Home মহামায়া মহামায়া পর্ব ৫৩

মহামায়া পর্ব ৫৩

মহামায়া পর্ব ৫৩
তুশকন্যা

হতাশায় নিমজ্জিত আনায়া। ধীরগতিতে শরীরটাকে ঠেলেঠুলে নিয়ে, কেনীথের কেবিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে। মেজাজ ভেতরে ভেতরে একসাথে একাধিক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। আনায়া কোনোকিছুই আর সহ্য করতে পারছে না। সে মাথাটা ঝুকিয়ে আলগোছে কেবিনের ভেতর ঢুকে পড়ল।
কেনীথ তখনও একাধারে ফাইলের পর ফাইল চেক করে যাচ্ছে। এতো ব্যস্ততার মাঝেও সে আনায়ার উপস্থিতি স্পষ্টত টের পেল। ফাইল হতে নজর না তুলেই, আনায়ার উদ্দেশ্যে বলল,
“কি হলো? চলে না গিয়েছিলি,তবে ফিরে এলি কেনো?”
কেনীথের কটাক্ষময় অভিব্যক্তিত্বে আনায়া আবারও ফুঁসে উঠল,
“আপনারা ঠকিয়েন আমায়! কিসের পেপার্সে সাইন করিয়েছেন? এখন ইমানি আপু বলছে,কোনো কারণ ছাড়া তিনমাসের আগে কাজ ছেড়ে দিলে ছয়মাসের জেল খাটতে হবে।”
কেনীথ এক চিলতে তির্যক হাসল। সাক্ষরের স্থানে কলমটা ঠেকিয়ে, মুখ তুলে আনায়ার দিকে তাকাল। অত্যন্ত শান্ত-শীতল ভাবমূর্তি নিয়ে বলল,
“তো, যা না! আমার চেহেরা দেখার চেয়ে ছয়মাস জেল খাটা ফার বেটার। তুই বলিস তো পুলিশ ডাকি?”
আনায়া থমথমে মেজাজ নিয়ে কেনীথের দিকে একনাগাড়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। পরমূূহূর্তেই চাপা রাগে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,

—“এটা আপনারা ঠিক করছেন না, আমি কিন্তু এর বদলা নেবোই, খুব ভালো করেই নেবো।”
কেনীথ তার কথাকে নূন্যতম গুরুত্ব দিল না। বরং মেয়েটার এতো রাগে শেষঅব্দি কাঁদো কাঁদো নাজেহাল হতে দেখে, ভারী শ্বাস ফেলল। নিরেট গম্ভীর্যের সাথে আদেশ দিল,
“বেশি কথা না বলে, এদিকে আয়।”
বলেই সে দৃষ্টিটা পুনরায় ফাইলে নিবদ্ধ করল। সেকেন্ড দশেক পেরিয়ে গেলেও আনায়ার কোনো হেলদোল হলো না। কেনীথ ফাইল থেকে নজর তুলে, ভ্রু-যুগল কুঁচকে আনায়ার দিকে তাকাল। রমণীর দৃঢ় নির্লিপ্ত ভাবমূর্তি দেখে ললাটে ভাজ ফেলে বলল,
—“কি হলো? আসতে বলেছি না? এসে চুপচাপ বস এখানে।”
আনায়া বাচ্চাদের ন্যায় রাগে মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আক্ষরিক অর্থে বিষয়টা বাচ্চাদের হাবভাব মনে হলেও, ভেতরে তার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। সে পারছে না কেবল—নিজের শান্ত দৃষ্টিতে সম্মূখে বসে থাকা আস্ত মানুষটাকেই ধূলিসাৎ করে দিতে।
কেনীথ কিছুটা বিরক্ত হলো এবার। নিরেট গম্ভীর্যের সাথে থমথমে গলায় ডাকল,

—“তারা!”
এইবার আনায়া মুখ খুলল। ত্যাছড়া স্বরে দুটো শব্দ ছুঁড়ে দিল কেনীথের পানে,
—“কি হয়েছে!”
কেনীথ তার গমগমে মেজাজকে গুরুত্ব না দিয়ে, আবারও আদেশ দিল,
—“এদিকে আয়!”
আনায়া সপাটে তার বিরোধিতা করে বলল,
—“না!”
কেনীথ দাঁতে দাঁত চেপে কিছুক্ষণ আনায়ার আপাদমস্তক দেখল। মেয়েটা চোখের সামনে শান্ত রূপে দাঁড়িয়ে থেকেও, কিভাবে অবাধ্য হচ্ছে—ভাবতেই তার মেজাজ বিগড়ে যায়। কেনীথ মনে মনে আওড়ায়,
“সত্যিই বেশি সাহস বেড়ে গিয়েছে তোর! কবে যে আমার হাতে নাগালে ফাঁসবি তুই!”
কেনীথ বিলম্ব না করে, রুক্ষ স্বরে সতর্ক করল,

