প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২৭
বন্যা সিকদার
“একদম চুপচাপ ভেতরে ঢুকবে আর সাধারণ সৌজন্যবশত সাব্বির’কে ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করবে। ভুলেও যদি তাকে জড়িয়ে-টরিয়ে ধরেছ‚ তবে সোজা নিয়ে গিয়ে তেঁতুল গাছে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখব। জাস্ট মাইন্ড ইট মিসেস চৌধুরী!
কে শোনে কার কথা। সঙ্গে সঙ্গে উজানে’র কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেবিনে ঢোকার পরেই মৌ তার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে এক দৌড়ে সাব্বিরে’র কাছে চলে গেল। সাব্বির তখন মাত্রই বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় বসে ছিল‚ ওমনি মৌ আচমকা এসে তাকে জাপটে জড়িয়ে ধরল। মেয়েটার এমন আকস্মিক কাণ্ডে সাব্বির পুরোপুরি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। সে ভয়ার্ত চোখে সরাসরি উজানে’র দিকে তাকাল। এই জড়িয়ে ধরার অপরাধেই উজান তাকে এই দমবন্ধ করা হসপিটালে পাঠিয়েছে‚ আর আজ এখানে এসেও মেয়েটা একই কাণ্ড ঘটাল! উজান নিজের রক্তচক্ষু নিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল; তার চোখ দিয়ে যেন আক্ষরিক অর্থেই আগুন ঝরছে। মৌ অবশ্য উজানে’র এই রুদ্রমূর্তি দেখেও না দেখার ভান করে মুচকি হাসল। তারপর একগাল হেসে সাব্বির’কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো।
“ওগো! তুমি এখন কেমন আছো?
মৌ’য়ের মুখে এই টুকু কথা শুনেই সাব্বিরে’র গলায় যেন খাবার আটকে বিষম খাওয়ার উপক্রম হলো! সে মনে মনে ভাবল‚ খানিকটা সুস্থ হয়ে মাত্রই বিছানায় উঠে বসেছে সে‚ আর এখন এই মেয়েটা নিশ্চয়ই তাকে পুরোপুরি মার্ডার করতে এসেছে। নয়তো কেউ নিজের বরের সামনে এমন কথা বলে? পাশে সাব্বিরে’র মা বসে আছেন বলেই মৌ হয়তো উজান’কে অতটা পরোয়া করছে না। আর ওদিকে উজানে’র এমন বেহাল দশা দেখে মেহের এক কোণে দাঁড়িয়ে নিজের ঠোঁট চেপে হাসছে।
মৌ আবার ন্যাকামি মেশানো গলায় বলা শুরু করল‚
“কী গো‚ তুমি আমার সাথে কথা বলবে না? টেনশন নিও না‚ আমি যখন এসে পড়েছি তখন তোমাকে…
তার বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই উজান বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে এসে সকলের সামনে এক ঝটকায় মৌ’কে নিজের শক্ত বুকে টেনে নিল। প্রফেসরের এমন আকস্মিক কাণ্ডে কেবিনে থাকা সবার চোখ চড়কগাছ হয়ে গেল। মৌ অবশ্য মনে মনে খানিকটা আন্দাজ করেছিল যে এমন কিছু একটা হতে পারে। সে খুব ভালো করেই জানে‚ উজান তাকে নিয়ে কতটা সেনসিটিভ! অন্য কোনো পুরুষ তো দূর‚ নিজের ভাইয়ের সাথেও সে মৌ’কে সহ্য করতে পারে না। কিন্তু মৌ-ও সহজে পিছিয়ে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে রাগান্বিত কণ্ঠে প্রতিধ্বনি করে।
”এই রাক্ষস লোক ছাড়ুন আমায়। আপনি কে‚ হ্যাঁ? আপনি জানেন না একটা মেয়ে মানুষের গায়ে তার অনুমতি ছাড়া টাচ করতে নেই? ছাড়ুন আমায়‚ ছাড়ুন বলছি!
