প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ১৫
রাত্রি মনি
“এই জানো*য়ারের বাচ্চা এই!! এই বা*স্টার্ড!! তোর সাহস কি করে হলো?”
এজে ঝড়ের মতো চিৎকার করে ইয়াশের কলার ধরে দেয়ালে ঠেসে গলা টিপে ধরে। তার সাদা আর আকাশি মেশেলে চোখ দুটো ধারন করেছে রক্তবর্ণ, যেন জলন্ত টগবগে দাবানল। নিঃশ্বাসে বিষ, সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে। সারা শরীর ঘামে ভেজা, মুখে আগুনের থাবা।প্রচন্ড রাগে কাঁপছে সে।নিচু গলায় গর্জে উঠেছে।
“I fu**cking told you not to touch me! Not a single soul was allowed! Who the fu**ck gave you the fu**cking right, huh?”
ইয়াশ ছটফট করছে, তার মুখে রক্ত জমে যাচ্ছে, চোখ উল্টে যাচ্ছে একটু একটু করে। শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসছে, সে হাঁপাচ্ছে, দুই হাতে এজের হাত ছাড়াতে চেষ্টা করছে
কিন্তু এজের শক্তি আজ অমানুষিক।
জ্ঞান ফেরার পর ধীরে ধীরে চোখ মেলে এজে। শরীরটা থকথকে। মাথা প্রচন্ড যন্ত্রনায় ঝিমঝিম করছে।ঘরে হালকা আলো, পাশের টেবিলে স্যালাইন, বিছানার পাশে একটা সিরিজ্ঞ, ইনফিউশন সেট এবং বুকের ওপরে ব্যান্ডেজ। সে ধীরে হাত তুলে দেখে—ব্যান্ডেজ!
মুহূর্তেই এজের চোখের মণি রক্তবর্ণ ধারণ করল। এক পৈশাশিক ক্রোধে তার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেল। বিছানা থেকে উঠে বসে এক বীভৎস গর্জনে ঘর কাঁপিয়ে দিল সে ,
“Fu*ck!! WHO TOUCHED ME! WHO THE FU**CK DID THIS?”
তার মাথায় রক্ত উঠে গেছে, যেন এক নিঃশ্বাসে সব ধ্বংস করে দেবে। সে এক ঝটকায় টেনে ছিঁড়ে ফেলে বুকের ব্যান্ডেজ। মুহূর্তেই তাজা হয়ে ওঠে রক্ত। বুকের পাশ বেয়ে হড়হড় করে গড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এজে যেন পাথরের মানুষ, কোনো ব্যথাই ওকে স্পর্শ করছে না। সে বিছানা থেকে নেমে উন্মত্ত পশুর মতো সব লণ্ডভণ্ড করতে শুরু করল। হাতের কাছে যা পাচ্ছে—দামি মদের বোতল, কাঁচের শিশি, ড্রেসিং টেবিলের সরঞ্জাম—সব সজোরে ছুড়ে মারছে দেয়ালের গায়ে। জানালার দামী পর্দাগুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলল সে। ঘরটা এখন কোনো বেডরুম নয়, এক রণক্ষেত্র!
কাঁচ ভাঙ্গার তীব্র শব্দ পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলো–ইয়াশ, মাত্তেও, ড্রেভেন। ঘরের এমন অবস্থা দেখে তিন জনের চোখ ছানাবড়া।তারা এতক্ষণ যাবদ এ ঘরেই ছিল। সবে মাত্রই ঘর থেকে বেরিয়েছিল ড্রেভেনকে বিদায় দিতে। কিন্তু যেতে না যেতেই যমরাজের তান্ডব শুরু। এজের পাগলামি যেন মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
ভয়ে ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে কাচুমাচু করছে মাত্তেও। এই মুহূর্তে এজের কাছে ঘেঁষার সাহস নেই তার।দাঁত দিয়ে সমানে কামড়ে যাচ্ছে হাতের নখগুলো। তার পুরো শরীরটা থরথর করে কাপছে। আজকে নিশ্চয়ই কারো একটা লাশ বের হবে এই ঘর থেকে ।আর সেটা হবে ট্রেজানের ফেভারিট ফুড।
পুরো ঘরটা লণ্ডভণ্ড, রক্ত আর কাঁচ ছড়িয়ে ছিটিয়ে। AJ নিজের ছায়ার মতো পাগলামিতে ডুবে আছে।
“This pain… this fu**cking pain is MINE! It’s hers… her gift… her poison… and I fu**cking want it!