—“ত্যারামি করিস না! আমি উঠলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে।”
আনায়া মুখ ভেঙচিয়ে ত্যাছড়া সুরে, জোর গলায় বলল,
“না আমি যাব না! আমি আপনার কোনো কথা শুনব না।”
কেনীথ দাঁতে দাঁত পিষে আবারও সতর্ক করল,
“আসতে বলেছি কিন্তু!”
অথচ আবারও আনায়া সেই একই প্রত্যুত্তর দিল,
—“বললাম তো, আমি আর আপনার কোনো কথা শুনবো না!”
কেনীথের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি স্থির হয়ে থাকে আনায়ার দিকে। আনায়াও একই জেদ নিয়ে একরোখা মনোভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। কেনীথ ভারী শ্বাস ফেলে কিছুটা নরম সুরে ডাকে,
—“তারা!”
আনায়া গুমরোমুখে একই ভাবমূর্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে। কেনীথের ধমক-আদেশ কোনোটাই যেন সে মানতে রাজি নয়। তবে এবার তার গম্ভীর্যের কিছুটা পরিবর্তন ঘটল। কেনীথ তাকে আবারও সেই একই নামের সম্মোধনে চাপা আক্রোশে ডাকল,

—“তারাহহহ্!”
মুহূর্তেই আনায়া কিছুটা দমে গেল। এতক্ষণ একপা নড়চড় না করলেও, এবার হঠাৎ বিষধর গোখরো শাপের ন্যায় ফুঁসতে ফুঁসতে সে কেনীথের দিকে এগিয়ে গেল। তথাপি অকস্মাৎ চাপা রাগ ঝাড়তে—চেয়ার হাত দিয়ে না ঠেলে, হঠাৎ চেয়ারের পায়ায় সজোরে একটা লাথি মেরে,চেয়ারটাকে সরাতে চাইল। কিন্তু এতেই ঘটত হিতে বিপরীত। বেখাপ্পা লাথির তোপে আচমকা পায়ে এতোটাই আঘাত অনুভূত হলো যে তার চোখমুখ নীল হয়ে যাবার দশা।
আনায়া ব্যাথার চোটে কোনো শব্দ না করলেও, তৎক্ষনাৎ চোখ-মুখ খিঁচে নিল। পরক্ষণেই আবার নিজেকে স্বাভাবিক দেখাতে চোখ মেলে তাকাল। চেয়ারটা টেনে ধপ করে বসে পড়ল কেনীথ মুখোমুখি হয়ে।
ওদিকে কেনীথ রমণীর মুখাবয়ব দেখেই বুঝে গিয়েছে, এইমূহূর্তে কি ঘটেছে। সে মাথাটা খানিক ঝুকিয়ে টেবিলের নিচ হতে আনায়ার পায়ের দিকে উঁকি দিল। তৎক্ষনাৎ আনায়া নড়েচড়ে বসে গলা ঝেড়ে বলল,
“কি দেখছেন, ব্যাথা পাইনি আমি।”
এখনো কন্ঠস্বরে সেই ঝাঁঝালো ভাব স্পষ্ট। কেনীথ মাথা তুলে সটান হয়ে বসল। নির্লিপ্ত ভাবমূর্তি নিয়ে বলল,

—“হ্যা, তা তো দেখতেই পাচ্ছি। অবশ্য তুই ব্যাথা পেলেও আমার কিচ্ছু যায় আসে না।”
নির্দয় পুরুষের কটাক্ষে আনায়া মুখ গুমরো করে আওড়াল,
—“সেটাই তো! আমার কোনো কিছুতেই তো আপনার কিছু যায়-আসে না।”
কেনীথ দুহাত একত্রে ভাজ করে টেবিলের উপর রাখল। সামান্য কিছুটা ঝুঁকে, স্থির দৃষ্টিতে আনায়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
—“সবই তো বুঝিস; এটা বুঝিস না যে তোর অবাধ্য হওয়াটা আমার একটুও পছন্দ না।”
আনায়া মুখ ভেঙচিয়ে থমথমে সুরে উত্তর দিল,
—“আপনার পছন্দ অপছন্দে আমার কি এসে যায়?”
কেনীথ ললাট উঁচিয়ে ভারীশ্বাস ফেলল। কন্ঠস্বর নমনীয় করে কিছুটা ধারালো সুরে শুধালো,
—“মুখে মুখে এতো তর্ক করিস কেন, হ্যাঁ?
আনায়া ভাবমূর্তি একই রেখে সপাটে জবাব দিল,
—“তর্ক করলে, করছি! আমার জীবন, আমি যা ইচ্ছে তাই করব—তাতে আপনার কি?”
কেনীথ দৃষ্টি সরু করে আনায়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। রমণীর খামখেয়ালী কথাবার্তা খুব একটা গুরুত্ব না দেওয়ার ভঙ্গি করে, সে ফাইলের পাতায় দৃষ্টি রাখল। একইসাথে চাপা কন্ঠে সতর্ক করল,
—“আমার তো কিছুই না! অতিরিক্ত করলে মেরে তক্তা বানাবো।”
তৎক্ষনাৎ আনায়া ক্ষেপে উঠল। সে ভ্রু-যুগল কুঁচকে কড়া দুটো কথা বলতে নিয়েও থেমে গেল। দাঁতে দাঁত পিষে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বিড়বিড় করল,