ততক্ষণে উজানে’র ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। সে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে এক ঝটকায় মৌ’কে নিজের চওড়া কাঁধে তুলে নিল। যেভাবে ঝড়ের গতিতে সে কেবিনে এসেছিল‚ ঠিক সেভাবেই ওখান থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে কড়া গলায় আওড়াল‚ “শাশুড়ির মেয়ের দেখছি দিন দিন সাহস বড্ড বেড়ে যাচ্ছে‚ তাই না? জাস্ট ওয়েট বাসায় চল আজকে‚ বাসায় গিয়ে খুব ভালো করে দেখাচ্ছি এই সাহস কোথায় গিয়ে থাকে।
মৌ উজান’কে নামানোর জন্য তার পিঠে এলোপাতাড়ি থাপ্পড় মারতে লাগল‚ নিজের বড় বড় নখ দিয়ে খামচে ধরল‚ তবুও উজান তাকে এক চুলও ছাড়ল না। হসপিটালের করিডোরে থাকা সাধারণ মানুষ ও স্টাফরা হা করে তাদের এই কাণ্ড দেখছিল। ঠিক তখনই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মৌ চিৎকার করে উঠল।
”কেউ বাঁচান আমায়। আমাকে এই খাটাশ লোকটা কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছে। হেল্প প্লিজ‚ হেল্প মি!
মৌ’য়ের চিৎকার শুনে হসপিটালের দুজন লোক এগিয়ে এসে হুট করে উজানে’র সামনে পথ আটকে দাঁড়াল। উজান এতে প্রচণ্ড বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত হলো। সে নিজের দাঁতে দাঁত পিষে কটমট করে। “আমি কোনো কিডন্যাপার নই। এটা আমার তিন কবুল বলে বিয়ে করা নিজের বৈধ বউ! শালী প্রচণ্ড পাঁজি আর ত্যাঁড়োমুখো হয়েছে‚ তাই ওকে আজ একটু শিক্ষা দিতে নিয়ে যাচ্ছি। আর এখন যদি কেউ আমার পথ আটকানোর চেষ্টা করেন‚ তবে তার কপালে শনি….
উজানে’র চওড়া শরীরের চাহনি দেখে বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই লোক দুজন চট করে পথ ছেড়ে সরে গেল। এরপর উজানও রাগে ফুসতে ফুসতে গটগট করে হসপিটাল থেকে বেরিয়ে গেল। এদিকে তারা চলে যেতেই সাব্বির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। যাক‚ একটা বড়সড় টর্নেডো তার ওপর দিয়ে চলে যায়নি ভেবে সে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। ওদিকে মেহের এতক্ষণ নিজের পেটে হাত দিয়ে হাসি চেপে রেখেছিল কিন্তু উজান’রা চলে যেতেই সে এবার খিলখিল করে শব্দ করে হেসে উঠল। তাকে ওভাবে হাসতে দেখে সাব্বির ধমক দিয়ে উঠল। আর সাথে সাথেই মেহেরে’র হাসি উধাও হয়ে গেল, সে চুপ মেরে গেল। মেহের ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল‚
“ভাইয়া ওভাবে ধমক দিলে কেন? এখন কি আমি একটু হাসতেও পারব না?
“বাইন রে‚ তুই বুঝতে পারছিস না সামনে আমাদের জন্য কী ভয়ঙ্কর বিপদ অপেক্ষা করছে। রোহান ভাইয়া আজই বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন। এবার তুই একটু ভেবে দেখ‚ যদি ভাইয়া কোনোভাবে জানতে পারেন যে ওনার আদরের ‘ফুল’-এর বিয়ে হয়ে গিয়েছে তখন কী অবস্থাটা হবে?
“হোয়াটটট? তোমাকে কে বলল বড় ভাইয়া আজ আসছেন? —মেহের চিৎকার দিয়ে বলে।
“ভাইয়া প্লেনে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে আমার সাথে ফোনে কথা বলেছেন। আমি এখন এটাই ভাবছি যে কী হবে। আমরা তো ভাইয়ার কথা বিন্দুমাত্র না ভেবেই ওনার ফুল’কে তার নিজের ভালোবাসার মানুষের হাতে তুলে দিলাম‚ কিন্তু এখন ভাইয়া এসে যখন সব জানবেন, তখন কী হবে?
