Home প্রফেসর উজান চৌধুরী প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১১

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১১

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১১
বন্যা সিকদার

ঠিক সেই মুহূর্তেই উজান বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে গিয়ে মৌ’য়ের হাত থেকে কাচের টুকরো ফেলে দিয়ে নিজের দুই বাহুর মাঝে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তারপর মৌ’য়ের কানের কাছে মুখ এনে অত্যন্ত আদুরে ও শান্ত স্বরে আওড়াল‚
“মিসেস উজান চৌধুরী‚ প্লিজ রাগটা একটু কন্ট্রোলে আনেন। আপনার এই অগ্নিকন্যা রূপ উজান চৌধুরী নিতে পারছে না।

​মুহূর্তের মধ্যে পুরো রুম যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মৌ’য়ের চোখ কপালে ওঠার উপক্রম। উজান তাকে ‘মিসেস উজান চৌধুরী’ বলে ডাকছে? দরজার বাইরে থাকা আরিফুল চৌধুরী আর তুবা বিস্ময়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল।
“বাবা ভাইয়ের কি মাথা ঠিক আছে? কিসব আবোলতাবোল বলছে ভাই?
​আরিফুল চৌধুরী নিজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে তৃপ্তির মুচকি হাসি ঝুলিয়ে তুবা’র মাথায় হাত রাখলেন। অত্যন্ত রসিকতার সুরে ফিসফিসিয়ে বললেন‚ “আম্মাজান ছেলে আমার এবার পুরোপুরি ফেঁসে গিয়েছে। মুখে সারাদিন ‘বউ মানি না, বউ মানি না’ বলা আমার ছেলেটাও আজ নিজের অজান্তেই এই পুঁচকে মেয়েটার প্রেমে একদম হাবুডুবু খাচ্ছে।

​ “বাবা আমার মনে হয় এখন আমাদের এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত। ওদের পার্সোনাল স্পেস দেওয়া দরকার।
​আরিফুল চৌধুরী চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করতে করতে বললেন‚ “আম্মাজান নাটক তো মাত্র জমল। আরেকটু দাঁড়িয়ে দেখি না‚ ছেলে আমার কীভাবে বউয়ের রাগ ভাঙায়।
​তুবা এবার কৃত্রিমভাবে নাক ছিঁটকে বাবার হাত ধরে টেনে সরিয়ে নিয়ে বলল‚ “ছিঃ বাবা আপনার একটুও লজ্জা করে না নিজের জোয়ান ছেলের রুমে ওভাবে আড়ি পাততে? আমি কিন্তু এখন গিয়ে আম্মুকে সব বলে দেব‚ দেখব তখন আপনার কী হয়!
“এই আম্মাজান একদম এই ভুল কাজটি করো না। এমনিতেই তোমার শাশুড়ি সারাদিন আমার ওপর রেগে থাকে‚ এই কথা শুনলে আজ আমায় সোজা বাসা থেকেই বের করে দেবে। চলো চলো‚ চলেই যাই। ছেলে তার বউয়ের সাথে যা ইচ্ছে করুক‚ আমাদের আর মাথা ঘামিয়ে কাজ নেই।
​তুবা আর আরিফুল চৌধুরী দুজনে হাসতে হাসতে ড্রয়িং রুমের দিকে চলে গেলেন। তারা সম্পর্কে শ্বশুর আর পুত্রবধূ হলেও‚ তাদের ভেতরের বন্ডিংটা ছিল একদম গভীর বন্ধুদের মতো। ​এদিকে রুমের ভেতরে পরিস্থিতি তখনও থমথমে। মৌ উজানে’র ওই শক্ত বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য আপ্রাণ ছটফট করতে লাগল। তার বুকে দু-হাত দিয়ে ধাক্কা মারতে লাগল। কিন্তু উজান আজ বড্ড নাছোড়বান্দা; সে মৌ’কে একটুও ছাড়ল না বরং নিজের বিশাল শক্ত বুকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে রাখল। উজানে’র বুকের চেনা ও ওষ্ণ ঘ্রাণে হঠাৎ করেই মৌ শান্ত হয়ে গেল। ছটফটানি থামিয়ে সে একদম নিথর হয়ে রইল। ​উজান তখন মৌ’য়ের সেই নীরবতা টের পেয়ে আলতো করে মৌ’কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে তার মুখপানে তাকাল। অত্যন্ত নরম সুরে জিজ্ঞেস করল।