এজের এমন পাগলামী দেখে কাঁপা বুক নিয়ে এগিয়ে আসে ইয়াশ,
“Bro শান্ত হ plz কেন এমন পাগলামী করছিস? Bleeding হচ্ছে তো!
এজে ঘুরে তাকাতেই ইয়াশের হাড় কেঁপে উঠল। সেই চোখে যেন শত বছরের পুরনো কোনো আগ্নেয়গিরি জেগে উঠেছে। এজে গর্জে উঠল,
“Fu**CK who did this. Who the hell touch my scar.”
হঠাৎ সে তড়িৎবেগে ঘুরে মাত্তেওর দিকে তাকাল। মাত্তেওর আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার দশা। এজে হুংকার দিল,
“মাত্তেও!!! হারামী শয়তান! Where the fu**ck were you!? I fu**cking told you not to touch me! Didn’t I?! YOU PIECE OF SHIT!
প্রচন্ড ভয়ে ঘামছে মাত্তেও। গলা শুকিয়ে কাঠ। তবুও কাঁপা গলায় কোনমতে নিচু স্বরে করে বলে,
“ভাই আপনি সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলেন। আমরা ভয় পেয়েছিলাম যদি আপনার কিছু হয়ে যায়? ড্রাগ আর ক্ষত আপনার শরীরে………”
“SHUT THE FU**CK UP!!!!!!”
মাত্তেয়োর কন্ঠ রোধ হয়ে গেছে ভয়ে কিছু বলতে পারছেনা।ভয়ে বারবার শুষ্ক ঢোক গিলছে।
“তোরা কী ভেবেছিস? আমি একটু দুর্বল হয়েছিলাম বলে আমি জ্ঞান হারিয়েছি? আমি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি?”
সে হাসে, বিকৃতভাবে। চোখ পাগলের মতো উজ্জ্বল।
“আরে এইসব সামান্য ড্রাগ আমার কিছুই করতে পারে না! These f**king drugs are nothing but jokes!** এর থেকেও বড় নেশা আমার রক্তে মিশে গেছে। That poison… ”
তার চোখ টকটকে লাল। গলায় ভেসে ওঠে চেনা একটা তৃষ্ণা।
“She touched me… and that one touch made every fu**cking drug in this world meaningless.”
তারপর সে আরও জোরে চিৎকার করে, ভাঙচুর করে সবকিছু। আয়নার কাঁচে হাত ছুঁড়ে রক্তাক্ত হয় নিজের মুঠো।
“আজকে আমিও দেখবো , তোর কলিজাটা ঠিক কতটা বড় হয়ে গেছে যে আমার বারন করা সত্ত্বেও তুই দুঃসাহস দেখিয়েছিস।”
ইয়াশ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাত্তেওকে বাঁচাতে মাঝখানে ঢুকল।
“কেন এভাবে নিজেকে রক্তাক্ত করছিস?কেন কষ্ট দিচ্ছিস নিজেকে? তুই কি নিজেকে ধ্বংস করে ফেলতে চাস? প্লিজ একটু শান্ত হ মাত্তেয়োর কোনো দোষ নেই। আমিই ওকে বলেছিলাম ড্রেভেনকে কল করতে। তুই….”
খুকখুক করে কাঁশতে শুরু করে ইয়াশ। কথাটা শেষ করতে পারল না সে। এজে চোখের পলকে বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ইয়াশের গলা চিপে ধরল দেয়ালের সাথে। ইয়াশের পা শূন্যে ঝুলে উঠল।
“তুই আমার অস্তিত্বে হাত দিয়েছিস,you bloody maroon?! I’ll fu**cking kill you!
ইয়াশ নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। দু’হাত ছটফট করে। তার মুখে রক্ত জমে যাচ্ছে, চোখ উল্টে যাচ্ছে। ঠিক তখনই পিছন থেকে মাত্তেও চিৎকার করে ওঠে,
ভাই ! Please! He didn’t mean. We were just thinking about you.”
“Shut your f***ing mouth!”
এজে পৈশাচিক ভাবে গর্জে উঠল,
“Don’t act smart, Matteo!আজ তোদের কাউকেই ছাড়বো না আমি!”