—“এ্যাহ্, বললেই হলো? মারতে তো পারে না, শুধু শুধু ভয় দেখায়। ভেবেছে আমি বাচ্চা,তাই ওনার কথায় ভয় পাবো।”
আনায়া অভিব্যক্তি কেনীথের কাছে স্পষ্টত শোনা গেল। সে এবারও আনায়ার কথাগুলোকে তেমন গুরুত্ব দিল না। বরং হুট করে পুনরায় নজরটা আনায়ার দিকে ফিরিয়ে বলল,
—“চকলেট খাবি?”
কেনীথের অভিব্যক্তিতে আনায়া কিছুটা অপ্রস্তুত হয়৷ ভ্রু কুঁচকে অস্ফুটে আওড়ায়,
—“হাহ্?”
কেনীথ কথা না বাড়িয়ে, আনায়ার সামনেই টেবিলের ডয়ার হতে দুটো ডার্ক চকলেটের বার বের করে আনায়ার সামনে রাখে। আনায়া একবার মাথা নুইয়ে চকলেটের দিকে চোখ পিটপিট করে দেখে, তো একবার মুখ তুলে কেনীথের দিকে তাকায়।
—“আপনি চকলেটও খান?”
আনায়ার প্রশ্নে কেনীথ অকপটে বলল,
“না!”

—“তাহলে এগুলো আপনার এখানে কি করে এলো?”
—“নিশ্চয় আমিই এনেছি!”
কেনীথের আশ্বস্ত কন্ঠস্বর; আনায়া ভ্রু উঁচিয়ে শুধালো,
“কার জন্য?”
কেনীথ নির্লিপ্তে আওড়াল,
“তোর জন্যই!”
শুরুতে অপ্রস্তুত হয়ে কিছুক্ষণ থমকে বসে রইল আনায়া। অবাক দৃষ্টিতে নির্লিপ্ত কেনীথের পানে চেয়ে রইল সে। কিছুক্ষণ পর ব্যাপারটা বোধগম্য হতেই আনায়া অতিমাত্রায় ভ্রুকুটি করে বলল,
“এইসব চকলেট দিয়ে কি বোঝাতে চাচ্ছেন? আপনি কি আমায় সত্যি সত্যি বাচ্চা ভাবেন, বলুন তো?
আনায়ার ঝাঁঝালো কণ্ঠে কেনীথ বিচলিত না হয়ে আবারও ফাইলের পাতায় মনোযোগ দিয়েছে। সে রমণীর অভিব্যক্তিত্বে মুখে কিছু না বললেও, মনের অজান্তে আনমনা হয়ে আওড়াল,
“হু, ভাবি তো। আমার অবাধ্য জানবাচ্ছা তুই!”
কেনীথের এই নিগূঢ় প্রচ্ছন্ন অনুভূতিটুকু তার গম্ভীর্যের আড়ালেই ঢাকা পড়ে রইল। এদিকে বারবার কেনীথ তাকে অবজ্ঞা করছে ভেবে, আনায়া ছ্যাত করে উঠল,

