Home প্রফেসর উজান চৌধুরী প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫৬

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫৬

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫৬
বন্যা সিকদার

বাসায় ফেরার পর থেকেই মৌ নিজেকে নিজের বেডরুমে গুটিয়ে নিয়েছে। সে ক্রমাগত উজানে’র চওড়া বুকে মুখ গুঁজে ডুকরে কেঁদে চলেছে। উজান তাকে নিজের বাহুডোরে আগলে রেখেও কোনো ভাবেই শান্ত করতে পারছে না। শান্ত করবেই বা কীভাবে‚ মেয়েটার ওপর দিয়ে কি আজ কম বড় মনের ঝড় বয়ে গেছে। ​ঘটনার আকস্মিকতায় আর মৌ’য়ের এমন পরিস্থিতি দেখে চৌধুরী বাড়ির সবাই উজান’কে বেশ ধমকাধমকি ও বকাবকি করেছেন। কেন সে আগে থেকেই কলেজে মৌ’য়ের পরিচয়ের বিষয়টা সবাইকে জানিয়ে রাখেনি। কিন্তু সেসব ধমক নিয়ে উজানে’র বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই‚ সে কেবল ভাবছে কীভাবে তার এই ছোট্ট ও নরম মনের পাখিটাকে আবার স্বাভাবিক করে তুলবে। ​উজান পরম মায়ায় মৌ’য়ের মুখের ওপর ছড়িয়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিল। তারপর একবারে নিচু সুরে ডেকে উঠল।

​“পিচ্চি বউজান…!!
​অপেক্ষার পর অপরপাশ থেকে কোনো উত্তর এলো না। কেবল হালকা ফুঁপিয়ে ওঠার শব্দ পাওয়া গেল।
​“পিচ্চি…একটুও কথা বলবে না তোমার এই বরটার সাথে? সরি জান‚ আই’ম রিয়েলি রিয়েলি সরি। প্লিজ‚ অন্তত একটাবার কথা বলো। তুমি এভাবে চুপচাপ নিঃশব্দে কান্না করলে যে আমার বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে।
​তবুও মৌ চুপ। তার কোনো সাড়াশব্দ নেই। ​উজান এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর জোড়া জুড়ি করল না। পরম ভালোবাসায় মৌ’য়ের ঘন নরম চুল গুলোর মাঝে আঙুল চালাতে লাগল। যেন নিজের উষ্ণ ছোঁয়ায় বউয়ের মনের ক্ষতটুকু জুড়িয়ে দিতে চায়। ​হঠাৎই মৌ নিজের চোখ দুটো তুলে উজানে’র চোখের দিকে তাকাল। সেই মায়াবী চোখে তখনও জলের ধারা চিকচিক করছে। উজান নিজের হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে খুব যত্নে সেই অশ্রু মুছে দিল। তারপর উজানে’র আর্দ্র কপালে কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিসিয়ে আওড়াল‚
​“জান খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে‚ তাই না?

​মৌ এবার আর আবেগ চেপে রাখতে না পেরে আবার ডুকরে কেঁদে উঠল‚ ​”হুম কষ্ট…ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আমার। ওরা খুব খারাপ প্রফেসর সাহেব‚ ওরা খুব খারাপ। ওরা আমাকে কত নোংরা আর বাজে বাজে কথা শুনিয়েছে। আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে ওদের সব বিষাক্ত কথা শুনেছি। একটুও টু শব্দ পর্যন্ত করিনি আমি।
​উজান ব্যথিত চোখে তাকিয়ে বলল‚ “কেন এত কষ্ট সহ্য করতে গেলে‚ বলো তো হুম? উজান চৌধুরী তোমার আইন সম্মত বর হয়‚ একথা সোজা মুখের ওপর বলে দিলেই তো সব মিটে যেত। তাহলে তো আর কেউ তোমাকে এমন কটু কথা শোনানোর সাহস পেত না।
​মৌ উজানে’র শার্ট দুই হাতে আঁকড়ে ধরে ভেজা গলায় জবাব দিল।
“কিন্তু আমি কীভাবে ওদের বলতাম‚ বলুন? আমি তো আপনাকে প্রমিজ করেছিলাম যে কলেজে আমাদের বিয়ের কথা কাউকে ঘুণাক্ষরেও বলব না। তবে আমি কীভাবে আপনার কথার অবাধ্য হয়ে ওদের সত্যিটা বলে দিতাম? আমি তো স্রেফ আমার প্রফেসর সাহেবকে দেওয়া প্রমিজটা রক্ষা করার চেষ্টা করছিলাম।