মাত্তেয়োর কলিজা লাফাচ্ছে।সে কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দিবে বুঝতে পারছে না। আইডিয়া!…
সে এক দৌড়ে ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। নইলে আজকে মরতে হবে নির্ঘাত!
ওদিকে দরজার এক কোণে দাঁড়িয়ে ডাক্তার ড্রেভেনের অবস্থা শোচনীয়। ভয়ে তার মুখ শুকিয়ে চুন, হাত-পা থরথর করে কাঁপছে। এক হাত দিয়ে পেট চেপে ধরে রেখেছে সে—আতঙ্কে যেন অন্তরাত্মা খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড়। ড্রেভেন যদি জানত, সামান্য একটু ব্যান্ডেজ করার অপরাধে তাকে এমন তাণ্ডব দেখতে হবে, তবে সেঁধে সেঁধে এই যমের দুয়ারে কড়া নাড়তে আসত না। কাঁপা হাতে পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে সে ক্ষীণ স্বরে বলল,
“Mr. Chowdhury….Please, calm down. You’re bleeding again… let me help.”
AJ তার দিকে তাকায় এমনভাবে… যেন তার চোখ দিয়েই আগুন ছিটকে বের হবে। গলার রগ ফুলিয়ে হিসহিস করে বলল,
“You touch me again and I’ll drag your guts out, you fung coward!”*
ড্রেভেন থতমত খেয়ে পিছিয়ে যায়। এজে এক হাতে একটা মেটাল ট্রে ছুড়ে মারে তার পায়ের কাছে। লাফিয়ে ওঠে ড্রেভেন। নিজের কপাল নিজেই থাপড়াতে মন চাইছে।কি দরকার ছিল শুধু শুধু এই যমের দুয়ারে কড়া নাড়তে আসার।না জানি আজকে তার দেহের কয়টা টুকরো হয়?
ওদিকে ইয়াশের প্রাণবায়ু যায় যায় অবস্থা। এজের লোহার মতো শক্ত আঙুলগুলো তখনো তার কণ্ঠনালী চেপে ধরে রেখেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে—সবকিছু যেন এক জাদুমন্ত্রে থমকে গেল।
রিম দাঁড়িয়ে আছে দরজার চৌকাঠে।
তার সুঘ্রাণ তার নিঃশ্বাসের শব্দও যেন শুনতে পায় এজে।বাতাসে ভেসে আসা রিমের সেই অতি চেনা সুঘ্রাণ এজের স্নায়ুতে সরাসরি আঘাত করল। তার অস্তিত্বে থাকা বিদ্যুৎ ঝলক যেন মুহূর্তেই তাকে পাথরের মূর্তিতে রূপান্তর করে দিল। এজের চোখের সেই প্রলয়ংকরী আগুন নিভে যাওয়া সিগারেটের মতো নিস্তেজ হয়ে এল। সে ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল দরজার দিকে।
শব্দহীন দৃষ্টি বিনিময়। রিম তাকিয়ে আছে সরাসরি এজের চোখের গভীরে। তার পরনে কালো রঙের এক কুর্তি, যা তার ফর্সা শুভ্রতাকে যেন আরও তীক্ষ্ণ করে তুলেছে। এলোমেলো চুলগুলো অবহেলায় হাত-খোঁপা করা। গোলাপি ঠোঁট জোড়া শুকিয়ে কাঠ।ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে আছে। তার চোখে কেবল ঘৃণা।সেই ঘৃণা যেন স্পষ্ট ভাষায় বলছে—’তুমি আমার কাছে মৃত্যুর চেয়েও নিকৃষ্ট’।
রিমকে দেখামাত্রই এজে যেন এক অন্য জগতে হারিয়ে গেল। ইয়াশের গলায় চেপে বসা হাতটা আপনাআপনি আলগা হয়ে এল। কিন্তু দৃষ্টি রিমের ওপর থেকে সরাল না সে। থমথমে গলায় ইয়াশকে উদ্দেশ্য করে বলল
“Next time… যদি আবার ছোঁয়ার কথা চিন্তা করিস, I’ll fu**cking slit your throat and hang your corpse on this goddamn bar.”
