প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫
বন্যা সিকদার
চৌধুরী বাড়ির পেছনের পুকুর ধারের শানবাঁধানো সিঁড়িতে‚ বিশাল এক বকুল ফুল গাছের নিচে দুই হাঁটুতে মুখ গুঁজে গুটিশুটি মেরে বসে আছে মেহের। চারদিক থেকে ধেয়ে আসা বিকেলের স্নিগ্ধ শীতল বাতাস বারবার এসে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছে তার শরীর। পিঠের ওপর তার রেশমি কালো চুলগুলো সম্পূর্ণ মেলানো। বাতাসে সেই অবাধ্য চুলগুলো উড়ে এসে বারবার তার মুখমণ্ডল এলোমেলো করে দিচ্ছে। আজ ঈদের খুশির দিনে আকাশের বুকটা মেঘাচ্ছন্ন না হলেও‚ মেহেরে’র মনের আকাশটা আজ ভীষণ রকম মেঘে ঢাকা। চোখের কোণে জমে থাকা নোনা জল গুলো চিকচিক করে উঠছে। বুক চিরে আসা এক গভীর দীর্ঘশ্বাসের সাথে আপনা-আপনিই দু-ফোঁটা অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল তার।
ঠিক তখনই শুকনো পাতার ওপর কারো পায়ের আওয়াজ আর জোরালো উপস্থিতি টের পেয়ে ধড়ফড় করে উঠল মেহের। সে তড়িঘড়ি করে নিজের ওড়নার আঁচল দিয়ে চোখ দুটো মুছে নিয়ে চমকে পেছনে তাকাল। ইফাত কখন যে তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে‚সে টেরই পায়নি। মেহের কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইফাত মুখে এক চিলতে চঞ্চল হাসি নিয়ে হুট করে মেহেরে’র একদম গা ঘেঁষে পাশে বসে পড়ল। ইফাত’কে অতটা কাছাকাছি দেখে মেহেরে’র ভেতরটা ভয়ে কেঁপে উঠল। সে যখনই নিজেকে সামলে নিয়ে সিঁড়ি থেকে ঝটপট উঠে চলে যেতে চাইল‚ ঠিক তখনই ইফাত বিদ্যুৎ গতিতে মেহেরে’র কবজিটা নিজের শক্ত হাতের মুঠোয় আঁকড়ে ধরল। ইফাতে’র সেই অনাকাঙ্ক্ষিত শক্ত হাতের স্পর্শে মুহূর্তের মধ্যে মেহেরে’র পুরো শরীর একটা তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল।
পাঁচ বছর আগের এক ভয়ঙ্কর অতীত যেন এক পলকে তার চোখের সামনে ভেসে এলো। সে বিদ্যুৎ গতিতে মোচড় দিয়ে নিজেকে ইফাতে’র হাতের বাঁধন থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য ছটফট করে উঠল। কিন্তু ইফাতও এত সহজে ছাড়ার পাত্র নয়‚ সে মেহেরে’র ছটফটানি দেখে কবজির বাঁধনটা আরও কিছুটা শক্ত করে তাকে জোরপূর্বক নিজের পাশে বসিয়ে দিল। মেহেরে’র ফর্সা মুখটা এবার ভয়ে ও আতঙ্কে একদম ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে ইফাতে’র চোখের দিকে তাকানোর সাহসটুকু হারিয়ে কম্পিত ও মিনমিনে স্বরে আকুতি জানাল।
”ছ ছ ছ ছাড়ুন আমাকে।
ইফাত মেহেরে’র চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে এক ভ্রু কুঁচকে শুধাল। “আই জাস্ট ওয়ান্ট টু নো‚ বাট হোয়াই? কেন ছাড়ব হুম?
”ছাড়ুন প্লিজ কেউ এভাবে দেখলে খারাপ ভাববে।
মেহেরের গলায় স্পষ্ট কান্নার সুর।
“আই ডোন্ট কেয়ার। যে যাই বলুক তাতে ইফাত চৌধুরীর কিচ্ছু যায় আসে না। তার আগে বলো তুমি কোন সাহসে এই ইফাত চৌধুরীকে এভাবে এভয়েড করে চলছো হ্যাঁ? তুমি কি জানো‚ আমার সাথে প্রেম করার জন্য কত শত রূপবতী মেয়ে দিন-রাত পাগল হয়ে ঘুরে বেড়ায়?