—“কি হলো, কিছু বলছেন না কেনো?”
রমণীর ক্ষিপ্ত গলায়,কেনীথ দৃষ্টি তুলে আনায়ার পানে তাকায়। আনায়া বারবার অবাক হতে থাকে এই ভেবে যে, লোকটা এমন অদ্ভুত কেনো!
ততক্ষণে কেনীথ জবাবের পরিবর্তে উল্টো প্রশ্ন করে বসল,
—“কি বলব?”
আনায়া’র মনের সন্দেহ আরো গাঢ় হয়। মানুষটা আসলেই অদ্ভুত। সে আড়ালে ভারী শ্বাস ফেলে,একই ঝাঁঝ নিয়ে বলে,
—“আমি কি বাচ্চা?”
—“উঁহু, চৌবাচ্চা!”
শান্ত মুখাবয়বে কেনীথের নির্লিপ্ত প্রত্যুত্তর! আনায়ার চোয়াল খুলে ঝুলে পড়ার দশা। আনায়া ভেবে পাচ্ছে না,যেখানে সে নিজের রাগই কমাতে পারছে না, সেখানে লোকটা বারবার উল্টোপাল্টা কথাবার্তা আর কাজকর্ম করে প্রতিবার তাকেই কেন বিভ্রান্ত করছে। এটা কি ইচ্ছেকৃত নাকি মানুষটাই এমন?
আনায়া থতমত খেয়ে চাপা স্বরে বলে,
—“কিহ্, কিসব বলছেন! আপনি কিন্তু আমার মাথা খারাপ করে দিচ্ছেন।”
কেনীথ এবারও যথার্থ কোনো প্রত্যুত্তর না করে, পাশ থেকে একগাদা আরো কিছু ফাইল আনায়ার দিকে ঠেলে দিয়ে বলল,

—“এই সবগুলো ফাইল চেক করে, তারপর যা করার কর।”
আবারও সেই অবজ্ঞা! রমণীর ভেতরে ফুঁসে ওঠা রাগ কোনোমতে থামিয়ে, ফাইলগুলো নিয়ে উঠে দাঁড়াতে নিল আনায়া। তৎক্ষনাৎ কেনীথ তাকে থামিয়ে বলল,
—“কোথায় যাচ্ছিস?”
আনায়া চোখ-মুখের বিরক্তির ছাপ ফেলে বলল,
—“কাজ দিচ্ছেন আবার যেতেও দিচ্ছেন না। আপনার উদ্দেশ্য কি, বলুন তো?”
কেনীথ কন্ঠস্বর নিরেট করে প্রত্যুত্তরে আদেশ ছুড়ল,
—“চুপচাপ এখানে বসে থেকে, আমার চোখের সামনের সবকাজ কমপ্লিট করবি!”
আনায়া দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে রইল। ভেতরটা যেন জ্বলে উঠেছে। সে ফাইলগুলো দুহাতে চেপে ধরে ধপ করে পুনরায় চেয়ারে বসে পড়ল। ফাইলগুলোর প্রতিটা পাতা উন্মাদ সর্পের ন্যায় শব্দ করে ওলটপালট করতে দেখে, কেনীথ ভ্রুযুগল কুঁচকে নিয়ে ধমক দিল,
“ফোস ফোস করা বন্ধ কর, স্টুপিড কোথাকার!”
আনায়া হাতদুটো থামিয়ে স্থির দৃষ্টিতে কেনীথকে দেখল। একইসাথে নির্লিপ্ততা ও চতুরতা—দুটোই এই লোকের মাঝে বিদ্যমান। আনায়া টেবিলের নিচে দু’হাত মুঠো করে, মনে মনে সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাইল,
—“মাবুদ,মাবুদ, তুমি আমায় ধৈর্য দাও খোদা!”

মিনিট দশেকের মাথায় কেবিনের আবহ অনেকটা শিথিল হয়েছে। দুজনের মাঝে আপাতত আর কোনো তর্কবিতর্ক চলছে না বরং তারা এখন নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। আনায়া কাজের মাঝে এতটাই ডুবেছে যে, কেনীথের দেওয়া চকলেটগুলোর দিকেও নজর দেবার সময় পায়নি সে।
এরিমধ্যে কেনীথ হঠাৎ গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন করল,
—“ভার্সিটি থেকে কোথায় গিয়েছিল?”
আনায়া কর্মভ্রষ্ট হয়ে মুখ তুলে তাকাল। কেনীথ তার দৃষ্টি ফাইলের উপরই নিবদ্ধ রেখেছে। আনায়া কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
—“কোথায় আর যাব! বাড়ি থেকেই তো এখানে এলাম আমি।”
—“মিথ্যে বলিস না!”, কেনীথের দৃঢ় প্রত্যুত্তর। আনায়া আরো কিছুটা অপ্রস্তুত হলো,
—“আজব তো! আমি ভার্সিটির পর কোথায় গিয়েছিলাম তা আপনি কি করে জানলেন? আপনি কি লুকিয়ে লুকিয়ে আমায় স্টক করেন নাকি?”
—“ওসব ছ্যাছড়ামো আমায় দিয়ে হয় না। মনে হলো তাই জিজ্ঞেস করলাম।”
পুরুষের অকপটে দেওয়া জবাবে, আনায়া মনে মনে কিঞ্চিৎ মুখ ভেংচাল। পরক্ষণেই কিছু একটা ভাবতে ভাবতে গম্ভীর্য মিশিয়ে আওড়াল,