এজে এক ঝটকায় হাত সরিয়ে নিতেই ইয়াশ মেঝেতে আছড়ে পড়ল। গলায় হাত দিয়ে সে হাপরের মতো হাঁপাচ্ছে, ফুসফুস ভরে বাতাস নিতে গিয়ে কাশিতে দম আটকে যাচ্ছে তার। মাত্তেও ততক্ষণে আবার ফিরে এসে ইয়াশকে আঁকড়ে ধরল। সে ইয়াশ আর ড্রেভেনকে নিয়ে কোনোমতে প্রায় টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
পুরো ঘরময় জুরে কিছুক্ষণ চলতে থাকে নিরবতা। কোনো শব্দ নেই।আছে শুধু দুই মেরুর দুই মানুষের নিঃশ্বাসের শব্দ। এজের চোখ দুটো গভীর নেশালো আর কামুক। রিম ধীরে এগিয়ে আসে। হাতে তুলে নেয় ফার্স্ট এইড বক্স। সে তাকায় এজের চোখে। এজে এই মুহূর্তে সম্পূর্ণরূপে রিমের বশীভূত। যেন দুজনের মধ্যে শব্দ বিহীন চোখে চোখে কথা হচ্ছে। তার চোখের ভাষা বুঝতে পেরে কাউচে শরীরের ভার ছেড়ে ঠাস করে বসে পড়ে এজে।
রিম পাশে বসে অতি সন্তর্পণে বক্স থেকে ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক আর ওষুধ বের করল। এজের উন্মুক্ত ফর্সা বুকটা তখনো দ্রুত ওঠানামা করছে। টানা হেঁচড়ায় ক্ষতটা আরও বীভৎস আর তাজা হয়ে উঠেছে। রিম তুলো নিয়ে ক্ষতটা পরিষ্কার করতে লাগলো, ওর নিজের নিঃশ্বাস যেন গলায় আটকে এল। এজের শক্তপোক্ত বুক, আর সেই ক্ষতের ওপর থাকা ওই ছোট্ট কালো তিলটা—রিমকে এক অদ্ভুত অস্বস্তিতে ফেলে দিচ্ছে। ওর আঙুল কাঁপছে, বুকের ভেতর অকারণ ঢেউ আছড়ে পড়ছে। সে কখনো এভাবে কোনো পুরুষের সান্নিধ্যে আসেনি। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পড়ে বারবার এই ‘জানোয়ার’টার এত কাছে আসতে হচ্ছে তাকে, ভাবতেই ঘৃণায় শরীর রি রি করে উঠল তার।
এজে রিমের এই অস্বস্তিটা বেশ উপভোগ করছে। সে নিঃশব্দে ঠোঁট কামড়ে শয়তানি হাসলো। রিম কাঁপা কাঁপা হাতে ক্ষতোটা পরিষ্কার করতে থাকে। এজে আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কাউচে এলিয়ে দেয় মাথা। তার নিঃশ্বাস ভারী। হৃদস্পন্দন ছুটছে বেগতিক হারে। রিমের ছোঁয়ায় যেন কারেন্টের ঝটকা লাগছে তার শরীরের সমস্ত ইন্দ্রিয়তে।সে ধীরে ফিসফিস করে মাদকতা কন্ঠে বলে,
“Don’t stop… Please. It’s… driving me to heaven.”
রিম এক মুহূর্ত থেমে যায়। চোখ নামিয়ে তাকায়। তার ঠোঁটে ফুটে ওঠে এক চিলতে শয়তানি হাসি। তারপর হঠাৎ, ক্ষতটায় জোরে চাপ দেয়। এমনভাবে, যেন রক্ত ফের নতুন করে বেরিয়ে আসে।
“আহহ!”