মেহের অনবরত ইফাতে’র শক্ত হাতের মুঠো থেকে নিজের হাতটা মোচড় দিয়ে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিল। কিন্তু ইফাতে’র পুরুষালী শক্তির সামনে তার এই ছোট্ট চেষ্টা কিছুতেই সফল হচ্ছিল না। একপর্যায়ে নিজের সবটুকু চেষ্টা ব্যর্থ হতে দেখে মেহের সোজা ইফাতে’র চোখের দিকে তাকাল। তার চোখের সেই চঞ্চল চাউনি দেখে মেহেরে’র ঠোঁটের কোণে এক তীব্র তাচ্ছিল্য ও বিষাদের হাসি ফুটে উঠল। সে অত্যন্ত শীতল গলায় বলল‚
”আমি আপনার পেছনে ঘুরে বেড়ানো সেইসব সস্তা মেয়েদের কাতারে পড়ি না মিস্টার। আর আমি আপনাকে একটুও এভয়েড করছি না‚ শুধু আপনার থেকে একটু দূরত্ব বজায় রেখে চলছি মাত্র। অবশ্য এই দূরত্ব বজায় রেখে চলার বুদ্ধিটা যদি আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে আমার মাথায় আসত‚ তবে অন্তত আজ সমাজের কাছ থেকে এত জঘন্য ‘অপবাদ’ বা উপাধি আমাকে উপহার পেতে হতো না। আর না চোখের সামনে আমার কলিজার টুকরো মা-বাবাকে চিরকালের মতো হারাতে হতো।
মেহেরে’র কথার ভেতরের সেই আকাশসম গভীরতা আর তীব্র লুকানো কষ্টটা চঞ্চল প্রকৃতির ইফাত এক পলকে ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। সে নিজের জোড়া ভ্রু কুঁচকে মেহেরে’র মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে বিভ্রান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল।
“মানে? কী বলতে চাইছো তুমি? পাঁচ বছর আগে কী হয়েছিল?
”আপনি আমার কথার মানে বুঝবেন না‚ আর বোঝার দরকারও নেই। প্লিজ এবার অন্তত আমার হাতটা ছাড়ুন।
মেহেরে’র কণ্ঠস্বর এবার ক্ষোভে কাঁপতে লাগল। তবুও ইফাত ছাড়লো না। সে দৃঢ় গলায় বলল‚ “তাহলে পুরো ব্যাপারটা আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে যাও।
ইফাত নিজের জেদ ধরে রাখল।
মেহেরে’র ভেতরের জমানো ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। সে এক চরম রাগান্বিত ও কঠোর কণ্ঠে চিৎকার করে আওড়াল। ”আপনাকে বললাম না আমার হাতটা ছাড়ুন? এক কথা কি কানে যায় না আপনার?
কথাটা শেষ করেই মেহের নিজের সর্বশক্তি দিয়ে এক ঝামটা মেরে ইফাতে’র হাতের শক্ত বাঁধন থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিল। ইফাত হুট করে এমন ঝটকা পাওয়ায় হাতটা আলগা করে ফেলল। মেহের আর এক সেকেন্ডও সেই বকুল তলায় দাঁড়িয়ে রইল না। সে নিজের আঁচলটা হাত দিয়ে চেপে ধরে চোখের অশ্রু মুছতে মুছতে অত্যন্ত দ্রুত পায়ে পুকুর পাড় থেকে বাড়ির ভেতরের দিকে চলে গেল। ইফাত সেই সিঁড়িতে বসে রইল। সে মেহেরে’র ওভাবে হন্তদন্ত হয়ে চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে নিজের এক হাত দিয়ে মাথা চুলকালো। তারপর আপন মনেই এক চিলতে অদ্ভুত ও মুগ্ধতার হাসি হাসল। সে নিজের ফিসফিসানি কণ্ঠে আওড়াল‚