—“ও আচ্ছা…”
—“কোথায় গিয়েছিলি?”
কেনীথ নাছোড়বান্দার ন্যায় গম্ভীরস্বরে একরোখা প্রশ্ন করে চলল। আনায়া এতে কিছুটা বিরক্তি দেখিয়ে বলল,
—“জাহান্নামে…”
মুহূর্তেই কেনীথ তার সব কাজ ভুলে, আনায়ার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। চোয়াল শক্ত করে ডাকল,
—“তারা!”
আনায়া অনিচ্ছায় মুখ ফুলিয়ে তৎক্ষনাৎ জবাব দিল,
—“পার্কে!”
—“কোনো বিশেষ কাজে?”
কেনীথের সকল মনোযোগ এবার আনায়ার দিকে। তার কাটকাট প্রশ্নে আনায়া খানিক বিরক্তি হলেও, এবার আর ত্যাড়ামো করল না। বরং প্রত্যুত্তরে বলল,

—“না এমনিতেই, ভালো লাগছিল না।”
কেনীথ কিছুক্ষণ চুপ রইল। হাতের নাগালে থাকা টেবিলের ওপর হতে ছোট্ট রুবিকস কিউবটা একহাতে নেড়েচেড়ে, আনমনা স্বরে রমণীর ক্রোধিত চোখে চোখ রেখে বলল,
—“রাগ হচ্ছে আমার ওপর?”
আনায়া মুখ ফুলিয়ে চোখদুটো সরু করে আওড়ায়,
—“ভীষণণণণ!”
কেনীথ গম্ভীর্যের মাঝেই এক চিলতে শুষ্ক হাসে,
—“আরো করবি অসভ্যতা?”
আনায়া যথার্থ জবাব না দিয়ে উল্টো গমগমে সুরে সাফাই গায়,
—“আপনার নিজেরও তো দোষ ছিল! আমি একা একাই নোটবুক আনতে গিয়েছিলাম, আপনি কেন আমার পেছনে পেছনে এলেন?”

—“আমি তোকে মুখে মুখে তর্ক করতে বলিনি।”
কেনীথ চাপা নিরেট স্বরে বলল। আনায়া তৎক্ষনাৎ প্রত্যুত্তর করল,
—“সত্যি বললে তো গায়ে লাগবেই!”
খানিকক্ষণ পরপর আনায়ার এমন ত্যাছড়া কথাবার্তা আর ভাবভঙ্গিতে কেনীথ খুব একটা বিচলিত না হয়ে, ভারী শ্বাস ফেলল। প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে প্রশ্ন করল,
—“দুপুরে খেয়েছিস, নাকি না খেয়েই চলে এসেছিস?”
আনায়া ফাইলে নজর দিয়ে কাটকাট গলায় জবাব দেয়,
—“খিদে নেই আমার!”
কেনীথ আর তাকে প্রশ্ন করে না। বরং সরাসরি ফোনটা হাতে নিয়ে, কাউকে কিছু একটা টেক্সট করে। কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ কেবিনের দরজার শব্দ হয়। আনায়া পেছনে ফিরে উঠতে নিলে, কেনীথ হাতের ইশারায় তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে,
“চুপচাপ নিজের কাজ কর!”

আনায়া মুখ গুমরো করে বসে থাকে। পেছনের দিকেও আর ফিরে তাকায় না। ততক্ষণে কেনীথ নিজেই উঠে গিয়ে, গ্লাসডোর খুলে স্টাফের হাত থেকে খাবারের ট্রে-টা নিয়ে নেয়। স্টাফ কৌতুহলবশত কেবিনের ভেতরের দিকে তাকাতেই হঠাৎ কোনো মেয়ের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়ে, বেশ অবাক হয়। ভিকের কেবিনে কোনো মেয়ে বসে কাজ করছে? পরক্ষণেই তার মনে পড়ল, ভিকের নতুন পিএ হিসেবে একজন মেয়ে এসেছে। কিন্তু তবুও যেন ব্যাপারটা সে হজম করতে পারল না।
কেনীথের দৃষ্টিতে কিছু ধরা পড়ার আগেই, স্টাফ তার নিজের কাজ সমাপ্ত করে দ্রুততর স্থান ত্যাগ করল।
অন্যদিকে কেনীথ ট্রে-টা নিয়ে টেবিলের ওপর রেখে, আনায়ার দিকে ঠেলে দিল। আনায়া কর্মভ্রষ্ট হয়ে চমকে পাশে ফিরতেই দেখল, দুইমগ ধোঁয়া ওঠা কালচে তরলের সাথে ক্রোসেন্ট ও নানা রঙের ম্যাকারণ কুকিজে সজ্জিত ট্রে-টার পাশে নির্লিপ্ত দাঁড়িয়ে আছে বৃহৎ আকৃতির গম্ভীর মানবটা।
মুহূর্তেই রমণী কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে, জেদ দেখিয়ে বলল,
“এসব কি? এসব আমি খাব না!”