​কথাটা শোনামাত্র উজান অসহায় ও অপরাধীর দৃষ্টিতে মৌ’য়ের দিকে তাকাল। মেয়েটি স্রেফ তার দেওয়া ছোট্ট একটা কথা বা প্রমিজ রক্ষা করার জন্য পুরো কলেজের সামনে অত বড় অপমান আর মানসিক অত্যাচার নীরবে সহ্য করে গেল। ​উজান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে মৌ’য়ের নরম চিবুকটা আলতো করে ধরে নিজের দিকে ঘোরাল। পরম আকুলতায় তার গালে ও চিবুকে গভীর ভালোবাসার পরশ এঁকে দিল। তারপর নিজের মাথাটা মৌ’য়ের কাঁধে নুইয়ে দিয়ে রুদ্ধ কণ্ঠে আওড়াল।
​“সরি জান! সব আমারই ভুল ছিল। আমার অনেক আগেই সবাইকে বলে দেওয়া উচিত ছিল যে‚ তাসফিয়া মৌ চৌধুরী শুধুই এই উজান চৌধুরীর ওয়াইফি ট্রাস্ট মি জান‚ আমার আর কখনোই এমন ভুল হবে না প্রমিজ।

“আপনি কষ্ট পাচ্ছেন কেন‚ বলুন তো? ভুল তো আসলে আমারই ছিল। আমি নিজেই তো বোকার মতো হুটহাট আপনার কেবিনে চলে যেতাম।
​উজান মৌ’কে আরও গভীর আবেশে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে রেখেই নিচু গলায় আওড়ায়‚ “এটা একদমই কোনো ভুল নয়‚ পিচ্চি। তোমার বরের কাছে তুমি আসবে‚ এতে ভুলের কী আছে? এবার কান্না থামাও তো। তোমার চোখে এভাবে জল দেখলে আমার একটুও ভালো লাগে না।
​মৌ জলভরা ছলছল চোখে উজানে’র দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে‚ “তাহলে কী ভালো লাগে আপনার?
​“তোমাকে…!! তোমাকে ঢ়ে ভীষণ ভীষণ ভালো লাগে‚ তা তুমি ধারণাও করতে পারবে না। একজন নেশাগ্রস্ত লোক যেমন নেশার দ্রব্য ছাড়া বাঁচতে পারে না‚ ঠিক তেমনি উজান চৌধুরীও তোমাকে ছাড়া একদম অচল।

​এতক্ষণের জমাট বাঁধা বিষাদের পর এতক্ষণে মৌ’য়ের ঠোঁটের কোণে সামান্য এক চিলতে মিষ্টি হাসির রেখা খেলে গেল। কিন্তু সেই হাসির আমেজ শেষ হতে না হতেই উজান হুট করে বলে উঠল‚ “বিড়ালের বাচ্চা।
​মৌ সাথে সাথে ভ্রু কুঁচকে কটমট চোখে তাকাল। উজান’কে এভাবে বাঘিনী রূপে তাকাতে দেখেই উজানে’র মুহূর্তেই যেন হাওয়া বের হয়ে যাওয়া বেলুনের মতো চুপসে গেল। সে সুবোধ বালকের মতো নিভু নিভু দৃষ্টিতে তাকিয়ে মিনমিন করল।
“এমন হিংস্র চোখে তাকাও কেন হুম? আমি কি খুব মিথ্যা কিছু বললাম? তুমি তো সত্যিই আমার আদুরে বিড়ালের বাচ্চা‚ নয়তো কথায় কথায় এত অভিমান করো কেন? আচ্ছা শোনো না…আমার না একটা জিনিস ভীষণ চাই।
​”কী চাই? —মৌ একটু ভ্রু উঁচাল।
​“আমার মিসেসকে চাই! ঠিক ততটা কাছে চাই‚ যতটা কাছে পেলে আমাদের মাঝে সুতো পরিমাণ দূরত্বও আর অবশিষ্ট থাকবে না।