“আমিও কিছু বুঝতে পারছি না ভাইয়া। তবে এবার মনে হচ্ছে সত্যিই খারাপ কিছু একটা হতে চলেছে!
প্রায় ঘণ্টা খানেকের পর উজান মৌ’কে নিয়ে এসে বাসার সামনে নিজের বাইকটা থামাল। সে এতক্ষণ মৌ’য়ের হাতটা লোহার মতো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল‚ যাতে মেয়েটা কোনো সুযোগে পালিয়ে যেতে না পারে। কোনো রকমে বাইকটা এক পাশে স্ট্যান্ড করে রেখে যেমনই উজান মৌ’কে নিয়ে সামনে এগোতে যাবে‚ অমনি মৌ সুযোগ বুঝে তার হাতে সজোরে এক কামড় বসিয়ে দিল! আচমকা এমন আহাম্মকি কাণ্ড ঘটবে তা উজান ভাবতেও পারেনি‚ তাই পুরো ব্যাপারটা বুঝতে তার খানিকটা বেগ পেতে হলো। সেই সুযোগে মৌ তড়িৎ গতিতে উজানে’র হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করে এক ছুটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করল। উজানও নিজের হাতের ব্যথা অগ্রাহ্য করে তার পিছু পিছু ছুটল। কারণ সে খুব ভালো করেই জানে‚ এই ত্যাঁড়োমুখো মেয়েটাকে এখন যদি কোনোভাবে ধরতে না পারে তবে আজ সারা রাতেও সে আর তার হাতের নাগালে আসবে না। উজান পেছন থেকে রেগে চিৎকার করে উঠল‚
“পিচ্চি দাঁড়াও বলছি!
”জীবনেও না।
মৌ পেছনের দিকে এক পলক তাকিয়েই গতি আরও বাড়িয়ে দিল। মৌ দৌড়ে গিয়ে ড্রয়িংরুমে ঢুকল। সোফা‚ টেবিলকে আড়াল করে সে এদিক-ওদিক ছুটতে লাগল। উজানও নাছোড়বান্দার মতো তার পিছু পিছু তাড়া করল। অবশেষে মৌ নিজের প্রাণ বাঁচাতে দু তলার নিজের রুমের দিকে দৌড়ে গেল। কিন্তু দরজাটা তড়িঘড়ি করে বন্ধ করার আগেই উজান ঝড়ের গতিতে রুমের ভেতর প্রবেশ করল। রুমে ঢুকেই উজান খটাস করে দরজাটা ভেতর থেকে লক করে দিল। সে রুমের এসিটা ফুল পাওয়ারে অন করে দিয়ে নিজের শার্টের ওপরের দুটো বোতাম আলগা করতে করতে ধীর পায়ে মৌ’য়ের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। উজান’কে ওভাবে এগিয়ে আসতে দেখে মৌ ভয়ে একদম সেঁটিয়ে গেল। লোকে বলে মানুষ নাকি নিজের বিপদ থেকে নিজেকে উদ্ধার করে‚ আর মৌ যেন নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনে!
সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ধীরে ধীরে পেছনের দিকে পিছিয়ে যাচ্ছে। এক সময় দেয়ালের সাথে তার পিঠ ঠেকে গেল‚ আর পালানোর কোনো পথ নেই। তা দেখে মৌ শুকনো ঢোক গিলল। সে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে উজানে’র দিকে তাকিয়ে বলে উঠল‚ ”আ আপনি আমার কাছে একদম আসবেন না কিন্তু বলে দিলাম।
উজান কোনো কথা না বলে ঝড়ের বেগে এগিয়ে এসে মৌ’য়ের দু-হাত দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। মৌ একরাশ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইল। লোকটা যতই তার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে‚ ততই মৌ’য়ের বুক ধকধক করছে। তার হৃদপিণ্ড যেন বিদ্যুৎ গতিতে লাফাচ্ছে‚ মনে হচ্ছে এই বুঝি কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে। উজান আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। পরমুহূর্তেই সে মৌ’য়ের গলার ভাঁজে নিজের মুখ ডুবাল। উজানে’র সেই তপ্ত ও পুরুষালি ছোঁয়ায় অস্বাভাবিকভাবে কেঁপে উঠল মৌ। উজান তার এক হাত দিয়ে মৌ’য়ের কোমর শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে এবং অন্য হাত দিয়ে তার দুই হাত বন্দি করে রেখেছে। মৌ আপ্রাণ চেষ্টা করছে নিজেকে তার বাহুবন্ধন থেকে ছাড়ানোর কিন্তু প্রতিবারই তার চেষ্টা বৃথা হচ্ছে। একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের শক্তির কাছে সে নিতান্তই এক অবলা বালিকা।
হঠাৎই উজান তার গলার নরম চামড়ায় আলতো করে নিজের ওষ্ঠাধর ছোঁয়াল। সাথে সাথে এক তীব্র শিহরণে চোখ বুজে নিল মৌ। ঠিক তখনই তার কানের কাছে উজানে’র সেই ভারী ও মাদকতাময় কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
“মিসেস চৌধুরী যখন আমাকে এতটাই ভয় পান‚ তাহলে আমার সাথে এত ত্যাঁড়ামি কেন করেন‚ শুনি? নাকি এই উজান চৌধুরীকে নিজের কাছে পাওয়ার জন্যই এমন নিত্যনতুন ফন্দি আঁকেন? উজান চৌধুরী যখন নিজের স্বরূপে ফেরে‚ তখন তাকে সামলানোর ক্ষমতা কি আপনার এই ছোট্ট শরীরের আছে?
মৌ রুমের এসি চলা সত্ত্বেও ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল‚ “দূ দূ দূ দূরে যান প্লিজ।
উজান এক ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে আওড়াল‚ “ওহুঁ! আপনি নিজেই তো বারবার নানারকম কাণ্ড করে আমাকে আপনার কাছে ডাকেন‚ তাহলে এখন দূরে যাব কেন‚ শুনি? আপনি তো নিজেই চাচ্ছেন আমাতে মিশে যেতে‚ আমাতেই পরিপূর্ণ হতে। তবুও মুখে কেন এমন উল্টো আচরণ করছেন?
মৌ এবার নিরুপায় হয়ে কাঁদোকাঁদো কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল‚ “শাশুড়ি আম্মামমমমমম…!
মৌ’য়ের এই গগনবিদারী চিৎকারে উজান বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না বরং তার ঠোঁটের কোণে এক তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। সে এবার সোজা মৌ’য়ের ওষ্ঠাধরে গভীর ও নিবিড়ভাবে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। তারপর পরম আদুরে ও ব্যাকুল স্বরে আওড়াল‚
“একটু ভালোবাসা দেবেন আমায় মিসেস চৌধুরী? বেশি না‚ একদম অল্প দিলেই চলবে। এই উজান চৌধুরী যে আপনার সামনে এলে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না। আচ্ছা‚ আপনার মাঝে এমন কী নেশা আছে বলুন তো? কেন আপনি এমন করেন আমার সাথে? আপনাকে ছেড়ে আমি এক মুহূর্তও দূরে থাকতে পারছি না‚ বারবার আপনাতেই আসক্ত হচ্ছি। নাকি এসবই আপনার কোনো পাতা ফাঁদ? আমাকে এভাবে নিজের মায়ায় সিসিউর করে বউয়ের অধিকার আদায় করতে চাচ্ছেন?
মৌ লজ্জায় চোখ বুজে ফেলে। “আ আ আমি শাশুড়ি আম্মার কাছে যাব।
“আমি এত জরুরি কথা বলছি আর আপনি অন্য প্রসঙ্গে গিয়ে ডিস্টার্ব করছেন?