কেনীথ নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে আনায়াকে কিছুক্ষণ দেখল। নিজের এতো কাছ থেকে লোকটার তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সম্মুখীন হতেই আনায়া ভেতরে ভেতরে খানিক বিভ্রান্ত হলো। ততক্ষণে কেনীথ তার সম্মূখে টেবিলের উপর একটা হাত রেখে, খানিকটা তার দিকে ঝুঁকে পড়ল। আনায়া সাথে সাথে মাথাটা পিছিয়ে শুষ্ক ঢোক গিলল। কেনীথ তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই, রমণীর মুখের সম্মূখে মুখ নামিয়ে শান্ত-শীতল কন্ঠে সতর্ক করে বলল,
—“আরেকবার শুধু সেন্সলেস হ! গাছের সাথে উল্টো করে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখব।”
এহেন কথা শোনামাত্রই রমণীর চোখদুটো খানিক বিস্ফোরিত হলো। সে মুখ ফুটে কিছু বলার চেষ্টা করেও, দুর্ধর্ষ মানবের সম্মূখে দমে গেল। তার অবস্থা অবলোকন করতেই, কেনীথ হুট করে তার থেকে সরে গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। টেবিল ঘুরে নিজের চেয়ারের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
—“এভাবে ইডিয়টের মতো না তাকিয়ে থেকে, চুপচাপ সব খাবার শেষ কর!”
↑↓
বাধ্য মেয়ের মতো চুপচাপ খাবারগুলোর সম্মূখে বসে আছে আনায়া। তবে কোনো খাবারই সে মুখে তুলছে না। ওদিকে কেনীথ তার ব্লাককফি নিয়ে নিজের মতো পান করছে। হঠাৎ তার দৃৃষ্টি কাজ হতে আনায়ার দিকে নিবদ্ধ হতেই, সে রুক্ষ স্বরে বলল,
“খাচ্ছিস না কেনো?”
আনায়া কিছুটা মিনমিন করেও, ত্যাছড়া সুরে বলল,
“বুড়ো মানুষের মতো এসব ব্লাককফি খাই না আমি, তিতা লাগে।”
কেনীথ তার ললাটে ভাজ ফেলে ভ্রু-যুগল কুঁচকে বলল,
“তোর চোখ নেই? ওটা ব্ল্যাককফি না, হট চকলেট। এখন না খেয়ে বসে আছিস; পরে ঠান্ডা হলে খাবি?”
কিঞ্চিৎ ধমক খেয়ে আনায়া হকচকিয়ে গেল। লোকটার কথামতো মগটার ভেতরের কালচে বাদামী তরল দেখে এবং সুঘ্রাণে বুঝে নিল—কেনীথ ঠিকই বলছে। তবুও কি যেন একটা দ্বিধায় সে বারবার ইতস্তত করতে লাগল।
কেনীথ বিষয়টা ভালোভাবেই খেয়াল করল। সে ভ্রু-যুগল আরো খানিকটা কুঁচকে বলল,

“তোর সমস্যা কি বলতো?”
আনায়া শুষ্ক ঢোক গিলে, নিজেকে তটস্থ করল। তড়িঘড়ি করে ক্রোসেন্টে কামড় বসিয়ে বলল,
“আমার আবার কিসের সমস্যা? এইতো খাচ্ছি আমি!”
কেনীথ আর কিছু বলল না৷ তবে সে নিজের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিটাও আনায়া হতে সরাল না। আনায়া এতে বারবার কিছুটা অপ্রস্তুত হতে লাগল। একটা পর্যায়ে সে খেতে খেতে কন্ঠস্বর স্বাভাবিক রেখে শুধালো,
—“এগুলোর বিল পেমেন্ট করতে হবে না?”
রমণীর মুখে অকস্মাৎ এহেন কথা শুনেও, কেনীথ একটুও অবাক হলো না। বরং তৎক্ষনাৎ নিরেট স্বরে প্রত্যুত্তর করল,
—“হ্যা, করতে হবে!”
আনায়া আরেকটু স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে শুধালো,
—“কত?”
কেনীথ ভ্রু উঁচিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল,
—“কি কত?”
—“না মানে, কোথায় কিভাবে কত পেমেন্ট করব?”
আনায়ার ইতস্তত গলার স্বর; কেনীথ দাঁতে দাঁত পিষে সপাটে জবাব দিল,
“কানের নিচে দশবার!”
প্রত্যুত্তর শুনে আনায়া থতমত খেয়ে গেল,

