লোকটিকে আসিফ চৌধুরীর নির্দেশে শহরের সেরা চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
দুই ভাইয়ের সামনে মাথা নিঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন আসিফ চৌধুরী। মেজো ভাই বকাবকি করে কিছুটা শান্ত হলেও বড় ভাই আকবর চৌধুরী এখনো সমানে বকে যাচ্ছেন।রাগে হি’তা’হিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।মুখে যা আসছে তাই বলে ফেলছেন ।তবে আসিফ চৌধুরী দুই ভাইয়ের মুখের উপর কোনো কথা বলছেন না।চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন।
অনেক বছর আগেই বাবাকে হারিয়েছেন আকবর চৌধুরী।আর বছর দুয়েক আগে মাকে।বাবাকে কথা দিয়েছিলেন তার সন্তানদের নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখবেন।কোনো কালো ছায়াকে স্পর্শ করতে দিবে নাহ।এত দিন তো তাই করে এসেছেন।
শত চেষ্টা করেও আসিফ চৌধুরী কে রা’জ’নী’তির দিক থেকে ফেরাতে পারেননি তিনি।বার বার ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যায়ে মেনে নিয়েছেন।যদিও আসিফ চৌধুরীর রা’জ’নী’তিতে প্রবেশ করার অন্য কারণ রয়েছে।সে কথা আর ভাবতে চান না তিনি।আজ যদি গু’লিটা নিশানা মতো গিয়ে বিঁধতো।কি হতো? ছোট বউ আর তার দুই ছেলেকে কি জবাব দিতেন তিনি?এতক্ষণে চৌধুরী ভিলায় কা’ন্নার হা’হা’জা’রি ছড়িয়ে পড়ত।এই শো’ক কিভাবে সামলাতেন তিনিসহ পুরো পরিবার?
পুনরায় গ’র্জে উঠলেন তিনি আর বললেন,
” রাজনীতি করে কী পেয়েছিস? পেরেছিস আমাদের …”
কথা শেষ করতে দিলেন না আসলাম চৌধুরী। ভাইকে শান্ত করতে বললেন,
” দয়া করে শান্ত হন ,ভাইজান।যা হবার হয়ে গেছে ।ওর তো কিছু হয়নি।এভাবে উত্তেজিত হলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন ”
” ওকে চলে যেতে বল আমার সামনে থেকে ” গলা ফাটিয়ে চি’ৎ’কার করতে গিয়ে কাশতে আরম্ভ করলেন আকবর চৌধুরী।আসলাম চৌধুরী টেবিল থেকে কাচের গ্লাসটা নিয়ে বড় ভাইয়ের মুখের সামনে ধরলেন আর ছোট ভাইকে চলে যাবার জন্য ইশারা করলেন।আসিফ চৌধুরী ভাইয়ের ইশারা মতো জায়গা ত্যাগ করলেন।
তূর্য অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়েছে কিছুক্ষণ আগে।পর্যাপ্ত পরিমান বিশ্রাম নিয়ে অ্যাসিস্টেন্ট সাফিনকে ডাকলো।সে এক কাপ কফি দিয়ে তূর্যের নিকট মোবাইল ফোন দিয়ে বলল,
” স্যার,কে যেন বারবার কল করছিলেন ”
তূর্য কফির মগটা টেবিলের উপর রেখে মোবাইল আনলক করলো।আনলক করতেই চোখের উপর কয়েকটা নোটিফিকেশন ভেসে উঠলো।যার একটাতে চোখ আটকে গেলো তার যেখানে বড় বড় অক্ষরের হেডলাইন “মেয়র আসিফ চৌধুরীকে দিনের আলোর খোলা পরিবেশে খু’নের চেষ্টা ”
লেখাটা পড়েই তূর্য দ্রুত কললিস্ট চেক করলো ।সেখানে আসিফ চৌধুরীর অসংখ্য কল দেখে কল ব্যাক করলো।প্রথম দুইবার রিং হয়ে কেঁ’টে গেলো।তার চিন্তা ক্রমশ বেড়ে চলছে।আবার কল দিতেই সেটা রিসিভ হলো।ব্যস্ত কন্ঠে বলল,
প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৪
” ছোট বাবা,আপনি ঠিক আছেন?”
” হ্যাঁ,বাবা।আমি ঠিক আছি।তোকে কতবার কল দিলাম রিং হয়ে হয়ে কেঁ’টে গেলে ”
” আমি ওটিতে ছিলাম।আপনার কিছু হয়নি তো ?”
ছেলের ব্যস্ত কন্ঠ শুনে এত চিন্তার মাঝেও মুচকি হাসলেন আসিফ চৌধুরী।যে ছেলে সবসময় গম্ভীর হয়ে থাকে,প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া কারো সাথে বাড়তি একটা কথাও বলে না।সেই ছেলের এমন উতলা ভাব দেখে দুচোখ ভিজে উঠলো তার।একেই বলে র’ক্তের টান!
“আই থিঙ্ক ওরা আপনাকে নয় ওই লোকটাকেই টার্গেট করেছিল।আপনাকে জাস্ট ভয় দেখাতে চেয়েছিল।”