“আই অ্যাম রিয়েলি সরি‚ আমার ফুলকন্যা। তবে তোমায় তো আমি এত সহজে ছাড়ছি না। বিকজ‚ তোমার ওই রহস্যময়ী শান্ত চোখের মধ্যে এমন কিছু একটা লুকিয়ে আছে। যার জন্য এই ইফাত চৌধুরী নিজের ডজন ডজন সুন্দর সুন্দর গার্লফ্রেন্ড সাইডে রেখে শুধু তোমার ওই মলিন মুখের দিকেই সারাদিন একনাগাড়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। তোমাকে দেখলেই কেন জানি হৃদয়ে এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে‚ এক অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হয়।
উজান সোফায় বসে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে ল্যাপটপে ভার্সিটির কিছু জরুরি কাজ করছে। বাইরের কোনো কোলাহল যেন তার কানে প্রবেশ করতে না পারে‚ সেজন্য সে কানে ব্লুটুথ হেডফোন গুঁজে চড়া ভলিউমে গান ছেড়ে রেখেছে। ঠিক তখনই ঘরের দরজায় ছোটখাটো একটা ছায়া এসে উঁকি দিল। রুমের ভেতরে উজান’কে ওভাবে গম্ভীর মুখে একাকী কাজ করতে দেখেই মুহূর্তের মধ্যে মৌ’য়ের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুষ্টু ও বিজয়ী হাসি ফুটে উঠল। মৌ একহাতে একটা চকোলেট কোণ আইসক্রিম কামড়ে খেতে খেতে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে ধপাস করে একদম উজানে’র গা ঘেঁষে পাশে বসল। চেনা সুবাস আর পাশে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে উজান ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে চরম বিরক্তিকর দৃষ্টিতে মৌ’য়ের দিকে তাকাল। সে কোনো কথা না বাড়িয়ে সোফার অন্য প্রান্তে একটু সরে বসল। কিন্তু মৌ-ও দমবার পাত্র নয়‚ সে তড়িৎ গতিতে আবারও উজানে’র একেবারে পাশে গিয়ে লেপ্টে বসল। উজান যতবারই দূরত্ব বজায় রাখতে সোফার এপাশ-ওপাশ সরে যেতে চাইল‚ মৌ ততবারই ইঞ্চি ইঞ্চি করে এগিয়ে গিয়ে তার সাথে নিজের ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে লাগল।
অবশেষে উজান নিজের ধৈর্যের বাঁধ হারিয়ে কপাল কুঁচকে‚ কান থেকে হেডফোনটা টেনে নামিয়ে অত্যন্ত রাগান্বিত কণ্ঠে আওড়াল‚
“এই ফাজিল মেয়ে আমার গায়ের ওপর এভাবে এসে ঘেঁষাঘেঁষি করছ কেন হ্যাঁ? পাখা গজিয়েছে তোমার?
মৌ আইসক্রিমে একটা বড় কামড় দিয়ে মুখটা একটু বাঁকিয়ে বলল‚ “এই যে প্রফেসর সাহেব। আপনি কি সারাক্ষণ ওই বাজখাঁই গলায় চিৎকার করা ছাড়া আর কোনো শান্ত ভাষায় কথা বলতে পারেন না? তাছাড়া আপনি তো এখন আমার বিবাহিত বর হন‚ সো নিজের বরের একটু কাছাকাছি আমি যেতেই পারি। তাতেও আপনার প্রব্লেম?
উজান তর্জনী উঁচিয়ে কড়া সুরে বলল‚ “হ্যাঁ প্রব্লেম‚ ভীষণ প্রব্লেম। তোমার এই সস্তা আদিখ্যেতা আমার একদম পছন্দ নয়। এখন চুপচাপ দূরে গিয়ে বসো‚ আমাকে আমার কাজ করতে দাও।
উজান ভেবেছিল ধমক খেয়ে মেয়েটা এবার অন্তত দূরে গিয়ে বসবে। কিন্তু তার সেই ধারণাকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে মৌ মুহূর্তের মধ্যে সোফা থেকে ডানা মেলে সোজা উজানে’র কোলের ওপর গিয়ে আয়েশ করে বসে পড়ল। উজান একদম আহাম্মকের মতো চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। তার মগজ যেন এক সেকেন্ডের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। এই মেয়েটা আসলে কোন উপাদানে তৈরি? তাকে মুখে বলা হচ্ছে দূরে গিয়ে বসতে অথচ সে দূরত্ব কমানো তো দূর‚ একেবারে তার কোলের ওপর চড়ে বসে আছে!