এজের গলা দিয়ে বেরিয়ে এলো এক যন্ত্রণাদায়ক শব্দ। কিন্তু সে কুঁকড়ে না গিয়ে চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিলো। শক্ত করে কামড়ে ধরে রক্ত লাল ঠোটটা। যেন কামের ছিড়েই ফেলবে ঠোঁট।সে হেসে ফেলে। কাঁপা গলায়, ঘাম ভেজা কপালে সে বলে,
“More… এই যন্ত্রণাটা ভালো লাগছে। এটাই তো চাই। তুমি যন্ত্রণার মাঝেও তৃপ্তি দাও আমাকে। স্বর্গে চলে যাই আমি।”
রিমের শরীরে রাগ, ঘৃণা তড়তড় করে বাড়তে থাকে।সে আরও জোরে চাপ প্রয়োগ করে সেখানটায়।এজে যেন হ্যালুসিনেশনের ঘোরে বিড়বিড় করতে লাগল,
“উফ্… that’s it, baby… তোমার আঙুলের এই চাপটাই তো আমার জেনারেশন অফ ব্লিস। The pain… you give me… is my fu**cking ecstasy.”*
রিম দাঁত চেপে বলে,
“আপনি অসুস্থ, বিকারগ্রস্ত।”
এজে মাথাটা রিমের দিকে কিছুটা ঝুঁকিয়ে এনে বলল,
“হ্যাঁ… তোমার স্পর্শেই এই অসুস্থতা তৈরি হয়েছে। And now I’m addicted to it.”
রিম আর কথা না বাড়িয়ে দ্রুত ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে দিল এজের বুকের চারপাশে। কাজ শেষ করে শীতল কণ্ঠে বলল,
“ভাববেন না আপনার প্রতি আমার কোনো অনুভূতি আছে। মানবতাও না। কারণ আপনি মানুষ নন— জানোয়ার। জানোয়ারের প্রতি দয়া আসে না, শুধু ঘৃণা আসে। বাধ্য হয়েই এসেছি…আপনাকে ঘৃণা করি, রক্ত মিশে যাওয়া ঘৃণায়।”
এজে ফিসফিস করে,
“I’ll take it. Hate me. Hurt me. Just… don’t leave me . যত পারো ঘৃণা করো। Because only when you hate me… I know, you feel me.”**
রিম চোখ সরিয়ে নিল দ্রুত।
“ভুল ভাবছেন। আপনাকে অনুভব করা তো দূর, আপনার ছায়া স্পর্শ করলেও আমার গা ঘিনঘিন করে।”
মুহূর্তেই এজের মুখের রঙ বদলে গেল। তড়িৎবেগে এগিয়ে এসে সে রিমের মুখের একদম কাছে নিজের মুখটা আনল। এজের তপ্ত নিঃশ্বাস রিমের মুখে আছড়ে পড়ছে। রিম শিউরে উঠলেও নিজেকে পাথরের মতো শক্ত করে রাখল। এজে নিচু স্বরে বলল,
“তুমি জানো না সোনা… Hate stays longer than love. তুমি যতটা ঘৃণা করবে, আমি ততটাই দীর্ঘ সময় জ্বলে থাকব তোমার ভেতরে।”
রিম চুপ করে যায়। রাগ তার আকাশচুম্বী।সে শক্ত কন্ঠে বলে,
“আপনি ভেতরে আছেন, শুধু একটা নোংরা বর্জ্য,নষ্ট ,বিষাক্ত, জঘন্য পদার্থ হিসেবে।
এজে ঠোঁট তাচ্ছিল্যে সামান্য বাঁকায়,
“সেই নোংরা পদার্থই তোমার গায়ে লেগে থাকবে সারাজীবন। তুমি মুছতে পারবে না। ভুলতেও পারবে না। তুমি ঘৃণা করবে, জ্বলবে, ছটফট করবে। আর আমি বেঁচে থাকবো তোমার অভিশাপ হয়ে।”
রিম আর কোনো কথা বলে না।সে দ্রুত নিজের কাজ শেষ করতে থাকে।
ওদিকে এই দুই পাগলের কাহিনী দেখছ- দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকা তিন ছাগল। একজন আরেকজনের ওপর হুমড়ি খেয়ে সিনেমা দেখতে ব্যস্ত।তারা ভেবেছিল এখানে হয়তো কোনো রোমান্টিক সিন চলবে। কিন্তু সেরকম কিছুই হলো না। উল্টো তাদের সমস্ত আশায় জল ঢেলে মাটি করে দিল এই দুই পাগল।ইয়াশ বেজায় বিরক্ত।এত কথা বলার কি দরকার? ঠেসে ধরে একটা চুমু দিলেই তো হয়।না এই ছেলেকে দিয়ে আর হবে না। তাকেই কিছু একটা করতে হবে।