উজান তার নাকে নাক ঘষে। মৌ নিভু নিভু দৃষ্টিতে তাকিয়ে উজানে’র কান্ড দেখছে৷ উজান ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো এবং বলতে লাগলো। “আপনার শাশুড়ি এখন তার প্রাণপ্রিয় স্বামীকে টাইম দিচ্ছেন। আপনি কি সেখানে গিয়ে হাড় কিপটে হাড্ডি হতে চান? তার আগে বলুন‚ আমি অত করে বারণ করার পরেও কেন আপনি হসপিটালে গিয়ে ওই সাব্বিরকে জড়িয়ে ধরলেন? আপনি কি আমার কোনো কথাই না শোনার পণ করেছেন? আমি যা বলব‚ তার বিপরীতটা না করলে কি আপনার চলবেই না? আপনি কি জানেন‚ শিরিন কিন্তু আপনার মতো এতটা অবাধ্য ছিল না। ওকে আমি যা বলতাম ও সেটাই করত‚ ইভেন এখনো করে। আপনি ঠিক কী চান বলুন তো? আপনি কি চান আমি সবাইকে ছেড়ে…
”আমি বাধ্য মেয়ে হলে আপনি আমায় ভালোবাসবে প্রফেসর সাহেব?
উজানে’র কথা শেষ হওয়ার আগেই মৌ হঠাৎ চোখ মেলে সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করল। মৌ’য়ের এমন আকস্মিক প্রশ্নে উজান স্তব্ধ হয়ে গেল। মৌ একরাশ প্রত্যাশা আর ভালোবাসা নিয়ে আবারও বলে‚
“তাহলে কি আপনি আমাকে আপনার সত্যি সত্যি বউ বলে মেনে নেবেন? আরিয়ান ভাইয়া তার বউকে যতটা ভালোবাসা দেয়‚ আপনিও কি আমায় ততটা দেবেন? ট্রাস্ট মি আপনি যদি আমায় সত্যিই ভালোবাসেন‚ তাহলে আমি আপনার পৃথিবীর সবচেয়ে বাধ্য বউ হব। একটুও দুষ্টুমি করব না‚ ওই শিরিন ডাইনির থেকেও বেশি বাধ্য হব। বলুন না…তারপর আপনিও কি আমায় একইভাবে ভালোবাসবেন?
মৌ’য়ের চোখের সেই নিষ্পাপ চাউনি আর ঠোঁটের আকুল আকুতি দেখে উজান যেন এক নিমেষেই তার সব রাগ ভুলে পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তার বুকের ভেতরটা যেন এক নিমিষে ওলটপালট হয়ে গেল। মেয়েটাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে। “ভালোবাসি প্রিয়দর্শিনী! আপনি আমাকে যতটুকু ভালোবাসেন‚ উজান চৌধুরী তার থেকেও হাজার গুণ বেশি ভালোবাসে আপনাকে”
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২৬
কিন্তু উজান নিজের মনের সেই পরম আকাঙ্ক্ষাকে ভেতরেই চেপে রাখল। সে এক প্রকার জোর করেই মৌ’য়ের থেকে নিজের দূরত্ব বাড়াল। দেয়াল থেকে তার হাত দুটো ছেড়ে দিয়ে সে কিছুটা পিছিয়ে দাঁড়াল। মৌ’কে কষ্ট দিতে উজানে’র একটুও ইচ্ছে করে না‚ মেয়েটার চোখে জল দেখলে তার নিজের কলিজা ছিঁড়ে যায়। তবে আজ যদি সে নিজের মনের দুর্বলতা বা ভালোবাসার সত্যিটা মৌ’য়ের সামনে প্রকাশ করে দেয়‚ তবে আবেগের চোটে মেয়েটার ভবিষ্যৎ একবারে নষ্ট হয়ে যাবে। কয়েক মাস সামনেই তার ফাইনাল পরীক্ষা‚ আর এই সময়ে উজান চায় না মৌ পড়াশোনা বাদ দিয়ে এসব ভালোবাসার চক্করে মোহগ্রস্ত হয়ে থাকুক। অন্তত উজান চৌধুরী কখনোই নিজের ভালোবাসার মানুষের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দিতে চায় না।