“এই বেয়াদব মেয়ে এক্ষুনি নামো আমার কোল থেকে। এটা কি তোমার দোলনা মনে হয় যে যখন ইচ্ছে এসে দোল খাবে? একদম বেসরম‚ অসভ্য মেয়ে একটা।
উজানের মুখে ‘অসভ্য’ শব্দটা শোনা মত্রই মৌ’য়ের গাল দুটো রাগে রসগোল্লার মত উঠল। সে কোলের ওপর বসেই উজানে’র কলারটা টেনে ধরে খটখট করে উত্তর দিল।
”আপনি অসভ্য‚ আপনার চৌদ্দ গুষ্টি অসভ্য। হুহ এসেছে আমাকে অসভ্যতার সার্টিফিকেট দিতে। নিজের ক্যারেক্টারের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। ঘুমের ঘোরে আমাকে জড়িয়ে ধরে ‘শিরিন শিরিন’ বলে চুমু খায় তার হিসাব নেই। আর এখন আমার দিকে আঙুল তুলছে? বেশি ত্যাড়াবেঁড়ি করলে কিন্তু বলে দিচ্ছি শুধু কোল নয়‚ একদম আপনার ওই মাথার ওপর গিয়ে চড়ে বসে থাকব।
উজান নিজের কটমট ও রক্তচক্ষু দৃষ্টি নিয়ে মৌ’য়ের দিকে তাকাল। রাগে তার কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বেরোচ্ছে। সে নিজের দাঁতে দাঁত পিষে বিড়বিড় করে বলে ফেলল। “এখন তো শুধু ওই মাথার ওপর চড়ে বসাটাই তো বাকি রেখেছো‚ বেয়াদব মেয়ে।
উজানে’র ওই অসহায় রাগী মুখটা দেখে মৌ আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। সে খিলখিল করে হেসে উঠল। উজান তখনও নিজের গম্ভীর মার্কা রক্তচক্ষু দৃষ্টি দিয়ে মৌ’য়ের দিকে তাকিয়ে আছে। মৌ হঠাৎই নিজের হাতের অর্ধেক খাওয়া চকোলেট আইসক্রিমটা উজানে’র ঠোঁটের একদম সামনে এগিয়ে দিল এবং চোখে একরাশ মায়া ও মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে নরম সুরে আওড়াল‚
”আইসক্রিম খাবেন? আমার খুব ফেভারিট‚ অনেক টেস্ট কিন্তু.
উজান আইসক্রিমটা এক হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। “আমি এসব ফালতু অখাদ্য-কুখাদ্য খাবার খাই না।
“তা তো বলবেনই। আমার হাতের মিষ্টি আইসক্রিম আপনার কাছে তো ‘অখাদ্য’ মনে হবেই। আপনার তো ওই ডাইনি শিরিনে’র হাতের বিষ খেলেও অমৃত মনে হতো তাই না? শুধু এই মৌ’কে দেখলেই আপনার গায়ে জন্ডিস চড়ে বসে‚ আমাকে আপনার একটুও ভালো লাগে না।
“বুঝতেই যখন পারছো৷ যে তোমাকে আমার সহ্য হয় না‚ তাহলে কেন শুধু শুধু আমার লাইফে আঠার মতো লেগে আছো? চলে যাও না আমার জীবন থেকে।
”এহ্ উনি বললেন আর আমি অমনি পুটলা-পুটলি বেঁধে চলে গেলাম তাই না?
মৌ কোল থেকে এক ঝটকায় নেমে দাঁড়িয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর উজানে’র দিকে চোখ রাঙিয়ে বলল‚
“এই জন্মে তো আপনার পিছু ছাড়ছি না এমনকি মরে গেলেও আপনার হাড়‚ মাংস জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে একদম কয়লা বানিয়ে ছাড়ব।
উজান চোখ জোড়া কপালে তুলে এক রাশ বিরক্তি নিয়ে সোফা ছেড়ে এবার সোজা বিছানায় গিয়ে বসল। কিন্তু মৌ’য়ের আজ তার পিছু ছাড়ার কোনো নামই নেই! সে-ও বিড়ালের বাচ্চার মতো পিছু পিছু গিয়ে ঠিক উজানে’র গা ঘেঁষে বিছানার ওপর আয়েশ করে বসল। উজান মৌ’য়ের দিকে এক পলক আড়চোখে তাকিয়ে একটা তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর আর কোনো কথা না বাড়িয়ে আবারও নিজের ল্যাপটপের স্ক্রিনে তীব্র মনোযোগ দিল। ঠিক তখনই মৌ মুচকি হাসতে হাসতে ফিসফিস করলো।
”প্লিজ ছাড়ুন আমায়‚ শাশুড়ি আম্মা এসে পড়বে।
মৌ’য়ের মুখে এই কথাটি শোনা মাত্রই উজান বিষম খেল। সে কাশতে কাশতে ল্যাপটপটা একপাশে সরিয়ে নিজের চোখ দুটো বড় বড় ও রাঙিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠল‚
প্রফেসর উজান চৌধুরী ঈদ স্পেশাল
“এই অভদ্র মেয়ে তোমায় আমি ধরলাম কখন যে ছেড়ে দেবো?
মৌ লাজুক হাসি দিয়ে বলতে লাগে।
”না মানে আপনি একদিন এমন করবেন তো তাই আগে ভাগেই প্র্যাকটিস করছি।
“শয়তানের হাড্ডি বলে কী?
এই বলেই উজান…..