“মিসেস চৌধুরী রাগ কি একটু কমেছে?
​মৌ এক সেকেন্ডের জন্যও উজানে’র ওই মায়াবী চোখের দিকে তাকাল না। সে তীব্র এক ঝটকায় নিজেকে উজানে’র হাত থেকে ছাড়িয়ে নিল। তারপর ধীরপায়ে বিছানার মাঝখানে গিয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসে। নিজের দুই হাঁটুর মাঝখানে মুখটা গুঁজে দিল। উজান আবারও তার পিছু পিছু বিছানার সামনে এসে বসল কিন্তু মৌ টু শব্দ করা তো দূর‚ একবারের জন্যও তার দিকে চোখ তুলে তাকাল না। ​মৌ’য়ের এই অস্বাভাবিক নীরবতায় উজান বেশ অবাক হলো। এই মেয়েটার স্বভাব তো এমন নয়। কিন্তু এখন সে যেভাবে চুপ হয়ে গেছে‚ তাতে উজান খুব ভালো করেই বুঝতে পারল তার পিচ্চি বউ’টা আজ বড্ড বেশি কষ্ট পেয়েছে। উজান নিজের গলার স্বর যতটা সম্ভব কোমল করে নিচু স্বরে আওড়াল„

“পিচ্চি!
​কিন্তু এবারও মৌ’য়ের পক্ষ থেকে কোনো রেসপন্স এলো না। সে হাঁটুর ভেতর মুখ গুঁজে এবার নিঃশব্দে‚ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। মৌ’য়ের সেই কান্নার তীব্র ও ভেজা আওয়াজটা তীরের মতো এসে উজানে’র বুকের ভেতর বিঁধল। তার হৃদপিণ্ডটা যেন এক নিমেষে হাহাকার করে উঠল। ইদানীং এই মেয়েটার মুখখানা একটু কালো হয়ে থাকলেও যেখানে উজানে’র বুকটা ব্যথায় টনটন করে‚ সেখানে আজ মেয়েটা নিজের চোখের অশ্রু ফেলছে। উজান কিছুতেই মৌ’য়ের এই কষ্ট নিতে পারছে না। উজান বারকয়েক চেষ্টা করল মৌ’য়ের চিবুক ধরে নিজের দিকে ফেরাতে কিন্তু বরাবরই ফলাফল শূন্য রইল। মৌ মুখ তুলল না। উজান এক তপ্ত ও দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে মনে মনে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ধীরে ধীরে কক্ষ ত্যাগ করল।
​সে বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে নিচে নামছে। তার চোখে-মুখে তখন এক অদ্ভুত তাড়া। সদর দরজার কাছাকাছি পৌঁছাতেই ড্রয়িং রুমে বসা তুবা পেছন থেকে কৌতূহলী গলায় বলে উঠল‚ “ভাইয়া এত তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছো তুমি?
​উজান এক পলক পেছন ফিরে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে তখন এক চিলতে মৃদু ও রহস্যময় হাসি। সে উত্তর দিল। “মিসেস চৌধুরী বড্ড অভিমান করেছে আমার উপর। তাই তার সেই কঠিন অভিমান ভাঙানোর মেডিসিন আনতে যাচ্ছি।

​কথাটা বলেই উজান সদর দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল। তুবা উজানে’র যাওয়ার দিকে তাকিয়ে নিজের মনেই মুচকি হাসল। মনে মনে ভাবল‚ যাক ছেলেটার অবশেষে বোধবুদ্ধি হচ্ছে তাহলে।
​প্রায় আধ ঘণ্টা পর উজান দুই হাতে অনেকগুলো বড় বড় কার্টুন আর বক্স নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে বাসায় ঢুকল। তা দেখে ড্রয়িং রুমে বসে থাকা সবার চোখ যেন চড়কগাছ। বিস্ময়ে সবার মুখ হাঁ হয়ে গেল। যে উজান চৌধুরী জীবনে কখনো নিজের এক গ্লাস পানিও নিজে হাতে তুলে খায়নি‚ নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও অন্যের হাত দিয়ে রুমে পাঠাত। আজ সে নিজে এতগুলো বক্স দুই হাতে বয়ে নিয়ে আসছে। ​তুবা তাকে সাহায্য করার জন্য তড়িঘড়ি করে এগিয়ে যেতে চাইল কিন্তু উজান এক হাত তুলে তুবা’কে মাঝপথেই থামিয়ে দিল।