​কথাটা বলেই উজান আচমকা মৌ’য়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দিল। মৌ চমকে ওঠার আগেই উজান তার পুরো মুখমণ্ডল পরম ভালোবাসায় চুম্বনে ভরিয়ে তুলল। সে খানিকটা ঝুঁকে যখনই মৌ’য়ের ঠোঁটের দিকে এগোতে যাবে ঠিক তখনই ড্রয়ারের ওপর রাখা ফোনটা হঠাৎ কর্কশ শব্দে বেজে উঠল। ​বিরক্তিতে মুহূর্তেই উজানে’র চোখ-মুখ কুঁচকে গেল। রাত খুব বেশি হয়নি ঠিকই কিন্তু এমন এক ব্যক্তিগত ও নিবিড় মুহূর্তে এই অসংবেদনশীল হস্তক্ষেপ তার একদমই অপছন্দ। মৌ উজানে’র বিরক্ত চেহারা দেখে মুখ টিপে হেসে দিল। উজান অমনি চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই মৌ ভয়ে থমকে গেল। ​উজান অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিরক্তিকর দৃষ্টি নিয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিল। রিসিভ করতেই অপরপাশ থেকে ভেসে আসা খবরটা শুনে তার পুরো শরীর এক লহমায় শক্ত হয়ে গেল।

​“হোয়াটটটটটট? হাউ ইজ ইট ইভেন পসিবল?
​উজান’কে এভাবে আকস্মিক চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে মৌ ভীষণ ঘাবড়ে গেল। লোকটা ফোনে এমন কী শুনল‚ যার জন্য মুহূর্তের মধ্যে ফর্সা মুখের রঙ একদম ফ্যাকাশে হয়ে গেল? ​উজান তড়িঘড়ি মৌ’কে বিছানায় রেখে সরে যেতে চাইলে—মৌ ভয়ে দু-হাত দিয়ে বরের শার্ট শক্ত করে খামচে ধরল। উজান সাথে সাথে থমকে গেল। সে নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করে মৌ’য়ের ভেজা কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দ্রুত ফিসফিসিয়ে আওড়াল
​“জান‚ আমাকে এখনই একবার বের হতে হবে। তুমি একদম ঘুমাবে না‚ আমার জন্য একটু ওয়েট করো। আমি খুব শিগগিরই ফিরে আসছি।
​”কী হয়েছে? কোথায় যাচ্ছেন আপনি?
​“এমন কিছু হয়নি‚ তুমি রিল্যাক্স হও। আমি যত দ্রুত সম্ভব কাজ সেরে চলে আসব।
​”উঁহু। কিছু একটা তো বড়সড় হয়েছেই। আমাকে না বললে আমি আপনাকে এক পা-ও এগোতে দেব না।
মৌ একগুয়ে হয়ে ঝুলল। ​অবশেষে আর কোনো উপায় না পেয়ে উজান বরফশীতল কণ্ঠে সত্যিটা প্রকাশ করল।
“শিরিন‚ ললিতা আর জিহাদ এই তিনজনকে কেউ বা কারা জঘন্য ও নির্মমভাবে খুন করেছে। এবং তাদের রক্তাক্ত বডিগুলো পুলিশ স্টেশনের ঠিক উল্টোপাশের গলিতে ফেলে রেখে গেছে। সেই জন্যই তন্ময় খবর দিল। আমাকে এখনই স্পটে যেতে হবে।
​খবরটা বজ্রপাতের মতো এসে মৌ’য়ের কানে আছড়ে পড়ল। কথাটি শোনামাত্রই তার গায়ের প্রতিটা লোম শিউরে উঠল‚ হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল। সে রুদ্ধ ও কাঁপা গলায় বলে উঠল‚