তখন মাত্তেও রুম থেকে বেরিয়ে সোজা রিমের কাছে যায়।সে জানতো এখন যদি এই ক্ষ্যাপা ষাঁড়কে কেউ শান্ত করতে পারতো সেটা একমাত্র রিম।সে গিয়ে রিমের কাছে অনেক অনুরোধ করে,
“প্লিজ ম্যাম একবার আমার সাথে চলুন। আপনি ছাড়া এই মুহূর্তে ভাইকে কেউ শান্ত করতে পারবে না। আমি আপনার পায়ে পড়তাম। কিন্তু সেটা সম্ভব না। আপনার পায়ে হাত দিলে আমি থাকবো কিন্তু আমার এই সুন্দর হাত দুটো থাকবে না।”
বিরক্তিতে রিমের ভ্রু কুঁচকে যায়। তারা মরলো না বাঁচল এতে তার কিছুই যায় আসে না। উল্টে এই গাধা গুলো মরলে সে মুক্তি পাবে এখান থেকে।কিন্তু পরক্ষণেই তার মাথায় এক সূক্ষ্ম বুদ্ধি খেলে গেল। এই খাঁচা থেকে বের হতে হলে শুধু বিদ্রোহ করলে চলবে না, কৌশলী হতে হবে। এই ছেলেটাকে হাত করতে পারলে পালানোর পথ হয়তো সহজ হয়ে আসবে। সে ফট করে রাজি হয়ে যায়।
“ঠিক আছে, চলো।”
রিমের এই হুট করে রাজি হওয়া দেখে মাত্তেওর চোখে যেন আশার প্রদীপ জ্বলে উঠল। খুশি মনেই রিমকে নিয়ে এগিয়ে চললো সেই যমদূতের দুয়ারে।
দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে তখন যেন এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার সিনেমার দর্শক হিসেবে তিনজনের চুপিচুপি মন্ত্রণা চলছিল।মাত্তেও ফিসফিস করে বলে,
“ভাই প্রেমে পড়েনি ইয়াশ ভাই, পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে।”
ইয়াশও একি ভাবে ফিসফিস করে বলে,
“এই পাগলামিই ওকে ধ্বংস করে দিবে একদিন। তখন এসব চিকিৎসা করেও কোনো লাভ হবে না।”
ড্রেভেন ধতার পেশাগত সত্তা থেকে একটি ধ্রুব সত্য উচ্চারণ করল,
“He doesn’t need a doctor, guys. He needs a miracle. And maybe… that miracle is her.”
ওদিকে রিম তার কাজ শেষ করে ব্যান্ডেজের বাকি সরঞ্জামগুলো গুছিয়ে নিয়ে দ্রুত উঠে দাঁড়াল। তার পায়ের আওয়াজ মিলিয়ে যেতে থাকে দরজার দিকে।
ঘরের ভেতরটা এখন আবার নিঝুম। এজে একা কাউচে এলিয়ে পড়ে আছে। সে কাঁপাকাঁপা হাতে নিজের বুকের ওপরের সেই নতুন ব্যান্ডেজটা স্পর্শ করল। যে ব্যান্ডেজের নিচে এখনো রিমের দেওয়া যন্ত্রণার নীল দাগগুলো দপদপ করছে। চোখ বন্ধ করে এক উন্মাদ আবেশে সে বিড়বিড় করল
“তোমার ঘৃণা আমাকে বাঁচিয়ে রাখে, … এটাই তো আমার একমাত্র অমৃত।”
দরজার কাছে পৌছাতেই রিমের ভ্রু কুঁচকে যায়। সামনেই তিন মূর্তি—ইয়াশ, মাত্তেও আর ড্রেভেন।দরজায় কান পেতে দাঁড়িয়ে থেকে একে অন্যের গায়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ার উপক্রম তাদের। রিমকে দেখা মাত্রই তারা যে যার মতো তড়িৎবেগে সোজা হয়ে দাঁড়াল। যেন তারা এখানে কিছুই করেনি, নেহাত পথ চলতে চলতে দাঁড়িয়ে পড়েছে। কেউ সিলিং দেখছে, কেউ ঘড়ি দেখছে, তো কেউ নিজের নখ পরিষ্কার করায় ব্যস্ত।
রিম কোনো কথা বলল না। নিরবে তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে গেল, তার চোখের তীক্ষ্ণ চাউনিই যেন তিনজনের কলিজা কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। রিম চলে যাওয়ার পর তারা বড় করে একটা হাফ ছেড়ে বাঁচল। মাত্তেও ইয়াশের কানে ফিসফিসিয়ে বলল,
“বাপরে বাপ! যেমন বাঘ, তেমন বাঘিনী! এই জোড়া যদি এক হয়, তবে আমাদের হাড়গোড় আস্ত থাকবে তো?”