“ভাবি তোমায় আর কষ্ট করতে হবে না। উজান চৌধুরীর জন্য এখন এইটুকু ভার বহন করা কিছুই না। মিসেস চৌধুরীকে বড্ড হার্ট করে ফেলেছি। সো‚ তাকে মানানোর জন্য এইটুকু স্ট্রাগল তো আমাকে করতেই হবে।
​এই বলে উজান বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের দিকে হেঁটে গেল। রুমে ঢুকে দেখল মৌ ঠিক সেই আগের অবস্থাতেই বিছানায় হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে আছে। মৌ’কে এই অবস্থায় দেখতে উজানে’র কলিজাটা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। ​আজ উজানে’র হাতে থাকা বক্সগুলোর ভেতরে ছিল প্রচুর চকোলেট‚ আইসক্রিম আর চিপস। এই সব কটি জিনিসই মৌ’য়ের ভীষণ প্রিয়। একদিন রাতে ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন অবস্থায় মৌ বিড়বিড় করে এই জিনিসগুলোর কথা বলেছিল। আর উজান সেই পুঁচকে বউয়ের মুখের প্রতিটা কথা নিজের মনের মণিকোঠায় গেঁথে রেখেছিল। সে মল থেকে প্রতিটা জিনিস একটা-দুটো নয়‚ একেবারে দশটা করে বক্স কিনে এনেছে। যাতে তার এই জেদি পিচ্চি বউটার অভিমান চোখের পলকে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়।
​উজান ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে সবগুলো রঙিন বক্স ঠিক মৌ’য়ের চোখের সামনে সাজিয়ে রাখল। চকোলেটের চেনা সুবাস পেয়ে মৌ আচমকা চমকে চোখ তুলে তাকাল। কিন্তু পরক্ষণেই উজানে’র দিকে তাকিয়ে আবারও নিজের মুখটা শক্ত করে নিল‚ কোনো কথা বলল না। উজান বিছানায় তার একদম কাছাকাছি গিয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসল।
​“পিচ্চি!
……….?
“এই পিচ্চি।
……….?

​“সরি আমার আম্মুর লক্ষ্মী বউমা। প্লিজ এবার একটু কথা বলো? আর কখনো এমনটা হবে না‚ প্রমিস!
​মৌ উজানে’র মুখে ‘আম্মুর লক্ষ্মী বউমা’ শুনেও নিজের জেদ বজায় রাখল। সে আগের মতোই গাল দুটো ফুলিয়ে উজানে’র দিকে পেছন ফিরে উল্টো হয়ে বসল। তবে তার চোখের কোণে তখন নোনা জল চিকচিক করছে। মনে হচ্ছে একটু নাড়া পেলেই বুঝি এখনই শ্রাবণের ধারার মতো গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়বে। ​উজান এবার বিছানায় সরে গিয়ে সরাসরি মৌ’য়ের মুখোমুখি হয়ে বসল। মৌ’য়ের নরম ফর্সা হাত দুটো জোর করে নিজের শক্ত হাতের তালুর ভাঁজে নিয়ে অত্যন্ত ফিসফিসিয়ে আকুল স্বরে আওড়াল„
​“এই পিচ্চি এভাবে চুপ করে থেকো না প্লিজ‚ কথা বলো না আমার সাথে? এই দেখো তোমার জন্য চকোলেট‚ আইসক্রিম‚ চিপস সব এনেছি। তবুও কি কথা বলবে না আমার সাথে? আমি তো নিজে থেকে সরি বললাম‚ তবুও ওভাবে গাল ফুলিয়ে বসে থাকবে?

​বলো মাত্রই মৌ তড়িৎ গতিতে উজানে’র হাত থেকে নিজের হাত দুটো টেনে সরিয়ে নিল। সে নিজের বড় বড় চোখ দুটো দিয়ে উজানে’র দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ঝঝকিয়ে প্রতিবাদ করে উঠল।
​”সরি? কিসের সরি হ্যাঁ? আপনি কি ভেবেছেন আমাকে এই দুটো চকোলেট‚ আইসক্রিম আর চিপস এনে দিলেই আমি আমার সব কষ্ট ভুলে যাব? আমি আপনার সাথে জীবনেও আর কথা বলব না। আপনি কেন ওই কলেজের শাঁকচুন্নিটাকে ওভাবে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেছিলেন?
​উজান মৌ’য়ের মুখে নিজের সাবেক প্রেমিকার নাম ‘শাঁকচুন্নি’ শুনে আর মনের ভেতর চেপে রাখা হাসিটা আর ধরে রাখতে পারল না। সে ফিক করে হেসে দিল। তারপর বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে গিয়ে মৌ’কে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিজের মুখোমুখি বসিয়ে দিল। মৌ কিছু বুঝে ওঠার আগেই উজান তার মুখের ওপর এসে পড়া এলোমেলো চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিল এবং বিছানার পাশ থেকে একটা ক্লিপ নিয়ে পরম যত্নে মৌ’য়ের চুলগুলো উঁচু করে একটা সুন্দর খোঁপা বেঁধে দিল। ​খোঁপা বাঁধা শেষ করে উজান মৌ’য়ের নাকের ডগায় একটা মৃদু টোকা দিয়ে বলল‚
“পিচ্চি ইদানীং তুমি কিন্তু বড্ড অলস হয়ে যাচ্ছো। এত সুন্দর সিল্কি চুলগুলোর এই বারোটা বাজিয়েছো কোন সাহসে শুনি? রোজ সকালে আমি নিজে তোমার এই চুলগুলো বেঁধে দিই‚ তবুও একটু চুলগুলো ক্লিন রাখতে পারো না? নাকি এখন থেকে তোমার চুল ক্লিন করার দায়িত্বও আমাকেই নিতে হবে?