“আ আ আ আমিও আপনার সাথে যাব।
​“জান‚ পাগলামো কোরো না প্লিজ। তুমি বাসায় সেফ থাকো‚ আমি কুইক ফিরছি।
​”না। আমি একা থাকতে পারব না। আমি আপনার সাথেই যাব।
​অবশেষে মৌ’য়ের বাঁধভাঙা জেদের কাছে হার মেনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে সাথে নিয়েই বাইকের চাবি তুলে নিল উজান। রাত তখনও খুব বেশি গভীর হয়নি। শহরের ফাঁকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে উজান ও মৌ তাদের কাঙ্ক্ষিত অকুস্থলে পৌঁছে গেল। ​ঘটনাস্থলে চারপাশ জুড়ে তখন স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর কান্নার রোল। শিরিন‚ ললিতা এবং জিহাদে’র পরিবারের প্রায় সবাই সেখানে উপস্থিত হয়ে অঝোরে কাঁদছে। মাত্র ঘণ্টা খানেক আগেও যাদের নাম ধরে ডাকা হতো‚ এখন তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে ‘লাশ’ হিসেবে।
​পৈশাচিক হিংস্রতায় প্রত্যেকের মুখমণ্ডল রীতিনীতি মতো থেঁতলে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে। এত বিভৎস ও রক্তারক্তি দৃশ্য চোখে পড়তেই মৌ ভয়ে বারবার শিউরে উঠে উজানে’র বাহু চেপে ধরল। ​উজান লাশ গুলোকে খুব কাছ থেকে পরখ করে দেখল। ক্ষতের ধরণ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে‚ খুনি চরম কোনো গোপন আক্রোশ ও ক্ষোভ ঝেড়েছে এদের ওপর। পুলিশ টিম ইতিমধ্যেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আলামত সংগ্রহের ইনভেস্টিগেশন শুরু করে দিয়েছে।

এর মাঝেই আবার পকেট থেকে উজানে’র ফোনটা সশব্দে বেজে উঠল। উজান ফোনের স্ক্রিনে ‘রোহান’ নামটা ভেসে উঠতে দেখে খানিকটা ঘাবড়ে গেল। রোহান হুট করে এই সময় তাকে কেন ফোন দিচ্ছে‚ তার কিছুই মাথায় ঢুকছে না! উজান ফোনটা রিসিভ না করে কেটে দিল। ​পরক্ষণেই মোবাইলে টুং করে একটা নোটিফিকেশন আওয়াজ হলো‚ রোহানে’র মেসেজ এসেছে। মেসেজের লেখাগুলো পড়ার সাথে সাথে উজানে’র কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেল। সে আর এক সেকেন্ডও সেখানে দেরি করল না। তড়িঘড়ি মৌ’য়ের হাত শক্ত করে আকড়ে ধরে বাইকের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। ​মৌ’য়ের চোখ দিয়ে তখন অঝোর ধারায় অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। মানুষ গুলো তার সাথে যতই নোংরা বা খারাপ আচরণ করুক না কেন‚ তাদের জীবন এভাবে বীভৎস হত্যাকাণ্ডে শেষ হয়ে যাক তা মৌ কখনোই মন থেকে চায়নি। উজান’কে চঞ্চল ভঙ্গিতে পা বাড়াতে দেখে মৌ থমকে গিয়ে ব্যাকুল প্রশ্ন ছুড়ে দিল।
​”প্রফেসর সাহেব‚ আমরা কোথায় যাচ্ছি ? সবাই তো ওখানে।
​উজান কোনো উত্তর না দিয়ে সংক্ষেপে বলল‚ “এখন কোনো কথা বলো না জান‚ চুপচাপ এসে বাইকে বসো।