মাত্তেও , ইয়াশ,ড্রেভেন তারা তিনজনে একসাথে বার কাউন্টারে বসে আছে। তারা ভাবছে কিভাবে পাগল দুটোকে এক করা যায়। নিস্তব্ধতা ভেঙে ইয়াশ হঠাৎ বলে ওঠে,
“এলি কোথায়? ওকে তো একবারও দেখলাম না!”
মাত্তেও জবাব দেয়,
“ফ্রান্সিস্কোতে গেছে।”
ইয়াসের ভ্রু কুঁচকে যায়,
“হঠাৎ!”
“ভাই পাঠিয়েছে, কোন একটা কাজে, আমাকে কিছু বলেনি।”
ইয়াসের মনটা হঠাৎ বিষন্ন হয়ে যায়, সে মনে মনে বলে,
“আমাকে না জানিয়ে চলে গেলে? একবারও বলার প্রয়োজন মনে করলে না? এতটাই পর হয়ে গেছি আমি?”
সে তাচ্ছিল্যে ঠোঁট কামড়ে হাসলো সামান্য।ইয়াশকে শান্ত দেখে মাত্তেও আর ড্রেভেন একে অপরের দিকে তাকাল।
“Oliva! Are you insane?”
হঠাৎ দরজা খুলে গেল প্রচণ্ড জোরে। একটা ঠান্ডা, তীক্ষ্ণ কণ্ঠ ধাক্কা দিয়ে ঢুকে পড়ল ঘরে।
অন্ধকারে ডুবে থাকা ঘরের একমাত্র আলোর উৎস পিয়ানোর ঢাকনা থেকে প্রতিফলিত চাঁদের আলো। অলিভা চুপচাপ বসে পিয়ানো বাজাচ্ছে, আঙুলে সুর, কেবল পিয়ানোর সাদা-কৃষ্ণ কীগুলোর উপরে তার আঙুল নেমে আসে ধীরে ধীরে। বাতাসে একটা পুরনো সুর ভেসে বেড়ায়… বিষাদে ভেজা। তার আশেপাশে কি হচ্ছে সে খেয়াল নেই তার। সে যেন এক ভিন্ন জগতে ডুবে আছে।
তখনি প্রবেশ করে তার ভাই, লিওনার্দো!
“Did you just… drop the seal? Do you even realise what the hell you’ve done?”
সে ধাক্কা দিয়ে চেয়ার ঘুরিয়ে অলিভার মুখোমুখি দাঁড়ায়।
“If the police get it, we are done. Over!”
অলিভা থামেনি। পিয়ানোর শেষ নোটটা বাজিয়ে বলল ধীরে
“I didn’t forget it, Leo… I planted it.”
“What the…..”
লিওনার্দোর কণ্ঠ থেমে যায়। সে চমকে তাকায়।
“They had chances, Leo. They could’ve caught me. But they didn’t. You know why?”
অলিভার ঠোঁটে রহস্যময় হাসি,
“Because they don’t want me. They want Zain.”
“Don’t say that name!!”
এক মুহূর্তের জন্য লিওনার্দোর চোখ রাগে লাল হয়ে ওঠে। জেইন ! নামটা যেন তার কাছে একটা বিষ। তার বুকের ভেতরটা যেন কেউ আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে।
“Zain…”
সে দাঁত চেপে ফিসফিস করে।
“Three damn years… And I still remember everything.”
ঘর অন্ধকার থেকে আরও গভীর হয়ে যায়।
লিওনার্দোর চোখে ভেসে ওঠে সেই পুরনো দৃশ্য।
“Leonardo! Leo! Go Leo!”
রোমের শহরতলিতে সেই রাতে ছিল গর্জে ওঠা ইঞ্জিন, নিয়ন লাইটের নিচে দাঁড়িয়ে হাজারো দর্শক ,সবাই চিৎকার করছে একটাই নাম, লিও।
হাজার দর্শকের গলা ফাটানো চিৎকারে পুরো আন্ডারগ্রাউন্ড রেসিং ট্র্যাক কাঁপছে। লিওনার্দো রিচ্চি–যার নামে গর্ব করে এই শহর। রেসিং তার জন্য শুধু খেলা নয়, অস্তিত্ব।
“He was the king of speed. The undefeated ghost on wheels.”
তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটা—একটা চকচকে লাল Ferrari SF90 Stradale।
সে ইঞ্জিন স্টার্ট করে । গাড়ির দরজায় আঁকা—”L.R.”
সবাই জানে, আজও সে জিতবে।
হঠাৎ…দূর থেকে একটা অদ্ভুত শব্দ। একটা গাড়ি ধীরে ধীরে আসে রেসিং রিংয়ের মাঝে। Black.Dead-silent. Sinister.পুরো ভিড় হঠাৎ থমকে যায়।
Bugatti La Voiture Noire.দুনিয়ার সবচেয়ে দামি স্পোর্টস কার। $19 মিলিয়নের একটা দানব।
সকলে অবাক হয়ে হা করে তাকিয়ে থাকে,সবাই জানতে চায় কে সেই ব্যক্তি যার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি স্পোর্টস কার রয়েছে। যে কার ছুঁয়ে দেখা সকল রেসারদের স্বপ্ন।
1 …2…3…… রেড সিগন্যাল দিতেই শুরু হয় রেস।
Ferrari বনাম Bugatti.
প্রথমে এগিয়ে যায় লিওনার্দো।তার গতি বারুদের মতো। ‘He flies like fire.’
কিন্তু Bugatti গাড়িটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কখন সে গাড়ি স্টার্ট দিবে। কিন্তু বাক ঘুরতেই — চোখের পলকে Bugatti moves like a shadow. নিরব, নিখুঁত, নৃশংস।
সবার মুখ হাঁ হয়ে আছে। যেন কেজি কেজি মাছি ঢুকানো যাবে সহজেই। চোখ ছানাবড়া। গাড়িটা কিভাবে চোখের পলকে হাওয়া হয়ে গেল!
একটা মূহূর্তেই লিওনার্দো বুঝে যায়, সে হেরে যাচ্ছে।
The crown is slipping.
শেষ মোড়ে গিয়ে Bugatti shoots forward like lightning.
ধুলোয় মিশে যায় লিওনার্দোর Ferrari!
Bugatti থেকে নেমে আসে এক যুবক। উচ্চতায় ৬ ফুট ২। তার পরনে কালো হুডি। মাথায় তোলা হুড। মুখে কালো ম্যাক্স। শুধু দেখা যাচ্ছে দুটো হীমশীতল চোখ।আকাশি আর ধূসর মিশেলে জ্বলজ্বলে। ধ্বংস ডেকে আনার মতো।
“Who the hell is that?”
এক দর্শক ফিসফিস করে।
জবাব আসে,
“He’s Aratrik Zain Chowdhury………..”
“Zain?” নামটা হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
দর্শকদের চিৎকার ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সবার মুখে এখন কেবল একটাই নাম
“জেইন!! জেইন!! জেইন……”
অলিভা তখন ভীরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক মেয়ে।
তার চোখ এক পলকেই আটকে যায় ঐ মুখোশপরা ছেলেটার চোখে। যে তাকায় না কারো দিকে, তবুও তার দিকে তাকিয়ে থাকে সবাই। বাকি সব মেয়েদের মতোই মুহূর্তেই নিজের হার্টবিট মিস করে অলিভা।
That night, Leo lost more than just a race.
He lost his pride.
He lost his crown.
And his sister lost her heart.
সেদিনের কথা ভাবতেই লিওনার্দোর মাথায় রক্ত চড়ে ওঠে।
“You fell for him. Didn’t you?”
তার গলায় ঈর্ষা, ঘৃণা আর হেরে যাওয়ার জ্বালা।
“He doesn’t even look at women, Oliva! He never cared! But you… you still crave for a ghost who ruined me.”
অলিভা এবার মুচকি হেসে ঠাণ্ডা গলায় বলে,
প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ১৪
“He didn’t ruin you, Leo. He just… showed you who you really are.”
“Shut up!!”
লিওনার্দোর মুষ্টি আঁটসাঁট হয়ে ওঠে।
“Because of him… I never touched a race car again. That night, under the roar of engines and broken pride… I made just one promise , I’ll destroy him, piece by piece.”