​মৌ উজানে’র এই বেমক্কা বকা আর চতুরতা দেখে রাগে আরও লাল হয়ে গেল। সে উজানে’র কোল থেকে নেমে বুক লক্ষ্য করে নিজের ছোট ছোট হাত দিয়ে দুটো কিল বসিয়ে দিয়ে দিলো। “আপনি অনেক খারাপ। আপনি আমার অভিমান না ভাঙিয়ে‚ উল্টো এখন আমাকেই অলস বলে বকা দিচ্ছেন? থাকব না আমি আপনার সাথে‚ চলেই যাব আমি এখান থেকে।
“থাকতে পারবে আমায় ছাড়া?
“থাকতে পারবো না বলেই তো এমন করছেন। যেদিন সত্যি সত্যি চলে যাবো সেদিন ঠিকই বুঝবেন।
উজান তার প্রতিউত্তরে আর কোনো কথা বলল না। সে জানে‚ এই পিচ্চিটাকে মুখের কথায় শান্ত করা যাবে না। উজান বেশ কিছু সময় গভীর চোখে মৌ’য়ের ওই নিষ্পাপ মুখখানার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বিছানায় রাখা বক্সগুলো থেকে মৌ’য়ের সবচেয়ে প্রিয় চকলেট আইসক্রিম বের করল। তারপর আইসক্রিমটা একদম মৌ’য়ের মুখের সামনে ধরল। ​প্রিয় আইসক্রিম চোখের সামনে দেখামাত্রই মৌ’য়ের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠতে চাইল। তবে সে পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের জেদ বজায় রাখল; আইসক্রিমটা নিজের হাতে নিল না। উজান মৌ’য়ের এই কাণ্ড দেখে মনে মনে নিঃশব্দে হাসল। মৌ যদিও তার ওপর অভিমান করে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে রইল। কিন্তু আইসক্রিমের চেনা সুবাস পেয়ে ইতিমধ্যে তার জিভে জল চলে এসেছে।

​মৌ’য়ের এই লোভ সামলানোর চেষ্টা দেখে উজান এবার খানিকটা তার কানের কাছে ঝুঁকে পড়ল। অত্যন্ত নিচু ফিসফিসানি স্বরে আওড়াল‚ “কী হলো মিসেস চৌধুরী? আপনি কি নিজে থেকে এটা খাবেন নাকি আমি নিজেই….
​উজানে’র কথা শেষ হওয়ার আগেই তড়িৎ গতিতে উজানে’র হাত থেকে আইসক্রিমটা কেড়ে নিল মৌ। তারপর মুখ বাঁকিয়ে নিজের মনেই গপগপ করে আইসক্রিম খেতে লাগল। ​উজান এবার শব্দ করে হেসে দিল। মৌ উজানে’র হাসির দিকে পাত্তা না দিয়ে চোখ-মুখ কুঁচকে পরম তৃপ্তিতে আইসক্রিম খাওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তবে পুরোটা সময় উজান কিন্তু এক পলকের জন্যও চোখ সরাল না। তার গভীর দৃষ্টিটা স্থির হয়ে লেপ্টে রইল কেবলই তার এই অবুঝ পিচ্চি বউটার ওপর। হঠাৎ মৌ বলে উঠে।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১০

“লাভ ইউ প্রফেসর সাহেব!
উজান মৌ’য়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। তার কপালে লেপ্টে থাকা চুল গুলো আলতো হাতে সরিয়ে দিয়ে ফু দিলো। মৌ আইসক্রিম খেতে খেতে এক পলক তাকালো। অতঃপর উজান ভ্রু জোগল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো। “চকলেট‚ আইসক্রিম‚ চিপস্ এনে দেওয়ার জন্য বললে?
মৌ খিলখিল করে হাসলো। ঠোঁটের চারদিকে লেগে থাকার আইসক্রিম উজানে’র শার্টে মুছে উওর দিল। “হুম।
“হায় আল্লাহ এই মেয়ে দেখি সামান্য চকলেট‚ আইসক্রিমের জন্য…..

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here