​মৌ আর কোনো কথা বাড়াল না। বাধ্য মেয়ের মতো বাইকের পেছনে গিয়ে বসল। মিনিটে পাঁচেক বাইক চালিয়ে উজান শহরের একটা নিরিবিলি ক্যাফে-রেস্টুরেন্টের সামনে এসে পৌঁছাল। বাইক পার্ক করে দুজনেই নেমে সেই রেস্টুরেন্টের ভেতরের দিকে পা বাড়াল। মৌ তখনও এক অচেনা আতঙ্কে উজানে’র বাহু শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে। ​রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে তাদের নির্দিষ্ট বুকিং করা টেবিলের দিকে গিয়ে দেখল‚ রোহান তালুকদার সেখানে আগে থেকেই হাত দুটো ছড়িয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বসে আছে।
​রোহান’কে দেখেই মৌ ভীতিতে খানিকটা পেছনের দিকে সরে গেল। উজান বউয়ের এই তীব্র অস্বস্তি বুঝতে পেরে পরম যত্নে তাকে রোহানে’র বিপরীত পাশের চেয়ারে বসিয়ে দিল এবং নিজে পাশে বসল। ​মৌ’কে সামনে বসতে দেখেই রোহান তার ঠোঁটে এক বিষাদময় হাসি ফুটিয়ে বলে উঠল।
​“ফুল কেমন আছিস? অবশ্য তোর তো এখন সবসময় ভালো থাকারই কথা। ভালোবাসার অনল আর দহনে তো তুই পুড়ছিস না…পুড়ছি তো কেবল আমি নিজে।

​উজান এক ঝটকায় টেবিল চাপড়ে ধমকে উঠল‚ “জাস্ট শাট আপ রোহান। পিচ্চি এখন আমার অফিশিয়াল ওয়াইফি‚ নিজের লিমিট ক্রস করবি না একদম।
​“আরে ইয়ার। সামান্য কথায় এত রেগে যাচ্ছিস কেন? কুল ব্রো‚ জাস্ট কুল। টু মিনিট…
​তারপর বেয়ারাকে ইশারা করে ডেকে বলল‚ “ওয়েটার। টু কাপ কুল কফি অ্যান্ড ওয়ান কাপ চকলেট আইসক্রিম‚ প্লিজ।
​মৌ চরম বিরক্ত ও আতঙ্কিত হলো। সে উজানে’র শার্টের হাতা টেনে হিসহিসিয়ে আওড়াল‚ ” আমি এখুনি বাসায় যাব।
​রোহান মৌ’য়ের ছটফটানি দেখে তীক্ষ্ণ গলায় বলল‚ “ফুল আমাকে দেখে খুব ভয় পাচ্ছিস‚ নাকি মনে মনে তীব্র ঘৃণা করছিস? তুই যাই করিস না কেন‚ এসবে এখন আর এই রোহান তালুকদারের কিচ্ছু যায় আসে না। তা‚ বললি না তো…আজকের সারপ্রাইজটা তোদের কেমন লাগল?
​মৌ কপাল কুঁচকে অবাক চোখে তাকাল। রোহান কিসের সারপ্রাইজের কথা বলছে‚ সে কিছুই বুঝতে পারছে না। ​ঠিক তখনই উজান রাগে দাঁতে দাঁত চেপে একবারে নিচু বিষাক্ত স্বরে আওড়াল‚ “স্টুপিড রোহান। তিন-তিনটা প্রাণ খুন করে তুই আমাদের সারপ্রাইজ দিচ্ছিস? তুই কি জানিস কত বড় জঘন্য ক্রাইম করেছিস তুই? কেন করলি এমন জঘন্য কাজ?

​রোহান এবার অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। যেন উজান তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে মজার কোনো জোকস শুনিয়েছে। হাসির পর তার চোখ দুটো হঠাৎ বরফের মতো শীতল ও হিংস্র হয়ে উঠল। সে মৌ‘য়ের ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল‚

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫৫

​“শুধু তিনটে নয় উজান‚ প্রয়োজনে হাজারটা খুন করে ফেলব। যে বা যারা আমার ফুলের বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা এলিগেশন আনবে। এর জন্য এই রোহান তালুকদার এক ফোঁটাও অনুসূচনা বা আফসোস করবে না। আর ক্রাইম? তোর ক্রাইমের মাইরের বাপ। রাস্তাঘাটে শত শত অপরাধী ঘুরে বেড়াচ্ছে‚ তারা মারলে ক্রাইম হয় না…আর আমি আমার ফুলের জন্য প্রতিশোধ নিলেই যত দোষ?
​রোহানে’র মুখ থেকে এমন স্বীকারোক্তি শুনে মৌ’য়ের বুকের রক্ত যেন এক লহমায় হিম হয়ে গেল। সে ছানাবড়া চোখে তোতলাতে তোতলাতে বলল‚
“র র র রোহান ভাইয়া তুমি খুন……

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৫৭