—“মানে?”
—“এটার বিল পেমেন্ট হিসেবে তোর কানের নিচে কষিয়ে দশটা থাপ্পড় দিতে চাই, রাজি?”
কেনীথ চাপা আক্রোশে চোয়াল নাড়িয়ে নাড়িয়ে কথাটা আওড়ায়। কফির কাপে চুমুক দিয়ে আনায়ার শূন্য-ফ্যাকাসে মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। আনায়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আবারও বলল,
—“গাড়ির সিটে টাকা রেখে এসেছিলি কেনো? সবকিছুকে ফাইজলামি পেয়েছিস?”
আবারও এক চাপা ধমক। আনায়া পরিস্থিতি বিগড়নোর আগেই কেনীথকে শান্তসুরে বোঝানোর প্রয়াসে বলে,
—“রাগ করেন কেন, আমি কোনো হিসেব-নিকেশ বাকি রাখতে চাইনি, তাই…”
কেনীথ তার কথা কেড়ে নিয়ে নিরেট গম্ভীর্যের সাথে বলল,
—“আমিও কোনো হিসেব-নিকেশ বাকি রাখতে চাচ্ছি না। আপনাকে ইচ্ছেমতো উত্তম-মধ্যম দিতে পারলে আমার সব লেনাদেনা ফুরাতো। তাই যদি বলে দিতেন কোথায় কিভাবে শুরু করব, তাহলে বেশ সুবিধা হয়।”
মানুষটার গুরুগম্ভীর ভাবমূর্তিতেই আনায়া বুঝে গিয়েছে পরিস্থিতি বেগতিক। সে দ্রুততর খাবার গুলো খেতে খেতে সবকিছু স্বাভাবিক দেখাতে বলল,
—“হয়েছে, হয়েছে, আমি আর কখনো ওরকম করবো না।”
বলেই সে যেন সম্মুখে বসে থাকা রুক্ষ মানুষটার একান্তই বাধ্য-অনুগত রমণী রূপে সম্পূর্ণ মনোযোগ খাওয়ায় নিবদ্ধ করল। অন্যদিকে কেনীথ তার ছলাকলা বুঝতে পেরেও, আর প্রসঙ্গটাকে প্যাচালো না। কফিতে চুমুক দিয়ে রমণীর খামখেয়ালি অবয়বে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, শেষ বারের মতো বলল,
—“মনে থাকে যেন!”

রাত এগারোটা পয়তাল্লিশ! মস্তবড় কেবিন জুড়ে শুনশান এক নীরাবতা। চারপাশের লাইটগুলোও অনেকেটা স্তিমিত রূপ ধারণ করেছে। হলদেটে ও লালচে-কালচে আলোয় চারপাশ ছেয়ে আছে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে আর কর্মব্যস্ত কেবিন হিসেবে চিহ্নিত করা মুশকিল। কেননা ভেতরে বর্তমান অনুভূতির আবহ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত কিছুই!
​টেবিলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ফাইলপত্রের ওপর এক হাত রেখে,তাতে আলগোছে মাথা ঠেকিয়ে অঘোরে ঘুমাচ্ছে আনায়া। ফাইল দেখার ফাঁকে কখন যে ক্লান্তিতে তার দুচোখ জড়িয়ে এসেছে, তা সে নিজেও টের পায়নি। ঠিক তার মুখোমুখি বসে আছে কেনীথ। দুই-হাত টেবিলের ওপর একত্রে ভাজ করে রেখে, দু-বাহুর মাঝে চোয়াল ঠেকিয়ে কিছুটা আড়াআড়ি ভঙ্গিতে বসে—ঘুমন্ত রমণীর দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সে।
আনায়ার শিথিল হয়ে আসা একহাতে আলগোছে পড়ে আছে একটি আধখাওয়া চকলেট বার। তার গোলাপী ওষ্ঠাধরে লেগে আছে সেই চকলেটের মিষ্টি প্রলেপ; বিশেষ করে বাম কোণে গলে যাওয়া চকলেটের দাগটি যেন এক অনবদ্য সৌন্দর্যের রূপে কেনীথের দৃষ্টিতে ধরা দিয়েছে।
​প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে আনায়ার ঘুমন্ত মুখের পানে নির্নিমেষ তাকিয়ে আছে কেনীথ। কখনো গম্ভীর সেই পুরুষের ওষ্ঠকোণে অচেনাই ভেসে উঠছে ক্ষণস্থায়ী মুচকি হাসি; পরক্ষণেই আবার তা ঢাকা পড়ছে চিরচেনা গাম্ভীর্যের আড়ালে।
​রমণীর অক্ষিপল্লব থেকে শুরু করে ওষ্ঠের সূক্ষ্ম ভাঁজ—সবটাই যেন ব্যাকুল তৃষ্ণায় মেপে নিচ্ছে পুরুষের দুচোখ। একসময় ঘুমন্ত আনায়াকে এভাবে আড়ালে দেখার মোহ তাকে আফিমের চেয়েও তীব্র এক নেশায় আচ্ছন্ন করে ফেলল। আবেশ জড়ানো ভগ্ন কণ্ঠে, মৃদু স্বরে কেনীথ হঠাৎ পদ্যের পঙক্তির ন্যায় গুনগুন করে ওষ্ঠ নাড়িয়ে উঠল;

​⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀’নেশা নেশা একি নেশা চোখে,
⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀ভুলে থাকতে পারিনা তোকে।
⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀অচেনা স্বপ্নগুলো তোকে ছুঁতে ⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀চায়—
⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀নেশা নেশা একি নেশা চোখে,
⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀ভুলে থাকতে পারিনা তোকে।
⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀বেগানা ইচ্ছেগুলো তোকে কাছে ⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀চায়…!’

​অত্যন্ত ক্ষীণ সেই কন্ঠস্বর; জোড়ালো কোনো সুর না রইলেও, বিচ্ছিন্ন প্রতিটি শব্দই যেন পুরুষের অন্তরাল হতে গাইছে। কন্ঠের সুরের আবহেই কেনীথ ধীরগতিতে হাত বাড়াল আনায়ার দিকে। নিজ ওষ্ঠদ্বয় ভিজিয়ে তার রুক্ষ বৃদ্ধাঙ্গুলি ছুঁয়ে নিল রমণীর ঠোঁটের কোণ। আনায়া গভীর ঘুমে এতোটাই আচ্ছন্ন যে, কুক্ষণেও সেই স্পর্শ টের পেল না। বরং কেনীথ ততক্ষণে রমণীর ঠোঁটের কোণায় লেগে থাকা চকলেটের অবশিষ্টাংশ বৃদ্ধাঙ্গুলির ডগায় তুলে নিয়ে, সোজা নিজে মুখে পুরে দিল। হ্যাঁ, বাহ্যিক দৃষ্টিতে এমন দৃশ্য কিছুটা অপ্রত্যাশিত মনে হলেও, সর্বব্যাপী পাষণ্ড রূপে বিচরণ করা ভিভিয়ান আজ ঠিক এমনটাই করল! কাঠিন্যের আবরণে আবৃত ভিকে’র ভেতরের মানুষ সত্তাটি আজ যেন নিঃসংকোচে নিজেকে সঁপে দিয়েছে এই মুহূর্তে।
ধীরস্থিরে আঙ্গুল চেটেপুটে খেতে খেতে, স্বগত আবেশেই তার ওষ্ঠদ্বয় ফের বিড়বিড় করে উঠল,
​⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀ ‘জানিনা কিভাবে,
⠀ ⠀⠀⠀⠀প্রেমেরই আবেশে স্বপ্ন যে ঘিরে আসে, ⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀দিওয়ানা দিল যায় রে ভেসে,
⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀দিওয়ানা তোকে ভালোবেসে…!’

মহামায়া পর্ব ৫২

​গানের রেশ কাটতেই নিজের এই খামখেয়ালিপনায়, নিজেই এক আত্মউপহাসের হাসি হাসল কেনীথ। আবারও নিগূর অনুরাগে হাত বাড়াল সে। আনায়ার কপালে ও গালে ছড়িয়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলো আঙুলের আলতো ছোঁয়ায় কানের পিঠে গুঁজে দিল। অতঃপর ডান হাতের উল্টো পিঠের কোমল স্পর্শে ছুঁয়ে দিল রমণীর মিষ্ট আপেলের ন্যায় ফোলা-ফোলা কোমল গাল।
​আনায়ার ওষ্ঠকোণে বৃদ্ধাঙ্গুলির মৃদু চাপ স্থির রেখে, এক গাল মুচকি হাসি হেসে, পুরুষ তার মৃদু হাস্কিস্বরে আওড়াল,
⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀⠀​”পাগলী!”

মহামায়া পর্ব ৫৪